Category: জাতীয়

  • রাজনৈতিক সমঝোতা চায় বৃটেন

    রাজনৈতিক সমঝোতা চায় বৃটেন

    বাংলাদেশের ‘ভঙ্গুর রাজনৈতিক ব্যবস্থা’র সংস্কারে সহায়তার হাত প্রসারিত করতে চায় বৃটেন। সেই সঙ্গে তারা রাজনৈতিক সমঝোতা দেখতে চায়। এ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ঢাকা সফর করেন ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক বৃটিশ প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট। সফর বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েক মাসের অশান্ত অবস্থার পর বাংলাদেশের জনগণের শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ ও জবাবদিহির জন্য একটি পথ পাওয়া প্রয়োজন। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাজে বৃটেন কীভাবে সর্বোত্তম সহায়তা করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করতে আমি এখানে এসেছি। কূটনৈতিক সূত্র  বলছে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ সফরের অংশ হিসেবে ক্যাথরিন এই প্রথম বাংলাদেশ সফর করেন। দু’দিনের সফরের সমাপনী দিনে রোববার তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই দিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়। তাছাড়া সফরকালে সরকারের বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় করেন। সর্বত্রই তিনি ‘রাজনৈতিক সমঝোতা’র বার্তা স্পষ্ট করেছেন। বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিনের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় পূর্ণ সহায়তা দেবে বৃটেন: এদিকে ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় তার সরকার ঢাকাকে পূর্ণ সহায়তা দেবে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা’য় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন। 
    ড. ইউনূস তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, অলিগার্ক ও আমলাদের পাচার করা অর্থ ফেরত আনা অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সামপ্রতিক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ থেকে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশে পাচার হয়েছে। বৈঠকে অধ্যাপক ড. ইউনূস দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে তার সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী শাসনামলে চর্চা করা ব্যাপক ভোট কারচুপি থেকে বিরত থাকা এই সংস্কারের লক্ষ্য। পশ্চিমা দেশগুলো সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করে উল্লেখ করে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, বৃটেন নির্বাচনী, বিচার বিভাগীয় ও সাংবিধানিক সংস্কারের মূল দিকগুলোতে প্রাণবন্ত বিতর্ক দেখতে চায়। বৃটিশ মন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা প্রদানের জন্য আরও ১০.৩ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদানের ঘোষণা দেন। ড. ইউনূস মিয়ানমারের সহিংসতা-জর্জরিত রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য একটি ‘জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠায় তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন যাতে তাদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে না হয় এবং দাতব্য সংস্থা এবং সাহায্য গোষ্ঠীগুলো নির্বিঘ্নে বাস্তুচ্যুত মানুষের দোরগোড়ায় খাদ্য ও সহায়তা দিতে পারে। বৈঠকে তারা ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা, সংখ্যালঘুদের অধিকার, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের সামপ্রতিক ৪০ মেগাওয়াট জ্বালানি চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন। ড. ইউনূস বলেন, তার সরকার জলবিদ্যুৎ সমৃদ্ধ নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আনার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ গ্রিড তৈরিকে পুরোপুরি সমর্থন করেছে। তিনি বলেন, হিমালয়ের পাদদেশের দুই দেশ থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমদানি করতে পারলে বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। বৈঠকে ঢাকায় বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর আহত ছাত্র ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি মেডিকেল টিম চলতি মাসে দেশে এসেছে। তিনি বলেন, ‘তারা দিনে তিনটি অস্ত্রোপচার করছেন।’

    অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা 
    ওদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্টের সঙ্গে বৈঠকের পর গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, তারা আমাদের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তারা জানতে চেয়েছেন যে কীভাবে আমাদের সহায়তা করতে পারেন। আমিও তাদের খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি, আমাদের এখানে কারও কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই। আমরা আসলেও একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করে দিয়ে সরে যেতে চাই। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের আগ্রহ আছে বলেও জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছে মন্ত্রণালয়। এখন সেখানে যাওয়াটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এ ছাড়া, যুক্তরাজ্যে পাচার করা অর্থ ফেরানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। রোহিঙ্গাদের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সমর্থন কামনা করেন। বলেন, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের মধ্যেই এই সংকটের একমাত্র সমাধান রয়েছে।

    পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনাসহ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা করবে বৃটেন: নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে আবারো পূর্ণ সহায়তার কথা জানিয়েছে বৃটেন। দেশটির ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট জানিয়েছেন, তার সরকার কয়েক বিলিয়ন ডলার পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাসহ অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহায়তা দেবে। বৈঠকে প্রফেসর ইউনূস দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন ঠিক করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী শাসনামলের ব্যাপক ভোট কারচুপির যে চর্চা সেটি দূর করাই এই সংস্কারের লক্ষ্য। পশ্চিমা দেশগুলো এসব সংস্কারকে সমর্থন করে জানিয়ে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগ এবং সাংবিধানিক সংস্কারের মূল দিকগুলোর ওপর প্রাণবন্ত আলোচনা দেখতে চায় বৃটেন।

  • দল নিষিদ্ধের বিধান আসছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে

    দল নিষিদ্ধের বিধান আসছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে

    রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিধান রাখাসহ বেশ কিছু বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের সংশোধনী প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খুন, গুম, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কোনো দল বা সংগঠন দোষী সাব্যস্ত হলে সেই দল বা সংগঠনের নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করা যাবে। অন্তর্বর্তী সরকার এখন সংশোধনী প্রস্তাবগুলো আরও যাচাই–বাছাই করছে বলে জানা গেছে।

    তবে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব নিয়ে আইনজীবীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা বলছেন, দেশে ভিন্ন একটি আইনে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে। এরপরও আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে এ ব্যাপারে বিধান যুক্ত করা হলে, তা বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

    ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় ৫ আগস্ট। তাদের শাসনের পতনের আন্দোলনে সরকারি হিসাবে ৮৭৪ জন নিহত হন। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ ওঠে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণহত্যা ও আওয়ামী লীগের শাসনের সময়ে গুমের অভিযোগগুলোর বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে বিচার কার্যক্রমের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে আইনটি সংশোধনের।

    খুন, গুম, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কোনো দল বা সংগঠন দোষী সাব্যস্ত হলে সেই দল বা সংগঠনের নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করা যাবে। অন্তর্বর্তী সরকার এখন সংশোধনী প্রস্তাবগুলো আরও যাচাই–বাছাই করছে বলে জানা গেছে।

    সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংশোধনী প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করে অল্প সময়ের মধ্যে তা অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করা হবে। যেহেতু দেশে এখন সংসদ নেই। এই অধ্যাদেশের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৪’।

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩’ করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের শাসনের সময় ১৯৭৩ সালের আইনের আওতায় ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের বিচার করে তা কার্যকর করা হয়। একই অপরাধের অভিযোগে সংগঠন বা দল হিসেবে জামায়াতের বিচার করার জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার বিধান রেখে এই আইনের সংশোধনী প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হয়েছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা তা করেনি।

    আওয়ামী লীগ তাদের শাসনের শেষ সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এসে সেই নিষিদ্ধাদেশ প্রত্যাহার করে। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিধান রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবীদের কেউ কেউ। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, দেশের বিদ্যমান আইনেই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে, তা উল্লেখ করে একটি স্বতন্ত্র আইন ‘দ্য পলিটিক্যাল পার্টিস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮’ রয়েছে।

    বিতর্ক কেন?

