বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নুরুল ইসলাম সাদ্দামকে মনোনীত করা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সম্মেলন, যা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই বিশাল সম্মেলনে প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি সদস্য অংশগ্রহণ করেন। শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এই সম্মেলনে সংগঠনটির নতুন ২০২৬ মেয়াদের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নুরুল ইসলাম সাদ্দামকে নির্বাচিত করা হয়। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচিত সভাপতি পরবর্তীতে সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করবেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। জানা গেছে, নুরুল ইসলাম সাদ্দাম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে, এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত উদ্যোক্তা অর্থনীতিতে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্সে অধ্যয়নরত। তাঁর এই দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনটি আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
Month: December 2025
-

ছাত্রশিবিরের নতুন সভাপতি সাদ্দাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, আর নতুন সেক্রেটারি জেনারেল পদে মনোনীত হয়েছেন সিবগাতুল্লাহ সিবগা। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের নেতারা তাদের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করেন।
অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, “২০২৬ সালের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রेटারি জেনারেল নির্বাচনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা দায়িত্ব পালন ও নেতৃত্ব দিতে সহায়তা করুন।”
নির্বাচনে নবনির্বাচিত সভাপতি, নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, এর আগে সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন উদ্যোক্তা অর্থনীতিতে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমায় পাঠরত।
অন্যদিকে, সেক্রেটারি জেনারেল পদে নির্বাচিত সিবগাতুল্লাহ সিবগা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন। তবে, ২০২৫ সালের সেশনে তিনি কেন্দ্রীয় শাখার দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে লেখাপড়া শেষ করেছেন এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে স্নাতকোত্তর করছেন।
-

গণঅধিকার থেকে বাদ পড়ে বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন রাশেদ খাঁন, নির্বাচনে ধানের শীষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
গণঅধিকার পরিষদ ছাড়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। জানা গেছে, তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ। তিনি জানান, রাশেদ খাঁন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন। বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। একই সময়ে, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কে হবেন, সেটি নির্বাহী পরিষদ ও উচ্চতর পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে ঝিনাইদহের ৪ আসনে মনোনয়ন বদলের দাবিতে বিএনপির জোটের প্রার্থী রাশেদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা কাফনের কাপড় পরে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এই বিক্ষোভ শুক্রবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মুর্শিদা জামান বেল্টু এই বিক্ষোভে অংশ নেন। রাশেদ খাঁনের যোগদান বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে এক সূত্রে জানা গেছে, তিনি আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে বিএনপিতে যোগ দিতে পারেন। উল্লেখ্য, এর আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেছেন বিএলডিপির সভাপতি শাহদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমদে, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এবং এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।
-

গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খাঁন বিএনপিতে যোগ দিলেন
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন প্রত্যাহার করে বিএনপি দলে যোগ দিয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি ঘটে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে। সেখানে তিনি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
এর আগে, রাশেদ খাঁন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিকল্পনা হিসেবে রাশেদ বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে ভোটে লড়বেন বলে জানিয়েছেন। এর জন্য তিনি গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাশেদের যোগদান অনুষ্ঠানে বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যুক্ত হচ্ছেন। তিনি জানান, বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঝিনাইদহ-৪ আসনে (কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ সদরের চারটি ইউনিয়ন) ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তিনি সব নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির সকল নেতাকর্মী একসাথে কাজ করে রাশেদ খাঁনকে বিজয়ী করতে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবেন।
পদত্যাগপত্রে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, “আমার সালাম ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। আমি আপনার সাথে রাজপথের সহযোদ্ধা হিসেবে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং এরপরের আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করছি। যদি আমার কোনো আচরণ বা বক্তব্যে কারও কষ্ট হয়ে থাকে, আমি তার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আপনার স্বীকৃতি ও সম্মতি পাওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। আমার এই সিদ্ধান্তের মাঝে ব্যক্তিগত কারণ নিহিত থাকলেও — আশা করি, আমাদের বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব চিরন্তন থাকবে। আমি আপনার কাছে দোয়া ও শুভকামনা রইল।
অতীতে, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে নুরুল হক নুরের ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, নির্বাচনে জয়লাভের জন্য দলের সিদ্ধান্তে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদের নেতৃত্বে ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। একই সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর দলীয় প্রতীক ট্রাক নিয়ে পটুয়াখালী-৩ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
-

