Category: অর্থনীতি

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বদল: মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমান নতুন গভর্নর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বদল: মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমান নতুন গভর্নর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ এখন থেকে বাতিল করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এর একাধিক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের মেয়াদ আর আগের মতো থাকবে না। এর আগে ১৩ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এখন সরকার তার মেয়াদ বাতিল করে নতুন নিয়োগ দিয়েছে।

    নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে অন্যান্য সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদান করতে বলা হয়েছে। তিনি যোগ দেওয়ার পর থেকে ব্যাংকের চুক্তি অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। নিয়োগের বিস্তারিত শর্তাবলি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

    জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। জানা যায়, মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সংস্থা, বিজিএমইএ’র সদস্য এবং হীরা সোয়েটারের মালিক।

    তবে, মঙ্গলবার দুপুরে গভর্নর পদ থেকে সরানো হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর, বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ছাড়াই ড. আহসান এইচ মনসুর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যালয় ত্যাগ করেন। তার এই আচরণের পরিবর্তে তিনি বলেন, আমি পদত্যাগ করিনি, তবে খবর শুনেছি। একই সঙ্গে তিনি আর কিছু বলেননি।

    সূত্রের খবর, সকালে অফিসে উপস্থিত থাকলেও হঠাৎ করেই তার পরিবর্তনের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তিনি কোনও কথা না বলেই অফিস ত্যাগ করেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এর ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

    অতীতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার তার পদত্যাগ করেন। এরপর ১৩ আগস্ট নতুন গভর্নর হিসেবে ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি নিয়োগ পান।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা, যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এই তথ্য প্রকাশ করে। নতুন দাম কার্যকর হয়েছে সাকেল ১০টা থেকে। সংগঠনের মতে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিক্রির সময়ে এই মূল্যের সঙ্গে যোগ হবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরির চার্জ। গহনার নকশা, মান ও মজুরির বিভিন্নতার জন্য এই হার সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।

    অতীতে, ২১ ফেব্রুয়ারি বাজুস সোনার দাম সমন্বয় করে ২২ ক্যারেটের ভরির দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল। এই বছর এখন পর্যন্ত মোট ৩২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১২ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় হয়, যার মধ্যে ৬৪ বার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২৯ বার কমেছে।

    অপরদিকে, রুপার দাম এ মুহূর্তে অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৫ হাজার Grec ৮২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বছরজুড়ে রুপার দাম ১৮ দফা সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ১১ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৭ বার কমেছে। গত বছর মোট ১৩ দফায় দাম পরিবর্তন হয়, যেখানে ১০ বার বেড়েছে এবং ৩ বার কমেছে।

  • নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন

    নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন

    সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতকে খাদের কিনারা থেকে তুলে এনেছে সদ্য বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তার এই কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ এবং অর্থনীতির জন্য এক বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এই কাজগুলোকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, তিনি এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন এবং আরও নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে তিনি মূল বক্তব্য প্রকাশ করেন।

    মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করতে গত সরকারের সময় নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, এই অবদানগুলো অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং উন্নয়নের অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে কাজ করছেন।

    তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক যথাযথ সহযোগিতা দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরগুলিতে বিভিন্ন শিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের জন্য নেওয়া নীতির প্রশংসা করেন এবং সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন বাড়বে—এটাই তার লক্ষ্য।

    গভর্নর আরও বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং কার্যক্রমে মনোযোগ দেওয়া হবে। তিনি উচ্চ সুদের হার নিয়ে আলোচনাও করেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

    বিশেষ করে, ব্যাংকের সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ এবং নিয়ন্ত্রিত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে। এ ছাড়া, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ডেলিগেশন অব অথরিটি চালু করা হবে।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে, তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ‘মব’ বা অবান্তর কার্যকলাপে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় কার্যকলাপের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে সক্ষমতার প্রমাণ দিতে চায় নতুন গভর্নর

    কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে সক্ষমতার প্রমাণ দিতে চায় নতুন গভর্নর

