Month: November 2025

  • অক্টোবরের রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে, আগের বছর ছিল ২৫ বিলিয়ন

    অক্টোবরের রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে, আগের বছর ছিল ২৫ বিলিয়ন

    দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এর মূল কারণ হচ্ছে রেমিট্যান্সের প্রবাহে জোয়ার। চলতি বছরের অক্টোবরে, ৩০ তারিখ পর্যন্ত দেশের রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক সূচক অনুযায়ী, ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে এই রিজার্ভ প্রায় ২৭.৫৪ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত নিট রিজার্ভের পরিমাণ ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এই তথ্যগুলো রোববার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৫.৪৪ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ১৯.৮৭ বিলিয়ন ডলার। এই তুলনায় দেখাযায়, এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৩ সালের একই সময়ে, মোট রিজার্ভ ছিল ২৫.৪৪ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল প্রায় ১৯.৮৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে, এক বছরেই দেশের রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী এই বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার।

    অর্থনৈতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে যে একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকা উচিত। এই মানদণ্ডে বাংলাদেশ বর্তমানে অবশ্যই বেশ এগিয়ে রয়েছে না বলে মনে করা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা প্রবাসী আয়, রফতানি, বিদেশি বিনিয়োগ, ঋণ, শ্রমিকের পাঠানো অর্থ ও পর্যটকদের খরচের মাধ্যমে তৈরি হয়। যদি ব্যয় বেশি হয়, তাহলে রিজার্ভ কমে যায়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে রিজার্ভে চাপ কমে এসেছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রির পরিবর্তে, ব্যাংকগুলো থেকে ডলার সংগ্রহ করছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৭.৭৯ কোটি ডলার, আগস্টে ২৪২.২০ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২৬৮.৫৮ কোটি ডলার আর অক্টোবরের মধ্যে ২৫৬ কোটি ডলার।

    অতীতের রেকর্ডে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। ওই বছর মোট প্রবাসী আয় ছিল ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার।

    প্রথম দিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ১০ বছর আগে ২০১৩ সালের জুনে দেশের রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৫.৩২ বিলিয়ন ডলার। এরপর ধারাবাহিকভাবে এই সংখ্যা বাড়ে এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে রিজার্ভ পৌঁছায় ৩৯ বিলিয়ন ডলার। তারপর ২০২০ সালের ৮ অক্টোবর নতুন মাইলফলক স্পর্শ করে, যখন রিজার্ভ ছুঁয়েছিল ৪০ বিলিয়ন ডলার। অতপর, কোভিড-১৯ মহামারির মাঝেও এই রেকর্ড ছিল। ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৮.০৪ বিলিয়ন ডলার। এরপর থেকে নানা কারণের জন্য রিজার্ভ ক্রমশ কমতে থাকে।

    অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রিজার্ভ ছিল ২১.৫ বিলিয়ন ডলার, ২০১৪-১৫ এ ছিল ২৫.০২ বিলিয়ন ডলার, ২০১৫-১৬ এ দাঁড়ায় ৩০.৩৫ বিলিয়ন ডলার। এরপর ২০১৬-১৭ এ রিজার্ভ বেড়ে ৩৩.৬৭ বিলিয়ন ডলার হয়। ২০১৭-১৮ এর শেষে ছিল ৩২.৯৪ বিলিয়ন ডলার, ২০১৮-১৯ সালে ছিল ৩২.৭১ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯-২০ এ রিজার্ভ কিছুটা কমে ৩৬.৩ বিলিয়ন ডলার হলেও, ২০২০-২১ এ আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬.৩৯ বিলিয়ন ডলার। এরপর ধাপে ধাপে কমে বর্তমানে ৩১.৬৮ বিলিয়ন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে।

  • প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জিতলেন নম্বর ০১০৮৩৩১

    প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জিতলেন নম্বর ০১০৮৩৩১

    বাংলাদেশ প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ১০০ টাকার মূল্যমানের এই সঞ্চয় পরিকল্পনায় প্রথম পুরস্কার জিতেছেন নম্বর ০১০৮৩৩১। এই নম্বরের বিক্রয়কারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মাত্র ৬ লাখ টাকার মূল্যের এই পুরস্কারটি পেয়েছেন। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা জিতেছেন নম্বর ০১৫৬৮৯৭। এছাড়া, তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ১ লাখ টাকার দুইটি নম্বর নির্ধারিত হয়েছে: ০০৫৬৩৬২ ও ০৪৫৩৬৬৮। চতুর্থ পুরস্কার যথাক্রমে ৫০ হাজার টাকা করে জিতেছেন ০৯১২৪৪৪ ও ০৯৮৩৫৭২ নম্বর দুটি।

