গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চ, খুলনার পরিবারের সদস্যরা আগামী ১১ অক্টোবর বেলা ১১টায় পলিথিন ব্যবহার না করার অঙ্গীকার করবেন। এ দিন জেলা আইনজীবী সমিতির প্রাঙ্গণে একটি গুরুত্বপূর্ণ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার সকাল স্থানীয় হোটেল গোল্ডেন কিং-এ সংগঠনের একটি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা অব্যাহতভাবে পলিথিন ব্যবহার করছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কেজি পলিথিন বিক্রি হয়। এই অপদ্রব্য ডাস্টবিন ও নর্দমায় ফেলনের ফলে পানির সূর্যপ্রকাশ কমে গেছে। রূপসা, ভৈরব ও ময়ূর নদীর গভীরতা হ্রাস পাচ্ছে। খানজাহান আলী রোড ও শেরে বাংলা রোডের ড্রেনগুলো এখন কালির মতো বাধা সৃষ্টি করছে। দ্রুতই এই নগরী ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে উঠার আভাস পাওয়া যায়। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা আরও বেড়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় নগরবাসীর সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগের ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. আ. ফ. ম মহসীন সভার সভাপতিত্ব করেন। নগরবাসীকে পলিথিনের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়। বক্তৃতা দেন মানবাধिकार কর্মী এড. মোমিনুল ইসলাম, সংগঠনের সদস্য সচিব কাজী মোতাহার রহমান বাবু, নগরপ্রিয় নেতা সরদার আবু তাহের, শেখ আব্দুল হালিম, আবু হারুনার রশিদ, এড. আজিজুর রহমান, মোঃ দাউদ আলী এবং মানবাধিকার কর্মী মোঃ জামাল মোড়ল। সভায় নগরীতে যানজট কমাতে নিয়মিত অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের পরিকল্পনা এবং খুলনা নগরীর স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
Month: September 2025
-

বিশ্বের ইতিহাসে বিরল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নজির: মঞ্জু
খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মের চেতনা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরেই সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রেখে আসছে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের জনগণ স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করছে। এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল নজির বলে তিনি উল্লেখ করেন। গোটা দেশের মতো খুলনাতেও ঐক্য, সম্প্রীতি ও Brotherhood এর মাধ্যমে এগুলি তুলে ধরা হয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের এই দৃষ্টান্ত প্রশংসিত হচ্ছে। অতীতে যেখানে যে কোন উৎসব বা পার্বনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে ছিল বিএনপি, এখনো থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন।
শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর বয়রা রায়েরমহল ১৬নং ওয়ার্ড বিএনপি’র কার্যালয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। মঞ্জু আরও বলেন, ‘বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা জনগণের সঙ্গে একযোগে আন্দোলন সংগ্রাম করে এসেছেন, অন্যায় ও অন্যুভূতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার পতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে, এখন দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়াই একমাত্র পথ। তিনি প্রশাসনের প্রতি নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে বলেন, upcoming পুজা এবং অন্যান্য উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজন।’
বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসাদুজ্জামান মুরাদ, সাদিকুর রহমান সবুজ, আনোয়ার হোসেন, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, শেখ জাফিরুল ইসলাম, সরদার রবিউল ইসলাম রবি, শেখ আব্দুল গফ্ফার, খন্দকার আকিরুল ইসলাম, মিজানুজ্জামান তাজ, মোস্তফা জামান মিন্টু, আবুল কাশেম, খান আবু দাউদ, হারুনার রশিদ হারুন, আমির হোসেন বাচ্চু, হাফিজুর রহমান টুটুল, মুশফিকুর রহমান অভি, জাহিদুল ইসলাম, বাবুল হোসেন, হারুন মোল্লা, পারভেজ মোড়ল, টিটু, কামাল, রাফি, শেখ ইসমাইল, রফিকুল, জাকির, মোল্লা কবির উদ্দিন, শেখ মফিজ, পরিতোষ ঘোষ, সাধন ঘোষসহ অনেকে। এই অনুষ্ঠানে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় পারস্পরিক সমঝোতা ও সৌহার্দ্য লক্ষ্য করা গেছে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মর্মবাণীকে আরও শক্তিশালী করবে।
-

