Category: জাতীয়

  • হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, আওয়ামী লীগের নির্বাচন করায় আপত্তি নেই: দ্য হিন্দুকে ইউনূস

    হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, আওয়ামী লীগের নির্বাচন করায় আপত্তি নেই: দ্য হিন্দুকে ইউনূস

    ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে দেশের পরিস্থিতি, সরকার, সংখ্যালঘু, নির্বাচন, রাজনৈতিক দল, সংস্কার, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাক্ষাৎকারটির বাংলা অনুবাদ পাঠকের জন্য প্রকাশ করা হলো।


    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে বাংলাদেশ। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট করেছেন, আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়, তার এতে কোনো আপত্তি নেই।

    ঢাকায় তার বাসভবনে দ্য হিন্দু-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং তার সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি তার সরকারের ১০০ দিনের শাসনের অর্জনগুলোর পক্ষে কথা বলেন এবং মৌলবাদ ও দেশের হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তা ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    প্রশ্ন: আপনি ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ১০০ দিন সম্পন্ন করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা ও অর্থনীতির মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনি আপনার সরকারকে কেমন মূল্যায়ন করবেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের পথে রয়েছে, তবে আমি এটিকে এখনো পুরোপুরি সন্তোষজনক বলতে পারব না। অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমি আমাদের কাজকে এ-প্লাস দেব। কারণ আমরা যখন ক্ষমতা গ্রহণ করি, তখন দেশ প্রায় একটি ভেঙে পড়া অর্থনীতি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ছিল বিশৃঙ্খল—খারাপ ঋণ, প্রায় ৬০ শতাংশ ঋণখেলাপি। আমরা সে পরিস্থিতি থেকে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখনও উন্নতির প্রয়োজন আছে, তবে অগ্রগতি হচ্ছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতোমধ্যে বাড়ছে এবং আমরা বেশ কিছু ঋণ পরিশোধ করতে পেরেছি, যা আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের ভাবমূর্তি উন্নত করেছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, আমরা বৈশ্বিক সহায়তা পাচ্ছি—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করছে এবং বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আমি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে অংশগ্রহণকালে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সহায়তা প্রদানের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা ওয়ান-স্টপ পরিষেবা চালু করেছি, যেখানে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব পরিষেবা পাওয়া সম্ভব। তাই বলতে পারি, দেশ ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে।

    প্রশ্ন: আপনি নিশ্চয়ই একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছেন। কিন্তু আপনি ভবিষ্যৎ নিয়ে কি চিন্তিত? যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে কী ভাবছেন? তার একটি বিবৃতিতে বাংলাদেশের সমালোচনা রয়েছে। নতুন এ মার্কিন প্রশাসনের পর আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী যে, আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমার মনে হয় না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেছেন।

    প্রশ্ন: তিনি করেছেন, সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে…

    মুহাম্মদ ইউনূস: বটে। এটা সরাসরি বাংলাদেশ নিয়ে নয়, বরং সংখ্যালঘুদের নিয়ে—তিনি মনে হয় না পুরো বিষয়টা ভালোভাবে জানেন। এটি একটি প্রোপাগান্ডা যা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু যখন তিনি বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও জানবেন, তখন বুঝতে পারবেন যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কতটা আলাদা। সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের ফলে [দেশটির] পররাষ্ট্রনীতি ও দেশভিত্তিক সম্পর্ক খুব বেশি বদলায় না। যদি ট্রাম্প ২.০-এর সময়ে কিছু পরিবর্তন হয়ও, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এখন এটি একটি নতুন বাংলাদেশ—বাংলাদেশ ২.০। আমরা আশা করছি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদেও আমাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত হতে থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ অটুট থাকবে। তারা এবং আমরা উভয়ে একে অপরের সবচেয়ে বড় সরকারি ক্রেতা। আমার দীর্ঘ কয়েক বছরে দারুণ সম্পর্ক তৈরি করেছি, তাই আশা করছি সম্পর্ক দৃঢ়তর হবে।

    প্রশ্ন: আপনি মি. ট্রাম্প যা বলেছেন সেটাকে প্রোপাগান্ডা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু শুধু তিনি নন, ভারত সরকারও একাধিক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশের হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিছুক্ষেত্রে খুনের ঘটনা ঘটছে, এমনকি ধর্ষণের সন্দেহও করা হচ্ছে। আপনি কী বলবেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমার প্রথম ফোনকলে [১৬ আগস্ট] তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আমি তাকে স্পষ্ট করে বলেছিলাম, এটি একটি প্রোপাগান্ডা। এখানে অনেক সাংবাদিক এসেছিলন, কিছু ঘটনা নিয়ে সংবাদ হয়েছে। তবে সেগুলো ততটা না যতটা গণমাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।

    প্রশ্ন: এর পেছনে তাহলে কারা থাকতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমি সঠিকভাবে জানি না, তবে এ প্রোপাগান্ডার সঙ্গে বাস্তবতার তেমন কোনো মিল নেই। এ সবগুলো ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখেছেন একদল লোক, প্রতিটা ঘটনা ঘেঁটে দেখেছেন…

