Category: আন্তর্জাতিক

  • তাজমহলকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

    তাজমহলকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

    ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় সম্রাট শাহজাহান নির্মিত অমূল্য নিদর্শন তাজমহলকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) আগ্রায় উত্তরপ্রদেশ রাজ্য পর্যটনের আঞ্চলিক অফিসের ই-মেইলে এই হুমকি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

    ই-মেইলে এই হুমকি পাওয়ার পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ মঙ্গলবার তাজমহলের ভেতরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বোমা কিংবা বিস্ফোরকের সন্ধান পায়নি পুলিশ।

    দেশটির বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বোমা হামলা চালিয়ে তাজমহল উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই হুমকি দিয়ে উত্তর প্রদেশ পুলিশের কাছে একটি ই-মেইল পাঠিয়েছেন অজ্ঞাত ব্যক্তি।

    পরে পুলিশের সদস্যরা তাজমহলের ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। তবে সেখান থেকে কোনো ধরনের বিস্ফোরক কিংবা বোমা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনা তদন্তে উত্তরপ্রদেশ সাইবার ক্রাইম বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাইবার ক্রাইম বিভাগ ইতোমধ্যে হুমকিদাতার অবস্থান শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

    পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ই-মেইলে হুমকি পাওয়ার পরপরই তাজমহলের ভেতরে ও বাইরে তল্লাশি চালানো হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী সিআইএসএফের জওয়ানরা দীর্ঘক্ষণ ধরে এই তল্লাশি চালিয়েছেন। এছাড়া তাজমহলের আশপাশের এলাকায়ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক কোনো বস্তু উদ্ধার হয়নি।

  • বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তিসেনা পাঠানোর প্রস্তাব মমতার

    বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তিসেনা পাঠানোর প্রস্তাব মমতার

    বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি সেখানকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘের শান্তিসেনা পাঠানোর প্রস্তাব করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দিয়ে মমতা বাংলাদেশে শান্তিসেনা পাঠানোর জন্য ভারত সরকারকে জাতিসংঘের সঙ্গে কথা বলার আর্জি জানান তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রস্তাব-জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশে শান্তিসেনা পাঠানোর আর্জি জানাক। আরও একবার দল ও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থানের সঙ্গে আমরা সহমত পোষণ করি।

    একইসঙ্গে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বিবৃতি দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে সংসদে বিবৃতি দিন প্রধানমন্ত্রী। যদি তার কোনও অসুবিধা থাকে, তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিবৃতি দিন। বাংলাদেশ নিয়ে ভারত সরকার চুপ করে রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা।

    বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আরও একবার দল ও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে মমতা জানান, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রাজ্য সরকারের নেই। তাই তারা কেন্দ্রের পরামর্শ মেনে চলবেন।

    বাংলাদেশে ভারতীয়রা আক্রান্ত হলে তার সরকার সহ্য করবে না বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশে ভারতীয়রা আক্রান্ত হন, তবে আমরা তা সহ্য করব না। এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, আমাদের পরিবার, সম্পত্তি ও প্রিয় মানুষেরা বাংলাদেশে রয়েছেন। ভারত সরকার বাংলাদেশ নিয়ে যে অবস্থান নেবে, আমরা তা গ্রহণ করব। কিন্তু বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ধর্মীয় কারণে কেউ অত্যাচারিত হলে আমরা তার নিন্দা জানাই। আমরা এই বিষয়ে ভারত সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানাচ্ছি।

    বাংলাদেশ নিয়ে কেন্দ্র চুপ করে রয়েছে মর্মে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি গত ১০ দিন ধরে দেখছি কেন্দ্রীয় সরকার চুপ করে রয়েছে। অথচ তাদের দল বলছে সব আটকে দেব। কিন্তু এই বিষয়ে আমাদের কোনও এখতিয়ার নেই।

    ওয়াকফ বিল নিয়ে বিধানসভায় আলোচনার পর যে লিখিত প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে যাবে, তার সঙ্গে শান্তিসেনা সংক্রান্ত প্রস্তাবও থাকবে বলে জানান মমতা।

    এদিকে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ‘নির্যাতন’ ও ‘সন্ন্যাসীদের গ্রেপ্তারের’ প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। বিজেপির সমর্থনে সীমান্তে অবরোধ কর্মসূচি চলছে। দিল্লিতেও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতৃত্বে  চলছে প্রতিবাদ বিক্ষোভ।

  • বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হলো ভারতের হোটেল

    বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হলো ভারতের হোটেল

    ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সব হোটেল বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোটেল মালিকরা।

    রোববার (২ ডিসেম্বর) ত্রিপুরার হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ত্রিপুরার সংবাদমাধ্যম জাগরণ ত্রিপুরা জানিয়েছে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কথিত নির্যাতন এবং বাংলাদেশে ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননার প্রতিবাদে এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে হোটেল অ্যাসোসিয়েশন।

    এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সচিব সৈকত ব্যান্যার্জী বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন এবং সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যের সব হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে। তবে যারা পূর্বে থেকে হোটেলের পরিষেবা নিচ্ছেন, তাদের শুধু থাকতে দেওয়া হবে। অন্যদের পরিষেবা দেওয়া হবে না।

    এছাড়া, সাময়িক সময়ের জন্য প্রত্যেক রেস্তোরাঁর সামনে স্টিকার লাগানো হবে। বাংলাদেশিদের ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

  • আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভাঙচুর-পতাকা অবমাননা, ভারতের দুঃখ প্রকাশ

    আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভাঙচুর-পতাকা অবমাননা, ভারতের দুঃখ প্রকাশ

    ভারতের আগরতলার কুঞ্জবনে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হামলা, ভাঙচুর ও জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। সোমবারের এই হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    সোমবার (২ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আগরতলায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রাঙ্গণ ভাঙার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। কোনও অবস্থাতেই কূটনৈতিক এবং কনস্যুলার সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি/সহকারী হাইকমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতন ইস্যুতে ভারতে একের পর এক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে এবার আগরতলার ত্রিপুরায় অবস্থিত বাংলাদেশি সহকারী হাই কমিশনে হামলা চালিয়েছে উগ্র ভারতীয়রা। ইসকনের সাবেক সদস্য চিন্ময় দাস প্রভুকে অবৈধভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ভারতের ডানপপন্থী সংস্থা ‘হিন্দু সংগ্রাম স্মৃতি’ ত্রিপুরায় বাংলাদেশি সহকারী হাই কমিশনে হামলা চালায়।

    ভারতের দুঃখ প্রকাশ

    কোলকাতা ২৪ এর খবরে বলা হয়, বিজেপি শাসিত রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় থাকা বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে আন্দোলনকারীরা আচমকা নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ঢুকে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা খুলে নিয়ে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভটি সার্কিট হাউসের মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তার পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে বাংলাদেশি সহকারী হাইকমিশনারের অফিসে প্রবেশ করে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায়। পশ্চিম ত্রিপুরার এসপি ড. কিরান কুমা এবং ডিজিপি অনুরাগ ধানকার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

  • দ্রুত গতিতে ইউক্রেনে অগ্রসর হচ্ছে রুশ বাহিনী

    দ্রুত গতিতে ইউক্রেনে অগ্রসর হচ্ছে রুশ বাহিনী

    ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ বাহিনী দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। গত এক মাসে তারা বড় ধরনের এলাকা দখল করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এটি রাশিয়ার ইউক্রেনের দিকে সবচেয়ে দ্রুত অগ্রগতি। খবর রয়টার্সের।

    ওপেন সোর্স মানচিত্র অনুযায়ী, রাশিয়া এখন ইউক্রেনের ১৮% এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে পুরো ক্রিমিয়া, ডনবাসের ৮০% (লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক), এবং জাপোরিজঝিয়া ও খেরসনের ৭০% অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া খারকিভের ৩% এলাকাও রয়েছে তাদের নিয়ন্ত্রণে।

    রুশ বাহিনী গত এক সপ্তাহে ২৩৫ বর্গকিলোমিটার দখল করেছে। নভেম্বরে তারা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা। এজেন্টস্টভো এক প্রতিবেদনে বলেছে, রাশিয়া দখলকৃত এলাকার জন্য সাপ্তাহিক ও মাসিক নতুন রেকর্ড গড়ছে।