    বাংলাদেশের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান দেখান চান যে তিনি ক্ষমতার পরীক্ষার জন্য কথার পরিবর্তে কাজে মনোযোগী। দেশের ১৪তম গভর্নর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি স্পষ্ট করে দেন—অফিসিয়াল কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করবেন, কথা নয়। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার সময় তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করেন, যেখানে তাকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান ডেপুটি গভর্নর ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় নতুন গভর্নর বলেন, ‘আমরা কথায় নয়, কাজের মধ্য দিয়ে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে চাই। আমি এই উদ্যোগের শুরুতেই আছি, কাজ করলে কথা বলা হবে জোরদার।’ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করার আগেই তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ে যান এবং সেখানে কিছু কাজ শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ফিরে আসেন। গত বুধবার বিকেলে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের আদেশ জারি করে সরকার তাকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। রাষ্ট্রপতির আদেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তার নিয়োগ নিশ্চিত হয়, পাশাপাশি আগের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়। মোস্তাকুর রহমানের জন্ম ১৯৬৬ সালে ঢাকায়, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান। এরপর তিনি দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) থেকে এফসিএমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি তিরোদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিচালনায় অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ২৩তম সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি, তিনি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সদস্য ও হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, যা নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত এক পরিবেশবান্ধব কারখানা।

  • সোনার দাম প্রতি ভরি ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    সোনার দাম প্রতি ভরি ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ ঘোষণা করেছে যে দেশে সোনার দাম নতুন করে বেড়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে প্রতি ভরি ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার দাম বেড়ে এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা হয়েছে, যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকার চেয়ে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বেশি। এই দাম বৃদ্ধি আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুসের মতে, স্বর্ণের তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ার ফলস্বরূপ দেশের বাজারে সোনার মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, এর মানে এত দিন যে দামে বিক্রি হচ্ছিল তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দামে যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের এক ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    সোনার সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বিশ্ব বাজারেও সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী চলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, গত মাসের শেষে স্বর্ণের আন্তর্জাতিক দামে প্রবল উত্থানের কারণে দেশের বাজারেও দাম রেকর্ডবার বৃদ্ধি পায়। ২৯ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম এক ভরি বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা পৌঁছে গেলে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের স্বর্ণ বাজারে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে এবং এত ডাকা কখনোই আগে দেখা যায়নি।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) থেকে। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার মূল্য এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাজুস এ তথ্য জানায়। আজ সকাল ১০টা থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

    সংগঠনটি বলেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার মূল্যে সমন্বয় প্রয়োজন হয়েছে।

    নতুন দামে দেখা গেছে, ২২ ক্যারেট সোনার ভরি এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের ভরি এখন ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।

    তবে এসব মূল্যের ওপর সরকার নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬% মজুরি যোগ হবে। গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ বাড়তে বা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

    আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি আবারও সোনার দাম সমন্বয় করা হয়। তখন ২২ ক্যারেটের ভরি ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে মূল্য দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।

    এ বছর এখন পর্যন্ত ৩২ বার সোনার দাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ বার দাম বাড়েছে এবং ১২ বার কমেছে। গত বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় হয়, এর মধ্যে ৬৪ বার বেড়েছে এবং ২৯ বার কমেছে।

    অপরদিকে, রুপার দাম মোটেও পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রোপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। তবে অন্যান্য মান অনুযায়ী— ২১ ক্যারেটের ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ বছর রুপার দাম ১৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার বেড়েছে এবং ৭ বার কমেছে। গত বছর মোট ১৩ বার দাম পরিবর্তন হয়, তার মধ্যে ১০ বার বাড়ে এবং ৩ বার কমে।

  • নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন

    নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন

    সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির খাদের কিনারা থেকে ব্যাংকিং খাতকে এগিয়ে নিয়ে আসতে সদ্য বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সাহসী উদ্যোগগুলি অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আরও গুরুত্বের সঙ্গে তার সেই কাজগুলো অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

    তিনি বলেছেন, খাদের কিনারা থেকে ব্যাংকিং খাতসহ দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গত কিছু সময়ে অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যে সব সংস্কারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, সেগুলোর জন্য তিনি তাদের প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে এগুলোর স্থায়ী বাস্তবায়ন ও আরও উন্নত করার জন্য এই উদ্যোগগুলো চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের মাধ্যমে এসব কথা জানান। এটি বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে প্রকাশ পায়।

    নতুন গভর্নর তার প্রথম দিনই নির্বাহী পরিচালক, ডেপুটি গভর্নরসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন, যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলোর পুনরায় চালু করতে দেশের ব্যাংকিংখাতের সহায়তা প্রদান।

    আরিফ হোসেন খান জানান, গভর্নর পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নেওয়া ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে মোস্তাকুর রহমান কাজ করবেন। বিশেষ করে গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে তিনি নীতিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং খাতে সমন্বয় জোরদার করার প plán ে উঠেছেন। এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সভায় মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন গভর্নর। পাশাপাশি, উচ্চ সুদের হার যা বিনিয়োগের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

    তিনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পুরোপুরি নিয়ম-ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন হবে। কাজের দ্রুততা বাড়াতে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুখপত্র জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘মব’ কেলেঙ্কারিতে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, নতুন গভর্নর বলেছেন তিনি ব্যাংককে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে চান। যারা এই মব কালচার বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের खिलाफ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যথাযথ নিয়মবিধি অনুসরণ করা হবে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মনসুরের পরিবর্তে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মনসুরের পরিবর্তে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চলমান মেয়াদ বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে অবসরে যাচ্ছেন তিনি, এবং তার স্থানে নতুন গভর্নর হিসাবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার স্বাক্ষরিত পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ আর কোনওভাবেই কার্যকর থাকবে না। এটি মূলত ২০২৪ সালের ১৩ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে নিয়োগের মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে, এখন থেকে মো. মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

    নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগে বলা হয়েছে, তাকে অন্যান্য সকল কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে চার বছরের জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সব সুবিধা ও বেতন-ভাতা ব্যাংক থেকেই গ্রহণ করবেন তিনি। এ নিয়োগের বিস্তারিত শর্তচুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকবে।

    এ আদেশটি সবার জন্য অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। জানা গেছে, মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর সদস্য এবং হিরা সোয়েটারের মালিক।

    উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে গভর্নর সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর, ড. আহসান এইচ মনসুর তার অফিস ত্যাগ করেন। কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি তিনি। তিনি জানান, আমি পদত্যাগ করিনি, তবে খবর শুনেছি। অন্য কারো সঙ্গে কথা বলেননি।

    খবর পাওয়ার পরই তিনি অফিস থেকে চলে যান, যার কারণে ব্যাংকে অস্থিরতা তৈরির পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। এ সময়, তিনি তার সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করে সরাসরি অফিস ত্যাগ করেন।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবার পর তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ৯ আগস্ট পদত্যাগ করেন। এরপর, ১৩ আগস্ট নতুন গভর্নর হিসেবে আহসান এইচ মনসুরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

  • নতুন গভর্নর কাজের মাধ্যমে ক্ষমতার প্রমাণ দিতে চান

    নতুন গভর্নর কাজের মাধ্যমে ক্ষমতার প্রমাণ দিতে চান

    বাংলাদেশের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণের জন্য কথা নয়, কাজের মাধ্যমে সংকল্পবদ্ধ। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করেন। অভ্যর্থনা জানান ডেপুটি গভর্নর ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের তিনি জানান, কথায় নয়, প্রকৃত কাজের মধ্য দিয়ে নিজের সক্ষমতা দেখাতে চান। তিনি আরও বলেন, আমি এসেছি নির্মল কাজে মনোযোগ দেয়ার জন্য, এরপরই প্রকৃত ফলাফল দেখা যাবে।

    নতুন গভর্নর যোগদানের আগে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ে যান, সেখানে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসেন। গত বুধবার বিকেলে তাকে ৪ বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থানাভিষিক্ত হয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। রাষ্ট্রপতির আদেশে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ তার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এছাড়াও, সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়।

    মোস্তাকুর রহমানের জন্ম ১৯৬৬ সালে ঢাকায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) থেকে ফ্যাসিএমএ ডিগ্রি লাভ করেন।

    তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত বিএনপির ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ২৩ তম সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য এবং হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। হেরা সোয়েটার্স নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত এক পরিবেশবান্ধব কারখানা।

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের কারণে প্রবাসীরা বৈধ পথের মাধ্যমেই দেশকে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই দেশে পৌঁছেছে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার থেকে বেশি রেমিট্যান্স। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে রেকর্ডই হবে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন এবং রমজানের সময়গুলোতে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল গত বছরের মার্চের, যখন ঈদুল ফিতর সময় মোট ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

    ২০২৫ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইতে ২৪৭ কোটি, আগস্টে ২৪২ কোটি, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি, অক্টোবর ২৫৬ কোটি, নভেম্বর ২৮৮ কোটি, ডিসেম্বর ৩২২ কোটি এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহিত হয়েছে।

    এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই সময়ের মধ্যে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যা আগের বছর একই সময়ের তুলনায় ২২% বেশি। আগের বছর এই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে, আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসীর আয়ে গতি ফিরতে শুরু করে। ব্যাংক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমে এসেছে। পাশাপাশি, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।