Category: জাতীয়

  • বছরে দুইবারের বেশি বিদেশ যেতে পারবেন না চিকিৎসকরা

    বছরে দুইবারের বেশি বিদেশ যেতে পারবেন না চিকিৎসকরা

    চিকিৎসকদের বিদেশে সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা ইত্যাদিতে অংশহণের ক্ষেত্রে কোন প্রার্থী বছরে সর্বোচ্চ দুই বার বিদেশের সভা-সেমিনারে যাওয়ার নির্দেশনাসহ ১১টি নীতিমালা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

    রোববার মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুল হাই স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, ‘পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরত চিকিৎসকদের বৈদেশিক সেমিনার, সভা, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা ইত্যাদিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত নীতিমালা অনুসরণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।’

    যেসব নীতিমালা: 

    কোন প্রার্থী বছরে (সর্বশেষ ১২ মাস) সর্বোচ্চ দুই বার বৈদেশিক সেমিনার, সভা, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা ইত্যাদিতে যেতে পারবেন।

    প্রার্থী যে বিষয়ে অভিজ্ঞ বা যে বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত (দায়িত্ব পালনরত) কেবল সেই বিষয়ে আমন্ত্রিত হতে পারবেন।

    প্রার্থী যে বিষয়ে অধ্যয়নরত সেই বিষয়ে আমন্ত্রিত হয়ে গমন করতে পারবেন।

    আমন্ত্রণকারী সংস্থার নিজস্ব ডোমেইনভুক্ত ওয়েবমেইল হতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ওয়েবমেইলে ([email protected], cc: [email protected]) আমন্ত্রণপত্রের অনুলিপি বা কপি পাঠাতে হবে।

    আমন্ত্রণকারী সংস্থা যাবতীয় খরচ (ভিসা ফি, উভয় পথের বিমানভাড়া, আবাসন ব্যবস্থা বা খরচ ইত্যাদি) বহন করবেন মর্মে আমন্ত্রণকারী সংস্থা হতে প্রত্যয়নপত্র প্রমাণক হিসেবে দাখিল করতে হবে।

    বৈদেশিক সেমিনার, সভা, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা ইত্যাদিতে গমনপূর্বক ফেরত আসার পর একটি প্রতিবেদন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে (প্রশাসন-১) শাখায় দাখিল করতে হবে।

    তৃতীয় পক্ষ খরচ বহন করবে, এ রকম যেকোন আবেদন সরাসরি বিবেচনার বাহিরে থাকবে।

    বৈদেশিক সেমিনার, সভা, সিম্পোজিয়াম বা প্রশিক্ষণ কর্মশালা ইত্যাদিতে অংশগ্রহণের প্রমাণস্বরূপ প্রোগ্রামে যোগদানের ও সমাপ্তি দিনের ছবি দাখিল করতে হবে।

    যথাযথ মাধ্যমে অগ্রায়নকৃত আবেদনে প্রতিষ্ঠান বা দপ্তর প্রধান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশ থাকতে হবে।

    অগ্রায়নের পূর্বে প্রতিষ্ঠান বা দপ্তর প্রধান প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্র ১নং হতে ৯নং ক্রমিকে বর্ণিত শর্তাদি যাচাই করে সঠিক পাওয়া গেলো (Verified and Found Ok) মর্মে প্রত্যায়িত করতে হবে।

    অন্যান্য বিষয় যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিবেচ্য মনে করেন।

    ‘উপরিউক্ত নির্দেশনাসমূহ আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখ থেকে চিকিৎসকদের আমন্ত্রণের ভিত্তিতে বিদেশে সেমিনার, সভা, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা ইত্যাদিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হলো’, বলা হয় অফিস আদেশে।

  • আইজিপির বাসভবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

    আইজিপির বাসভবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

    বদলি-পদোন্নতির তদবিরের জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বাসায় পুলিশ সদস্যদের যাতায়াতের সুযোগ আর থাকছে না। বর্তমান আইজিপি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বদলি বা পদোন্নতির তদবিরের জন্য তার বাসভবনে অনুমতি ছাড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তার বাসভবনে যাওয়ার আগে অনুমতি নিতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। 

    পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, আইজিপির বাসায় প্রায়ই পুলিশ সদস্যদের ভিড় থাকতো। তারা বিভিন্ন দাবি কিংবা তদবির নিয়ে যেতেন আইজিপির বাসায়। এক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতো। বর্তমানে সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া এখন আইজিপির বাসভবনে কোনও পুলিশ সদস্য যেতে পারবেন না।

    শনিবার (২৩ নভেম্বর) পুলিশ সদর দফতর  অতিরিক্ত ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    আদেশে বলা হয়, পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সাক্ষাতের জন্য বাসভবনে যেতে হলে পূর্বানুমতি প্রয়োজন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের সব সদস্যকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

    আদেশের কপিটি পাঠানো হয়েছে, পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন), র‍্যাব মহাপরিচালক, সিআইডি প্রধান, পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর, রেলওয়ে পুলিশের প্রধান, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান, আর্মড পুলিশের প্রধান, সারদা পুলিশ একাডেমি, নৌ পুলিশের প্রধান, ডিএমপি কমিশনার, ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান, এসবি প্রধান, শিল্পাঞ্চল পুলিশ প্রধান, পিবিআই প্রধান, এটিইউ প্রধান এবং কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল।

    এছাড়াও সব রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার, অতিরিক্ত ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপারদের আদেশের কপিটি পাঠানো হয়েছে।

    এর আগে গত ২০ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পান বাহারুল আলম।

  • তারেক রহমানের নামে মামলা প্রত্যাহার হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন ফারুকের

    তারেক রহমানের নামে মামলা প্রত্যাহার হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন ফারুকের

    বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, তিন মাস অতিবাহিত হলো। এখনো কেন তারেক রহমান দেশে আসতে পারেনি? এখনো কেন তার নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হলো না? সরকারের কাছে প্রত্যাশা তারেক রহমানসহ যাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে, সব মামলা প্রত্যাহার করুন।

    রোববার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নবীন দল আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, সরকারের কাছে সবাই দাবি জানায়। তবে এমন কোনো দাবি করা উচিত নয় যাতে জনগণের মনে অশান্তির সৃষ্টি হয়। জনগণের জন্য যেসব দাবি, সেসব দাবি নিয়ে কথা বলার অধিকার ৫ আগস্টের পরে এ সরকার দিয়েছে। দুই হাজারের ওপরে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে আমাদের কথা বলার অধিকার দিয়েছে। তাই এ সরকারের বিরুদ্ধে এখনই কথা বলার সময় নয়।

    অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। যে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে। তারা তাদের ভোট দিতে পারবে। তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারবে। তাই আর দেরি নয়। দেরি করলেই ষড়যন্ত্র শুরু হবে। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। আপনারা (অন্তর্বর্তী সরকার) সংস্কার করুন। তবে এমন সংস্কার করবেন না যাতে নির্বাচন দেরি হয়ে যায়।

    নবীন দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন, গণতান্ত্রিক পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর আমির হোসেন আমু, নবীন দলের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ প্রমুখ।

  • নির্বাচন কবে, সেই ঘোষণা হবে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে, বাকিদের কথা ব্যক্তিগত: প্রেস উইং

    নির্বাচন কবে, সেই ঘোষণা হবে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে, বাকিদের কথা ব্যক্তিগত: প্রেস উইং

    আগামী নির্বাচন কবে হবে, তা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হবে। এ নিয়ে বাকিরা যাঁরা কথা বলছেন, সেগুলো তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত। এ কথা বলেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

    আজ রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। এখন মানুষের জানার আগ্রহ, কবে নির্বাচন হতে পারে। এর মধ্যে একজন উপদেষ্টা লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে নির্বাচন হতে পারে, যা গণমাধ্যমে এসেছে। আসলে নির্বাচন কবে হতে পারে?

