Category: অর্থনীতি

  • বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফইউ প্রধান

    বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফইউ প্রধান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোমবার (১৯ আগস্ট) এ বিষয়ে সচেতন করে জানায়, গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    গভর্নর বলেছেন, তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শাহীনুল ইসলাম আপাতত ছুটিতে থাকবেন। তদন্তের শেষ পর্যায়ের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

    এর আগে, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার পক্ষ থেকে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তাঁকে অবিলম্বে বাধ্যতামূলক ছুটিতে বসানোর দাবি জানানো হয়। এই স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহীনুল ইসলামের একাধিক আপত্তিজনক ভিডিও প্রকাশ পাওয়ায় ব্যাংকসহ দেশের আর্থিক খাতের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, এ এফ এম শাহীনুল ইসলামের আপত্তিকর কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এই ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার গভর্নরের কাছে এ বিষয়ে তাদের রিপোর্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এই ঘটনাটি এমন এক সময় সামনে এসেছে যখন সম্প্রতি এনায়েত উল্লাহ নামের এক ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাব থেকে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়। এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের মোট ৫০টি ব্যাংক হিসাব গত বছর নভেম্বরে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করে দেয় বিএফআইইউ। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে, ব্যাংক আল-ফালাহর চারটি হিসাব পুনরায় সক্রিয় করে ১৯ কোটি টাকার উত্তোলনের অনুমতি দেয়। তার এই অনিয়মের পেছনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

    দুদকের তদন্তে জানা যায়, এনায়েত উল্লাহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করতেন। ২৭ মে আদালত এই অর্থের উপর আরও নজরদারি ও ফ্রিজের নির্দেশ দেয়। তবে এখন জানা গেছে, এসব হিসাবের মধ্যে প্রায় ১০১ কোটি টাকার মতো অর্থ থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পেয়ে। অভিযোগ উঠেছে, এই অবৈধ সুবিধার পেছনে নানা অনৈতিক সুবিধার আয়োজন করা হয়েছে।

  • প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার

    চলতি আগস্ট মাসে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন দেখা গেছে। বছরের প্রথম ১৭ দিনে দেশি বৈদেশিক উপার্জন এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার), যা এর আগে কোনও মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। এই পরিমাণ অর্থ স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১৯ হাজার ৬৪২ কোটি টাকার সমান, যেখানে প্রতি ডলার ধরা হয়েছে ১২২ টাকা। এই ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে, সম্ভবত আগস্ট মাসটি পূর্বের মাস জুলাইকে ছাড়িয়ে যাবে প্রবাসী আয়ে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের ১৭ দিনে দেশের রেমিট্যান্স এসেছে ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, আর বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এই সংখ্যা ৯৬ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এছাড়া, বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকেও এসেছে ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এর আগে, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শুরুতে জুলাই মাসে রেকর্ড ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহিত হয়েছিল, যা প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকার সমান। তবে, এই মাসে কোনওরকম রেমিট্যান্স আসে নি আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। অন্যদিকে, কেবল বিশিষ্ট বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে কমিউনিটি ব্যাংক, আইসিবি, ইসলামি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক ও বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার নাম উল্লেখযোগ্য। গত বছরের মার্চ মাসে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা ছিল সবার أعلى। সার্বিকভাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬.৮ শতাংশ বেশি। এর আগে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই আয় ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার। মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: জুলাইয়ে ১৯১.৩৭ কোটি ডলার, আগস্টে ২২২.১৩ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০.৪১ কোটি ডলার, অক্টোবর ২৩৯.৫০ কোটি ডলার, নভেম্বর ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বর ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি ডলার, মে’তে ২৯৭ কোটি ডলার এবং জুনে ২৮২ কোটি ডলার। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের প্রণোদনা ও প্রবাসী আয়ের সহজতর সুযোগের কারণে এই ইতিবাচক প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

  • বাংলাদেশের শুল্ক মুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে

    বাংলাদেশের শুল্ক মুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে

    বাংলাদেশের সদ্য ঘোষিত শুল্কমুক্ত চাল আমদানির সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বাজারে চালের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুই দিনে ভারতে চালের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এর আগে বাংলাদেশ সরকার খাদ্য সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ৫ লাখ টন চালের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বড় বড় চাল ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় বাংলাদেশে চাল রপ্তানি শুরু করেছেন। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে একটি সাময়িক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে, যা ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ ও অন্যান্য দক্ষিণ ভারতের ব্যবসায়ীরা এর আগে খবর পেয়েছিলেন যে বাংলাদেশ সরকার চালের ওপর থেকে ২০ শতাংশ আমদানির শুল্ক সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করবে। তারা তাই পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের কাছেই চালের গুদাম প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। গত বুধবার বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণা আসার পর থেকে ভারত থেকে ট্রাকে করে চাল বাংলাদেশে রপ্তানি শুরু হয়।

