দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বিরোধী ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে নির্মূল করতে হলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উন্মোচন একান্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বুধবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহ ও মারাত্মক-নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র লুকানো ছিল। যদি এই রহস্য উন্মোচন না করা যায়, তবে দেশকে আবার কেউ না আবার ষড়যন্ত্রের শিকার হতে পারে। তাই, এই ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে খতিয়ে দেখে যারা এর নেতৃত্ব দিয়েছিল, তাদের নাম-পরিচয় 밝혀 না হলে জাতির মুক্তি হবে না। প্রতিটি আসামিকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবারের অশ্রু, আহাজারি অসহ্য বোঝা, যা জাতির জন্য যেন এক অভিশাপ। এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুবিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পরওয়ার আরও বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার আর অপেক্ষা করতে পারে না। এটি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। যারা বিচার উপলক্ষে আলোর বদলে নাটক সাজিয়ে নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের কারাদণ্ড দিয়েছেন, তাদের মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ কার্যকরভাবে দিতে হবে। অনুষ্ঠানে জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের নীরবতা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এক ধরনের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে। এর পেছনে মূল লক্ষ্য ছিল দেশের প্রিয় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেশের স্বার্থ রক্ষা ও আধিপত্য বিস্তার। এই পরিকল্পনায় তারা অনেকটাই সফল হয়েছেন। গভীর আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মাসুদ, নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন, সহকারী সাধারণ সম্পাদক ড. আব্দুল মান্নান ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম।
Category: রাজনীতি
-

তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা
বিএনপি চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি তার নিজ নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই আসনে উপনির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সরকারি চিঠিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে রেজাউল করিম বাদশাকে এই নির্বাচনে মনোনীত করা হয়েছে।
বিএনপি মিড়িয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, ওই নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলেন। আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এজন্য তিনি ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচিত হয়ে থাকায়, বগুড়া-৬ আসন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেছেন। এর ফলে, বিএনপি এই আসনে উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য রেজাউল করিম বাদশাকে মনোনয়ন দিয়েছে।
-

জামায়াতের আমিরের নির্দেশ: স্থানীয় নির্বাচনে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিন
জামায়াতে ইসলামী সিলেট জেলার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত উপজেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের জন্য শিক্ষাশিবিরে দেশব্যাপী স্থানীয় নির্বাচনে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এই শিবিরে জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে এটি জামায়াতের প্রথম বড় অর্জন। এই ঐক্য ধরে রেখে আসন্ন নির্বাচনে নেতাকর্মীদের একযোগ কাজ করতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, প্লাবিত হচ্ছে দেশের রাজনীতি, যেখানে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেটার ক্ষত অর্জন ও পরিশুদ্ধি প্রয়োজন।
জামায়াতের আমির উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো জামায়াতের নেতৃত্বে একটি অর্থবহ ঐক্য গড়ে উঠেছে। এটি দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সুসংগঠিত ও আদর্শ মানুষ তৈরি করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যত সংগ্রামের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান, পেছনের ঝক্কি ঝামেলা এড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন।
শিবিরের আয়োজন ছিল সিলেট নগরীর মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারে। সকাল থেকেই বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা যোগ দিতে শুরু করেন। এই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে নৈতিকতা, সংগঠনের শৃঙ্খলা, আদর্শিক শিক্ষা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন, উপজেলা ও সংগঠনের মধ্যে সংহতি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সংগঠিত ও আদর্শনিষ্ঠ কর্মীদের কোন বিকল্প নেই।
প্রসঙ্গত, এই শিক্ষাশিবিরে সিলেট জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রশিক্ষণমূলক আলোচনা, মতবিনিময় এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তৃতা। আয়োজকরা আশা করেন, এই শিবির সংগঠনের সামর্থ্যকে আরও বৃদ্ধি করে কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
-

এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ১০ দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। শ্লোগান, ‘দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে’, এই বার্তা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হবে। এতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, এর মধ্যেই থাকবেন মুক্তিযুদ্ধের শহীদ পরিবারের সদস্যরা, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকেরা, অ্যাক্টিভিস্টরা ও জেলার নেতারা। এই ইফতারে উপস্থিত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এছাড়াও, এই দিন দলটি তাদের গত এক বছরের কার্যক্রমের ওপর একটি ডকুমেন্টারি এবং একটি চিত্র প্রদর্শনীও আয়োজন করবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভাগীয় শহরগুলোতেও বিভিন্ন ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হবে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২ মার্চ চট্টগ্রামে, ৩ মার্চ কুমিল্লায়, ৪ মার্চ সিলেটে, ৫ মার্চ ময়মনসিংহে, ৬ মার্চ ঢাকায়, ৭ মার্চ ফরিদপুরে, ৮ মার্চ বরিশালে, ৯ মার্চ খুলনা, ১০ মার্চ রাজশাহী এবং ১১ মার্চ রংপুরে এই বিভাগীয় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও, ঢাকা মহানগরী ও এর উত্তর ও দক্ষিণ অংশের জন্য আলাদা আলাদা ইফতার মাহফিলের আয়োজন করবে দল, যা ১২ মার্চ, ১৩ মার্চ ও ১৪ মার্চ সম্পন্ন হবে। এই কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে দলটি তাদের জন্মদিনকে গণতন্ত্রের স্বপন পূরণের এক নতুনযাত্রার অংশ হিসেবে উদযাপন করবে।
-

ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থান, রাজনৈতিক দলগুলো করছে ভোগদখল: নাহিদ ইসলাম
নাহিদ ইসলাম, এনসিপির সভাপতি ও বিএনপির বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, উল্লেখ করেছেন যে গত বিশ বছর আগে ছয় মাসের গণঅভ্যুত্থান হলেও তার মূল সুবিধা এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভোগ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, যদিও এই আন্দোলনের মূল অবদান ছাত্রদের, কিন্তু বারবার তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের ইস্যু নিয়ে তারা দেখছেন যে নির্ধারিত তারিখে ছাত্ররা শপথ নেননি, কারণ সংশ্লিষ্টরা গণভোট ও জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। উক্ত দিনে হওয়ার কথা থাকলেও তা অমান্য করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি সংস্কার পরিষদ তাদের শপথ গ্রহণ না করে, তবে জাতীয় সংসদেও তার কোন মূল্য থাকবে না। কারণ জনগণ ভোট দিয়ে পরিবর্তন চেয়েছেন শুধু ব্যক্তি নয়, বরং স্বৈরাচারী কাঠামোর পতন ও ব্যাপক সংস্কার চেয়েছেন। বর্তমান সরকারের বিচার, সংস্কার ও অর্থনৈতিক লুটপাটের বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান নেওয়ারও তিনি সমালোচনা করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের অপসারণের ঘটনায় বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, ঋণখেলাপিদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সংসদে উচ্চারিত ভাষার পরিবেশ না থাকলে আন্দোলন রাজপথে গড়াবে, যার জন্য তারা প্রস্তুত হচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
-

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আসল কাহিনী উদ্ঘাটন জরুরি: গোলাম পরওয়ার
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে হলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আসল সত্য উদ্ঘাটন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের পেছনে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল এবং এই ঘটনা নিয়ে স্পষ্ট গবেষণা ও তদন্তের প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, যারা এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের মূল মঞ্চে আনার জন্য অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, যাতে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সত্য সত্যাই প্রকাশ পায়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, যদি এই ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়, তবে আবারও কেউ না কেউ দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা করতে পারে, যা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতিসত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। সেই জন্যই এই জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সত্যের আলো ফুটানো খুব জরूरी, যাতে দোষীদের শাস্তি হয় এবং নিরপেক্ষ বিচার হয়। তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের অশ্রুসumbing ও আহাজারি এই দেশের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং এর থেকে মুক্তি পেতে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে।
গোলাম পরওয়ার আরও চাপে দেন, এই ঘটনার বিচারের জন্য এখন আর অপেক্ষা করা উচিত নয়। দেরি না করে, সংশ্লিষ্ট দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত বিচার ও পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের নামে জালিয়াতি ও দুর্নীতি যেন বন্ধ হয়, আর নিরপরাধ যারা হয়রানি হয়েছে তাদের যথাযোগ্য ক্ষতিপূরণ ও মুক্তি পাওয়া উচিত।
সভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী মহাসচিব রফিকুল ইসলাম খান বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের নীরবতা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে। তিনি মন্তব্য করেন, এই হত্যাকাণ্ডের দ্বারা বাংলাদেশের সেনাবাহিনী দুর্বল করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল এবং দেশের সাধারণ মানুষ ও দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এই পরিকল্পনায় কিছুটা সফলও হয়েছেন তারা।
সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম।
-

ভোটের অধিকার রক্ষায় জীবন ঝুঁকিয়ে দাঁড়াবো, বলে শফিকুর রহমান
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যুব সমাজ, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা প্রদান করব, যেন আমাদের ভোটের অধিকার সংরক্ষিত থাকে। জীবনের বিনিময়ে হলেও মানুষ হিসেবেই নিজেদের ভোটাধিকার রক্ষা করতে আমরা দড়াদড়ি করে দাঁড়াবো। আরো তিনি জানান, তিনি সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলবেন এবং তাদের অধিকার আদায়ে কোনো কসুর করবেন না। ঢাকা-১৫ আসনকে একটি মডেল আসন হিসেবে গড়ে তুলবেন ইনশাআল্লাহ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতের কাফরুল উত্তর ও দক্ষিণ থানার উদ্যোগে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় (ব্রাঞ্চ-২, ইব্রাহিমপুর) প্রাঙ্গণে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ ৫৪ বছর ধরে অনেক আদর্শ দেখেছে, কিন্তু ইসলামী শাসনব্যবস্থা এখনও দেখার সৌভাগ্য এই দেশের মানুষের হয়নি। দেশের সরকারি দলের প্রতি চাঁদাবাজির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে, না হলে দেশের মানুষ নিয়ে দেশব্যাপী শক্তি গড়ে তুলবো। তিনি বাংলাদেশের জামায়াতের ঘোষণা অনুযায়ী, ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি ব্যবহারে সম্মতি, সরকারি প্লট গ্রহণ না করার প্রতিশ্রুতি এবং প্রবাসীদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে দেশে আনার পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
-

এনসিপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন: ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন ভাবনায় দেশকে এগিয়ে নিতে এবং ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত থাকতে নতুন পথের সন্ধানে একটি ১০ দিনব্যাপী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, এই উপলক্ষে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ ইফতার মাহফিলের আয়োজন হবে। এতে দলটির পক্ষ থেকে শহীদ পরিবার, বিপ্লবের শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, অ্যাক্টিভিস্ট ও সারাদেশের জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবরা আমন্ত্রিত থাকবেন।
এছাড়া, এই দিন দলের এক বছরের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও চিত্র প্রদর্শনী হবে, যা দলটির আন্দোলন ও কার্যক্রমের মূল্যায়ন করবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতেও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হবে। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২ মার্চ চট্টগ্রামে, ৩ মার্চ কুমিল্লায়, ৪ মার্চ সিলেটে, ৫ মার্চ ময়মনসিংহে, ৬ মার্চ ঢাকায়, ৭ মার্চ ফরিদপুরে, ৮ মার্চ বরিশালে, ৯ মার্চ খুলনায়, ১০ মার্চ রাজশাহীতে এবং ১১ মার্চ রংপুরে বিভাগীয় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানেও বিশেষ ইফতার আয়োজন থাকবে। ১২ মার্চ ঢাকা মহানগর, ১৩ মার্চ উত্তর এবং ১৪ মার্চ দক্ষিণ ঢাকা মহানগরীতে দলের পক্ষ থেকে পৃথক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দলটি জনসাধারণের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে ও প্রতিষ্ঠার স্মৃতি উদযাপন করতে চায়।
-

তারেক রহমানের আসন ছাড়লেন বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নিজে নির্বাচন করা বগুড়া-৬ আসন থেকে অন্য কোনও কারণে পদত্যাগ করার কিছুদিন পরেই এই আসনে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি), বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নিশ্চিত করা হয় যে, এই আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
শায়রুল কবির খান, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য, জানান, দলের পক্ষ থেকে এই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বগুড়া-৬ আসনের জন্য। এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হন। আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি আসনে নির্বাচন করতে পারেন। এই নিয়মের কারণে, তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসন রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন, যাতে নতুন প্রার্থী সেই আসনে মনোনয়ন পায়।
-

ছাত্ররা গণঅভ্যুত্থান করলেও রাজনৈতিক দলগুলো সুফল নিচ্ছে: নাহিদ ইসলাম
নাহিদ ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (নাসিন) এর চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ, বলেছেন যে, ২০১৬ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্ররা নেতৃত্ব দিলেও ফলাফলের সুবিধা নিচ্ছে নানা রাজনৈতিক দল। তিনি অভিযোগ করেছেন, যেখানে ছাত্রদের অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল, সেখানে বারেবারে তাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের ডাকা জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি 이러한 কথা বলেন।
সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের ইস্যুতে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্ধারিত দিনে শপথ না নেওয়া এবং জনগণের রায় ও গণভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না হয়, তাহলে জাতীয় সংসদের কোনো মূল্য থাকবেনা। কারণ, জনগণ শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন চান না, বরং স্বৈরাচারী কাঠামো পতনের মাধ্যমে সমগ্র ব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষপাতী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে সরকার বিচার, সংস্কার ও অর্থনীতির লুটপাটের প্রশ্নে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে অপসারণের ঘটনা বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ঋণ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি জানান, সংসদে মতপ্রকাশের পরিবেশ না থাকলে আন্দোলন কঠোর থেকে কঠোরতর হবে, এবং এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শেষে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করে যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
