Month: December 2025

  • বিসিবির শর্তে মুস্তাফিজ আইপিএলে খেলার অনুমতি পেলেন

    বিসিবির শর্তে মুস্তাফিজ আইপিএলে খেলার অনুমতি পেলেন

    অবশেষে নিশ্চিত হয়েছে যে, বাংলাদশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমান আইপিএলের জন্য শর্তসাপেক্ষে অনুমতি পেয়েছেন। কলকাতা নাইট রাইডার্স তুমুল প্রতিযোগিতার পর রেকর্ড দামে তাকে দলে নিয়েছে, যার পরিমাণ ভারতীয় রুপিতে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ (বাংলাদেশি টাকায় ১২ কোটির বেশি)। তবে এই দলে খেলতে গেলে কিছু শর্ত পালন করতে হবে মুস্তাফিজকে।

    বিশ্লেষকরা প্রথমে আশঙ্কা করছিলেন যে, পুরো টুর্নামেন্টের জন্য তিনি অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ঘোষণা দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি পুরো আইপিএলে খেলতে পারবেন বলে। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনসের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেন, মুস্তাফিজের জন্য এনওসি (অনাপত্তিপত্র) দেওয়া হয়েছে। তবে, তিনি মাঝপথে ৮ দিনের জন্য দেশে ফিরতে পারবেন এবং দেশের জন্য খেলতে হবে তাঁকে।

    ফাহিম বলেন, “মুস্তাফিজকে পুরো আইপিএলের জন্য এনওসি দেওয়া হয়েছে। তবে, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়া তিনটি ওয়ানডে ম্যাচে অংশ নেওয়ার জন্য তাকে দেশে ফিরে আসতে হবে।” এই সময়ে তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে আইপিএলে খেলবেন না।

    নিলাম শেষে মুস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়া হলেও, এই অংশগ্রহণের জন্য বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। আসন্ন ১৫ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ৩০ মে পর্যন্ত চলবে এই আইপিএল মৌসুম। এরই মধ্যে, মে মাসের মাঝামাঝি এবং শেষে বাংলাদেশের নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ থাকায় মুস্তাফিজকে দেশে ফিরতে হবে।

    এই সিরিজের জন্য মুস্তাফিজের দেশের ফেরার সিদ্ধান্তে বোর্ডের একটি প্রধান কারণ হলো, ওয়ার্ল্ড কাপের জন্য র‍্যাঙ্কিং গুরুত্বপূর্ণ। ফাহিম বলেন, “বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে গেলে আমাদের র‍্যাঙ্কিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এখন নিরাপদ অবস্থানে নেই, তাই এই রকম ঝুঁকি নিতে চাইনি।” এই রকম পরিস্থিতিতে, বোর্ডের সিদ্ধান্ত মুস্তাফিজের খেলার সুযোগকে কিছুটা সীমাবদ্ধ করে দিলেও, তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পক্ষপাত।

  • বিশ্বকাপের আগে ভারতে দুই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ

    বিশ্বকাপের আগে ভারতে দুই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতের বেঙ্গালুরুতে পৌঁছে যাবে। সেখানে তারা বিশ্বকাপের ঠিক আগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। আজ (১৮ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

    তিনি জানান, বাংলাদেশ দল ২ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিরুদ্ধে এবং ৪ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করেছে। তবে, এই সূচিটি এখনো চূড়ান্তভাবে স্বীকৃত নয়। বিশ্বকাপের শুরু ৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচের মাধ্যমে হবে, তাই এর আগে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্রাম এবং কঠোর প্রস্তুতি নেবে।

    বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বেশ ব্যস্ত থাকবেন। প্রায় এক মাস ধরে চলবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল), যা এই বিশ্বকাপের জন্য মূল প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিপিএল শেষে, বিশ্বকাপে যাত্রার আগে একটি ছোটো দলবদ্ধ ক্যাম্পের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা উল্লেখ করেছেন ফাহিম।

    ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির সদস্য শাহরিয়ার নাফীস আরও জানান, বিপিএলের সময় জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বোলারদের ওয়ার্কলোড মনিটরিং করার জন্য একজন ফিজিও সার্বক্ষণিক কাজ করবেন। যদি কোনো খেলোয়াড়ের ওপর চাপ বেশি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিকে জানিয়ে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হবে।

    বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে। গ্রুপ পর্বের বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর তারিখ হলো— ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি, ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড, ও ১৭ ফেব্রুয়ারি নেপাল।

