Category: বিনোদন

  • ১৪ কনসার্টে দিলজিৎ আয় ৯৪৩ কোটি — কনসার্ট হয়ে উঠল বিশাল অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম

    ১৪ কনসার্টে দিলজিৎ আয় ৯৪৩ কোটি — কনসার্ট হয়ে উঠল বিশাল অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম

    কনসার্ট শুধু গান আর বিনোদন নয়—সম্প্রতি দিলজিৎ দোসাঞ্জের ‘ডিল-লুমিনাটি’ ট্যুর সেটা প্রমাণ করল। মাত্র ১৪টি শো ও ১৩টি শহরে অনুষ্ঠিত এই ট্যুর থেকে মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকা, যা লাইভ মিউজিককে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনীতির মতো প্রতিষ্ঠা করেছে।

    টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ২২১ কোটি, স্পনসরশিপ থেকে ৩৩ কোটি এবং সরাসরি ভ্যাট ও অন্যান্য ফি মিলিয়ে সরকারের কোষাগারে জমা পড়েছে ১১৪ কোটিরও বেশি। প্রতিটি কনসার্ট যেন স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখার একটি কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

    পরোক্ষ আয় সবচেয়ে জমকালো চিত্রটি দিয়েছে—ভক্তদের ভ্রমণ, হোটেল ভাড়া, খাবার-খরচ ও কেনাকাটা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব। ট্যুরের দর্শকের প্রায় ৩৮ শতাংশই অন্য শহর থেকে এসে কয়েক দিন অতিরিক্ত থাকায় স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে।

    পাবলিক রেসপন্সও ছিল তীব্র: ১৪টি শোতে মোট দর্শকসংখ্যা ৩ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি, এবং দিল্লি একক শোতে জমায়েত হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক। প্রতিটি অনুষ্ঠানে টিকিট দ্রুত বিক্রি হয়ে হাউসফুল সাইন দেখা গেছে।

    কেবল আয় নয়—ট্যুরটি কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে। লজিস্টিকস, নিরাপত্তা, প্রোডাকশন ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কর্মঘণ্টার সুযোগ সৃষ্টির তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ একেকটি কনসার্ট এখন শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম।

    বিশ্বমঞ্চের বড় তারকাদের সঙ্গে সরাসরি তুলনায় এখনও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এই সাফল্য দিলজিৎকে বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বিনোদন—তিন ক্ষেত্রেই এই ধরনের ট্যুরের প্রভাব ক্লিয়ার। ভবিষ্যতে আরও বেশি শিল্পী ও বড় আকারের শো এ ধরনের আর্থিক ও সামাজিক সুফল বাড়াতে পারে।

  • ১৪ শোতে দিলজিৎ দোসাঞ্জের আয় ৯৪৩ কোটি

    ১৪ শোতে দিলজিৎ দোসাঞ্জের আয় ৯৪৩ কোটি

    কনসার্ট কি শুধু গান আর মজাই? না—এটাই এখন শক্তিশালী অর্থনীতির অংশ। ১৪টি শোতে ১৩টি শহর ঘেঁষে অনুষ্ঠিত ডিল-লুমিনাটি ট্যুর তা প্রমাণ করল: মোট আয় প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকা।

    ট্যুরের আয়ের ভিতরে টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে সবচেয়ে বড় অংশ—প্রায় ২২১ কোটি টাকা। স্পনসরশিপে মিলেছে আনুমানিক ৩৩ কোটি, এবং সরকারের কোষাগারে জমা পড়েছে ১১৪ কোটি টাকার বেশি। প্রতিটি শো আলাদা এক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

    সবচেয়ে বড় অবাক করা অংশটা হলো পরোক্ষ আয়: ভক্তদের ভ্রমণ, হোটেল, খাদ্য ও কেনাকাটাসহ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব। সমীক্ষায় দেখা গেছে, দর্শকদের প্রায় ৩৮% অন্য শহর থেকে এসে কয়েকদিন অতিরিক্ত থেকে গিয়েছেন—ফলে স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসা দুটোই ভালো শট পেয়েছে।

