Month: August 2025

  • জামায়াতের দাবি, আগামী ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ চায় ডা. তাহের

    জামায়াতের দাবি, আগামী ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ চায় ডা. তাহের

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুলাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘আপনি বলেছেন, সংস্কার সম্পন্ন হলে নির্বাচন হবে। তাহলে এখন কেন সংস্কার নিয়ে টালবাহানা করছেন? আমরা কি ৩০ দিন চড়ুইভাতি খেলার জন্য গিয়েছিলাম? এটা কি কোনও খেলা বা হাড্ডুডু? আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বের। আমরা বিষয়টিকে খুব সিরিয়াসলি নিচ্ছি।’

    রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন, যেখানে দলের ‘জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা হয়।

    সৈয়দ আব্দুলাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমরা বহুবার বলেছি, সংস্কার করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন—সংস্কার, দৃশ্যমান বিচার এবং তারপর নির্বাচন। আমরা সেই কথায় আছি। তবে আপনি এখন শুধু কমিশন গঠন করে দিয়েছেন, বাস্তবায়ন করেননি। আমরা বারবার ঐকমত্যে পৌঁছেছি, এবার তার বাস্তবায়নের দায়িত্বও আপনার। আপনি বাস্তবায়ন না করেই তারিখ ঘোষণা করেছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘তারিখের ব্যাপারে আমরা দ্বিমত পোষণ করছি না। আমি অনুরোধ করবো—তারিখটি আগাহে নিয়ে আসুন, যেন তা ১৩ ডিসেম্বর হয়। জামায়াতে ইসলামী চাই আগামী ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ।’

    উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘অসুবিধা থাকলেও, আমাদের কোনও অসুবিধা নেই। ডিসেম্বর, জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি—যে কোনও মাসে নির্বাচন হলেও কোনও সমস্যা নেই। এর জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত।’

    তাহের বলেন, ‘এখন কি এটা কোনও খেলা? জনগণের আন্দোলনের ফলে যাদের উপর আস্থা রেখে জাতি তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছিল, আজ সেই লোকেরা জাতির প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ।’

    তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যারা আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে, তাদের মর্মে অন্তর্দৃষ্টি থাকা উচিত। জনগণ কি মরে গেছে? অতি জরুরি অবস্থায়ও জনতার ভোটের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। ওরা যে কোনওভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারে—সেজন্য আমরা সবাই সাবধান থাকি।’

  • সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি

    সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারির নির্দেশ দিয়েছে। এর পাশাপাশি, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থাকা বা ছোট মাছ ধরার কাজে বাধা না দিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে। সোমবার বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা এ সতর্কবার্তা দেন।

    আবহাওয়া অফিস জানায়, উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশ্যার উপকূলের কাছাকাছি পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি অস্থির লঘুচাপ তৈরি হয়েছে, যা সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপান্তরিত হতে পারে। এই অবস্থায়, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত বায়ুচাপের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর ঝড়ো হাওয়া বা দমকা বাতাস বইতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

  • থাইল্যান্ডের দুই চিকিৎসকের বাংলাদেশে সেবা বন্ধের নোটিশ

    থাইল্যান্ডের দুই চিকিৎসকের বাংলাদেশে সেবা বন্ধের নোটিশ

    বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) তাদের নিবন্ধন না থাকার কারণে থাইল্যান্ডের দুই চিকিৎসকের বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। রোববার রেজিস্ট্রার ডাঃ মোঃ লিয়াকত হোসেনের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সামিটিভেজ হাসপাতালের চিকিৎসক নাত্তিপাত জুথাচারোয়েনং ও ল্যান্টম টনভিচিয়েন এই সরকারের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশে কোনো ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেননি। এ কারণে তাদের সকল ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিএমডিসির নির্দেশে তাদের বুকিং বাতিল করতে বলা হয়েছে।এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে “ফ্লাইমেট” নামে একটি পেজ থেকে ওই দুই চিকিৎসকের ছবি ব্যবহৃত একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়, যেখানে বলা হয়, “আপনার শিশুর কি হার্টের সমস্যা? থাইল্যান্ডের সামিটিভেজ হাসপাতালের শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আসছেন ঢাকা! বিদেশি চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শ নিন।” এই বিজ্ঞাপনটি বিএমডিসির দৃষ্টি এলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।প্রজ্ঞাপনে আরও লেখা হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ২০১০ অনুযায়ী, বিদেশি চিকিৎসক বা চিকিৎসক দলকে বাংলাদেশে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কাউন্সিল থেকে অস্থায়ী নিবন্ধন নিতে হয়। তবে, এই দুই চিকিৎসক এই নিয়ম মানেননি, ফলে তাদের কার্যক্রম আইনগতভাবে অবৈধ বলে গণ্য হবে। তাই তাদের দ্বারা পরিচালিত চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ کرنے প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিএমডিসির রেজিস্ট্রার ডাঃ মোঃ লিয়াকত হোসেন বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, অনুমোদন ছাড়াই সেমিনারের নামে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা হয়েছে। যদিও তারা দাবি করে, কোনো কনসালটেশন দেওয়া হবে না, কিন্তু অতীতে এরকম মিথ্যা দাবি করে বাংলাদেশে এসে চিকিৎসায় যুক্ত হওয়ার উদাহরণ রয়েছে, যা আইনসম্মত নয়।” এই বিষয়ে ফ্লাইমেটের মালিক নিলয় সাইদুর বলেন, “বিদেশি চিকিৎসকদের আনতে বিএমডিসি থেকে নিবন্ধন নিতে হয়, এটা আমাদের জানা ছিল না। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য বিদেশি চিকিৎসক এসে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তখন বিএমডিসি কিছু বলেনি। তবে আমরা এই অনুষ্ঠানটি বাতিল করেছি।”