  • ক্রীড়াঙ্গনে ধোঁকাবাজিতে শীর্ষে ভারত, ওয়াডার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

    ক্রীড়াঙ্গনে ধোঁকাবাজিতে শীর্ষে ভারত, ওয়াডার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

    বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে আবারও ভারতীয় অস্বস্তি বাড়ছে। বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (ওয়াডা) প্রকাশিত সর্বশেষ রিপোর্টে জানা গেছে, টানা তৃতীয় বছর ধরে ডোপিং অপরাধের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ভারত। একদিকে দেশটি ২০২৪ সালে জাতীয় অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (নাডা) মোট ৭,১১৩টি নমুনা সংগ্রহ করে, যার মধ্যে ২৬০টিতে ডোপিং শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতের এই রিপোর্ট ভারতের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন দেশটি ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ২০৩৬ অলিম্পিকের স্বপ্ন দেখছে।

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কা দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন অধিনায়ক দাসুন শানাকা

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কা দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন অধিনায়ক দাসুন শানাকা

    আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে শ্রীলঙ্কা শিবিরে বড় পরিবর্তন এসেছে। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার দাসুন শানাকা নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সুখবর। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) আবারও তার ওপর আস্থা প্রকাশ করে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। এর আগে তার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা এশিয়া কাপ জয় করেছিল এবং বিশ্বমঞ্চে তার পারফরম্যান্স দেখিয়ে দিয়েছিল যে তিনি দলের জন্য কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা। চলতি মৌসুমে তিনি ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে বিপিএলে অংশগ্রহণ করেন।

    দাসুন শানাকা এর আগে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় দলে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করেছেন। তার অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বিবেচনা করে চলমান বিশ্বকাপের জন্য তাকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার প্রথম আন্তর্জাতিক মিশন হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ।

    প্রধান কোচ সনাথ জয়াসুরিয়া এই সিদ্ধান্তে পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি জানান, কোচের সঙ্গে পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে শানাকাকে অধিনায়কের रूपে নির্বাচন করা হয়েছে। নতুন নির্বাচক কমিটির তৈরি ২৫ সদস্যের প্রাথমিক দল এই বিশ্বকাপে অংশ নিবে।

    শ্রীলঙ্কার দল এবারের বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, ওমান এবং জিম্বাবুয়ে।

    শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলটি হলো:
    অধিনায়ক: দাসুন শানাকা
    অপর খেলোয়াড়রা: পাথুম নিসাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস, কামিল মিশারা, কুশল পেরেরা, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, নিরোশান ডিকওয়েলা, জানিথ লিয়ানাগে, চারিথ আসালঙ্কা, কামিন্দু মেন্ডিস, পবন রতœায়েকে, সোহান আরাচ্ছিগে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুনিথ ভেল্লালাগে, মিলান রতœায়েকে, নুয়ান তুষারা, ঈশান মালিঙ্গা, দুশমন্থ চামিরা, প্রমোদ মাদুশান, মাথিশা পাথিরানা, দিলশান মাদুশঙ্কা, মাহিশ থিকশানা, দুশান হেমন্ত, বিজয়কান্ত বিশ্বকান্ত ও ত্রাভিন ম্যাথু।

  • ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ Under-19 এশিয়া কাপ থেকে বিদায়

    ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ Under-19 এশিয়া কাপ থেকে বিদায়

    লক্ষ্য ছিল যুব এশিয়া কাপের তৃতীয় শিরোপা জেতা। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে সেই স্বপ্নের পথে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল বেশ ভালোই এগোছিল। কিন্তু সেমিফাইনালের মঞ্চে এসে সব কিছু তালপাতার মতো এলোমেলো হয়ে গেল। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ব্যাটারদের ব্যর্থতা ও পাকিস্তানের দাপুটে পারফরম্যান্সের কারণে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দৌড় থেমে গেল ৮ উইকেটের বড় ধরনের হারে। এই হারে টানা তৃতীয় শিরোপার স্বপ্নভঙ্গের পাশাপাশি তারা দুবাই সফর থেকে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।

    শুক্রবার দুবাইয়ে বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার ঘণ্টা পরে খেলা শুরু হয়। নির্ধারিত ২৭ ওভারে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ব্যাট করতে নামলে মাত্র ১২১ রানে অলআউট হয় তারা। জবাবে পাকিস্তানের তরুণ ব্যাটার সামির মিনহাসের ফিফটি ও দলীয় দাপুটে পারফরম্যান্সে ৬৩ বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে দেশটি।