    এই শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে ভারতের খুচরা বাজারে চালের দাম এই মুহূর্তে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। স্বর্ণা চালের দাম প্রতি কেজি ৩৪ থেকে বেড়ে ৩৯ রুপি, মিনিকেটের দাম ৪৯ থেকে ৫৫ রুপি, রতœা চালের দাম ৩৬-৩৭ থেকে ৪১-৪২ রুপি এবং সোনা মাসুরি চালের কেজি ৫২ থেকে ৫৬ রুপি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

    রাইসভিলা নামে এক চাল রপ্তানিকারক সংস্থার সিইও সুরজ আগরওয়াল বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্ক প্রত্যাহারের খবর পেয়েই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ট্রাকগুলো বাংলাদেশে চালানোর জন্য রওনা দিয়েছে। তিনি জানান, লজিস্টিক সুবিধা ও খরচ কমানোর জন্য পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের মাধ্যমে চাল রপ্তানি লাভজনক, ফলে উত্তর প্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের মিলাররা এই পথ ব্যবহার করছেন।

    অন্ধ্রপ্রদেশের চাল মিলার সিকে রাও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালেই আমার ট্রাকগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।’

    বাংলাদেশের এই শুল্ক মুক্ত চাল আমদানির মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়া। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) দেশে চালের দাম ১৬ শতাংশ বেড়েছিল, তখন বাংলাদেশে ১৩ লাখ টন চাল আমদানি করতে হয়েছিল।

    চাল রপ্তানিকারক সংস্থার হালদার ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেশব কুমার হালদার বলেন, বিশ্ববাজারে চালের সরবরাহ উদ্বৃত্ত থাকায় আমদানির জন্য বিভিন্ন দেশের গুদামজাত মজুত পর্যাপ্ত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এই রপ্তানি অর্ডার ভারতের বাজারকে মন্দা থেকে তুলতে সাহায্য করবে, কারণ এটি নতুন চাহিদা সৃষ্টি করেছে এবং বৈশ্বিক মূল্যহ্রাসকে আংশিকভাবে পুষিয়ে দিচ্ছে।’

  • সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য করমুক্ত ৪২ ধরনের আয়

    সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য করমুক্ত ৪২ ধরনের আয়

    সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হলেও কিছু আয়কর থেকে মুক্ত থাকছে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট ৪২ ধরনের আয়ের উপর তারা কর দিতে হবে না, যা জানা গেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর নির্দেশিকা থেকে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব আয় করমুক্ত ঘোষিত হয়েছে, তাতে রয়েছে চিকিৎসা ভাতা, নববর্ষ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা, শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, পাহাড়ি ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, পোশাক ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, ধোলাই ভাতা, বিশেষ ভাতা, প্রেষণ ভাতা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা, জুডিশিয়াল ভাতা, চৌকি ভাতা, ডোমেস্টিক এইড অ্যালাউয়েন্স, ঝুঁকি ভাতা, অ্যাকটিং অ্যালাউয়েন্স, মোটরসাইকেল ভাতা, আর্মরার অ্যালাউয়েন্স, নিঃশর্ত যাত্রা ভাতা, টেলিকম অ্যালাউয়েন্স, ক্লিনার অ্যালাউয়েন্স, ড্রাইভার অ্যালাউয়েন্স, মাউন্টেড পুলিশ অ্যালাউয়েন্স, পিবিএক্স অ্যালাউয়েন্স, সশস্ত্র শাখা ভাতা, বিউগলার অ্যালাউয়েন্স, নার্সিং অ্যালাউয়েন্স, দৈনিক বা খোরাকি ভাতা, ট্রাফিক অ্যালাউয়েন্স, রেশন মানি, সীমান্ত ভাতা, ব্যাটম্যান ভাতা, ইন্সট্রাকশনাল অ্যালাউয়েন্স, নিযুক্তি ভাতা, আউটফিট ভাতা ও গার্ড পুলিশ ভাতা। তবে মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস সম্পূর্ণ করযোগ্য আয়ের মধ্যে গণ্য হবে এবং এ সব আয়ের ওপর নির্ধারিত হারে আয়কর দিতে হবে।

    অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার এনবিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় that ২০২৫-২৬ কর বছর জন্য ৪ আগস্ট থেকে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ১০ দিনে এই বছর ৯৬,৯৪৫ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গত বছরের তুলনায় এই বছরের দৈনিক গড় ই-রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে, যা এটির জনপ্রিয়তা ও করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করার একটি দৃষ্টান্ত।

  • ৩৩টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম কমাল এসেনশিয়াল ড্রাগস, সরকারের সাশ্রয় ১১৬ কোটি টাকা

    ৩৩টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম কমাল এসেনশিয়াল ড্রাগস, সরকারের সাশ্রয় ১১৬ কোটি টাকা

    সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী সংস্থা এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম কমানোর। এই পদক্ষেপের ফলে সরকারের প্রায় ১১৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

    আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) এক ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামাদ মৃধা এই তথ্য জানান। তিনি জানান, গত এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ৩৩ ধরনের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এর ফলে, ওষুধের দাম কমে যাওয়ায় সরকারের ওষুধ কেনাকাটায় এই অর্থের সাশ্রয় হবে। ওই ওষুধের মধ্যে রয়েছে ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ওরস্যালাইন, ইনজেকশনসহ মোট নয় ধরনের ওষুধ।

    সামাদ মৃধা আরও বলেছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য নানা সংস্কার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিন্ডিকেট বিরোধী অভিযান, দুর্নীতির অবসান ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। ভবিষ্যতে নতুন টিকাসহ বায়োলজিক্যাল পণ্য উৎপাদনে নতুন প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি জানান, দুইটি নতুন প্ল্যান্টের মধ্যে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য, যেখানে সানতনি পদ্ধতির পাশাপাশি ইনসুলিন ও অন্যান্য বায়োলজিক্যাল পণ্য তৈরি করা হবে।

    প্রতিষ্ঠানটি খরচ কমানোর পাশাপাশি লাভজনক অবস্থানে ফিরে আসতে কাজ করে চলেছে। অপচয় কমানো, সিন্ডিকেট ভেঙে দিচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় ৭০০ কর্মচারী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে, বর্তমানে উৎপাদনে ৫৯ কোটি টাকার বৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি কাঁচামালের কেনাকাটায় টেন্ডার প্রক্রিয়াকে উন্মুক্ত করে খরচ কমানো সম্ভব হয়েছে, যার ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১৮ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়।

    সরকারি ওষুধের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সংস্থার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নিজেদের কারখানায় উৎপাদন বাড়িয়ে টোল ম্যানুফ্যাকচারিং বন্ধ করে সরকারি চাহিদার ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য সুলভ ও মানসম্পন্ন ওষুধ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

  • বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতের বাজারে চালের দাম বাড়িয়ে দিল

    বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতের বাজারে চালের দাম বাড়িয়ে দিল

    বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা দেওয়ার পরপরই ভারতের বাজারে চালের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। গত দু’দিনে ভারতের বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার খাদ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ৫ লাখ টন চালের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বেশ কিছু বড় চাল ব্যবসায়ী সুবিধা নিতে বাংলাদেশে চাল রপ্তানির ঝুঁকি নিচ্ছেন, যা ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে সাময়িক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করেছে। ఈ তথ্য জানিয়েছেন ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই জানতেন যে বাংলাদেশ সরকার চালের ওপর থেকে ২০ শতাংশ আমদানি শুল্ক সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করবে। এই খবর পেয়ে তাঁরা পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের কাছাকাছি গুদামে চাল প্রস্তুত রেখেছিলেন। গত বুধবার বাংলাদেশ সরকারের এই শুল্ক প্রত্যাহার ঘোষণার পরই তারা ট্রাকে করে চাল বাংলাদেশে পাঠানো শুরু করেন।

    এ কারণে ভারতের খুচরা বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। স্বর্ণা চালের দাম কেজি প্রতি ৩৪ রুপি থেকে বেড়ে ৩৯ রুপি, মিনিকেটের দাম ৪৯ থেকে ৫৫ রুপি, রতœা চালের দাম ৩৬-৩৭ থেকে ৪১-৪২ রুপি এবং সোনা মাসুরি চালের দাম ৫২ থেকে ৫৬ রুপি প্রতি কেজিতে উঠেছে।

    রাইসভিলা নামের এক চাল রপ্তানিকারক সংস্থার সিইও সুরজ আগরওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্ক প্রত্যাহার ঘোষণার সাথে সাথেই ভারতে থেকে চাল বাংলাদেশে রপ্তানি শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘লজিস্টিক সুবিধা ও খরচের দিক থেকে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে চাল রপ্তানি বেশি লাভজনক হওয়ায় উত্তর প্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের মিলাররা এই পথ বেছে নিচ্ছেন।’