  • সাবেক এমপি কাজী নাবিলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা অনুমোদন

    সাবেক এমপি কাজী নাবিলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা অনুমোদন

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও শত কোটি টাকার সন্দেহভাজন অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগে যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন করেছে। সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়। সংস্থাটির উপ-পরিচালক মোঃ আকতারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, আসামি কাজী নাবিল আহমেদ সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞানযুক্ত আয় বহির্ভূতভাবে প্রায় ৭ কোটি ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫৪ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়াও, তার নিজের ও যৌথ নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংকের মোট ৪৫টি হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ১০৯ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৯ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    উল্লেখ্য, এই অর্থ তিনি মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    কাজী নাবিল আহমেদ একাধিকবার যশোর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য ছিলেন।

  • সব উপজেলা হাসপাতালে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম সরবরাহের নির্দেশ

    সব উপজেলা হাসপাতালে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম সরবরাহের নির্দেশ

    সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং হাইকোর্টের নির্দেশে দেশের সব উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম সরবরাহের আদেশ জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনা মূলত সাপের দংশনে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হওয়ার জন্য জারি করা হয়েছে। হাইকোর্টের প্রাথমিক শুনানিতে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করেন, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত এটি বাস্তবায়নের জন্য সতর্ক করা হয়েছে। জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিটের শুনানিতে এডভোকেট মীর এ কে এম নুরন্নবী উপস্থিত ছিলেন, যারা বিষয়টির গুরুত্ব ও জরুরি প্রয়োজনতা তুলে ধরেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও এই অর্ডার অনুসারে অ্যান্টিভেনমের যথাযথ সরবরাহ এবং ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    গত রোববার (১৭ আগস্ট) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করা হয়, যেখানে দেখা যায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে মোট ৩৮ জনের সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে। এই পাঁচ মাসে সাপের দংশনে মোট ৬১০ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৪১৬ জন রোগী সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে বিষধর সাপের দংশন ৯১টি এবং চন্দ্রবোড়া (রাসেলস ভাইপার) দংশনে ১৮টি। এদের মধ্যে পাঁচজন রোগী মারা গেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে সর্পদংশন একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে স্বীকৃত, যেখানে ২০২২ সালে চার লাখের বেশি মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং সাড়ে সাত হাজারের বেশি মৃত্যু হয়। প্রধান বিষধর সাপগুলো হলো গোখরা, ক্রেইট, চন্দ্রবোড়া ও রাসেলস ভাইপার। বিশেষ করে চন্দ্রবোড়ার উপস্থিতি ও তার দুষ্প্রাপ্যতা এখন সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। বাংলাদেশে বিষধর এই সর্পদের জন্য মূল চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনম তৈরি হয় বলবত: ভারতে, তবে দেশে এখনো এটি উৎপাদিত হয় না। বর্তমানে অ্যান্টিভেনম আমদানি করে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যান্টিভেনমের সময়োচিত ব্যবহার এবং দ্রুত চিকিৎসা সেবা সরবরাহের মাধ্যমে সর্পদংশনে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব। তবে এই জন্য সরকারের অ্যান্টিভেনম সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা ও কার্যক্রমের প্রয়োজন রয়েছে। সাধারণ মানুষকেও সর্পদংশনের বিষয়ে সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচারনা চালানো হচ্ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, এই নির্দেশনা কার্যকরের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

