Category: বিশ্ব

  • বিহারে রোজা থাকা মুসলিম নারীকে খুঁটিতে বেঁধে গণপিটুনি, হাসপাতালে মৃত্যু: অভিযোগ

    বিহারে রোজা থাকা মুসলিম নারীকে খুঁটিতে বেঁধে গণপিটুনি, হাসপাতালে মৃত্যু: অভিযোগ

    মধুবনী জেলার আমহি গ্রামে এক মুসলিম নারী রওশন খাতুনকে রোজা থাকা অবস্থায় খুঁটিতে বেঁধে গণপিটুনির ফলে হাসপাতালে নাকাও মৃত্যুবরণ করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে।_attackটি ঘটে বলে জানা গেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি; রওশনকে পরে পটনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ মার্চ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রওশন খাতুন গ্রাম প্রধান কুমারী দেবীর কাছে স্বামীর সঙ্গে জড়িত একটি জমজমাট বাগবিতাণ্ডা মেটানোর জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা করে যাওয়া ওই নারীকে ওই সময়ে গ্রাম প্রধানের ছেলে মনু সিং ও তার পরিবারের anderen সদস্যদের নেতৃত্বে একটি দল দাঁড় করিয়ে মারধর শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, তাঁকে একটি খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং এ সময় গ্রামের মানুষ দাড়িয়ে দেখে গেলেও কেউ পথে বাধা দিতে পারেননি।

    কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করেছেন, রওশন রমজানের রোজা পালন করছিলেন এবং তিনি পানি চাননি—তবুও হামলাকারীরা তাকে জোরপূর্বক মদ ও প্রস্রাব মিশ্রিত একটি পানীয় খাওয়ায় বলে বলা হচ্ছে। এমন বর্বর আচরণে গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্রোধান্বিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল ‘মিথিলা সমাচার’ও ঘটনাটি সম্প্রচার করেছে।

    পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এসব অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। এক তদন্তকারী কর্মকর্তার কথায়, “রওশন খাতুন রোজা ছিলেন কি না এবং তাঁর কাছে পানি চাওয়ার বিষয়টি সংক্রান্ত বিভিন্ন রিপোর্ট পাওয়া গেছে, কিন্তু আমরা এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারব না। তদন্ত চলছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    ঘটনার পর স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গ্রাম প্রধানের ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, পুলিশ ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত সকলকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আরও গ্রেফতারি হতে পারে বলে জানিয়েছে। এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

    রওশন খাতুনের স্বামী ঘটানের দোষীদের দ্রুত কঠোর শাস্তি, এমনকি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। মনসুরি সম্প্রদায়ের রাজ্য সভাপতি অজয় মনসুরি বলেছেন, “নিহত নারীর ন্যায়বিচারের জন্য আমরা সব স্তরে লড়ব” এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

    ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই জেলা জুড়ে শোক ও ক্ষোভের ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলেছেন, গ্রামীণ অঞ্চলে, বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চাইলে কতটা অরক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন, এই ঘটনা তা প্রমাণ করে। এক প্রবীণ বাসিন্দা বললেন, “রওশন একজন গরীব মহিলা ছিলেন, তিনি সাহায্য চেয়েছিলেন; তার মৃত্যু আমাদের সকলকে ব্যথিত করেছে। আমরা তার জন্য ন্যায়বিচার চাই।”

    পুলিশি তদন্ত চলছে; স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সমাজকর্মীরা ঘটনাটির দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলছেন।

  • বিস্ফোরণের পরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ

    বিস্ফোরণের পরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শনিবার (৭ মার্চ) আকাশে ড্রোন সাদৃশ্য একটি বস্তু প্রতিহত হওয়ার পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করেছে। ঘটনা স্থলকে নিরাপদ করার ও যাত্রী, বিমানবন্দর কর্মী ও এয়ারলাইন্স ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    দুবাই মিডিয়া অফিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, নিরাপত্তার কারণে বিমানবন্দর সীমিত সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে। ওই ঘোষণাটি ঘটেছে ঠিক তখনই যখন বিমানবন্দরের নিকটস্থ আকাশে ড্রোন সদৃশ বস্তু প্রতিহত করা হয়।