    দর্শক উপস্থিতিও চমকপ্রদ: ১৪টি শোয়ে মোট উপস্থিতির সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি, আর দিল্লির এক শোতেই ছিল প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক। প্রতিটি কনসার্ট হাউসফুল—এবং এই সফলতা দিলজিৎকে বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছে।

    কেবল বিনোদন নয়—ট্যুরটি কর্মসংস্থানেও বড় সুযোগ তৈরি করেছে। আয়োজন থেকে শুরু করে লজিস্টিকস, নিরাপত্তা, প্রচার-প্রসারণ, প্রোডাকশন ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট—সবখানেই কাজ হয়েছে; মোট মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কর্মঘণ্টা সৃষ্টি হয়েছে।

    সংক্ষেপে, এই ট্যুর দেখিয়েছে কনসার্ট এখন একটা পুরোদমে অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম: গানের মঞ্চই শুধু নয়, শহরগুলোতে ব্যবসা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানে এক বিশাল গতি আনতে সক্ষম।

  • চাঁদরাতে বাবা-ভাইকে নিয়ে প্রথমবার গান প্রকাশ করছেন জাহিদ নিরব

    চাঁদরাতে বাবা-ভাইকে নিয়ে প্রথমবার গান প্রকাশ করছেন জাহিদ নিরব

    জনপ্রিয় সংগীত ও সুরকার জাহিদ নিরব চাঁদরাতে প্রকাশ করতে যাচ্ছেন একটি কাওয়ালী-ধাঁচের গান ‘শুকরিয়া হাসনাহ’, যেখানে প্রথমবারের মতো সঙ্গে আছেন তাঁর বাবা ও ভাইরা। সংগীত জগতে তাঁর সুরে বহু গায়ক গেয়েছেন এবং শ্রোতাপ্রিয় কয়েকটি গান রয়েছে তার। এবার পারিবারিক পরিবেশকে গান হিসেবে উপস্থাপন করলেন তিনি।

    গানটি জাহিদ নিরবের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে। পাশাপাশি প্রাইম ব্যাংক কর্তৃক নিবেদিত ভিডিওটি প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল চ্যানেলেও প্রকাশ করা হবে।

    নিজের বাড়ির মঞ্চ ও পারিবারিক পরিবেশকে স্মরণ করে নিরব বললেন, ‘বাসায় আমরা সব সময় একসঙ্গে গান করি। আব্বা হারমোনিয়াম বাজান, আমি মাইক্রোফোনের সামনে গাই—এভাবেই আমার সংগীত জীবনের শুরু।’ তিনি জানান, বড় ভাই জুবায়েদ আল নাঈম তবলা বাজিয়েছেন, ছোট ভাই হাসিবুল নিবিড় গিটার সুর দিয়েছেন এবং মেহেদী হাসান তামজিদ রাবাব হাতে আছেন। নিরব বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জের সেই মঞ্চের পরিবেশনা এবার গান আকারে প্রকাশ করছি।’

    গানের কথাকার মঞ্জুর এলাহি বলেন, ‘গানটির কথা অসাধারণ। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে যে অসংখ্য নিয়ামত আছে, তার জন্য আমরা কতটা শুকরিয়া জানাই—এমন ভাবনাই এই গানকে চালিত করেছে।’

    জাহিদ নিরব আরও জানান, গানটির আইডিয়া আসলে প্রাইম ব্যাংকের একটি জিঙ্গেল থেকেই। ‘গানটি মূলত প্রাইম ব্যাংক হাসানাহ-এর একটি জিঙ্গেল ছিল। গানের ভাবনা ও কথাগুলো আমার খুব ভালো লাগা যায়, তাই অনুমতি নিয়ে পুরো গানটি তৈরি করেছি,’ তিনি বললেন। ভিডিও নির্মাণে longtime সহকারী কাওসার ইসলাম প্রান্ত ও তাঁর টিমের অবদানও ছিল বড়; নিরব তাদের ভূমিকাকে বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন।

