Month: December 2025

  • মির্জা ফখরুলের ভাষায়: স্বাধীনতার শত্রুরা আবারো মাথাচাড়া দিতে চায়

    মির্জা ফখরুলের ভাষায়: স্বাধীনতার শত্রুরা আবারো মাথাচাড়া দিতে চায়

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতার শত্রুরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। তিনি মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণের পর সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যারা একাত্তরে ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা আজ আবার তাদের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যেতে চাইছে। দেশের মুক্তিকামী, গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ সব বাধা অতিক্রম করে তাদের স্বপ্ন পূরণ করবে এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা অটুট রাখবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়া শহীদ প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে শুরু হওয়া যুদ্ধের বিজয় আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবান্বিত। এই দিনটি আমাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা তাদের প্রতি সম্মান জানাই, মর্যাদা দিই, এবং শপথ নেই যে, আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে—গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, মহান বিজয় দিবসের এই দিনে তিনি দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কঠিন অসুস্থ থাকলেও, আমরা অন্তরের গভীর থেকে প্রার্থনা করি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। এছাড়াও তিনি জানিয়ে দেন, তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসিত থাকলেও, তিনি শীঘ্রই দেশে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। এ জন্য দলের নেতাকর্মীরা সকালের আনুষ্ঠানিকতার সময় উপস্থিত ছিলেন, যেখানে তারা দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিভিন্ন সংগঠন এবং দলীয় অঙ্গসংগঠন থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিজয় দিবসের এই সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আয়োজনের অংশ হিসেবে নেতাকর্মীরা নানা স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানান—‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও সালাম লও সালাম’, ‘স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখব’ ইত্যাদি। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের সম্মানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

  • আ.লীগ বিনা শর্তে ক্ষমা চেয়েছিল ১৯৯৬ সালে: জামায়াতের আমিরের বিস্তৃত মন্তব্য

    আ.লীগ বিনা শর্তে ক্ষমা চেয়েছিল ১৯৯৬ সালে: জামায়াতের আমিরের বিস্তৃত মন্তব্য

    আওয়ামী লীগ তিন দফায় ক্ষমতা গ্রহণের সময় একাধিকবার জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার আগে তারা হাতজোড় করে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছিল এবং বলেছিল, ‘অতীতে আমাদের দল বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যে অন্যায় ও জুলুম করেছে, আমরা বিনা শর্তে তার জন্য ক্ষমা চাই। একটি মাত্র সময়ের জন্য যদি ক্ষমতায় যান, আমরা পরিবর্তিত হয়েছি এবং এখন দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই।’ এর সাথে ছিল তসবিহ এবং মাথায় ঘোমটার অস্তিত্ব। আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যুব ম্যারাথন সম্পাদনের সময় তিনি এসব কথা বলেছেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ সহজ সরল মনে ধারণ করে ছিল যে, আওয়ামী লীগ মানসিকতা পরিবর্তন করেছে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। যখনই তারা ক্ষমতায় এসেছে, নিজেদের রূপ প্রকাশ করেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে গিয়ে বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রামের নেতাদের তিরস্কার করে, একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কেন্দ্র করে—তোমরা কি হাতে চুরি পরে বসে আছো?’ এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আর যদি আমার দলের একজনকে হত্যা করা হয়, তাহলে তার বদলে দশজনের লাশ ফেলতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এই দায়িত্বজ্ঞানহীন হুঙ্কার ও হুমকি দেশের সবখানে স্তব্ধতা সৃষ্টি করেছিল, যেখানে খালে, বিলে, নদীতে, জঙ্গলে, হাটে-যোগের মাঠে আঞ্চলিকভাবে লাশের স্তূপ দেখা যেত।

    তিনি আরও জানান, ১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের ওপর একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার দর্শন এবং পরিণতি মানব সভ্যতা দেখে। তিনি বলেন, দেশবাসী এই সময় থেকে শিক্ষা নেবে ভেবেছিল, কিন্তু সত্যি দাঁড়ায় যে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এসে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার বিভিন্ন স্বপ্ন ধূলিসাৎ করেছে।

    আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণের সময়গুলো তুলে ধরে তাঁর বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তারা ক্ষমতায় ছিল, তারপর ১৯৯৬ সালে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে। এরপর ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে। এই তিন দফায় বাংলাদেশের জনপদে একবারও শান্তি আসেনি, মানুষের প্রাণ ঝরেছে, মা-বোনের ইज्जত লুণ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালীতে এক মা-কে আওয়ামী লীগ বিবস্ত্র করে নৃশংসভাবে নির্যাতন করেছিল, সেটি এই দলের চরম দৃষ্টান্ত।

