Category: সারাদেশ

  • খুলনা ওয়াসার অধিকাংশ কর্মকর্তা অনুপস্থিত, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

    খুলনা ওয়াসার অধিকাংশ কর্মকর্তা অনুপস্থিত, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

    খুলনা ওয়াসার বিভিন্ন কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে পরিষ্কারভাবে দেখা যায় যে তারা উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালার অপসারণের জন্য আন্দোলনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। এই বিষয়ে জানা গেছে, শোক দিবস ও সাধারণ ছুটির ঘোষণা উপেক্ষা করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা ওয়াসার সব দপ্তর বন্ধ করে কর্মচারীরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছেন। ওয়াসা ভবনের বাইরেWorkers’ Union নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ সময় বেশিরভাগ কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি।

    বৃহস্পতিবারের এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে শ্রমিক ও কর্মচারীদের অভিযোগ, গত বুধবার দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শোক দিবসের অজুহাতে সব কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও খুলনা ওয়াসার কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। তারা বলেন, ওই দিন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালা সকল কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করে অফিস চালু রেখেছিলেন, তবে তিনি নিজে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ করেননি। এমনকি তিনি জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত না করে গোপনে নিয়োগের বাণিজ্য চালিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    বুধবারের ঘটনা নিয়ে শ্রমিক ও কর্মচারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন, ওই দিন অফিসের প্রধান ফটকের সামনে তারা বিক্ষোভ ও র্যালি করেন। এরপরে, বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবারো প্রতিবাদে জড়িত হন, এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ কবির হোসেন। বক্তারা জানান, দেশের শোকের দিন সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও অফিস খুলে রাখার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়।

    শ্রমিক-কর্মচারী নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, এই তারেক্কা শোভাযাত্রা ও কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির যোগসাজশের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপ ও অর্থ লেনদেনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁরা বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্তারা এখনকে পদোন্নতি পাচ্ছেন এবং একাধিক অপ্রকাশ্য নিয়োগ অবৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি, সাংবাদিকদের হেনস্তা ও অফিসের অপ্রমাণিত অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নেতা কর্মীরা।

    প্রসঙ্গত, শ্রমিক-অভিযুক্ত বিক্ষোভের খবর পাওয়ার পরে অনেক কর্মকর্তাই বৃহস্পতিবার অফিসে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ব্যতিক্রম হিসেবে, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালা অফিসে উপস্থিত হয়নি।

    উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতিতে খুলনা ওয়াসার সচিব মাহেরা নাজনীন বলেন, তিনি ওইদিন ছুটিতে ছিলেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তিনি জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঢাকায় রয়েছেন এবং রোববার অফিসে ফিরে আসার পর বিষয়টি দেখা হবে। এর পাশাপাশি, খালিশপুর থানার ওসি মোঃ তৌহিদুজ্জামান জানান, সকালে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তবে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

  • রাশেদের মোট সম্পদ সাড়ে ৮১ লাখ, আবু তালিবের ৫৩ লাখ ও ফিরোজের প্রায় ৫৫ লাখ টাকা

    রাশেদের মোট সম্পদ সাড়ে ৮১ লাখ, আবু তালিবের ৫৩ লাখ ও ফিরোজের প্রায় ৫৫ লাখ টাকা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ-৪ আসনের (কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার অংশবিশেষ) মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেশ প্রচুর আগ্রহ দেখা গেছে। মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও অবশেষে ৯ জন তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এসব দাখিলকৃত হলফনামার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রার্থীদের আয়, সম্পদ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক তথ্য বিস্তারিত প্রকাশ পেয়েছে।

    এ আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খাঁন, জামায়াতে ইসলামী থেকে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সম্পদ ও আয়ের বিষয়গুলো বিভিন্ন আলোচনায় আসছে।

    বিএনপি প্রার্থী রাশেদ খাঁন তার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেছেন যে, ব্যবসার মাধ্যমে তার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি নিজের নামে ৩০ ভরি এবং স্ত্রীর নামে ১০ ভরি স্বর্ণ আছেন, যা উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে মনে করা হয়। এর পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত নগদ অর্থ রয়েছে ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭৫ টাকা, আর স্ত্রীর নগদ অর্থ ৩০ হাজার টাকা। বাড়ির আসবাবপত্র, অন্যান্য সামগ্রীসহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ৪১২ টাকা, আর স্ত্রীর সম্পদ প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সেইসঙ্গে তার নামে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে, এর মধ্যে তিনটি চলমান এবং দুইটি খারিজ হওয়া মামলার উল্লেখ রয়েছে।

    জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনিত প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, কৃষি, ব্যবসা এবং নিজস্ব চাকরি থেকে তার বাৎসরিক আয় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩৮২ টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে ২৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪০ টাকা এবং স্ত্রীর কাছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি উপহার হিসেবে পেতেছেন ৫ ভরি স্বর্ণ। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা, যার মধ্যে বাড়ির আসবাবপত্র, মোটরযান ও কৃষিজমিসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ রয়েছে, আর স্ত্রীর সম্পদ প্রায় ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

    অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন যে, ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৬১ হাজার ৫১৪ টাকা। বর্তমানে তার নগদ অর্থের পরিমাণ ২৯ লাখ ১৫ হাজার ২০৫ টাকা, এছাড়াও তার কাছে ২২ ভরি স্বর্ণ ও গহনা রয়েছে। উত্তরেরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির পরিমাণ ৪৭.১৯ শতক, এবং মোট আসবাবপত্র ও কৃষিজমিসহ তার মোট সম্পদ প্রায় ৫৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই হলফনামার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, যদিও আবু তালিব এবং ফিরোজের কৃষি জমি ও কৃষি আয় রয়েছে, রাশেদ খাঁনের ক্ষেত্রে কৃষি সম্পদ বা কৃষি আয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

  • খুলনা নগরী ও পূর্ব রূপসায় আওয়ামী লীগের স্লোগান লেখা পোস্টার দেখা গেছে

    খুলনা নগরী ও পূর্ব রূপসায় আওয়ামী লীগের স্লোগান লেখা পোস্টার দেখা গেছে

    খুলনা মহানগরী ও পূর্ব রূপসা এলাকায় এখন বিভিন্ন স্থানে পোস্টার দেখা যাচ্ছে, যেখানে আঁকা হয়েছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গলা তোড়া ভাষা এবং আওয়ামী লীগের অশুভ স্লোগান। এসব পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘দেশদ্রোহীর মুখে লাথি মারুন, জয় বাংলার শপথ করুন, দেশকে রক্ষা করুন! জয় বাংলা’, পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি বিশদভাবে ফুটে উঠেছে।
    সূত্রমতে, এই পোস্টারগুলো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেমন ট্রাফিক মোড়, সুন্দরবন কলেজের সামনে, পশ্চিম রূপসা ঘাট, মাছের আড়ত, কাঁচা বাজার, তেরগোলা, পূর্ব রূপসা ঘাট, মাহিন্দ্রা স্ট্যান্ডসহ অন্যান্য এলাকায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এ সব পোস্টার দ্রুতই বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয় এবং দেখা যায় রাতের অন্ধকারে এসব কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে ভয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে চালানো হচ্ছে। তারা আরও দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • স্বতঃস্ফূর্ত স্বাক্ষর প্রমাণ করে খালেদা জিয়া ছিলেন গণমানুষের আস্থার ও ঐক্যের প্রতীক

    স্বতঃস্ফূর্ত স্বাক্ষর প্রমাণ করে খালেদা জিয়া ছিলেন গণমানুষের আস্থার ও ঐক্যের প্রতীক

    খুলনা মহানগর বিএনপি উদ্যোগে দেশবরেণ্য নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে শোক বই খোলা হয়েছে। এই শোক বইটি খোলা হয়েছে দলীয় কার্যালয়ে, কে ডি ঘোষ রোডে, যেখানে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে স্বাক্ষর দিয়ে শ্রদ্ধা ও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করতে পারছেন।

    খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, গণতন্ত্রের মা ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা ও গভীর শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে এই শোক বই খোলা হয়েছে। এতে দলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি সহ সাধারণ মানুষ স্বাক্ষর করছেন। তিনি আরও জানান, প্রতিদিনই নানা পেশার ও সমাজের মানুষ দলীয় কার্যালয়ে এসে এই শোক বইয়ে স্বাক্ষর করছেন, যা প্রমাণ করে খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী নন, তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক।

    Thursday, এর শোক বইয়ে স্বাক্ষর শেষে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, সদর থানা বিএনপি’র সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবীর, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পীসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী।

    নেতাকর্মীরা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া আজীবন দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করেছেন, এবং তার ত্যাগ ও অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

    তিনি গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় ইন্তেকাল করেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মরদেহের জন্য তিন দিনের শোকপ্রদর্শনী শেষে, ৩১ ডিসেম্বর থেকে খুলনা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে শুরু হয় এই শোক বই, যা এখনও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