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে যেসব সংশোধনী আনা হচ্ছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিধান। এ বিষয়ে খসড়া সংশোধন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে যা–ই থাকুক না কেন, যদি কোনো সংগঠন এই আইনে খুন, গুম, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ করে, তাতে সাহায্য করে বা প্ররোচিত করে, তাহলে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সংগঠনের নিবন্ধন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত বা বাতিল করা যাবে। তবে নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিলের সময় সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনাল চাইলে সংগঠনটিকে অন্য কোনো যথাযথ শাস্তিও দিতে পারবেন। সেই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের আপিল আবেদন করার বিধানও রাখা হচ্ছে এই সংশোধনীতে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিধান রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবীদের কেউ কেউ। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, দেশের বিদ্যমান আইনেই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে, তা উল্লেখ করে একটি স্বতন্ত্র আইন ‘দ্য পলিটিক্যাল পার্টিস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮’ রয়েছে।

    এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, পলিটিক্যাল পার্টিস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮–তে পরিষ্কার বলা আছে, কখন কীভাবে সরকার একটি রাজনৈতিক দলকে বাতিল করতে পারে বা নিষিদ্ধ করতে পারে। আইনটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই আইনজীবী উল্লেখ করেন, একটি দলকে নিষিদ্ধ করার জন্য অপরাধের অভিযোগ বা কারণ জানিয়ে সরকার হাইকোর্টের কাছে রেফারেন্স পাঠাতে পারে। হাইকোর্ট উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানি করে তারপর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাতিল বা অন্যান্য সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। জ্যোতির্ময় বড়ুয়া মনে করেন, সুনির্দিষ্ট আইন থাকার পরও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আইনে বিষয়টিকে যুক্ত করা হলে, তা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

    অপরাধের সংজ্ঞায় বাড়ছে পরিধি

    সংশোধনীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে খুন, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ, দাসত্ব, নির্মূল (কোনো একটি গোষ্ঠীকে), অবরুদ্ধ, নির্বাসিত, কারারুদ্ধ বা অন্য কোনো অমানবিক কাজকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এখন গুম, যৌনদাসী বানানো, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি, জোরপূর্বক গর্ভধারণ, জোরপূর্বক বন্ধ্যত্বকরণের মতো বিষয়গুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাব আনা হচ্ছে।

    আইনে উল্লেখ করা অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে কোনো কমান্ডার অথবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নির্দেশ বা অনুমোদন দিলে এবং ঘটনায় সরাসরি অংশ নিলে তাঁদের বিচার করার কথা বলা আছে। এখন কমান্ডার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাকেও বিচারের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    তবে গুম, যৌনদাসী বানানো, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি, জোরপূর্বক গর্ভধারণ করানোর মতো বিভিন্ন বিষয়ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আইনজীবীদের কেউ কেউ বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলকে লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে সেই সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধকে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের আওতায় বিচার করার জন্যই এর সংশোধন করা হচ্ছে। এটি মানতে রাজি নন সরকারি কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় অস্পষ্টতা ছিল। যেসব সংশোধনীর প্রস্তাব করা হচ্ছে, তাতে সেই অস্পষ্টতা দূর হবে।

    বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ভেতরে মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সেই অপরাধের বিচারের কথা বলা আছে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে।

    সীমানা বাড়ছে

    বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ভেতরে মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সেই অপরাধের বিচারের কথা বলা আছে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে। সেখানে অপরাধের সীমানা হিসেবে বাংলাদেশের জলসীমাকেও যুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি অন্য দেশে কোনো বাংলাদেশি মানবতাবিরোধী অপরাধ করলে তাকেও এই আইনের আওতায় এনে বিচার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও জলসীমায় অন্য কোনো দেশের নাগরিক মানববতাবিরোধী অপরাধ করলে তাঁরও বিচার এই আইনে করার বিধান রাখা হচ্ছে।

    এ ব্যাপারে আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, যেহেতু এই আইনের আওতায় বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধকেও যুক্ত করা হচ্ছে, ফলে তা দেশি বা বিদেশি নাগরিক—যেই করুক দেশ আইনে তার বিচার করা যাবে। বিষয়টি পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও আছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর (প্রধান কৌঁসুলি) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কিছু বিষয়ে আইনে অস্পষ্টতা ছিল, সেসব স্পষ্ট করা হচ্ছে। সেটি বিচারকাজকে গতিশীল করবে বলে তিনি মনে করেন।

