Month: September 2025

  • পুঁজিবাজারে সবসময় মুনাফা আসবে, তা ভুল ধারণা: অর্থ উপদেষ্টা

    পুঁজিবাজারে সবসময় মুনাফা আসবে, তা ভুল ধারণা: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পুঁজিবাজার থেকে সবসময় লাভের আশা করা ভুল। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কেউ যদি মনে করে এই বাজারের মাধ্যমে নিয়মিত স্থায়ী আয় করা সম্ভব, তবে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। দেশের মূলধন বাজারে যেমন মুনাফার সুযোগ রয়েছে, তেমনি ক্ষতির সম্ভাবনাও লুকানো রয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে যে শেয়ার বা বন্ড কেনা মানে কখনো কখনো ক্ষতিও ভাগ করে নিতে হয়।

    সোমবার ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সুকুক বাজার উন্মোচন: রাজস্ব ক্ষেত্র, অবকাঠামো সরবরাহ এবং ইসলামী মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    ড. আহমেদ আরও বলেন, বাংলাদেশের মূলধন বাজার এখনও যথাযথভাবে উন্নত হয়নি। সরকারি বন্ডের সেক্টর থাকলেও সেখানে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ খুবই কম, আর শেয়ারবাজার প্রায় ক্ষুদ্র। ফলে বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ভাগাভাগি না করে تنها ব্যাংকের উপর ভরসা করা হচ্ছে। এতে ঋণখেলাপি ও তহবিল অপব্যবহার বেড়ে যায়, যা দেশের জন্য বড় ট্রাজেডি। প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকি কমানোর জন্য মানুষকে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া এবং তারপর তা ভুল খাতে ব্যাবহার করাও সমাধান নয়। তাই মূলধন বাজারে বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে যে এখানে ঝুঁকি যেমন আছে, তেমনি লাভের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সুকুক বাজারে বর্তমানে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড রয়েছে, তবে সেগুলো শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে বিনিয়োগ হওয়ায় আয়ের হার কম। যদি এই বন্ডগুলো উৎপাদনমুখী প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, তবে লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাংকের ওপর চাপ কমবে। সুকুক অবশ্যই প্রকৃত সম্পদভিত্তিক হতে হবে, যেন বিনিয়োগকারীরা আস্থা রাখতে পারেন।

    অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে এখনো সিকিউরিটাইজেশন (অর্থ সংরক্ষণ ও একীকরণ) কার্যকরভাবে কাজে লাগেনি। অথচ যদি মেট্রোরেলসহ আরও বড় বড় প্রকল্পে এই প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হয়, তবে বিশ্বব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া পেনশন ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, কারণ এগুলো সরকার কর্তৃক দায়বদ্ধতা।

    তিনি বলেন, শুধু মূলধন ও সুকুক বাজারের উন্নয়নই নয়, বীমা খাতের উন্নয়নেও নজরদারি জরুরি। পাশাপাশি কর কাঠামো ও প্রণোদনা সংস্কার করে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে হবে।

    সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ প্রমুখ।

  • গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বন্ড ও সঞ্চয়পত্রের আলাদা বাজার নির্মাণের পরামর্শ

    গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বন্ড ও সঞ্চয়পত্রের আলাদা বাজার নির্মাণের পরামর্শ

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আরও উন্নত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, সঞ্চয়পত্র এবং বেসরকারি বন্ডের জন্য পৃথক দ্বিতীয় বাজার বা সেকেন্ডারি মার্কেট তৈরি করতে হবে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই ধরনের বাজার দ্রুত প্রতিষ্ঠা সম্ভব, যা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

    আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর), রাজধানীর উত্তরায় আয়োজিত এক সেমিনারে গভর্নর এসব কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সঞ্চয়পত্র কিছুটা হলেও বাজারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, কিন্তু এটিকে সম্পূর্ণভাবে ট্রেডযোগ্য করে তোলার প্রয়োজন। এর ফলে গ্রাহকরা উপকৃত হবেন এবং একটি শক্তিশালী সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠবে, যা বাজারে তারল্য বাড়াবে। একইভাবে, বেসরকারি বন্ডগুলোও লেনদেনযোগ্য করার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, যদি একটি সঠিক কাঠামো তৈরি হয়, তবে রাতারাতি বন্ড মার্কেট দ্বিগুণ হতে পারে, যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