    একাত্তরের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই সময় ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, স্বপ্ন দেখেছিল প্রিয় মাতৃভূমি সব বৈষম্য থেকে মুক্ত হবে, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মর্যাদার আসনে বসবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর শাসকগোষ্ঠী এই প্রত্যাশার বারোটা বেজে দেয়।

    তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পরেও সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ থাকা সত্ত্বেও রক্ষীবাহিনী গঠন হয়েছিল যারা মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করত। জলাদিপ্ত সময়ে মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন, ব্যাংক ডাকাতি ও দুর্নীতির মতো অগণিত প্রকার অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। তারা ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে দেশটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

    শফিকুর রহমান তরুণদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতীতের অপসংস্কৃতি ও রাজনীতি থেকে নতুন উদ্দীপনায় এগিয়ে যেতে হবে। আজকের রাজনীতি হবে প্রিয় মাতৃভূমির স্বার্থে, সার্বভৌমত্বের পক্ষে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও মামলাবাজের হাত থেকে মুক্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু আমাদের দলের বিজয় চাই না। আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। এই জন্য যারা বাধা দিতে চায়, যুব সমাজ তাদের লাঠি ভরে সরিয়ে দেবে।’

    নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বাধীনভাবে পরিচালনার জন্য তিনি ভোটের নিরপেক্ষতা জোরালো করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ওপর আমরা কোনো ভ্রান্ত ধারণা নেই। তবে যদি তারা কারো প্রতি যেনো কোনো অপ্রত্যাশিত মনোভাব দেখায়, আমরা তা বরদাস্ত করব না। বিইশ্বেপূর্নতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন বাস্তবায়নের জন্য আমরা আপনাদের শপথে থাকতে আহ্বান জানাই।’

  • নাহিদ ইসলাম: একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে 우리는 একাত্ম

    নাহিদ ইসলাম: একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে 우리는 একাত্ম

    নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করলেও দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে দেখতে পেয়েছি বাংলাদেশের মানুষ নানা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। একাত্তরের দালালদের সাথে সাথে চব্বিশের দালালদেরও আমরা কাউন্টার করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ, সাধারণ মানুষ ও জনগণ একযোগে এই দালালদের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, সামনের দিনগুলোতে আমাদের বিজয় নিশ্চিত।

    আজ (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন তিনি। এ উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলটির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ অনেকে।

    নাহিদ ইসলাম ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের দিনটিকে বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানি সেনারা আত্মসমর্পণ করে দেশের মুক্তি আনলেও, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার যুদ্ধ চলাকালে স্বাধীনতার স্বপ্নের বাস্তবায়ন এখনও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ সময় লড়াই করেছে স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের জন্য। সেই সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, কিন্তু দীর্ঘ সময়ের পরও মূল লক্ষ্য পূরণ হয় নি বলে তিনি মনে করেন। দেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা আজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। বরং দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লড়াই ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে।

    বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের কিছু অসাধু শক্তি, ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা নির্বাচনকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, জনগণ চায় শান্তি, আইন- শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসুক। এইজন্য সরকারের কাছে তারা দাবি করেন, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দমনক্ষমতা নিশ্চিত করতে।

    নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ জনগণকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরে নিজের নিরাপত্তা নিজেদেরেই রাখতে হয়েছিল। বর্তমানেও সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়।

    আসন্ন নির্বাচনকে তিনি গণভোট হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই নির্বাচন একটি গণভোট, যেখানে সংস্কারের পক্ষে সবাই গর্জে উঠবে। তার আশা, এর মাধ্যমে একটি নতুন সুরে সারা দেশে ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে।

    বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা কখনোই পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাব না। তিনি বলেন, আবারো বলছি, ’৭১-এর দালালদের বিরুদ্ধে, ২০২৪ সালের দালালদের বিরুদ্ধেও আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। এই বিজয় আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তা নিশ্চিত। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে এক স্বাভাবিক, শক্তিশালী ও মুক্তিযুদ্ধের ideals-অনুপ্রাণিত দেশের উদাহরণ। আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে, এবং আমাদের সামনের দিনগুলো হবে বিজয়ের দিন।

