Category: জাতীয়

  • ফিরোজ সরকার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব

    ফিরোজ সরকার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ ফিরোজ সরকারকে নতুন করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার এ ঘোষণা আসার পর, তাকে দ্রুতই সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। সরকারের একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, যেখানে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ রফিকুল হক। পাশাপাশি, বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করা মোঃ মাসুদুল হাসানকে ৩০ নভেম্বর থেকে অবসর দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়।

    ফিরোজ সরকার কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের একজন কৃতী সন্তান। তিনি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন এবং ১৭তম বিসিএস ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যেখানে তিনি ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। চাকরির সময় তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়া সরকারের বৃত্তি পেয়ে এমএস (মাস্টার্স অব সাইন্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।

    তার কর্মজীবনে তিনি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর তাকে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছিলেন।

  • খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে: মাহফুজ আলম

    খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে: মাহফুজ আলম

    রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল রয়েছে এবং কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সহযোগী ও উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি জানান, তিনি নিজের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান এবং তার দ্রুত স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য দেশবাসীর মতো নিজেও দোয়া করেন।

    রোববার (৩০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় মাহফুজ আলম বলেন, চিকিৎসকদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা কেবল স্থিতিশীল নয়, সামান্য উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকরা আশাবাদী, ভবিষ্যতেও তার শারীরিক অবস্থা আরও ভালো হয়ে উঠবে।

    তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার অসামান্য ত্যাগ ও অবদানের জন্য আমরা আশাকরি তিনি সুস্থ হয়ে ওঠবেন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি আরও স্বচ্ছন্দে জন্ম নেবে। বিশেষ করে চলমান রাজনীতিতে, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টায় তিনি দৃঢ় থাকবেন।

    এদিকে, মাহফুজ আলম বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার ব্যাপারে বর্তমান সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

  • বিডিআর হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল বাহিনীকে দুর্বল করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা

    বিডিআর হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল বাহিনীকে দুর্বল করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা

    জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান বলেছেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রধান লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা এবং বিডিআর ও অন্যান্য সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া। রোববার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

    ফজলুর রহমান বলেন, এই তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য তিনি ১১ মাস পর কাজটি সম্পন্ন করেছেন। তিনি জানান, এর মধ্যে তারা ২৪৭ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ পরিবারের ১৪ সদস্য, রাজনীতিবীদ ১০ জন, অসংকল সরকারের উপদেষ্টাসহ ২ জন, সামরিক কর্মকর্তা ১৩০ জন, পুলিশ ২২ জন, বেসামরিক ব্যক্তি ৯ জন, বিডিআর ও বিজিবি সদস্য ২২ জন, কারাগারে থাকা ২৬ জন এবং তিনজন সাংবাদিকের জবানবন্দি রয়েছে। তিনি আরও জানান, তারা এ সময় মোট ৬০০ ঘণ্টার ভিডিও সাক্ষাৎকার ও রেকর্ডিং পর্যালোচনা করেছেন, প্রায় ৮০০টি স্থিরচিত্র ও ছবি সংগ্রহ করেছেন। সংবাদপত্র, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রচুর তথ্য ও চিঠিপত্রও সংগ্রহ করা হয়েছে।

    তিনি বলেছিলেন, সেনাবাহিনী পরিচালিত ছয়টি তদন্ত প্রতিবেদন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়তেও এর প্রতিবেদন ফেরত পাঠানো হয়েছে। কয়েকটি তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য অংশও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ই-মেইল ও জবানবন্দির ভিডিও ক্লিপে প্রায় ৩১৬টি তথ্য পাওয়া গেছে।

    প্রাথমিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কারা ছিলেন তা উল্লেখ করে বলেন, তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, শেখ সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, সাহারা খাতুন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দিকী, সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ এবং ডিজিএফআই এর প্রধান মেজর জেনারেল আকবর ছিলেন মূল masterminds।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি মন্তব্য করেন, 당시 সরকারের লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা এবং বাহিনীগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া। ষড়যন্ত্রের দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে বলে তিনি জানান, এই পরিকল্পনা শেখ হাসিনার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুরু হয়। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে তারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন, যেখানে তারা ভারতের দিকেও আঙুল তুলেছেন।

