Category: বিশ্ব

  • শ্রীলঙ্কা আদালত ইরানকে ৮৪ নাবিকের মরদেহ হস্তান্তরের নির্দেশ দিল

    শ্রীলঙ্কা আদালত ইরানকে ৮৪ নাবিকের মরদেহ হস্তান্তরের নির্দেশ দিল

    শ্রীলঙ্কার এক আদালত গত সপ্তাহে উপকূলীয় এলাকায় ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলায় নিহত ৮৪ নাবিকের মরদেহ ইরান দূতাবাসকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বুধবার (১১ মার্চ) এই তথ্য জানিয়েছে।

    ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া অনুসারে আক্রান্ত জাহাজ আইআরআইএস ডেনা একটি সাবমেরিনের টর্পেডো আঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়; জাহাজটি তখন ভারত আয়োজিত সামরিক মহড়া থেকে ফেরত আসছিল। এই হামলায় ৮৪ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩২ জন পানিগ্রস্ত অবস্থায় বেঁচে যান।

    গলের হাবর পুলিশ লাশ হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করে এবং আদালত তা মঞ্জুর করে। মৃতদেহগুলো বর্তমানে গালের ন্যাশনাল হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

    একই সময় শ্রীলঙ্কা ৩০ দিন মেয়াদি ভিসা দিয়েছে আইআরআইএস বুশেহর নামের দ্বিতীয় ইরানি জাহাজের ২০৮ সদস্যকে; তারা জাহাজের ইঞ্জিনগত সমস্যার কারণে শ্রীলঙ্কার উপকূলে এসে নোঙর করেছিল। সরকারের বরাতে জানা গেছে, ওই জাহাজটি পরে ত্রিঙ্কোমালিতে সরিয়ে নেয়া হবে।

    এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসা ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। শ্রীলঙ্কার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুটোই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার; যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার পোশাক রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশের ক্রেতা এবং ইরান তাদের বড় চা ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছেন।

    এর পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের একটি বন্দরে আইআরআইএস লাভান নামের তৃতীয় ইরানি জাহাজ ১৮৩ সদস্য নিয়ে নোঙর করেছে। কর্তৃপক্ষ এখন পরিস্থিতি তদন্ত ও নৌসুরক্ষা জোরদার করেছে।

  • ভারতে প্রথমবার প্যাসিভ ইউথানেশিয়ার পথে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি

    ভারতে প্রথমবার প্যাসিভ ইউথানেশিয়ার পথে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি

    সুপ্রিম কোর্ট ভারতে প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্যাসিভ ইউথানেশিয়া—অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে জীবন বাঁচানোর চিকিৎসা ব্যবস্থা সরানোর অনুমতি—দিয়েছে। দীর্ঘ তেরো বছর শয্যাশায়ী থাকা দিল্লির যুবক হরীশ রানাকে হাসপাতালে কৃত্রিমভাবে জীবনধারণের ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটিকে বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    হরীশ রানার বয়স বর্তমানে ৩২। তিনি একসময় পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে পড়ে গুরুতরভাবে আঘাত পান; মেরুদণ্ডে ভোগান্তিকর আঘাতের ফলে তিনি কোয়াড্রিপ্লেজিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। ওই ঘটনার পর থেকে তার চারটি অঙ্গই কার্যত অচল।

    চিকিৎসকদের বিবরণ অনুযায়ী হরীশের বহুবছরের অবস্থায় তিনি বাহ্যিক জগতের কোনও সচেতনতা রাখতে পারছেন না, নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো অনুভূতিই নেই। তার শ্বাসপ্রশ্বাস ও ন্যূনতম শারীরিক কার্যক্রম কেবল চিকিৎসা-সহায়তায় বজায় রাখা হচ্ছে। এই অনিশ্চিত ও দীর্ঘস্থায়ী কষ্টের মধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন জানানো হয় যাতে ছেলে প্রয়োজনে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখার চিকিৎসা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়। পরিবারের যুক্তি—দীর্ঘ তেরো বছর ধরে মুসলমানের মতো অনিশ্চিত জীবনে রাখা হচ্ছে এবং স্বাভাবিকভাবে সুস্থ হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নেই।

    মামলার ভার বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট নয়ডা জেলা হাসপাতালে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয়। ওই বিশেষজ্ঞ দল হরীশের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে আদালতে রিপোর্ট জমা দেয় এবং প্রতিবেদনে বলা হয় যে হরীশের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাব্যতা কার্যত নেই।

