Category: রাজনীতি

  • আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায় সরকারের অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায় সরকারের অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার باوجود বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নিজেদের কার্যালয় খুলছে, যা নিয়ে নানা আলোচনা চলে আসছে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি মহাসচিব ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করে বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই কার্যালয়গুলো খোলার জন্য কোনোরকম অনুমতি দেওয়া হয়নি। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি দেখবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা বলেন। এটি প্রথমবারের মতো দলের কার্যালয়ে গিয়েছেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর। তিনি স্মরণ করেন, প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই কার্যালয়ে অনেক কর্মসূচি পালন করেছেন। তার জন্য দোয়া কামনা করেন তিনি।

    তিনি আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার অনুমতি সরকারের নেই। কারণ, আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম এখনো সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ। তিনি আশা করেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি নজরে রাখবে।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন, ওরা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দল ও সরকার একসাথে মিলেঘটে সফলতা অর্জন করবে।

    সাংবাদিকদের থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আরও শক্তিশালী ভূমিকা প্রত্যাশা করেন মির্জা ফখরুল।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, এতে কিছু প্রথাগত নিয়ম রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি, দলের নারীদের মনোনয়ন প্রদানও চলবে।

    উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মুনির হোসেন, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ আরও কিছু নেতা।

  • সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব পেলেন

    সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব পেলেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নতুন একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন দলের উত্তরাঞ্চলের মূল সংগঠক, সারজিস আলম। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটির গঠন ও কার্যক্রমের বিস্তারিত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিপির সভাপতি মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশনায় এই ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

    কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এছাড়া আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি, সব বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা এক্স-অফিসিও সদস্যেরূপে দায়িত্বে থাকবেন।

    কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এই কমিটিকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম বললেন, ‘সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড প্রার্থীরাও প্রস্তুতি নিন। আমরা আসছি আপনার খোঁজে।’

    এই কমিটির দ্রুত কার্যক্রম শুরু ও প্রার্থী সন্ধানের উদ্যোগ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের প্রস্তুতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়ে দিয়েছে।

  • ভোটের অধিকার রক্ষায় জীবন ঢেলে দেবো: শফিকুর রহমান

    ভোটের অধিকার রক্ষায় জীবন ঢেলে দেবো: শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিশেষ করে যুব সমাজের মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আশার আলো জেগেছিল। তারা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তন করার অভিযোগ উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে প্রতিটি বুথে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করবো। জীবন দিতেও প্রস্তুত আছি, তবে মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা করার জন্য অটুট থাকবো।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষ থেকে কথা বলবো এবং তাদের অধিকার আদায় করে ছাড়বো। ঢাকা-১৫ আসনকে একটি দৃষ্টান্তমূলক সফল মডেল নির্বাচনী এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, ইনশাআল্লাহ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামী কাফরুল উত্তর ও দক্ষিণ থানা আয়োজিত মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় (ব্রাঞ্চ-২, ইব্রাহিমপুর) প্রাঙ্গণে মূলত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ ৫৪ বছরে অনেক আদর্শ দেখেছে, কিন্তু ইসলামী আদর্শের শাসন দেখার সৌভাগ্য এ দেশবাসীর হয়নি। একইসাথে, তিনি সরকারের প্রতি চীনাবাজারের বিরুদ্ধে আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর চাঁদাবাজি বন্ধ করুন। সংহতি ও শক্তির মাধ্যমে দেশব্যাপী একটি প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।

    শফিকুর রহমান দেশের অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নে জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক গৃহীত ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি, সরকারি প্লট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত ও প্রবাসীদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে দেশে আনার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিরও প্রশংসা করেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

  • এনসিপির পরিকল্পনা: স্থানীয় নির্বাচন এককভাবে করার প্রস্তুতি, জোটের দরজা খোলা থাকছে

    এনসিপির পরিকল্পনা: স্থানীয় নির্বাচন এককভাবে করার প্রস্তুতি, জোটের দরজা খোলা থাকছে

