Month: November 2025

  • আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়লো

    আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়লো

    অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এক মাসের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে করদাতারা এখন আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, যেখানে সাধারণত শেষ দিন নির্ধারিত ছিল ৩০ নভেম্বর। ব্যবসায়ীরা ও বিভিন্ন করদাতাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ রোববার (২৩ নভেম্বর), এক প্রজ্ঞাপন মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

    এনবিআরের একজন কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানান, নতুন কর আইনের (আয়কর আইন, ২০২৩) অধীনে ২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য বিনা কোম্পানি করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ Originally ৩০ নভেম্বর ছিল। করদাতাদের পক্ষ থেকে সময় বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন অনুরোধের প্রেক্ষিতে তা বিবেচনা করে নতুন এ তারিখ জানানো হয়েছে।

    এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ইতিমধ্যে ১০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। ৪ আগস্ট ২০২৫ সালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এই ই-রিটার্ন সিস্টেমের উদ্বোধন করেন, যার মাধ্যমে করদাতারা সহজে, দ্রুত ও অনায়াসে তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারছেন।

    এ বছর এ বছরের জন্য বিশেষভাবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ, শারীরিকভাবে অসামর্থ্য বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতারা, মৃত করদাতার আইনগত উত্তরাধিকারী ও বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে নিয়মের বাইরে থাকা ব্যক্তিরাও ইচ্ছা করলে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারেন।

    দেশে বা বিদেশে থাকলেও, বাংলাদেশি করদাতারা পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা উল্লেখ করে [email protected] এই ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্টে আবেদন করতে পারেন। এর মাধ্যমে তাদের ই-মেইলে OTP ও রেজিস্ট্রেশন লিঙ্ক পাঠানো হয়, যা ব্যবহার করে সহজে রিটার্ন দাখিল করা যায়। এই প্রক্রিয়ায় কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না; কেবলমাত্র আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য প্রদান করলেই তাৎক্ষণিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীকৃতি বার্তা ও কর সংক্রান্ত সনদ পাওয়া যায়। ফলে দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশে অবস্থানরত করদাতাদের মধ্যে ই-রিটার্ন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

    এনবিআর একটি কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) চালু করেছে, যেখানে করদাতারা কোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান পেতে পারেন। তদ্ব্যতীত, www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের E-Tax সার্ভিস ও দেশের প্রতিটি কর অঞ্চলকেন্দ্রের হেল্প ডেস্ক থেকে সরাসরি সেবা পাওয়া যাচ্ছে।

  • আগামী জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানে ক্যাশলেস লেনদেন চালু হচ্ছে: গভর্নর

    আগামী জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানে ক্যাশলেস লেনদেন চালু হচ্ছে: গভর্নর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাস থেকে ব্যাংক, এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্স সার্ভিসেস), বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস লেনদেনের ব্যবস্থা চালু হবে। এর ফলে সব ধরনের ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনে নগদ টাকা ব্যবহারের প্রয়োজন থাকবে না, যা লেনদেনের স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি করবে।

    সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি। গভর্নর বলেন, লেনদেনে স্বচ্ছতা, আকর্ষণীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিজিটালাইজেশন একমাত্র সমাধান। আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেনের এই নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দুর্নীতি কমবে, রাজস্ব আয় বাড়বে এবং অর্থ লেনদেন আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে।

    উল্লেখ্য, এই পরিকল্পনাকে সফল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক গেটস ফাউন্ডেশনের মোজোলুপের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিরাপত্তার কারণে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না সংশ্লিষ্টরা। চুক্তির আওতায়, মোজোলুপের নতুন প্ল্যাটফর্মের নাম হবে ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইএসপি), যা দেশের সব অর্থপ্রদান ব্যবস্থা আরও আরও উন্নত ও স্বচ্ছ করে তুলবে।

  • বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে: বাংলাদেশের ৬ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ার ঝুঁকিতে

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে: বাংলাদেশের ৬ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ার ঝুঁকিতে

    বাংলাদেশের প্রায় ৬ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ, নানা কারণে আবারও দারিদ্র্যসীমার নিচে পতনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদনে—’বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য মূল্যায়ন ২০২৫’।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে দারিদ্র্য হ্রাস করেছে। এর ফলে, দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে এসেছে এবং ৯০ লাখ মানুষ অতি দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হয়েছে। তাদের জীবনমানের অনেকটাই উন্নত হয়েছে, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, এবং পয়ঃনিষ্কাশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো এখন আরও সহজে পেয়েছেন।