    সেনা অভিযানে না যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তখনকার সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন বলেছিলেন, এই জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা অভিযান চলালে ভারত হস্তক্ষেপ করত এবং এটি ১৯৭১ সালের মতো পরিস্থিতির কারণ হয়ে যেত। তিনি জানান, দুই দিনে ৫৭ অফিসার নিহত হলেও সেই সময়ে দেশের স্বাধীকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা সম্ভব হত না।

    বিডিআর বিদ্রোহের পর গুম হয়ে যাওয়া পাঁচজন সেনা কর্মকর্তার ব্যাপারে তিনি বলেন, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিজিএফআই হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।

    ডাল-ভাত কর্মসূচির সূত্র ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে কি মনে করেন এই প্রশ্নে তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রের পেছনে ছিল একটি বড় পরিকল্পনা। বাহিনীগুলোকে দুর্বল করে শেখ হাসিনার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

    জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতির মতে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে জেনারেল আজিজ আহমেদের পরিবর্তে পরে তাকে প্রোমোশন দিয়ে ডিজি বিজিবি করা হয়।

    বিডিআর বিদ্রোহে বাইরে থেকেও অনেকে যুক্ত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন, এর মধ্যে ৯২১ জন ভারতীয় বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যাদের মধ্যে ৬৭ জনের কোনো হিসাব মেলেনি। তাদের অবস্থান ও পদচিহ্ন অধরা থাকায় সরকারের কাছে এর জন্য সুপারিশ করেছেন, ভারতের সংশ্লিষ্ট দিকগুলোও তিনি জানাতে বলেছেন।

    গোয়েন্দা ব্যর্থতা সম্পর্কেও তিনি জানান, ঘটনা তদন্তে গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রমকে শক্তিশালী করে নতুনভাবে পুনর্গঠন করতে হবে। বিভিন্ন উপায়ে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

    পিলখানার হত্যাকাণ্ডের সময় অনেকে হিন্দি ভাষায় কথা বলছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

    তদন্তে দেখা গেছে, এই বিদ্রোহে শুধু বিডিআর এর সদস্যরাই অংশগ্রহণ করেনি, বরং বাইরে থেকেও অনেক মানুষ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু সদস্যও এই বিদ্রোহে অংশ নেয়। একদল শতাধিক সদস্য বিদ্রোহস্থল ছেড়ে ২০০ জনের বিশাল একটি মিছিলে যোগ দিয়েছিল, যারা পরে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

  • কুড়িগ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে নিহত ৩

    কুড়িগ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে নিহত ৩

    কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নে জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে জেলার নাগেশ্বরী পৌর এলাকার হাইলাটারী গ্রামে এই মারামারি সংঘটিত হয়।

    নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে দুই জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের একজনের নাম আলতাফ এবং অপরজনের নাম মানিক। তবে নারীর পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

    পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেছে এবং অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তাধীন এবং স্থানীয় প্রশাসন পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

  • তিন দিন পর খালেদা জিয়া কথা বললেন, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল

    তিন দিন পর খালেদা জিয়া কথা বললেন, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল

    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গত তিন দিন ধরে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তার শারীরিক সক্ষমতা বিদেশ সফর করার মতো নয়।

    গত বুধবার থেকে খালেদা জিয়া খুব বেশি সাড়া না দিলেও, শনিবার তিনি অল্প কিছু কথা বলেছেন। ওই দিন সকাল দিকে তিনি সিসিইউর শয্যার পাশে থাকা তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের সঙ্গে সামান্য কথাবার্তা বলেন।

    চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তাঁর কিডনির নিয়মিত ডায়ালাইসিস চালু রয়েছে। শনিবার রাতেও একটি ডায়ালাইসিস সম্পন্ন হয়, যার ফলে তার অবস্থায় কিছুটা স্থিতিশীলতা আসে।

    মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা জানায়, আগামী কয়েক দিনের জন্য তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কিডনির কার্যক্ষমতায় স্থিতিশীলতা না আসে, তবে সার্বিক উন্নতি কঠিন হবে।

    ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বোর্ডের এক সদস্য জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তিনি হাত-পা নাড়াতে পারছেন এবং শনিবার তিনি অল্প কিছু কথা বলেছেন।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতির জন্য ভিসা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, তিনি עדיין ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থায় আছেন।