    এই প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, এখন পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা বা তাঁর দপ্তর থেকে নির্বাচনের কোনো তারিখ দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের তারিখ তিনিই ঘোষণা দেবেন এবং তাঁর পক্ষ থেকেই দেওয়া হবে। বাকি যাঁরা বলেছেন, তা নিজেদের মতামত।

    আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার আরেক উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, প্রত্যেকে তাঁর মতামত দিতে পারেন। কিন্তু সরকার নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে সম্পূর্ণ আইন মেনে।

    আরেক প্রশ্নের জবাবে উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার বলেন, গুম কমিশন সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি বা জমা দেয়নি। কিছুদিন আগে প্রধান উপদেষ্টাসহ আরও কয়েকজন উপদেষ্টা মিলে গুম কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তাঁরা একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেবেন। তার ভিত্তিতে সরকার যদি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন মনে করে, তাহলে ব্যবস্থা নেবে।

    ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে সরকার আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান চায় জানিয়ে উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

    এ বিষয়ে করা আরেক প্রশ্নের জবাবে আজাদ মজুমদার বলেন, বিষয়টি যেহেতু এখন আদালতে আছে, আইনি প্রক্রিয়াতেই সরকার এর সমাধান চায়।

    ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরসহ সাংবাদিকদের হয়রানি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার বলেন, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। নিউ এজ সম্পাদকের ঘটনার বিষয়ে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে, অন্য কোনো বিষয়েও যদি সরকারের নজরে আনা হয়, তাহলে ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নজরে আনা না হলেও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মেনে কাজ করা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত তালিকা সংশোধন করার জন্য ‘ম্যানুয়ালি’ (হাতে-কলমে) কাজ করা হচ্ছে। তাঁরা আশা করছেন, এ ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

    এ বিষয়ে একটি নীতিমালা করার বিষয়টি বিবেচনায় আছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এখানে ভিন্নমতের ব্যক্তি বা সাংবাদিকদের নাম থাকবে না। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বলে ওনাকে বিদেশে গমনে বিরত রাখতে হবে বা আদালতের আদেশ থাকে। এই পুরো বিষয়গুলো যাতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে থাকে। তিনি বলেন, ‘একটি স্বচ্ছ নীতিমালা, যেটা আপনিও জানতে পারবেন, বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিকও এই বিষয়টি জানতে পারবেন।’

  • নতুন নির্বাচন কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করল জাতীয় নাগরিক কমিটি

    নতুন নির্বাচন কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করল জাতীয় নাগরিক কমিটি

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত আইনের অধীনে গঠিত নতুন নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। সংগঠনটি বলেছে, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করে অন্তর্বর্তী সরকার ইসি গঠন করতে বাধ্য হয়েছে। এটি গণ–অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’

    নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের আগে ইসি গঠনের প্রতিবাদে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে ওই বক্তব্য তুলে ধরেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

    এদিকে আজই শপথ নিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন কমিশনার। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত অনুসন্ধান কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি গত বৃহস্পতিবার অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ এম এম নাসির উদ্দীনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলে তৈরি আইনে এই নিয়োগ ও শপথের বিষয়েই বিরোধিতা জাতীয় নাগরিক কমিটির।

    সংগঠনটির সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন। তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে তৎকালীন অবৈধ ও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের একটি আইন প্রণয়ন করেছিল, যা “প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইন-২০২২” হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের ওই আইন তখন বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল প্রত্যাখ্যান করেছিল। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছি, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ওই আইনের অধীনে নির্বাচন কমিশন গঠনের সার্চ কমিটি গঠন করে। অথচ জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ওই আইন বাতিল করাটাই যুক্তিযুক্ত হতো।’

    লিখিত বক্তব্যে এ–ও বলা হয়, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনব্যবস্থা সম্পর্কে সার্বিক প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করা তাদের কাজ। বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ওই কমিশন কাজ শুরু করেছে দুই মাসও হয়নি। তাদের প্রথম কাজই হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের পদ্ধতি ঠিক করা। তারা কোনো প্রস্তাব দেওয়ার আগেই ইতিমধ্যে সরকার ইসি গঠনের জন্য সার্চ কমিটি গঠন করে।

    নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও আইনটি বদলানোর পক্ষে বলে উল্লেখ করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। সংগঠনটি বলেছে, ইতিমধ্যে সংস্কার কমিশন একটি নতুন আইনের খসড়া তৈরি করেছে, যা সরকারের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। সার্চ কমিটি গঠন করে ফেলায় এ কাজ আর এগোবে কি না, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। ইসি গঠনে সার্চ কমিটি গঠনের আগে সংস্কার কমিশনের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তবে সার্চ কমিটি গঠিত হয়ে যাওয়ার পর এই দফায় কমিশন গঠনের জন্য নিয়োগের আইনটির সংস্কার অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

    সরকারের ইসি গঠনের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় জাতীয় নাগরিক কমিটি। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই সরকার গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী জনগণের অভিপ্রায়কে পুরোপুরি ধারণ করতে পারছে না। আজও ফ্যাসিবাদী সরকারের রাষ্ট্রপতি বহাল রয়েছেন, যিনি গণহত্যাকারী হাসিনার হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর অধীনে কোনো ধরনের নিয়োগ বৈধ হতে পারে না। জাতীয় নাগরিক কমিটি অবৈধ রাষ্ট্রপতির অধীনে ফ্যাসিস্ট আইনি কাঠামোয় গঠিত নির্বাচন কমিশন প্রত্যাখ্যান করছে এবং অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনসহ আইনটি বাতিল করে নতুন আইনের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের জোর দাবি জানাচ্ছে। আওয়ামী লীগের কালাকানুনের অধীনে ইসি গঠন করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে কলঙ্কিত করেছে।

    নির্বাচন কমিশন সংস্কারের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করে সরকার নির্বাচন কমিশন গঠন করতে বাধ্য হয়েছে বলে জাতীয় নাগরিক কমিটির লিখিত বক্তব্যে মন্তব্য করা হয়। বলা হয়, এ কাজ গণ–অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। বাংলাদেশের সর্বস্তরের ছাত্র ও জনগণ অভ্যুত্থানের শরিক। কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। জাতীয় নাগরিক কমিটি বলেছে, তারা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্য উপদেষ্টাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন দেখতে চায়। ড. ইউনূস দৃঢ়তার সঙ্গে সঠিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেবেন বলে শিক্ষার্থী, তরুণসমাজ ও অভ্যুত্থানের শরিকেরা প্রত্যাশা করেন।

    তিন মাসের বেশি সময় ক্ষমতায় থেকে এই সরকার ইতিমধ্যে কাজের ক্ষেত্র ও সীমা অতিক্রম করেছে উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই সরকার গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত। কাজেই সরকারকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি ধারণ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে নির্বাচন নিয়ে তড়িঘড়ি করা যাবে না। এক বছর বা তার কিছু বেশি সময় ক্ষমতায় থেকে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্পন্ন না করে নির্বাচন দিয়ে বিদায় নিলে এই সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাজ তিন মাসের বেশি সময়ে নিষ্পন্ন করার অভিযোগে অভিযুক্ত হবে, যা সরকারের বৈধতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

    নাগরিক কমিটি আরও বলেছে, ‘ড. ইউনূসকে মনে রাখতে হবে, তিনি ছাত্র-জনতার দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত। তরুণ শিক্ষার্থী সমাজসহ আপামর জনগণের কাছেই তিনি দায়বদ্ধ। রাজনৈতিক দলগুলো না চাইলে সংস্কার হবে না, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য আমরা তাঁর কাছ থেকে শুনতে চাই না। জনগণ গণ–অভ্যুত্থানের স্পিরিটবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।’

    লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘এখনো সরকারের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এই সরকার জনগণের অভিপ্রায়কে প্রতিনিধিত্ব করবে তথা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়াই তড়িঘড়ি করে নির্বাচন আয়োজন করার দিকে অগ্রসর হবে না, এটাই আমাদের দাবি। ড. ইউনূস ও তাঁর সরকারকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ফ্যাসিবাদী ও অবৈধ সংবিধানের আইনি কাঠামোয় নির্বাচন দিতে এত শহীদ প্রাণ দেননি। তা ছাড়া গণ–অভ্যুত্থানের দাবি কেবল নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা বিলোপের লক্ষ্যে সব ধরনের সংস্কার-পদক্ষেপ গ্রহণ করা না গেলে অভ্যুত্থানের লক্ষ্য অর্জিত হবে না এবং তা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানির শামিল।’

    সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সদস্য সারোয়ার তুষার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

  • অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সিইসি

    অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সিইসি

    নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, ‘অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা এই জাতিকে একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেব।’

    আজ রোববার শপথ গ্রহণ শেষে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বের হওয়ার সময় মূল ভবনের প্রবেশপথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিইসি। এ সময় নির্বাচন কমিশনাররা সঙ্গে ছিলেন।

    নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ফার্স্ট অব অল শপথ নিয়েছি। শপথের সম্মানটা রাখতে চাই। শপথ সমুন্নত রাখতে চাই। আমি এটাকে নিজের জীবনের বড় অপরচুনিটি হিসেবে দেখছি, এই দায়িত্বটাকে। অপরচুনিটি টু সার্ভ দ্য নেশন। দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অবাধ ও নিরপেক্ষ একটা নির্বাচনের জন্য অনেক সংগ্রাম করেছে। অনেক আন্দোলন করেছে বিগত বছরগুলোয় এবং অনেকে রক্ত দিয়েছে। আমি তাদের একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ জন্য সর্বোচ্চটুকু করব।’

    সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবাই মিলে, আপনাদের সবার সহযোগিতা নিয়েই কিন্তু (নির্বাচন) করতে হবে। আমরা একা পারব না। আপনাদের সহযোগিতা লাগবে। দেশবাসীর সহযোগিতা লাগবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা লাগবে। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা এই জাতিকে একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেব।’

    ভোটার তালিকা করতে হবে

    এক প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দীন বলেন, ‘সংস্কার একটা চলমান প্রক্রিয়া। একটা নির্বাচন করতে গেলে কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কার তো লাগবেই। উদাহরণ—এখন নানা রকম কথা হচ্ছে। কেউ প্রোপরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন, আবার কেউ বলে আগের সিস্টেমে ইলেকশন। সংবিধানে যদি এটা ফয়সালা না হয়, আমরা নির্বাচনটা করব কীভাবে? নির্বাচন করতে গেলে নতুন প্রজন্ম, যারা ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে বছরের পর বছর, তাদের তো ভোটার তালিকায় আনতে হবে। ভোটার তালিকা করতে হবে।…কোথায় কোথায় সংস্কার দরকার হবে, ইন্টারভেনশন দরকার হবে, সেটি পাব, যেহেতু নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের জন্য একটা কমিশন কাজ করছে। পরামর্শ আসুক, আমরা দেখি কোনটা কোনটা গ্রহণযোগ্য হয়। যেগুলো গ্রহণযোগ্য হবে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে আমাদের।’

    সংবিধান ঠিক না হলে যাত্রা এলোপাতাড়ি হয়ে যাবে

    সংবিধান সংস্কার কমিশন কাজ করছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘তাঁরাও সংবিধানের বিষয়ে সাজেশন দেবেন। …আমি ও আমার টিম সংবিধানের প্রোডাক্ট। সংবিধান যদি ঠিক না হয়, তাহলে আমাদের যাত্রা এলোপাতাড়ি হয়ে যাবে। সুতরাং এ কার্যক্রমও শেষ হোক। সব সুপারিশ আসুক। বেশিদিন তো নেই। উনারা তো বলছেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। অতি অল্প সময়, আপনারা আশ্বস্ত থাকুন।’

    এবারের মতো সুযোগ আগে ছিল না বলে উল্লেখ করেন নাসির উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘শুধু আমরা নই, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন করবে। তারা ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে বলে আসছে তারা ভোটের অধিকার চায়, অবাধে ভোট দিতে চায়। সুতরাং তাদের সঙ্গে পাব। তাদের ডিমান্ডটা বাস্তবায়নে আমরা সহযোগিতা করব। সুতরাং আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। তারাও জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ।’