    ব্যক্তিগত জীবনে এবারের ঈদটি নিরবের জন্য আলাদা—গত বছর তিনি বিবাহবদ্ধ হয়েছেন এবং এটাই বিয়ের পর তাঁর প্রথম ঈদ। নিরব বলেছেন, ‘এবারের ঈদ আমার জন্য বিশেষ। বিয়ের পর প্রথম ঈদ—সবকিছুই একটু আলাদা লাগছে।’

    কিন্তু বিশ্রামের সময় নেই। নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ঈদে নানা প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ততাও আছে। ঈদের ছবিতে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর পুরো সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব ছিল নিরবের কাঁধে, যেখানে তানিম নূর কাজটিকে অনেক সহজ করেছেন। রায়হান রাফী পরিচালিত সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’-এও একটি গান আছে; গানটি কণ্ঠ দিয়েছেন অঙ্কন কুমার এবং কথাও তিনি লিখেছেন।

    নিরব ঈদে কয়েকটি নাটকের গানও করেছেন। ‘তবুও মন’ নাটকে একটি গান আছে এবং ‘এভাবেও হতে পারে প্রেম’ শিরোনামের গানটি লিখেছেন তারিক তুহিন; সুর ও সংগীত দিয়েছেন নিরব, কণ্ঠ দিয়েছেন সালমান ও মাশা। এছাড়া ‘লিলিথ’ নাটকের ‘পিছু ডেকো না’ গানটি তাঁর সুর ও সংগীত নিয়ে হয়েছে; কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা রহমান এবং কথাটা লিখেছেন তানিন নিনাত।

    রমজানেও নিরব সংগীতে বেশ সক্রিয় ছিলেন; একাধিক কাজ মুক্তি পেয়েছে। ওয়েবফিল্ম ‘মিউ’-র গান ‘কেন এমন হয়’ এবং শিশুতোষ গান ‘মিউ মিউ মিউ’ তার কাজের মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি জিঙ্গেল ও প্রবাসীদের জন্য প্রাইম ব্যাংকের মিউজিক ভিডিওও করেছেন; তার একটি আনপ্লাগড ভার্সন শিগগিরই প্রকাশ হবে।

    তার নিয়মিত কাজের মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫—নিরব এখানে মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন এবং ঈদে ধারাবাহিকটির একটি বিশেষ এপিসোড দেখানো হবে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ জাহিদ নিরবের জন্য কাজ ও আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • অভিনেতা শামস সুমন আর নেই, জানাজা বুধবার

    অভিনেতা শামস সুমন আর নেই, জানাজা বুধবার

    ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন মারা গেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ঢাকা শহরের গ্রিন রোড এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

    অভিনয় জগৎ থেকে শোকের খবরটি নিশ্চিত করেন অভিনেতা সুজাত শিমুল। সুজাত শিমুল জানান, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার পর হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় শামস সুমন অভিনেতা শাহাদৎ হোসেনকে জানান। শাহাদৎ দ্রুত তাঁকে গ্রিন রোডের ওই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকরা শেষ চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনি প্রাণ হারান। চিকিৎসকদের প্রাথমিক বরাতে মৃত্যু কারণ হিসেবে বলা হয়েছে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট।

    শামস সুমন মঞ্চ, টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রে বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-এর সদস্য ছিলেন এবং শিল্পসংঘের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিনয়ে অনিয়মিত থাকলেও তিনি রেডিও ভূমির স্টেশন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি চ্যানেল আই-এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।

    ক্যারিয়ারে তিনি অনেকে সবুজ অপিস, মঞ্চ ও স্ক্রিনে সক্রিয় ছিলেন; বড় পর্দার notable সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ (২০১৬), ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’ (২০১৬), ‘চোখের দেখা’ (২০১৬), ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ (২০১৪), ‘আয়না কাহিনী’ (২০১৩), ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ (২০০৬), ‘জয়যাত্রা’ (২০০৪), ‘নমুনা’ (২০০৮), ‘হ্যালো অমিত’ (২০১২) প্রভৃতি। ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