    রোববার ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মোট ৪৬টি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ৩৮১৮টি প্রাইজবন্ডের টিকিট।

    বাংলাদেশ ব্যাংकেকা জানিয়েছে, ড্রয়ের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি না করলে পুরস্কার ফেরত যেতে পারে।

    ২০২৩ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থের ওপর ২০ শতাংশ করও প্রযোজ্য।

  • সোনার দাম এক লাফে ৮৮৮০ টাকা বেড়েছে, পতনের পর ফিরে এসেছে নতুন উচ্চতায়

    সোনার দাম এক লাফে ৮৮৮০ টাকা বেড়েছে, পতনের পর ফিরে এসেছে নতুন উচ্চতায়

    দেশের বাজারে বিভিন্ন দফা পতনের পর আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, এবার ভরিতে ৮ হাজার ৮৮০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এখন ২ লাখ ২ হাজার ৭০৯ টাকা। এর আগে এই দাম ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকা।

    বুধবার (২৯ অক্টোবর) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামের ফলে দেশের স্বর্ণশিল্পে ব্যবহৃত ২২ ক্যারেট মানের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ২ হাজার ৭০৯ টাকা। এই মূল্য পরিবর্তন বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হবে।

    উল্লেখ্য, এই মাসের ২০ তারিখে সোনার দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকায় পৌঁছেছিল, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ দর। তারপর চার দফায় ব্যাপক হারে দাম কমে যায়, এবং শেষত: দাম পড়ে এক লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকায়। তবে আবারও দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বাজুস এখন আবার উচ্চতায় ফিরতে যাচ্ছে।

    সংগঠনটি বলেছে, বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। মূল কারণ হলো, বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনারের দাম এখন ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে।

    নতুন দামে দেশের স্বর্ণের বিভিন্ন মানের দাম এই রকম: ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২ هزار ৭০৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ১৯৩ হাজার ৫০৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১৬৫ হাজার ৮৬২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১৩৭ হাজার ৮৪৫ টাকা।

    অপরদিকে, রুপার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ০৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • মির্জা ফখরুল: ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন

    মির্জা ফখরুল: ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৭ নভেম্বর আমাদের জন্যে এবং গোটা জাতির জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক দিন। আজকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে যখন মানুষজন নানা অনিশ্চয়তা ও হতাশার মুখোমুখি, তখন আবারো দেশের শত্রুরা মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে— এই পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের ঐক্যের চেতনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। তিনি রোববার (২ নভেম্বর) নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নভেম্বর দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব রাখে। ১৯৭৫ সালে এই দিনই সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা তার বিরুদ্ধে যুঝে, তাকে বন্দি করে রেখেছিল। এই অবস্থা থেকে দেশের প্রবল বিপ্লবী ও জনগণ তাকে মুক্ত করে আনে। এরপরই বাংলাদেশের নতুন সাফল্যের ধারাবাহিকতা শুরু হয়।

    তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আসেন এবং দ্রুতই দেশকে সেই অবস্থানে নিয়ে যান যেখানে আগে বাংলাদেশকে ‘বটমলেস বাস্কেট’ বলা হতো। তিনি দেশকে সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে নিয়ে যান। তার আমলে বাংলাদেশ পুনর্জাগরণের পথে হাঁটে, একটি emerging tiger হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

    বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা নেতা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে, ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে একটি অবিচল ঘোষণায় ঘোষণা দেন—‘I hereby declare the independence of Bangladesh.’ এরপরের পাঁচ বছর ছিল দুঃশাসনের অভিশাপে আক্রান্ত। সেই সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি খুবই দুর্বল ছিল, শ্রমিক সংকট, দুর্নীতি ও অপশাসন প্রসারিত। ১৯৭৪ সালে দারুণ দুর্ভিক্ষের ঘটনা ঘটে, লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তখন স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে স্বর্ণমন্দিরে ওই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের অগ্নিপরীক্ষা নিশ্চিত হয়।

    তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেন। তিনি প্রথমে রাজনৈতিক সংস্কার শুরু করেন এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে নিয়ে আসেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন, নিষিদ্ধ পত্রিকা আবার চালু করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেন। অর্থনীতিতে তিনি সূচনা করেন নতুন যুগের। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে গার্মেন্টস শিল্প, বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা রেমিটেন্সের মূল উৎস। নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে তার যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল, কৃষিতে খাল খনন, উচ্চফলনশীল বীজ ও সার ব্যবস্থার সংস্কার, শিল্পে তিন শিফটে উৎপাদন—এসব উদ্যোগে দেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

    তবে দুঃখের বিষয়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নির্মমভাবে হত্যা হন। তবে তার দর্শন ও আদর্শ আজও জীবিত। তার প্রদত্ত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভাবনা কখনো পরাজিত হয়নি। তাই বিএনপিও হার মানেনি, তারা বারবার ধ্বংসের আদলে শক্তি ফিরে পেয়েছে এবং তারেক রহমান প্রবাস থেকে আওয়াজ তুলে দেশের ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, এই দিনটি আমাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এই দিনটি স্মরণ করি, কারণ এখান থেকেই জেগে উঠে জাতির চেতনাবাহিনী। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দর্শনকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যাব — গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে।

  • নতুন প্রতীকে ‘শাপলা কলি’ গ্রহণ করবে এনসিপি

    নতুন প্রতীকে ‘শাপলা কলি’ গ্রহণ করবে এনসিপি

    নির্বন্ধনপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের আওতায় নিজেদের দলীয় প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল হক মুসা।

    রোববার (০২ নভেম্বর) বিকেলে নির্বাচনী কমিশনের সদর দপ্তরে সিইসির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে যান এনসিপির প্রতিনিধিরা, যার মধ্যে ছিলেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তারা এসব তথ্য ব্যাখ্যা করেন।

    জহিরুল হক মুসা জানান, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন শপিলা, সাদা শাপলা এবং শাপলা কলি এই তিনটি প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, প্রথমে ছিল শাপলা, দ্বিতীয় ছিল সাদা শাপলা, এবং তৃতীয়ত শাপলা কলি। এনসিপি এই তালিকা থেকে তাদের পছন্দ অনুযায়ী একটি প্রতীক নির্বাচন করে আবেদন করেছে। যদি শাপলা কলি তাদের দেওয়া প্রতীকের মধ্যে থাকে তাহলে তারা এই প্রতীককে মেনে নেবে বলে স্পষ্ট করে বলেন তিনি।

    নিবন্ধনের জন্য তারা এনসিপি পক্ষ থেকে ‘শাপলা’, ‘সাদা শাপলা’ এবং ‘শাপলা কলি’ এই তিনটি প্রতীককে পছন্দ করে আবেদন জানিয়েছে। তারা আবেদন করে বলে, এই প্রতীকগুলো তাদের পছন্দের বিষয়, এবং তারা চাইছে নির্বাচন কমিশন দ্রুত এক জনস্বেবাজ্ঞানপত্র জারি করে এই প্রতীকগুলোকে অনুমোদন দিক।

    অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোটের প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা’ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক হয়। কিন্তু প্রচুর দাবির পরও, নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখনো কোনও দলকে ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, নির্বাচন বিধিতে এই প্রতীকের ব্যবহার বা বরাদ্দের জন্য হুকুম বা ব্যবস্থা এখনও যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি। এ কারণে, এনসিপি এখনও তাদের পছন্দের শাপলা প্রতীকের জন্য অপেক্ষা করছে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়, যেখানে নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তাতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক যুক্ত থাকলেও, দীর্ঘদিন ধরে এনসিপি এই প্রতীককে তাদের দলের প্রতীক হিসেবে দাবি করে আসছে।

    ২০২৪ সালে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে লক্ষ্য করে নির্বাচন কমিশন দুটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে এনসিপি রয়েছে এবং তাঁদের প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা কলি’ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চলমান প্রক্রিয়া চলছে। তবে, এখনও এই বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়ায়, এনসিপি শীঘ্রই এই প্রতীকের স্বীকৃতি পাবে বলে আশা করছে।