    প্রশ্ন: আমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আদতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা ভাবছেন তারা লক্ষ্যবস্তুর শিকার। ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ মুসলিমরাষ্ট্র হবে। শোনা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন দল সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার কথা ভাবছে। এ নিয়ে অনেকে মনে করছেন, আপনার সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশে এমন একটি উগ্র ইসলামিক ধারা প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে, যা গত ১৬ বছরে দেখা যায়নি। এ পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোকে আশ্বস্ত করতে আপনার সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: এ[চিত্র]টি কি আমার সঙ্গে মানায়? আমার উপদেষ্টা পরিষদের প্রত্যেক সদস্যই হয় একজন মানবাধিকারকর্মী যিনি নিজেই বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগী হয়েছেন, অথবা পরিবেশ সংরক্ষণে নিবেদিত, কিংবা জেন্ডার সমতা বা অন্যান্য সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। আপনি যদি তাদের কাছে গিয়ে উল্লিখিত অভিযোগ করেন, তারা তীব্রভাবে এর বিরোধিতা করবেন।

    প্রশ্ন: তাহলে আপনি বলছেন, আপনার উপদেষ্টা পরিষদের কেউ উগ্র ইসলামিক এজেন্ডাকে সমর্থন করবেন না?

    মুহাম্মদ ইউনূস: উপদেষ্টাদের কাজ ও জীবন পর্যালোচনা করুন। তারা সবসময় মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন; এখানে নারীরাও নেতৃত্ব দিচ্ছেন—তারা কখনোই আপনি যা বলছেন সেসবের পক্ষে অবস্থান নেবেন না।

    প্রশ্ন: আরও কিছু বিষয়ে উদ্বেগ আছে। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ জানিয়েছে, কেবল সেপ্টেম্বরেই রাজনৈতিক সহিংসতায় ৮৪১ জন আহত এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে আটজন নিহত হয়েছেন। কিছু সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল হয়েছে। কেউ কেউ বলবেন, আপনার সরকার পূর্ববর্তী সরকারের ধারাই অনুসরণ করছে।

    মুহাম্মদ ইউনূস: জনগণই বিচার করবে যে এ সরকার কী করছে এবং পূর্ববর্তী সরকার কী করেছিল। আমি [এ বিষয়ে] তর্কে যেতে চাই না। আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছি—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অ্যাক্রিডিটেশন আইন আমরা তৈরি করিনি, আমরা কেবল এটির প্রয়োগ করছি। তবে আপনি বলতে পারেন, এটা সঠিক প্রয়োগ কি না। আমি আইনটি পরিবর্তন করতে চাই। এটি অন্য ধরনের শাসনব্যবস্থার তৈরি করা আইন।

    প্রশ্ন: রাজনৈতিক প্রতিশোধপরায়ণতার কারণে আগের সরকারের নেতা-কর্মীরা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলেও উদ্বেগ রয়েছে। এমনটা ঘটবে না তা নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা কি আপনার কাছে আছে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমি বলব, আইনের শাসন বজায় থাকুক। দ্যাটস ইট।

    প্রশ্ন: আপনি সংস্কারের জন্য কয়েকটি কমিশন গঠন করেছেন—কিন্তু সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কোনো কমিশন নয় কেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমাদের কিন্তু একটি মানবাধিকার কমিশন রয়েছে—সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে কেন? আমি [সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে] বলেছি, আপনারা এ দেশের নাগরিক, সংবিধান আপনাদের সব অধিকার দিয়েছে। আমরা সবাই চাই মানবাধিকার এবং সংবিধানে উল্লেখ থাকা সব অধিকার নিশ্চিত করতে। সংবিধান কমিশনের দিকে তাকান, দেখুন এর প্রধান কে [আলী রিয়াজ]—তারপর আপনারা কী বলছেন সে মতপার্থক্য দূর করুন… না হলে এটা পুরোটাই প্রোপাগান্ডা।

    প্রশ্ন: যদি প্রতিবেশী ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রে এমন ধারণা বিশ্বাস করা হয়, তাহলে কি আপনার সরকার জনগণকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে যে এটি প্রোপাগান্ডা?

    মুহাম্মদ ইউনূস: হয়তো বিশ্বকে অন্যভাবে বোঝানোর টাকা বা ক্ষমতা আমাদের নেই।

    প্রশ্ন: আপনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এখনও সরাসরি সাক্ষাৎ করেননি, যদিও ফোনে কথা হয়েছে…

    মুহাম্মদ ইউনূস: হ্যাঁ, এখনো আমাদের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি। আমি যখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করি, মিস্টার মোদি ততক্ষণে চলে গিয়েছিলেন। আমি বাকুতে কপ-এ অংশ নিই, কিন্তু তিনি সেখানে ছিলেন না। বিমসটেক সম্মেলন [থাইল্যান্ডে] বাতিল হয়েছিল। আর কমনওয়েলথ সিএইচওজিএম বৈঠকে আমাদের দুজনের কেউই অংশ নিইনি। তবে তার মানে এ নয় যে, আমরা কখনো দেখা করব না। আমরা কেবল প্রতিবেশী নই, ইতিহাস ও ভূগোল আমাদের একত্র করেছে। ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কও আমাদের সংযুক্ত করেছে। আমি প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়েছি। এটা কেন এভাবে পড়ে থাকবে? এমনকি আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম, সার্ক নেতারা নিউইয়র্কে স্রেফ পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও যেন বৈঠক করেন যাতে একটা বার্তা পাঠানো যায় যে, সার্ক এখনো আছে।

    প্রশ্ন: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ৫ আগস্টের ঘটনাগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলছে? এটি কি একটি ধাক্কা ছিল?