এড. মনা বললেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঝলমলে দৃষ্টান্ত বিরাজমান। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব অসাম্প্রদায়িক মানুষকে মনোভাবাপন্ন করে তুলতে তার উদ্যোগে নতুন শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে, যা এরই একটি প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, নেত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন—বাংলাদেশে কোনও সংখ্যালঘু নেই, যারা এ দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, তারা সবাই বাংলাদেশী। সকলের সমান অধিকার রয়েছে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করার। বিএনপি একদিকে ফ্যাসিবাদী শাসনকে বিদায় জানিয়েছে, অন্যদিকে আগামী নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচন করবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
শনিবার সকাল ১১টায় নগরীর শ্রীশ্রী শীতলামাতা ঠাকুরানী মন্দির প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে নববস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন। তিনি তারেক রহমানের ৩১ দফা দাবি উল্লখ করে বলেন—প্রতিটি মায়ের নামে ফ্যামিলি কার্ড থাকবে, যার মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে চাল ক্রয় করা যাবে। পাশাপাশি, হেলথ কার্ডের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘৭১ সালে যারা বাড়িঘর লুট করেছে, মানুষের উপর নিরীহভাবে হামলা চালিয়েছে, তারা এখন বেহেশতের টিকিট বিক্রির হুমকি দেয়—এ সবকিছ থেকে সতর্ক থাকতে হবে। নিজেকে নিরাপদ রাখতে প্রত্যেকেরই সচেতনতা জরুরি।
অতীতের নেতিবাচক ঘটনার জন্য আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এবং আসন্ন দুর্গাপূজা আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের মূল উদ্বোধক ছিলেন খুলনা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুজ্জামান সজীব। উপস্থিত ছিলেন শীতলাবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি সুজিত সাহা, সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার ঘোষ, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক বদরুল আনাম খান, খুলনা মহানগর পূজা ফ্রন্টের সভাপতি ডাঃ প্রদীপ দেবনাথ, পাশাপাশি সুজনা জলি, মেশকাত আলী, মাহাবুবউল্লাহ শামীম, আসাদুজ্জামান লিটন, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবু সাঈদ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। -

কালিগঞ্জে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি আত্মহত্যা
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোরগোল শুরু হয়েছে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের পক্ষ থেকে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ওই যুবকের নাম জুবায়ের আহমেদ, তিনি উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের ছনকা গ্রামের শেখ মেহেদী হাসানের ছেলে। পুলিশ বলছে, পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন, জুবায়ের রশির সাহায্যে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় কিছু সন্দেহে রয়েছে। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশিদ মৃধা জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। আগামী রবিবার সকালে এটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে। পরিবারের দাবির সঙ্গে এখনও পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পুরো ঘটনা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।
-

কেসিসির প্রশাসকের শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকার শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। নিজের বার্তায় তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব হলো সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান উদযাপন করে আসছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম, যা দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য নজির সৃষ্টি করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে আমাদের ধরে রাখতে হবে এবং সবাইকে একসাথে থেকে এই উৎসবকে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সমাজে প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধন আরও শক্তিশালী করে তুলবে। দুর্গোৎসব যাতে সুষ্ঠু, আনন্দময় এবং নিরাপদ পরিবেশে পালিত হয়, সেজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
-

রিজার্ভ চুরির অর্থফিলিপাইনে বাজেয়াপ্ত, সিআইডির বড় পদক্ষেপ
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইতোমধ্যে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই খবর নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাড়ে ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে ফিলিপাইনের এই ব্যাংকের জুপিটার শাখার ভুয়া লেনদেনের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছিল। এরপর এই অর্থ বিভিন্ন ক্যাসিনো ও অবৈধ মাধ্যমে পাচার করা হয়েছিল।
-