    রাশিয়া জুলাই থেকে পূর্ব ইউক্রেনে অগ্রসর হতে থাকে। একই সময়ে ইউক্রেন পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরস্কের একটি ছোট অংশ দখল করে। এরপর রাশিয়ার অগ্রগতি দ্রুত বাড়তে থাকে।

    দোনেৎস্ক অঞ্চলে রুশ বাহিনী পোকরোভস্ক শহরের দিকে অগ্রসর হয়েছে। তারা কুরাখোভ শহরেও প্রবেশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ধীরে ধীরে এলাকাগুলো ঘেরাও করছে। এরপর আর্টিলারি ও গ্লাইড বোমা দিয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে।

    ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার দখলকৃত সব এলাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত শান্তি সম্ভব নয়। তবে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী সৈন্য ও সরঞ্জাম সরবরাহে চাপের মুখে রয়েছে।

    পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হতে পারে। দুই পক্ষেরই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এই সংঘাতে লাখ লাখ মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে থাকবেন বাইডেন

    ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে থাকবেন বাইডেন

    নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী বছরের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন। তার অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সোমবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    ২০২০ সালের নির্বাচনে বাইডেনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু তিনি তার পরাজয় মানতে অস্বীকৃতি জানান। নির্বাচনে জালিয়াতির ভুয়া অভিযোগ তোলেন। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন বাইডেন। কিন্তু রেওয়াজ ভেঙে তার অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন ট্রাম্প।

    তবে ট্রাম্পের পথে হাঁটছেন না বাইডেন। তিনি ট্রাম্পের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জানিয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি মার্কিন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি বাইডেনের অঙ্গীকার।

    হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি অ্যান্ড্রু বেটস সাংবাদিকদের বলেছেন, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট আগেই অঙ্গীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের নির্বাচনে যিনিই জয়ী হোন না কেন, তার অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন।

    অ্যান্ড্রু বেটস আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট (জো বাইডেন) ও ফার্স্ট লেডি (জিল বাইডেন) সেই অঙ্গীকারের প্রতি সম্মান দেখাতে যাচ্ছেন। তারা অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

    ৫ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ও বর্তমান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে পরাজিত করেন রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসে ফিরছেন। তিনি তার প্রশাসন সাজানোর কাজ ইতিমধ্যে শেষ করেছেন।

  • রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া ব্রিটিশ নাগরিক আটক

    রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া ব্রিটিশ নাগরিক আটক

    রাশিয়ার দখলকৃত কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর হয়ে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া এক ব্রিটিশ ভাড়াটে সেনাকে আটক করেছেন রুশ সেনারা।

    রোববার রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা টাস এবং অন্যান্য গণমাধ্যম ওই ব্রিটিশ নাগরিককে জেমস স্কট রিস অ্যান্ডারসন বলে শনাক্ত করেছে।

    টাস জানিয়েছে, ব্রিটেনের এক ভাড়াটে সেনাকে আটক করা হয়েছে। তিনি তার নাম জেমস স্কট রিস অ্যান্ডারসন বলে জানিয়েছেন। তার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    বার্তা পাঠানোর মাধ্যম টেলিগ্রামে রাশিয়াপন্থি একটি চ্যানেলে গতকাল পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনাবাহিনীর পোশাক পরা এক তরুণ হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। পেছন থেকে তার হাত বাঁধা। তিনি জানান, তার নাম জেমস স্কট রিস অ্যান্ডারসন এবং তিনি একসময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন।

    তবে বার্তাসংস্থা রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে ওই ভিডিও এবং আরআইএ ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে, তা-ও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্তব্য জানতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

    বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে বলেছে, ওই নাগরিক আটক হওয়ার পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে তারা।

    ইউক্রেনের সেনাবাহিনী গত আগস্টে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলে আচমকা হামলা চালায়। অঞ্চলটির একটি অংশ এখনো ইউক্রেনীয় সেনাদের নিয়ন্ত্রণে। কিয়েভ বলেছে, তারা এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে দখল করা ৪০ শতাংশের বেশি এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। রুশ সেনারা সেখানে পাল্টা অভিযান জোরদার করেছেন।

     

     

  • কী ঘটছে পাকিস্তানে, কতদিন চলবে?

    কী ঘটছে পাকিস্তানে, কতদিন চলবে?