    অন্ধ্র প্রদেশের এক চাল মিলার সিকে রাও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালেই আমার ট্রাকগুলো বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছে।’

    বাংলাদেশের এই শুল্ক প্রত্যাহারের মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দামের স্থিরতা বজায় রাখা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমানো, যাতে ভোক্তারা স্বস্তিতে থাকেন। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) বাংলাদেশে চালের দাম ১৬ শতাংশ বেড়েছিল, তখন দেশটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য প্রায় ১৩ লাখ টন চাল আমদানি করেছিল।

    চাল রপ্তানিকারক সংস্থা হালদার ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেশব কুমার হালদার জানান, বিশ্বব্যাপী চালের সরবরাহ উদ্বৃত্ত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম কম ছিল। তিনি বলছেন, ‘বাংলাদেশের এই রপ্তানি অর্ডার ভারতের বাজারকে মন্দা থেকে ঘুরিয়ে দিতে সাহায্য করবে, কারণ זה নতুন চাহিদা সৃষ্টি করেছে এবং বৈশ্বিক মূল্যহ্রাস হালকা হলেও কিছুটা পুষিয়ে দিচ্ছে।’

  • সরকারি চাকুরিজীবীদের ওপর কর মুক্ত ৪২ ধরনের আয়

    সরকারি চাকুরিজীবীদের ওপর কর মুক্ত ৪২ ধরনের আয়

    সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হলেও, কিছু নির্দিষ্ট ধরনের আয়ের ওপর তাদের কর দিতে হয় না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য, ৪২ ধরনের আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে। এসব আয়ের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের ভাতা যেমন চিকিৎসা ভাতা, নববর্ষ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা, শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, পাহাড়ি ভাতা, ভ্রমণ ও যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, পোশাক ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, ধোলাই ভাতা, বিশেষ ভাতা, প্রেষণ ভাতা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ভাতা, জুডিশিয়াল ভাতা, চৌকি ভাতা, ডোমেস্টিক এইড অ্যালাউয়েন্স, ঝুঁকি ভাতা, অ্যাকটিং অ্যালাউয়েন্স, মোটরসাইকেল ভাতা, আর্মরার অ্যালাউয়েন্স, নিঃশর্ত যাতায়াত ভাতা, টেলিকম অ্যালাউয়েন্স, ক্লিনার ও ড্রাইভার অ্যালাউয়েন্স, মাউন্টেড পুলিশ অ্যালাউয়েন্স, পিবিএক্স অ্যালাউয়েন্স, সশস্ত্র শাখা ভাতা, বিউগলার অ্যালাউয়েন্স, নার্সিং অ্যালাউয়েন্স, দৈনিক বা খোরাকি ভাতা, ট্রাফিক অ্যালাউয়েন্স, রেশন মানি, সীমান্ত ভাতা, ব্যাটম্যান ভাতা, ইন্সট্রাকশনাল অ্যালাউয়েন্স, নিয়োগ ভাতা, আউটফিট ভাতা ও গার্ড পুলিশ ভাতা। মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস অবশ্য করযোগ্য আয়ে গণ্য হবে, যেখানে مخصوص হারে আয়কর দিতে হবে।
    এনবিআর আরও জানায়, ২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য গত ৪ আগস্ট থেকে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম ১০ দিনে, এই প্রক্রিয়ায় ৯৬,৯৪৫ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বেশি, যা বলছে যে করদাতাদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে এবং কর পরিশোধে আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব তলব

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব তলব

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরসহ বেশ কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার হিসাব সংক্রান্ত সব তথ্য ইতিমধ্যেই তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এই উদ্যোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধে নেওয়া হয়েছে, এবং দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) বিএফআইইউর একজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যাদের হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদার। উল্লেখ্য, আতিউর রহমান সরকার পতনের পর দেশ ছাড়েন, আর আব্দুর রউফ তালুকদার পলাতক অবস্থায় গত বছর ৭ আগস্ট ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন।

    অপরদিকে, তালিকায় থাকা আরও কিছু সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন এস কে সুর চৌধুরী, মো. মাসুদ বিশ্বাস, আবু হেনা মো. রাজী হাসান, এস এম মনিরুজ্জামান, কাজী ছাইদুর রহমান ও আবু ফরাহ মো. নাছের। উল্লেখ্য, এস কে সুর চৌধুরী ও মাসুদ বিশ্বাস বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারেও আছেন।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ, কেওয়াইসি (Know Your Customer) ফরমসহ সব ধরনের তথ্য তিন কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে। যদি কোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে থাকে, তারও তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতীতের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার

    চলতি আগস্ট মাসে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে আশাতীত ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মাসের প্রথম ১৭ দিনে মোট দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহ হয়েছে, যা বাংলাদেশ মানে প্রায় ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এটি যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগস্ট মাসটি সম্ভবত গত বছরের জুলাই মাসের রেমিট্যান্সের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে অন্তর্জাতিকভাবে পাঠানো এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬১ কোটি ৯০ হাজার ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। বিশেষ করে দুটি ব্যাংকের মধ্যে একটি ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ডলার, আর বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ৯৬ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

    উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। তবে, সেপ্টেম্বর ও জানুয়ারি মাসে কিছু ব্যাংক থেকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ স্থগিত ছিল। এ সময়ের মধ্যে কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে কোনও রেমিট্যান্স আসেনি, এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

    অর্থবছর ২০২৪-২৫ এর মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের রেকর্ড। ওই বছরটি ছিল দেশের জন্য গৌরবময় কারণ, প্রবাসী আয় এই অর্থবছরে মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার ছিল, যা আগের বছর থেকে ২৬.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার।

    মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের প্রবাহ এইভাবে ছিল: জুলাই ১৯১.৩৭ কোটি ডলার, আগস্ট ২২২.১৩ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বর ২৪০.৪১ কোটি ডলার, অক্টোবর ২৩৯.৫০ কোটি ডলার, নভেম্বর ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি ডলার, মে-তে ২৯৭ কোটি ডলার ও জুনে ২৮২ কোটি ডলার।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের প্রদত্ত প্রণোদনা ও প্রবাসী আয়ের সহজের জন্য নেওয়া নানা পদক্ষেপের কারণে এই ইতিবাচক প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

  • বিদ্যুৎ বিল বাবদ বাংলাদেশ সরকারের কাছে বকেয়া ১৩৫ কোটি টাকা চাইলো ত্রিপুরা সরকার

    বিদ্যুৎ বিল বাবদ বাংলাদেশ সরকারের কাছে বকেয়া ১৩৫ কোটি টাকা চাইলো ত্রিপুরা সরকার

    আদানি গোষ্ঠীর পর এবার বকেয়া ঋণ শোধের জন্য ইউনূস সরকারের উপর চাপ বাড়ালো ত্রিপুরাও। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করেছে অবিলম্বে তারা যেন ১৩৫ কোটি টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে। ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছিল ত্রিপুরা সরকারের। এই চুক্তির মাধ্যমে ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হত বিদ্যুৎ। ত্রিপুরার বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন নাথ বাংলাদেশের বকেয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন। তবে তিনি এ-ও জানিয়েছেন, নিয়মিত বকেয়া মিটিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘‘যদিও ১৩৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে, তবে বাংলাদেশ নিয়মিত ভাবে বকেয়া মেটাচ্ছে।’’

    বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন, বিদ্যুৎ বাবদ প্রতি ইউনিট হিসাবে ছ’টাকা ৬৫ পয়সা করে নেয় ত্রিপুরা সরকার। ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএসইসিএল) বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভলপমেন্ট বোর্ডকে (বিপিডিবি)। কিন্তু বকেয়া টাকা ১০০ কোটি ছাড়িয়ে যেতেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেছিল টিএসইসিএল। চলতি বছরের মে মাসে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে গত এক বছর ধরে সময়মতো টাকা শোধ দেয়নি বাংলাদেশ। ফলে বেড়েছে বকেয়া। এর মধ্যে  বাংলাদেশে চলতে থাকা ভারতবিরোধী কার্যকলাপ ও ‘সংখ্যালঘু নির্যাতনে’র ঘটনার জেরে ইউনূস সরকারকে দ্রুত এই বকেয়া পরিশোধে  অবিহিত করা হয়েছে ত্রিপুরার তরফে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন ‘‘আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি বকেয়া টাকা ফিরিয়ে আনার জন্য। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে চিঠিও লিখেছি, আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছি।’’

    এদিকে আদানিদের সঙ্গে বিদ্যুৎ নিয়ে সমস্যা চলছে বাংলাদেশ সরকারের। ২০১৭ সালে শেখ হাসিনার আমলে আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎচুক্তির বিষয়ে হাইকোর্ট তদন্তের নির্দেশ দেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারও আদানিসহ ছ’টি সংস্থার সঙ্গে হওয়া বিদ্যুৎচুক্তি খতিয়ে দেখছে।

    সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া