    এক প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে বলেছেন, তিনি তীব্র বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনেছেন এবং পরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এ ঘটনার পর ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪–এ কিছু বিমান আকাশে চক্কর কাটতে দেখা গেছে।

    গত কয়েক দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একাধিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই গত সোমবার দুবাইয়ের প্রধান বিমানবন্দর থেকে আংশিকভাবে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় চালু করা হয়েছিল।

    আজ (শনিবার) মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম এয়ারলাইন এমিরেটস ঘোষণা করেছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুবাই থেকে সব আগমন ও প্রস্থানের ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।

    কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত করছে এবং বিমানবন্দর ও বিমানসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা দেয়া হবে। যাত্রীদের নির্দেশনা ও আপডেটের জন্য সরকারি ঘোষণাপত্র এবং এয়ারলাইনগুলোর তথ্যসূত্র অনুসরণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

  • এফবিআই সাক্ষাৎকার নথিতে কিশোরী বলেন—ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

    এফবিআই সাক্ষাৎকার নথিতে কিশোরী বলেন—ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) সম্প্রতি প্রকাশ করেছে একাধিক এফবিআই সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ, যেখানে একজন নারী দাবি করেছেন—কৈশোরে তাকে যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে এবং অভিযুক্তের মধ্যে ওই ব্যক্তির নাম ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নথিগুলো ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল। এফবিআইয়ের ৩০২ নামের ফাইলে থাকা তিনটি সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপে ওই নারী তার অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, কিশোর বয়সে তিনি জেফরি এপস্টেইনের মাধ্যমে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তখন থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত।

    সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন—ট্রাম্প তাকে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা করলে তিনি আত্মরক্ষার জন্য ট্রাম্পের শরীরের একটি ব্যক্তিগত অংশে কামড় দেন। এর পর ট্রাম্প তাঁকে আঘাত করলে তিনি আহত হন বলে নথিতে উল্লেখ আছে।

    এফবিআই ২০১৯ সালে এ নারীর সঙ্গে মোট চারবার কথা বলেছে; আগে বিচার বিভাগ সেই সাক্ষাৎকারগুলোর মধ্যে মাত্র একটির সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছিল। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন নথিতে ওই নারীর আরও কয়েকটি দাবি দেখা গেছে—তার মধ্যে একটি রয়েছে যে ১৯৮০-এর দশকে নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সিতে এপস্টেইনের মাধ্যমে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয়ের পর ট্রাম্প তাকে ওরাল সেক্সে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন।

    তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিচার বিভাগ বলেছে যে এ প্রকাশিত নথিগুলোর অনেকটিতে প্রয়োজনীয় প্রমাণ বা প্রেক্ষাপটের ঘাটতি থাকতে পারে এবং কিছু অংশে ‘‘অসত্য বা চাঞ্চল্যকর দাবি’’ থাকতে পারে। রয়টার্সসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে তারা এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। এফবিআইর নথিতে ইঙ্গিত আছে, ২০১৯ সালের পর থেকে তদন্তকারীরা ওই নারীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।

    হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেন এবং অব্যাহতভাবে অভিযোগকারীর বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রকাশিত তথ্যগুলোতে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই এবং নথি বিষয়ে আগের প্রশাসনও কোনো পদক্ষেপ নেননি।

    বিচার বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা নথিগুলো ১৫টি নথির অংশ ছিল, যেগুলিকে ভুলবশত ডুপ্লিকেট চিহ্নিত করা হওয়ায় আগে প্রকাশ করা হয়নি। এ নথি প্রকাশকে ঘিরে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে—কিছু নথি গোপন করা হয়েছিল কি না সেই অভিযোগে রাজনৈতিক তর্ক চলছে। এ বিষয়ে প্রতিনিধি পর্যায়ের একটি কমিটি বিচার বিভাগকে কার্যਪদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে উপস্থাপনকারীদের তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ট্রাম্প আগে বলেছেন যে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ২০০০-এর মাঝামাঝি সময়ে শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং এপস্টেইনের অপরাধসমূহ সম্পর্কে তিনি কখনোই অবগত ছিলেন না। বিচার বিভাগের পুরনো নথিতে দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্প এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে কয়েকবার ভ্রমণ করেছিলেন—একথা নথিতে আছে, যদিও ট্রাম্প যেসব তথ্য অস্বীকার করেছেন।

