Category: জাতীয়

  • প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাদিকে বিদায় বলা হয় না, তিনি আমাদের হৃদয়ে থাকবেন

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাদিকে বিদায় বলা হয় না, তিনি আমাদের হৃদয়ে থাকবেন

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ওসমান শরীফ হাদিকে আমি বিদায় দিতে আসিনি। তিনি আমাদের হৃদয়ে অবিচ্ছেদ্য হয়ে থাকবেন। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, হাদির স্মৃতি ও প্রেরণা আমাদের মাঝে থাকবেই। আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল-বিকাল, জাতীয় সংসদ দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজায় এসে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রফেসর ড. ইউনূস আরও বলেন, আজ এখানে সরবে হাজার হাজার লোকের নির্মল সমাগম ঘটেছে। সমগ্র বাংলাদেশজুড়ে কোটি কোটি মানুষ এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। তারা হাদির জীবনদর্শন ও ওয়াদা শুনার জন্য উদগ্রীব। বিদেশ থাকা বাংলাদেশিরাও এই মুহূর্তে হাদির কথা জানতে চাইছেন। তিনি বলেন, আমরা হাদিকে বিদায় দিতে আসিনি। বরং, তিনি আমাদের হৃদয়ে গেঁথে আছেন। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, তিনি আমাদের সন্তান, আমাদের প্রেরণা এবং আদর্শের অংশ থাকবেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজকের এই মিলনমেলায় আমরা হাদির সঙ্গে আমাদের অঙ্গীকার করতে এসেছি। তিনি যে প্রতিশ্রুতি ও আদর্শ রেখে গেছেন, তা আমাদের পালন করে যাব। আমরা প্রত্যেকেই এটা নিশ্চিত করতে চাই যে, তার শিক্ষা ও মানবপ্রেমের ধারাকে আমরা অটুট রাখবো। তিনি আমাদের মনে চির永 সময় জেগে থাকবেন।

    প্রফেসর ড. ইউনূস উল্লেখ করেছেন, মানুষের সঙ্গে তার মানবিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনদর্শন সবাইকে অনুপ্রেরণা দেয়। এই অনুভূতিগুলো আমাদের মনকে স্পর্শ করে। তিনি সবসময় মনে রাখবেন এবং তার প্রকৃতি, তার মানবতায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের পথ চলতে হবে। সবাই তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।

  • শিল্পকলার সব অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

    শিল্পকলার সব অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

    বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ঘোষণা করেছে যে, সমস্ত অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী এখন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে। এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে গতকাল একাডেমির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টের মাধ্যমে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এই স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ শোকের সময়সূচির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    একই সময়ে, বাংলাদেশের অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি শোক প্রকাশ করেছেন। এর ফলস্বরূপ, আগামী ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ শনিবার জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই দিন রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে সকল ধরনের অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

    শরিফ ওসমান হাদি সম্প্রতি গুরুতর আহত হন। ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্যপরবর্তী সময়ে তাঁ를 সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে।

    গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন এলাকা উত্তেজিত হয়, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর অফিসে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়া, আজকের ওই পরিস্থিতির জন্য শিল্পকলা একাডেমির সকল কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

  • ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা রোববার, দাফন হবে সামরিক মর্যাদায়

    ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা রোববার, দাফন হবে সামরিক মর্যাদায়

    সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ শনিবার দেশে এলো। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকাল ১১টা ৫ মিনিটে তাদের মরদেহবাহী এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি অবতরণ করে।

    বীভৎস এই ঘটনার পরে রোববার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকাস্থ সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে তাদের জন্য নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর পরে, তাদের মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে বিভিন্ন ঠিকানায় পাঠানো হবে এবং যথাযথ সামরিক মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করা হবে।

    আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    আইএসপিআর জানায়, ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় শাহাদাতবরণ করে ছয়জন শান্তিরক্ষী। নিহতদের মরদেহ শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে দেশে আনা হয়।