    একটি সূত্র জানায়, সম্ভবত সোমবার চীনের একটি চিকিৎসক দল ঢাকায় আসতে পারেন। তারা খালেদা জিয়ার অবস্থা পর্যালোচনা করবেন।

    মেডিকেল বোর্ডের আরও এক চিকিৎসক জানান, তার হৃদযন্ত্রে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং অগ্ন্যাশয়ের তীব্র প্রদাহ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেন, তিনি এখন স্থিতিশীল থাকলেও সব ধরনের শঙ্কা দূর করা যায়নি।

    খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, গত তিন দিন ধরে তার অবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। তাকে সিসিইউতেই রাখা হয়েছে।

    খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তাকে ন্যূনতম নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। তার পুরোনো কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের জটিলতাগুলোর কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা আমেরিকার জনস হপকিনস হাসপাতালের চিকিৎসক, লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ সৌদি আরব ও চীনের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। পরিবার তার লন্ডন বা সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। চীনা চিকিৎসকদেরও প্রস্তাব এসেছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে কুয়েত ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার শারীরিক অবস্থা এবং মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া হবে।

  • ৮ ডিসেম্বর ফজলুর রহমানকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

    ৮ ডিসেম্বর ফজলুর রহমানকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

    কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে আদালত অবমাননার অভিযোগে তলব করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৮ ডিসেম্বর বিশিষ্ট এই নেতা নিজে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তার মন্তব্যের প্রতি জবাবদিহি করবেন। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) এই সিদ্ধান্ত দেন।

    আজকের শুনানির সময়, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য মানা যায় না,’ যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, ফজলুর রহমান কি তার দাবি উপস্থাপন করার জন্য ট্রাইব্যুনালে ওকালতির লাইসেন্স ধারণ করেন কি না।

    এ সময়ের আগের দিন, ২৬ নভেম্বর, আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোNaoয়ার হুসাইন তামীম। তারা বলেন, একটি টেলিভিশন টক শোতে ফজলুর রহমান বলেছেন, তিনি এই ট্রাইব্যুনালকে মানেন না। তার যুক্তি, এই ট্রাইব্যুনাল তৈরি হয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচার করার জন্য। তিনি বলেন, এই ট্রাইব্যোনালে অন্য কোনও বিচার হওয়া উচিত নয়।

    প্রসিকিউটর আরও জানিয়েছেন, টক শোতে ফজলুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘এই কোর্টের গঠনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আমি জানি, এই কোর্টে বিচার হবার কোনো সুযোগ নেই। আমি সন্দেহ করি, এই বিচারকার্য পরিচালনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য এই কোর্টকে ব্যবহার করছেন।’ এই বক্তব্যগুলো আদালতের নজরে আসার পর, আদালত ফজলুর রহমানকে তলব করে আগামী ৮ ডিসেম্বর হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

  • পোস্টাল ভোটে প্রবাসী নিবন্ধন ছাড়াল ৯৩ হাজার

    পোস্টাল ভোটে প্রবাসী নিবন্ধন ছাড়াল ৯৩ হাজার

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা মোট ৯৩,৩৪১ হাজারের বেশি ভোটার অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন।

  • শীর্ষ সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেলকে গণধোলাই, আটক দুই সহযোগী

    শীর্ষ সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেলকে গণধোলাই, আটক দুই সহযোগী

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের ‘শীর্ষ মাদক কারবারি’ বুনিয়া সোহেলকে ক্যাম্পের সকল বাসিন্দা গণধোলাই দিয়েছে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। এই সময় আরও দুইজনকে, তাদের নাম নয়ন (৩০) এবং রাব্বি (২৮), আটক করা হয়। রোববার (৩০ নভেম্বর) সকালে সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র বিগ্রেডের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    সেনাসূত্রে জানানো হয়, শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শের-ই-বাংলা আর্মি ক্যাম্পের কাছ থেকে খবর আসে যে, জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেলকে চরম গণপিটুনি দেওয়া হচ্ছে। এই খবর পেয়ে তিনটি সেনা টহল দল ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ঘটনার পরপরই হাসপাতাল ও আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘুরতে দেখা যায় সোহেলের দুই সহযোগী নয়ন ও রাব্বি। সেনারা তাদের শনাক্ত করে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১টার দিকে ছয়টি সেনা টহল দল মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় তারা দুটি মার্কিন তৈরি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

    এ বিষয়ে ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একজন কর্মকর্তা জানান, বুনিয়া সোহেলের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় প্রায় ৩৮ থেকে ৪০টি মামলা রয়েছে। গত এক বছরে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় তার গ্যাং দ্বারা ৭ থেকে ৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হওয়ার পর তার গ্যাং তার দমন-পীড়নের প্রতিশোধ নিতে অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    অভিযোগ ওঠে, বুনিয়া সোহেলকে আহত করার ঘটনায় তার দুই সহযোগী অস্ত্রশস্ত্র জোগাড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে সেনাদের তৎপরতায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    অভিযানের শেষে, হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় থাকা অবস্থায় বুনিয়া সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এছাড়া আটক দুই সহযোগী ও উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে—আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য।

  • খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা

    খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা

    রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া’র শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনকভাবে অবনতি হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তিনি সবাইকে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

    আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনা করেন এবং দেশের সবাই তার জন্য দোয়া করতে আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, তিনি নিয়মিত তার স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারও প্রস্তুত যাতে তার চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি না থাকে।

    খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার শরীরে সংক্রমণজনিত শ্বাসকষ্টের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, যেখানে তার নিউমোনিয়ার ধরা পড়ে। পাশাপাশি কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী জটিলতাগুলি তার শারীরিক পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এক রোগের চিকিৎসা অন্য রোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

    এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও খালেদা জিয়ার জন্য দেশের الجميع দোয়া চেয়েছেন। তিনি তার শারীরিক অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

    শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা খালেদা জিয়া দেশের জন্য বড় এক প্রেরণা। তিনি আরো বলেন, তার সুস্থতা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটময়’। শুক্রবার বাদ জুমা নয়াপল্টনে দোয়া মাহফিলে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য তিনি সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং কারাগারে থেকেছেন। বর্তমানে আবারও অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি, এবং চিকিৎসকদের ভাষায় তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।

  • দেশে ডলার সংকট নেই, আমদানি বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নয়: গভর্নর

    দেশে ডলার সংকট নেই, আমদানি বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নয়: গভর্নর

    আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের গভর্নর, রমজানে পণ্য আমদানি সংক্রান্ত কোনও শঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এখন দেশের বাইরে থেকে প্রয়োজন অনুসারে যেমন ইচ্ছা তত ডলার আমদানি করতে কোনও বাধা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীরা এখন নিশ্চিন্তে তাদের প্রয়োজনমতো পণ্য আমদানি করতে পারবেন। ব্যাংকিং খাতে কোনও বাধা নেই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানির জন্য সব ধরনের গSIGার রয়েছে।

    শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি উল্লেখ করেন, রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বাজারে কোনও অস্থিতিশীলতা বা শঙ্কা নেই। বরং প্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের আমদানি আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। এর আগে অর্থপাচার মোকাবিলায় আমদানির হিসাব ভুল দেখানো হতো, কিন্তু এখন স্পষ্ট এবং সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।

    গভর্নর আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ডলার বিনিময় হার ভ্যাটিক বাজার ভিত্তিক করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে সফলতা দেখিয়েছে। ব্যাংকিং খাতে এখন কোনো আমদানির বাধা নেই; তবে কিছু ব্যক্তির সমস্যা নিজস্ব কারণে।

    খাতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি জানান, ব্যাংক খাতে দুরাবস্থা কিছুদিন আগে অনেক বেশি ছিল। স্বাস্থ্যকর ঋণখেলাপি হার প্রত্যাশিত ২০ শতাংশের বদলে একটু বেশি, যা এখন ৩৫ শতাংশে চলে এসেছে। এই পরিস্থিতি ধাপে ধাপে উন্নতি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি বন্ড, শেয়ার বাজার ও বিমা খাতের সমস্যা ব্যাংকগুলোতেও প্রভাব ফেলছে। এসব আস্থাহীনতা দূর করতে সচেষ্ট থাকতে হবে।

    বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। সম্প্রতি ডিপোজিট হার ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি ব্যাংকে আমানত কমে গেলে ডিপোজিট আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে গত সময়ে ব্যাংক খাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, যা এখন কমানোর চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে এরকম হস্তক্ষেপ ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন আরও শক্তিশালী করতে হবে। ইতোমধ্যে নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্রুত অবসায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

    অন্যদিকে, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে। এই নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।