    নথিগুলোতে অনুমোদিত ভাষ্য ও তথ্যের সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে বিচার বিভাগ এবং সংবাদমাধ্যম নির্বিশেষে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। অভিযোগকারী ওই নারী নিজে এফবিআইকে জানিয়েছেন, তাঁর জীবনের এই পর্যায়ে আরও তথ্য দিয়ে তৎপর হওয়া সম্ভবত ফলপ্রসূ হবে না।

    সূত্র: পলিটিকো, এএফপি/রয়টার্স — প্রকাশিত বিচার বিভাগীয় নথি ও সাক্ষাৎকার সারসংক্ষেপ

  • ড্রোন-সদৃশ বস্তু প্রতিহত হওয়ার পর দুবাই বিমানবন্দর কার্যক্রম স্থগিত

    ড্রোন-সদৃশ বস্তু প্রতিহত হওয়ার পর দুবাই বিমানবন্দর কার্যক্রম স্থগিত

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আজ শনিবার, ৭ মার্চ, আবারও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি আকাশে ড্রোন-সদৃশ একটি বস্তু প্রতিহত করার ঘটনাকে ছোটিয়ে দেখে কর্তৃপক্ষ যাত্রী, বিমানবন্দর কর্মী ও এয়ারলাইন্স ক্রুদের নিরাপত্তার স্বার্থে কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দুবাই মিডিয়া অফিস সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে জানিয়েছে।

    প্রতিবেদকদের কাছে পৌঁছানো এক প্রত্যক্ষদর্শীর মন্তব্যে জানা গেছে, ঘটনার সময় তিনি তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান। এই ঘোষণা আসে ঠিক তখনই যখন বিমানবন্দরের নিকটবর্তী আকাশে সন্দেহভাজন বস্তুটির অস্তিত্ব শনাক্ত ও প্রতিহত করা হয়। ফ্লাইটট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এও এক পর্যায়ে কিছু বিমানের বিমানভ্রমণ বাতাসে চক্কর খাওয়াতে দেখা গেছে।

    উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিবেশের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলার ঘটনা চলছিল; গত সোমবার দুবাইয়ের প্রধান বিমানবন্দর থেকে আংশিকভাবে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছিল। তবে আজ (শনিবার) মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম এয়ারলাইন এমিরেটস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দুবাই থেকে সব আগমন ও বহির্গমন ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী ঘোষণা দেবে বলে expectation করা হচ্ছে।

  • নথিতে দাবি: কিশোরী বয়সে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

    নথিতে দাবি: কিশোরী বয়সে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

    বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) বৃহস্পতিবার কয়েকটি এফবিআই সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে, যেগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রকাশিত নথিগুলোতে একজন নারীর বক্তব্যের সারমর্ম তুলে ধরা হয়েছে, তিনি দাবি করেছেন—কৈশোর বয়সে ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেছিলেন।

    বিচার বিভাগের প্রকাশিত তিনটি এফবিআই ‘৩০২’ ফাইলে দেওয়া সারসংক্ষেপ অনুযায়ী ওই নারী জানিয়েছেন, জেফরি এপস্টেইনের মাধ্যমে ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল এবং তখন তিনি কেবল ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছিলেন। সাক্ষাৎকারের নোটে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে ট্রাম্প তাকে জোর করে যৌন কর্মকাণ্ড চালাতে চেয়েছিলেন; আত্মরক্ষায় ওই নারী ট্রাম্পের ‘বিশেষ অঙ্গে’ কামড় দেন, এবং পরে ট্রাম্প তাকে আঘাত করে বলে তিনি দাবি করেছেন।

    ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে অভিযোক্তার ওঠা হয়নি এবং এপস্টেইনের পক্ষে ট্রাম্পের জড়িত থাকার সুগঠিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি—এও নথিতে উল্লেখ আছে। বিচার বিভাগ বহু নথি প্রকাশের সময় উল্লেখ করেছে যে অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রমাণ বা প্রেক্ষাপটের ঘাটতি রয়েছে এবং কিছু নথিতে ‘অসত্য বা চাঞ্চল্যকর দাবি’ থাকতে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে তারা এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করতে পারেনি।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যে ১৫টি নথি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে কিছু প্রথমে ভুলবশত ‘ডুপ্লিকেট’ হিসেবে চিহ্নিত থাকায় আগে প্রকাশ হয়নি। এফবিআইর নথিগুলো ইঙ্গিত করে, ২০১৯ সালের পর থেকে তদন্তকারীরা ওই নারীকে আর কোনোভাবে অনুসরণ বা যোগাযোগ করেনি।

    হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, অভিযোগকারী ‘মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’ এবং তার একটি দীর্ঘ অপরাধমূলক অতীত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জো বাইডেন প্রশাসনের বিচার বিভাগ দীর্ঘ সময় এসব তথ্য জেনেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, যা ট্রাম্পের নির্দোষতার প্রমাণ বলে হোয়াইট হাউসের মত।

    প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে এফবিআই ওই নারীর সঙ্গে চারবার সাক্ষাৎকার নেয়; এর আগে বিচার বিভাগ সূত্রে চারটির মধ্যে কেবল একটি সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছিল। নতুন নথিতে অভিযোক্তার দাবি রয়েছে যে ১৯৮০-এর দশকে নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সিতে এপস্টেইন তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং একটি বড় কক্ষে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করানো হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছেন যে ট্রাম্প ‘বয়-গার্ল’ বলতে যে ধরনের মেয়েদের বোঝাতেন, তিনি সেই ধরনের ছিলেন না—সেই কথাও নোটে আছে।

    প্রকাশিত নথিতে আরও উল্লেখ আছে, এফবিআইর এক সাক্ষাৎকার প্রতিবেদনে নারীটিকে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ট্রাম্প সম্পর্কে আরও তথ্য দিতে তিনি আগ্রহী কি না; তার উত্তর ছিল, ‘আমার জীবনের এই পর্যায়ে আরও তথ্য দিয়ে লাভ কী, যখন খুব সম্ভবত এ বিষয়ে আর কিছুই করা যাবে না।’

    এই নথি প্রকাশকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে; কিছু পর্যবেক্ষক বলেন ট্রাম্প-সংক্রান্ত নথি গোপন করা হয়েছিল। প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি বিচার বিভাগের নথি প্রকাশ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    প্রকাশিত এসব তথ্যের উৎস হিসেবে পলিটিকোকে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছে, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ২০০০-এর মাঝামাঝি কেটে গিয়েছিল এবং এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে তিনি কখনোই অবগত ছিলেন না। পূর্বে প্রকাশিত অন্য এক নথিতে দেখা গেছে ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্প কয়েকবার এপস্টেইনের বিমান ব্যবহার করেছিলেন—যা ট্রাম্প অস্বীকার করেছেন।

    দায় না মেনে জানানো ভালো যে এখানে বর্ণিত অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই দাবি পর্যায়ে রয়েছে এবং বিচারের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি; প্রকাশিত নথিতেও এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণের অভাব ও সানন্দে ভুল তথ্য থাকার কথাও বলা হয়েছে।

  • ডিজোপি প্রকাশ করেছে এফবিআই সাক্ষাৎকার সারসংক্ষেপে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিশোরী নির্যাতনের অভিযোগ

    ডিজোপি প্রকাশ করেছে এফবিআই সাক্ষাৎকার সারসংক্ষেপে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিশোরী নির্যাতনের অভিযোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) বৃহস্পতিবার এফবিআইর একাধিক সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে, যেখানে এক নারী দাবি করেছেন যে কৈশোরে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। প্রকাশিত নথিগুলো মূলত ২০১৯ সালে এফবিআই প্রস্তুত করা ৩০২ ফাইলের সারসংক্ষেপ—যেখানে ওই নারীর সঙ্গে করা সাক্ষাৎকারের বিবরণ রাখা আছে।