  • একত্র হয়ে বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে গুপ্ত স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার আহ্বান তারেক রহমানের

    একত্র হয়ে বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে গুপ্ত স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার আহ্বান তারেক রহমানের

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, সমাজের চারপাশে গোপনে থাকা স্বৈরাচারী শক্তিগুলোর হাত থেকে দেশের গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক মূলনীতি রক্ষা করতে তার দল একত্রিত হয়ে কাজ করবে। এই মন্তব্য করে তিনি দলীয় একক প্রার্থীকে বিজয়ী করে যেন এই ‘গুপ্ত স্বৈরাচার’ প্রতিরোধ করা যায়, সেই জন্য দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    রোববার রাজধানীর গুলশানে এক হোটেলে বিএনপির প্রবাসী নেতাকর্মীদের প্রাথমিক সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্যপদ গ্রহণের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে দলের ওয়েবসাইটের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, শীঘ্রই বিভিন্ন সংসদীয় আসনের জন্য বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। দল যাকে যেখানে মনোনয়ন দেবে, সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে জয়যুক্ত করে সেই প্রার্থীদের নির্বাচনে বিজয়ী করে আনতে হবে। তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, আমাদের চারপাশে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা ও গুপ্ত স্বৈরাচার lurking করছে, তাই নিজেদের মধ্যে রেষারেষি, বিবাদ ও বিরোধ আসন্ন নির্বাচনে কোনও ধরনের সুযোগ দেবে না।

    তিনি উল্লেখ করেন, ধানের শীষে ভোট দিলে যুব থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ—প্রতিটি বিএনপি কর্মী, সমর্থক ও নেতাকর্মী শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবেন। এর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও প্রগতির বিজয় ঘটবে। তিনি বললেন, ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষককে অবজ্ঞা করা বা তার অবদানকে প্রশ্ন করার লক্ষণীয় কোনও কাজ যেন না হয়। এ জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    সমাপ্তিতে তিনি স্লোগান দেন, ‘ভোট দিলে ধানের শীষে দেশ গড়ব, মিলে-মিশে।’

    বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সঠিক সময়ে তফসিল ঘোষণা করবে। এই নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি প্রস্তুত হচ্ছে এবং প্রায় ৩০০ সংসদীয় আসনে দলের বা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে।

    তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের সঙ্গ দিয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনকেও বিএনপি সমর্থন দিচ্ছে। এ কারণে কিছু আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারে, তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়—এটাই আমাদের মূল মানদণ্ড।

    অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের প্রযুক্তির চার্টার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এই ‘ফোর্থ ইনдуস্ট্রিয়াল রেভলিউশনের’ যুগে আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি। সবারই প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হওয়ার জন্য তিনি দলের সবাইকে উদ্যোগী হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ডিজিটাল কার্যক্রমে আরও অগ্রসর হওয়াই আমাদের ভবিষ্যত।

    আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

  • সরকার গোপন সমঝোতা করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ভঙ্গ হতে পারে

    সরকার গোপন সমঝোতা করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ভঙ্গ হতে পারে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, গোপন যৌথ আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সরকার যদি আরপিওর সর্বশেষ সংশোধনী বাতিল করে দেয়, তবে এটি একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও নিবন্ধিত দলের প্রার্থী যদি জোটের অন্য দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তাহলে আইনগতভাবে অনুমোদিত এই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। বিস্ময়করভাবে, সরকার যদি কোনও দলের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে, তাহলে তা ন্যাক্কারজনকভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যত্যয় ঘটানোর শঙ্কা দেখা দিতে পারে, যা সাধারণ জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠবে। রোববার এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ বিষয়ে কঠোর বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী জোট গঠিত হলেও প্রতিটি প্রার্থী তাদের নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে—গত ২৩ অক্টোবর এই বিধান সংযোজন করে নির্বাচন আইন সংশোধন করা হয়, যা প্রচারিত হয় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের দ্বারা। তবে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, বিএনপি’র একজন নেতা ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার মধ্যে গোপন ‘জেন্টলম্যান এগ্রিমেন্ট’ থাকায়, এই সংশোধনী বাতিলের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। দেশবাসী মনে করে, যদি এই সংশোধনী বাতিল হয়, তবে সেটি অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হবে। মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, যদি এই সংশোধনী উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ব্যক্তিগত একটি গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে বাতিল করা হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও সকল দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণে বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। জনগণের কাছে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য, এই সিদ্ধান্তের নৈতিক ও যৌক্তিক ভিত্তি কি? নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভোটাধিকার পূরণের জন্য দায়বদ্ধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া কি অন্ধকারে ঢুকবে? চার মাস সময় থাকতে, যদি এমন গোপন যোগসাজшисьল বচáles যায়, তবে নির্বাচন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও ভ্রান্তি মুক্ত হবেনা। জামায়াতের এই নেতা বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও বিদ্যমান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বহাল রাখা জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা, অন্তর্বর্তী সরকার এই বিষয়গুলো বিবেচনা করবে এবং সকলের স্বার্থে ন্যায় ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।