    আহসান এইচ মনসুর দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের উৎস হিসেবে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তহবিলের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকারি পেনশন ব্যবস্থা, করপোরেট পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং বেনেভোলেন্ট ফান্ড—এসবকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এই উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর পেনশন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যা তহবিল ব্যবস্থাপনার মান উন্নত করবে।

    সেমিনারে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো তুলনা করে তিনি দেখিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি মূলত বন্ড নির্ভর। তার মতে, প্রায় ১৩০ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যমানের বন্ড ইস্যু হয়েছে, যা বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ১৩০ শতাংশ। যেখানে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি ব্যাংকিং, সেখানে অন্য আন্তর্জাতিক বাজারগুলো বেশি নির্ভরশীল বন্ডে। তিনি জানান, বাংলাদেশের স্টক মার্কেটের পরিমাণ প্রায় ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার এবং মানি মার্কেট বা নগদ অর্থের বাজারের আকার ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার বিপরীত চিত্র দেখায়। এর পাশাপাশি, দেশের বিমা খাতের জিডিপিতে অবদান অতি নগণ্য, মাত্র ০.৪ শতাংশ।

    গভর্নর আরও বলেন, বাংলাদেশেও যেমন বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো, চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে একটি সুসংগঠিত বন্ড মার্কেট গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে সরকারি বন্ড বাজারের আধিপত্য থাকলেও, করপোরেট বন্ডের বাজার খুবই ক্ষীণ। এর পেছনে তিনি ব্যাংক ঋণে বেশি reliant হওয়া এবং ঋণ পরিশোধে অসুবিধা বা রাজনৈতিক প্রভাবের মতো কারণগুলোকে দায়ী করেন।

    সুকুক বা ইসলামি বন্ডের বাজারকেও তিনি ছোট উল্লেখ করে বলেন, এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি সুকুক ইস্যু হয়েছে, যার মোট মূল্য ২৪ হাজার কোটি টাকা। তিনি দ্রুত এই বাজার বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তার প্রস্তাব, ইয়ামুনা বা পদ্মা সেতুর মতো আয়-উৎপাদনকারী প্রকল্পের টোল বা রেভিনিউকে ‘সিকিউরিটাইজ’ করে নতুন বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংগ্রহের বিকল্প খোলা। এর জন্য একটি বিশেষ কার্যকরী বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ে গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

    শেষে, আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। শিগগিরই এই প্রতিবেদনে সুপারিশসহ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে প্রচলিত ও সুকুক ধরনের বন্ডের উন্নয়নের দিকনির্দেশনা থাকবে।

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা

    বিশ্ব বাজারে সোনার মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে এখন ভরিপ্রতি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকায়, যা দেশের সব রেকর্ড কাটিয়ে গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার রাতের মধ্যে এই দাম ঘোষণা করা হয়, এবং এটি আগামী মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম গ্যাসে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দামে, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য পড়বে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা।

    বাজুস আরও জানায়, এই মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে, তবে ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পার্থক্য হতে পারে।

    বিশ্ববাজারে সোনার দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এক আউন্স সোনার দাম এখন পর্যন্ত কখনো ৩ হাজার ৭০০ ডলার ছাড়ায়নি। একদিনে ৩৪ ডলার বৃদ্ধির ফলে বিশ্ববাজারে এক মাসে সোনার দাম ১০.৩৫ ডলার বেড়েছে, যা মোট প্রায় ৪০০ ডলার বৃদ্ধি দেখাচ্ছে।

    অতিরিক্ত, গত সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে বিশ্ববাজারে এক আউন্স সোনার দাম ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৮ সেপ্টেম্বর তা কিছুটা কমলেও, পুনরায় বাড়তে থাকে। ২০ সেপ্টেম্বর, দেশের বাজারের জন্য সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক হাজার ১৫৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা। একই দিন, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৯৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯৯ টাকায় পৌঁছায়।

    বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের স্বর্ণমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো আমেরিকার শুল্ক, চীন, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে বৈঠক এবং ডলার মূল্যবৃদ্ধি। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের ইস্যুতে সামগ্রিক ঝামেলা থাকায়, নিরাপত্তাহীনতার কারণে বেশ কিছু দেশ ডলার কিনে রিজার্ভ করছে। তাছাড়া, সরবরাহের অভাব ও খনি থেকে স্বর্ণ উত্তোলনে প্রতিবন্ধকতা থাকায় দাম আরও বাড়ছে। এসব কারণে বর্তমান দ্রুত ও অস্বাভাবিকভাবে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাচ্ছে, যা দেশের জুয়েলারি ব্যবসায় মন্দা সৃষ্টি করছে এবং বাজারের আকার ছোট করে দিচ্ছে।