    বুধবার সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং সন্ধ্যায় রাজশাহীতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

  • চাঁদরাতে প্রকাশ পাচ্ছে জাহিদ নিরবের প্রথম পারিবারিক গান ‘শুকরিয়া হাসনাহ’

    চাঁদরাতে প্রকাশ পাচ্ছে জাহিদ নিরবের প্রথম পারিবারিক গান ‘শুকরিয়া হাসনাহ’

    দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের কণ্ঠে শোনা যাবে জাহিদ নিরবের সুরে ও সংগীতে রচিত একটি কাওয়ালী—‘শুকরিয়া হাসনাহ’। এবারে বিশেষ ব্যাপার হলো গানটিতে প্রথমবার বাবা-ভাইদের সঙ্গে মিলে পারিবারিক পরিবেশ থেকেই গান করেছেন জাহিদ নিরব। ঈদুল ফিতরের চাঁদরাতে গানটি প্রকাশ করা হবে।

    গানটি জানানো হয়েছে জাহিদ নিরবের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে; পাশাপাশি প্রাইম ব্যাংক নিবেদিত ভিডিওটি প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল চ্যানেলেও উম্মুক্ত হবে।

    জাহিদ নিরব বলেন, “বাড়িতে আমরা সবসময় একসঙ্গে গান করে থাকি। আব্বা হারমোনিয়াম বাজান, আমি মাইক্রোফোনের সামনে গাই—এইভাবে আমার সংগীতজীবন শুরু। বড় ভাই জুবায়েদ আল নাঈম তবলা বাজিয়েছেন, ছোট ভাই হাসিবুল নিবিড় গিটারে আছেন, আর মেহেদী হাসান তামজিদ রাবাবে সুর যোগ করেছেন। মুন্সীগঞ্জের সেই মঞ্চের পরিবেশনাকে এবার গান আকারে তুলে দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”

    গানটির কথা সাজিয়েছেন মঞ্জুর এলাহী; তিনি বলেন, “গানটির কথাগুলো অসাধারণ। প্রতিনিয়ত আমরা যে অনুগ্রহে বেঁচে আছি—তার কতটুকু আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই, সেই অনুভব থেকেই গানটি তৈরি করা।”

    জাহিদ নিরব জানান, গানটি মূলত প্রাইম ব্যাংক হাসানাহ-এর একটি জিঙ্গেল হিসেবে তৈরি ছিল। “কথা ও ভাবনাটা আমাকে খুব ভালো লেগেছিল, তাই অনুমতিসহ পুরো করে গড়ে তুলেছি। ভিডিও প্রযোজনায় অনেকদিনের বছরের সঙ্গী কাওসার ইসলাম প্রান্ত ও তার টিম বড় ভূমিকা রেখেছেন,” তিনি বলেন।

    এটাই সার্বিকভাবে নিরবের জন্য আলাদা একটি ঈদ—কারণ গত বছর তিনি বিবাহিত জীবন শুরু করেছেন এবং এবারে এটি তাঁর প্রথম ঈদ। তিনি বললেন, “বিয়ের পর প্রথম ঈদ—সবকিছু একটু ভিন্নভাবে অনুভূত হচ্ছে।” তবে বিশ্রার মতো সময় নেই; নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ঈদের সময় নানা মিউজিক ও প্রজেক্টে ব্যস্ত থাকছেন।