  • ৮ দলের নতুন কর্মসূচি announced to implement 5-Point Demands

    ৮ দলের নতুন কর্মসূচি announced to implement 5-Point Demands

    বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে সমমনা আটটি রাজনৈতিক দল আবারও তাদের ৫ দফা দাবির বাস্তবায়নের জন্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির প্রধান নেতা, আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    মাহমুলুল হক বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। যদিও নির্বাচন কৌশলগতভাবে ঘনিয়ে আসছে, তবে ৭ জুলাই তোরার জন্য প্রণীত সনদ, যার আইনি ভিত্তি প্রয়োজন, এখনও তুলে ধরা হয়নি। জনগণের স্বপ্ন ও রাজনৈতিক প্রত্যাশা পূরণে এই সনদ কার্যকর করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে, সমমনা আটটি দলের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবির আদায়ের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে, অন্যথায় কিছুই সম্ভব নয়।

    তদন্তের পরেও, যথাসময়ে রাজনৈতিক নিশ্চয়তা এবং সকল প্রক্রিয়া পরিষ্কার না হলে, দেশের নির্বাচনী পরিবেশ অনিশ্চিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই সনদের আইনি বৈধতা অর্জনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গণভোটের আয়োজন করে জনগণের মতামত নিশ্চিত করতে হবে। নামমাত্র আইনী পরিবর্তন না করে, যদি আরপিও পূর্বের মতোই রাখা হয়, তাহলে নির্বাচন প্রক্রিয়া অস্থির হবে। তিনি আশাবাদী যে, রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাবে, ও জোর দিয়েছেন যে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে না।

    সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের জানান, অনেক সমমনা দল আগেই বিভিন্ন বৈঠকে একমত হয়েছিলেন, কিন্তু হঠাৎ এক দল তাদের ঐকমত্যে সরে আসায় কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দেয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই পারস্পরিক বিরোধ দ্রুত সমাধান হবে। দাবী করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া গণভোটের সময়সীমা শিথিল হবে না, কারণ জনগণের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ ছোট হয়ে যাবে। নির্বাচনের দিন শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আলোচনাই হবে, ফলে গণভোটের সময় আলাদা করে আয়োজন অপরিহার্য।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৬ নভেম্বর সকাল ১১টায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি পাঠানোর জন্য একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১১ নভেম্বর ঢাকায় একটি বৃহৎ বিক্ষোভ সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। মামুনুল হক বিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, সরকার সাত দিন সময় দিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা করে সমাধান করতে সক্ষম হবে। দেশের স্থিতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ।

    এছাড়া, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ, যেমন: ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, নেজামে ইসলামের মুফতি হারুন ইজহারসহ এফএএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।

    এর আগে সকালে, এই আটটি দল একসঙ্গে বৈঠক করে তাদের মূল অবস্থান ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করে। এ বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), খেলাফত আন্দোলন ও ডেভেলপমেন্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা। এই সভার ফলস্বরূপ, জনগণের জন্য এক ছিল কর্মসূচি ও দাবি। তারা উল্লেখ করেন যে, JULY সনদের আইনি কাঠামো স্পষ্ট না হলে, জনগণ আস্থা হারাবে এবং জাতীয় নির্বাচনও অনির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে। তাই, এই দলগুলো মনে করে, সমঝোতা ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো দীর্ঘস্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। তারা আশাবাদী যে, একত্রে আলোচনা করে দ্রুত অচিরেই এই সংকট সমাধান হবে।