    কবে নির্বাচন দেবেন—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘দিনক্ষণ দিয়ে তো এখন বলা যাবে না। কিছু সংস্কার, যেগুলো দরকার আছে, সেগুলো করে…আগে আমি দায়িত্বটা নিই, একটু বুঝে নিই, কাজকর্মটা বুঝে নিই। আমাকে একটু বুঝতে তো দেবেন, ভাই।’

  • শেখ হাসিনার ভুয়া দাবি: গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে ৫ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়নি

    শেখ হাসিনার ভুয়া দাবি: গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে ৫ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়নি

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গত ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার (২৩ নভেম্বর) একটি অডিও রেকর্ড প্রচার করা হয়। সেই রেকর্ডে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে মূলত দাবি করা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

    ফ্যাক্টচেকিং বা তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে’ শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয়। রিউমার স্ক্যানার রোববার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরেছে।

    রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়, অডিওতে শেখ হাসিনা বলেন:

    ‘আবু সাঈদ গুলি খাওয়ার পর তার সঙ্গী–সাথিরা যে তাঁকে টেনে নিয়ে গেল, কোথায় নিয়ে গেল? যার গুলি লাগবে, তাকে তো সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা। হাসপাতালে নিলে, অপারেশন করবে, বুলেট বের করবে, তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে। আবু সাঈদকে কিন্তু  হাসপাতালে নেয় নাই। নিয়েছিল চার-পাঁচ ঘণ্টা পরে। চার-পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়ার পর, ডাক্তাররা যখন চিকিৎসা করে, তখন সে মৃত্যুবরণ করে।’

    শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে মূলত দাবি করা হয়েছে যে গুলিবিদ্ধ হওয়ার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

    ফ্যাক্ট চেক

    রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে’ শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয় বরং বেলা ২টা ১৮ মিনিটে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিস্তেজ হয়ে রাস্তায় ঢলে পড়ার পরই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়। তিনটার দিকেই রিকশা করে তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছানো হয়।

    রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই দ্য ডেইলি স্টার-এ বিকেল ৪টা ১ মিনিট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেদিন বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আবু সাঈদ নিহত হন। ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দিন বেলা ২টার দিকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় আহত হন আবু সাঈদ। পরে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আশিকুল আরেফিন।

    পরে রিউমার স্ক্যানার টিম অনুসন্ধানে আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় ঢলে পড়ার মুহূর্তের সময় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ঘটনার দিন বেলা ২টা ১৬ মিনিটে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ফেসবুক পেজের একটি লাইভ ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই লাইভ ভিডিওটির ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে আবু সাঈদকে গুলিবিদ্ধ হতে, ১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে তাঁকে রাস্তায় লুটিয়ে পড়তে এবং ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে কয়েকজন ব্যক্তিকে তাঁকে (সাঈদ) তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। লাইভ ভিডিওর টাইমলাইন অনুযায়ী, আবু সাঈদ বেলা ২টা ১৮ মিনিটে নিস্তেজ অবস্থায় রাস্তায় ঢলে পড়েন।

    আরও অনুসন্ধানে ‘Fahmed Riad’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সেদিন ১৬ জুলাইয়ের পোস্টে রিকশায় আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ের একটি ছবি পাওয়া যায়, যার টাইমফ্রেমে ছবিটি ২টা ২৭ মিনিটে তোলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

    অপর দিকে বেলা ৩টা ৫৯ মিনিটে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের এক প্রতিবেদনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেওয়া আবু সাঈদের মৃত্যুর প্রমাণপত্রের ছবি পাওয়া যায়। প্রমাণপত্র অনুযায়ী, আবু সাঈদকে বেলা ৩টা ৫ মিনিটে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে ঢাকা পোস্টের একটি প্রতিবেদনেও মৃত্যুর প্রমাণপত্রের অন্য একটি ছবি পাওয়া যায়।

    দৈনিক ডেইলি সানের বাংলা সংস্করণে ৪টা ১৩ মিনিটে আবু সাঈদের মৃত্যুর ব্যাপারে হাসপাতালের মৃত্যুর প্রমাণপত্রের তথ্যের বরাতে লেখা হয়, আবু সাঈদকে বেলা ৩টা ৫ মিনিটে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়।