  • তারেক রহমান বললেন, ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ

    তারেক রহমান বললেন, ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার নিজেও তার দেশের ফেরার তারিখ স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি জানান, ‘ইনশাআল্লাহ, আমি আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে যাবো। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে কাজ করছি।’ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তারেক রহমান বলেন, এই অনুষ্ঠানের মূল বিষয় দুটি। প্রথমত, আজ ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবের দিন। দ্বিতীয়ত, তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৮ বছর দেশ থেকে দূরে থাকতে হলে এখন তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন। এই সভায় তিনি দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিকল্প ষড়যন্ত্রকারীরা, ১৯৭৫ সালের ১৭ নভেম্বরের পরাজিতরা, ৮১ ও ৯৬ সালের ষড়যন্ত্রকারী পুঁজির রাজনৈতিক কূটকৌশলকারীরা এখনও থেমে থাকেনি। তাদের ষড়যন্ত্র এখনো সক্রিয় রয়েছে, সুতরাং সববাসীর সতর্ক থাকার গুরুত্ব উল্লেখ করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, স্বপ্ন দেখানো কি সরকারের কাজ? নয়, বিএনপি বিশ্বাস করে স্বপ্ন দেখানোর পাশাপাশি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের। তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন দেখানো কাজ নয়, কাজ হলো পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসা।’ বক্তৃতায় তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকার বিভিন্ন সময় দেশের আয়ের বিশাল অংশ পাচার করেছে। বিএনপি বিশ্বাস করে, তারা একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের সামনে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুমাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন, যেখানে দেশের জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা পেলে তারা একটি কার্যকারী সরকার গঠন করতে পারবে। তিনি বলেন, আমি কোনো স্বপ্নের মধ্যে আছি না, আমি পরিকল্পনার মধ্যে থাকি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া দেশকে উদ্ধার করেছেন। বিএনপি বিশ্বাস করে, ভবিষ্যতের নির্বাচনে তারা দেশকে নতুনভাবে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।

    ২০০৭ সালের এক-এগারো’র রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২০০৮ সালে তিনি কারামুক্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য পরিবারের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাজ্যে যান, যেখানে এখনো থাকছেন।

  • তারেক রহমানের অনুরোধ: আসবেন না এয়ারপোর্টে বিদায় দিতে

    তারেক রহমানের অনুরোধ: আসবেন না এয়ারপোর্টে বিদায় দিতে

    দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিশেষ অনুরোধ করেছেন, যেন তারা ২৫ ডিসেম্বর তার দেশে ফেরার দিন এয়ারপোর্টে গিয়ে তাকে বিদায় না দেন। তিনি এ অনুরোধটি মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় নিজের বক্তব্যে ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, এখন তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দিন রয়েছে, অনন্তঃ ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর তাঁর দেশে ফিরে আসার দিন। তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আশা করি, আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যে, ইনশাআল্লাহ সৌভাগ্যক্রমে আমি ফিরে আসবো। কিন্তু আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, ২৫ ডিসেম্বর যখন আমি দেশে ফিরব, তখন কেউ যেন এয়ারপোর্টে গিয়ে আমার বিদায় দিতে না যান। কারণ, এতে হট্টগোল সৃষ্টি হতে পারে এবং দেশের তথা দলের সম্মান ক্ষুণ্ণ হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা সেদিন এয়ারপোর্টে উপস্থিত হবেন না, তারা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে না গিয়ে দলের ও দেশের স্বার্থে সম্মান ও মর্যাদার বিষয়টিকে বিবেচনা করবেন। আর যারা তার এই অনুরোধ অমান্য করে যায়, অর্থাৎ এয়ারপোর্টে উপস্থিত হন, তারা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য সেখানে গিয়েছেন বলে ধরে নেওয়া হবে।’ এর আগে, ১২ ডিসেম্বর এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দলটির দলীয় প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরবেন এবং এর জন্য দল স্বাগত জানাচ্ছে। ওই দিনই গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক হয়, যেখানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন, এবং আমরা তাকে উষ্ণ স্বাগত জানাচ্ছি।’ বর্তমানে খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন। তারেক রহমান ২০০৭ সালের এক-এগারো আন্দোলনের পরে গ্রেফতার হন। ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সাময়িকভাবে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তিনি সেখানেই থাকছেন এবং দল পরিচালনা করছেন। তার বিরুদ্ধে এক-এগারো ও পরবর্তী সরকারের আমলে বেশ কয়েকটি মামলা করা হয়, যার মধ্যে পাঁচটিতে সাজাও হয়।