    ব্যারিকেড ভেঙে রাজধানী ইসলামাবাদে প্রবেশ করেছে পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের হাজারও সমর্থক। মঙ্গলবার সকালেই রাজধানীর চারপাশে স্থাপিত ব্যারিকেড ভেঙে ইসলামাবাদে প্রবেশ করেন তারা। এ সময় তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। সংঘর্ষে ইতোমধ্যে ছয়জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন—এর খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ ঠেকাতে পাকিস্তান সরকার সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করেছে, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে এবং রাজধানীতে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোতে ব্যারিকেড স্থাপন করেছিল, যাতে বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করতে না পারে। এর আগে ইমরান খান তার সমর্থকদের পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল করার আহ্বান জানান।

    পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি সাংবাদিকদের জানান, বিক্ষোভকারীরা ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে অবস্থান করতে পারে, তবে তারা শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    এই বিক্ষোভ এমন সময়ে ঘটছে, যখন ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যাপক বাড়ানো হয়েছে। কারণ বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো সোমবার তিনদিনের সফরে পাকিস্তান পৌঁছেছেন।

    কী ঘটছে

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পেশোয়ার থেকে ইমরান খানের সমর্থকদের একটি গাড়িবহর গত রোববার ‘লং মার্চের’ অংশ রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে রওনা দেয়। পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদের দূরত্ব প্রায় ১৮০ কিলোমিটার। এই গাড়িবহরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবি এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর। এই প্রদেশে খানের দল ক্ষমতায়। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের নিকটবর্তী বড় খোলা এলাকা ডি-চকে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করার পরিকল্পনা করেছিল।

    বিক্ষোভকারীরা সোমবারই ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে পৌঁছে যান। পথে তাদের ব্যাপক বাধাঁর সম্মুখীন হতে হয়। তবে এই সময়ে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং সড়কগুলো শিপিং কনটেইনার দিয়ে অবরোধ করে অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পুলিশ চৌকিতে আগুন জ্বলছে এবং মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের ঠিক বাইরে এবং পাঞ্জাব প্রদেশের অন্যান্য স্থানে ২২টি পুলিশ যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা ইসলামাবাদ শহরের প্রবেশপথগুলোতে স্থাপিত ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশ করেন এবং একটি বড় মিছিল শহরের জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করতে দেখা যায়। পরে বহরটি ইসলামাবাদের বাণিজ্যিক এলাকা ‘ব্লু এরিয়া’ হয়ে ডি-চকের দিকে অগ্রসর হয়। ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলো, যেমন পার্লামেন্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং সচিবালয়ের বাইরে সৈন্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

    বিক্ষোভ চলতে কতদিন

    পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি বলেছেন, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারপরও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের প্রতি ‘সংযম’ দেখাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি বিক্ষোভকারীরা সীমা অতিক্রম করে, তাহলে নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা গুলি চালানোর অনুমতি পেয়েছে। তিনি আরও জানান, কারফিউ জারি করা বা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করার মতো অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের ফেডারেল রাজধানী ইসলামাবাদে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশটির সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদের আওতায় রাজধানীতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর এক সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনীকে অনুচ্ছেদ ২৪৫-এর আওতায় মাঠে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অস্থিতিশীলতা এবং সশস্ত্র হামলাকারীদের শক্ত হাতে দমন করা হয়। এ ছাড়া, ‘দেখামাত্র গুলি’ করার নির্দেশও জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকভি বলেন, রেঞ্জারসরা (আধাসামরিক বাহিনী) গুলি চালাতে পারে এবং তাদের অনুমতি দেওয়া হলে—পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কোনো বিক্ষোভকারীই (ইসলামাবাদে) থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে কেউ এখানে (ডি-চকে) পৌঁছাবে, তাকেই গ্রেফতার করা হবে।

    এদিকে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এই বিক্ষোভ মিছিলকে শান্তিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে, সরকার অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। পিটিআই জানিয়েছে, প্রায় দুই ডজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

    বিগত কয়েকদিনে, বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে সরকার। পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ইমরান খানের হাজার হাজার সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাতে বিক্ষোভ মিছিল রোধ করা যায়। এই সংখ্যাটি প্রায় ৪ হাজার।