    গণ্য হবে অডিও–ভিডিও

    মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের শুনানিতে ঘটনা সম্পর্কে অডিও–ভিডিও তথ্যকে দালিলিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাকে যেকোনো স্থানে তল্লাশি করে নথিপত্র জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘ বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি অনুমতি নিয়ে ট্রাইব্যুনালে শুনানি, তদন্তসহ অন্যান্য কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। ভুক্তভোগী বা তাঁর প্রতিনিধি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সাক্ষীর সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ও যুক্ত করা হচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধনের সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অবশ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর (প্রধান কৌঁসুলি) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কিছু বিষয়ে আইনে অস্পষ্টতা ছিল, সেসব স্পষ্ট করা হচ্ছে। সেটি বিচারকাজকে গতিশীল করবে বলে তিনি মনে করেন।

  • বিপ্লবের পর আপাতত স্থিতিশীল বাংলাদেশ

    বিপ্লবের পর আপাতত স্থিতিশীল বাংলাদেশ

    বিপ্লবের পরিসমাপ্তি খুব খারাপভাবে ঘটে। আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ক্ষমতা থেকে বাংলাদেশের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা উৎখাত হয়েছেন। এরপর দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বদানকারী ক্ষুদ্রঋণের প্রবর্তক ও শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ও হত্যার নির্দেশ দেওয়া শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের কর্মস্থল ছেড়ে গিয়েছিলেন। সেই পুলিশের বেশির ভাগ সদস্যই আবার তাদের দায়িত্বে ফিরেছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন আর পতনের মুখে নেই। জাতীয় প্রবৃদ্ধির শতকরা ৫ ভাগই আসে রেমিট্যান্স থেকে। সেই রেমিট্যান্স এখন স্থিতিশীল। এরপরও সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ কীভাবে মোকাবিলা করবে সেই প্রভাব কেবল দেশের ১৭ কোটি ৩০ লাখ জনগোষ্ঠী নয়, এর প্রতিবেশীর ওপরও পড়বে। ভারত, চীন এবং পশ্চিমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপরও এর প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা, নির্বাচন ইত্যাদি ইস্যুতে ‘আফটার দ্য রেভ্যুলেশন, বাংলাদেশ ইজ স্ট্যাবল. ফর দ্য মোমেন্ট’ শিরোনামে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এভাবেই লিখেছে লন্ডনের দ্য ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিন।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী নাজুক হলেও ড. ইউনূস এমন একটি সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনুমোদন করে এমন একটি সাংবিধানিক ধারাকে ২০১১ সালে শেখ হাসিনা বাতিল করে দিয়েছেন। সুতরাং ড. ইউনূসের বৈধতা নির্ভর করছে তার নৈতিক কর্তৃত্ব ও জনপ্রিয়তার ওপর। কোনো ভোটের মাধ্যমে এর সমর্থন আদায় করা হয়নি বলে এর ভিত্তি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জনগণের সদিচ্ছা ‘প্রশমিত’ হতে পারে। অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও অক্টোবরে গত বছরের তুলনায় খাদ্যে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে শতকরা প্রায় ১৩ ভাগ। বাংলাদেশে বিদ্যুতের শতকরা প্রায় ১০ ভাগ সরবরাহকারী ভারতের আদানি গ্রুপ বকেয়া পরিশোধের কথা জানিয়ে সরবরাহ কমানো শুরু করেছে। বন্যার কারণে ধানের উৎপাদনও ব্যাহত হয়েছে।

    প্রশাসনিক বিবেচনায় ড. ইউনূস বেশ দুর্বল। সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা তার নেই। দুই পক্ষের চাপে তিনি চ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছেন। যেসব আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী তাকে ক্ষমতায় আসার পালে হাওয়া দিয়েছে তারাই এখন একের পর এক চরম সব দাবি তুলে ধরছেন। এসব দাবির মধ্যে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিও রয়েছে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করতে ভারতের কাছ থেকে শেখ হাসিনাকে তারা প্রত্যর্পণ চাইছে। বাংলাদেশে আরেক শক্তি হলো আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তারা ড. ইউনূসের কাছে জুনের মধ্যেই দ্রুত নির্বাচন দাবি করছে। তিনি নির্বাচন না দেওয়া পর্যন্ত তারা গণবিক্ষোভ চালিয়ে যেতে পারে।

    উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রতি ড. ইউনূসের সহনশীলতা দেখে হতাশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আবার রাজপথ বেছে নিতে পারে। এ সময় সহিংসতার হুমকিও রয়েছে। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস থাকা বাংলাদেশের জন্য এমন পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ উদ্বেগের। বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৮ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাদের অনেকে আওয়ামী লীগ সমর্থকও রয়েছেন। এরই মধ্যে তাদের ওপর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    উদ্বেগের আরেকটি বিষয় হলো-ক্ষয়ে যাওয়া বিচারব্যবস্থা সংস্কারের জন্য যে সময় প্রয়োজন তার আগেই বিএনপির দাবির কাছে ড. ইউনূসের আত্মসমর্পণ এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। বিএনপি যদি ত্রুটিপূর্ণ, অপরিণত নির্বাচনের মাধ্যমে জয়লাভ করে, তাহলে এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সেই পেশিশক্তি আর গোষ্ঠী শাসনের পুরোনো ধারার ক্ষমতার পালাবদলের প্যাটার্ন ফিরতে পারে।

    ইকোনমিস্ট প্রতিবেদনে বলছে, এ পরিস্থিতিতে কী করা যেতে পারে? বিশ্ব যখন প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন খুব কম সরকারের কাছেই বাংলাদেশ প্রথম অগ্রাধিকারে থাকবে। এরপরও একটি রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে আর্থিক সংকট এড়ানো নিশ্চিত করতে অন্যান্য দেশ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১.২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ এবং আইএমএফ’র কাছ থেকে বেইল-আউট হিসেবে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ পেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রয়োজন হবে আরও অনেক বেশি। শেখ হাসিনার অধীনে বিদেশে পাচার হওয়া প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের কিছু অংশ উদ্ধারে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বাংলাদেশকে বাঁচাতে পশ্চিমা ঋণদাতা ও ভারত যদি পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তারা তাদের বদলে চীনের কাছে ঋণের মুখাপেক্ষী হয়ে উঠতে পারে। এরই মধ্যে তারা প্রতিশ্রুত অনুদান ও ঋণের আরও ৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

    প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়েছে, তিন মাস ক্ষমতায় থাকার পর ড. ইউনূসের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে নির্বাচনের জন্য একটি ‘টাইমটেবিল’ ঘোষণা করা। সেটা হতে পারে এক বছর বা এর কাছাকাছি সময়ের মধ্যে। আইনি এবং নির্বাচনি সংস্কারের জন্য কেন এ বিলম্বের প্রয়োজন তা ব্যাখ্যার জন্য তাকে আরও কিছু কাজ করতে হবে।

    এই সংস্কার দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করবে। ড. ইউনূস দেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান হওয়ায় বহু মানুষ উল্লাস করেছেন। কিন্তু কীভাবে তিনি দেশ শাসন করবেন এবং কীভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন তার একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে তিনি বেশি দেরি করলে বাংলাদেশের বিপ্লব অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে।

  • অপরিকল্পিত স্থাপনায় ছেয়ে গেছে চট্টগ্রাম

    অপরিকল্পিত স্থাপনায় ছেয়ে গেছে চট্টগ্রাম

    জনবল-সংকটে হিমশিম খাচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামের উন্নয়নে নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ জনের মতো কাজ করলেও জনবল-ঘাটতি আছে ৬০০ জনের মতো। সীমিত লোকবলের কারণে অতিরিক্ত কাজের চাপে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না বর্তমানে কর্মরতরা। 