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজস্ব উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে শেষ মুহূর্তে প্রয়োজন হলে দলটি জোটের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবে বলেও ইঙ্গিত দেয় তারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দলটির নেতারা।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানিয়ে বলেন, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয়ভাবে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। ঈদের পর থেকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গুরুত্বপূর্ণ এরিয়া ও অঞ্চলগুলোতে গিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ও যাচাই-বাছাই শুরু করবে। বর্তমানে দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ১১-দলীয় জোট যদি ঐকমত্যে আসে, তবে সে সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে বিবেচনা করা হবে।

    সারজিস আলম বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি এলাকায় প্রার্থীতা ঘোষণা করা। আপাতত দলটির সিদ্ধান্ত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায়। তবে শেষ মুহূর্তে সকলের সঙ্গে বসে বৃহৎ স্বার্থের জন্য সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেয়ার মনোভাব রয়েছে। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, সংগঠনের মধ্যে কোনো বিভাজন হবে না।

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এ বছর আইন অনুযায়ী নির্বাচনে দলীয় মার্কা বা মনোনয়ন থাকবে না। সবাই ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থী হবেন। আমাদের জাতীয় নাগরিক পার্টি কিছু নির্দিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে দলীয় সমন্বয় করবে, যা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঠিক করবে।

    সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের স্থানীয় প্রশাসনে পদক্ষেপ গ্রহণ ও প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার আগ্রহী ব্যক্তিদের যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    সারজিস আলম উল্লেখ করেন, এর আগে সম্পন্ন একান্ত প্রস্তুতি ও জোটগত প্রক্রিয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে অনেক কিছু ঠিকভাবে করতে পারেনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলটি।

    সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনে মেয়াদের উল্লেখ না থাকায় স্বচ্ছতা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। এর ফলে, ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং নির্বাচন আয়োজনের সময়ও অতিক্রান্ত। দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জন্য সময়সূচি ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি।

    নেতৃবৃন্দ পুলিশি অভিযান ও সাংবাদিক আক্রমণের ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, যেকোনো যৌক্তিক আন্দোলন ও মতপ্রকাশের অধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত, যা ক্ষুণ্ণ হলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

    সংবাদ সম্মেলনের পূর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও মঞ্জিলা ঝুমা।

  • পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উন্মোচনে হবে ক্ষান্তি: গোলাম পরওয়ার

    পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উন্মোচনে হবে ক্ষান্তি: গোলাম পরওয়ার

    দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মূল উৎস খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি, যদি আমরা সম্পূর্ণভাবে এই ধরনের বিপদ থেকে মুক্তি পেতে চাই। এই মন্তব্য করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ছিল, যা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি রাজধানীর পুরানাপল্টনে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন। সভার উদ্দেশ্য ছিল, ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সংঘটিত নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রস্তুতি নেওয়া। গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদের পেছনে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী একটি গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। যদি আমাদের দেশ এই রহস্য উন্মোচন করতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ না কেউ আবার কোনওভাবেই এই ধরনের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রেহাই পাবেন না। এজন্য আমাদের উচিত, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় উদঘাটন করে সবার সামনে তুলে ধরা। এক এক করে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের নাম জানা গেলে, বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবারের আহাজারি ও অশ্রু আমাদের জন্য এক বিশাল অভিশাপ। এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে, নাটকীয়তার তোয়াক্কা না করে, দোষীদের আইনের আওতায় এনে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনার বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা আর চলবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার সম্পন্ন করতে হবে। যারা এই শোকাভিভূত সময়ে নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন, তাদের মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সভায় জামায়াতের সহকারী মহাসচিব রফিকুল ইসলাম খান মন্তব্য করেন, নিরীহ সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের নীরবতা প্রমাণ করে, তাঁরা এতে জড়িত থাকতে পারেন। এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল, দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা, যেন স্বাধীনতাকামী শক্তির বিপক্ষে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা সহজ হয়। পরিকল্পনামাফিক তারা কোথাও না কোথাও সফলতা পেয়েছে বলেও ধারণা ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব ড. আব্দুল মান্নান এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম।

  • সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি

    সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দলের উত্তরাঞ্চলের মূল সংগঠক, সারজিস আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি দ্রুত নীতিনির্ধারিত কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে এনসিপির দপ্তর সেল থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটির গঠন ও দায়িত্বভার গ্রহণের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশনায় এই ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

    নতুন কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে থাকছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এছাড়া অন্য সদস্যরা হলেন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ এবং অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। সব বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা এক্স-অফিসিও হিসেবে কমিটিতে দায়িত্ব পালন করবেন।

    বিশেষজ্ঞ নেতারা কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ে এই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবেন বলেও এ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম বলেন, “সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে যারা প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আপনারা এখনই প্রস্তুত হন। আমরা আসছি, আপনার খোঁজে।” এই ধরনের উদ্যোগ এবং দ্রুত প্রার্থী সন্ধানের পরিকল্পনা স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের প্রস্তুতিকে জোরদার করবে বলে দলটির সূত্র জানিয়েছে।

  • আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় খুলছেন। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তি। এ ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে এসব কার্যালয় খোলার অনুমতি নেই। এর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বক্তব্যে তিনি এই তথ্য দেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর এটি ছিল মির্জা ফখরুলের প্রথমবারের মতো দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া।

    তিনি দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, এই কার্যালয়ে তিনি অনেক কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন এবং তার আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন।

    ফখরুল বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে দেখতে গেলে, আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়ে সরকারের কোনো অনুমতি নেই। যেহেতু আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম বর্তমানে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ, তাই আমরা এটা চাইনি। আশা করি, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি দেখবেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের আসল চাহিদা, যারা তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বপ্ন দেখছেন, তারা এই স্বপ্নের সঙ্গে অটুট থাকবেন। দেশের মানুষ তার নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা করছে। আমি আশাবাদী, আমাদের দল এবং সরকার একসঙ্গে কাজ করে সুসংগঠিত ও সফল হবে।’

    মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাংবাদিকদের ভূমিকা ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে।

    অপরদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, মন্ত্রণালয় কিছু প্রথা অনুসরণ করছে, সেগুলো শেষ হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি, দলের নারীদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মুনির হোসেন, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ অনেকে।

  • ভোটের অধিকার রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি পর্যন্ত নিতে প্রস্তুত শফিকুর রহমান

    ভোটের অধিকার রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি পর্যন্ত নিতে প্রস্তুত শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের পাশাপাশি যুব সমাজ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিলেও, নির্বাচনের ফলাফল ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে তিনি প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ও সতর্কতায় থাকবেন। জীবনের ঝুঁকি থাকলেও তিনি মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, তিনি সংসদে গিয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলবেন এবং তাদের অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তিনি আল্লাহর রহমতে ঢাকায় ১৫ নম্বর আসনকে একটি মডেল আসনে রূপান্তর করতে চান। বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, জামায়াতে ইসলামী কাফরুল উত্তর ও দক্ষিণ থানার উদ্যোগে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় (ব্রাঞ্চ-২, ইব্রাহিমপুর) প্রাঙ্গণে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশিরা ৫৪ বছর ধরে অনেক আদর্শ দেখেছে, কিন্তু ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সরকারের প্রতি চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এভাবে চাঁদাবাজি চলতে থাকলে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, তারা ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি এবং সরকারি প্লট গ্রহণ না করে দেশের প্রবাসীদের মরদেহ মর্যাদার সঙ্গে দেশে আনার ব্যাপারে সরকারি দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এই অনুষ্ঠান সাধারণ মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য এক মিলিত অঙ্গীকারের সুন্দর প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

  • এনসিপির প্রস্তুতি: স্থানীয় নির্বাচন এককভাবে করার পরিকল্পনা, জোটের দরজা খোলা থাকবে

    এনসিপির প্রস্তুতি: স্থানীয় নির্বাচন এককভাবে করার পরিকল্পনা, জোটের দরজা খোলা থাকবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করছে প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী ঘোষণা করার জন্য। তবে দলের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে এবং দেশের স্বার্থে জোটগতভাবে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন দলের নেতারা।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম জানান, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, উপজেলা এবং পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রাথমিক প্রার্থী নির্বাচন ও ঘোষণা কার্যক্রম শুরু করেছে তারা। ঈদের পরপরই নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বিভিন্ন সাংগঠনিক অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করবে। বর্তমান পরিকল্পনায় দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে দেশের বৃহৎ স্বার্থে যদি ১১-দলীয় জোট রূপান্তরিত হয়ে একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নায়, তখন শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্তে আসা হতে পারে।

    সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করছি যে, আমরা প্রত্যেকটি জায়গায় নির্দিষ্টভাবে প্রার্থী ঘোষণা করব। এখনো পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে, আমরা এককভাবে নির্বাচনে যাব। তবে শেষ সময়ের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সকলের সঙ্গে বসে বৃহৎ স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্প্রীতি ও বোঝাপড়ায় কোনো সমস্যা হবে না।’

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আইন অনুযায়ী দলীয় মনোনয়ন বা মার্কা থাকবে না। এ কারণে সবাই ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের নির্দিষ্ট প্রার্থীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সমন্বয় করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে সহযোগিতা করবে। নির্বাচনের জন্য তালিকা ও মনোনয়ন এই কমিটি নির্ধারণ করবে।’

    সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি নানা পেশার আগ্রহী ব্যক্তিদের যোগাযোগের জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়।

    সারজিস আলম অভিজ্ঞতার কথা মনে করে বলেন, ‘গতবারের জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রার্থী বাছাই ও জোটগত সিদ্ধান্তে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা এখন আগেভাগে প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।’

    এছাড়া, ছয়টি সিটি করপোরশনে প্রশাসক নিয়োগের ওপর সমালোচনাও করে দলের নেতারা। তারা বলেন, প্রজ্ঞাপনে মেয়াদ উল্লেখ না থাকায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের দাবি, সব পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং তাড়াতাড়ি একটি বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা জরুরি।

    এনসিপি পুলিশি অভিযান ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে বলে, আন্দোলন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করা গেলে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি সৃষ্টি হবে।

    উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, যেমন- দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, সচিব এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও মঞ্জিলা ঝুমা।

  • পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আসল সত্য উন্মোচনের দাবি জাতির স্বার্থে: গোলাম পরওয়ার

    পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আসল সত্য উন্মোচনের দাবি জাতির স্বার্থে: গোলাম পরওয়ার

    দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনাগুলোর প্রকৃতি স্পষ্ট করতে হলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মূল ঘটনা ও সত্য অনুপস্থিত রক্ষার কোন সুযোগ নেই—এ কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সময় সংঘটিত নৃশংস হামলার পেছনে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তের বিষয়টি স্পষ্ট, যা যেন দ্রুত উন্মোচিত হয়। বুধবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। এ আলোচনা সভা মূলত সেই দুঃস্মৃতি ঘটনাটির বিচারের জন্য আজও অপেক্ষা করছে—ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মাধ্যমে দেশের স্বাধিকার, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করার সংকল্প ব্যক্ত করেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের পেছনে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল। এই ঘটনা যদি আজই প্রকৃতভাবে উন্মোচিত না হয়, তাহলে আবারও কারো কল্পিত শঙ্কা ও ষড়যন্ত্রের পথ খুলে যাবে। এজন্য আমাদের সকলের উচিত এই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও আসল হোতাদের শনাক্ত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা। তিনি আরও জানান, শহীদদের পরিবারের অশ্রúd ও আহাজারি জাতির জন্য একটি অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে; সেই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘায়িত হওয়া আর সম্ভব নয়, দ্রুত সময়ে এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি, অপ্রামাণিক ও নাটকীয় বিচারের নামে নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের দণ্ডিত করে মুক্তি ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। সভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান দাবি করেন, তখনকার সময়ের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের নীরবতা এই হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রিয় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে সেনা ও রাষ্ট্রের দুর্বলতা তৈরি করা, যাতে তারা দেশপ্রেমিক সেনাদের নির্মূল করে বাংলাদেশকে তাদের স্বার্থের গরিষ্ঠতা বহনকারী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের বেশিরভাগ দিক তারা সফলও হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম।