Category: অর্থনীতি

  • আ.লীগ ক্ষমতায় থেকে শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে

    আ.লীগ ক্ষমতায় থেকে শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে

    আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবার দেশের শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা শেয়ারবাজার থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও এসব লুটপাটের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার কখনোই ব্যবস্থা নেয়নি।

    সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

    পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও সুরক্ষায় আগামীর করণীয় বিষয়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের কো-অর্ডিনেটর এস এম ইকবাল হোসনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জমান রতন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অর্থনৈতিক সমন্বয়ক দিদারুল আলম ভূঁইয়া প্রমুখ।

    বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শেয়ারবাজার ধসে পড়ে। আওয়ামী লীগ ও লুটপাট একে অপরের সঙ্গে জড়িত। ১৬ বছরে আমরা দেখেছি কিভাবে সালমান এফ রহমানরা শেয়ারবাজারে লুটপাট করেছে। সাধারণ মানুষ পুঁজি হারিয়ে পথে বসে গেছে।

    বর্তমান অবস্থা থেকে শেয়ারবাজার উত্তরণের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠনের দাবি করেন বক্তারা।  তারা বলেন, এই কমিশনে যারা থাকবেন তারা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা চিহ্নিত করবেন এবং সমাধান করবেন।

  • বিনিয়োগ কমায় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে

    বিনিয়োগ কমায় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে

    চট্টগ্রাম পয়ঃনিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নসহ ৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৯১৫ কোটি ৯৯ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ১ হাজার ৯৫ কোটি ৯৪ লাখ, বৈদেশিক সহায়তা ৪ হাজার ৭৮৭ কোটি ৫০ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

    সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা এবং একনেকের চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একনেক সভা শেষে এনইসি কমিটি কক্ষ-১-এ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, আইএমইডি সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সচিব) ড. কাউসার আহমদসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

    পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, একদিকে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির। কেননা বর্তমানে অস্থিরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সুদের হার বৃদ্ধি এবং নানা আন্দোলনের কারণে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে না। অন্যদিকে যদি সরকারি বিনিয়োগও কমে যায়, তাহলে অর্থনৈতিক মন্দা হতে পারে। এজন্য আমরা আজ (সোমবার) সব মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিচ্ছি যে, চলমান প্রকল্পগুলো দুর্নীতিমুক্তভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। যাতে উন্নয়নে গতি ফিরে আসে। এছাড়া প্রকল্পে দুর্নীতি হলে এর দায় মন্ত্রণালয়কেও নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন প্রকল্প নিয়ে বিশেষ সতর্কতা আছে। কেননা আমরা রাজনৈতিক প্রকল্প যাতে না পাশ করি। প্রকল্পে অপচয় বন্ধ করা হচ্ছে। নতুন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে সৃজনশীল এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে এ কথা বলা যায়, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে যে বরাদ্দ আছে, সংশোধিত এডিপির সময় বেশ ভালোই কমবে। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় যা লেখা হচ্ছে, এর সবই সঠিক।

    তিনি আরও বলেন, শিগ্গিরই নির্বাচনি তোড়জোড় শুরু হবে। তখন মানুষের হাতে টাকা আসবে। অপচয় হলেও তো অর্থনৈতিক প্রবাহ ঠিক থাকবে। আগে তো উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি হলেও অর্থের প্রবাহ ঠিক ছিল। এখন তো সে অবস্থা নেই। আমরা দুর্নীতি বন্ধ করছি।

    প্রকল্প পরিচালকরা (পিডি) পালিয়ে যাওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্পের গতি কমেছে বলে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেক প্রকল্প পরিচালক ভিসিদের মতো পদত্যাগ করেছেন। আবার অনেকে পালিয়ে গেছেন। তারা এতটাই দুর্নীতি করেছেন যে, পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। যেমন- মাতারবাড়ী প্রকল্পের পিডি পালিয়ে গেছেন। যাওয়ার আগে সরকারি অনেক জিনিসপত্র বিক্রি করে গেছেন। এখন নতুন প্রকল্প পরিচালক দিতে হচ্ছে।

    ঢাকা শহরে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে মানুষ অতিষ্ঠ, এর সমাধান কোথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, শুধু ছাত্রই নয়, শ্রমিক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলন করছে। বহু সংগঠন ঢাকা শহরে আন্দোলন করছে। তারা সড়কের পাশে আবার কখনো সড়ক আটকে এগুলো করছে। এর সমাধান কী করে হবে, আমি তো একা সমাধান করতে পারছি না। এর আগে শিক্ষার্থীদের আহ্বান করেছিলাম, তোমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আমার কাছে এসে কথা বল। তারা কথা বলেছে। অনেক দাবি এরই মধ্যে থেমে গেছে। কারণ আমরা বলেছি ন্যায্য দাবি সমাধান করব। কিন্তু কিছু কিছু দাবি আছে যেগুলো ন্যায্য নয়, এগুলো আমরা কোনো অবস্থায়ই মানব না। ন্যায্য দাবি নয় অথচ রেললাইন অবরোধ করা হচ্ছে। যাত্রীদের আক্রমণ করা হচ্ছে। এগুলো করলে জনগণই তাদের বিরুদ্ধে যাবে, সেদিক থেকে আমরা সুবিধায় আছি। ইতোমধ্যে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে যাওয়া শুরু করেছে।

    একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন ও ক্ষমতাবর্ধন’, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব ইউনিভার্সিটিস ইন বাংলাদেশ টু প্রমোট ইয়থ এন্ট্রাপ্রেনারশিপ’ এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের ‘মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম পয়ঃনিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (ক্যাচমেন্ট-২ ও ৪), এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইমার্জেন্সি মাল্টি-সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স প্রজেক্ট (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। পাশাপাশি ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে ২টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

  • ব্যাংকে আমানত নিম্নমুখী

    ব্যাংকে আমানত নিম্নমুখী

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই ব্যাংক খাতে আমানত ছিল নিম্নমুখী। এখনো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোয় আমানতের স্থিতি কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কমেছে তারল্যের স্থিতি। সঞ্চয়কারীদের ব্যাংকমুখী করতে অনেক ব্যাংকই আমানতের সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। তারপরও ব্যাংকে আমানত প্রবাহ বাড়ছে না। বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের লুটপাটের চিত্র এখন প্রকাশ্যে এসেছে। কয়েকটি ব্যাংকে সংকট আরও বেড়েছে। ফলে তারা গ্রাহকদের নিয়মিত টাকা দিতে পারছে না।

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকে নজিরবিহীন লুটপাট এবং সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতের অস্থিরতার কারণে আমানত প্রবাহ হ্রাস পাচ্ছে। তবে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ব্যাংক খাতের কিছু সূচকের উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে আমানত হ্রাসের প্রবণতাও কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা- আগামী বছর থেকে ব্যাংক খাত স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে পারবে। তবে খেলাপি ঋণের পারদ আরও উচ্চতায় ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, জুনে ব্যাংকে আমানতের স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আমানত কমেছে ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। গত বছরের জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আমানত বেড়েছিল ২৮ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। চলতি বছরে আমানত তো বাড়েইনি, উলটো আরও কমেছে। এর মধ্যে মেয়াদি আমানত সামান্য বেড়েছে, কমেছে চলতি আমানত। জুনে চলতি আমানতের স্থিতি ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। ওই সময়ে চলতি আমানত কমেছে ১৭ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে কমেছিল ১৩ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে মেয়াদি আমানত বেড়েছিল ৪১ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের ওই সময়ে বেড়েছে ১৬ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে মেয়াদি আমানত কম বেড়েছে ২৫ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকে চলতি আমানতের প্রায় পুরোটাই ব্যবসা-বাণিজ্যের টাকা। চলতি আমানত কমা মানেই দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য কম হচ্ছে। ব্যাংকে মেয়াদি আমানত খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মেয়াদি আমানতের কারণেই একটি ব্যাংক সবল থাকে। এ আমানত বেশি হলে তারল্যের প্রবাহ বেশি থাকে।

    সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার বাড়াচ্ছে। আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত তিন দফা নীতি সুদের হার বাড়ানো হয়েছে। এর প্রভাবে ঋণ ও আমানতের সুদের হারও বেড়েছে। ব্যাংকগুলোয় এখন আমানতের সুদের হার সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশে উঠেছে। কোনো কোনো ব্যাংক জমা টাকা সাড়ে ৫ বছরে দ্বিগুণ দিচ্ছে। বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলো চড়া সুদ দিচ্ছে। কিন্তু আমানতকারীরা আস্থা রাখতে পারছে না বলে আমানত জমা রাখছে না। ব্যাংকে আমানত প্রবাহ কম থাকায় ঋণের প্রবাহেও ভাটা পড়েছে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

    এদিকে ব্যাংকগুলোয় তারল্য বেশি থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তারা বেশি আমানত জমা রাখে। কারণ, কোনো কারণে সংকট দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সেগুলো তুলে নিয়ে সংকট মোকাবিলা করে। সাম্প্রতিক সময়ে তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা আমানতের পরিমাণ কমেছে। জুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি ছিল ৯৩ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ২৬০ কোটি টাকায়। আলোচ্য সময়ে এ খাতে আমানত কমেছে ২৯ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা আমানতও তুলে নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের চাহিদা মেটাচ্ছে।

    জুনে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রেখেছিল ১২ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে এ খাতে আমানত কমেছে ২ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্যও কমেছে।

    জুনে ব্যাংকগুলোয় তারল্য ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে তারল্য কমেছে ২৭ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা।

    ব্যাংকে তারল্যের জোগান বাড়াতে সরকার ব্যাংক থেকে এখন কোনো ঋণ নিচ্ছে না। উলটো আগের নেওয়া ঋণ ব্যাংক খাতে ফেরত দিচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে সরকারের ঋণ স্থিতি কমেছিল ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ওই সময়ে তা কমেছে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। জুনে সরকারের ব্যাংক ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে স্থিতি কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকায়। তিন মাসে ঋণের স্থিতি কমেছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ওই ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকে তারল্য বেড়েছে।

    এদিকে রাজস্ব আয় ও বৈদেশিক অনুদান ছাড় কম হওয়ায় ব্যাংকে সরকারি খাতের আমানত প্রবাহ কমে গেছে। এ কারণে ব্যাংকে তারল্য কমেছে।

    এদিকে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির কারণে বাজারে টাকার প্রবাহ কমছে। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে টাকার প্রবাহ বৃদ্ধির হার ছিল নেতিবাচক দশমিক ৫৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা দশমিক ৪০ শতাংশ ঋণাত্মক হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ব্যাংক থেকে গ্রাহকরা নগদ যেসব অর্থ তুলে নিয়েছিলেন, সেগুলো এখন ফিরতে শুরু করেছে। এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। জুনে ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে জনগণের হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৯০ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে মানুষের হাতে থাকা টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ১ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকায়। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা, অক্টোবরে আরও কমে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া টাকা আবার ফেরত এসেছে ৩১ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা।

    ব্যাংকের দুরবস্থার মধ্যে আমানতকারীরা এখন সরকারি সঞ্চয়পত্রমুখী হয়েছেন। তাদের সঞ্চয়পত্র কেনার প্রবণতা বেড়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ছিল ঋণাত্মক ১ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা।

     

  • পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ

    পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রতিষ্ঠিত সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
    দেশের ব্যাংকগুলোকে এই নির্দেশা দেওয়া হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিএফআইইউ।
    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২৩(১) (গ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সূচনা ফাউন্ডেশনের পরিচালিত সব হিসাবের লেনদেন ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশনা দেওয়া হলো।
    এতে আরও বলা হয়, সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে পরিচালিত সব হিসাবের হিসাব সংক্রান্ত তথ্যাদি (হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ফরম, শুরু হতে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণী) সংযোজিত এক্সেল শিট আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে এ ইউনিটে পাঠানোর অনুরোধ করা যাচ্ছে।নির্দেশনার আওতায় লেনদেন স্থগিত করা হিসাবগুলোর ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ -এর বিধি ২৬(২) প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
    সূচনা ফাউন্ডেশন মানসিক অক্ষমতা, স্নায়বিক অক্ষমতা, অটিজম এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে কাজ করে।পুতুল ফাউন্ডেশনটির ট্রাস্টি।এ ছাড়া মুজহারুল মান্নান ও জয়ন বারী রিজভী নামে আরও দুইজন ট্রাস্টি রয়েছেন।
  • ৩০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি

    ৩০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি

    অবশেষে জলবায়ু সংকটের ঝুঁকিতে থাকা দরিদ্র দেশগুলোকে প্রতিবছর ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) ডলার দেবে শিল্পোন্নত দেশগুলো। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত এ অর্থ দেওয়া হবে। দীর্ঘ দরকষাকষির পর রোববার ভোরে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে এ অর্থায়নের বিষয়ে একমত হন প্রায় ২০০টি দেশের প্রতিনিধিরা। তবে কার্বনডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর চুক্তিতে ঐকমত্য হলেও সাহায্যের পরিমাণকে অপমানসূচক হিসাবে আখ্যা দিয়েছে সমালোচক আর অনুন্নত দেশগুলো। এছাড়া চুক্তিটি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সন্দিহান পরিবেশবাদীরা। এ বছর বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি পোষাতে বছরে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ৩০ হাজার কোটি) ডলার চেয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তনে অন্যতম দায়ী উচ্চ হারে কার্বনডাই অক্সাইড নিঃসরণ। যার ৮০ শতাংশ করে থাকে উন্নত দেশগুলো। তাই প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন থেকে আওয়াজ উঠে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। পরে তহবিল গঠনে একমত হলেও তেমন তোড়জোড় ছিল না অর্থায়নে।

    আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে জাতিসংঘের ২৯তম জলবায়ু সম্মেলনে অগ্রাধিকার ছিল অর্থায়নের বিষয়টি। দুই সপ্তাহব্যাপী সম্মেলনে বিভিন্ন সেশনে এ নিয়ে চলে নানা বিতর্ক আলোচনা। শুক্রবার আয়োজনের সমাপ্তি টানার কথা থাকলেও সমঝোতা না হওয়ায় দীর্ঘ হয় আলোচনা। ধনী দেশগুলোর গড়িমসিতে ক্ষুব্ধ হয় জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত বেশকিছু দরিদ্র রাষ্ট্র। দুর্যোগে পর্যুদস্ত এই দরিদ্র দেশগুলো বিশ্বের দূষণের জন্য দায়ী বিত্তবান দেশগুলোর প্রতিশ্রুত এই তহবিলকে ‘অপমানজনক নগণ্য’ হিসাবে অভিহিত করেছে। আলোচনা স্থল থেকে তারা ওয়াকআউট করেন। দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা পর নাটকীয়ভাবে হয় সমঝোতা। একমত হন প্রায় ২০০ দেশের প্রতিনিধি। তবে, এতে অসন্তোষ জানায় পানামা, নাইজেরিয়া, কিউবাসহ বেশকিছু স্বল্পোন্নত দেশ। না মানার ঘোষণা দেয় ভারত। কপ-২৯ এর পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, শিল্পোন্নত দেশগুলোতে প্যারিস চুক্তির বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতায় ফিরতে শুরু করেছেন। ফলে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার তহবিলের অর্থ অঙ্গীকার করতে রাজি হচ্ছে না উন্নত দেশগুলো। কপ-২৯ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিকর দেশগুলো কী পেল, সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

    ভারত তহবিলের অঙ্ককে নিতান্তই কম বলে তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ভারতের প্রতিনিধি চাঁদনি রেইনা কড়া ভাষায় বলেন, ‘এটা খুবই নগণ্য অঙ্ক।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই নথিপত্র একটি অপটিক্যাল ভুলের চেয়েও বেশি। আমাদের মতামত অনুসারে এই তহবিল যে ঝুঁকি আমরা সবাই মোকাবিলা করছি তা মেটাতে পারবে না।’ বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হিসাবে বিবেচিত সিয়েরা লিওনের জলবায়ুমন্ত্রী জিও আবদুলাই এই উদ্যোগকে উন্নত দেশগুলোর ‘সদিচ্ছার অভাব’ হিসাবে অভিহিত করে বলেন, ‘ফলাফল হিসাবে যা এসেছে, তা দেখে আমরা খুবই হতাশ।’ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার ঝুঁকিতে থাকা ছোট দ্বীপদেশ মার্শাল আইল্যান্ডের জলবায়ু প্রতিনিধি টিনা স্টেজ বলেন, তিনি এই সম্মেলন থেকে লড়াই শেষে সামান্য কিছুই নিয়ে যেতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘এটা পর্যাপ্ত নয়, তবে এটা শুরু হলো।’

    এ ঘোষণার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে শুক্রবার খসড়া চুক্তিতে বছরে ২৫০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করায় বাংলাদেশ গভীর হতাশা প্রকাশ করে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান একে খুবই হতাশাজনক একটি প্যাকেজ বলে অভিহিত করেছিলেন। এর আগে শুক্রবার সম্মেলনে খসড়া চুক্তিতে বছরে ২৫০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই প্রস্তাব নাকচ করে দেয় দরিদ্র দেশগুলো।

    চূড়ান্ত চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দরিদ্র দেশগুলোকে প্রতিবছর অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেবে উন্নত দেশগুলো। জলবায়ু তহবিলে জমা দেওয়া এই অর্থ দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনীতিকে আরও পরিবেশবান্ধব করতে এবং দেশগুলোয় জলবায়ু সংকটের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় খরচ করা হবে। বর্তমানে এই তহবিলে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার জমা দিচ্ছে ধনী দেশগুলো। এ প্রস্তাবেও অসন্তোষ ছিল দরিদ্র দেশগুলোর। তাদের অভিযোগ, এই বরাদ্দও অপ্রতুল।

    এই জলবায়ু চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি ওপকে হোয়েকস্ট্রা। তিনি একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের নতুন যুগের সূচনা হিসাবে কপ-২৯ সম্মেলনকে বিশ্ব স্মরণে রাখবে। অন্যদিকে চুক্তির সমালোচনা করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার শিফট আফ্রিকার পরিচালক মোহামেদ আদোউ বলেছেন, ‘উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য এই কপ একটি বিপর্যয়। ধনী দেশগুলো যারা জলবায়ু পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি করে, তারাই পৃথিবী ও এর বাসিন্দাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’

     

     

     

  • ৬ বছরে মুজিববর্ষ উদযাপনে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যয় ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা

    ৬ বছরে মুজিববর্ষ উদযাপনে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যয় ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা

    সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার গত ছয় বছরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।

    আজ বুধবার (২০ নভেম্বর) প্রাসঙ্গিক মন্ত্রণালয় এবং সরকারি সংস্থাগুলো উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই ব্যয়ের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে।

    উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে মুজিববর্ষ উদ্‌যাপনের জন্য সম্পর্কিত বাজেট বরাদ্দ স্থগিত করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার অফিসের জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    তৎকালীন সরকার ২০২০–২১ বছরকে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করেছিল। ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ৩১ মার্চ ২০২২ পর্যন্ত এই বর্ষ উদ্‌যাপিত হয় (১৭ মার্চ ২০২১ থেকে ৩১ মার্চ ২০২২ পর্যন্ত এক বছর বাড়ানো হয়েছিল)।

    শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

    বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৬ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভার শুরুতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন।

    শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় কমিটি এবং জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি নামে দুটি কমিটি গঠন করে।

    রাজনীতিক, আমলা, সেনা সদস্য, শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১০২ সদস্যের জাতীয় কমিটির প্রধান ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ‘মুজিব বর্ষ’-শুরু হয়। এ উপলক্ষে জাতীয় উদ্‌যাপন কমিটির উদ্যোগে সরকারের সকল দপ্তরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো আলাদা আলাদাভাবেও উদ্‌যাপন করে।

    কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অনেক অনুষ্ঠান ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। শেখ মুজিবের ওপর ডিজিটাল ভিডিও ও ছবি সম্বলিত প্রামাণ্যচিত্র বানানো হয়। এর পাশাপাশি তাকে নিয়ে স্মারকগ্রন্থ, সংকলনগ্রন্থ, স্যুভেনিয়র প্রকাশ করা হয়।

    এছাড়াও, ‘মুক্তির মহানায়ক’- শীর্ষক উদ্‌বোধনী অনুষ্ঠান এবং ‘মুজিব চিরন্তন’- নামের ১০ দিনব্যাপী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    এছাড়া মুজিববর্ষের বিশেষ ওয়েবসাইট চালু, স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ, ১০০ দিনব্যাপী কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন, রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ‘শতবর্ষ’ নামে বিশেষ মোবাইল প্যাকেজ সংযোগ বিনামূল্যে প্রদান এবং নামমাত্র মূল্যে বিশেষ ইন্টারনেট প্যাকেজ ঘোষণা এবং যোগাযোগ অ্যাপ ‘আলাপ’ চালু করা হয়। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করে।

    ২ দিনব্যাপী ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান এবং ‘টুঙ্গিপাড়া: হৃদয়ে পিতৃভূমি’-শীর্ষক সমাপনী অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

    ২০২২ সালের ৩১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিব বর্ষ সমাপ্ত হয়।

    প্রথম ঘোষণা অনুযায়ী, ‘মুজিববর্ষ’ ২০২০ সালের ১৭ই মার্চে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৬ই মার্চ পর্যন্ত পালন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তীতে এর সময় ২০২১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। পরে সরকার পুনরায় মুজিব বর্ষের সময়কাল ও ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় কমিটি’ ও ‘জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’র মেয়াদ ২০২২ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করে।

    মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচন ও আনুষ্ঠানিক সময় গণনা শুরু হয় ২০২০ সালের ১০ই জানুয়ারি, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে। মুজিববর্ষের লোগোর নকশা করেন সব্যসাচী হাজরা। ‘তুমি বাংলার ধ্রুবতারা, তুমি হৃদয়ের বাতিঘর আকাশে-বাতাসে বজ্রকণ্ঠ, তোমার কণ্ঠস্বর’-এই ছিল মুজিববর্ষের আবহ সঙ্গীত।

    এ বিষয়ে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বুধবার রাতে টেলিফোনে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে দেশের জন্য শেখ মুজিবের যে অবদান সেটাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তার দল আওয়ামী লীগ ও তার মেয়ের কর্তৃত্ববাদী সরকার। মুজিব বর্ষের ব্যয় হয়েছে একক বা দলীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে। জবাবদিহিহীনভাবে রাষ্ট্রের সম্পদ পরিবার ও দলের স্বার্থে অপব্যবহার করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ও জনগণের অর্থের অপচয় করা হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এজন্য যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী সেটা রাজনীতিক, আমলা, মুজিব বর্ষের কাজের ঠিকাদার, ভেন্ডরদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার আর না হয়।’

  • সোনারগাঁয়ে মেঘনা গ্রুপের ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা

    সোনারগাঁয়ে মেঘনা গ্রুপের ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা

    নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে মেঘনা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মেঘনা পাল্প এন্ড পেপার মিলস লিমিটেড ফ্যাক্টরির ৬ তলা একটি ভবনে সোমবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে টিস্যু তৈরির মেশিনারিজ সামগ্রী, কাঁচামাল, গোডাউনে মজুদ রাখা মালামাল, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃপক্ষের দাবি, আগুনে তাদের ছয় তলা ভবনের পুরো অংশ পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমান আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। সাড়ে ৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দমকলবাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও পুরো ভবনে থাকা মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর এলাকায় অবস্থিত মেঘনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফ্রেশ টিস্যু পেপার ফ্যাক্টরির গোডাউনে সোমবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কিভাবে ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা একে একে ফ্যাক্টরির বিভিন্ন ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সোনারগাঁ, গজারিয়া, গজারিয়া বিসিক ফায়ার স্টেশন, বন্দর, কাঁচপুর ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে।

    এছাড়া মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। সাড়ে চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ৬ তলা ভবনের পুরো অংশ পুড়ে যায়।

    মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জিএম (কোম্পানি এ্যাফেয়ার্স) খন্দকার শফিকুল আলম জানান, আগুনে টিস্যু ফ্যাক্টরির ছয় তলা ফ্লোরের সব মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করতে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে।

    মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) কার্তিক চন্দ্র দাস জানান, আগুনে তাদের ফ্যাক্টরির মেশিনারিজ সামগ্রী ও মালামাল পুড়ে আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফখরুদ্দিন জানান, সকাল সোয়া ৫ টার দিকে ফ্রেশ টিস্যু ফ্যাক্টরির ছয় তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে সাড়ে ৫ টার মধ্যে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে।

  • এস আলমের শেয়ার বিক্রি করে টাকা আদায় করবে ইসলামী ব্যাংক

    এস আলমের শেয়ার বিক্রি করে টাকা আদায় করবে ইসলামী ব্যাংক

    ইসলামী ব্যাংক পিএলসির যেসব শেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংক জব্দ করেছে, সেগুলো বিক্রির পরিকল্পনা করছে ইসলামী ব্যাংক। এই শেয়ার বিক্রি করে ১০ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে চায় ব্যাংকটি।  এই শেয়ারগুলোর বেশিরভাগ ছিল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন।

    সোমবার (১৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংকের  চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ এ তথ্য জানান। তিনি জানান, পাচার করা টাকা পুনরুদ্ধার কৌশলের অংশ হিসেবে এসব শেয়ার বিক্রি করা হবে।

    ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ ও আমানতের মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার ব্যবধান রয়েছে। এস আলম গ্রুপের শেয়ার বিক্রি এবং নতুন শেয়ার ইস্যু করে এই ঘাটতি কমানো হবে।

    এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন শেয়ারের ফেস ভ্যালু (অভিহিত মূল্য) ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রতিটি শেয়ারের দাম ৬০ টাকা হিসেবে এওবস শেয়ারের বর্তমান মোট বাজারমূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

    বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা নতুন শেয়ার ইস্যু করে সংগ্রহ করা হবে বলে জানান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ।

    তিনি আরও বলেন, ব্যাংকটি আইএফসি ও সৌদি আরবের বিনিয়োগকারী আল রাজি গ্রুপের মতো পুরনো বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। জানুয়ারি মাসের মধ্যে তাদেরকে আবার বিনিয়োগ করতে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, আগের বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ফিরে এলে ইসলামী ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।

  • আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়লো

    আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়লো

    আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন করদাতারা। রবিবার (১৭ নভেম্বর) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

    রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন নির্ধারিত ছিল ৩০ নভেম্বর। ব্যবসায়ী ও করদাতাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়েছে।

    গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের জন্য কোম্পানি ছাড়া সব শ্রেণীর করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন ছিল আগামী ৩০ নভেম্বর। আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পেশার করদাতাদের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়। করদাতাদের সুবিধার্থে কোম্পানি ছাড়া সব করদাতার অনলাইনে ই-রিটার্ন ও অফলাইনে কাগজের রিটার্ন দাখিল উভয় ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়িয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি আদেশ জারী করেছে। আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বৃদ্ধির ফলে অনলাইন ও অফলাইন উভয় প্রকার রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোম্পানি ছাড়া সব করদাতার জন্য জরিমানা ছাড়া রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ বছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে অবস্থিত সব সরকারি কর্মচারী, সারা দেশের সব তফশিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সারা দেশের সব মোবাইল টেলিকম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ওই আদেশে উল্লিখিত বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    ইতোমধ্যে ৩ লাখ ৭৫ হাজার করদাতা অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। এ বছর করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের অভিজ্ঞতা ঝঞ্জাটমুক্ত হবে বলে প্রত্যাশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

  • ২৮ সাংবাদিকের ব্যাংক লেনদেনের খোঁজ নিচ্ছে বিএফআইইউ

    ২৮ সাংবাদিকের ব্যাংক লেনদেনের খোঁজ নিচ্ছে বিএফআইইউ

    দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ২৮ জন সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) তাদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    বিএফআইইউ ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে যে সব সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে, সেই তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বিএফআইইউর কর্মকর্তারা বলছেন, গণমাধ্যমে প্রচারিত ও  প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে অনেকের লেনদেনের খোঁজ নেওয়া হয়। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো তালিকাকেও আমলে নেওয়া হয়।

    তালিকায় থাকা সাংবাদিকেরা হলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ডিবিসি নিউজের হেড অব নিউজ জায়েদুল হাসান পিন্টু, এবিনিউজ২৪ ডটকমের প্রধান সম্পাদক সুভাষ সিংহ রায়, কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, এটিএনের জ ই মামুন, বাংলা ইনসাইডারের সম্পাদক সৈয়দ বোরহান কবীর, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিটি এডিটর মির্জা মেহেদী তমাল ও চিফ রিপোর্টার জুলকারনাইন রনো, সমকালের সম্পাদক আলমগীর হোসেন, বাসসের মধুসূদন মণ্ডল, ডিবিসির মাসুদ আইয়ুব কার্জন, আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক মইনুল ইসলাম, সাংবাদিক ফরাজী আজমল হোসেন, বৈশাখী টিভির অশোক চৌধুরী ও ইডির এক্সিকিউটিভ এডিটর রাহুল রাহা।

    এ তালিকায় আরও আছেন, ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, নিউজ টোয়েন্টিফোরের ডেপুটি চিফ নিউজ এডিটর আশিকুর রহমান শ্রাবণ, যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি (সাবেক) আবদুল্লাহ আল মামুন, স্বদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রতন, দৈনিক মুখপাত্রের সম্পাদক শেখ জামাল হোসেন, ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি আদিত্য আরাফাত, এটিএন নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি তাওহিদুল ইসলাম সৌরভ, যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি শেখ মামুনুর রশীদ, সাংবাদিক শ্যামল সরকার, দৈনিক ইত্তেফাকের নগর সম্পাদক আবুল খায়ের এবং দৈনিক কালবেলার সম্পাদক ও প্রকাশক সন্তোষ শর্মা।

    বিএফআইইউ তালিকা থাকা সাংবাদিকদের নামে কোনও ব্যাংকের লকার, সঞ্চয়পত্র, ক্রেডিট কার্ডসহ অন্যান্য কোনও আর্থিক উপকরণ রয়েছে কি না বা টাকাপয়সার লেনদেন হয়েছে কি না, এসব তথ্য জানতে চেয়েছে।