Month: September 2025

  • নুরের সুস্থতার প্রক্রিয়া নিয়ে পরিকল্পনা চলছে: রাশেদ খান

    নুরের সুস্থতার প্রক্রিয়া নিয়ে পরিকল্পনা চলছে: রাশেদ খান

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার পর তার শরীরিক স্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নয়—এমনই অভিযোগ করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, নুরুল হক নুর এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে এবং নাকটি বাঁকা হয়ে গেছে। তার মাথায় আঘাত হয়েছে, হাঁটতে পারছেন না এবং মুখ হা-ও করতে পারছেন না। সরকার জানিয়েছে, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ভবিষ্যতে তাকে বিদেশে পাঠানো হবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে, রাশেদ খান বলছেন, তার শারীরিক অবস্থা এখনো আগের মতোই সংকটপূর্ণ এবং তিনি এখন প্লেনে ওঠার মতো পরিস্থিতিতে не। যেমনটা তারা মনে করছেন, তিনি কেবলমাত্র একটু সুস্থ হলে অক্টোবরের এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে।

    তিনি আরো অভিযোগ করেন, গতকাল তারা হাসপাতাল থেকে শুনেছেন যে নুরুল হক নুর সম্পূর্ণ সুস্থ, যা তিনি সঠিক মনে করেন না। তিনি বলছেন, তার অবস্থা দেখে মনে হয়, তাকে সুস্থ দেখানোর জন্য একটি পরিকল্পনা চলছে। তিনি নিজে তার দেখাশোনা করে বুঝতে পারেন, নাক থেকে জমাট বাঁধা রক্ত বের হচ্ছে, যা ডাক্তারের দৃষ্টি আকর্ষণ করায় হাসপাতালের পরিচালকসহ চিকিৎসকরা উপস্থিত হন। তারা নুরের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নির্দেশনা দেন। তবে, গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে যে তিনি এখনো সুস্থ, যা তার প্রকৃত পরিস্থিতির সঙ্গে मेल খায় না।

    রাশেদ খান বলেন, আমি নিজে নুরের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম তবে তিনি কথা বলতে পারছেন না। তার চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, মুখ দিয়ে কথা বলতেও অসুবিধা হচ্ছে। তার মুখের মাড়িতে প্রচণ্ড ব্যথা এবং ব্রেনেও আঘাতের চিহ্ন থাকায় ব্রেন সঠিকভাবে কাজ করছে না। তিনি স্পষ্ট মনে করেন, নুর সম্পূর্ণ সুস্থ হননি। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, তিনি বলেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়েছিল।

    তাঁর মতে, এই হামলাকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষ ব্যাপক একতাবদ্ধ হয়েছে। লাখ-প্রকারের চাওয়া হচ্ছে, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলসহ অন্যান্য ফ্যাসিবাদী শক্তির সাংগঠনিক কার্যক্রমও বন্ধ করতে হবে, যেমনটি আওয়ামী লীগকে করা হয়েছে। তবে, এই ঘটনার মধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া সরকারের জন্য লজ্জাজনক। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অনুমতি ছাড়া এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি আদায় করে বলেছেন, নুরের ওপর হামলা ও তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই ঘটনার তদন্ত ও বিচারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অন্ততঃ প্রত্যাহার হওয়া দরকার।

    অতএব, রাশেদ খান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যেভাবে নুরকে সুস্থ দেখানোর পরিকল্পনা চলছে, তা কোনো লাভ করবে না। হামলার বিচার হতে হবে, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