    মুহাম্মদ ইউনূস: কেন এমনটা হবে? বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে ভারতের উদযাপন করা উচিত যে, বাংলাদেশ এমন একটি শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে যেখানে মানুষ চরম কষ্টে ছিল, অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, অনেকে গুম হয়েছিলেন এবং অনেক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আমাদের তরুণ প্রজন্মের উদযাপনে সঙ্গে ভারতেরও অংশ নেওয়া উচিত এবং একসঙ্গে উদযাপন করা উচিত, যেমনটা অনেক রাষ্ট্র করছে।

    প্রশ্ন: আপনি বলেছিলেন, ৫ আগস্ট থেকে শেখ হাসিনার ভারতে উপস্থিতি সম্পর্কের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে…

    মুহাম্মদ ইউনূস: [প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার] আপাতত ভারতে বসবাস করাটা সমস্যা নয়। সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে তার যোগাযোগ। তিনি বাংলাদেশি জনগণের সঙ্গে কথা বলছেন, এবং সেটা রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। তিনি তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন, এটিই সমস্যা।

    প্রশ্ন: সেটা কীভাবে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: তিনি বাংলাদেশিদেরকে ঢাকা ও অন্যান্য শহরের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে উৎসাহিত করছেন। তার এসব বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে। তিনি [সদ্য নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট] ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে বলছেন—যেন পুলিশ বাধা দেয়, যাতে তারা বলতে পারে বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এটি আরেকটি দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ।

    প্রশ্ন: আপনার সরকার ইন্টারপোলের কাছে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আবেদন করেছে—কেন সরাসরি ভারতকে অনুরোধ করছে না? প্রয়োগ করার মতো দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া তো এক্ষেত্রে রয়েছে।

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমরা তাকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করব।

    প্রশ্ন: তারপরও আপনার সরকার এখনো প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেনি। দুই দেশের মধ্যে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে।

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমার মনে হয় আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি, তবে সে পর্যায়ে এখনো পৌঁছাইনি।

    প্রশ্ন: রাজনৈতিক মামলা বিষয়ক ধারার কথা উল্লেখ করে যদি ভারত বাংলাদেশের অনুরোধ গ্রহণ না করে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আপনি কি বলছেন ভারত চুক্তি লঙ্ঘন করবে? হ্যাঁ, এ ধরনের ধারা রয়েছে, তবে যদি ভারত সরকার সেগুলো কার্যকর করে এবং [শেখ হাসিনাকে] দেশে রাখে, তাহলে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক খুব ভালো থাকবে না। আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার খুবই স্বল্পস্থায়ী, তাই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সব দিক এখনই মীমাংসা করা সম্ভব নয়। তবে পরবর্তী কোনো সরকারও এটি সহজে মেনে নেবে না।

    প্রশ্ন: আপনি কি অন্য ক্ষেত্রগুলোতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মসৃণভাবে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন? সম্প্রতি আমরা জ্বালানি ও বাণিজ্য সংযোগ বিষয়ে কিছু উদ্যোগ দেখেছি।

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমাদের স্বপ্ন একটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ধাঁচের সম্পর্ক তৈরি করা [মুক্ত চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতাসহ]। আমরা সে দিকেই এগোতে চাই। আপনার উল্লেখ করা উদ্যোগগুলো ইতিবাচক লক্ষণ এবং আমরা সে লক্ষ্যের দিকেই এগোতে চাই। তবে সেগুলো আমাদের মূল লক্ষ্যমাত্রা থেকে এখনো অনেক দূরে। আমাদের লক্ষ্য খুবই নিবিড় সম্পর্কের একটি ইউনিয়ন গঠন। আমাদের জন্মই হয়েছে পাশাপাশি থাকার জন্য, আমরা যমজ।

    প্রশ্ন: আপনার সরকার কতটা ‘স্বল্পমেয়াদি’? নির্বাচন কখন হবে বলে মনে করেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমাদের সরকার গঠন করার সময় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, আমরা স্রেফ একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়ে থাকব না—যারা আসবে, নির্বাচন দেবে এবং ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। আমাদের প্রধান দায়িত্ব বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ২.০-এর জন্য সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা। আমরা দীর্ঘমেয়াদি সরকার হতে চাইনি, তাই এ কাঠামো তৈরি করেছি। প্রথম দিন থেকেই স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া হিসেবে নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে সংস্কার কার্যক্রমও চলমান থাকবে।

    প্রথমত, আমরা নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছি, যা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করার সম্ভাবনা আছে, কারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন সংস্থা গঠন করবেন। তবে, অন্য কিছু সংস্কার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবেন না। যেমন, আমাদের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হবে কি না, বাংলাদেশে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে কি না, মেয়াদ ও মেয়াদের সীমা সংক্রান্ত বিষয় ইত্যাদি সম্পর্কে সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। আমি বলব, নির্বাচনের ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে। তবে এ ট্রেন কোন পথে চলবে সেট আমাদেরকে ঠিক করতে হবে। আর সে পথ নির্ধারণ করতে আমাদেরকে সংস্কার কমিশনের কাছে ফিরে যেতে হবে।