অর্থ উপদেষ্টা: পুঁজিবাজার থেকে সবসময় লাভের আশা ভুল
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন যে পুঁজিবাজার থেকে প্রতিনিয়ত মুনাফা আসবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি সতর্ক করে বলছেন, কেউ যদি এই বিশ্বাসে বিনিয়োগ করে থাকেন, তবে এটি তার জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। বাজারে মূলধনের দিক থেকে লাভের পাশাপাশি ক্ষতির ঝুঁকিও রয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত সচেতন থাকা এবং বুঝতে হবে যে শেয়ার বা বন্ড কেনা মানে কখনো কখনো ক্ষতিও হতে পারে।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সুকুক বাজার উন্মোচন: রাজস্ব ক্ষেত্র, অবকাঠামো সরবরাহ এবং ইসলামী মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা আরো জানান, বাংলাদেশে মূলধনের বাজার এখনো সম্পূর্ণভাবে বিকশিত নয়। সরকারি বন্ডের সেক্টর থাকলেও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ খুবই কম, আর শেয়ারবাজারের অবস্থা তো আরও নগণ্য। ফলে বড় বড় প্রকল্পের অর্থায়নে তথাকথিত ঝুঁকি ভাগাভাগি না করে একমাত্র ব্যাংকের উপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। এর ফলে ঋণখেলাপি ও তহবিলের অপব্যবহারের ঘটনা বাড়ছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। আসলে ঝুঁকি কমানোর জন্য মানুষকে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। ব্যাংক থেকে শুধুমাত্র ঋণ নেওয়া ও ভুয়া খাতে ব্যয় করা সমাধান নয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে সুকুক বাজারে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড রয়েছে, তবে এগুলোর প্রায়ই শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে ব্যবহৃত হওয়ায় আয়ের হার কম। যদি এই বন্ডগুলো উৎপাদনমুখী প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, তবে লাভজনক হওয়া সম্ভব এবং ব্যাংকের ওপর চাপও কমবে। সুতরাং, সুকুক অবশ্যই প্রকৃত সম্পদভিত্তিক হতে হবে যেন বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এখনও সিকিউরাইজেশন কার্যক্রম পুরোপুরি কার্যকরী হয়নি। কিন্তু মেট্রোরেলের মতো বড় প্রকল্পের জন্য এ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে বিশ্বব্যাংকের ঋণে নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসত। এছাড়া, পেনশন ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এগুলো সরকারের দায়বদ্ধতা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু মূলধন ও সুকুকের বাজারই নয়, বীমা বাজারের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে কর কাঠামো ও প্রণোদনা সংস্কার করতে হবে যাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পান।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ প্রমুখ।
-

গভর্নরের পরামর্শ: সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের জন্য আলাদা মার্কেট দরকার
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী এবং গতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, সঞ্চয়পত্র এবং বেসরকারি বন্ডের জন্য আলাদা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র কেনাবেচার বাজার (সেকেন্ডারি মার্কেট) তৈরি করা জরুরি। তিনি বলেছিলেন, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেও এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব, যা দেশের আর্থিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।
আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বন্ড ও সুকুক মার্কেটের সম্ভাবনা ও উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর মন্তব্য করেন, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের কিছুটা লেনদেন বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও, এটিকে সম্পূর্ণভাবে লেনদেনযোগ্য করে তোলা অবশ্যই প্রয়োজন। এর ফলে গ্রাহকরা সুবিধা পাবেন, পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠবে এবং বাজারে তারল্য ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। একইভাবে, তিনি বেসরকারি বন্ডগুলোকে লেনদেনযোগ্য করার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, একটি সঠিক কাঠামো তৈরি হলে বন্ড মার্কেটের আকার দ্রুত দ্বিগুণ হতে পারে, যা দেশের আর্থিক ও অর্থনীতি প্রকৌশলীর জন্য ইতিবাচক দিক আনবে।
আহসান এইচ মনসুর দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের জন্য সরকারী ও বেসরকারি ফান্ডের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকারি পেনশন, করপোরেট পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বেনেভোলেন্ট ফান্ড—এসব দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য কাজে লাগানো সম্ভব। সেই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এর জন্য একটি কার্যকর পেনশন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গঠন জরুরি, যাতে এই তহবিলগুলো ব্যবস্থাপনায় সঠিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
সেমিনারে গভর্নর বাংলাদেশের আর্থিক উন্নয়নের সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির তুলনা করেন। তিনি জানাচ্ছিলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক ব্যবস্থায় মূলত বন্ডের প্রাধান্য রয়েছে, যেখানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩০ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের বন্ড ইস্যু হয়েছে, যা মোট বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ১৩০ শতাংশ। বিপরীতে, বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামো মূলত ব্যাংকনির্ভর, যেখানে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার হলো স্টক মার্কেট, যার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার। এর পরে রয়েছে মানি মার্কেট (নগদ অর্থের বাজার), যার আকার মাত্র ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার। এই চিত্র বাংলাদেশese ব্যাংকের আর্থিক ব্যবস্থার বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের বিমা খাত সামান্য মাত্র জিডিপির ০.৪ শতাংশ, যা খুবই অপ্রতুল।
তিনি বলেন, অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিক থেকেই বন্ড মার্কেট প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বর্তমানে সরকারি বন্ডের আধিক্য দেখা গেলেও, করপোরেট বন্ডের খুবই অভাব আছে। এর জন্য দায়ী তিনি বাবদান করেন, ব্যাংকঋণে সাধারণত বেশি নির্ভরতা এবং কিছু রাজনৈতিক সুবিধার কারণে এটি হয়ত সম্ভব হচ্ছে না।
অতিরিক্ত, গভর্নর সংক্ষিপ্ত করে বলেন, সুকুক বা ইসলামি বন্ডের বাজার খুবই ক্ষুদ্র। বর্তমানে মাত্র ছয়টি সুকুক ইস্যু হয়েছে, যার মোট মূল্য ২৪ হাজার কোটি টাকা। তিনি দ্রুত এই বাজার বড় করার জন্য নতুন ভাবনা নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। এর মধ্যে উল্লেখ করেন, যমুনা বা পদ্মা সেতু প্রকল্পের টোল বা আয় দিয়ে ‘সিকিউরিটাইজ’ করে অর্থ সংগ্রহের বিষয়। এই ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষক036িটাস বিভাগ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে আহসান এইচ মনসুর বলেন, বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে একটি বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। খুব দ্রুত এই প্রতিবেদন সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে প্রস্তাবিত হবে চলমান ও সুকুক উভয় ধরনের বন্ডের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
-

বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম এবার ভরিতে ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা ছাড়ালো, ইতিহাসের নতুন রেকর্ড
বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা দেশের বাজারিকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশের বাজারে ভরতিপ্রতি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি (প্রায় ১১.৬৬৪ গ্রাম) নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। মঙ্গলবার থেকে এই দাম কার্যকর হবে বলেও জানিয়েছে বাজুস।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়ে গেলেও, এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন দেশীয় বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য ভরিতে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকায়।
বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণ বিক্রির জন্য সরকারের ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যুক্ত করতে হবে, তবে গহনার ডিজাইন এবং মান অনুযায়ী মজুরির ভিন্নতা হতে পারে।
বিশ্ববাজারে এর আগে কখনো এক আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৭০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়নি। সম্প্রতি এক দিনে ৩৪ ডলার মূল্যবৃদ্ধির ফলে এক মাসে মোট দাম বেড়েছে প্রায় ১০.৩৫ ডলার। এক মাসে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪০০ ডলার বেড়েছে। এর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর দেশের স্বর্ণের দাম নতুন করে নির্ধারণের সময়, বিশ্ববাজারে এক আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর দাম কিছুটা কমে গেলে ১৮ সেপ্টেম্বর কিছুটা দাম সমন্বয় করা হয়, পরে ফের বিশ্ববাজারের দর বেড়ে ২০ সেপ্টেম্বর আবারও দাম বাড়ানো হয়। ঐ দিনে, ২২ ক্যারেট মানের ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৫৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৮৯ হাজার ৬২২ টাকা হয়। একই ভাবে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দর ১ হাজার ৯৭ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ হাজার ৬৯৯ টাকায় দাঁড়ায়।
সোনার অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনের কারণ হিসেবে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মার্কিন শুল্ক ও ট্যারিফ নিয়ে জটিলতার কারণে পরিস্থিতি বেড়েছে। তারা চীন, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে বৈঠক করছে। এর প্রভাব ডলারে পড়ছে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের গোলযোগের কারণে মধ্যপ্রাচ্যবাসীর ডলারের প্রতি আস্থা কমে গেছে, ফলে তারা নিরাপদ হিসেবে রিজার্ভ হিসেবে স্বর্ণ কিনছে। পাশাপাশি, খনিতে স্বর্ণ উত্তোলন কম থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এসব কারণের ফলস্বরে স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। এই দাম বাড়ার কারণে দেশে জুয়েলারি ব্যবসা কিছুটা মন্দার প্রবণ হয়েছে এবং দেশের স্বর্ণের বাজারের আকারও ক্ষুদ্র হয়ে যাচ্ছে।
-

একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড
বাংলাদেশে স্বর্ণের মূল্য আবারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বাজারে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ জুয়েলার্স এ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এ ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে যে, এবার ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে এবং নতুন দাম বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়েছে, যার ফলশ্রুতিতে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির (অর্থাৎ, সাধারণ বা পুরোনো ধরনের) স্বর্ণের প্রতি ভরি দরে নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা।
বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যে অবশ্যই সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও সংগঠনের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির ৬ শতাংশ সংযুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানের ভেদে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস, তখন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকায় নির্ধারিত হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে, বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দামও নির্ধারিত হয়েছিল, যার মধ্যে ২১ ক্যারেট ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা। এই দামের সমন্বয় কার্যকর হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।
এ বছর মোট ৫৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে দাম বেড়েছে ৪০ বার আর কমেছে ১৭ বার। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে মোট ৬২ বার, যার মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৫ বার এবং কমানো হয়েছে ২৭ বার।
এসবের পাশাপাশি, রুপার দরেও ব্যাপক বৃদ্ধি হয়েছে। ভরিতে ১৫২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ২২৮ টাকায়।