    রিউমার স্ক্যানারের সৌজন্যে

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফেসবুক পেজ BRUR Campus এ ‘সরাসরি রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে’ শিরোনামে বেলা ৩টা ৫৯ মিনিটের একটি লাইভে শিক্ষার্থীদের আবু সাঈদের মৃত্যুর প্রতিবাদে তাঁর মৃতদেহ নিয়ে মিছিল করতে করতে রংপুর মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে মূল সড়কে আসতে দেখা যায়।

    উপরিউক্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, আবু সাঈদকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৪-৫ ঘণ্টা পর নয়, বরং সেদিন গুলিতে নিস্তেজ হয়ে ঢলে পড়ার পরই তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয় এবং বেলা ৩টার দিকে রিকশা করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আবু সাঈদের মৃত্যু

    আবু সাঈদের মৃত্যুর ২ মাস ৮ দিন পর প্রকাশিত আবু সাঈদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাঈদের মুখ থেকে ঊরু পর্যন্ত ছিল ছররা গুলির চিহ্ন। ছররা গুলি ঢুকে তাঁর শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অংশে গর্ত তৈরি করেছিল। এ কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর মাথার বাঁ দিকেও আঘাতের কারণে রক্ত জমাট ছিল।

    ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আবু সাঈদের খাদ্যনালি ও ঊরুর রক্তনালি জখমের কারণে রক্ত জমাট বাঁধে। এই রক্তক্ষরণের কারণে আবু সাঈদ শকে চলে যান ও মৃত্যু ঘটে।

    ময়নাতদন্তের বিষয়ে চিকিৎসক রাজিবুল ইসলাম বলেন, ‘অসংখ্য ছররা গুলির আঘাতে আবু সাঈদের শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয় এবং তাঁর অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া আপনারা দেখেছেন যে সাঈদ ডান পায়ে হাত দিয়ে পড়ে গিয়েছিল। তাঁর ডান ঊরুতেও ছররা গুলি লেগেছিল। সেখানে ফিমোরাল আর্টারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণেও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। তলপেটেও গুলির আঘাত ও রক্তক্ষরণ পেয়েছি। এসব আঘাতের কারণে শক ও রক্তক্ষরণের কারণে আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছে।’

    আবু সাঈদের মাথায় আঘাতের বিষয়ে রাজিবুল ইসলাম বলেন, তাঁর মাথার বাঁ দিকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সেটি তিনি পড়ে গিয়ে বা পারিপার্শ্বিক অন্য কারণে হতে পারে। তবে এটি মৃত্যুর কারণ নয়। তাঁকে গুলি করা না হলে তাঁর মৃত্যু হতো না।

    উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বরে ভিন্ন এক শিক্ষার্থীর ছবিকে আবু সাঈদের দাবি করে তাঁর মৃত্যু নিয়ে অপতথ্য প্রচার হলে সে বিষয়ে একটি ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে রিউমার স্ক্যানার টিম। সে সময় ওই পোস্টগুলোতেও আবু সাঈদকে ৫ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়ার দাবি করা হয়েছিল, যা ওই ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে অসত্য হিসেবে শনাক্ত করে রিউমার স্ক্যানার।

    সবশেষে রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুতরাং গুলিবিদ্ধ হওয়ার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল দাবিতে প্রচারিত বিষয়টি মিথ্যা।

  • একাত্তরের ভুল প্রমাণিত হলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইব: জামায়াত আমির

    একাত্তরের ভুল প্রমাণিত হলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইব: জামায়াত আমির

    একাত্তরের ভুল যদি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় তাহলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইব বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে যুক্তরাজ্যে বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, একাত্তরে আমরা কোনো ভুল করে থাকলে এবং তা যদি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, আমি জাতির কাছে ক্ষমা চাইব। ওয়ার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের নামে যে বিচার হয়েছে তার অবজারভেশনে এখানকার বিচারপতিরা সে রায়কে জেনোসাইড অব জাস্টিস বলেছে।

    গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দিন। এ অভ্যুত্থানে দেশের সকল শ্রেণির মানুষ অংশ গ্রহণ করেছিল। এমনকি দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রত্যেকেই যার যার সাধ্য অনুযায়ী আমাদের সাথে যুদ্ধ করেছেন।

    তিনি বলেন, জাতিগতভাবে অনৈক্য এবং দুর্নীতির কারণে আমরা জাতি হিসেবে আগাতে পারিনি। দুর্নীতি আমাদের জন্য একটি জাতীয় লজ্জার বিষয়। যুক্তরাজ্য নিজেদের দুর্নীতি থেকে অনেকটা মুক্ত রাখতে পারার কারণে সারা বিশ্বে নিজেদের একটা মর্যাদাপূর্ণ স্থানে নিয়ে যেতে পেরেছে। কিন্তু আমরা পারিনি। যারা সমাজ পরিচালনা করবেন তারা পরিচ্ছন্ন না হলে সমাজ পরিচ্ছন্ন হবে না।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা। আবু সালেহ ইয়াহইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইমাম উদ্দিন এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন শিল্পী কামাল হোসাইন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বাংলা মিডিয়ার অর্ধশতকেরও বেশি সাংবাদিক এতে অংশ নেন।

  • নতুন আইজিপি বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাদ আলী

    নতুন আইজিপি বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাদ আলী

    পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন বাহারুল আলম। আর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শেখ সাজ্জাদ আলী। বুধবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তাদের নিয়োগের কথা জানান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

    জানা গেছে, বর্তমান আইজিপি মো. ময়নুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বাহারুল আলম। তিনি ২০২০ সালে পুলিশের চাকরি থেকে অবসরে গিয়েছিলেন। তিনি পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধানসহ সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শান্তি রক্ষা বিভাগে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের সিনিয়র পুলিশ অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন। এর আগে ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, কসোভো ও সিয়েরা লিওনে দায়িত্ব পালন করেন বাহারুল আলম।

    অন্যদিকে সাজ্জাত আলী বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে ১৯৮৪ সালে পুলিশে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি একসময় ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ছিলেন। তাছাড়া সাজ্জাত আলী লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন। চাকরি জীবনে তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশ গঠন হলে সেখানেও ডিআইজির দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ সদরদপ্তরে কর্মরত ছিলেন।

    ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মো. ময়নুল ইসলামকে আইজিপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর কিছু দিনের মধ্যে ডিএমপি কমিশনার করা হয়েছিল মো. মাইনুল হাসানকে।

  • ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নিয়ে যা জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নিয়ে যা জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে ঢাকা সফর করবে ভারতের একটি প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশ-ভারত ফরেন অফিস কনসালটেশনের (এফওসি) পরবর্তী রাউন্ডে যোগ দিতে তাদের এই সফর।

    এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘এটি প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টারই ইঙ্গিত।’

    বুধবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা (ঢাকা-দিল্লি) স্বাভাবিক (দ্বিপক্ষীয়) সম্পর্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছি এবং এফওসি হবে সেদিকে এগোনোর প্রথম পদক্ষেপ।’

    এই সফরে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।

    বাংলাদেশ ও ভারত–দুই দেশের জন্য দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্ক প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। আমি বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

    বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জগুলো স্বীকার করে তৌহিদ বলেন, ‘কিছু সমস্যা থাকতে পারে, এটা স্বাভাবিক। যখন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়, তখন কিছু সমস্যা দেখা দেয়। উভয়পক্ষের সুবিধার জন্য এই সমস্যাগুলো অতিক্রম করে একটি ভালো কর্ম সম্পর্ক তৈরি করা আমাদের লক্ষ্য।’

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের কারণে দুদেশের মধ্যে ‘সম্পর্কের উন্নতির জটিলতা’ সম্পর্কে জানতে চাইলে তৌহিদ বলেন, তিনি প্রতিবেশী দেশে না থাকলে, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ হতো।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন এফওসিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। দলটিতে ঐতিহ্যগতভাবে স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ও খাদ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

    সফরকালে বিক্রম বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে বার্ষিক এফওসি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।