  • ইনুর বৈধতা চেয়ে টেলিভিশনে সরাসরি বিচার সম্প্রচারের আবেদন

    ইনুর বৈধতা চেয়ে টেলিভিশনে সরাসরি বিচার সম্প্রচারের আবেদন

    চব্বিশের জুলাই-আগস্টে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত আন্দোলন কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগের মামলায় এখনও চলছে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ষষ্ঠ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ। আশ্চর্যজনকভাবে, এই বিচারপ্রক্রিয়াকে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করার জন্য নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেছেন আসামি হাসানুল হক ইনু।

    আজ, বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে থাকা বিচারিক বেঞ্চে এই আবেদন করেন ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। মামলার শুনানি শেষে, ভবিষ্যৎ নির্দেশনা জানানো হবে।

    প্রসিকিউশনের পক্ষে এই আবেদন শুনানিরত অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্য আইনজীবীরা। এই ছয় দিনের মধ্যে, ইনুর বিরুদ্ধে কাশিমপুর কারাগার-২ এর সাবেক ডেপুটি জেলা কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি পঞ্চম নম্বর ও জব্দতালিকার সাক্ষী। এই সাক্ষ্য তিনি ১৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন।

    ইতিমধ্যেই, জুলাই-আগস্টের গণ আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পঞ্চম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই দিন, সাবেক ডেপুটি জেলা শাখাওয়াত হোসেন জব্দ তালিকার একজন সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। পাশাপাশি, সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের উপপরিদর্শক শাহেদ জোবায়ের লরেন্স পরীক্ষামূলক সাক্ষ্য দেন, যিনি মামলার চতুর্থ সাক্ষী। তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর, ইনুর আইনজীবী তাকে প্রশ্ন করেন।

    এর আগে, ৮ ডিসেম্বর, এই মামলার চতুর্থ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ওই সময়, সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তদন্তকারীর রেকর্ড সংরক্ষণকারী এসআই মো. কামরুল হোসেন। ২ ডিসেম্বর, তিনি দ্বিতীয় দিন জবানবন্দি প্রদান করেন, যেখানে ইনুর আইনজীবী তাকে প্রশ্ন করেন। এর আগে, ১ ডিসেম্বর, তিনি তার বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

    এছাড়া, প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মো. রাইসুল হক, যিনি মূলত ছাত্র আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ার একটি মেসে থাকতেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইনু উসকানি দিয়েছিলেন ছাত্র-জনতার ওপর হামলার জন্য। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সাক্ষী হিসেবে তিনি ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    পূর্বের খবর অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। একই দিন, ইনুর করা রিভিউ আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। এই রিভিউ আবেদনে আইনজীবী সিফাত মাহমুদ ও মনসুরুল হক ছিলেন, আর প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর। শুনানি শেষে, ট্রাইব্যুনাল ইনুর আবেদন খারিজ করে দেন। গত ২ নভেম্বর, আটটি অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশনা জারি হয়।

    প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের অ্যাল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এর ফলশ্রুতিতে, শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ শহীদ হন। আহত হন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। এরপরই, এই ঘটনাগুলোর জন্য ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাকে আটটি অভিযোগে অভিযুক্ত করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

  • ইইউ পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

    ইইউ পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মিশন নিয়োজিত করেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ইইউর কূটনৈতিক কার্যক্রমের শাখা দ্য ইউরোپیয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।

    ইইএএস জানিয়েছে, বাংলাদেশের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজা কালাস বাংলাদেশে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে একটি ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশন (ইওএম) পাঠাচ্ছে। এই মিশনের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইজাবস।

    ইজাবস বলেন, এই মিশন নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং সুদৃঢ় মূল্যায়ন করবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিবাচক সমর্থনের একটি বড় দৃষ্টান্ত হবে এই পর্যবেক্ষণ মিশন।

    ইজাবস আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য এই পর্যবেক্ষণ মিশনের নেতৃত্ব দেওয়া অপার সম্মানের বিষয়।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করেন।

    ঘোষিত তফসিলে উল্লেখ করা হয়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি, এবং বাতিলের জন্য আপিলের সময় শুরু হবে ৬ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি। বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সময়কালও একই, অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচন প্রচারনা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

  • ইসির আমন্ত্রণ, টিভি টক শোতে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিতের দাবি

    ইসির আমন্ত্রণ, টিভি টক শোতে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিতের দাবি