  • সংকটময় মুহূর্তে দেশ: নির্বাচনের গুরুত্ব ও দায়িত্বের পূর্ণ নিশ্চিতকরণ, সিইসির মন্তব্য

    সংকটময় মুহূর্তে দেশ: নির্বাচনের গুরুত্ব ও দায়িত্বের পূর্ণ নিশ্চিতকরণ, সিইসির মন্তব্য

    বাংলাদেশ এখন এক সংকটময় পরিস্থিতিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কীভাবে দাঁড়াবে, তা নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনের ফলাফলের ওপরে। নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কার্যক্রমও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

    সোমবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় নির্বাচনের জন্য আনসার-ভিডিপির ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা মহড়া ও আনসার সদস্যদের সমাপনী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথাগুলো বলেন সিইসি। তিনি আরও বলেন, শতভাগ সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

    সিইসি জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে মোট প্রায় ১০ লাখ মানুষ ভোটদানে অংশ নেবে। এতে সার্বজনীনতার জন্য কারাবন্দী ও প্রবাসী ভোটারদের জন্য বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, আনসার-ভিডিপি বাহিনীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বাহিনী দেশের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা। চলমান পর্যায়ে তাদের আরও কার্যকরভাবে প্রশিক্ষিত ও সক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পূর্বের ধারার বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এসোসিয়েটেড ইনটেলিজেন্স (এআই) এর অপব্যবহার করে যাতে নির্বাচন পবিত্রতা নষ্ট না হয়, সে জন্য সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান সিইসি। তিনি বলনে, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার বা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রক্রিয়া বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং সবাই যেন সঠিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তার জন্য সবাইকে সচেতন থাকার তাগিদ দেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে আনসারের প্রায় পাঁচ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মাধ্যমে নির্বাচনে নিরাপত্তা ও সঠিক পরিবেশ বজায় রাখতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি জানান, ১ লাখ ৪৫ হাজার নতুন আনসার সদস্যকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ চলমান রয়েছে, যা ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

    মেজর জেনারেল মাহমুদ আরও বলেন, ‘ইসি ( নির্বাচন কমিশন) সব ধরনের সহযোগিতা করবে। শুধু নির্বাচনী কার্যক্রমে নয়, নির্বাচন প্রচারণা ও জনসচেতনায়ও আমাদের সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাবে।’

  • তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে

    তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে

    রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দলের স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকটি ডেকেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন এবং সভার সভাপতিত্ব করছেন। সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এই বৈঠক শুরু হয়। এতে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, বৈঠকের পর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। পাশাপাশি, বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকদেরও দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। জানা গেছে, বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে বলা হয়েছে, গতকাল গুলশানে হোটেলে প্রবাসী নেতা কর্মীদের প্রাথমিক সদস্যপদ নবায়ন, নতুন সদস্যপদ গ্রহণ এবং দলের ওয়েবসাইটে দ্রুত একক তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা চলছে। তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, শিগগিরই দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের নাম জানানো হবে, যারা আসনে নমিনেশন পাবেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে অনুরোধ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, আশেপাশে গুপ্ত স্বৈরাচার ও স্বার্থান্বেষী মহল ওত পেতে রয়েছে, তাই দলের ভেতরে রেষারেষি, বিরোধ ও বিরোধিতা এড়াতে সবাই সতর্ক থাকবেন। দলের স্থায়ী কমিটির অনেক সদস্য জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে দল ও জোটের প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা হবে। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সরাসরি উপস্থিত আছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গুলশানের এই কার্যালয়ে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন তারেক রহমান। প্রার্থীদের কাছে বার্তা দেয়া হয়েছে যে, দল যেসব প্রার্থীকে ধানের শীষের প্রতীকের জন্য মনোনীত করবে, তাদের পক্ষে কাজ করতে হবে। প্রথম দফায় প্রায় দুইশ’ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতএ, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালেহ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নভেম্বরের প্রথম দিকে প্রায় দুইশ’ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। সকল প্রার্থীকে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ না করে অনুগত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।