    প্রশ্ন: এতে কি কয়েক বছর লেগে যেতে পারে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমার কোনো ধারণা নেই। জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়, তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব ঐক্যমত্য গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি।

    প্রশ্ন: আওয়ামী লীগ কি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: এটা ইতোমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি, এবং বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) বলেছে, সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। সুতরাং তারা ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছে। আমরা দেশের একটি প্রধান দলের মতামত অগ্রাহ্য করতে পারি না।

    প্রশ্ন: তাহলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আপনার কোনো আপত্তি নেই?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমি রাজনীতিবিদ নই যে এ দল বা অন্য দল বেছে নেব। আমি রাজনীতিবিদদের ইচ্ছা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছি।

    প্রশ্ন: আপনি কয়েক বছর আগে (২০০৭ সালে) নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা করেছিলেন যদিও…

    মুহাম্মদ ইউনূস: সেটা মাত্র ১০ সপ্তাহের জন্য ছিল। তারপর আমি একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেটা বন্ধ ঘোষণা করেছিলাম। অনেকে আমাকে চাপ দিয়েছিলেন, বলেছিলেন জনগণ পরিবর্তন চায়। আমরা দলের নাম পর্যন্ত ঠিক করেছিলাম, কিন্তু সেখানেই শেষ। তারপরও সারাজীবন রাজনৈতিক দল তৈরি করতে চাওয়ার অভিযোগ শুনতে হয়েছে।

    প্রশ্ন: আপনি কি নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখেন না?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমি নিজেকে কখনোই রাজনীতিবিদ মনে করি না।


    [ঈষৎ সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত অনুবাদ: সুজন সেন গুপ্ত]

  • সোনারগাঁয়ে মেঘনা গ্রুপের ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা

    সোনারগাঁয়ে মেঘনা গ্রুপের ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা

    নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে মেঘনা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মেঘনা পাল্প এন্ড পেপার মিলস লিমিটেড ফ্যাক্টরির ৬ তলা একটি ভবনে সোমবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে টিস্যু তৈরির মেশিনারিজ সামগ্রী, কাঁচামাল, গোডাউনে মজুদ রাখা মালামাল, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃপক্ষের দাবি, আগুনে তাদের ছয় তলা ভবনের পুরো অংশ পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমান আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। সাড়ে ৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দমকলবাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও পুরো ভবনে থাকা মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর এলাকায় অবস্থিত মেঘনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফ্রেশ টিস্যু পেপার ফ্যাক্টরির গোডাউনে সোমবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কিভাবে ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা একে একে ফ্যাক্টরির বিভিন্ন ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সোনারগাঁ, গজারিয়া, গজারিয়া বিসিক ফায়ার স্টেশন, বন্দর, কাঁচপুর ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে।

    এছাড়া মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। সাড়ে চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ৬ তলা ভবনের পুরো অংশ পুড়ে যায়।

    মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জিএম (কোম্পানি এ্যাফেয়ার্স) খন্দকার শফিকুল আলম জানান, আগুনে টিস্যু ফ্যাক্টরির ছয় তলা ফ্লোরের সব মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করতে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে।

    মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) কার্তিক চন্দ্র দাস জানান, আগুনে তাদের ফ্যাক্টরির মেশিনারিজ সামগ্রী ও মালামাল পুড়ে আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফখরুদ্দিন জানান, সকাল সোয়া ৫ টার দিকে ফ্রেশ টিস্যু ফ্যাক্টরির ছয় তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে সাড়ে ৫ টার মধ্যে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে।

  • বিডিআরের নির্দোষ সদস্যদের চাকরি পুর্নবহালের দাবি

    বিডিআরের নির্দোষ সদস্যদের চাকরি পুর্নবহালের দাবি

    ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের সময় জামালপুরের ৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সদরদপ্তরে কোনো বিশৃঙ্খলা বা বিদ্রোহের ঘটনা না হলেও ৫২ জন সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। চাকরির চিত্র বিডিআর এর সদস্যদেরকে চাকরিতে পুনর্বাহালের দাবি জানানো হয়েছে।

    সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ওই দাবি জানিয়েছেন চাকরিচ্যূত সাবেক বিডিআর সদস্যরা।

    চাকরিচ্যূত সদস্যদের পক্ষে হাবিলদার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম লিখিত বক্তৃতায় জানান, ২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জামালপুরে ৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সৈনিকরা অধিনায়কের নির্দেশ মোতাবেক অস্ত্রসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ডিউটিতে নিয়োজিত হয় এবং অধিনায়কের আদেশক্রমেই ডিউটি শেষে অস্ত্রাগারে অস্ত্র জমা করে।

    জামালপুর ব্যাটালিয়ন সদরে কোনো প্রকার ফায়ারিং বা অনাকাঙ্খিত ঘটনা সংঘটিত হয়নি, যা তৎকালিন জামালপুর জেলার ডিসি ও এসপি মহোদয় পরিদর্শন ও প্রত্যক্ষ করেছেন।

    পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সেনা সদরে হাজির হওয়ার নির্দেশ আসলে অধিনায়ক ও উপঅধিনায়কের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সৈনিকদের মাঝে অধিনায়ক ও উপ-অধিনায়কসহ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালিন জামালপুর জেলার ডিসি আব্দুল মাবুদ এবং জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন বক্তব্য দেন।

    এছাড়া জামালপুর ব্যাটালিয়নের সৈনিকদের যাতে কোনো প্রকার হয়রানি না হতে হয় সে জন্য অধিনায়ক লে. কর্ণেল মিজানুর রহমান মহোদয় ৬ রাইফেল ব্যাটালিয়ন জামালপুরের কোনো প্রকার বিদ্রোহ বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র দেন, যা সবার মধ্যে বিতরণের জন্য নির্দেশ দেন। ওই ভিডিও সিডি এবং প্রত্যয়নপত্রের ফটোকপি আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

    তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ১৭ মে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক আ. মতিন জামালপুর সদর থানায় একটি মিথ্যা সি.আর মামলা করেন। ১৮ মে এ মামলায় জামালপুর ব্যাটালিয়ন সদর হতে ইউনিফরম পরা অবস্থায় ৪৪জন বিডিআর সদস্যকে গ্রেফতার করে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠান। মামলাটি পরবর্তীতে সরকারি আদেশে প্রত্যাহার করে নতুন করে স্পেশাল কোর্টের আদেশনামা স্পেশাল কোর্টের মামলা নং ০৫/২০১০।

    ২২ মাস পরে ২০১১ সালের ১৬ মার্চ  স্পেশাল কোর্ট ৫২ বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ও জরিমানা করেন। কিন্তু বিগত ২২ মাসের হাজতবাস কারাদণ্ডের সহিত অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি বিধায় এতকিছু প্রমাণাদি থাকা সত্বেও নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করা অসম্ভব ছিল, অথচ রাইফেলস অর্ডার ১৯৭২ মোতাবেক বিচারের পূর্বে কোনো বিডিআর সদস্যকে জেলহাজতে পাঠানোর কোনো বিধান নেই।

    তিনি বলেন, বিশেষ আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ করা হলেও আদালত চলাকালিন কোনো কথা বলার অনুমতি ছিল না বিধায় প্রহসনের বিচারে নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করা অসম্ভব ছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিলের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে আমাদেরকে বিশেষ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সাজা সম্পূর্ন ভোগ করে মুক্ত হতে হয়েছে। আমাদের পরিবারগুলো অত্যন্ত গরিব যাহা সবারই জানা। চাকরির উপর নির্ভর করে আমাদের সংসার চালাতে হতো। চাকরি হারা হয়ে বর্তমানে আমাদের পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

    জুলাই-আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়েছে। তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমরা ৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়ন জামালপুরের চাকরিচ্যুত নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যরা নিম্নবর্ণিত দাবিগুলো উপস্থাপন করছি।

    বিশেষ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায় নির্বাহী আদেশে বাতিল, চাকরিচ্যুত ৬ রাইফেল ব্যাটালিয়নের সব সৈনিকদের বেতনভাতা ও পূর্ণ সুযোগ সুবিধাসহ চাকরিতে পূর্ণবহাল, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ঢাকায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পূনরায় তদন্তপূর্বক দোষীদের বিচার যারা নির্দোষ তাদের মুক্তি দিয়ে চাকরিতে পূর্নর্বহাল, পিলখানার হত্যাকাণ্ডটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বিধায় তথাকথিত বিডিআর বিদ্রোহ কথাটি বাতিল করা ও বিশেষ আদালত কর্তৃক বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগকারী বিডিআর সদস্যরা যারা বিস্ফোরক মামলায় ১৬ বছর ধরে কারা অন্তরীন আছে, তাদেরকে অনতি বিলম্বে মামলা হতে অব্যাহতি পূর্বক মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তারা।

  • চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ করে প্রজ্ঞাপন জারি

    চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ করে প্রজ্ঞাপন জারি

    সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 

    সোমবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল করপোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়। যেহেতু সংসদ ভাঙিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে। সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করলেন।

    এতে বলা হয়, এই অধ্যাদেশ সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা- স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল করপোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪ নামে অভিহিত হবে। ইহা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন, বিধিমালা, প্রবিধানমালা, আদেশ, নির্দেশ বা আইনগত দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্ৰাধান্য পাইবে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সকল ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের আওতা বহির্ভূত সকল সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা হইবে ৩২ বছর। স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন- ফাইন্যানসিয়াল করপোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহের চাকরির যে সকল পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর বা অনূর্ধ্ব ৩২ বছর উল্লেখ রয়েছে, সর্বত্র উক্ত বয়সসীমা ৩২ বছর প্রতিস্থাপিত হবে। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ব স্ব নিয়োগ বিধিমালা বা ক্ষেত্রমত প্রবিধানমালা বহাল থাকবে।

    এতে আরও বলা হয়, এই অধ্যাদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা বা অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের বিধানের সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে অস্পষ্টতা বা অসুবিধা দূর করিতে পারিবে।

  • ৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

    ৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

    ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা বাতিল করেছে নবগঠিত সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এছাড়া পরের দুই বিসিএস অর্থাৎ ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (১৮ নভেম্বর) রাতে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমানের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    কমিশনের সিদ্ধান্তমতে, ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা বাতিল, ৪৫তম বিসিএসের খাতা মূল্যায়ন করতে তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠানো এবং ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির ফল পুনরায় প্রকাশ করবে পিএসসি।