    কেন্দ্র সরকারের ও চিকিৎসকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে মামলাটিতে একাধিক পর্যায়ের শুনানি হয়। গত বছর বিচারপতিরা মন্তব্য করেছিলেন যে বিষয়টি শুধু আইনি নয়—এটি গভীর মানবিক, নৈতিক ও চিকিৎসা নীতিগত প্রশ্নও ছুঁয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে বেঞ্চ হ্যামলেটের “টু বি অর নট টু বি” লাইন উদ্ধৃত করে জীবনের অস্তিত্ব ও মৃত্যুর সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত নরমাল দ্বন্দ্বের ওপর জোর দেন।

    অবশেষে মঙ্গলবার বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে.ভি. বিশ্বনাথনের বেঞ্চ হরীশ রানাকে কৃত্রিমভাবে জীবনধারণের চিকিৎসা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করেন যে সক্রিয় ইউথানেশিয়া (অ্যাকটিভ ইউথানেশিয়া) ভারতে এখনও সম্পূর্ণভাবে বেআইনি; তবে রোগীর শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষিতে এবং রোগীর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় প্যাসিভ ইউথানেশিয়া নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য হতে পারে।

    আদালত কেন্দ্র সরকারের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যু সংক্রান্ত স্পষ্ট ও সংহত আইন প্রণয়নের পরামর্শও দিয়েছে। আইন ও চিকিৎসা নীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় দেশে মেডিকেল নৈতিকতা, রোগীর অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে তীব্র আলোচনা শুরু করবে এবং ভবিষ্যতে রোস্টার, চিকিৎসক ও পরিবার—সব পক্ষের জন্য স্পষ্ট বিধান প্রয়োজন হবে।

    কথা বলার মতো যেখানে মানবিক কষ্ট ও আইনি কাঠামোর গুণগত সমন্বয় দরকার, সেখানে এই সিদ্ধান্তটি একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা স্বরূপ কাজ করবে—কিন্তু একই সঙ্গে পরবর্তী আইন প্রণয়ন ও নীতিগত সংরক্ষণের ওপরও বড় দায়িত্ব আরোপ করবে।

  • ইরানের হামলায় ইসরায়েলে হাসপাতালে ভর্তি ২,৩৩৯ জন

    ইরানের হামলায় ইসরায়েলে হাসপাতালে ভর্তি ২,৩৩৯ জন

    গত ১০ দিনে ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে আহত হয়ে মোট ২,৩৩৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে বর্তমানে ৯৫ জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সদ্য ১৯১ জন আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বা চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    পটভূমি জানাতে গেলে, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলেছিল ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত—মোট ২১ দিন। ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

    এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র তথাকথিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান চালায়।

    আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের প্রথম দিনেই—২৮ ফেব্রুয়ারি—ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ অন্তত ৪০ জন সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যদিও এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আনাদোলু জানিয়েছে, গত ১০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জয়েন্ট হামলায় ইরানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত এবং ১০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • ৩৪তম দফায় হাইপারসনিকসহ চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান

    ৩৪তম দফায় হাইপারসনিকসহ চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান

    ইরানের ৩৪তম দফার হামলায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ মোট চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দেশটির আধা-সরকারি সূত্র দাবি করেছে। তেহরান জানিয়েছে, এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা।

    ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর বিবৃতি উদ্ধৃত করে মেহর নিউজ জানিয়েছে, এ দফায় আইআরজিসি তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি, বাহরাইনের জুফায়ার এলাকার মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি এবং হাইফা শহরের বেসামরিক বিমানবন্দর।

    আইআরজিসি আরও দাবি করেছে যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি গোপন ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারেও আঘাত হেনেছে। তবে এসব দাবির ক্ষতিসাধন বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব লক্ষ্যমাত্রা শনাক্ত ও প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই চলছে।

    এই ঘটনার বিবরণ বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে; পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ এখনো হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা।

  • ইরান সংঘাত: উপদেষ্টা ট্রাম্পকে ‘প্রস্থানপথ’ খুঁজতে বলছেন

    ইরান সংঘাত: উপদেষ্টা ট্রাম্পকে ‘প্রস্থানপথ’ খুঁজতে বলছেন

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষটি দ্রুত শেষ করতে চান। একই সঙ্গে তাঁর কিছু শীর্ষ উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে একটি ‘এক্সিট র‍্যাম্প’ বা প্রস্থানপথ খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন — কারণ তেলের দাম দ্রুত উঠেছে এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে。