    অপরদিকে সম্ভাব্য সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইসলামাবাদ ও নিকটবর্তী রাওয়ালপিন্ডির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেবল তাই নয়, রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সব ধরনের আন্তঃনগর গণপরিবহন ও টার্মিনাল বন্ধ রাখা হয়েছে।

    পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা কামরান বঙ্গাশ বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং আমরা ইসলামাবাদে পৌঁছাবই। তিনি আরও বলেন, আমরা একে একে সব বাধা অতিক্রম করব।

     

  • ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচনের ফল পাল্টানোর মামলা বাতিল

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচনের ফল পাল্টানোর মামলা বাতিল

    আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দেশের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন, তখন তার বিরুদ্ধে কোনো ফেডেরাল ফৌজদারি অভিযোগ থাকবে না।

    ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসট্রিক্ট জাজ তানিয়া চুটকান ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বেআইনিভাবে পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ সোমবার (২৫ নভেম্বর) দ্রুত বাতিল করে দেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল কাউন্সেল জ্যাক স্মিথ আদালতে পেশ করা এক ফাইলিং-এ স্বীকার করেন, জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট বা বিচার মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘস্থায়ী রীতি অনুযায়ী তারা ক্ষমতাসীন কোন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করে না।

    আদালতে আরেকটি ফাইলিং-এ স্মিথ একটি অপেক্ষামান আপিল থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলার জন্য আটলান্টার আপিল আদালতকে অনুরোধ করেন।

    ট্রাম্প ২০২১ সালে তার মেয়াদ শেষে হোয়াইট হাউস থেকে যাবার পর তিনি শত শত রাষ্ট্রীয় গোপনীয় দলিল ফ্লোরিডায় তার বাসভবনে জড়ো করে রেখেছিলেন বলে যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেই মামালা ফ্লোরিডার এক বিচারক বাতিল করেছিলেন। স্মিথ সেই মামলা পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে আপিল করেছিলেন।

    প্রসিকিউটর বলেন, দুটি মামলার গুনগত মান এবং ন্যায্যতা নিয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই, যদিও তিনি বলছেন অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে।

    ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে ঘোষণা দেন, ‘আমাকে অন্য যেসব মামলার মুখোমুখি হতে বাধ্য করা হয়েছে, সেগুলুর মত এই মামলাগুলোও বেআইনি এবং শূন্য, এগুলো কখনোই আদালতে আনা উচিত ছিল না’।

    তিনি বলেন, করদাতাদের ১০ কোটি ডলার নষ্ট করা হয়েছে ডেমোক্র্যাট পার্টির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং আমার বিরুদ্ধে লড়াই-এর জন্য। এটা ছিল একটি রাজনৈতিক ছিনতাই, এবং আমাদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ সময়, তারপরও আমি টিকে আছি শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও, এবং জিতেছি।

    নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প অঙ্গীকার করেছিলেন, তিনি যদি জয়ী হন, তাহলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ‘দু সেকেন্ডের মধ্যেই’ জ্যাক স্মিথকে বরখাস্ত করবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের আগেই স্মিথ জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট থেকে চলে যাবার পরিকল্পনা করছিলেন।

    ওয়াশিংটনের মামলায়, রিপাবলিকান দলের প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফলে যখন দেখা যায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন তাকে পরাজিত করেছে, তখন তিনি রাজ্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিয়েছিলেন ফলাফল পাল্টে দিতে।

    প্রসিকিউটররা জাজ চুটকানকে অনুরোধ করেন মামলা ‘উইদাউট প্রেজুডিস’ বাতিল করতে, যার ফলে ২০২৯ সালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবার পর অভিযোগগুলো তার বিরুদ্ধে পুনর্জীবিত করার রাস্তা খোলা থাকবে।

    ট্রাম্পের বড় আইনগত বিজয়

    এর আগে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, মামলা পরিচালনাকারি স্পেশাল কাউন্সেল জ্যাক স্মিথ-এর পক্ষে কাজ করা প্রসিকিউটরদের এই পদক্ষেপ রিপাবলিকান দলের নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের জন্য বড় এক আইনগত বিজয়। ট্রাম্প ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং ২০ জানুয়ারি তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করবেন।

    জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের যে নীতির কথা প্রসিকিউটররা বলেছেন, সেটা ১৯৭০-এর দশক থেকে অনুসরণ করা হচ্ছে। এই নীতির সারমর্ম হচ্ছে, একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে বিচারের মুখে দাঁড় করালে তা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করা হবে, কারণ এর ফলে তিনি দেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

    নির্বাচন বানচাল করার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা তুলে নেওয়ার অনুরোধে প্রসিকিউটররা বলেন, ডিপার্টমেন্টের নীতি অনুযায়ী, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার আগেই মামলা বাতিল করতে হবে।

    প্রসিকিউটররা মামলা বাতিলের অনুরোধ করে ফাইলে লেখেন, এই ফলাফল অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আনা মামলার গুনগত মান বা মামলার ন্যায্যতার ওপর ভিত্তি করে হয়নি।

    গোপনীয় দলিল মামলা

    একইভাবে, স্মিথের দফতর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হবার পর বেআইনিভাবে গোপনীয় দলিল রেখে দেওয়ার মামলা পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টার সমাপ্তি টানার পদক্ষেপ নিয়েছে।

    তবে প্রসিকিউটররা ইঙ্গিত দেন, তারা একটি ফেডেরাল আপিল কোর্টে অনুরোধ করবে, গোপনীয় দলিল নিয়ে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে ট্রাম্পের দুজন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা ফিরিয়ে আনার জন্য।

    ট্রাম্পের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং এটাকে আইনের শাসনের জন্য বিরাট বিজয় বলে বর্ণনা করেন।

    ট্রাম্প চারটি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছিলেন – স্মিথের দায়ের করা দুটো মামলা, এবং নিউ ইয়র্ক আর জর্জিয়ার রাজ্য আদালতে দায়ের করা দুটো মামলা। নিউইয়র্ক মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন আর জর্জিয়ার মামলাটা ঝুলে আছে।

    সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা এক মন্তব্যে ট্রাম্প সোমবার তার বিরুদ্ধে আনা মামলার তীব্র নিন্দা করে মামলাগুলোকে আমাদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ সময় বলে বর্ণনা করেন।

    স্মিথকে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনেরাল মেরিক গারল্যান্ড নিয়োগ করেছিলেন। স্পেশাল কাউন্সেল হিসেবে স্মিথ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলায় অভিযোগ গঠন করেন যেখানে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলার অভিযোগ আনেন। স্মিথের এই পদক্ষেপ তাই একটি অসাধারণ পথ-বদল।

    নজিরবিহীন বিব্রতকর পরিস্থিতি

    প্রসিকিউটররা স্বীকার করেন, চলমান ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি একজন প্রেসিডেন্টের নির্বাচন জাস্টিস ডিপার্টমেন্টেকে নজিরবিহীন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

    এখানে দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয় শুধু রাজনৈতিক জয় ছিল না, তা একটি আইনগত বিজয়ও ছিল।

    ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে তার পরাজয়ের পর ট্রাম্প ভোট সংগ্রহ এবং সার্টিফাই করার প্রক্রিয়া ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে আনা চারটি ফেডেরাল অভিযোগ তিনি ২০২৩ সালের অগাস্ট মাসে অস্বীকার করেন।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প আবার জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের উপর তদারকি করবেন এবং ধারণা করা হচ্ছিল তিনি ২০২০ নির্বাচন সংক্রান্ত ফেডেরাল মামলা তুলে নেওয়ার আদেশ দেবেন।

    গোপনীয় দলিল সংক্রান্ত মামলা ফ্লোরিডার বিচারক আইলিন ক্যানন জুলাই মাসে বাতিল করেছিলেন। স্মিথ-এর দফতর জাজ ক্যাননের রুলিং-এর বিরুদ্ধে আপিল করে। তারা সোমবার ইঙ্গিত দেয় যে আপিলের যে অংশ ট্রাম্পের দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে প্রযোজ্য, সেগুলো তারা চালিয়ে যাবেন।

    গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায় দেয়, হোয়াইট হাউসে থাকাকালীন তারা কাজ সংক্রান্ত যে সিদ্ধান্ত নেয়, সেগুলোর জন্য প্রেসিডেন্টের দায় মুক্তি আছে।

    ট্রাম্পের আইনজীবীরা আগে বলেছিলেন, তারা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বাতিল করার চেষ্টা করবেন।

    তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে

  • কেন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে দ্রুত ফিরতে বলছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো?