    জানা গেছে, গত দুই দশকে সিডিএ থেকে অনেক স্থপতি, প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ অবসর গ্রহণ করেছেন। চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়নে ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হলেও তা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সিডিএতে আর্কিটেক্ট আছে মাত্র এক জন। দুটি অথরাইজড কমিটির একটিতেও আর্কিটেক্ট নেই। আর্কিটেক্ট ছাড়া অথরাইজড কমিটি কীভাবে প্ল্যান অনুমোদন দেয়—এমন প্রশ্ন উঠেছে। ভবনের নকশা অনুমোদনে অনেক সময় বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ভবন পরিদর্শক আছে মাত্র তিন জন। ফলে ভবন নির্মাণে নকশার ব্যত্যয় হচ্ছে কি না—তা তদারকি করা যাচ্ছে না। ফলে মহানগরী চট্টগ্রাম ইতিমধ্যেই এক অপরিকল্পিত নগরীতে পরিণত হয়েছে। একসময়ের নান্দনিক শহর ধীরে ধীরে বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

    জানা গেছে, অতীতে প্রতিষ্ঠানটির নিচের দিকে প্রচুর লোকবল নিয়োগ দেওয়া হলেও উপরের দিকে নিয়োগ প্রায় বন্ধই ছিল। অতীতে যারা সিডিএর দায়িত্বে ছিলেন লোকবল নিয়োগের চেয়ে প্রকল্প নেওয়ার দিকেই তাদের বেশি ঝোঁক ছিল। ফলে নগরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারেনি এই প্রতিষ্ঠানটি। গত ২২ বছরে সিডিএ থেকে ১২ জন স্থাপত্য প্রকৌশলী অবসর নিয়েছেন। কিন্তু এক জনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে এক জনকে অনেকগুলো প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করতে হয়। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প তৈরির জন্য কমপক্ষে তিন বছর স্টাডি করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মাত্র সাত দিনের মধ্যে তড়িঘড়ি করে এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীকে প্রকল্পে যুক্ত করায় প্রকল্পটি আংশিক সাফল্যের মুখ দেখলেও পুরোপুরি সুফল এখনো জনগণ পায়নি। সিডিএর প্ল্যানিং ইউনিটে চিফ টাউন প্ল্যানারের জায়গায় পরিকল্পনাবিদের পরিবর্তে কাজ করছেন প্রকৌশলী। প্ল্যানারের কাজ কখনো আর্কিটেক্ট বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার করতে পারেন না। টাউন প্ল্যানারের ১১টি পদের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র সাত জন। কর্মরত জনশক্তি প্রায় ৩০০ জন। সিডিএতে কর্মরত কোয়ালিফাইড আর্কিটেক্ট আছে এক জন। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও কাজ করানো হয়। প্ল্যান অনুমোদনের বিষয়টি শুধু আর্কিটেক্টের ওপর ন্যস্ত নয়। ঐ বিষয়ে কাজ করেন ইমারত নির্মাণ কমিটি।

    সিডিএকে আরও বেশি জনবান্ধব করতে দক্ষ জনবলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম। তিনি জানান, সিডিএতে লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া অচিরেই শুরু হবে। এ ব্যাপারে আজ (রবিবার) ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছি। আমরা শতভাগ আন্তরিকতা দিয়ে চেষ্টা করব, যাতে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া যায়।

  • প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজ সাক্ষাৎ করবেন ফারুকী

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজ সাক্ষাৎ করবেন ফারুকী

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। 

    রোববার সন্ধ্যায় (১৭ নভেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এমন তথ্য জানান।

    এর আগে, দিনভর সামাজিকমাধ্যমে ফারুকীর উপদেষ্টা পদ ছাড়ার গুঞ্জন ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

    উপদেষ্টা ফারুকী ও তার স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সঙ্গে একটি সেলফি শেয়ার করে শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে বলেন, আমাদের সংস্কৃতি বিষয়ক নতুন উপদেষ্টা ফারুকী। আগামীকাল সোমবার তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে তার নতুন ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করবেন।