  • বটিয়াঘাটায় নারীর মাথাবিহীন লাশের রহস্য উদঘাটন, প্রেমিক গ্রেফতার

    বটিয়াঘাটায় নারীর মাথাবিহীন লাশের রহস্য উদঘাটন, প্রেমিক গ্রেফতার

    অপহরণের মামলার সূত্র ধরে বটিয়াঘাটায় উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন এক নারীর মৃতদেহের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), খুলনা। দীর্ঘ চার দশকের তদন্ত ও ৪০ দিনের কঠোর অভিযানের পর আসল আসামি মোঃ লালন গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

    পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন সাজিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা শামিম ফকির (৩০) তার মা সালেহা বেগমের অপহরণের অভিযোগে একই গ্রামের মোঃ লালন গাজীকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে পিবিআই খুলনার এসআই (নিঃ) রেজোয়ান। তদন্ত চলাকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, সালেহা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানাধীন এলাকায় বসবাস করছিলেন। তবে ১৯ আগস্ট ২০২৫ সন্ধ্যার পর তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, সালেহা বেগম ও আসামি লালন গাজী একত্রে ইন্দুরকানীর চাড়াখালী গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকতেন।

    প্রাথমিক তদন্তে আরও নির্দেশ করে, ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় ভিকটিম ও আসামি খুলনার বটিয়াঘাটা থানাধীন গজালিয়া গ্রামে যাওয়ার জন্য একত্রে বাসা থেকে বের হন। পরের দিন, অর্থাৎ ২০ আগস্ট বিকেলে, বটিয়াঘাটার সুরখালী ইউনিয়নের সুখদাড়া গ্রামে ঝপঝপিয়া নদী থেকে মাথাবিহীন নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত না হলে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং বটিয়াঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

    পরে, পিবিআই খুলনার ক্রাইমসিন টিমের সংগৃহীত ছবি ও আলামত দেখানোর পর পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহটি সালেহা বেগমের বলে ত্বরিতভাবে শনাক্ত করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত পিবিআইয়ের বাক্যবদ্ধ হলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।

    উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই প্রেমিকার হত্যার প্রধান আসামি লালন গাজী পলাতক থাকেন। পিবিআই’র প্রধান মোঃ মোস্তফা কামাল, এ্যাডিশনাল আইজিপি’র তত্ত্বাবধানে, এবং খুলনা জেলা অফিসের ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা’র নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালায়। অবশেষে, ১৮ ডিসেম্বর রাতে সুনামগঞ্জের হালুয়াঘাট বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

    আটকের জিজ্ঞাসাবাদে, আসামি স্বীকার করে যে, ভিকটিমের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে এবং বিয়ের চাপের কারণে সে হত্যার পরিকল্পনা করে। ১৯ আগস্ট বিকেলে, বটিয়াঘাটার পার বটিয়াঘাটা খেয়াঘাট এলাকায়, সহযোগীদের সহায়তায় সালেহা বেগমের হত্যা করে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহটি ঝপঝপিয়া নদীতে ফেলে দেয়। পুলিশের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে, আসামি তার দেখানো অনুযায়ী গজালিয়া গ্রামে তার আত্মীয়ের বাড়ির বিভিন্ন স্থানে সালেহা বেগমের ব্যবহৃত মালামাল ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করেন। বর্তমানে, আসামিকে পুনরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে, এবং এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • খুলনা BNP নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক খালেদা জিয়্যার জানাজা

    খুলনা BNP নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক খালেদা জিয়্যার জানাজা

    অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা, নিঃশব্দ কাঁন্না ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে ঢাকা পড়ে যায় মানিক মিয়া এভিনিউ। সেই জনসমুদ্রে খুলনার সাধারণ মানুষও একসূত্রে আবদ্ধ হয়ে যান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে খুলনা মহানগর ও জেলা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ রাজধানীতে ছুটে যান। প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায় জানাতে পেরে তারা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন এবং মনে করছেন তারা এই ইতিহাসের সাক্ষী। বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভোর থেকেই খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, ট্রেন এবং ব্যক্তিগত যানবাহনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অনেকেই রাত কাটিয়ে সকালে পৌঁছান রাজধানীতে। দীর্ঘ পথ, কষ্ট və ভিড় অনেককেই থামাতে পারেনি। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। মূল জানাজার আগে আগে দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মানুষের ঢল নামায় তা বিলম্বিত হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানাজার ভিড়ে সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কগুলো ব্যাপকভাবে ঢাকা পড়ে যায়। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির শত শত নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ লোক দলীয় পতাকা ও কালো ব্যাজ ধারণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কেউ ফুঁপিয়ে কাঁদছেন, কেউ নীরবে হাত তুলে দোয়া করছেন। কারো চোখে শূন্যতা, কারো চোখে হারানোর গভীর বেদনা। জানাজায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজীবন জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে গেছেন। খুলনা থেকে আসা ঢলের এই অংশ হাজির করে প্রমাণ করে, এই নেত্রী শুধু দলের নেত্রী নন, তিনি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। এই জনসমাগম দেশের কাছে অসাম্প্রদায়িক ভালোবাসার এক প্রকার গভীর বার্তা। কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া যে গণভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তারই প্রতিচ্ছবি এই বিশাল জনসমুদ্র। খুলনার মানুষ যে ভালোবাসা অনুভব করেছিল, যে প্রেম ও সমর্থন সংগৃহীত হয়েছিল, তা আজ অশ্রুকর মরুচিহ্নে রূপান্তরিত হয়েছে। এই জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও খুলনা-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ মহানগর ও জেলা বিএনপি’র বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। জানাজার স্থানেই খুলনার একজন প্রবীণ নেতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আর কখনো দেখব না খালেদা জিয়াকে—এটাই বিশ্বাস হচ্ছে না। তিনিই আমাদের সাহস, আমাদের লড়াই।’ উল্লেখ্য, তিন বার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে খুলনা ও সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। বুধবার সকাল থেকেই খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা দলের প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায়ের জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আবেগঘন অংশগ্রহণ খুলনাবাসীর গভীর সম্পর্কের প্রমাণ, যা দীর্ঘকালীন স্মৃতিতে রয়ে যাবে। খুলনা বিএনপির কার্যালয়ে বুধবার শোক বইতে শত শত মানুষ স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি, মহানগর বিএনপির কার্যালয়সহ বিভিন্ন বিএনপি অফিসে কোরআনখানি ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা ও ব্যাজ ধারণ করে নেতাকর্মীরা গভীর শ্রদ্ধা জানান।

  • খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেন খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেন খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়াকে তার দৃঢ় সিদ্ধান্তের জন্য আলাদা করে চেনা যায়। স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের অধীনে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও, তিনি সেই পথ পছন্দ করেননি। আসন্ন তালিকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, যখন অন্যরা আপস করতে থাকলে তিনি সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর এই দৃঢ়তা সময়ই প্রমাণ করে, ১৯৯০ সালে এরশাদ পতনের পর, ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া শপথ নেন। জীবনে কারাবরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও তিনি হেরেছেন না, বরং আপসের মুখ দেখাননি, যা তাকে একজন ‘আপসহীন’ বলিষ্ঠ নেত্রী হিসেবে পরিচিতি দেয়।

    বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেন নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনের মানুষ। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং খুলনা-২ আসনের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এর পাশাপাশি আরও ছিলেন দলের বিভিন্ন নেতা, কর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সমর্থকগণ। তিনি তাদের সঙ্গে নিয়ে সার্বজনীন শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে এই প্রার্থনা ও সমাবেশে অংশ নেন। এসময়ে রাজনৈতিক নেতারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও আদর্শের কথা স্মরণ করে তার অবদানকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে, শীতের কঠোরতা বাড়ছে

    চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে, শীতের কঠোরতা বাড়ছে

    মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়েছে। হাড়কাঁপানো এই শীত পরিবেশে জেলার সাধারণ জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে, আর সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন অসহায়, দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষগুলো।

    আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোরে চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের তুলনায় এটি অত্যন্ত কম, এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। গত দুই দিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে, যার ফলে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    আগের দিন, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর), সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গায়ও শীতের তীব্রতা স্পষ্ট দেখা গেছে। সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঐ দিনও আকাশে ঘন কুয়াশা ছড়িয়ে ছিল, ফলে শহর ও গ্রামে ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

    জেলাজুড়ে ভোরে কুয়াশা আর হিমশীতল বাতাসের কারণে রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইর হতে চাননি। তবে, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এটি বড় ধরণের দুর্ভোগের কারণ। তারা পরিস্থিতি উপেক্ষা করে জীবিকার জন্য কাজের খাতায় ঢুকছেন। শহরের বিভিন্ন মোড়, চায়ের দোকান ও বাজার এলাকায় খড়কুটো, কাঠ ও পুরনো টায়ার জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের।

    চুয়াডাঙ্গার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, বর্তমানে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইতে থাকলেও, এই অবস্থা আগামী দু-একদিন অব্যাহত থাকতে পারে। শীতের এই প্রকোপ আরও কিছু সময় এভাবেই থাকবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