    ২০২৪ সালের ৮ মে শুরু হওয়া ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা গত ২৫ অগাস্ট স্থগিত করা হয়। দুই দফায় স্থগিত হওয়ার আগে ৩ হাজার ৯৩০ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। এতে মোট ১১ হাজার ৭৩২ জনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ পরীক্ষা বাতিলের কারণে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এসব প্রার্থীকে আবার মৌখিক পরীক্ষা দিতে হবে। পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ‘শিগগিরই’ জানানো হবে।

    ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বরে আবেদনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার খাতা পুনরায় তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবগঠিত পিএসসি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়া এ পরীক্ষার ফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। অন্যদিকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়। গত ৯ মে এতে উত্তীর্ণ হন ১০ হাজার ৬৩৮ জন। এখন তাদের সঙ্গে প্রিলিমিনারিতে পাস করা আরও সমান সংখ্যককে নির্বাচিত করে লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচিত করা হবে। আগে উত্তীর্ণ ১০ হাজার ৬৩৮ জন প্রার্থী যারা লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের ফল বহাল থাকবে। নতুনদের নিয়ে এ ফলাফল পুনরায় প্রকাশ করবে পিএসসি।

  • খাদ্যের মান যাচাইয়ে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খেলেন উপাচার্য

    খাদ্যের মান যাচাইয়ে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খেলেন উপাচার্য

    দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) খাদ্যের মান যাচাইয়ে ডাইনিং পরিদর্শনে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেলেন হাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা। 

    সোমবার (১৮ নভেম্বর) আইভি রহমান হলের ডাইনিং পরিদর্শন এসে উপাচার্য খাবারের মান যাচাইয়ে তিনি এমনটা করেন। এসময় তার সঙ্গে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন হলের হল সুপার, প্রক্টর, বিভিন্ন শাখার পরিচালক ও অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে, উপাচার্য  শিক্ষার্থীদেরকে হলের ডাইনিং এ নিয়মিত খাওয়ার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেন। ছাত্রীরাও তার এ ধরণের উদ্যোগের জন্য উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

  • সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    ঢাকা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    সোমবার (১৮ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর উত্তরা-১২ নম্বর সেক্টর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে ডিবি কার্যালয়ে  আনা হচ্ছে।

  • তিতুমীর কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘শাটডাউন’ ঘোষণা

    তিতুমীর কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘শাটডাউন’ ঘোষণা

    অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কলেজ শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাতে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় যাচ্ছি। যদি সেখানে পজিটিভ রেজাল্ট না আসে, আমাদের যদি মুলা ঝুলিয়ে বিদায় করে দেয়, আমরা এর চেয়ে বৃহৎ কিছু করবো।’

    তারা বলেন, ‘আমাদের তিতুমীরের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিকেল চারটা পর্যন্ত রাস্তায় ছিল। আগামীকাল আমাদের সঙ্গে বসবে, মুলা ঝুলাক আর যাই করুক, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বসার সিদ্ধান্ত এসেছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঠে নামিয়ে দিয়ে জনদুর্ভোগ তৈরি করতে চাচ্ছি না।’

    ‘আমাদের সিদ্ধান্ত এটাই তিতুমীরের ক্যাম্পাসের গেট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। কোনো পরীক্ষা-ক্লাস হবে না,’ যোগ করেন তারা।

    শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় যাচ্ছি, যদি পজিটিভ রেজাল্ট না আসে, তাহলে শুধু রেলগেট নয়, আমরা আরও এক্সট্রিম হতে বাধ্য হবো। তবে আমরা কালকে রাজপথ অবরোধ করছি না, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা রেলপথ অবরোধ করছি না। আমরা ক্যাম্পাস গেটে অবস্থান করবো এবং সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকব। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যদি না আসে, তাহলে আমাদের পূর্বঘোষিত জায়গায় আমরা ফেরত যাব।’

    চার দিন আগে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘আমাদের সকাল ১১টায় কর্মসূচি পালন করার কথা জেনেও তারা ট্রেন ছেড়ে দেয়। মহাখালী পয়েন্টে যখন ট্রেন চলে আসে, তখন সেখানে আমাদের চার হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। ট্রেনের গতি বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে আশে পাশে কয়েকজন আশে পাশে পড়ে যায়। আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থী ১২ জন আহত হয়। আহত হওয়ার কারণে দুএকজন হয়তো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং ঢিল ছুড়েছে।’

    তারা বলেন, ‘এ নিয়ে আমরা দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। অনেকেই বলছেন, তিতুমীরের সন্ত্রাস বাহিনীর হামলায় অনেকে আহত হয়েছেন। এখানে কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী নেই।’

  • আমরা রাজনৈতিক দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি

    আমরা রাজনৈতিক দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি

    আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘এটা ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা রাজনৈতিক দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি। বিএনপি এটা করেছে, বলেছে সব রাজনৈতিক দল অবশ্যই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সুতরাং তারা ইতিমধ্যে রায় দিয়ে দিয়েছে। আমরা দেশের একটি প্রধান দলের মতামতকে উপেক্ষা করব না।’

    তাহলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আপনার কোনো আপত্তি নেই—সে প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘কোনো একটি দল বা আরেকটি দলকে বেছে নেওয়ার জন্য আমি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নই। আমি রাজনীতিকদের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করছি।’

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ঢাকার যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকার আজ সোমবার হিন্দুর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ করা হয়েছে।

    সাক্ষাৎকারে খেলাপিঋণসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগ ও সেগুলোর সফলতার কথা তুলে ধরেন ড. ইউনূস।

    এ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে দেওয়া বিবৃতির কথা তুলে ধরে হিন্দুর সাংবাদিক প্রধান উপদেষ্টার কাছে জানতে চান, নতুন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সময় আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়ে তিনি কতটা আত্মবিশ্বাসী।

    জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশ নিয়ে কোনো বিবৃতি দেননি।’

    তখন হিন্দুর সাংবাদিক বলেন, ‘তিনি দিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে…।’

    জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘ভালো। এখন বাংলাদেশ ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে বলি। সম্ভবত তিনি সঠিকভাবে অবগত নন। এটা অপপ্রচার, যা বিশ্বজুড়ে চলছে। কিন্তু যখন তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বাস্তবতা সম্পর্কে জানবেন, তখন জনাব ট্রাম্প অবাক হবেন যে তাঁকে কতটা ভিন্নভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানানো হয়েছে। আমি মনে করি না, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে একজন নতুন প্রেসিডেন্টের কারণে সবকিছু বদলে যাবে। পররাষ্ট্রনীতি ও দেশের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের কারণে সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। তা ছাড়া ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যদি পরিবর্তন হয়ও তাহলে আমাদের মনে রাখতে হবে এটাও বাংলাদেশ ২, যেটাকে আমরা বলছি নতুন বাংলাদেশ। সুতরাং আমরা অপেক্ষা করব এবং যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আসেন ও দেখেন এবং আমাদের অর্থনীতি যদি ভালো করতে থাকে তাহলে তারা খুবই আগ্রহী হবে। তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সরকারি ক্রেতা, আমাদের দিক থেকেও তাই। এটা খুবই ভালো সম্পর্ক, যা আমরা বছরের পর বছর গড়ে তুলেছি। আমাদের আশা, এটা আরও জোরদার হবে।’

    হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, ট্রাম্পের কথাকে আপনি অপপ্রচারের ফল বলছেন। কিন্তু শুধু তিনি নন, ভারত সরকার বাংলাদেশে হিন্দুদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে হত্যা করা হয়েছে, এমনকি ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এসব ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটি বিবৃতি দিয়েছেন। আপনি এটার ক্ষেত্রে কী বলবেন?

    জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে প্রথম ফোন কলে (১৬ আগস্ট) তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বলেছিলেন যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে এবং এ রকম আরও অনেক কিছু। আমি তাঁকে খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, এগুলো অপপ্রচার। অনেক সাংবাদিক এখানে আসার পর কিছু উত্তেজনা নিয়ে কিছু খবর প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু মিডিয়ায় যেভাবে এসেছে, সেভাবে হয়নি।’

    প্রশ্নে বলা হয়, ‘তাহলে এর পেছনে কে আছে বলে আপনি মনে করেন?’

    জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি জানি না। কিন্তু এসব প্রচারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। সব ঘটনার পেছনে একদল ব্যক্তি রয়েছেন।’

    হিন্দুর সাংবাদিক বলেন, ‘আমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা আতঙ্কিত বোধ করছিলেন। তাঁদের মনে হচ্ছিল, তাঁদেরকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ফেসবুক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভিডিও আছে যেগুলোতে বলা হয় যে বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ হবে। এখন ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের আমরা বলতে শুনেছি যে সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিতে সংস্কার হচ্ছে। এখানে একটি প্রশ্ন আসে যে বাংলাদেশে পরে কী হচ্ছে এবং গত ১৬ বছরের তুলনায় আপনার সরকারের সময়ে অনেক ইসলামের প্রভাব দেখছি। এসব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে এগুলো কাজে দেবে?’

    এর জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘এটা কি আমার সঙ্গে যায়? উপদেষ্টা পরিষদের প্রতিটি সদস্য হয় মানবাধিকারকর্মী, যাঁরা নিজেরা ভুক্তভোগী হয়েছেন, অথবা পরিবেশ অধিকারকর্মী, অথবা নারী অধিকার বা অন্য অধিকারকর্মী। সুতরাই তাঁরা সবাই অধিকারকর্মী। আপনি যেসব কথা বললেন, সেগুলো যদি তাঁদের সামনে বলেন, তাহলে তাঁরা আপনার ওপর খেপে উঠবে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের প্রত্যেকের জীবনের অতীত কর্মকাণ্ড দেখুন।’

    হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন: ‘তাহলে আপনি বলছেন, আপনার উপদেষ্টা পরিষদে ইসলামপন্থী এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার মতো কেউ নেই।’

    জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনের গল্পগুলো দেখুন। এঁরা সবাই খুবই নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি। এখানে নারী অধিকারকর্মীরা রয়েছেন।’

    হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, ‘মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’–এর তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বরেই রাজনৈতিক সহিংসতায় ৮৪১ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং আটজন ব্যক্তি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আমরা জানতে পেরেছি, অনেক সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, আপনার সরকার অতীতের আচরণ অব্যাহত রেখেছে।’

    জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘মানুষকে বিচার করতে দিন। এই সরকার কী করেছে এবং অন্য সরকার কী করেছে, তা তুলনা করে দেখুন। আমি বিতর্ক করতে যাচ্ছি না। আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছি। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অ্যাক্রিডিটেশন আইন আমরা প্রণয়ন করিনি। আমরা শুধু এর প্রয়োগ করেছি এবং আপনি এটা নিয়ে বিতর্ক করতে পারেন যে, এই প্রয়োগ সঠিক কি না। আমি আইনটি পরিবর্তনের পক্ষে।’

    হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, ‘৫ আগস্টের ঘটনা কীভাবে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে? এটা কি একটা ধাক্কা হিসেবে এসেছে?’

    জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘এটা কেন হবে? বাংলাদেশ এমন একটি শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে, যেখানে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, অনেকে নিহত হয়েছেন, অনেককে গুম করা হয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের এই মুক্তিকে বন্ধুদেশ হিসেবে ভারতের উদ্‌যাপন করা উচিত। অনেক রাষ্ট্র যেমনটি করেছে, তেমন ভারতেরও আমাদের তরুণদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত এবং একসঙ্গে উদ্‌যাপন করা উচিত।’

    হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, ‘আপনি বলেছেন, ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি (ভারত–বাংলাদেশ) সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে…’

    জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘(শেখ হাসিনা) অন্তত এ সময় ভারতে অবস্থান করছেন, এটা কোনো সমস্যা নয়। বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর কথা বলাটা সমস্যা। তিনি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, আর সেগুলো রাজনীতি নিয়ে। তিনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন, এটাই সমস্যা।’

    হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, ‘সেটা কীভাবে?’

    জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) মানুষকে (ঘর থেকে) বেরিয়ে আসতে বলছেন এবং ঢাকা ও অন্যান্য শহরের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে বলছেন। তাঁর অডিও ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে তিনি তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি (ঢাল হিসেবে) সঙ্গে রাখতে বলছেন, যেন পুলিশ বাধা দিলে তাঁরা বলতে পারেন, বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। এটি অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ।’

    হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, ‘তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আপনার সরকার ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয়েছে। ভারতকে সরাসরি এ অনুরোধ করা হলো না কেন? এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে।’

    জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘তাঁকে ফিরিয়ে আনতে আমরা সব আইনি পথ অবলম্বন করব।’

    হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে এখনো আপনার সরকার (শেখ হাসিনার) প্রত্যার্পণের অনুরোধ জানায়নি। (ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে) একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে।’

    জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি মনে করি, কিছু আইনি ধাপ রয়েছে। আমরা সেগুলোর দিকে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা এখনো ওই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।’

    হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিচার করা হচ্ছে—এমন যুক্তি দেখিয়ে ভারত যদি (বাংলাদেশের) অনুরোধ না রাখে তাহলে কী হবে?’

    জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘আপনি কি বলছেন, ভারত চুক্তি লঙ্ঘন করবে? হ্যাঁ, (চুক্তিতে) এমন কিছু ধারা রয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার যদি তাঁকে (শেখ হাসিনা) সেখানে রাখতে এগুলো প্রয়োগ করে, তাহলে সেটা আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলবে না। আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ খুব কম। তাই এই সময়ে হয়তো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সবকিছু মীমাংসা করা যাবে না। তবে আমাদের পরে যে সরকারই আসুক না কেন, তারা এটা ক্ষমা করবে না।’

  • জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৩৭ সাংবাদিকের সদস্যপদ স্থগিত

    জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৩৭ সাংবাদিকের সদস্যপদ স্থগিত

    জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গণহত্যায় উসকানি দেওয়া এবং পতিত সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার দায়ে ৩৭ জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।

    সোমবার (১৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ বিষয়টি জানানো হয়। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সদস্যপদ স্থগিত হওয়াদের মধ্যে আছেন— নূরুল আমিন প্রভাষ, জায়েদুল আহসান পিন্টু, মোজাম্মেল বাবু, আশীষ সৈকত, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সোহেল হায়দার চৌধুরী, ফারজানা রূপা, অশোক চৌধুরী, আজমল হক হেলাল, আবুল খায়ের, মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, প্রণব সাহা, নঈম নিজাম, খায়রুল আলম, আবেদ খান, সুভাষ চন্দ বাদল, জহিরুল ইসলাম মামুন (জ.ই মামুন), জাফর ওয়াজেদ, সাইফুল ইসলাম কল্লোল, পাভেল রহমান, আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, শাবান মাহমুদ, মুহম্মদ শফিকুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, শ্যামল সরকার, অজয় দাশগুপ্ত, আলমগীর হোসেন, রমাপ্রসাদ সরকার বাবু, সঞ্জয় সাহা পিয়াল, ফারাজী আজমল হোসেন, আনিসুর রহমান, এনামুল হক চৌধুরী, নাঈমুল ইসলাম খান, মো. আশরাফ আলী, মোল্লা জালাল, ইখতিয়ার উদ্দিন এবং আবু জাফর সূর্য।