    শান্তিরক্ষীদের মরদেহ গ্রহণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম উপস্থিত ছিলেন। এTime ও তার পাশে ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতিসংঘের সংযুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা, জাতিসংঘের ইউনিসেফ মিশনের প্রতিনিধি, আবেইতে মোতায়েন শান্তিরক্ষীদের ফোর্স কমান্ডার, চিফ কমিউনিটি লিয়াজোঁ অফিসার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি (ইউএন), ওভারসিজ অপারেশন অফিসের পরিচালকসহ অন্য কর্মকর্তারা। মরদেহ গ্রহণের সময় সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে এবং সব সামরিক ব্যক্তি শাহাদাতবরণকারীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে স্যালুট প্রদান করেন।

    নিরাপত্তাজনিত কারণে জানাজা শেষে তাদের মরদেহ হেলিকপ্টার দিয়ে বিভিন্ন ঠিকানায় পাঠানো হবে এবং যথাযথ মর্যাদায় দাফনের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

    উল্লেখ্য, ড্রোন হামলায় ছয় শান্তিরক্ষী শহীদ থাকলেও, ৯ জন আহত হন। তাদের মধ্যে আটজন নাইরোবির আগা খান ইউনিভার্সিটিতে চিকিৎসাধীন, যেখানে তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।

  • অভিযোগের প্রাথমিক দাখিলের মাধ্যমে কাদের ও অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

    অভিযোগের প্রাথমিক দাখিলের মাধ্যমে কাদের ও অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

    অরাজনৈতিক ব্যানারে শুরু হওয়া ২৪শে জুলাইয়ের আন্দোলন দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ো আওয়ামী লীগ। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে উসকানি-ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা চালানো হয় এবং মাঠে নামে আওয়ামী লীগের কার্্য সরাসরি। বিশেষ করে, কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যিনি ছাত্র-জনতাকে কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশনা দেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে। সেই নির্দেশনার একটি ফোনালাপ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উঠে এসেছে। বলাবাহুল্য, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বৃহস্পতিবার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন প্রসিকিউশন। এর মধ্যে, ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার নাম উল্লেখ রয়েছে। পরে, সংশ্লিষ্ট আদালত অভিযোগগুলো গৃহীত করে, তাদের গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। অন্য সদস্যরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোঃ মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। অভিযোগের তালিকায় আরও আছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। প্রসিকিউশন প্রধান গাজী এমএইচ তামিম প্রথম শুনানি করেন, যেখানে সাত আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ শোনা হয়। এর মধ্যে, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে তিনটি মূল অভিযোগ আনা হয়: নির্দেশ দেওয়া, প্ররোচনা ও উসকানি। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন কাদের, যেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের কোটা বিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ দেন। কথোপকথনে উনি বলেন, ‘মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন,’ যা উজ্জীবিত করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। আরও জানা গেছে, ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্যে সমর্থন দেন ওবায়দুল কাদের, যেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের রাজাকারদের নাতিপুতি আখ্যায়িত করে উসকানি দেন। পরের দিন, ১৫ জুলাই, ছাত্রলীগের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উসকানির জন্য এক সংবাদ সম্মেলনে আত্মস্বীকৃত রাজাকারের জবাব দেয়ার কথা বলেন কাদের। ১৬ জুলাই, ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয় থেকে তিনি ছাত্র-জনতাদের উপর হামলা চালাতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে অর্থ সহায়তা করেন ও নিজেও বিভিন্ন উসকানিমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তেমনি, তিনি ইন্টারনেট সেবার গতি কমানোর নির্দেশ দেন এবং চট্টগ্রামের তৎকালীন মেয়রকে হত্যাযজ্ঞে উসকানি দেয়ার মতো কার্যক্রমেও জড়িত ছিলেন। এই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের ফলে ১৬ জুলাই রংপুরের আবু সাঈদসহ ছয়জন ও চট্টগ্রামে অনেক মা-বাবা শহীদ হন। অন্য অভিযোগগুলোতে বলা হয়, ১৭ জুলাই সারাদেশের কর্মী-সমর্থকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান কাদের। এর পরের দিন, ১৯ জুলাই, তিনি গুলির মাধ্যমে কঠোর পরিস্থিতি সৃষ্টি ও কারফিউয়ের কথা বলেছিলেন। এছাড়া, অন্যান্য শীর্ষ নেতাদেরও উসকানি দেন তিনি। এসমস্ত কর্মকাণ্ডের ফলস্বরূপ, ১৮ ও ১৯ জুলাই দেশের বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ৩ আগস্ট থেকে ৫ আগস্টের ঘটনাগুলিও এই অভিযোগের ধারে উঠে এসেছে, যেখানে তিনি শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বরঞ্চ আন্দোলন বাতিলের প্রস্তুতি নেন। এইসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে হত্যাকাণ্ড, হত্যাচেষ্টা ও অন্যান্য অপরাধ উল্লেখ করা হয়েছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাকি আসামিদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে, ষড়যন্ত্রে নেতা হিসেবে বাহাউদ্দীন নাছিমের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ৪ আগস্ট এক সমাবেশে তিনি আন্দোলনকারীদের জামায়াত, শিবির, রাজাকার ও আল-বদর তকমা দিয়ে উসকানি দেন। মোহাম্মদ আলী আরাফাতকো আওয়ামী লীগের ‘হাইব্রিড নেতা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, কারণ তিনি সবসময় নাক গলাতে থাকেন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। ১৫ জুলাই, তিনি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন, যেখানে তার নেতৃত্বে ৩০০ জন আহত হন। ১৯ জুলাই, তিনি গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি করেন। বিভিন্ন বৈঠকে নেতাকর্মীদের উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এইসব উসকানির মধ্য দিয়ে, ৬৯ জন ছাত্র-জনতা শহীদ হন ও আরও অনেকে আহত হন। ছাত্রলীগের সম্মিলিত বক্তব্যে বলা হয়, তারা রাজাকার বলতে দ্বিধা করেন না এবং এর প্রতিশোধ নিবে। ১৫ জুলাই, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইনান সরাসরি আন্দোলনে অংশ নেন। এর ফলে, ১৬ জুলাই ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় ছয়জন শহীদ হন। ছাত্র-জনতাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপে জড়িত থাকার জন্য, ২৯ ডিসেম্বরের জন্য শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এরপর, সংশ্লিষ্ট আইনের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো পড়ে শোনা হয় এবং সবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

  • তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে ৭ রুটে বিশেষ ট্রেনের অনুরোধ রিজার্ভের জন্য

    তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে ৭ রুটে বিশেষ ট্রেনের অনুরোধ রিজার্ভের জন্য

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগামী ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরে আসার সূবর্ণ সুযোগের কথা বিবেচনা করে, দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেন ও বগি রিজার্ভের জন্য রেল মন্ত্রণালয়কে আবেদন জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দলটির পক্ষে সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই চিঠি প্রেরণ করেন।

    চিঠিতে বলা হয়, প্রতীকীভাবে, বিএনপি’খুব দ্রুত এগিয়ে এসে জানিয়ে দেয় যে, তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকা ফিরবেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-জনতা ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের নিরাপদ ও সুবিধাজনক পথে পৌঁছানোর জন্য, দলটি বিভিন্ন রুটে বিশেষ ট্রেন বা অতিরিক্ত বগি রিজার্ভ করার আবেদন জানাচ্ছে।

    সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধের শর্তে, এই রিজার্ভেশনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি। উল্লেখ করা হয়েছে, কক্সবাজার থেকে ঢাকা, সিলেট থেকে ঢাকা, জামালপুর-ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা, টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী থেকে ঢাকা, পঞ্চগড়-নীলফামারী-পার্বতীপুর থেকে ঢাকা, এবং কুড়িগ্রাম-রংপুর থেকে ঢাকা রুটে একাধিক বিশেষ ট্রেন বা অতিরিক্ত বগি সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    বলেন, এই উদ্যোগ নেতাকর্মীদের সহযেেগিতায় অনন্য একটি পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে, এবং এই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা আন্তরিকভাবে অপেক্ষা করছেন।

  • শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ সন্ধ্যায় দেশে পৌঁছাবে, শনিবার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে

    শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ সন্ধ্যায় দেশে পৌঁছাবে, শনিবার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম সারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে দেশে এসে পৌঁছাবে। তিনি বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    রাত দেড়টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে শুক্রবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। এই ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

    এর আগে, সকাল ১০টায় সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক দ্য আঙ্গুলিয়া মসজিদে শহীদ ওসমান হাদির প্রথম জানাজার আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের দেশে তার দ্বিতীয় জানাজা আগামীকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে এই জানাজার জন্য উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনী প্রচারণাকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ওসমান হাদি। ঢাকা মেডিকেল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গত সোমবার সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামীকাল শনিবার সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

  • নির্বাচনের আগে-পরে ৫ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবেন

    নির্বাচনের আগে-পরে ৫ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবেন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের অংশ হিসেবে এবার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় পুলিশের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা প্রকাশ করে জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের আগে ও পরে মোট পাঁচ দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। সাধারণত চূড়ান্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। এরমধ্যে নির্বাচন বা গণভোটের দিন ছাড়া আরও তিন দিন আগে ও এক দিন পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী অফিসের সুরক্ষা অনেকটাই কঠোর করা হবে। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কার্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ বা নিরাপত্তাকর্মী উপস্থিত থাকবেন, যাতে গুরুত্বপূর্ণ নথি, নির্বাচন সামগ্রী নিরাপদে রাখা যায় এবং অফিসগুলোর সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত হয়। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অফিসের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও জোরদার করার জন্য পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে। ইসি সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনের সময়সূচি প্রকাশের পর থেকে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের অফিসগুলোয় গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সামগ্রী সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী অফিসগুলোতেও আমাদের পুলিশ ফোর্সের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এর আগে, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, চারজন নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন গাড়ি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। নির্বাচনী কার্যক্রমের প্রাক্কালে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি, আপিলের শেষ সময় ১১ জানুয়ারি, নিষ্পত্তি ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২০ জানুয়ারি, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ২১ জানুয়ারি এবং নির্বাচনী প্রচার ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

  • ৫ বছর ধরে গুম থাকলে ট্রাইব্যুনাল গুম ঘোষণা করতে পারবে

    ৫ বছর ধরে গুম থাকলে ট্রাইব্যুনাল গুম ঘোষণা করতে পারবে

    গুম হওয়া ব্যক্তি যদি অনুক্ষেত ৫ বছর ধরে জীবিত না ফিরে আসে, তবে ট্রাইব্যুনাল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডিসাপিয়ার্ড’ বা ‘গুম’ ঘোষণা করতে পারবে। এই সিদ্ধান্তটি বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর খসড়া অনুমোদন পাওয়ার সময় নেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জানানো হয় যে, এই সংশোধনীটি নীতিগত এবং চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

    খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল’ এর জন্য সাধারণ বিচারকদের নিয়োগের জন্য মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করবে। অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগীরা নিজ উদ্যোগে ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী নিযুক্ত করতে পারবেন। এছাড়াও, গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা পরিবারের অন্য সদস্যরা, পূর্বানুমতি ছাড়া, গুমের প্রভাবিত সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবে।

    বৈঠকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমত, মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের অনুমোদন। দ্বিতীয়ত, গুমেরোধে আইনগত ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করতে এই আইন বলবৎ করা। তৃতীয়ত, সরকার ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। বাংলাদেশে হাওর অঞ্চলের বিরল এবং অনন্য ইকোসিস্টেম ধ্বংসের দিকে রয়েছে, যার কারণ গঠনমূলক বাঁধ নির্মাণ, বিষ ও কীটনাশক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ না থাকা, পর্যটনের নেতিবাচক প্রভাব ইত্যাদি।