    নিরব আরও জানান, ঈদের ছবির ‘বনলতা এক্সপ্রেস’—এর পুরো সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব তার কাঁধে ছিল এবং তানিম নূর কাজটিকে সহজ করেছেন। রায়হান রাফীর পরিচালিত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার জন্যও একটি গান করেছেন; গানটি গেয়েছেন অঙ্কন কুমার, কোর্থা ও সুরও তার। এছাড়া নাটকের জন্যও তিনি বেশ কিছু গান করেছেন—‘তবুও মন’ নাটকের ‘এভাবেও হতে পারে প্রেম’ লিখেছেন তারিক তুহিন, সুর ও সংগীত করেছেন জাহিদ নিরব, কণ্ঠ দিয়েছেন সালমান ও মাশা। ‘লিলিথ’ নাটকের ‘পিছু ডেকো না’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা রহমান; কথার লেখক তানিন নিনাত।

    রমজান মাসেও নিরব বেশ সক্রিয় ছিলেন—মাল্টিপল কাজ প্রকাশিত হয়েছে। ওয়েবফিল্ম ‘মিউ’-র জন্য গান ‘কেন এমন হয়’ ও শিশুতোষ গান ‘মিউ মিউ মিউ’ তার কাজ। প্রবাসীদের নিয়ে প্রাইম ব্যাংকের একটি মিউজিক ভিডিওও করেছেন এবং তার একটি আনপ্লাগড সংস্করণ শিগগিরই প্রকাশ হবে।

    তাছাড়া টিভি ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫-এর মিউজিক ডিরেক্টরও তিনি। ঈদে ধারাবাহিকটির একটি বিশেষ এপিসোডও উপস্থাপিত হবে। সব মিলিয়ে এই ঈদ জাহিদ নিরবের জন্য কর্মব্যস্ততা আর উৎসবমুখর মুহূর্তে ভরা—একপাশে পারিবারিক আনন্দ, অন্যপাশে নতুন গান ও প্রজেক্টের কাজ।

  • জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই

    জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই

    ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন—জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকার গ্রিনরোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন ৬১ বছর বয়সী।

    মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন সহশিল্পী সুজাত শিমুল। সুজাত জানান, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার পর শামস সুমন হঠাৎই অসুস্থ বোধ করেন এবং পরে এ কথা জানান অভিনেতা শাহাদৎ হোসেনকে। শাহাদৎ দ্রুত তাকে গ্রিনরোডের ওই হাসপাতালে নিয়ে যান; সেখানে হাসপাতালে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের 初সূত্রে জানা গেছে, তার মৃত্যুর অন্যতম কারণ ছিলো কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট।

    শামস সুমন নিজের স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যা রেখে গেছেন। শিল্পী সংগঠনের সহ-সভাপতি হিসেবেও তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতেন। মঞ্চ, টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন ও সিনেমায় বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করা এই অভিনেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-এর সদস্য ছিলেন।

    শামস সুমন যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিনয়ে অনিয়মিত ছিলেন, তবে তিনি রেডিও ভূমির স্টেশন চিফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং চ্যানেল আই-র অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। এক সময়ের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা হিসেবে তিনি মঞ্চ থেকে শুরু করে ছোট ও বড় পর্দায় স্বকীয় ছাপ রেখেছেন।

    তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ (২০১৬), ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’ (২০১৬), ‘চোখের দেখা’ (২০১৬), ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ (২০১৪), ‘আয়না কাহিনী’ (২০১৩), ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ (২০০৬), ‘জয়যাত্রা’ (২০০৪), ‘নমুনা’ (২০০৮), ‘হ্যালো অমিত’ (২০১২) ও ‘স্বপ্নপূরণ’—যার জন্য ২০০৮ সালে তিনি পার্শ্বচরিত্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।

    শোক প্রকাশ ও শেষকৃত্যসূচির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং সন্ধ্যায় রাজশাহী জেলাস্থ পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

  • চাঁদরাতে বাবা-ভাইকে নিয়ে জাহিদ নিরবের প্রথম গান ‘শুকরিয়া হাসনাহ’ প্রকাশ

    চাঁদরাতে বাবা-ভাইকে নিয়ে জাহিদ নিরবের প্রথম গান ‘শুকরিয়া হাসনাহ’ প্রকাশ

    জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী जাহিদ নিরব এবার প্রথমবার তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি গান প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রস্তুত হওয়া কাওয়ালি ঘরানার এই গানটির শিরোনাম ‘শুকরিয়া হাসনাহ’ এবং এটি চাঁদরাতে প্রকাশ করা হবে।

    গানটি জাহিদের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হবে। একই সঙ্গে প্রাইম ব্যাংক নিবেদিত হিসেবে ভিডিওটি প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল চ্যানেলে উন্মুক্ত করা হবে।

    জাহিদ নিরব জানান, ‘বাসায় আমরা সব সময় একসঙ্গে গান করি। আব্বা হারমোনিয়াম বাজান, আমি মাইক্রোফোনের সামনে গাই—এভাবেই আমার সংগীত জীবনের শুরু। বড় ভাই জুবায়েদ আল নাঈম তবলা, ছোট ভাই হাসিবুল নিবিড় গিটার, আর মেহেদী হাসান তামজিদ রাবাব বাজিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জের সেই মঞ্চের পরিবেশনা এবার গান আকারে প্রকাশ করছি।’

    গানটি মঞ্জুর এলাহির কথায় সাজানো। মঞ্জুর এলাহি বলেন, ‘অসাধারণ কথা। আমরা প্রতিনিয়ত সৃষ্টিকর্তার যে অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে বেঁচে আছি, তার কতটুকুই বা শুকরিয়া করি—সেই উপলব্ধি থেকেই গানটি করা।’

    জাহিদ আরো জানিয়েছেন, এই গানটি মূলত প্রাইম ব্যাংক হাসানাহ-এর একটি জিঙ্গেল ছিল। ‘গানের ভাবনা ও কথাগুলো আমার খুব ভালো লেগে থাকায় অনুমতি নিয়ে পুরো গানটি বানিয়েছি,’ তিনি বললেন। গান প্রকাশের ক্ষেত্রে ভিডিওর গুরুত্বও তুলে ধরে তিনি افزودেন, ‘অনেক দিনের সহযাত্রী কাওসার ইসলাম প্রান্ত ও তার টিম আমাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রেখেছে।’

    ব্যক্তিগত জীবনেও এবারের ঈদ জাহিদের জন্য বিশেষ—গত বছর তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং এটি তার বিবাহোত্তর প্রথম ঈদ। তিনি বললেন, ‘এবারের ঈদ আমার জন্য বিশেষ। বিয়ের পর প্রথম ঈদ—সবকিছুই একটু আলাদা লাগছে।’

    তবে বিশ্রামের সুযোগ নেই। নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ঈদের বিশেষ প্রজেক্টে তিনি ব্যস্ত। তিনি পরিচালিত করেছেন ‘বনলতা এক্সপ্রেসে’ ছবির পুরো সংগীত, তানিম নূর কাজটি সহজ করে দিয়েছেন বলে কৃতজ্ঞতা জানালেন। রায়হান রাফীর পরিচালিত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় একটি গান রাখা হয়েছে—গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন অঙ্কন কুমার; গানটির কথা ও সুরও তারই।

    টেলিভিশনের জন্যও বেশ কয়েকটি গান করেছেন জাহিদ। নাটক ‘তবুও মন’-এ আছে একটি গান—’এভাবেও হতে পারে প্রেম’—যার কথার আয়োজন করেছেন তারিক তুহিন, সুর ও সংগীত জাহিদের, কণ্ঠ দিয়েছেন সালমান ও মাশা। নাটক ‘লিলিথ’-এর ‘পিছু ডেকো না’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা রহমান; কথার দায়িত্বে ছিলেন তানিন নিনাত।

    রমজানেও জাহিদ সক্রিয় ছিলেন—একাধিক কাজ প্রকাশ পেয়েছে। ‘মিউ’ ওয়েব ফিল্মের ‘কেন এমন হয়’ এবং শিশুদের জন্য শোনার মতো গান ‘মিউ মিউ মিউ’ তিনি তৈরি করেছেন। এছাড়া প্রবাসীদের নিয়ে প্রাইম ব্যাংকের একটি মিউজিক ভিডিও এবং তার আনপ্লাগড ভার্সনও করেছেন; সেগুলো শিগগিরই প্রকাশিত হবে।