  • আবু বাকের জিতলে আমি জিতে যাব, বললেন মহিন সরকার সমর্থন জানিয়ে

    আবু বাকের জিতলে আমি জিতে যাব, বললেন মহিন সরকার সমর্থন জানিয়ে

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদারকে সমর্থন জানিয়ে নিজ প্যানেলের জিএস প্রার্থী মাহিন সরকার ঘোষণা দিয়েছেন যে, যদি আবু বাকের জিতেন, তাহলে তিনি নিজেও জয়ী হবেন। আজ শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন মাহিন সরকার। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মূল সৈনিকদের শক্তিকে একত্রিত রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাহিন সরকার আরও বলেন, ‘আবু বাকের জিতলে আমি নিজের জয়ের পাশাপাশি আন্দোলনের শক্তিও রক্ষা পাব। আমি সকল সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধ করব, যেন তারা আবু বাকেরকে ভোট দেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি প্যানেল থেকে জিএস পদে নির্বাচন করছি, তবে আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিকে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত রাখা। আমি বিশ্বাস করি, যদি ডাকসু নির্বাচনে গণ-অভ্যুত्थানের নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়, তবে তারা শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বেশি কাজ করবে।’ সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মাহিন বলেন, ‘যারা আমাকে সমর্থন করেন, তাদের জানাই যে, আমার প্রার্থিতা বাতিলের কোনও সুযোগ নেই। তবে আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আমার পাশে থেকে আবু বাকেরকেই নির্বাচিত করতে।’ উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগেই মাহিন সরকার নিজে একটি পৃথক প্যানেল গঠন করে, যার নাম দেন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’। এই প্যানেলের জিএস প্রার্থী তিনি। পাশাপাশি, তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব। গত ১৮ আগস্ট দলের অনুমতি না নিলেই ডাকসুতে প্যানেল দেয়ার জন্য এনসিপি তাকে বহিষ্কার করে। এরপরও মাহিনের প্যানেল থেকে সাব্বির উদ্দিন ও বায়েজিদ হাসান নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যান।

  • জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংক্রান্ত সংঘর্ষ

    জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংক্রান্ত সংঘর্ষ

    রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভয়াবহ ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে। এ ঘটনায় কার্যালয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার নিশ্চিত করেছেন যে, আগুনের খবর তারা পেয়েছেন, এবং তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোনো সহিংসতার অংশ, তাই অনুমতি পেলেই তারা ঘটনাস্থলে যাবেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৭টার পর বিক্ষোভকারীরা প্রথমে কার্যালয়টি ভাঙচুরের চেহারা নেয়। ভাঙচুরের পর তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে সাড়ে ৭টার দিকে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে। সেই সময় পুলিশ-প্রদর্শকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

    এর আগে, ৩১ আগস্ট কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বলে জানা গেছে। দলটির নেতারা অভিযোগ করেন যে, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদ ব্যানার নিয়ে মিছিল করে আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে। তারা দাবি করছে যে, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করতে তারা এ ধরনের কাজ করেছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের জন্যই এইগুলো হচ্ছে। কেননা, আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি, তাই এসব বাধা সৃষ্টি করছে। তারা বলতে চাইছে, ছাত্রলীগের কার্যক্রম এখন এনসিপি চালাচ্ছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। জাতীয় পার্টি একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে থাকছে, এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এটি বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।’

    পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘তারা এসে আগুন লাগিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জলকামান দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি ঠিক আছে।’

  • ৩০ রাজনৈতিক দলের দাবি: জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ হোক

    ৩০ রাজনৈতিক দলের দাবি: জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ হোক

    জাতীয় পার্টি (জাপা) ও তার সহযোগী দলগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ৩০টিরও বেশি مختلف রাজনৈতিক দলের নেতারা। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত এক সংহতি সমাবেশে তারা এ দাবি ব্যক্ত করেন। এই সমাবেশের মূল লক্ষ্য ছিল, গণহত্যার নিচে থাকা জনতাদের পরিস্থিতি তুলে ধরা ও সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দাবির মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে সংশোধনের আহ্বান জানানো।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পতনের পরও, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি একই রকম অব্যাহত আছে; বিশেষ করে, নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নেতারা দাবি করেন, এই হামলার সঙ্গে জাপা ও লক্ষাধিক সহযোগী দলের যোগ রয়েছে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বুনিয়াদ নড়ে গেছে। তারা আরও বলেন, জাতীয় পার্টি এবং এই জোটের সদস্যরা অবিলম্বে নিষিদ্ধ হওয়া জরুরি, কারণ তারা দেশের স্বরাজ্য সরকারের স্থিতিশীলতা নস্যাৎ করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।

    বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল বলেন, দেশে স্বৈরাচার শেষ হয়েছে; তবে, কিছু দুর্বৃত্ত এখনও নুরুল হক নুরের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন স্তরে বহিরাগত দোসররা রয়ে গেছে, তাঁদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

    জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য সংগঠনের নেতারা মন্তব্য করেন, এই হামলা দেশের উপর আঘাত, এটি হচ্ছে দেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। তারা বলেন, এই ধরনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার চেষ্টা চলছে; নতুন করে সব ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে কিছু গ্রুপ। তারা দাবি করেন, এমন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ চাই একটি মুক্ত, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ যেখানে কোনো ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারিত্বের স্থান নেই।

    সভাপতির বক্তব্যে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, নুরের ওপর হামলায় জড়িত সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠন হলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। সরকারের উচিত অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং নুরের চিকিৎসার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি আরও বলেন, যদি এই দাবি মানা না হয়, তাহলে তারা সচিবালয় ঘেরাও করবেন। তারা স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশে এখন থেকে আর চাইলেই জাপাকে রাজনীতি করতে দিতে চলবে না।

    এছাড়াও বিভিন্ন দলের নেতারা তাদের দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করে বলেন, তারা যেনতেনভাবে নির্বাচন চায় না, বরং সংস্কার দ্বারা নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি শান্ত ও সুষ্ঠু করতে চান। এ সময়, তারা নতুন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    বেলা বারোটার পর থেকে শুরু হওয়া এই সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশের সকল মিডিয়া ও প্রশাসন যেন সত্যের পক্ষে দাঁড়ায় এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন এবং সরকারকে সতর্ক করে দেন, এই ধরনের ষড়যন্ত্র আর সহ্য করা হবে না। বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেছেন, দেশের ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

  • রিজভীর অভিমত: মাজার ভাঙা ও লাশ পোড়ানো রাসুলের শিক্ষা নয়

    রিজভীর অভিমত: মাজার ভাঙা ও লাশ পোড়ানো রাসুলের শিক্ষা নয়

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আজ আমরা নিজেদের মধ্যে বিভাজিত। কেউ মাজার ভাঙছি বা লাশ পুড়িয়ে দিচ্ছি—এগুলো যেনো রাসুলের শিক্ষা নয়। তিনি বলেন, আজ শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা জানান।

    রিজভী বলেন, পৃথিবীবাসীকে নিদর্শন হিসেবে দিয়েছেন আরবের মহামানব হযরত মোহাম্মদ (সা.)। আমরা সেই শিক্ষাগুলো থেকে দূরে সরে যাচ্ছি, নিজেদের ধর্ম ও ইসলামকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলছি। অথচ আমাদের মহানবীই ছিলেন শান্তির প্রতীক এবং ঐক্যের আলোকবর্তিকা।

    তিনি আরও বলেন, আজ রঘৎ নবীকে নিয়ে এখানে যে মিলাদ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তার সম্পর্কে আমার মতো একজন সাধারণ মানুষ বলতে গিয়ে খুবই কষ্ট হচ্ছে। এটি খুবই সম্ভব নয়। আমরা তার আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে তাঁর রেখে যাওয়া বাণী ও ব্যক্তিত্বকে জীবনে ধারণ করে এক সুন্দর সমাজ গঠন করতে পারতাম। শুধু তার আদর্শ লালন করলে, আমাদের দেশ থেকে অন্যায়, অনাচার, কুপ্রবৃত্তি, পাপাচার, হানাহানি এবং রক্তপাত বন্ধ হত।

    রিজভী জানান, যিনি আমাদের আদর্শ ও মডেল—তিনি আমাদের কেউ অনুসরণ করি না। এটাই হলো মুসলিম সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

    মিলাদ মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর শরাফত আলী শফু। অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা সেলিম রেজা।

  • ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচনের ভুল যেন আবার না হয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচনের ভুল যেন আবার না হয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভুলে যাওয়া উচিত, যেন আগামীর ভোটগুলো শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর এবং অংশগ্রহণমূলক হয়।

    রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এই প্রশিক্ষণটি নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য পরিচালিত হচ্ছে।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন শুধু পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়। রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন এবং সাধারণ জনগণের সঙ্গেও সমন্বয় Wichtig। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

    পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করবেন না। মনোযোগ দিন জনগণের দিকে। পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন। মনে রাখবেন, আমাদের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সবার অংশগ্রহণে সফল করা।