    অধিকারে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে হাওর ও জলাভূমি রক্ষায় দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হবে। এরই অংশ হিসেবে, হাওর ও জলাভূমি এলাকার জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে নানা আইন ও বিধি প্রণয়নের অনুমোদন দেওয়া হবে। এর আওতায়, এই অঞ্চলের নিষিদ্ধ কার্যক্রমের তালিকা, অপরাধ হিসেবে গণ্যকরণ ও দণ্ডের বিধানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারিত নিয়মাবলি পালন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।

    এছাড়াও, উপদেষ্টা পরিষদ সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের নতুন দূতাবাস প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। বর্তমানে জেনেভাতে বাংলাদেশের পার্মানেন্ট মিশন থাকলেও বার্নে বাংলাদেশের দূতাবাস না থাকায় দেশটির অফিসিয়াল কাজ এ পর্যন্ত জেনেভা থেকে পরিচালিত হত। সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী এবং কৌশলগত অংশীদার। এই ধারনা থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের বার্নে একটি দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একে একে একজন রাষ্ট্রদূত, ফার্স্ট সেক্রেটারি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে। বিশ্বে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৮২টি মিশন অফিস রয়েছে।

    বৈঠকে আরও জানানো হয়, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী মান্য ব্যক্তিত্ব শরিফ ওসমান হাদি গুরুতর অসুস্থ, তার চিকিৎসা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তার অবস্থা সম্বন্ধে ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তার সুস্থতার খোঁজখবর নিচ্ছেন।

    শেষে, উপদেষ্টা পরিষদ বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবসের উদযাপনটি সুন্দর এবং আগামীকালিন পরিকল্পনা অনুযায়ী পালন করার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছে।

  • খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন, চিকিৎসকদের আশাবাদ

    খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন, চিকিৎসকদের আশাবাদ

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠছেন। এ কথা জানান তাঁর চিকিৎসকরা, যারা ভবিষ্যৎেও তার দ্রুত সুস্থতার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য দেন।

    ব্রিফিংয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসকদের সঙ্গে বাংলাদেশের মেডিকেল বোর্ড কাজ করছে। এই বোর্ড প্রতিদিন সকালে তার শারীরিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করছে। এছাড়া, সময়ের পার্থক্যজনিত কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল টিম পুনরায় বৈঠক করে চিকিৎসার অগ্রগতি মূল্যায়ন করছে।

    তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, খালেদা জিয়া নিয়মিত ঔষধ গ্রহণ করছেন। গত কিছু দিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকছে, এবং এ পরিস্থিতি ধরে রাখতে চিকিৎসকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা মনে করেন, ধীরে ধীরে তিনি আরও সুস্থ হয়ে উঠবেন।

    ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বয়সজনিত সমস্যা, দীর্ঘদিনের জটিল অসুস্থতা এবং অতীতের চিকিৎসার অভাবের কারণে তাঁর শারীরিক জটিলতা বেড়েছে। এ কারণেই বর্তমানে তাঁকে বেশি সময় সিসিইউতে থাকতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থায় উন্নতির কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

    তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিকভাবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার খোঁজ রাখছেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্য, বিশেষ করে বড় বোন ও কাছের স্বজনরা নিয়মিতভাবে চিকিৎসার বিষয়টি তদারকি করছেন। যদিও সিসিইউতে থাকায় তারা সরাসরি পাশে থাকতে পারছেন না, তবে হাসপাতালের ভেতর থেকে বা বাইর থেকেও সবসময় যোগাযোগে রয়েছেন।

    ডা. জাহিদ আরও বলেন, বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মী, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও আন্তঃকের সরকারের উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যরা খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। তিনি সরকারের সহযোগিতায় বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ, ও চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীদের পেশাদার সেবা প্রশংসা করেন।

    অতিরিক্ত, তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখানকার অন্যান্য রোগীদের জন্য যেন চিকিৎসা কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য সবাই সংযম এবং সহযোগিতা করেন।