    সাক্ষাৎকারগুলোর সারসংক্ষেপে ওই নারী জানিয়েছেন, তার পরিচয় হয়েছিল অভিযুক্ত যৌন পাচারকারী জেফরি এপস্টেইনের মাধ্যমে। তখন তিনি প্রায় ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ আছে। নারীর দাবি, এপস্টেইন তাকে নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সির একটি উচ্চ ভবনের বড় কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

    এসব নথিতে আরও বলা হয়েছে—তাঁর কথায়, ট্রাম্প তাঁকে জোর করে যৌন সম্পর্কের চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে তিনি ট্রাম্পের ‘বিশেষ অঙ্গে’ কামড় দেন; এরপর ট্রাম্প তাঁকে আঘাত করেন, এমনটাই ওই সাক্ষাৎকারে উল্লেখ আছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ১৯৮০-এর দশকে এপস্টেইনের মাধ্যমে পরিচয়ের পরে ট্রাম্প তাকে ওরাল সেক্সে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন।

    ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অভিযোগগুলোকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” আখ্যা দিয়ে বলেন, এগুলোর পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই এবং তিনি অভিযোগকারীকে মানসিক ও অপরাধমূলক অতীতসম্পন্ন বলে উল্লেখ করেন।

    বিচার বিভাগ প্রকাশ্যে সতর্কও করেছে যে, প্রকাশিত কিছু নথিতে ‘‘অসত্য ও চাঞ্চল্যকর দাবি’’ থাকতে পারে এবং সব তথ্য সমগ্র প্রেক্ষাপটে যাচাই করা হয়নি। রয়টার্স অনুসন্ধান করে জানিয়েছে যে তারা ওই অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। এফবিআইর নথিতে ইঙ্গিত আছে, ২০১৯ সালের পরে তদন্তকারীরা ওই নারীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।

    বিচার বিভাগ বলেছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নথিগুলো ১৫টি কাগজপত্রের অংশ, যেগুলো আগে ভুলবশত ‘‘ডুপ্লিকেট’’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় প্রকাশ বাদ পড়েছিল।

    এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের ঘটনার পর কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে—কোভর্ক করে অভিযোগ করা হচ্ছে যে ট্রাম্প-সংক্রান্ত কিছু নথি গোপন করা হয়েছিল। অভিযোগ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তারা জানতে পারে সরকার কীভাবে এসব নথি প্রকাশের বিষয়টি পরিচালনা করছে।

    নথিতে আরও দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্প কয়েকবার এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন—যা নিয়ে ট্রাম্পের নিজস্ব মন্তব্য আলাদা। এছাড়া এক নথিতে বলা আছে, এপস্টেইনের বিরুদ্ধে প্রথম যৌন অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর ট্রাম্প পাম বিচের পুলিশের প্রধানকে ফোন করে বলে ছিলেন যে ‘‘সবাই জানত সে এসব করছিল।’’

    ২০১৯ সালের একটি শেষ সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তখন ট্রাম্পের প্রথমবারের প্রেসিডেন্ট মেয়াদকাল চলছিল এবং এফবিআই এজেন্টরা ওই নারীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন ট্রাম্প সম্পর্কে আরও তথ্য দিতে তিনি আগ্রহী কি না। তার প্রতিক্রিয়া ছিল—‘‘আমার জীবনের এই পর্যায়ে আরও তথ্য দিয়ে লাভ কী, যখন খুব সম্ভবত এ বিষয়ে আর কিছুই করা যাবে না।’’

    এই অনলাইন প্রকাশনার তথ্যসূত্র হিসেবে পলিটিকোকে উল্লেখ করা হয়েছে। বিচার বিভাগ নথি প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সতর্কবার্তাও দিয়েছেন—সকল দাবিই যাচাইসাপেক্ষ।