    প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, মাস্টার ট্রেইনারদের জন্য নির্বাচনের কৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়েই শুরু হয়েছে, এবং এখন মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ চালু হচ্ছে। এর ফলে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    পুলিশের স্বচ্ছ নিয়োগ ও পোস্টিং নিয়ে তিনি জানান, এইবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সৎ ও নির্বিঘ্ন ছিল। কাউকে মন্ত্রালয় থেকে সরাসরি সুপারিশ করা হয়নি। নিয়োগ এবং পোস্টিং সম্পূর্ণ লটারি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও চালু থাকবে।

    এছাড়াও, তিনি অতীতের কিছু সফলতার ব্যাপারে সঠিক প্রচার না হওয়ার দুঃখ প্রকাশ করেন। বলেন, সফলতার খবর বেশি প্রচার হয় না, তবে ব্যর্থতাগুলো ব্যাপকভাবে দেখা হয়।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কিছু অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য জঙ্গি ও ফ্যাসিস্ট সহযোগীদের চক্রান্তের উল্লেখ করে বলেন, সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এখনও চলমান, এবং পূজার সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

    নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মান বজায় রাখতে হবে বলে গুরুত্ব দেন তিনি। শেষ সবকিছু মিলিয়ে, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

  • গোয়ালন্দে নুরাল পাগলের মাজারে হামলা, গ্রেফতার ৫ জন

    গোয়ালন্দে নুরাল পাগলের মাজারে হামলা, গ্রেফতার ৫ জন

    রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলের মাজারে হামলার ঘটনার মোটিভ ও পরিস্থিতিতে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার সকালে পুলিশ এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে গ্রেফতার ব্যক্তিদের নাম এখনও প্রকাশ হয়নি।

    গত ৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাতে জুমার নামাজের পর ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা নুরাল পাগলের দরবারে হামলা চালায়। এই হামলার সময় পুলিশ ও স্থানীয়রা দমন-পীড়নের চেষ্টা করলে জনতার আতসবাজিত ঘরঘাটি বাধে। এতে গুলিতে একজন নিহত হন এবং অন্যের সঙ্গে আহত হন শতাধিক মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয় এবং হামলা প্রতিরোধে লাঠিচার্জ ও জলকামানা চালায়।

    অভিযানের সময়ে পুলিশও হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে, হামলাকারীরা নুরাল পাগলের মরদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেয় এবং কবরের উপরে নির্মিত স্থাপনাটিও ভেঙে ফেলে।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগল একমাস আগে মারা যান। তার ভক্তরা তাকে কবর দেন এবং কবরের উপরে একটি উচ্চ গঠন নির্মাণ করেন, যা দেখলে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আপত্তি তুলেছেন। কিছুদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

    সে কারণে, শুক্রবার বর্ষীয়ান মুসল্লিরা জুমার নামাজের পর তৌহিদি জনতার ব্যানারে এক মতবিনিময় ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এই বিক্ষোভের শেষে তারা দরবারে হামলা চালিয়ে তার ভঙ্গুর কবর ভেঙে দেয়। পাশাপাশি, কবরের ভেতরে থাকা অর্ধ গলিত মরদেহও তুলে পুড়িয়ে দেন হামলাকারীরা।

    এখন গোয়ালন্দে এই ঘটনার প্রভাব ও উত্তেজনা বজায় রয়েছে, আর পুলিশ এর তদন্ত ও কারাদণ্ডের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

  • শিগগির ১৫০ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু হবে

    শিগগির ১৫০ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু হবে

    সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে দেশের ১৫০টি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিড ডে মিল (দুপুরের খাবার) চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। বাঁশরার এই পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এটি নিশ্চিত করেন।

    উপদেষ্টা বলেন, ‘মিড ডে মিলের কাজ এগোচ্ছে। খুব শিগগির ১৫০টি উপজেলায় এই পরিষেবা শুরু হবে।’ আগে জানানো হয়েছিল, এই বছরের জানুয়ারির মধ্যে দেশের ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে এটি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আমরা ডিপিপি তৈরি করেছিলাম, যা পুরোনো বিবিএসের রিপোর্ট অনুযায়ী ছিল। পরে আমরা এটি উপস্থাপন করি একনেকে, তখন নতুন বিবিএসের পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। এর ফলে দরিদ্র জেলাগুলোর তালিকায় কিছু পরিবর্তন আসে। সেই নতুন তথ্য অনুযায়ী আবার সিদ্ধান্ত নিতে হয়, এজন্য কিছু বিলম্ব হয়েছে।’