    তার নিয়মিত ব্যস্ততার একটি বড় অংশ ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫—এ তিনি মিউজিক ডিরেক্টর। ধারাবাহিকটির জন্য ঈদে একটি বিশেষ এপিসোড আসছে। সব মিলিয়ে,今年-এর ঈদ জাহিদের জন্য কাজ ও আনন্দে পরিপূর্ণ; তার কথায়, ‘এই ঈদ যেন সোনায় সোহাগা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

  • জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই

    জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই

    ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন—জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তিনি বছরের ৬১ ছিলেন। পরিবারে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

    শামস সুমনের মৃত্যু সংবাদ হাসপাতাল থেকে নিশ্চিত করেন অভিনেতা সুজাত শিমুল। সুজাত শিমুল জানান, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক পাঁচটার পর শামস সুমন হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে তিনি ওই সময় আরেক অভিনেতা শাহাদৎ হোসেনকে জানান। শাহাদৎ দ্রুত তাঁকে ঢাকার গ্রিন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান; সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

    চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৃত্যুর মূল কারণ ছিল কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। সুজাত শিমুল বলছেন, ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা এ তথ্য জানান।

    শামস সুমন সংগঠনে সক্রিয় ছিলেন—সংঘের সহ-সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। মঞ্চ থেকে টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন ও সিনেমা—বহুমাত্রিক ভূমিকায় কৃতিত্ব রেখে তিনি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-এর সদস্য ছিলেন তিনি।

    সাম্প্রতিক কয়েক বছরে অভিনয়ে অনিয়মিত থাকলেও শামস সুমন রেডিও ভূমির স্টেশন চিফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং চ্যানেল আই-এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এক সময়ের জনপ্রিয় টিভি নাট্যশিল্পী তিনি; মঞ্চ, ছোট ও বড় পর্দায় অবস্থান ছিল দৃঢ়।

    শামস সুমন অভিনীত কিছু চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ (২০১৬), ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’ (২০১৬), ‘চোখের দেখা’ (২০১৬), ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ (২০১৪), ‘আয়না কাহিনী’ (২০১৩), ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ (২০০৬), ‘জয়যাত্রা’ (২০০৪), ‘নমুনা’ (২০০৮), ‘হ্যালো অমিত’ (২০১২) ইত্যাদি। ২০০৮ সালে তিনি ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

    পরিবার ও শিল্পসঙ্গী সূত্রে জানা, আগামী বুধবার সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং সন্ধ্যায় রাজশাহীতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। রাজনীতিবিদ, কল্যাণ সংস্থা বা সহশিল্পীদের থেকে শোকবার্তা আসছে; শোক প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

  • প্রিয়াঙ্কা চোপরাকে সঙ্গে নিয়ে অস্কারের মঞ্চে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিলেন হাভিয়ের বারদেম

    প্রিয়াঙ্কা চোপরাকে সঙ্গে নিয়ে অস্কারের মঞ্চে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিলেন হাভিয়ের বারদেম

    দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ডলবি থিয়েটারে অনুষ্ঠিত ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে (অস্কার) ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সরব হয়েছেন স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম। রবিবার রাতে পুরস্কার প্রদানের মঞ্চে উঠে তিনি ‘যুদ্ধ নয়, ফিলিস্তিনকে মুক্ত করুন’—এ ধারার এক শ্লোগান দেন। সেই সময় মঞ্চে তার সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

    সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগের পুরস্কার প্রদানের জন্য মঞ্চে ওঠা বারদেমের পোশাকে ‘No to War’ (যুদ্ধ নয়) লেখা একটি পিন দেখা যায়। পুরস্কার ঘোষণার আগে ইংরেজিতে তিনি বলেন, “Say no to war and free Palestine,”—অর্থাৎ যুদ্ধকে না বলুন এবং ফিলিস্তিনকে মুক্ত করুন। তার এই সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট বার্তায় উপস্থিত অতিথিরা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান। পরে ওই বিভাগে নরওয়ের চলচ্চিত্র ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

    এ অনুষ্ঠানের রেড কার্পেটে ওঠার আগেও বারদেম যুদ্ধবিরোধী অবস্থান প্রকাশ করেছিলেন; তিনি সেই সময় প্যালেস্টাইনের সমর্থন এবং যুদ্ধবিরোধী একটি প্যাচ লাগানো পোশাকে পোজ দিয়েছেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালক কনান ও’ব্রায়েন উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতার কথা তুলে ধরে বলেন, সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, এটি শৈল্পিক ঐক্য ও আশার প্রতীক। এবারের অস্কারে মোট ৩১টি দেশের চলচ্চিত্র অংশ নেয়।

    এ বছর ৯৮তম অস্কারে সর্বোচ্চ ছয়টি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে পল থমাস অ্যান্ডারসনের পরিচালিত ‘ওয়ান ব্যাটল অ্যাফটার অ্যানাদার’—সেরা চলচ্চিত্র ও সেরা পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে এটি প্রধানত রাইজিং। রায়ন কুগলারের ‘সিনার্স’ চারটি ও গিয়ের্মো দেল টোরোর ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ তিনটি বিভাগে অস্কার জিতেছে। ব্যক্তিগত বিভাগের বড় পুরস্কারগুলোতে সেরা অভিনেতার খেতাব জিতেছেন মাইকেল বি. জর্ডান এবং সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন জেসি বাকলি।

    রেড কার্পেট থেকে মঞ্চ—উভয় ক্ষেত্রেই সিনেমা ও সমাজের বর্তমান ইস্যুগুলো নিয়ে বক্তৃতা ও চিন্তাশীল বার্তা উঠে এসেছে এই আয়োজনে। বারদেমের সংক্ষিপ্ত, সরাসরি বক্তব্য সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ফিল্মের জয়—সব মিলিয়ে এবারের অস্কারটিও ছিল কেবল উৎসব নয়, বরং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনার মঞ্চেও পরিণত।

  • জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই

    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই

    অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে তিনি ল্যাবএইড হাসপাতালে জীবনবায়ু হারান।

    মঞ্চ নাটক থেকে ক্য্যারিয়ার শুরু করে শামস সুমন ছোট ও বড় পর্দায় সমানভাবে নিজের ছাপ রেখে গেছেন। সাবলীল ব্যক্তিত্ব ও প্রকৃতভঙ্গিতে তার অভিনয় দর্শকের মনে শক্ত অবস্থান করে নিয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেলিভিশন নাটকে তাকে কম দেখেন দর্শকরা; তিনি বেশি সময় কেটাতেন বেসরকারি এফএম স্টেশন ‘রেডিও ভূমি’-র স্টেশন চিফ হিসেবে তৎপরতায়।

    অভিনয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তার অভিনীত কয়েকটি চলচ্চিত্র দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

    তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে তৌকীর আহমেদের ‘জয়যাত্রা’ (২০০৪), ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ (২০০৬), ‘নমুনা’ (২০০৮), ‘হ্যালো অমিত’ (২০১২), ‘আয়না কাহিনী’ (২০১৩), ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ (২০১৪), ‘মন জানেনা মনের ঠিকানা’ (২০১৬), ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’ (২০১৬) এবং ‘চোখের দেখা’ (২০১৬)।

    শামস সুমনের প্রয়াণে বিনোদন বলয়ের সহকর্মী, পরিচিতজন ও ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকাহত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও অনুগণরা তাকে কর্মমনস্ক ও আন্তরিক শিল্পী হিসেবে স্মরণ করছেন।

    প্রয়াত অভিনেতার পরিবার-পরিজন ও নিকট আপনজনদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।