  • আন্দোলনে আহতদের মারাত্মক মানসিক স্থিতি উদ্বেগজনক

    আন্দোলনে আহতদের মারাত্মক মানসিক স্থিতি উদ্বেগজনক

    জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই মারাত্মক বিষণ্নতা ও মানসিক চাপের শিকার। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) Conducted গবেষণায় দেখা গেছে, আহতদের মধ্যে ৮২.৫ শতাংশ বিষণ্ণতায় ভুগছেন এবং ৬৪ শতাংশ আহতরা পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) আক্রান্ত। এই তথ্য সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে প্রকাশ করা হয়। ‘বিয়ন্ড দ্য হেডলাইনস: মেন্টাল হেলথ কন্সিকোয়েন্স অব দ্য জুলাই আপরাইজিং এ্যান্ড মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি’ শীর্ষক এই কেন্দ্রীয় সেমিনারটি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল সেমিনার সাব-কমিটি আয়োজন করে।

    সেমিনারটি দুভাগে বিভক্ত ছিল। প্রথম অংশে ‘মেন্টাল হেলথ ইম্প্যাক্ট অব ভায়োলেন্স এ্যান্ড ট্রমা’ শিরোনামে এক উপস্থাপনায় সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মুহাম্মদ শামসুল আহসান জানান, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএমইউ, পঙ্গু হাসপাতাল এবং এনআইইউতে ভর্তি ২১৭ জন রোগীর মধ্যে বিষণ্ণতার হার ৮২.৫ শতাংশ এবং পিটিএসডিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা ৬৪ শতাংশ।

    দ্বিতীয় অংশে ‘ইম্প্যাক্ট অব ট্রমা এ্যান্ড ভায়োলেন্স এন্ড চাইল্ড এন্ড অ্যাডোলোসেন্ট পপুলেশন’ শিরোনামে বিশেষ এক বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনায় অধ্যাপক ডাঃ নাহিদ মাহজাবিন মোর্শেদ বলেছিলেন, শৈশবের ট্রমা ও সহিংসতা শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক শনাক্তকরণ ও দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করলে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক রোগ ও আচরণগত সমস্যাগুলো প্রতিরোধ সম্ভব।

    সেমিনারে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাব-কমিটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডাঃ আফজালুন নেসা এবং সঞ্চালক ছিলেন সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ খালেদ মাহবুব মোর্শেদ মামুন। বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মনোরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ নাহিদ মাহজাবিন মোর্শেদ ও সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ শামসুল আহসান।

    ডাঃ আহসান উল্লেখ করেন, আহতদের মধ্যে অনেকেরই বিষণ্ণতা ও তীব্র আঘাতের পরে মানসিক চাপ দেখা দেয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার রোগীদের মধ্যে উদ্বিগ্নতা বেশি, কারণ তারা মনে করেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পাবেন না। এ কারণে ঢাকা ও গ্রামের বাইরে রোগীদের জন্য সাধারণ ও মানসিক চিকিৎসার সুব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।

    তিনি আরও জানিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলনের আহত ও মানসিক বিপর্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য বিএমইউ, ডিএমসিএইচ, এনআইএমএইচ, সাজেদা ফাউন্ডেশন ও ব্র্যাকের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মানসিক স্বাস্থ্য টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম প্রশিক্ষিত চিকিৎসকরা প্রাথমিক প্রতিরোধমূলক কাজ, কাউন্সেলিং, গ্রুপ থানার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ওষুধ দিয়ে সাহায্য করছে। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের মানসিক অবস্থা নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে।

    তিনি যোগ করেন, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে হটলাইন সেবাও চালু করা হয়েছে যেখানে বিএমইউর ডাক্তাররা অংশগ্রহণ করবেন। যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে আহত ও বিপর্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য মানসিক সহায়তা প্রদান।

    মেডিকেল বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সময়োপযোগী মনোচিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। তারা মনে করেন, শিশুর মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন, প্রমাণ ভিত্তিক থেরাপি এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের অবদান থাকা প্রয়োজন। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

    সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিএমইউর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ নাহরীন আখতার। তিনি বললেন, ট্রমা, সহিংসতা ও মানসিক দুর্বলতা প্রতিরোধে পারিবারিক ও সমাজের সদিচ্ছা ও সচেতনতা অপরিহার্য। মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা না করে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও যত্নবান হওয়া উচিত।

  • রিজওয়ানা : ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিশ্চিত

    রিজওয়ানা : ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিশ্চিত

    পরিবেশ ও বন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, এনসিপির কথায় কোনো গুরুত্ব নেই। তিনি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যেই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হবে এবং ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। রোববার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

    তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, সিলেটে পাথর লুটের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশ ছিল কি না বা তারা নীরব ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দুষ্টব্যের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    পরিবেশ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারি থেকে চীন সরকারের সঙ্গে তিস্তা নদী প্রोजেক্টের কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ১০ বছরের জন্য নদী ভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণসহ বহু লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানোর ব্যাপারে কোনো লিখিত নির্দেশনা নেই। এ বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদেও এখনও কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়নি। তবে এর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই নির্বাচনের সময়ের।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সৈয়দা রিজওয়ানা জানান, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না—এমন কথা কিছু রাজনৈতিক দল বললেও, প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনের তারিখ জোড়ালোভাবে ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

  • ধানমন্ডি থানা ওসিকে কীসের ভিত্তিতে রিকশাচালক গ্রেফতার: ব্যাখ্যা চাইলেন অন্তর্বর্তী সরকার

    ধানমন্ডি থানা ওসিকে কীসের ভিত্তিতে রিকশাচালক গ্রেফতার: ব্যাখ্যা চাইলেন অন্তর্বর্তী সরকার

    গত ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর প্রতিমূর্তি আর শ্রদ্ধা জানানোর সময় ঘটে যায় একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা, যেখানে রিকশাচালক মো. আজিজুর রহমান মারধরের শিকার হন। এরপরই তাকে পুলিশে দিয়ে গ্রেফতার করা হয়। তবে অনেক বিতর্কের মধ্য দিয়ে তিনি এই মামলায় জামিন পেয়েছেন ১৭ আগস্ট। তবুও এই ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে, তার গ্রেফতার কিসের ভিত্তিতে হয়েছিল, এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে ধানমণ্ডির থানার ওসিকে।

    রোববার (১৭ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘটনাটির বিষয়ে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে আটক রিকশাচালক মো. আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে কেন সন্দেহভাজন হিসেবে মামলার আর্জি জানিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করতে ও তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাইতে নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    একইসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশও তদন্তে নেমেছে। পুলিশে জানানো হয়েছে, ঘটনার পেছনে কি সর্বোপরি কোনো অসঙ্গতি বা আইনগত দুর্বলতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় এনে দেখা হবে। এছাড়াও, দায়েরকৃত মামলার ব্যাপারে আজিজুর রহমানের সঙ্গে কি ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা যাচাই করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সিআরপিসির ১৭৩(এ) ধারা অনুসারে।

    অন্যদিকে, এই মামলায় আজিজুর রহমানের পক্ষে জামিন পাননি, বরং ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলাম তার জামিন মঞ্জুর করেন। অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখি তার পক্ষে জামিনের জন্য আবেদন করেন, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন। শুনানি শেষে বিচারক তাকে জামিনের আদেশ দেন।

    সারসংক্ষেপে, এই ঘটনা এখনো সমসাময়িক ও আলোচনায় রয়েছে, যেখানে কীসের ভিত্তিতে একজন সাধারণ রিকশাচালককে গ্রেফতার করা হলো, তার যথাযথ ব্যাখ্যা চাইছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ। আলোচনা ও তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন হওয়ার অপেক্ষায় সবাই।

  • রাষ্ট্রপতির ছবি সরানোর সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক নেই: রিজওয়ানা হাসান

    রাষ্ট্রপতির ছবি সরানোর সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক নেই: রিজওয়ানা হাসান

    বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন, কনস্যুলেট ও অন্যান্য অফিসে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবি সরানোর নির্দেশনাগוכה বিস্তারিত জানছেন না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই ছবির সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। রোববার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    রিজওয়ানা হাসান বলেন, এর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানি না এবং এটি নির্বাচনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, এটা পরিষ্কারভাবে বলতে পারেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে এবং নির্বাচন প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটাই সরকারের অঙ্গীকার।

    অতীতে ভোলাগঞ্জ থেকে সাদা পাথর লুটের ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশ বা নীরবতা ছিল। এই ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে।

    অতিরিক্তভাবে, তিনি জানান, আগামী জানুয়ারি থেকে চীনের সঙ্গে তিস্তা মহাপ্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্পটি ১০ বছরের জন্য পরিকল্পিত, যার মূল লক্ষ্য হলো নদী ভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ।

  • বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি

    বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি

    অস্টমের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যার উপকূলের কাছেপিঠে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব এখন দেশের সব সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা জারি করতে নির্দেশ দিয়েছেন আবহাওয়া অফিস।

    রোববার (১৭ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হতে পারে। ফলে বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাসহ আশেপাশের সমুদ্রাঞ্চলে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে।

    বিশেষ করে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যার উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় এই ঝুঁকি বেশি। এই পরিস্থিতিতে আবহাওয়া অফিস চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে।

    এছাড়াও, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থাকায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনগুলো দেশের সামুদ্রিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। সকলে যেন সচেতন থাকেন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, সেটি আবহাওয়া বিভাগ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।