  • এক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড উচ্চতা

    এক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড উচ্চতা

    ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত মঙ্গলবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এটি এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের মূল্য। নতুন এই দাম বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে। এছাড়া, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
    নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য সেটি হচ্ছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা।
    বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মান ভেদে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য হতে পারে।
    এর আগে, গত ২২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের সমন্বয় করে বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকায়। এটি ছিল দেশের বাজারে এতদিনের সর্বোচ্চ মূল্য।
    অন্য ক্যাটেগরিতে, ২১ ক্যারেটের ভরি দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা ধরা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি কার্যকর হয় ২৩ সেপ্টেম্বর।
    এ পর্যন্ত চলতি বছরে স্বর্ণের দাম ৫৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪০ বার ও কমানো হয়েছে ১৭ বার। ২০২৪ সালে মোট দাম সমন্বয় হয়েছিল ৬২ বার, যেখানে ৩৫ বার দাম বেড়েছে এবং ২৭ বার কমেছে।
    এছাড়া, স্বর্ণের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রূপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। রুপার ভরি (২২ ক্যারেট) ১৫২ টাকা বাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকায়, যা এখন দেশের সর্বোচ্চ। অন্যান্য ক্যাটেগরিতে, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ হাজার ২২৮ টাকা দিয়ে।

  • একীভূত হতে যাচ্ছে পাঁচ ইসলামিক ব্যাংকের নতুন প্রশাসকরা

    একীভূত হতে যাচ্ছে পাঁচ ইসলামিক ব্যাংকের নতুন প্রশাসকরা

    বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের নতুন প্রশাসকের নাম চূড়ান্ত করেছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়োগের মাধ্যমে এই ব্যাংকগুলোর উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে। প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংকগুলোতে দায়িত্ব পাওয়া নির্বাহী ও পরিচালকদের মধ্যে তিনজন থাকবেন নির্বাহী পরিচালক এবং অন্যরা থাকবেন ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডে। বিশেষ করে, ইউনিয়ন ব্যাংকের জন্য মো: শওকত উল আলম ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের জন্য মো: আবুল হাসেমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের জন্য দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে মো: সালাহ উদ্দীন ও মুহাম্মদ বদিউল আলম দিদারকে। আরও দুজন অর্থাৎ, মুহাম্মদ বদিউল আলম দিদার ও মো: সালাহ উদ্দীন এই দায়িত্ব পাবেন। এ ছাড়া, মো: শওকত উল আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একীভূত করা ব্যাংকগুলোতে সড়ক ও পরিচালন ব্যবস্থা তদারকি করার জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসক নিয়োগে যেকোনো আইনি বাধা এড়াতে আগামী মাসের শুরুর দিকে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। উল্লেখ্য, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে শরিয়াহভিত্তিক এই ব্যাংগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের ঋণের বেশিরভাগই খেলাপি হয়ে থাকায় গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাংকগুলো। এই পরিস্থিতিতে, গ্রাহকের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই পুনঃসংগঠনের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ব্যাংকগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যার জন্য প্রায় ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকার ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে, ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে প্রদান করা হবে।

  • বিএনপি আদর্শিক দল হিসেবে মানুষ দেখতে চায়: আমীর খসরু

    বিএনপি আদর্শিক দল হিসেবে মানুষ দেখতে চায়: আমীর খসরু

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজনীতিতে ধ্যানধারণা পরিবর্তন করতে হবে এবং তা গ্রহণ করতে হবে। বিএনপিকে একজন আদর্শিক দল হিসেবে জনগণ দেখতে চায়। তিনি এই কথা বলেন আজ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আয়োজিত জিয়া সুইং মিনি কার্নিভালে।

    আমীর খসরু বলেন, রাজনীতিতে এখন ভিশন ও দূরদৃষ্টি প্রয়োজন। গুটিয়ে যাওয়া বা গৎবাঁধা ধারনা দিয়ে আর চলবে না; বরং নতুন ধারণা নিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে এই পরিবর্তনের সাথে যুক্ত করতে হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষের মনোজগতে বড় পরিবর্তন এসে গেছে, যেটা আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এই পরিবর্তন না বুঝলে ভবিষ্যৎ রাজনীতি চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