    তবে, করোনাভাইরাস মহামারী ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ২০১৬ সাল থেকে দারিদ্র্য কমার গতি ধীর হয়ে গেছে, সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিও মন্থর হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য হার ১২.২ শতাংশ থেকে কমে ৫.6 শতাংশে নেমে এসেছে এবং মাঝারি দারিদ্র্য ৩৭.১ শতাংশ থেকে কমে ১৮.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিপথ বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়, ফলে ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য বৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্য দ্রুত কমলেও শহরে এর হার কমে যাওয়ার প্রবণতা ধীর হয়ে গেছে। ২০২২ সালের মধ্যে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন নগর বাসিন্দা হিসেবে জীবনযাপন করছে।

    বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের বিভাগের প্রধান জাঁ পেম বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ দারিদ্র্য হ্রাসে সফল হলেও, বর্তমানে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, জলবায়ুঝুঁকি এবং কাজের সুযোগের অপ্রতুলতার কারণে শ্রমশক্তির আয় কমে গেছে। তিনি পরামর্শ দেন, দারিদ্র্য কমানোর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে যুবক, নারী এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য কাজের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। তাঁর মতে, টেকসই উন্নয়ন ও দরিদ্র-বান্ধব পরিকল্পনা গ্রহনের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত দারিদ্র্য এড়াতে সক্ষম হবে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উৎপাদন খাতে নিজেদের কাজের সুযোগ সীমিত, এর পরিবর্তে কম উৎপাদনশীল খাতে বেশি কর্মসংস্থান হচ্ছে, যা নারীদের এবং তরুণদের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর। প্রতি পাঁচ নারীর মধ্যে একজন বেকার, এবং অনেক শিক্ষিত নারীর কাজের সুযোগ নেই। শহরেও, বিশেষ করে ঢাকার বাইরে, কর্মসংস্থান তৈরি খুবই কম। ফলে শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক কমে গেছে। ১৫-২৯ বছর বয়সী তরুণদের অর্ধেক কম মজুরিতে কাজ করছে, যা শ্রমশক্তির দক্ষতা ও চাহিদার মধ্যে বৈষম্য নির্দেশ করে।

    অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন বাংলাদেশে অন্যতম দারিদ্র্য উত্তরণের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। প্রবাসে থাকা পরিবারের আয়ে দেশের দারিদ্র্য কমে আসছে, তবে বিদেশেরা ঘিঞ্জি শহুরে এলাকায় জীবনযাপন করেন যেখানে জীবনযাত্রার মান খুবই নিম্ন। বিদেশে যাওয়ার খরচ অনেক বেশি, যার জন্য সাধারণ পরিবারের পক্ষে এটি সম্ভব নয়। পাশাপাশি, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে, তবে এর ব্যবস্থাপনা অনেক ক্ষেত্রেই অকার্যকর এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পেয়েছেন মোট সুবিধাভোগীর মধ্যে ৩৫% ধনী পরিবারের লোকজন, যেখানে অর্ধেক অতি দরিদ্র পরিবার সুবিধা পায়নি। subsidies দেওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিকতা কম, এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বিভিন্ন ভর্তুকির বেশিরভাগটাই ধনী পরিবারেরাই পেয়ে থাকেন।

    দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানোর জন্য চারটি মূল নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে: উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো; দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি; আধুনিক শিল্পে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ তৈরি; এবং কার্যকর, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু।

    বিশ্বব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক সার্জিও অলিভিয়েরি বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়েছে, বিশেষ করে পূর্ব-পশ্চিমের বৈষম্য। তবে জলবায়ু পরিবর্তন শহর ও গ্রামাঞ্চলে বৈষম্য বাড়াচ্ছে। তিনি জানান, উদ্ভাবনী নীতি, যোগাযোগ উন্নতি, শহরে গুণগত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ক্ষেত্রে সহায়ক মূল্যশৃঙ্খল ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ দারিদ্র্য কমানোর গতি আবার বাড়াতে পারে এবং সব শ্রেণীর মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে।

  • ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশনা: ভারত ভ্রমণে সীমাবদ্ধতা

    ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশনা: ভারত ভ্রমণে সীমাবদ্ধতা

    বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভোটের দিন পর্যন্ত ব্যাংক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শুধুমাত্র অত্যাবশ্যক কারণে দেশের বাইরে যেতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় ব্যাংকিং পরিষেবার স্বাভাবিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের নির্বিঘ্নতা বজায় রাখতে মূলত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের অব্যাহত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা মানতে হবে সকল ব্যাংক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে, যা ব্যাংকিং আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার অংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর হবে এবং নির্বাচনী সময়ে ব্যাংকিং পরিষেবা সময়োচিত ও নিরাপদ রাখতে এটি অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।

  • বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ এখন ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি

    বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ এখন ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি

    বাংলাদেশের ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে, দেশের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে, একই সময় গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মহামারি কাটিয়ে উঠতে শুরু করা এই সময়ের মধ্যে মাত্র ৯ মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বেড়েছে।

    আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যাংকের ঋণ খেলাপির এই মহাসংখ্যার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। বিশেষ করে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নাম-বেনামে অত্যন্ত বড় অঙ্কের অর্থ তুলা হয়েছিল, যা এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে। আরও এক কারণ হলো, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঋণ নবায়নের নিয়ম পরিবর্তনের ফলে দেশে খেলাপি ঋণের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক ঋণই নতুন করে নবায়ন করা হলেও, তার বেশিরভাগেরই ঋণ আদায় সম্ভব হচ্ছে না। এই সব অনিয়ম ও অপব্যবহারের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক ঋণ খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে নিচ্ছে, ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে, দেশে মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে, গত বছরের সেপ্টেম্বরের সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। এটি দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতার জন্য উদ্বেগের বিষয়।

  • শাহাজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে তোলপাড়, গ্রেফতার দাবি বিএনপি’র

    শাহাজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে তোলপাড়, গ্রেফতার দাবি বিএনপি’র

    চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরীর বিদায়ী বক্তব্যের কারণে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথা বসবে।’ এই মন্তব্যের কারণে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি তাকে আইনের আওতায় এনে দমন করার জন্য দাবি জানিয়েছে। রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক মোঃ এরশাদ উল্লাহ ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান এই দাবি পেশ করেন। নেতারা বলতে থাকেন, শাহাজাহান চৌধুরীর এই বক্তব্য স্পষ্টতই প্রমাণ করে তারা অধিকতর অন্ধকার যুগের ফ্যাসিবাদ আবারও প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বক্তব্যটি তার ব্যক্তিগত মতামত, দলীয় বা প্রতিষ্ঠানের কোনও বক্তব্য নয়। তাদের মতে, এই মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং ষড়যন্ত্রপ্রসূত, ঔদ্ধত্যপূর্ণ, স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের প্রকাশ। এটি নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল ও উত্তেজনামূলক করতে এক ধরনের অপচেষ্টা, যা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত হানে। বিএনপি নেতারা বলেন, প্রশাসনের প্রতি প্রকাশ্য হুমকি, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দেওয়া এবং ভোটাধিকার খর্ব করার এই ধরনের বক্তব্য এক অন্যায় ও জঘন্য কাজ। এটি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংসের প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যায়। নেতারা আরও বলেন, এই মন্তব্যে স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, যা অতীতের মানবতাবিরোধী অপশক্তির বর্বরতা ও দমননীতির স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তারা দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকল রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, কিন্তু শাহাজাহান চৌধুরীর এই বক্তব্য প্রকাশ পেয়ে ভোটের পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। নেতারা সুস্পষ্টভাবে জানান, শাহাজাহান চৌধুরীকে তার এই বিষোদগার অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, জনসম্মুখে মোক্ষম ক্ষমা চাইতে হবে এবং এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। তারা বলছেন, দেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে এসব উসকানিমূলক কাজ একতরফা গর্হিত অপরাধ। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সবসময় অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষে থাকবে এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় আপসহীনভাবে কাজ করে যাবে। উল্লেখ্য, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম শহরের জি.ই.সি. কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা শাহাজাহান চৌধুরী, যেখানে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনি এলাকা থেকে প্রশাসনের মানুষদের আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, বসবে, গ্রেফতার হবে, মামলা হবে।’ তবে, এই বক্তব্যের সময় জামায়াতের আমির উপস্থিত ছিলেন না। শাহাজাহান আরও বলেন, ‘আপনাদের প্রতিটি স্কুলের শিক্ষকরা যেন আমাদের কথায় হাঁটেন, পুলিশ যেন আমাদের নির্দেশনা অনুসারে কাজ করে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সব কিছুতেই যেন আমাদের প্রাধান্য পায়।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সচিব আরেক নেতা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘এগুলো তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য, দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। প্রশাসন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবে, দলীয় হস্তক্ষেপ বা প্রভাবের আশঙ্কা থাকলে সেটা সঠিক নয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করবে। স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করাই কঠিন হবে।’

  • ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যম সংস্কারে অগ্রাধিকার দেবে বিএনপি, ঘোষণা মির্জা ফখরুল

    ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যম সংস্কারে অগ্রাধিকার দেবে বিএনপি, ঘোষণা মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত সোমবার (২৪ নভেম্বর) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের বিলাসিতা বেস্ট শহরে অনুষ্ঠিত ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট কেন্দ্র-বিজেসি আয়োজিত মিডিয়া সংস্কার প্রতিবেদনের পর্যালোচনা শীর্ষক এক সেমিনারে জানান, দেশের ক্ষমতা গেলে বিএনপি গণমাধ্যমের স্বায়ত্তশাসন ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার দেবে।

    মির্জা ফখরুল স্পষ্টভাবে বলেছেন, আমাদের মূল প্রতিশ্রুতি হলো একটি স্বাধীন গণমূল্য তৈরি করা, যা আমরা ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরেছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি অবাধ, স্বচ্ছ ও স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম প্রতিষ্ঠা। এর জন্যই আমরা একটি কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করেছিলাম, যা ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে এবং এর রিপোর্টও প্রস্তুত। তবে দুঃখের বিষয়, এই রিপোর্টের উপর এখনো কোনো দিকনির্দেশনা বা আলোচনা হয়নি।

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যদি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে আমি নিশ্চিত যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংস্কার খুবই গুরুত্বের সাথে নেওয়া হবে। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখন তারা সাধারণের জন্য উপযুক্ত ও আধুনিক গণমাধ্যমের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে টেলিভিশন চ্যানেলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী কাজের জন্য বিএনপির অবদান অনেক, সেটিও তিনি স্বীকার করেছেন।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা বিভিন্ন ইউনিয়ন বা সংবাদ সংস্থার সদস্য। বিএফইউজে, ডিআরইউ সহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার থাকলেও, অনেক সময় তাদের মধ্যে দলীয় দোষ থাকতে দেখা যায়। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি সাংবাদিকরা দলীয় স্বার্থে কাজ করেন বা দলীয় পলিটিক্সে জড়িয়ে পড়েন, তবে সেটি ক্ষতিকর।

    অতীতে সংবাদমাধ্যমের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ বছরে গণমাধ্যম ফ্যাসিবাদী নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল। এখন জরুরি সামনে এসে পড়েছে, স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সাংবাদিকসমাজকে নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। এই সময়ে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও জনমত গড়ে ওঠার জন্য সাংবাদিকদের দায়িত্ব অনেক বেশি, যা তারা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

  • জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

    জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের কোনো প্রার্থী এখন থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

    আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) এক গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে মোটরসাইকেল র‌্যালি ও শোভাযাত্রা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এই ধরনের কর্মসূচিতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা ও আহতের ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে দলটির আমিরে জামায়াত সমস্ত জেলা ও মহানগরে যেন আর কোনও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বা র‌্যালি না হয়, সে জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এতে করে নির্বাচনী সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনায় সহযোগিতা চায় দলটি।

  • সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়েছে, ঝামেলা ছাড়াই নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

    সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়েছে, ঝামেলা ছাড়াই নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং কোনও ধরনের অশান্তি বা ঝামেলা ছাড়াই ২৬ নভেম্বর তারিখের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলার বিভিন্ন স্তরের আইনজীবীরা অংশ নেন এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং আইনের শাসন রক্ষা করতে আইনজীবীরা সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি এও বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকৃত বড় রাজনৈতিক দল, যা নদীর মতো বহমান। তিনি আশ্বস্ত করেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট উন্নত এবং এবারের নির্বাচনে কোনো বাঁধার সৃষ্টি হবে না।

    এছাড়াও, এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মো. মকদুম সাব্বির মৃদুল ও অন্যান্য সিনিয়র আইনজীবীরা।

  • অনির্বাচিত সরকারের বন্দর ও এলডিসি উত্তরণের সিদ্ধান্তের এখতিয়ার নেই

    অনির্বাচিত সরকারের বন্দর ও এলডিসি উত্তরণের সিদ্ধান্তের এখতিয়ার নেই

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন যে, অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে দেশের বন্দর বা স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই। তিনি বলেছেন, এমন সরকার যিনি নির্বাচিত নয়, দেশের আরও দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যত নির্ধারণের কোনও ক্ষমতা তাদের নেই।

    তিনি আরও বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং ঢাকার পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে চলমান আলোচনা চলাকালে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ফেসবুকে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন। তারেক রহমান তার ওয়েবসাইটে ইংরেজিতে একটি দীর্ঘ পোস্টে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