    উন্নত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সব ধরনের টেলিভিশন সম্প্রচার মাধ্যমে প্রার্থীদের সমান সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পরিস্থিতিতে, দেশের সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে নির্বাচনী সংলাপ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বা প্রার্থী যেন সমানভাবে সুযোগ পান, সেটি নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর), ইসির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু, অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য মুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য প্রয়োজন সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা, যাতে কোনো দলের বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার বা কটূক্তি না ছড়ানো হয়।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিতে উল্লেখ আছে, তারা গণমাধ্যমে নির্বাচনী সংলাপে অংশ নিতে পারবেন, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অব্যাহত কটূক্তি থেকে বিরত থাকবেন। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নির্বাচনী সংলাপ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করে এবং কোনও রকম হেয়প্রতিপন্ন বক্তব্য বা কটূক্তি প্রচার না হয়, সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

  • আন্দোলন চালিয়ে ভাতার দাবিতে অবরুদ্ধ করা অর্থ উপদেষ্টাকে, ১৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    আন্দোলন চালিয়ে ভাতার দাবিতে অবরুদ্ধ করা অর্থ উপদেষ্টাকে, ১৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    সচিবালয়ের ভাতার দাবি নিয়ে অনুষ্ঠিত এই আন্দোলনে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে টানা ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় ১৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই খবর শনিবার একাধিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয় এবং আদালত তাদের পাঁচ দিন রিমান্ডে নিচ্ছে।

    সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবির, সহ-সভাপতি শাহীন গোলাম রাব্বানী, নজরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোমান গাজী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আবু বেলাল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. তায়েফুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক বিপুল রানা বিপ্লব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক মো. আলিমুজ্জামান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র রায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী ইসলামুল হক ও মো. মহসিন আলী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক ও সংযুক্ত পরিষদের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিস সহায়ক নাসিরুল হক।

    প্রায় ২০ শতাংশ সচিবালয়ভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত ১০ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটায় অর্থ উপদেষ্টার কক্ষের সামনে অবস্থান নেন। তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন এবং উপদেষ্টাকে বের হওয়া থেকে বাধা দেন। এরপর রাত ৮টা ১২ মিনিটে পুলিশ নিরাপত্তায় সচিবালয় ত্যাগ করেন অর্থ উপদেষ্টা।

    প্রাক্তন আমলারা বলছেন, এমন সংবেদনশীল স্থানে একজন উপদেষ্টাকে ঘন্টার পর ঘন্টা অবরুদ্ধ রাখা শুধুমাত্র নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করেনি, বরং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্যও শঙ্কাজনক ছবি অনুবাদ করেছে। সচিবালয়ে এই ঘটনা দুর্লভ এবং নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা।

  • শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের আরও তিন হত্যা মামলায় জামিন স্বীকৃতি

    শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের আরও তিন হত্যা মামলায় জামিন স্বীকৃতি

    চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন, যা ছোট সাজ্জাদ নামে পরিচিত, আরও তিনটি হত্যার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি মামলা থাকায় তিনি এখনই স্বস্তি পাচ্ছেন না। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ সৈয়দ শরীফ এ কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মোট সাতটি মামলায় জামিন লাভ করেছেন সাজ্জাদ। তবে অন্যান্য মামলার কারণে তিনি এখনও কারাগারেই রয়েছেন। বর্তমানে রাজশাহী কারাগারে থাকায় তার জামিননামা সেখানে পাঠানো হয়েছে।

    আদালত সূত্র জানায়, স্থিত মামলাগুলোর মধ্যে চারটি চান্দগাঁও থানায় এবং তিনটি পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা হয়েছিল। এসব মারামারি ও খুনের মামলাগুলোর পেছনে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ও বিস্ফোরক আইনের অভিযোগ রয়েছে।

    চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের সময় চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় ছাত্রলীগ (যা এখন নিষিদ্ধ) এবং যুবলীগের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় নিহত হন ফজলে রাব্বী। এছাড়া, নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর বাড়ির সামনে সংঘর্ষের ঘটনায়ও মামলাগুলি করা হয়। এই মামলাগুলিতে সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্নাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সাজ্জাদ ১০টি হত্যাসহ মোট ১৯ মামলার আসামি। তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও একাধিক হত্যার অভিযোগ সহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে, চারটি হত্যার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে তাদের জামিন হয়। এই আদেশ চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে চট্টগ্রামের আদালতে পৌঁছে। তবে, সাজ্জাদের স্ত্রী শারিমন তামান্না বর্তমানে ফেনী কারাগারে রয়েছেন।

    পুলিশের কাছে থেকে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ ঢাকার একটি শপিং মল থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে। পরে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যেখানে দেখা যায়, তামান্না ‘বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছুড়ে’ জামিনে মুক্তির ছবি তুলে ধরছেন। এরপর পুলিশ তাকে আবারও গ্রেপ্তার করে।