    ফ্লোরিডায় সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে ট্রাম্প বলেন, সামরিক অভিযানের নির্দিষ্ট অনেক লক্ষ্য ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই এগিয়ে আছি” এবং আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই যুদ্ধ “খুব শিগগির শেষ হয়ে যাবে।” তবু তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি।

    প্রেসিডেন্টের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়—তিনি দ্রুত সংঘাত সমাপ্তি চান এবং নেতৃত্ব বদলের জন্য ততটা জোর দিচ্ছেন না। ট্রাম্প আরও বলেন, তারা এমন একটি সমাধান চান যা বহু বছরের শান্তির পথ খুলে দেবে; যদি তা সম্ভব না হয়, তিনি বলেন, “এখনই বিষয়টা শেষ করে ফেলা ভালো।”

    ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ ঘটনার জন্য হতাশা প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনিকে অর্জিত নেতৃত্বপদে নিয়োগ দেয়াকে তিনি নিন্দা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয় তেহরান সহজে পিছু হটবে না।

    অন্য দিকে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন—যদি ইরান আঞ্চলিক দেশে হামলা বজায় রাখে বা ইসরায়েল ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালাতে চায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সহজে সরে আসা কঠিন হবে। ট্রাম্প বলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে তেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে, তবে তিনি প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। হরমুজ প্রণালী বিশ্ববাজারে তেলের এক গুরুত্বপূর্ণ পথ।

    হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট কিছু প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, “এই গল্পগুলো অজ্ঞাত সূত্র থেকে আসে এবং অস্পষ্ট তথ্য দিয়ে ভরা।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্টের শীর্ষ উপদেষ্টারা দিনরাত অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ সফল রাখতে কাজ করছেন, আর শেষ সিদ্ধান্ত সর্বাধিনায়কের কাছেই থাকবে।

    ট্রাম্পের বক্তব্যে অসামঞ্জস্যও দেখা গেছে। গত সপ্তাহে তিনি ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ চাওয়ার কথা বলেছিলেন এবং স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে খোলামেলাভাবে আলোচনা করেছিলেন; কিন্তু পরের দিন নিউইয়র্ক পোস্টকে তিনি বললেন, এমন নির্দেশ দেয়ার কাছাকাছিও নন। একই সময়ে তিনি আবার বলেছেন, “আমরা আরও এগোতে পারি এবং আমরা আরও এগোব।” এগুলো প্রকাশ্যে মিশ্র সঙ্কেত দেয়।

    সূত্র জানায়, ট্রাম্প কিছু উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কৌশল প্রকাশ্যে তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন—তার যুক্তি, সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে অনেক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং সেটাই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। কিছু উপদেষ্টা উদ্বিগ্ন যে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রেসিডেন্টের রক্ষণশীল সমর্থন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    অর্থনীতিক ও রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। তেলের দাম কিছু সময় বারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে গিয়ে পরে নেমে এসেছে; এতে সাধারণ নাগরিকদের জীবনে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মুর সতর্ক করেছেন যে জ্বালানি-দামের উত্থান সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিচ্ছে, আর রিপাবলিকান নেতারাও মধ্যবর্তী নির্বাচনকে মাথায় রেখে উদ্বেগ জানাচ্ছেন। প্রশাসন জনমত জরিপগুলো দেখছে, যেগুলোতে উল্লেখ পাওয়া গেছে অধিকাংশ আমেরিকান এই সংঘাতের বিরোধী—তা নিয়েও চিন্তা রয়েছে।

    প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় দলের একটি অংশ আরও আক্রমণাত্মক যোগাযোগ নীতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যাতে সাধারণ ভোটারের সমর্থন বজায় রাখা যায়। তেলের দাম কমাতে ট্রাম্প বলেছেন কিছু দেশের ওপর আরোপিত তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে—কোন কোন দেশ তা তিনি ঠিক করেননি। এছাড়া তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলভিত্তিক তেলবাহী জাহাজগুলোর জন্য ‘ঝুঁকিবিমা’ দেবে এবং প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী ও মিত্ররা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া ট্যাংকারগুলোকে সুরক্ষা দেবে।