  • ড্রোন সাদৃশ্য বস্তু প্রতিহত: দুবাই বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ

    ড্রোন সাদৃশ্য বস্তু প্রতিহত: দুবাই বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ

    সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই — শনিবার (৭ মার্চ) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুবাই মিডিয়া অফিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, যাত্রী, বিমানবন্দর কর্মী ও এয়ারলাইন্স ক্রুর নিরাপত্তার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

    বিমানবন্দরের কাছাকাছি আকাশে একটি ড্রোন সাদৃশ্য বস্তু প্রতিহত করার পরই এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানিয়েছেন, তারা একটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং এরপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

    ফ্লাইটরাডার২৪ের মতো ট্র্যাকিং সাইটে দেখা গেছে কিছু বিমান ছায়াছবির মতোভাবে আকাশে চক্কর দিচ্ছে। গত কয়েক দিনের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলার ঘটনা বাড়ায় ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছিল; গত সোমবার দুবাইয়ের প্রধান বিমানবন্দর থেকেও আংশিকভাবে ফ্লাইট চালু হয়েছিল।

    তবে আজকে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম এয়ারলাইন এমিরেটস ঘোষণা দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দুবাই থেকে সব আগমন এবং প্রস্থানের ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। বিমানযাত্রীরা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও কর্তৃপক্ষের আপডেট অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

  • সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দেশকে এবং বিশাল জয়ের জন্য তারেক রহমানকে পাকিস্তানের অভিনন্দন

    সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দেশকে এবং বিশাল জয়ের জন্য তারেক রহমানকে পাকিস্তানের অভিনন্দন

    পাকিস্তান বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশের প্রতি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পৃথকভাবে এক্সে বার্তা প্রকাশ করে এই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    আসিফ আলী জারদারি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, বাংলাদেশের ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। জারদারি আশা প্রকাশ করেছেন এই নির্বাচন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক উন্নয়নে বাস্তব অবদান রাখবে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের জনগণ ও তাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি পাকিস্তানের সদিচ্ছা ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাঁর এক্স হ্যান্ডলে বিএনপিকে বিশাল জয় এনে দেওয়ায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং একটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে ঐতিহাসিক, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করা এবং দক্ষিণ এশিয়া ও এর বাইরে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়া তাঁর আগ্রহের বিষয়।

    উভয় নেতার এসব বার্তায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংযুক্তি বজায় রাখার এবং ভূমিকা সহযোগিতার ইচ্ছা প্রতিফলিত হয়েছে।

  • ইমরান খানের ডান চোখে ৮৫% দৃষ্টিহ্রাস

    ইমরান খানের ডান চোখে ৮৫% দৃষ্টিহ্রাস

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫% হারিয়ে ফেলেছেন — এমন তথ্য একটি মেডিকেল রিপোর্টে উঠে এসেছে, যা বুধবার (১১ জানুয়ারি) তার আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে জমা দেন।

    আইনজীবী ব্যারিস্টার সালমান সফদার আদিয়ালা সাত পাতার वह প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। আদালত তাকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে নিয়োগ করে এবং কারাগারে ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইমরান রক্ত জমাট বাঁধার সম্পর্কিত সমস্যায় ভুগছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ ইনজেকশনসহ চিকিৎসা দিলেও তার ডান চোখে মাত্র ১৫% দৃষ্টি রয়েছে। পেশাদার একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, ডা. মুহাম্মদ আরিফ, পিমসে পরীক্ষায় বলেছিলেন, ডান চোখে রক্ত জমাট বাঁধা (ক্লট) শনাক্ত করা গেছে, যা উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে।

    তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি, সাবেক প্রধামন্ত্রীকে গত ২৪ জানুয়ারী রাতে ‘২০ মিনিটের’ চোখের চিকিৎসার জন্য রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় ইসলামাবাদের পিমসে নেওয়া হয়েছিল। তবে ইমরানের পরিবার বলেছে, তারা আগে থেকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি।