    বক্তব্যের শেষে ডা. জাহিদ বলেন, দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া চেয়েছেন। মানুষের ভালোবাসা, দোয়া এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশের রাজনীতি ও জাতির কল্যাণে আবারও ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

  • বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলছে, বাতাসে বিষ, প্রতি বছর এক লাখ প্রাণ হারাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায়

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলছে, বাতাসে বিষ, প্রতি বছর এক লাখ প্রাণ হারাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায়

    দক্ষিণ এশিয়ার হিমালয় পর্বত থেকে ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল জনবসতি অঞ্চলে এখন এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। এক সময়ের উর্বর ও শান্তিপূর্ণ এই অঞ্চলটি বর্তমানে অতি দূষিত বায়ুচ্ছবিতে ভরা, যা স্বাস্থ্য জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের এই অঞ্চলের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ দিন দিন অস্বাস্থ্যকর বাতাসে নিশ্বাস নিচ্ছেন। বায়ু দূষণ এখন আর শুধু পরিবেশের জন্য নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দ্বিগুণ হুমকিতে ফেলেছে। প্রতিবেদন বলছে, প্রতিবারের মতোই এই দূষণের জন্য প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন, আরও অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে এই দূষণ আঞ্চলিক জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভৌगোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এই দূষণের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে। এই পরিস্থিতি বন্ধ করতে হলে দ্রুত সব দেশ মিলেই একটি সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নয়তো জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি উভয়ই দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘পরিবর্তনের নিশ্বাস: ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি এবং হিমালয়ের পাদদেশে (আইজিপি-এইচএফ) পরিষ্কার বাতাসের সমাধান’ শীর্ষক বইয়ে এই সমস্যার গভীরতা তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে – বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ – বায়ু দূষণের মূল উৎস মূলত: রান্না ও গরমের জন্য ব্যবহৃত কঠিন জ্বালানি পোড়ানো, নির্মাণ ও শিল্পকারখানায় উপযুক্ত ফিল্টার প্রযুক্তির অভাব, জীবাশ্ম জ্বালানি ও জৈববস্তু পোড়ানো, অদক্ষ যানবাহন চালনা, কৃষকরা ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো, সার ব্যবস্থাপনা ও বাড়ি-বসতিতে বর্জ্য পোড়ানোর প্রবণতা। এই সব কারণে অঞ্চলটিতে বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়ছে।

    বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, পরিষ্কার বায়ুর জন্য সমাধানগুলোকে তিনটি মূল ক্ষেত্র ভাগ করা হয়েছে: প্রথমত, দূষণ উৎস কমানোর জন্য রান্না, শিল্প, পরিবহন, কৃষি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা; দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুরক্ষা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম চালানো যাতে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও সম্প্রদায়গুলি রক্ষা পায়; এবং তৃতীয়ত, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো, বাজারভিত্তিক প্রস্তাবনা ও আঞ্চলিক সমন্বয়। এসবের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাধানগুলো নাগালের মধ্যে রয়েছে, তবে এর জন্য দরকার নীতিনির্ধারণকারী ও কার্যক্রমকারীদের সমন্বিত উপায়ে কাজ করার। দক্ষিণ এশিয়ার উদ্যোগ, পরিবার ও কৃষকদের জন্য পরিষ্কার প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াতে হবে। সরকারগুলোকেও নিজেদের অঙ্গীকার ও প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে।

    বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিবেশনীতিবিদ মার্টিন হেগার বলেন, ‘পরিষ্কার বায়ু অর্জনের জন্য স্থানীয়, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অব্যাহত সহযোগিতা, টেকসই অর্থায়ন এবং দক্ষ বাস্তবায়ন জরুরি। কাজ করলে লাখ লাখ জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।’ এছাড়াও, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকল্পনা, তথ্যপ্রবাহ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দূষণ কমাতে পারলে, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নতি সম্ভব হবে এবং সবাই নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন বাতাসে নিশ্বাস নিতে পারবে।