    আমাদের শিল্প ও সংস্কৃতিতে কীভাবে গতি আনা যায়, সেই পরিকল্পনাও তুলে ধরবেন ফারুকী বলে পোস্টে জানান প্রেস সচিব।

    গত ১০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এরপর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যেমে তাকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • খালেদা জিয়াকে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    খালেদা জিয়াকে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার যুক্তরাজ্য গমনে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

    রোববার (১৭ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তিনি যে কোনো সময় যুক্তরাজ্য যেতে পারেন। তবে কবে যাবেন সে বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।

    এর আগে ঢাকা সফররত যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। ভিসা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন ওনারা ইচ্ছা করলে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে পারেন।

    পাচার হওয়া অর্থ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ বা সম্পদ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এটি একটি খুব কনফিডেনশিয়াল ইস্যু। এটা নিয়ে খুব বেশি কথা বলার আপাতত কিছু নেই।

    ক্যাথরিন ওয়েস্টের সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে তৌহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমাদের যেসব কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, সে বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে লিগ্যাল মাইগ্রেশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা বলছেন, সঠিক কাগজপত্র দিয়ে তারা জনবল নেবে। কিন্তু এক্ষেত্রে অপতৎপরতা ঠেকাতে তারা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছেন। আমরাও এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা চেয়েছি।

    নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে তারা আমাদের সহযোগিতা করতে চেয়েছেন। নির্বাচন নিয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ আমরা বলতে পারছি না। তবে আমরা চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ব শেষ করতে। আমাদের কয়েকটি কমিশন কাজ করছে। কমিশনগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে নির্বাচনের পরিবেশ ও তারিখ হতে পারে। আমরা তাদের বুঝিয়েছি, এখানে কেউ রাজনৈতিক কোনো ফায়দা লুটতে আসেনি।

  • মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় কমলো সাত হাজার কোটি টাকা

    মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় কমলো সাত হাজার কোটি টাকা

    মেট্রোরেলের ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্পের ব্যয় ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়নের পর ৬ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা ব্যয় কমিয়েছে। ফলে শেখ হাসিনা সরকারের নেওয়া মেগাপ্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বাধীন পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশে এ পর্যালোচনা করা হয়। সংশোধিত প্রকল্পটি  সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে আরও খরচ হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটির পরিচালক মো. আব্দুল ওহাব জানিয়েছেন, ঋণের সুদ পরিশোধের সময় কমিয়ে আনা, মূলধন ব্যয় হ্রাস এবং অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কালনে কম অর্থ ধরে খরচ সাশ্রয় করা হয়েছে।

    চালু হচ্ছে মেট্রোরেল অ্যাপ :এদিকে খুব শিগগিরই চালু হচ্ছে মেট্রোরেল অ্যাপসেবা। এতে যাত্রীরা ঘরে বসেই ঢাকা মেট্রোরেলের এমআরটি পাস-কার্ড রিচার্জ করতে পারবেন। পাশাপাশি জানা যাবে মেট্রোরেলের অবস্থানসহ যাবতীয় তথ্য। এজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। তিনি বলেন, অ্যাপে কার্ডহোল্ডার যাত্রীরা সহজেই ঘরে বসে নিজ নিজ কার্ড রিচার্জ করার সুবিধা পাবেন। দ্রুতই চুক্তি হবে, বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    এগিয়ে চলছে বিমানবন্দর-কমলাপুর রুটের কাজ :দেশে প্রথম বারের মতো বিমানবন্দর-কমলাপুর রুটে ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ চলছে। ২০২৮ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ইউটিলিটি পরিষেবাগুলো স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ আবদুর রউফ। প্রসঙ্গত, প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলে প্রায় প্রতি ঘণ্টায় ৭০ হাজার লোক যাতায়াত করতে পারবেন।