  • সারাদেশে খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা ও শোক প্রকাশ

    সারাদেশে খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা ও শোক প্রকাশ

    সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ও ত্রিবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিভিন্ন অঞ্চলে এ জানাজার আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে খালেদা জিয়ার রুহের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়, যাতে তার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করা হয়।

    কুষ্টিয়া: ভেড়ামারা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বাদ জোহর খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন মাওলানা নাহিদুল ইসলাম। এ জানাজায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক।

    ঝিনাইদহ: শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন।

    এদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর প্রথম দিন থেকেই জেলা বিএনপি সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে। দলীয় কার্যালয়ে শোক বই খোলা হয়েছে এবং কোরআন তিলাওয়াত চলছে। এই কর্মসূচি ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছেন জেলা বিএনপির কর্মকর্তারা।

    বগুড়া: শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বিকেলে খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন, কিছু মানুষ কাঁদো কাঁদো হয়ে জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। এরপর মুসল্লিরা দোয়া ও মোনাজাত করে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।

    সিলেট: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জানাজায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও উপস্থিত ছিলেন।

    রাঙ্গামাটি: জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায়কৃত জানাজায় রাঙ্গামাটির মানুষও উপস্থিত হন। জানাযার সম্প্রচার এলইডি টিভির মাধ্যমে দেখানো হয় সরাসরি।

    রংপুর: বুধবার বাদ জোহর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে গায়েবানা জানাজা হয়। ইমামতিতে ছিলেন মাহফুজ হাফেজ মোঃ হামিদুল ইসলাম। এতে প্রবীণ নেতারা ও পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। পরে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ অন্যরা অংশ নিয়ে দোয়া করেন।

    রাজবাড়ী: খানখানাপুর সুরাজ মোহিনী ইনস্টিটিউট মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সবস্তরের মানুষ এতে উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

    পঞ্চগড়: বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুলে বাদ জোহর গায়েবানা জানাজা হয়, যেখানে সব স্তরের মানুষ অংশ নেয়। জানাজার পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া হয়।

    রাজশাহী: বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে জানাজা সম্পন্ন হয়। নগরীর টিকাপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে সবাই তার জন্য দোয়া করেন। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জোহরের নামাজের পরে কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা হয়। সেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শোক পালিত হচ্ছে।

    বরিশাল: খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নগরের ৩০টি ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে সাত দিনের দোয়া-প্রার্থনা ও শোক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সকল অফিসে কালো পতাকা উত্তোলন ও দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।

  • গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে শঙ্কা ফিরে এসেছে

    গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে শঙ্কা ফিরে এসেছে

    আগামী জাতীয় নির্বাচন কি বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হবে সেই প্রশ্নে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, নির্বাচন শুরুর আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার সকালে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তফসিল ঘোষণের পর থেকে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও সেনাবাহিনীসহ সব ধরনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকলেও, আসল প্রশ্ন হলো—এই পরিস্থিতিতে কি নির্বাচনটা সত্যিই ফ্রি, ফেয়ার এবং বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারবে? তিনি ব্যক্ত করেছেন ব্যাপক শঙ্কা।

    এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের আশপাশে এখনও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অনুপস্থিতি নেই। তারা সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে এবং নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট না দিলে কেন্দ্রে না যাওয়ার धमকি দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটাধিকার বাস্তবায়নে একটি বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।

    সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও নিরাপত্তার অভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি উল্লেখ করেন, হিন্দু ভোটারদেরও ভয় দেখানো হচ্ছে, কেন তারা অন্য দলের পক্ষে ভোট দেবেন। এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হয়েছে এবং এর দায়ভারও সরকারের ওপর চাপান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন কল্পনা করা সম্ভব নয়। তিনি সোমবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন উল্লেখ করে, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্বারা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

    প্রধান নির্বাচন উপদেষ্টার আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভোটাররা যেন ঈদের দিনের মতো উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন, সেই নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব সরকারের। তাছাড়া, আসন্ন নির্বাচনের জন্য ১০ দল একত্রে আলোচনা করে শিগগিরই আসনের বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়াও, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা যদি মনে করেন, পরিবর্তনের পক্ষে তারা ভোট দিতে চান, তবে প্রত্যাহার করে ফিরে যাওয়ার জন্য তিনি সকলকে আহ্বান জানান।

    এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। একই সময় খুলনা-১, খুলনা-২, খুলনা-৪ ও খুলনা-৬ আসনের প্রার্থীও মনোনয়নপত্র জমা দেন।