    উপদেষ্টা আরও জানান, ‘প্রক্রিয়াগুলো—যেমন প্রকিউরমেন্ট, ট্রেনিং—সব কিছুই চলছে। আমরা আশাবাদী যে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজগুলো সম্পন্ন হবে।’

    তিনি বলেন, কবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে, তা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা আশা করি, সেপ্টেম্বরের শেষ বা অগাস্টের শেষের দিকে দেশের ১৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা সম্ভব হবে।’

    খাবার হিসেবে এতে ডিম, মৌসুমি ফল, বিস্কুট ও দুধসহ মোট পাঁচ ধরনের খাদ্য থাকবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

  • খুলনা ছাত্রদলের নেতাকে ভোট চাওয়ায় বহিষ্কার

    খুলনা ছাত্রদলের নেতাকে ভোট চাওয়ায় বহিষ্কার

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলাকালীন এক নারীবিষয়ক শিক্ষার্থীর কাছে ফোন করে ছাত্রদলের পক্ষে ভোট চাওয়ার অভিযোগে খুলনার এক ছাত্রদল নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটি বহিষ্কার করেছে। এই সিদ্ধান্ত শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) একটি 공식 বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়, যেখানে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই পদক্ষেপের অনুমোদন দেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো সাংগঠনিক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগ ওঠে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর অংশ হিসেবে, খুলনা জেলা শাখার অধীনস্থ পূর্ব রূপসা থানার ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমতিয়াজ আলী সুজনকে সংগঠনের সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    এদিকে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা বাড়িতে গিয়ে বা ফোন করে ভোট চাওয়া থেকে বিরত থাকেন। এই বিষয়ে এক ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, ‘ডাকসু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার। কোনও অতি উৎসাহী নেতাকর্মীর কারণে যেন আমাদের ছাত্র রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য আমি অনুরোধ করছি, ভোটের জন্য কোনও ধরনের চাপ প্রয়োগ করবেন না। আমরা আপনাদের আবেগের মূল্য বুঝি, কিন্তু এ ধরনের কাজ ছাত্রসমাজে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা যতদিন ছাত্রদলের পক্ষ থেকে থাকবো, যেখানে অন্যায় হবে, সেখানেই প্রতিবাদে সোচ্চার থাকবো। অন্যায়ের প্রতিবাদে সবসময় দিয়েই আমাদের অবস্থান। আজ খুলনার রূপসা উপজেলায় আমার অনুমতি না নিয়ে একজন ছাত্রনেতা ঢাবি এক শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে ভোট চেয়েছেন— যা আমি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে inform করেছি এবং বহিষ্কারের জন্য অনুরোধ পাঠিয়েছি। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের এই সিদ্ধান্তের জন্য আমি কৃতজ্ঞ, কারণ আমাদের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ছাত্ররাজনীতি অব্যাহত রাখা।’

  • ‘ছাগলকাণ্ড’ সম্পর্কিত অভিযোগে মতিউর রহমানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া ১১ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

    ‘ছাগলকাণ্ড’ সম্পর্কিত অভিযোগে মতিউর রহমানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া ১১ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

    আলোচিত ‘ছাগলকাণ্ড’ এর সঙ্গে যুক্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের আশপাশে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। এর ফলে, তাকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই আবুল কাশেম, কনস্টেবল মনিরুজ্জামান, কবির হোসেন, ইমরান, নির্জন খান, শামীম আলম, রনি হোসেন, শরীফুল ইসলাম, তানভীর রহমান, আবু সাঈদ মিয়া এবং রবীন্দ্র দাস। শনিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত শাস্তির আদেশ জারি হয়।

    ঠিক ঘটনা অনুযায়ী, মতিউর রহমান দুদকের মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ কারাগারে বিচারাধীন ছিল। ১২ আগস্ট তাকে তথ্যপ্রমাণের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। হাজিরার শেষে ফেরার পথে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কিছু পুলিশ সদস্য তার জন্য একটি পৃথক কক্ষে খাওয়াদাওয়ার arrangements করেন, যেখানে অন্য পুলিশ সদস্যরা সাধারণ স্থানে খাবার গ্রহণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে বিষয়টির সত্যতা প্রমাণ হয়। এরপর, তদন্তের ফলে, অভিযোগের সত্যতায় সন্তোষজনক প্রমাণ পাওয়া গেলে, শনিবার মোট ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।