    সংক্ষিপ্তভাবে—ট্রাম্প দ্রুত সংঘাত শেষ করতে চান, কিন্তু কৌশল ও কথাবার্তায় মিল নেই; তাঁর কর্মকাণ্ড ও উপদেষ্টাদের পরামর্শের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সিদ্ধান্ত নেয়ার চাপ বাড়ছে। তেলের দাম ও নির্বাচনী চিন্তা এই সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে তুলছে।

  • ইরানের হামলায় ইসরায়েলে আহত ২,৩৩৯ — হাসপাতালে ভর্তি ৯৫, ১ জন আশঙ্কাজনক

    ইরানের হামলায় ইসরায়েলে আহত ২,৩৩৯ — হাসপাতালে ভর্তি ৯৫, ১ জন আশঙ্কাজনক

    গত ১০ দিনে ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইস্রায়েলে মোট ২,৩৩৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এদের মধ্যে বর্তমানে ৯৫ জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের হামলায় ইসরায়েলে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৯১ জন।

    পটভূমি হিসেবে বলা হয়, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ হয়েছে; কিন্তু ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।

    এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান চালায়, এবং একই সময় ইসরায়েলও তৎপর হয়ে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরুর ঘোষণা দেয়।

    সংঘাত শুরু হওয়ার প্রথম দিন হিসেবে গণ্য করা ২৮ অক্টোবর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ অন্তত ৪০ জন সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে প্রায় ১,৩০০ জন নিহত এবং ১০ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • ইরান নিশ্চিত: বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালে বাধা পাবে না

    ইরান নিশ্চিত: বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালে বাধা পাবে না

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মাঝেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে ইরান আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তেহরান জানিয়েছে, বাংলাদেশের জন্য তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়েই নিরাপদে চলাচল করতে পারবে—শর্ত শুধু আগাম অবহিত করা।

    জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকি বাড়ায় বাংলাদেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ইরান জানিয়েছে, প্রণালিতে প্রবেশের আগে তাদের জানালে ওই ধরনের জাহাজগুলোকে বাধা দেওয়া হবে না, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চলতে থাকা তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে।

    চট্টগ্রাম বন্দরে সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার এসে পৌঁছেছে। এ সপ্তাহে আরও চারটি জাহাজে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টন ডিজেল ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে আসা পাঁচ চালান মিলিয়ে মোট প্রায় ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টন জ্বালানি দেশে এসে পৌঁছলে তা জাতীয় চাহিদার প্রায় ১৬ দিন পূরণে সহায়তা করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

    সরকার জানায়, এপ্রিল মাসের চাহিদা পূরণে বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ টন ডিজেল আমদানি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে—এই আশঙ্কা মাথায় রেখেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    স্বাভাবিক সময় দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার টন হলেও বর্তমানে সরকারি সরবরাহ প্রায় দৈনিক ৯ হাজার টনে নামিয়ে এসেছে। তাই দ্রুত আমদানি ও চালান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে কর্মকর্তারা বলছেন।

    এদিকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চীন ও ভারতের পক্ষ থেকে সহায়তার আগ্রহ ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং বর্তমানে সংকটের তেমন কোনো আশঙ্কা নেই। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও বলেছেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে চীন বাংলাদেশকে সহযোগিতায় প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ রয়েছে।

    বর্তমানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, ওমান ও কুয়েতসহ আটটি দেশ থেকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করে।

    সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরকার বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বাজার পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং সেল গঠন করেছে এবং মজুদদারি ও অনিয়ম আটকাতে জেলা প্রশাসকদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি এ প্রস্তুতি ও আন্তঃসরকারিক যোগাযোগ থেকেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জরুরি তহবিল ও বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত থাকলে জনগণের জ্বালানি ব্যবস্থায় তাত্ক্ষণিক বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।

  • ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবার বাবা-মা ও স্ত্রীসহ অন্তত ৮ জন নিহত

    ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবার বাবা-মা ও স্ত্রীসহ অন্তত ৮ জন নিহত

    ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকেই দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। মোজতবা ১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং আলি খামেনির ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান হিসেবে পরিচিত।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং ইরানি সূত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় মোজতবার পরিবারের অন্তত আট জন সদস্য নিহত হয়েছেন। ইরানি মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, তার স্ত্রী জাহরা হাদাদ-আদেল এবং তাদের এক সন্তানও সেই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময় তার মা মনসুরে খোজাস্তেজ বাঘেরজাদেহও নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