    আমীরে বলছেন, দেশের মানুষকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তবে আমাদের লক্ষ্য হলো স্পোর্টসকেও গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে উন্নীত করা। স্পোর্টসকে আন্দোলনে আনার জন্য সকলকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে রাজনীতিকে গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতি ও স্পোর্টসকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সবাই যেন এই ধাপে অংশগ্রহণ করতে পারে সেটাই লক্ষ্য।

    তিনি জানান, তারেক রহমানের পরিবারের স্পোর্টসের প্রতি আগ্রহ সম্পূর্ণভাবেই জানা আছে। দেশে বিভিন্ন স্পোর্টস টুর্নামেন্টের পাশাপাশি, যেমন সুইমিং, ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্ট চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে উনি প্রত্যেক অঞ্চলে স্পোর্টস সেন্টার তৈরি করার পরিকল্পনা করেছেন, যেখানে সব ধরনের খেলা ও স্পোর্টসে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।

    খবরের বক্তা বলেন, স্পোর্টস দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উন্নত করে। বিভিন্ন দেশে স্পোর্টসের মাধ্যমে তাদের বিশ্বে পরিচিতি ও সম্মান বেড়েছে। স্পোর্টসকে সফট পাওয়ার মনে করে তিনি মন্তব্য করেন, একে চালিকা শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে তুলে ধরা সম্ভব। বড় বা শক্তিশালী সামরিক শক্তি ছাড়াও, এমনকি বড় দেশ হতে না হয়েও স্পোর্টস দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা যায়। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেই পথে যাব।

    তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি বড় স্বপ্ন দেখছেন, যেখানে বাংলাদেশের স্পোর্টসের মাধ্যমে বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে। সকলের সহযোদ্ধা ও সহযোগিতা থাকলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে বলে বিশ্বাস।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সভাপতিত্ব করেন সদস্য সচিব মোস্তফা জামান।

  • আনিসুলের দাবি: আমরাই লাঙল প্রতীকের বৈধ মালিক

    আনিসুলের দাবি: আমরাই লাঙল প্রতীকের বৈধ মালিক

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ স্পষ্ট করে বলেছেন, গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন যেসব দলের নির্বাচিত নেতৃত্বকে বৈধ মনে করে, তারাই এই দলের আসল মালিক। তিনি জানান, ‘আমরাই লাঙল প্রতীকের বৈধ মালিক।’ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) গুলশানে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই বিবৃতি দেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের দাবিদার একজন নন, মালিক নির্ধারণে সমস্যা হচ্ছে।’ এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আজ জাতীয় পার্টি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে৷

    আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, কিছু পক্ষ বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য ভিন্ন ভিন্ন আবেদন জমা দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনি মন্তব্য করেন, ‘নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীক কোনও গোষ্ঠী বা ব্যক্তির হওয়া সম্ভব নয়; এটি কেবল দলের গঠনতন্ত্র ও আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নির্বাচন কমিশন আইন, সংবিধান এবং গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত দলের দশম কাউন্সিলে আমি সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছি। এরপর, দলটির নতুন কমিটি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি। কাদের আর কেউ এখন থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলে স্বীকৃতি পায় না।

    আনিসুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, ‘লাঙল প্রতীক আমাদের দলের ঐতিহ্য, জনগণের আস্থা এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতীক। এই প্রতীক শুধুমাত্র বৈধ নেতৃত্বকেই দেওয়া উচিত। বিভ্রান্তিকর আবেদনগুলো সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

    জিএম কাদেরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে আনিসুল বলেন, কাদের কখন কী বলছেন, তার নিশ্চয়তা নেই। তার বক্তব্য দ্বৈতনীতি ও দলের জন্য ক্ষতিকর।

    সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, তিনি লাঙল প্রতীকের মালিক খুঁজে পাচ্ছেন না। যথাযথ গঠনতন্ত্র অনুসারে, ৯ আগস্ট দলের দশম কাউন্সিলে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে, আইনি দিক দিয়ে তিনি এই প্রতীকের প্রকৃত মালিক।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি নির্বাচন কমিশন দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈধ নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেবে। এই সিদ্ধান্ত হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য।’

    তাদের উদ্দেশে হাওলাদার উল্লেখ করেন, ‘জাতীয় পার্টির মালিকানা আমাদের তৃণমূল নেতাকর্মীদের হাতে ফিরিয়ে দিতে চাই। কেউ একক নেতৃত্বে পার্টি চালাতে পারবে না। পল্লীবন্ধু এরশাদের প্রতিষ্ঠিত পার্টি এখনো জোটীতভাবে পরিচালিত হবে।’