    ৩৫০ নয়, দেড় কোটি টাকায় চালু হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত দুই স্টেশন : প্রায় ৮৮ দিন বন্ধ থাকার পর মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ স্টেশন‌টিতে থাম‌ছে‌ ট্রেন এবং যাত্রীরা ওঠানামা কর‌ছেন। প্রায় ১ কো‌টি ২৫ লাখ টাকায় মেরামত ‌করে সচল করা হয়েছে এই স্টেশন। ত‌বে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাত্র দুই মাস পরেই চালু করা সম্ভব হয়েছে কাজীপাড়া স্টেশন। এই স্টেশন চালু করতে খরচ হয় মাত্র ২২ লাখ টাকা।

    গত ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে মিরপুরের-১০ নম্বর এবং কাজীপাড়া স্টেশনে ভাঙচুর করা হয়। এ‌তে ব্যাপক ক্ষ‌তি হয়ে‌ছে দাবি করে গত ২৭ জুলাই তখনকার সড়ক প‌রিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কা‌দের বলেন, স্টেশন দু‌টি সচল করতে ৩৫০ কোটি টাকা লাগবে। চালু কর‌তে এক বছরেরও বেশি লাগ‌তে পারে।

    ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশন দুটি চালু করতে কোনো সরঞ্জাম আমদানি না করে দেশীয় সম্পদের ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম থাকা তিনটি স্টেশন থে‌কে কিছু যন্ত্রাংশ খুলে লাগা‌নো হ‌য়ে‌ছে মি‌রপুর ১০ নম্বর স্টেশ‌নে। বা‌কি যন্ত্রাংশ আমদা‌নি কর‌তে হ‌বে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ করতে মাস তিনেক সময় লাগবে। এই স্টেশন ঠিক করতে কোনো ঠিকাদার বা বিদেশি কাউকে লাগেনি। ডিএমটিসিএল নিজেই এটা করেছে বলে তিনি জানান।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ‘একটি বিষয়ে’ আটকে রাখা যায় না

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ‘একটি বিষয়ে’ আটকে রাখা যায় না

    বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সহযোগিতা বহুমাত্রিক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শুধু ‘একটি বিষয়’ কিংবা ‘একটি অ্যাজেন্ডায়’ এ সম্পর্ককে আটকে রাখা যায় না। দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি আছে, কিন্তু তা সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক সম্পর্কের পথ আগলে দিতে পারে না।

    আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতায় প্রণয় ভার্মা এ মন্তব্য করেন। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে (বঙ্গোপসাগরীয় সংলাপ) রাষ্ট্রদূতের জন্য নির্ধারিত বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন তিনি।

    বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য আর অর্থনৈতিক সম্পর্ক, যোগাযোগ ও জ্বালানির সংযুক্তি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যুক্ততা অব্যাহতভাবে ইতিবাচক পথে এগিয়েছে বলে উল্লেখ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত একটি স্থিতিশীল, ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্কের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। যেখানে মূল অংশীজন হবে দুই দেশের জনগণ। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে এবং বিশ্বাস করে যে দুই দেশের শান্তি, নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

    প্রণয় ভার্মা বহুমাত্রিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে বাণিজ্য, পরিবহন ও জ্বালানি সংযোগ এবং দুই দেশের জনগণের সম্পৃক্ততার ক্রমাগত অগ্রগতির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবর্তন যা–ই ঘটুক না কেন, পরস্পরের প্রতি আমাদের নির্ভরশীলতা এবং নিজেদের কল্যাণের স্বার্থেই এ সম্পর্ক এগিয়ে যাবে।’
    প্রণয় ভার্মা চলতি মাসে ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সূচনা ও পেট্রাপোল-বেনাপোল সমন্বিত চেকপোস্টের অবকাঠামোর পরিবর্ধনকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে অব্যাহত অগ্রগতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতাকে তিনি আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের মতো কাঠামোর অধীন আঞ্চলিক একত্রীকরণ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নিয়ামক হিসেবে অভিহিত করেন।

    ভারতীয় হাইকমিশনার শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য দুই দেশের যৌথ আকাঙ্ক্ষা পূরণের অঙ্গীকার করেন। তিনি অংশীদারত্বের মাধ্যমে উভয় পক্ষের সাধারণ জনগণের উপকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।