    কয়েকটি রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে মোজতবার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয় — তার বোন, ভাগ্নি-ভাগ্নে ও এক শ্যালকসহ অন্তত চারজনও নিহত হয়েছেন। এনডিটিভি জানিয়েছে, তারা এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

    রিপোর্টগুলোতে বলা হয়েছে, এসব হামলা শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আকস্মিক যৌথ অভিযানের ঘোষণা দেয়। প্রথম ধাপে তারা ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তার হত্যার দাবি করে।

    আল জাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে এই সিরিজ হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা এক হাজারের ওপরে। যদিও বিভিন্ন সূত্রে casualty সংক্রান্ত তথ্য ভিন্নভাবে এসেছে এবং সব দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এ Konfliktের মধ্যে মোজতবার পরিবারের বড় ক্ষতি এবং নেতৃত্বের হঠাৎ পরিবর্তন ইরানীয় রাজনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, এবং ভবিষ্যতে সংঘর্ষের পরিধি ও মানবিক প্রভাব কেমন থাকবে তা এখনই বলা কঠিন।

  • ইরানের হামলার ছবি-ভিডিও শেয়ার: কাতারে ৩১৩ গ্রেপ্তার

    ইরানের হামলার ছবি-ভিডিও শেয়ার: কাতারে ৩১৩ গ্রেপ্তার

    ইরানের হামলার ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শেয়ার করার অভিযোগে কাতার যেন্‍ো ৩১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতি দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন স্থানে ভিডিও ধারণ ও তা প্রচার করেছেন এবং এমন গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছেন যা জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। আটককৃতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আওতাধীন অর্থনৈতিক ও সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ জানিয়েছে।

    এর আগে ইরান, ইসরায়েলি-মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি স্থাপনা ও আবাসিক অঞ্চল লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানায়। এই চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংবেদনশীল ছবি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশকারীদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি বেড়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ৬ মার্চ বাহরাইন জানিয়েছে, ইরানি হামলার প্রভাব নিয়ে ভিডিও ধারণ ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর দায়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কুয়েতেও ৭ মার্চ পরিস্থিতি নিয়ে উপহাস করে ভিডিও তৈরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং সৌদি আরবও ঘটনার স্থান, নিখুঁত বস্তু বা ধ্বংসাবশেষের ছবি-ভিডিও ধারণ, প্রকাশ বা প্রচারের বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং অনির্ভরযোগ্য তথ্য পুনরায় প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবু সামাজ‌্যিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গ্রুপ চ্যাটে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ছবি-ভিডিও ছড়াতে দেখা গেছে।

    সূত্র: এএফপি।

  • ইরান দাবি করেছে: তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে হামলা হয়নি

    ইরান দাবি করেছে: তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে হামলা হয়নি

    গত সপ্তাহে তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে ইরানি ড্রোন হামলার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তেহরান তা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, ইরানের ভূখণ্ড থেকে ওই দেশগুলোর ওপর কোনো আক্রমণ করা হয়নি।

    বাঘেই সংবাদ বিবৃতিতে আরও ইঙ্গিত দেন যে এসব হামলার তথ্য পরিকল্পিতভাবে সাজানো হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার সতর্ক করেছি যে, শত্রুপক্ষ আমাদের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করতে নির্দিষ্ট কিছু ঘটনা রচনা করে নাটক সাজাতে পারে।’ তার কথায়, এমন অপপ্রচারের উদ্দেশ্য ইরানের আঞ্চলিক সম্পর্ক নষ্ট করা।

    মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যদি অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ডকে ইরানকে আক্রমণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়, তখন ইরানের অধিকার আছে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে। বাঘেই বলেন, ‘আমাদের আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপকে অন্য কোনো দেশের প্রতি শত্রুতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।’

    অন্যদিকে, সম্প্রতি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটিতে বেশ কিছু দেশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া বা আঘাত হানার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোকে বাঘেই শত্রুতা হিসেবে স্বীকার করতে নারাজ বলে জানিয়েছেন।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এই বিবৃতিটি এসেছে, যেখানে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার খবরও পাওয়া গেছে। তেহরানের দাবির বাইরে, পরিস্থিতি যে মর্যাদা পাবে এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক কেমন থাকবে—নিস্পত্তির সেই প্রসঙ্গটি এখনও আলোচনা ও মনিটরিংয়ের বিষয় রয়েছে।