    ১২১ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে পাকিস্তানের শুরুটা কিছুটা অস্থিতিশীল ছিল। প্রথম ওভারেই ওপেনার হামজা জোহর ইকবাল হোসেন ইমনের বল ধরে ক্যাচ দিলে শূন্য রানে ফিরে যান। তবে এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ৮৫ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের বিপদ কিছুটা কমায় সামির মিনহাস ও উসমান খান জুনিয়র। এই জুটিই মূলত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

    সামিউন বশির রাতুলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে উসমান (২৭) প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেও দলকে আর কোনো বিপদে পড়তে দেননি মিনহাস। আহমেদ হুসাইনকে (১১*) সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিকতায় দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ৫৭ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার।

    এর আগে, টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ শুরু থেকেই দোটাইতে থাকে। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা ওপেনার জাওয়াদ আবরার এই দিনটি অবদান রাখতে পারেননি। দলের আরও দুজন ওপেনার রিফাত বেগ (১৪) ও জাওয়াদ (৯) প্রথমেই সাজঘরে চলে গেলে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশি দল।

    অধিনায়ক আজিজুল হাকিম ও কালাম সিদ্দিকি কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। দলের অর্ধশতক ছুঁইছুঁই সময়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন আজিজুল, কিন্তু ১৩তম ওভারে পাকিস্তানি পাবম সুবহান হোসাইনের ঘূর্ণিতে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ওই ওভারের প্রথম বলে আজিজুল (২০) ও শেষ বলে কালামকে (৮) তুলে নেন সুবহান।

    এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে তাসের ঘরেমতো। ১৬তম ওভারে ৭৩ রানে ৬ উইকেট হারায় তারা। ৯৩ রানে ৭ উইকেট পতনের পর দলীয় স্কোর ১০০ পার করার বেশ শঙ্কা তৈরি হয়। তবে শেষের দিকে সামিউন বশির রাতুলের প্রতিরোধে কিছুটা সম্মানজনক স্কোর পায় বাংলাদেশ। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে একপ্রান্ত ধরে থাকা রাতুল ৩৭ বলে ৩৩ রান করেন, যা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৬.৩ ওভারে ১২১ রানে অলআউট হয়।

    পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে আব্দুল সুবহান একাই ৪ উইকেট নেন, অন্যদিকে হুজাইফা আহসান দুটি উইকেট তুলে নেন। অপরদিকে, দিনের অন্য সেমিফাইনালে লড়ছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা।

  • বাংলাদেশ সীমান্তে সতর্কতা জোরদার, ভারতীয় শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের তদারকি

    বাংলাদেশ সীমান্তে সতর্কতা জোরদার, ভারতীয় শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের তদারকি

    প্রতিবেশী বাংলাদেশে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন ভারতের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা। শুক্রবার ভারতীয় সেনাবাহিনী, আসাম রাইফেলস ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। কেউ বাদ যাননি, তারা সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির দিকগুলো মূল্যায়ন করেন। উল্লেখ্য, ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার বড় অংশ এখনও কাঁটাতারবিহীন। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্কতা জোরদার করেছে। ভারতের ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়ারি বিশেষ একটি সীমান্ত ফাঁড়িতে পৌঁছে সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সীমান্তে চলমান অপারেশনাল প্রস্তুতিসহ সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা খুঁটিয়ে দেখেন। এই পরিদর্শনকালে তিনি সৈনিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পেশাদারিত্বে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। কমান্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাপ্রধান প্রতিটি স্তরের সদস্যের নিষ্ঠা ও সতর্কতা প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক মানিক সাহা বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং রাজ্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আগরতলায় একটি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের নজরদারির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, দেশের শীর্ষ নেতৃত্বরাও সর্বদা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় কর্মকর্তার নেতৃত্বে ভারত সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে এনই।

  • ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশের দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার

    ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশের দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার

    ভারতের নয়াদিল্লি, কলকাতা, ত্রিপুরা এবং আসামে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাসের নিরাপত্তা গত কিছুদিনে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকাতা ও দিল্লির বিভিন্ন দূতাবাসে স্থায়ীভাবে পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা অন্তত ৪ থেকে ৬ জন সশস্ত্র পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকছেন। এর পাশাপাশি, শুক্রবার সকাল থেকে হাইকমিশনের সব শাখায় অন্তত ১০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    কলকাতার বেকবাগান এলাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরণির বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস চত্বরে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। সেখানে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি দূতাবাসের রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করে রাখা হয়েছে, যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি না ঘটে।

    দিল্লির দূতাবাস চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, আর কলকাতা ও দিল্লির স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় রাখা হয়েছে হালকা প্রতিরোধমূলক গাড়ি ও জল Cannon। এসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায়।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের মাটিতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে ট্রিপুরা, কলকাতা, আগরতলা, ব্যাঙ্গালোর ও মহারাষ্ট্রের সরকারগুলোকে। এর পাশাপাশি এই রাজ্যগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিষয়ের জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

  • ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না: দিল্লি থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস

    ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না: দিল্লি থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস

    বাংলাদেশের চলমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ভারত গভীর মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে, তবে দেশটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লিতে থাকা বাংলাদেশ হাইকমিশন। শুক্রবার এ বিষয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করে আল জাজিরা।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইকমিশনের এক মুখপাত্র উল্লেখ করেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের উচ্চ কর্মকর্তারা জানেন যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খুবই পরিবর্তনশীল ও জটিল। এ কারণে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি।’

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সংবিধানপ্রণেতা বা জনগণের উত্থানের ফলস্বরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটতে পারে, যা সম্প্রতি তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে।’

    বাংলাদেশ হাইকমিশন জোর দিয়ে উল্লেখ করে, ‘ভারত বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি মনোযোগ দিয়ে দেখছে ঠিকই, তবে প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে না।’

    প্রসঙ্গত, নয়াদিল্লির প্রতি বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন যে ভারত পূর্ববর্তী সরকারের সদস্যদের, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজন শাসক রয়েছেন, আশ্রয় প্রদান করছে।

  • ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড ভয়াবহ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শঙ্কা: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

    ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড ভয়াবহ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শঙ্কা: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

    ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) লন্ডন থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই হত্যাকাণ্ডকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার পর সাধারণ জনগণ তথা জনসমর্থকদের দ্বারা দুটি প্রধান সংবাদপত্রের অফিসে হামলা চালানো হয়। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার রক্ষার সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে।

    সংস্থাটি আরও জানায়, যদিও জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, তবুও রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা বাংলাদেশের নাগরিক অধিকারকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এতে করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, বাংলাদেশের যুব নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত ভয়াবহ এক ঘটনার প্রকৃতি। তিনি উল্লেখ করেন, আগস্টের পর থেকে দেশব্যাপী গণপিটুনির মতো সহিংসতা শুরু হয়েছে, যা সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপের দিকে নির্দেশ করে। ভবিষ্যতের জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে হামলা মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর এক উদ্বেগজনক আঘাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু রাজনৈতিক দলের সহিংসতা উসকানি এই পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে।

    অবশেষে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও বাংলাদেশে ওসমান হাদির হত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে মানবাধিকারের মান অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • অভিযোগের মধ্যেই ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জাতিসংঘের

    অভিযোগের মধ্যেই ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জাতিসংঘের

    ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনায় দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। এই খবরটি শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক।

    ব্রিফিংয়ে দুজারিক জানান, ওসমান হাদির মৃত্যু জাতিসংঘের নজরে পড়েছে এবং মহাসচিব এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা প্রকাশ ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এই প্রসঙ্গে মহাসচিব বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে জটিল পরিস্থিতিতে সকল পক্ষকে সহিংসতা এড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, উত্তেজনা কমাতে ও সহিংসতা প্রতিরোধে সব পক্ষকে সংযম অবলম্বন করতে হবে যেন একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।

    এরই মধ্যে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বাংলাদেশের সরকারের প্রতি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে, যেন ঘটনা স্পষ্ট হয় এবং দায়ীদের শাস্তি হয়। কমিশনের এক বিবৃতি অনুযায়ী, ফলকার তুর্ক বলেন, বাংলাদেশে গত বছর ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের নেতা হাদির হত্যাকাণ্ডে তিনি গভীরভাবে দুঃখপ্রকাশ করেন। পাশাপাশিই, গত সপ্তাহে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন হাদি, এবং বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিশোধের চেষ্টায় বিভেদ আরও গভীর হবে এবং এতে সকলের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে।