রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে অংশ নিতে এবার এক নতুন প্যানেল ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এই প্যানেলটি ছাত্রদলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে প্রার্থী করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের। উল্লেখযোগ্যভাবে, সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শেখ নূর উদ্দিন আবীরকে মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়া, দফতর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাবেন নাফিউল ইসলাম জীবন, যিনি লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী। আরও একজন মনোনীত হয়েছেন, তিনি হলেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সঙ্গীত বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী জাহিন বিশ্বাস এষা। তাদেরকে গত রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেলটির ঘোষণা দেন।একই সঙ্গে এই প্যানেলে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থী করা হয়েছে। ক্রীড়া সম্পাদক পদে মনোনীত হয়েছেন নার্গিস খাতুন, সহক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে শাওন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে আব্দুল্লাহ আল কাফী, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে শাহরিয়ার আলম অধী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক স্বপ্না আক্তার এবং সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুসরাত ঈশিতা। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন গাজী ফেরদৌস হাসান, সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে রেদোয়ানুল ইসলাম হৃদয়। মিডিয়া ও প্রকাশনা বিভাগের জন্য মনোনীত হয়েছেন রাফায়েতুল ইসলাম রাবিত এবং সহমিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে নূর নবী। এছাড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মারুফ হোসেন, সহবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে নাইমুল ইসলাম নাঈম। বির্তক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক হচ্ছে মাসুম বিল্লাহ, সহবির্তক ও সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে জিসান বাবু। পরিবেশ ও সমাজ সেবা ক্ষেত্রের জন্য মনোনীত হয়েছেন এআর রাফি খান আর কুঞ্জশ্রী রায় সুলগ্ন (শুভ)। এই প্যানেলটিতে আরও সদস্যরা রয়েছেন, যেমন মিনারুল ইসলাম মেঘ, সাইদ হাসান ইবনে রুহুল, মাহবুব মোর্শেদ ইল্লিন ও মো. আশরাফুল ইসলাম।আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এই মহড়ার অংশ হিসেবে ছাত্রদল এই প্যানেল ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি হল সংসদের প্যানেলও চূড়ান্ত করেছে দলটি। প্যানেল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী, সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ও অন্য নেতৃবৃন্দ। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রদল তাদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করল।
Category: রাজনীতি
-

আবু বাকের জিতলে আমি জিতে যাব, বললেন মহিন সরকার সমর্থন জানিয়ে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদারকে সমর্থন জানিয়ে নিজ প্যানেলের জিএস প্রার্থী মাহিন সরকার ঘোষণা দিয়েছেন যে, যদি আবু বাকের জিতেন, তাহলে তিনি নিজেও জয়ী হবেন। আজ শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন মাহিন সরকার। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মূল সৈনিকদের শক্তিকে একত্রিত রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাহিন সরকার আরও বলেন, ‘আবু বাকের জিতলে আমি নিজের জয়ের পাশাপাশি আন্দোলনের শক্তিও রক্ষা পাব। আমি সকল সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধ করব, যেন তারা আবু বাকেরকে ভোট দেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি প্যানেল থেকে জিএস পদে নির্বাচন করছি, তবে আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিকে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত রাখা। আমি বিশ্বাস করি, যদি ডাকসু নির্বাচনে গণ-অভ্যুত्थানের নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়, তবে তারা শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বেশি কাজ করবে।’ সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মাহিন বলেন, ‘যারা আমাকে সমর্থন করেন, তাদের জানাই যে, আমার প্রার্থিতা বাতিলের কোনও সুযোগ নেই। তবে আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আমার পাশে থেকে আবু বাকেরকেই নির্বাচিত করতে।’ উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগেই মাহিন সরকার নিজে একটি পৃথক প্যানেল গঠন করে, যার নাম দেন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’। এই প্যানেলের জিএস প্রার্থী তিনি। পাশাপাশি, তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব। গত ১৮ আগস্ট দলের অনুমতি না নিলেই ডাকসুতে প্যানেল দেয়ার জন্য এনসিপি তাকে বহিষ্কার করে। এরপরও মাহিনের প্যানেল থেকে সাব্বির উদ্দিন ও বায়েজিদ হাসান নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যান।
-

নুরের সুস্থতার প্রক্রিয়া নিয়ে পরিকল্পনা চলছে: রাশেদ খান
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার পর তার শরীরিক স্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নয়—এমনই অভিযোগ করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, নুরুল হক নুর এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে এবং নাকটি বাঁকা হয়ে গেছে। তার মাথায় আঘাত হয়েছে, হাঁটতে পারছেন না এবং মুখ হা-ও করতে পারছেন না। সরকার জানিয়েছে, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ভবিষ্যতে তাকে বিদেশে পাঠানো হবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে, রাশেদ খান বলছেন, তার শারীরিক অবস্থা এখনো আগের মতোই সংকটপূর্ণ এবং তিনি এখন প্লেনে ওঠার মতো পরিস্থিতিতে не। যেমনটা তারা মনে করছেন, তিনি কেবলমাত্র একটু সুস্থ হলে অক্টোবরের এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, গতকাল তারা হাসপাতাল থেকে শুনেছেন যে নুরুল হক নুর সম্পূর্ণ সুস্থ, যা তিনি সঠিক মনে করেন না। তিনি বলছেন, তার অবস্থা দেখে মনে হয়, তাকে সুস্থ দেখানোর জন্য একটি পরিকল্পনা চলছে। তিনি নিজে তার দেখাশোনা করে বুঝতে পারেন, নাক থেকে জমাট বাঁধা রক্ত বের হচ্ছে, যা ডাক্তারের দৃষ্টি আকর্ষণ করায় হাসপাতালের পরিচালকসহ চিকিৎসকরা উপস্থিত হন। তারা নুরের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নির্দেশনা দেন। তবে, গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে যে তিনি এখনো সুস্থ, যা তার প্রকৃত পরিস্থিতির সঙ্গে मेल খায় না।
রাশেদ খান বলেন, আমি নিজে নুরের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম তবে তিনি কথা বলতে পারছেন না। তার চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, মুখ দিয়ে কথা বলতেও অসুবিধা হচ্ছে। তার মুখের মাড়িতে প্রচণ্ড ব্যথা এবং ব্রেনেও আঘাতের চিহ্ন থাকায় ব্রেন সঠিকভাবে কাজ করছে না। তিনি স্পষ্ট মনে করেন, নুর সম্পূর্ণ সুস্থ হননি। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, তিনি বলেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়েছিল।
তাঁর মতে, এই হামলাকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষ ব্যাপক একতাবদ্ধ হয়েছে। লাখ-প্রকারের চাওয়া হচ্ছে, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলসহ অন্যান্য ফ্যাসিবাদী শক্তির সাংগঠনিক কার্যক্রমও বন্ধ করতে হবে, যেমনটি আওয়ামী লীগকে করা হয়েছে। তবে, এই ঘটনার মধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া সরকারের জন্য লজ্জাজনক। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অনুমতি ছাড়া এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি আদায় করে বলেছেন, নুরের ওপর হামলা ও তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই ঘটনার তদন্ত ও বিচারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অন্ততঃ প্রত্যাহার হওয়া দরকার।
অতএব, রাশেদ খান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যেভাবে নুরকে সুস্থ দেখানোর পরিকল্পনা চলছে, তা কোনো লাভ করবে না। হামলার বিচার হতে হবে, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
-

রিজভীর অভিমত: মাজার ভাঙা ও লাশ পোড়ানো রাসুলের শিক্ষা নয়
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আজ আমরা নিজেদের মধ্যে বিভাজিত। কেউ মাজার ভাঙছি বা লাশ পুড়িয়ে দিচ্ছি—এগুলো যেনো রাসুলের শিক্ষা নয়। তিনি বলেন, আজ শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা জানান।
রিজভী বলেন, পৃথিবীবাসীকে নিদর্শন হিসেবে দিয়েছেন আরবের মহামানব হযরত মোহাম্মদ (সা.)। আমরা সেই শিক্ষাগুলো থেকে দূরে সরে যাচ্ছি, নিজেদের ধর্ম ও ইসলামকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলছি। অথচ আমাদের মহানবীই ছিলেন শান্তির প্রতীক এবং ঐক্যের আলোকবর্তিকা।
তিনি আরও বলেন, আজ রঘৎ নবীকে নিয়ে এখানে যে মিলাদ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তার সম্পর্কে আমার মতো একজন সাধারণ মানুষ বলতে গিয়ে খুবই কষ্ট হচ্ছে। এটি খুবই সম্ভব নয়। আমরা তার আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে তাঁর রেখে যাওয়া বাণী ও ব্যক্তিত্বকে জীবনে ধারণ করে এক সুন্দর সমাজ গঠন করতে পারতাম। শুধু তার আদর্শ লালন করলে, আমাদের দেশ থেকে অন্যায়, অনাচার, কুপ্রবৃত্তি, পাপাচার, হানাহানি এবং রক্তপাত বন্ধ হত।
রিজভী জানান, যিনি আমাদের আদর্শ ও মডেল—তিনি আমাদের কেউ অনুসরণ করি না। এটাই হলো মুসলিম সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।
মিলাদ মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর শরাফত আলী শফু। অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা সেলিম রেজা।
-

৩০ রাজনৈতিক দলের দাবি: জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ হোক
জাতীয় পার্টি (জাপা) ও তার সহযোগী দলগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ৩০টিরও বেশি مختلف রাজনৈতিক দলের নেতারা। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত এক সংহতি সমাবেশে তারা এ দাবি ব্যক্ত করেন। এই সমাবেশের মূল লক্ষ্য ছিল, গণহত্যার নিচে থাকা জনতাদের পরিস্থিতি তুলে ধরা ও সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দাবির মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে সংশোধনের আহ্বান জানানো।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পতনের পরও, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি একই রকম অব্যাহত আছে; বিশেষ করে, নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নেতারা দাবি করেন, এই হামলার সঙ্গে জাপা ও লক্ষাধিক সহযোগী দলের যোগ রয়েছে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বুনিয়াদ নড়ে গেছে। তারা আরও বলেন, জাতীয় পার্টি এবং এই জোটের সদস্যরা অবিলম্বে নিষিদ্ধ হওয়া জরুরি, কারণ তারা দেশের স্বরাজ্য সরকারের স্থিতিশীলতা নস্যাৎ করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল বলেন, দেশে স্বৈরাচার শেষ হয়েছে; তবে, কিছু দুর্বৃত্ত এখনও নুরুল হক নুরের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন স্তরে বহিরাগত দোসররা রয়ে গেছে, তাঁদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য সংগঠনের নেতারা মন্তব্য করেন, এই হামলা দেশের উপর আঘাত, এটি হচ্ছে দেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। তারা বলেন, এই ধরনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার চেষ্টা চলছে; নতুন করে সব ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে কিছু গ্রুপ। তারা দাবি করেন, এমন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ চাই একটি মুক্ত, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ যেখানে কোনো ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারিত্বের স্থান নেই।
সভাপতির বক্তব্যে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, নুরের ওপর হামলায় জড়িত সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠন হলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। সরকারের উচিত অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং নুরের চিকিৎসার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি আরও বলেন, যদি এই দাবি মানা না হয়, তাহলে তারা সচিবালয় ঘেরাও করবেন। তারা স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশে এখন থেকে আর চাইলেই জাপাকে রাজনীতি করতে দিতে চলবে না।
এছাড়াও বিভিন্ন দলের নেতারা তাদের দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করে বলেন, তারা যেনতেনভাবে নির্বাচন চায় না, বরং সংস্কার দ্বারা নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি শান্ত ও সুষ্ঠু করতে চান। এ সময়, তারা নতুন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বেলা বারোটার পর থেকে শুরু হওয়া এই সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশের সকল মিডিয়া ও প্রশাসন যেন সত্যের পক্ষে দাঁড়ায় এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন এবং সরকারকে সতর্ক করে দেন, এই ধরনের ষড়যন্ত্র আর সহ্য করা হবে না। বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেছেন, দেশের ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
-

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংক্রান্ত সংঘর্ষ
রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভয়াবহ ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে। এ ঘটনায় কার্যালয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার নিশ্চিত করেছেন যে, আগুনের খবর তারা পেয়েছেন, এবং তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোনো সহিংসতার অংশ, তাই অনুমতি পেলেই তারা ঘটনাস্থলে যাবেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৭টার পর বিক্ষোভকারীরা প্রথমে কার্যালয়টি ভাঙচুরের চেহারা নেয়। ভাঙচুরের পর তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে সাড়ে ৭টার দিকে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে। সেই সময় পুলিশ-প্রদর্শকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এর আগে, ৩১ আগস্ট কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বলে জানা গেছে। দলটির নেতারা অভিযোগ করেন যে, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদ ব্যানার নিয়ে মিছিল করে আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে। তারা দাবি করছে যে, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করতে তারা এ ধরনের কাজ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের জন্যই এইগুলো হচ্ছে। কেননা, আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি, তাই এসব বাধা সৃষ্টি করছে। তারা বলতে চাইছে, ছাত্রলীগের কার্যক্রম এখন এনসিপি চালাচ্ছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। জাতীয় পার্টি একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে থাকছে, এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এটি বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘তারা এসে আগুন লাগিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জলকামান দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি ঠিক আছে।’
-

আবু বাকের জিতলেই আমি জিতে যাব, জানালেন মাহিন সরকার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদারকে সমর্থন দিয়ে নিজের পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মাহিন সরকার। আজ শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এই ব্যতিক্রমী ছাত্র নেতা।
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে যোদ্ধাদের শক্তিকে একত্রিত করতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। মাহিনরা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, আবু বাকের যদি নির্বাচিত হন, তবে তিনি নিজেও জিতবেন। এ সময় তিনি সকল সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে আবেদন করেন যেন তারা আবু বাকের মজুমদারকে পছন্দের প্রার্থী হিসেবে ভোট দেন।
মাহিন সরকার আরও বলেন, ‘প্যানেল থেকে জিএস পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিলেও আমার প্রতিনিয়তই মনে হয়েছে যে, গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য থাকা জরুরি। আমি বিশ্বাস করি, ডাকসু নির্বাচনে যদি গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়, তারা শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বেশি কাজ করবে।’
এসময় তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যারা আমাকে সমর্থন করেন, কারণ আমার প্রার্থিতা বাতিলের কোনো সুযোগ নেই, তাই আমার নাম লিস্টে থাকবে। কিন্তু আমি আপনাদের অনুরোধ করবো, বাকেরকে নির্বাচিত করুন। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে সমর্থন জানাচ্ছি।’
ডাকসু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর মাহিন সরকার পৃথকভাবে একটি সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ নামে নতুন প্যানেল দেন, যেখানে তিনি জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব।
জনপ্রিয়তা ও দলীয় কারণে, অনুমতি না নেওয়ায় ১৮ আগস্ট এনসিপি মাহিনের প্যানেলকে বহিষ্কার করে। এর পরেও মাহিনের প্যানেলের পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের নেতা সাব্বির উদ্দিন ও বায়েজিদ হাসান নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
-

নুরুল হক নুরের সুস্থতা নিয়ে পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন রাশেদ খাঁন
আহতের কারণে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ নন। দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন যে, তাকে সুস্থ দেখানোর একটি পরিকল্পনা চলমান। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান বলেন, নুরুল হক নুর এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। তার নাক দিয়ে এখনও রক্ত পড়ছে, নাক বাঁকা হয়ে গেছে। মাথায় আঘাতের কারণে তিনি হাঁটতে পারছেন না এবং মুখ হা-ও করতে পারছেন না। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নুরকে দ্রুত বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তার শারীরিক অবস্থা আগের মতোই থাকছে বলে জানানো হলেও, তা মোটেও ঠিক নয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নুরুল হক নুর বর্তমানে প্লেনে উঠার মতো অবস্থায় নেই। তবে আমরা সিঙ্গাপুরে নিয়ে তার চিকিৎসার জন্য দাবি জানিয়েছি। আশা করছি, তিনি একটু সুস্থ হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরো জানান, গতকাল হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছিল যে নুরুল হক নুর সম্পূর্ণ সুস্থ, কিন্তু সেটা সত্য নয়। তিনি এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ নন এবং তাকে সুস্থ দেখানোর জন্য পরিকল্পনা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি নুরের অবস্থা দেখার জন্য আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম, যেখানে ডাক্তাররা উপস্থিত ছিলেন। তখন দেখা যায়, তার নাক থেকে জমাট বাঁধা রক্ত বের হচ্ছে। অবিলম্বে ডিরেক্টরকে ফোন করে অবস্থা জানানো হয়, তিনি এসে অন্যান্য ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করেন এবং নুরের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশনা দেন। তবুও গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, নুরুল হক নুর সুস্থ আছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার এখনো আগের মতোই অবস্থায় থাকায় আমি বিশ্বাস করি না যে তিনি সুস্থ।
রাশেদ খাঁন বলেন, আমি নুরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি কথা বলতে পারছেন না। তার চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, মুখ দিয়ে কথা বলতে পারছেন না, মুখের মালিশে প্রচন্ড ব্যথা এবং ব্রেনে আঘাতের চিহ্ন থাকার কারণে তার মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করছে না। তিনি আরও বলেন, নুরুল হক নুর এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ হননি, এই হামলা তার জন্য ছিল হত্যার উদ্দেশ্যে।
তিনি আরো যোগ করেন, এই হামলার ফলে জাতি একতাবদ্ধ হয়েছে। দেশের জনগণ চায়, আওয়ামী লীগসহ যারা ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের অবশ্যই নিষিদ্ধ করা হোক। ফ্যাসিবাদের দোসর সাবেক সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ফৌজদারি ফাইল থাকা সত্ত্বেও এখনও কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা দেশের জন্য লজ্জাজনক। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অনুমতি না থাকলে এই ধরনের ঘটনা ঘটার কথা নয়। গণতন্ত্রের জন্য কাজ করা এই সংগঠনের নেতা নুরুল হক নুর ও তার নেতাকর্মীদের উপর হামলার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবশ্যই অবিলম্বে সরানো উচিত।
রাশেদ খাঁন দাবি করেন, নুরুল হক নুরকে সুস্থ দেখানোর পরিকল্পনা কখনো ফলপ্রসূ হবে না। হামলার সঠিক বিচার হয়, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের যথার্থই শাস্তি পেতে হবে।
-

রিজভীর মন্তব্য: মাজার ভাঙা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়া রাসুলের শিক্ষা নয়
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আজ আমাদের সমাজ দ্বিধাবিভক্ত এবং বিভ্রান্ত। কেউ মাজার ভাঙছে, কেউ লাশ পুড়িয়ে দিচ্ছে—এগুলো কখনোই রাসুলুল্লাহ (সা.)’র শিক্ষা নয়। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী further বলেছিলেন, পৃথিবীর মানুষের জন্য মহামানব হযরত মোহাম্মদ (সা.)’র জীবন আরবের ইতিহাসের এক বৈচিত্র্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তাকে অনুসরণ করে মানবতা, শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের এগিয়ে আসা উচিত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা মোহাম্মদ (সা.)’র আদর্শ থেকে অনেক দূরে। তার থেকে শিক্ষা না নিয়ে বরং বিভিন্ন ফেরকা বিভাজন, ইসলামের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অন্ধকারের মাঝে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। সামান্যতম ifলন বা আদর্শ অনুসরণ করলে এই দেশের অঙ্গাঅঙ্গি অসামঞ্জস্য, অন্যায়, বিদ্বেষ, পাপাচার, হানাহানি এবং রক্তপাত অনেকটাই কমে আসত। রিজভী আরও বলেন, আজকের মুসলিম সমাজের সবচেয়ে বড় দুঃখের বিষয়—আমরা মহানবী (সা.)’র আদর্শকে অনুসরণ করি না। তাকে গ্রহণ করি না, তার সাদামাটা জীবন ও ব্যক্তিত্বের মূল্যক্ষণ না করে বরং তার শিক্ষাকে অবহেলা করি। এই কারণে সমাজে দুর্নীতি, অনাচার ও হিংসার আগ্রহ বেড়ে যাচ্ছে। মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর শরাফত আলী শফু। অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা সেলিম রেজা।
-

৩০ দল থেকে জাতীয় পার্টির নিষেধাজ্ঞার দাবি
জাতীয় পার্টির (জাপা) রাজনীতি নিষিদ্ধের জন্য দাবি জানিয়েছে ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের নেতারা। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে গণ অধিকার পরিষদ আয়োজিত একটি সংহতি সমাবেশে তারা একত্রিত হয়ে এই দাবি জানান।
এই সমাবেশের মূল আগ্রহ ছিল জ আপনি নেত্রীর ওপর হামলার ঘটনা, তার সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার, পাশাপাশি জাপা ও ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদত্যাগের আহ্বান জানানো।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, জেএসডি, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, এবি পার্টি, খেলাফত মজলিসসহ অন্তত ৩০টির বেশি স্বনামধন্য দল যোগ দিয়েছিল।
নেতারা বলেছেন, এখন সময় এসেছে অবিলম্বে জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের অবসান ঘটানোর। তারা উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংসের পেছনে দায়ী, এবং সরকারের দোসর হয়ে জাপা ও ১৪ দল শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনকে বাড়াতে সক্রিয়। সম্প্রতি জাপা’র মাথা চাড়া দিয়ে উঠা একচেটিয়া ক্ষমতা লালন ও এর মাধ্যমে দেশের অস্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য নেতারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। অবিলম্বে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি করেন তারা।
বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে বলে স্বীকার করেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে, নুরুল হক নুরের ওপর হামলা কারা করছে? ড. ইউনূসের কাছে বারবার বলা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন স্তরে হাসিনার অনুগত উপদেষ্টারা রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নুরের উপর হামলা কোনো একটি দলের উপর নয়, বরং সেটি দেশের ওপর চালানো একটি হামলা এবং দেশের গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত। এটি ছিলো গত জুলাইয়ে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তি বিদায় নিলেও, যারা এই ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি করেছিল, তারা এখনও সক্রিয়। এ জন্য দেশের মানুষ একটি স্বচ্ছ, মুক্ত গণতন্ত্রী বাংলাদেশ দেখতে চায়।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, নুরের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন। তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন, এখনও কাউকেও গ্রেফতার করা হয়নি। সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ জরুরি, নতুবা সরকার ঘেরাও করা হবে। নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তারা জাপাকে দেশে আবার রাজনীতি করতে দেবে না; আওয়ামী লীগ ও জাপার অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
নাগরিক সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ বলেন, বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য কিছু অপচেষ্টা হচ্ছে। তবে তারা নতুন করে নির্বাচন চায় এবং সংস্কার করলে নভেম্বরে নির্বাচন হলে তারা অংশগ্রহণ করবে।
ইসলামী আন্দোলনের নেতা আশরাফ আলী আকন্দ দাবি করেন, তিনি জাপাকে নিষিদ্ধ করতে সমর্থ। তারা চায় যেন ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ আর জন্ম না নেয়।
হেফাজতের নেতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, নুরকে আঘাত করা হয়নি, সেই আন্দোলনের নেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি বলেন, সমস্ত সহযোগি দলকে নিষিদ্ধ করে, আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে থাকলেন।
বেলা ৩টায় সমাবেশের কথা থাকলেও দুপুর থেকেই সমর্থনকারী নেতাকর্মীরা মিছিল শুরু করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের নেতারা ক্ষত্রে ক্ষত্রে যোগ দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে বক্তব্য দেন এবং তাদের মধ্যে অভ্যুত্থানের দাবির পাশাপাশি দেশকে স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক হবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