তরুণদের জন্য চাকরির সুযোগ, বেকার ভাতা নয়: জামায়াত আমিরের আহ্বান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান এক বক্তৃতায় ঘোষণা করেন যে, যুবকদের জন্য বিনা বেতনে ঈপ্সিত ভাতা নয়, বরং প্রত্যেকের হাতে কাজ তুলে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, অনেকেই সংখ্যার ভিত্তিতে বলছেন, আমি কোটি কোটি যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো। কিন্তু এর পরের প্রশ্ন হলো, যারা চাকরি পায় না তাদের কি হবে? তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাদের জন্য বেকার ভাতা দেওয়া হবে না। তিনি চান, যুবকদের হাতকে দেশের উন্নয়নের হাত বানানো হোক। প্রতিটি যুবক যেন নিজের হাতে দেশের সমৃদ্ধি গড়ে তুলতে পারে, এটাই আমরা চাই। তিনি আরও বলেন, বেকার ভাতা নয়, বরং কাজে উৎসাহিত করে এই তরুণ প্রজন্মকে দেশের বিপ্লবী শক্তিতে পরিণত করতে হবে। যুবকদের মধ্যে বিপ্লবের বাণী পৌঁছে দিতে এবং তাদের মনোবল বাড়াতে চাই। তিনি বলেন, তোমরা তৈরি হও, ইনশাআল্লাহ তুমি পারবেন। আমরা সর্বদা তোমাদের পাশে আছি। শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
-

তরুণ ভোটার হিসেবে ইসিতে তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটার হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গেছেন। তিনি ঢাকার গুলশান এলাকার ডিএনসিসি ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের একজন ভোটার হবেন। এ জন্য তিনি ইতোমধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে নিজের ভোটার ফরম পূরণ করেন এবং তার মেয়ে জাইমা রহমানের পক্ষে কিওয়ার্ড দাখিল করেছেন। আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে তিনি ইসিতে পৌঁছান।
জানা গেছে, ভোটার হওয়ার জন্য তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনো আইনি বাধা নেই, কারণ তার নাগরিকত্ব ও ভোটার হওয়ার নিয়মাবলি পুরোপুরি মেনে চলেছেন তিনি। ইসি তারেক রহমানকে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবে, যার মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি ও ছবি প্রদান, আঙুলের ছাপ নেওয়া এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা অন্তর্ভুক্ত।
অতিরিক্তভাবে, জানানো হয়েছে যে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন যে কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে কখনোই কাউন্সিল বা অন্য কোনো সময়ে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত করার এখতিয়ার রাখে। ফলে, প্রকৃতপক্ষে তারেক রহমানের ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো আইনি জটিলতা নেই। সাধারণ নাগরিকদের মতো এখানেও সব নিয়ম অনুসরণ হবে—তথ্য যাচাই, ছবি ও আঙুলের ছাপ গ্রহণসহ সব আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তিনি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, কবর জিয়ারত করেন, পাশাপাশি মহান মোনাজাত করেন। এ সময় তিনি কবিতা ও গানের কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে ফুল দেন।
সুবিধাজনকভাবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ, ছাত্রলীগ নেতা সাদা দলের আহ্বায়কেরূপে অধ্যাপক ড. মোরশেদ হাসান খান, ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছিরুদ্দিন নাছির, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান ও ডাকসুর ছাত্রপরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাতের কিছু পেরিয়ে তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনে এনআইডি রেজিস্ট্রেশনের জন্য রওনা হন।
বেলা ১০:৪০ মিনিটে তারেক রহমান গুলশানের বাসা থেকে বের হন। তার আগমন দেখতে সকাল থেকেই শাহবাগ মোড় ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নেতাকর্মী উপস্থিত হন।
প্রায় দেড় বছর নির্বাসনের পর, গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) তিনি দেশে ফিরে আসেন। তার প্রত্যাবর্তনের খবর পেয়ে লাখো নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ ঢাকায় ভিড় জমায়। ঢাকার পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফুট) এলাকায় এক বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে দেশর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
অতঃপর শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান। পথে পঁুরে হাজারো নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানায়, উৎসাহে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি যান জিয়া উদ্যান এবং সেখানে বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শহীদ জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি ফাতেহা পাঠ করেন, দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন, যাতে শহীদ জিয়ার রুহের মাগফিরাত ও বিএনপি নেত্রীর সুস্থতা কামনা করা হয়।
তিনি এরপর সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে জনতার ঢল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেষ্টা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। রাত ১০টার দিকে তিনি স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
-

তারেক রহমান এনআইডি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১টায় নির্বাচন কমিশনে (ইসি) উপস্থিত হন। সেখানে তিনি আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ দিয়ে এনআইডি রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
নির্বাচন কমিশনের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের জানান, তারেক রহমান অনলাইনে ফরম পূরণ করেছেন। এরপর তিনি আমাদের কাছে এসে শুধুমাত্র আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ স্ক্যান করান। সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার তথ্য সার্ভারে পাঠায় এবং তা অন্য কারও সঙ্গে মিললে তা নিশ্চিত করে। যদি মিল না হয়, তাহলে ৫ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার এনআইডি নম্বর জেনারেট হবে। তিনি চাইলে আমাদের কাছ থেকে স্মার্ট কার্ড বা এনআইডি সংগ্রহ করতে পারবেন।
এছাড়াও তারেক রহমানের মোবাইলে এসএমএস যাবে, যেখান থেকে তিনি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। আজকের মধ্যেই তার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথমে ভোটার নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি নির্বাচন কমিশন ত্যাগ করেন। তিনি সকাল ১টার পর আগারগাঁওয়ের ইটিআই ভবনে প্রবেশ করেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলি সম্পন্ন করে প্রমাণিত হন। চেকিং, ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হয়।
নিবন্ধনের পরে দেখানো যায়, বিকেল ১টা ২০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানের গাড়িবহর নির্বাচন কমিশন এলাকা ত্যাগ করে। এ সময় আগারগাঁও এলাকায় ব্যাপক নেতা-কর্মী উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয় এবং তারেক রহমানকে স্বাগত জানায়। বাহন বের হওয়ার সময় তিনি হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান, এতে অংগীকার ও উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যায়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর ৩ মাস নির্বাসন শেষে ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন। ফিরে আসার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাজ শুরু করেছেন। ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে তার নাগরিক অধিকার ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।
-

জোবায়দা ও জাইমার ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমানের নাম এখন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের ইটিআই (ইলেকশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট) ভবনে গিয়ে তারা নিজ নিজ ভোটার নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
নির্বাচন কমিশনের সূত্র জানায়, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ডা. জোবায়দা রহমান ও জাইমা রহমান ইটিআই ভবনে পৌঁছেছেন। এরপর কিছু মিনিটের মধ্যে, অর্থাৎ ১২টা ২৬ মিনিটে তারা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে ছবি তোলা, আঙুলে ছাপ নেওয়া ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে তাদের ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নিবন্ধনের পর, দেড়টার দিকে জাইমা রহমান নির্বাচন কমিশন ভবন ত্যাগ করেন।
এ সময় নির্বাচন কমিশন ভবন ও আশপাশের এলাকায় কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল। পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্ব সহকারে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং আশপাশে অতিরিক্ত নজরদারি চলে।
নিরাপত্তার কারণে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে ভোটার কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়। তাদের কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। পুরো নির্বাচন ভবন জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডা. জোবায়দা রহমান ও জাইমা রহমানের ভোটার নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সব আইনি নিয়ম পালন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা হয়নি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর তিন মাস নির্বাসনের পর সোমবার ২৫ ডিসেম্বর তারা দেশে ফিরেছেন।
-

আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
বাংলাদেশের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) নিজেকে নিয়মিত কাজে অংশ নেওয়ার জন্য আগারগাঁওয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন কেন্দ্রের কর্মসূচির শেষ পর্বের কাজ শেষ করে বিকেলে বনানীতে তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারতের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় তারা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাত পাঠ করেন।
আরাফাত রহমান কোকো ১৯৬৯ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালীন বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। তিনি তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে, জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে রেখে যান।
তারেক রহমানের সঙ্গে তার ছোট ভাইয়ের প্রথম কবর জিয়ারত এটি। উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি বিদেশে ছিলেন তাদের মধ্যে যুক্তরাজ্যেই অবসর কেটেছে। ১৭ বছর পর চলতি বছরের বৃহস্পতিবার তিনি দেশে ফিরে আসেন।
আফরাত রহমান কোকো তাঁর জীবনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করেছিলেন। তার খ্যাতির পাশাপাশি তিনি দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নেও অবদান রেখেছেন। এই প্রথম তিনি তার ছোট ভাইয়ের কবর জিয়েছেন, যা পরিবারের জন্য অনেকই গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ঘটনা।
-

পাগলা মসজিদে চার ঘণ্টায় ৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা সংগ্রহ
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দানসিন্দুক থেকে প্রায় তিন মাসের ব্যবধানের মধ্যে আরও এক বিশাল অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ৭টায় দানসিন্দুক খোলার পর, মসজিদের দ্বিতীয় তলার মেঝেতে বসানো ৩৫টি বস্তা থেকে দেখা যায় কেবল গণনার মধ্যেই চার ঘণ্টার মধ্যে ৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ভবনটিতে অবস্থিত দানসিন্দুকগুলো খুলে প্রথমে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ও নগদ টাকা। গণনা চলাকালে প্রায় ৫০০ জনের বিশাল দল অংশ নেয়, যারা দীর্ঘ সময় ধরে meticulousভাবে এই আর্থিক রেকর্ডের কাজ চালিয়ে যান। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারেছী। তিনি জানান, এখন এই টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এর আগে, আগস্টে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকার সংগ্রহের রেকর্ড ছিল এবং এপ্রিলের সময় আরও ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া যায়। এই মসজিদের দানবাক্স প্রায়ই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করছে, যা প্রচুর মানুষ থেকে সেবা and দানের অংশ হিসেবে আসে। এই দানের টাকাগুলি নানা নির্মাণমূলক প্রকল্প, সমাজসেবা ও দরিদ্র মুখে পুনর্বাসনে ব্যয় করা হয়। আরও উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নভেম্বর একই দানবাক্স থেকে ৮ কোটি ২১ লাখেরও বেশি টাকা সংগ্রহ হয়েছিল। পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানিয়েছেন, এই অর্থ দিয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার নাম ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’। এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয়ের মূল্যমূল্য অনুমান করা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা, যেখানে ৩০,০০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ স্পট হিসেবে গড়ে উঠবে।
