সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে মঙ্গলবার রাত ২টা ১১ মিনিটে ৪.৩ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশের ন্যাশনাল সেন্টার অব মেটিওরোলজি (এনসিএম) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে, যা মূল ভূত্বক থেকে অনেক নিচে। চলতি বছরে এপ্রিলে আরেকটি ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আরব সাগরে সৌদি সীমান্তের কাছে ঘটে যেখানে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয় দেশই এই কম্পন অনুভব করে। ওই ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে জানানো হয়, আরবিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের পুরোনো ফল্ট লাইনে চাপ সৃষ্টির ফলस्वরে এই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। আশপাশের দেশগুলো যেমন ইরান, ইরাক ও ওমানে মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর আগে চলতি বছরের ৪ নভেম্বর ওমানের মুসানদামে ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এছাড়া, ১ ডিসেম্বর বাহরাইনে ৩.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় এবং ২২ নভেম্বর ইরাকে ৫.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে। আগস্ট মাসে ওমানে মাদহায় আঘাত হানা ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ২.২। এই ভূমিকম্পগুলো প্রমাণ করে যে এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি এখনও রয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের জন্য সতর্কতা ও আগাম প্রস্তুত থাকা জরুরি।
Month: December 2025
-

শীত-ঝড়ে গাজার পরিস্থিতি আরও জটিল, ত্রাণ প্রবেশে বাধা নিয়ে উদ্বেগ
শীতকালীন ইতিহাসের ভয়াবহ ঝড়ের কারণে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানবিক সংকট প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, এবং বাস্তুচ্যুত হওয়া কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি नागरिकের জীবন আরও বিপদে পড়েছে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, ইসরায়েলের আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধের কারণে জরুরি প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা সামগ্রী গাজায় প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। যদিও রাজapataরৎ, তাবু এবং কম্বলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রস্তুত ছিল সীমান্তে, তবুও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সেগুলোর প্রবেশে কঠোরতা দেখাচ্ছেন বা নানাবিধ কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।
শীতের প্রভাবে গাজা শহরের শাতি শরণার্থী শিবিরে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ের মধ্যেই একটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে, যার ফলশ্রুতিতে ২ শিশুসহ মোট ছয়জন আহত হন। উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেন।
অপর দিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, মাত্র দুই সপ্তাহ বয়সী এক শিশু তীব্র শীতে মারা গেছে, যা মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রকাশ করে। অপ্রতুল আশ্রয়ে থাকা শিশু ও বৃদ্ধরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ঝড়ের কারণে গাজায় বহু আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসের মুখে পড়েছে, যা ব্যক্তিগত সম্পদও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কাছাকাছি ৩০ হাজার শিশু এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এ পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটলে প্রভাবজনক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
গাজা সিভিল ডিফেন্সের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘এখনকার পরিস্থিতি একটি প্রকৃত মানবিক বিপর্যয় আর ঘোর ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।’
এদিকে, যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের পরিস্থিতির মধ্যেই কাতার প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল থানি ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বৈঠকে গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, জরুরি মানবিক সহায়তা প্রবেশ and যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেখ মোহাম্মদ গাজায় মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্ন ও শর্তহীনভাবে প্রবেশের জন্য গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন এবং এর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ কাজের ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।
অবশ্য, যুদ্ধবিরতি চালু থাকলেও গাজায় সহিংসতা বন্ধ হয়নি। চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, গাজা শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন ইসরায়েলি হামলায়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করছে, গাজার ‘ইয়েলো লাইন’ এর কাছে একটি মর্টার শেল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়ে—এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তাছাড়া, খান ইউনুসের পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে গাজা শহরের তুফ্ফাহ এলাকায় গুলিতে দুজন আহত হন।
অধিপ্ত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, কালকিলিয়ার ইসরায়েলি বাহিনী ২০ বছর বয়সী এক যুবককে পায়ে গুলি করে আহত করেছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট ৭০ হাজার ৬৬৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ১৫২ জন আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতি মানবিক বিপর্যয় আরও গাঢ় করে তুলছে।
-

পাকিস্তানে ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ সন্ত্রাসী মৃত্যুর রেকর্ড
পাকিস্তানে চলতি বছর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে কমপক্ষে ৩,৮২২ জন নিহত হয়েছেন। এটি হলো গত দেড় দশকে এক বছরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু, যা ২০১৫ সালের পর এই প্রথম ঘটলো। এই তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ পর্যবেক্ষক সংস্থা সাউথ এশিয়া টেরোরিজম পোর্টাল (এসএটিপি)। বিষয়টি তুলে ধরে তারা জানিয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে নিহতের সংখ্যা ২০১৫ সালের তুলনায় শতকরা ৭০.৯৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।
আনুমানিকভাবে পাকিস্তানের ইতিহাসে ২০১৪ সালই ছিল সবচেয়ে প্রাণহানি ঘট Raz়ের বছর। সে বছর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসী হামলার কারণে ৫,৫১০ জন নিহত হয়েছেন। এই বছর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোয়ার শহরের একটি স্কুলে হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে নিষিদ্ধ সংগঠন টিটিপি আক্রমণ চালিয়ে ১৫০ জন নিহতের মধ্যে ১৩৪ জনই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। এরপর ২০১৫ সালে সন্ত্রাসের শিকার হয়ে মৃত্যুর হার আরও বৃদ্ধি পায় এবং সেই বছর ৩,৬৮৫ জন প্রাণ হারান।
এর পরের বছরগুলোতে নিহতের সংখ্যা কমতে শুরু করলেও ২০২২ সাল থেকে ফের তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিছু বছর বিরতি নিয়ে এই সংখ্যাটি আবার চার অঙ্কে চলে আসে, এবং ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে। তালেবান সম্প্রতি আফগানিস্তানে সরকার গঠন করার পর থেকে সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের প্রদেশগুলো—বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও হামলার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
খাইবার পখতুনখোয়া মূলত তালেবানপন্থি গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটি। অন্যদিকে, বেলুচিস্তানে কাজ করে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ), যারা পাকিস্তানে নিষিদ্ধ।
একই সময়ে, ইসলামাবাদ ভিত্তিক থিংকট্যাংক সংস্থা, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস), জানিয়েছে, গত কিছু বছরের তুলনায় ২০২৫ সালের জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত তিন মাসে পাকিস্তানে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত সহিংসতার হার বেড়েছে ৪৬%।
পাকিস্তানের সরকার অভিযোগ করে যে, তালেবান আফগানিস্তান থেকে সংগঠনের জন্য অস্ত্র ও প্রশ্রয় দিচ্ছে। তবে তালেবান এই অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে আসছে।
-

মালয়েশিয়ায় পৃথক অভিযানে ৭২ বাংলাদেশিসহ ৪০২ জন অবৈধ অভিবাসী আটক
মালয়েশিয়ার দুই রাজ্যে পৃথক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আরও ৭২ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৪০২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগের সূত্র জানায়, প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে জোহর রাজ্যের জোহর বাহরুর তেব্রাউ শিল্প এলাকায়, যেখানে একটি কম্পিউটার যন্ত্রাংশ কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৩৫৬ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করা হয়। এই অভিযান শুরু হয় বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে, শ্রমিকের অবৈধ নিয়োগের তথ্যের ভিত্তিতে।জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস বললেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার জন্য কাজ করা সংস্থা একেপিএস-এর সহযোগিতায় জেআইএম জোহরের এনফোর্সমেন্ট শাখা এই অভিযান পরিচালনা করে। দেখা গেছে, অনেক বিদেশি কর্মী বৈধ ভ্রমণ নথি ও কাজের অনুমতি না থাকায় কারখানায় কাজ করছিলেন। তিনি আরও বলেন, অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করলে কিন্তু সব বহির্গমন পথ বন্ধ করে দেয়ায় তারা ব্যর্থ হন। এ ঘটনায় কারখানার মানবসম্পদ বিভাগ থেকে দুইজন স্থানীয় কর্মীকে আটক করা হয়েছে।তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৯৯ জন মিয়ানমারের, ২৬ জন বাংলাদেশি, ২২ জন ভারতীয়, তিনজন ইন্দোন্নেশীয়, দুইজন নেপালি এবং একজন করে পাকিস্তানি ও ফিলিপাইনের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে। দাতুক রুসদি জানিয়েছেন, কারখানাটিতে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সুসংগঠিত ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে। সবাইকে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ ও বিধিমালা ১৯৬৩ অনুযায়ী সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।অপরদিকে, নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের নিলাই এলাকায় একটি লোহা কারখানায় পৃথক অভিযানে ৪৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। রাজ্য ইমিগ্রেশনের পরিচালক কেনিথ তান আই কিয়াং জানালেন, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে চার ঘণ্টা রুদ্ধবিশেষ অভিযানে ২৬ জন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা অংশ নেন। এ সময় তারা ১১৭ জন ব্যক্তিকে যাচাই করেন এবং ১৮ থেকে ৪৩ বছর বয়সী ৪৬ জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন অপরাধের জন্য আটক করেন। তিনি বললেন, ‘আটকদের বিরুদ্ধে বৈধ পাস ও ভ্রমণের নথি না থাকা ও নির্ধারিত সময়ের বেশি বাসস্থান করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।’ এ সব ব্যক্তিকে লেংগেং ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। অভিযানে সরাসরি অংশ নেন সেরেমবান সিটি কাউন্সিল ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও। পাশাপাশি, অবৈধ শ্রমিক নিয়োগের সঙ্গে জড়িত মালিকপক্ষের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে, যা শেষে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।
-

বৃষ্টির পর হরমুজে মাটি হয়ে গেছে রক্তের মতো লাল
ইরানের হরমুজ দ্বীপে বৃষ্টির পর এক অসাধারণ ও আকর্ষণীয় দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে পাহাড় থেকে ঝরানো воды যখন সমুদ্রে প্রবাহিত হচ্ছে, তখন দেখা যাচ্ছে মাটির রঙ রক্তের মতো লাল হয়ে গেছে। এই দৃশ্যটি যেন একটি চিত্রকলা বা প্রাকৃতিক ছবি, যা মনকে মুগ্ধ করে দেয়।
এই লাল রঙের জন্য মূল কারণ হলো স্থানটির বিশেষ ভূতত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য। হরমুজ দ্বীপটি আইরন অক্সাইড বা লোহা অক্সাইডে সমৃদ্ধ। এই খনিজটি মূলত হেমাটাইট নামে পরিচিত, যা সেখানে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়। জলবৃষ্টির ফলে যখন বৃষ্টির পানি আইরন সমৃদ্ধ মৃত্তিকা ভিজিয়ে তোলে, তখন এই আইরন অক্সাইডগুলো ভাঙতে শুরু করে এবং এগুলো পানি ও মাটির সাথে মিশে যায়। ফলে, জল ও মাটি লাল শোভিত হয়ে ওঠে।
ভূতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপানির সময় এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার ফলে বৃষ্টির পানিও লালচে হয়ে যায়, যা এক অসাধারণ চিত্রের সৃষ্টি করে। এডিসিপি এবং রংধনু নামে পরিচিত হরমুজ দ্বীপটি তার এই অনন্য খনিজ গঠনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। উল্লেখ্য, মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠতলে প্রচুর পরিমাণে হেমাটাইট পাওয়া যায়, যা এই গ্রহকেও লাল রঙের করে তোলে।
বৃষ্টির পানিতে জলরঙের এই পরিবর্তন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। পরিবেশবিদরা নিশ্চিত করেছেন, এটি পরিবেশ দূষণের ফল নয়, কেবলমাত্র দ্বীপের প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থের কারণেই এই এক বিশেষ রঙের দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে।
হরমুজ দ্বীপে পর্যটকের সংখ্যাও বেশ বেশি। পর্যটকেরা এই অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে সেখানে যান এবং এই রঙিন দৃশ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। এটি অবশ্যই একটি বিস্ময়কর প্রাকৃতিক ঘটনা যা আগ্রহীদের জন্য এক দারুণ দর্শন।
-

খুলনা-২ আসনে আমানুল্লাহ ও খুলনা-৩ আসনে আউয়ালের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনীত প্রার্থী মুফতী আমানুল্লাহ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এ স ম জামসেদ খোন্দকারের কাছে নিজ মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি ও খুলনা-২ আসনের প্রার্থী মুফতী আমানুল্লাহ নিজে, পাশাপাশি নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির আহবায়ক শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মুফতী ইমরান হোসাইন, আবু তাহের, মাওঃ দ্বীন ইসলাম, মোঃ সাইফুল ইসলাম, ফেরদৌস গাজী সুমন, এইচ এম খালিদ সাইফুল্লাহ, আবুল কাশেম, মোঃ নুরুজ্জামান বাবুল, আব্দুল মান্নান সরদার, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের নগর সভাপতি গাজী আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পলাশ শিকদার, ইসলামী যুব আন্দোলনের নগর সভাপতি আব্দুর রশিদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি ফরহাদ মোল্লা ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল-এর মনোনয়নপত্র সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১২টায় খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সল কাদেরের কাছ থেকে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তার পক্ষে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন ইসলামী আন্দোলন খুলনা-৩ আসন নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির আহবায়ক শেখ হাসান ওবায়দুল করীম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা – শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, হাফেজ আব্দুল লতিফ, মোঃ সরোয়ার হোসেন, আমজাদ হোসেন বন্দ, মুহাম্মাদ শাহরিয়ার তাজ, আল মামুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
-