    জামিনের বাইরে থাকা জীবন এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের বিষয় আগে কখনো উত্থাপন না করার কথা উল্লেখ করে ইমরান রিপোর্টে বলছেন, ৭৩ বছর বয়স এবং নানা মামলায় জড়িত থাকা সত্ত্বেও তিনি আগে কখনও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অভিযোগ করেননি। কিন্তু সম্প্রতি তার উদ্বেগকে সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেয়নি বা সমাধান করেনি।

    রিপোর্টে ইমরান জানান, প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত, তার উভয় চোখেই স্বাভাবিক ৬ x ৬ দৃষ্টিশক্তি ছিল। এরপর ধীরে ধীরে ঝাপসা দেখা দিতে শুরু করে এবং তিনি mehrfach জেল সুপারিনটেন্ডেন্টকে এ বিষয়টি জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে হঠাৎ করেই তার ডান চোখের দৃষ্টি প্রায় পুরোপুরি চলে যায়।

    ব্যারিস্টার সালমান সফদার সাক্ষাৎকালে ব্যক্তিগতভাবে দেখেন, ইমরান দৃষ্টিশক্তি হারানোর ফলে উদ্বিগ্ন ও কষ্টগ্রস্ত ছিলেন; তার চোখ জলে ভরা ছিল এবং বারবার টিস্যু দিয়ে চোখ মুছছিলেন।

    ইমরানের দল পিটিআই বলেছে, তাদের বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানা গেছে ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (CRVO) ধরা পড়েছে, যা সময়মত সঠিক চিকিৎসা না পেলে স্থায়ী দৃষ্টিহীনতা বন্ধ করতে পারে।

    প্রসঙ্গত, ইমরান খান বহু মামলায় অভিযুক্ত এবং ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। গত ডিসেম্বরে পাকিস্তান সরকার জাতীয় নিরাপত্তার কারণে কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। (সূত্র: জিও নিউজ)

  • মালয়েশিয়ায় নিপাহ আশঙ্কায় ভারত–বাংলাদেশ যাত্রীদের কড়া স্ক্রিনিং শুরু

    মালয়েশিয়ায় নিপাহ আশঙ্কায় ভারত–বাংলাদেশ যাত্রীদের কড়া স্ক্রিনিং শুরু

    প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সম্ভাব্য ছড়িয়ে পড়া রোধে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশেষ স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলকেফলি আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা — বিশেষত ভারত ও বাংলাদেশ — যাত্রীদের ওপর নজরদারি জোরদার করা হবে।

    সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে বডি টেম্পারেচার পরিমাপের যন্ত্রগুলো সচল করা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের মধ্যে নিপাহের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে জ্বর দ্রুত শনাক্ত করা যায়। মালয়েশিয়া ভারত ও বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রেখেছে এবং সেখান থেকে আসা যাত্রীদের টার্গেটেডভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে এদের জন্য আলাদা কোনো পথ বা রুট নির্ধারণ করা হয়নি; স্বাভাবিক অভিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্যেই নজরদারি করা হবে।

    স্ক্রিনিং চলাকালীন যদি কারো শরীরে জ্বর বা কোনও সন্দেহজনক উপসর্গ ধরা পড়ে, তাকে সঙ্গে সঙ্গেই বিশেষ মেডিকেল টিমের কাছে পাঠিয়ে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এই পদক্ষেপগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা ও বৈশ্বিক ঝুঁকি পর্যালোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি যাতে আমাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলো আন্তর্জাতিক মানের এবং সময়োপযোগী থাকে।’

    তিনি আরও জানান, দেশের সব প্রবেশপথে স্বাস্থ্য বিভাগ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তুতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ভারতে সম্প্রতি নিপাহ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর এশিয়ার অন্যান্য কয়েকটি দেশও তাদের বিমানবন্দর ও সীমান্তে অনুরূপ সতর্কতা বাড়িয়েছে। মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপও সেই প্রেক্ষাপটের অংশ, যাতে দ্রুত শনাক্তকরণ ও সময়মতো প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে সম্ভাব্য বিস্তার প্রতিরোধ করা যায়।