    প্রথমত, তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার গল্প দিয়ে ব্যাখ্যা করেন কিভাবে স্বল্পোন্নত দেশের দরকারি সুবিধাগুলো ধীরে ধীরে উঠে যায়, যার ফলে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় কর্মীদের এবং কারখানা চালু রাখতে নানা চাপের মুখে পড়েন উদ্যোক্তারা। তিনি বলেন, এগুলো সাধারণ মানুষের জীবনে নিঃশব্দ সংকট, যা সংবাদ শিরোনামে আসে না।

    দ্বিতীয়ত, তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সিদ্ধান্তগুলো যে তাদের জীবনকে প্রভাবিত করছে, তা জনগণের ভোটে নেওয়া হয়নি; তাদের কোনো সরাসরি প্রশ্ন বা তথ্য দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য চলমান সিদ্ধান্তগুলি গৃহীত হয় কোনো গণতান্ত্রিক চর্চা ছাড়াই, শুধু দ্রুততা এবং জরুরি পরিস্থিতির অজুহাতে। এসব সিদ্ধান্তের কারণে দেশের দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি আর্জি জানান।

    তারেক রহমান মনে করেন, এই উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্মাণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, সরকার তা উপেক্ষা করছে। তিনি বলেছেন, বিকল্পের অভাবে আমরা নিজেদের সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছি; আন্তর্জাতিক আলোচনা ও দর-কষাকষিতে আমাদের শক্তি কমে যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের বিবেচনায় যে ব্যাংকিং অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার সমস্যা ও রপ্তানি কমে যাওয়ার মতো বাস্তব সমস্যা বিদ্যমান, এ জন্য দেশের শক্তি ও সক্ষমতা সম্পন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া আবশ্যক। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, প্রকৃত জাতীয় শক্তি আসলে হয় মূল্যবান সিদ্ধান্তের আগে কঠিন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে সিদ্ধহস্ত হওয়া।

    চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে তিনি বলেন, যা ঘটে, তা লাখ লাখ মানুষের জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলো কেবল রুটিন আকারে নয় বরং নির্দিষ্ট কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে নেওয়া হয়। সরকার আওতায় এ সব সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে যাদের কোনো গণতান্ত্রিক স্বীকৃতি বা ম্যান্ডেট নেই। তিনি উল্লেখ করেন, একইভাবে এলডিসি থেকে উত্তরণের সিদ্ধান্তগুলোও একইরকম কৌশলগত এবং অপ্রকাশ্য।

    তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলো সাধারণ জনগণের মনে যুক্তি বা সমর্থন কামনা করে না; বরং এগুলো প্রতিষ্ঠান ও দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থে নেওয়া উচিত। তিনি বলছেন, দেশের সরকার যাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত হয়নি, তারা এই দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তগুলো নেয়ার স্বত্বাধিকার রাখে না। এতে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে পড়বে বলে তার ধারণা।

    আন্তর্জাতিক নিয়ম বলছে, অর্থনৈতিকভাবে যদি কোনো দেশ অশান্ত হয়ে পড়ে, তখন সময়সীমা বাড়ানোর দরকার পড়ে। তিনি মনে করেন, সরকারকে দেরি হওয়া, বা ভবিষ্যতের জন্য সময় চাওয়ার ক্ষেত্রেও নমনীয়তা দেখানো উচিত। নিজস্ব সক্ষমতা এবং গণতান্ত্রিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বেরানো কর্তব্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অন্তর্বর্তী সরকার যদি দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের ক্ষতি করে এর জন্য দায়িত্বশীল আচরণ না করে, তাহলে তা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে আসবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক এবং পারদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়া, যা সরাসরি জনগণের শক্তি ও মতামতের ভিত্তিতে হয়।

    সবশেষে, তিনি প্রত্যয় পোষণ করেন যে দেশের মানুষ কখনো তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চুপ থাকেনি। বরং তারা সবসময় নিজেদের মর্যাদা রক্ষা, মত প্রকাশ ও নিজের চয়েসের সম্মানে অবিচল থেকেছে। দেশের চাওয়া একটাই – জনগণের কথা শোনা হোক, তারা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে, এবং তাদের সম্মান বলিষ্ঠভাবে নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, এই চাওয়া বা দাবিই ভবিষ্যতের জ্বলজ্বল আলো উৎসাহিত করবে, যেখানে আসল সত্য হলো, দেশের ভবিষ্যৎ তারা নিজেরাই গড়ে তুলবেন যারা এখানে বাস করে এবং দেশের প্রতি গভীর বিশ্বাস রাখে।