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, সফিকুল ইসলাম সেন্টু, লিয়াকত হোসেন খোকা, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • তরুণদের ঐক্যই দেশের স্বৈরাচার প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি: তারেক রহমান

    তরুণদের ঐক্যই দেশের স্বৈরাচার প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি: তারেক রহমান

    বাংলাদেশে গভীর ষড়যন্ত্রের মুখে দেশের স্বাভাবিক অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জনগণ, নেতাকর্মী এবং সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান যেন দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ ও স্বাধীনতা সংরক্ষিত থাকে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা দক্ষিণ বিএনপি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এটি ছিল ১৬ বছর পর চতুর্থবারের মতো কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলন।

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন, এবং সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা। সম্মেলনে দলটির ছয়টি সংসদীয় আসন, চারটি পৌরসভা, ১০৭টি ইউনিয়ন এবং ১০০০-এর বেশি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে তিনটি স্বৈরতান্ত্রিক সরকারকে জনগণ হটিয়েছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ না থাকেন, তাহলে দেশের অন্ধকার পথে ফেরার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আবারও গুপ্ত স্বৈরাচারী শাসনের উদ্ভব হতে পারে, তাই সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, মিছিল-মিটিংই শেষ কথা নয়, জনগণের কাছে সরাসরি যেতে হবে এবং জনসংখ্যার দুয়ারদুয়ারেও পৌঁছাতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা অনেক সংগ্রাম করে দেশের স্বাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন। তারা জেলে গেছেন, গুম হয়েছেন, কিন্তু স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়েছে। এখন আমাদের আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।’

    প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের স্বার্থে সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, কারণ দেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এই একটিই মূল অস্ত্র। তিনি ভবিষ্যতেও দলকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করে দেশের গণতান্ত্রিক আদর্শকে বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দেন।

    বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, এবং নেতৃবৃন্দের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ ও সফল দলের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে দলটি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার নেতাকর্মীগণের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও দায়িত্ববোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান বিএনপি মহাসচিবের

    প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান বিএনপি মহাসচিবের

    বাংলাদেশের পুনর্গঠনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ত্বের উপর জোর দিয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মারিয়ট মার্কুইস হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘এনআরবি কানেক্ট ডে: এমপাওয়ারিং গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জাতির সামনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সবাইকে একজোট হয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে, যা অধ্যাপক ইউনূস দেখিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সবচেয়ে জরুরি হলো অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া। অতীতে স্বৈরশাসনের কারণে জনগণের বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহাসচিব বলেন, বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য যে সংস্কার কমিশন রয়েছে, তাদের কাজে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। দেশের মানুষ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নতিকর কাজেই তারা যুক্ত। তিনি বিশ্বাস করেন, আধুনিক মানসিকতা নিয়ে তরুণ প্রজন্ম দেশের উত্তরণের নেতৃত্ব দেবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

  • জামায়াতের লোগো পরিবর্তনের পরিকল্পনা পরিবর্তন আসছে

    জামায়াতের লোগো পরিবর্তনের পরিকল্পনা পরিবর্তন আসছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি তাদের দলীয় লোগো পুনঃনির্মাণের উদ্যোগের দিকে এগিয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। জামায়াতের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে কিছু নতুন নকশার লোগো তৈরি হয়েছে, এবং শীঘ্রই এই নকশাগুলোর মধ্যে থেকে চূড়ান্ত ডিজাইন নির্বাচন করা হবে। মূলত রোববার রাজধানীর বসুন্ধরা কার্যালয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে নতুন লোগো দেখা যায়। সেখানে দেখা যায়, সবুজ পতাকার কেন্দ্রে বই এবং উদীয়মান সূর্য; তার ওপরে কলমের ছবি। এই কলমটি দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র দণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এটি মূলত একটি প্রস্তাবিত লোগো, যা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শিগগিরই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এর আগে ২০১৬ সালে জামায়াত তাদের লোগো পরিবর্তন করেছিল। তখনকার নতুন লোগোতে ছিল একটি গম্বুজের কাঠামো, যার ভিতরে ছিল ‘আল্লাহ’ লেখা। গম্বুজের মাঝখানে ছিল দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’, আর নিচে লেখা ছিল ‘আকিমুদ দ্বীন’ (দ্বীন কায়েম কর)।