    কেন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে দ্রুত ফিরতে বলছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো?

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের আগেই বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদেরকে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

    সম্প্রতি ইমেল বার্তার মাধ্যমে তাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প জয়লাভের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের মধ্যে এমনিতেই দিন দিন উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হঠাৎ এমন সতর্কবার্তায় অনেকে রীতিমত চিন্তায় পড়ে গেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো ডেনভারের অধ্যাপক ক্লোই ইস্ট ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, ‘বিদেশি সব শিক্ষার্থীরা এখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে’।

    রিপাবলিকান পার্টির নেতা ট্রাম্প এবার ক্ষমতায় বসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ কাজে সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    এই অভিযানের ফলে যারা বেকায়দায় পড়তে পারেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

    অভিবাসী ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা ‘হায়ার এড ইমিগ্রেশন পোর্টালে’র তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বর্তমানে চার লাখেরও বেশি।

    যদিও ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনে কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়ে বলছেন, অনথিভুক্ত অভিবাসীদের রাখার জন্য তারা বড় ধরনের আবাসনের ব্যবস্থা করবেন।

    ট্রাম্পের হবু প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে তারা নির্বাসনের তালিকায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য বিশাল হোল্ডিং সুবিধা তৈরি করবে।

    অভিজ্ঞ অভিবাসন কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘সীমান্ত জার’ টম হোম্যান বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ভয়ঙ্কর অপরাধী ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি- এমন মানুষজনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়নের বিষয়ে অগ্রাধিকার দিবেন।

    সে হিসেবে শিক্ষার্থীদের খুব একটা ভয় পাওয়ার কথা না বলা হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েই গেছে।

    অধ্যাপক ইস্ট বলছেন, অভিবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তার ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা এখন ভীষণ চাপে রয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাবেন কি না, সেটি নিয়েও এখন অনেক শিক্ষার্থী চিন্তায় রয়েছেন।

    নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগামী ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা নিবেন। ফলে তার আগেই নিজেদের বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের শীতকালীন ছুটি কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষগুলো বলছেন, ২০১৬ সালে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার অভিজ্ঞতার থেকেই অফিস অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স সতর্কতা হিসেবে এই পরামর্শটি দিচ্ছে।

    উল্লেখ্য, প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০১৭ সালে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ থেকে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যেখানে বেশ কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশ ছাড়াও উত্তর কোরিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকদেরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

    প্রথম দফায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু কঠোর নিয়ম চালু করার প্রস্তাব করেছিলেন রিপাবলিকান এই নেতা।

    ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের মতো ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটিও তাদের বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ২০ জানুয়ারির আগে ক্যাম্পাসে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

    অন্যদিকে, ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে একটি ওয়েবিনার পর্যন্ত আয়োজন করতে দেখা গেছে, যেখানে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

    কঠোর অভিবাসন নীতির মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে চালু হওয়া একটি কর্মসূচির ইতি টানতে চাচ্ছেন, যে কর্মসূচিটি শিশু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে এতদিন সুরক্ষা দিয়ে আসছিলো।

    বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এখন তাদের পড়াশোনা ও একাডেমিক কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন, তাদেরই একজন হলেন ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের আর্লহাম কলেজে অধ্যয়নরত জাপানি নাগরিক অই মায়েদা।

    অই মায়েদা বলেন, ২০২৬ সালের মে মাসে আমার স্নাতক পাস করার কথা। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে যে, আমাদের জন্য মার্কিন প্রশাসন একটু বেশিই বিপজ্জনক হতে চলেছে। পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়ে সামনে ভালো কিছু হওয়ার বিষয়ে আমি খুব একটা আশাবাদী না।

    তিনি আরও বলেন, (ট্রাম্প) বলেছেন যে, তিনি শুধুমাত্র অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চান, কিন্তু বেশ কয়েকবার তাকে এর বাইরেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টা চালাতে দেখা গেছে। কাজেই আমি মনে করি, তার এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় প্রভাব পড়তে পারে, যার ফলে তাদেরকে নিজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়াও বেশ সহজ হয়ে যাবে।