খুলনায় নগর আ’লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার
খুলনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চলমান বিশেষ অভিযান ‘ডেভিল হান্ট’ এর দ্বিতীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন বিল্লাল হোসেন বালাম (৪৮), যিনি মহানগর আওয়ামী লীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ড (দৌলতপুর) শাখার ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, এবং মোঃ জাকির খান, মহানগর ছাত্রলীগের উপ-বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক। একাধিক অভিযানের মাধ্যমে তাদের পৃথকভাবে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, এই অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জোরদার অভিযান চালানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘিœত করা, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগসহ আরো বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে যাচাই-বাছাই চলছে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সূত্রের খবর, এই অভিযানের অংশ হিসাবে আরও কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তম রোকনুজ্জামান বলেন, “নগরীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ‘ডেভিল হান্ট’র দ্বিতীয় ফেজ চলমান। কোনো সহিংসতা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছেন।
-

কুয়েট ও তাইওয়ানের এনসিকেইউ’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে বিশেষ করে থেরাপিউটিক ফুটওয়্যার, ফুট অর্থোটিক্স, হিউম্যান মুভমেন্ট বায়োমেকানিক্স এবং স্মার্ট ওয়্যারেবল সিস্টেমের ক্ষেত্রগুলোতে। এর মাধ্যমে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ বৈজ্ঞানিক সেমিনার আয়োজন, এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নেওয়া হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, কুয়েটের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দক্ষতা এবং এনসিকেইউর বায়োমেকানিক্স ও মেডিকেল ডিভাইস উন্নয়নের সমন্বয় বাংলাদেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ভাবনে নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উন্নত ফুটওয়্যার এবং কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রে এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোঃ গোলাম কাদের ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকগণ। এই চুক্তি বাংলাদেশের চিকিৎসা প্রযুক্তি ও গবেষণায় এক নতুন উচ্চতা অর্জনের আশা জাগিয়েছে।
-

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া দেশ সংকটমুক্ত হবে না
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশের মুক্তি ও স্বাধিকারপ্রিয় মানুষ, স্বাধীনতাকামি জনগণ ও গণতন্ত্রপ্রেমীরা তাদের সব ধরনের ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দেশের স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অতীতে যত স্বৈরশাসন এসেছে, প্রতিবারই দেশের মানুষ বাকস্বাধীনতা হারিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন সম্ভব, আর সচেতন ভোটের মাধ্যমেও গুণগত ও জনবান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায়। তাই একটি গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচন ছাড়া দেশ এখনকার সংকট থেকে মুক্তি পাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন। তিনি বাদ মাগরিব ২৭নম্বর ওয়ার্ডে জামেয়াহ্মিল্লিয়া আরাবিয়া খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দোয়া ও আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আজমল হোসেন। এছাড়াও, আহণ্যদিনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ। বক্তাগণ দেশ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বার্থে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে অবশ্যই সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। সব সময় ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় থাকায় জনগণ দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পাশে থাকবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
-

মোংলা সমুদ্র বন্দরের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য ৯টি ‘মেঘা’ প্রকল্প অনুমোদন
বর্তমান সরকার মোংলা সমুদ্র বন্দরের দ্রুত উন্নয়ন, আধুনিকতা and সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করছে। এই লক্ষ্যে ৯টি বড় মেঘা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এই বন্দরকে বিশ্বের মানের নৌযোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে, নতুন করে আরও দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং আরও তিনটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর শুধু স্থানীয় অর্থনীতিই নয়, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উঠবে। ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন, কারণ ব্যবসা সহজ হবে এবং রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। ফলে মোংলা সমুদ্র বন্দর হবে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক, আধুনিক ও টেকসই সার্ভিস ভিত্তিক কেন্দ্র।
