Category: বিনোদন

  • ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবির নায়িকা বনশ্রী আর নেই

    ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবির নায়িকা বনশ্রী আর নেই

    বিনোদন অঙ্গনে আবারও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঢাকাই সিনেমার পর্দায় স্বতন্ত্র এক উপস্থিতি, জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাহিনা শিকদার বনশ্রী মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

    পরিবার থেকে জানা যায়, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা সব রকম চেষ্টা চালিয়েছেন, তবে শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা সম্ভব হয়নি। তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ পথচলা শুরু করেছিলেন ১৯৭৪ সালের ২৩ আগস্ট শিবচর উপজেলার শিকদারকান্দি গ্রামে।

    ১৯৯৪ সালে ‘সোহরাব-রুস্তুম’ সিনেমার মাধ্যমে তার সিনেমায় অভিষেক ঘটে। এই ছবিতে তিনি ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন। শুরুতে ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে কাজ করে দর্শকদের মনে আলাদা স্থান করে নেন বনশ্রী, শেষ পর্যন্ত এই জুটির অনুরাগ ছিল দর্শকের হৃদয়ে গভীর।

    শৈশব ও তরুণ জীবন কাটানোর পর তিনি মূলত কাজ করে গিয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমায়। ইলিয়াস কাঞ্চনের পাশাপাশি তিনি অভিনয় করেছেন মান্না, আমিন খান, রুবেল, মত অভিনেতাদের সঙ্গেও। নব্বইয়ের দশকে ‘সোহরাব-রুস্তম’, ‘মহা ভূমিকম্প’সহ বেশ কয়েকটি নাটকীয় সিনেমায় তার অভিনয় ছিল গৌরবের।

    জীবনের বিভিন্ন সময় অসংখ্য ওঠাপড়া পার করে তিনি তার কর্মজীবনে একটি শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করেন। শেষপর্যন্ত তিনি নিজ এলাকায় ফিরে যান মাদারীপুরের শিবচরে, নানা বাঁধা-প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আশ্রয়ণের একটি ঘরে থাকতেন। সেখানে থাকতেন তার ছেলে মেহেদী হাসান রোমিওর সঙ্গে। নিজস্ব জীবনযাত্রায় টিকে থাকার জন্য নানা সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন এই অভিনেত্রী।

  • প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই

    প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই

    প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী ও সংগীতের অক্ষরে অক্ষরে আলোকবর্তিকা ফরিদা পারভীন এক নীরব আর্তনাদে আমাদের মাঝে না-অক্সিজেনের মতো নিঃসৃত হয়ে উঠলেন। আজ শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি প্রাণের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার umur ছিল ৭৩ বছর। তিনি চার সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ভক্ত-অনুরাগীদের হৃদয়ে আজ গভীর শোকের ছায়া জা centবিশ্বের প্রিয় এই শিল্পীর বিদায়ের খবরে বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন গভীর শোকের সুরে সুর তোলে।

    তার ছেলে ইমাম জাফর নোমানী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আম্মা (ফরিদা পারভীন) আজ রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় ইন্তেকাল করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের এই প্রিয় শিল্পীর সমস্ত ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।’

    ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় তার চিকিৎসা চলছিল নিয়মিত। গত ২ সেপ্টেম্বর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ডায়ালাইসিসের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু এর পর থেকে তার শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে, ফলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে রাখা হয়।

    বুধবার তার অবস্থা আরও সংকটপূর্ণ হলে লাইফ সাপোর্ট বা ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়। এরপরই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ফরিদা পারভীন বাংলাদেশের লোকসংগীতের অমুল্য সম্পদ ছিলেন। তার জীবনদর্শন, গানের জগতে অনন্য ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনা তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। তার মৃত্যু বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয়া ক্ষতি, যা সহজে পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। তার বিদায়ে পুরো জাতি শোকস্তব্ধ, আরও এক কিংবদন্তির হারানোর দুঃখে আপ্লুত।

  • সালমান খানের বাড়িতে হামলার ঘটনায় দিশা পাটানির বাড়িরও আতঙ্ক

    সালমান খানের বাড়িতে হামলার ঘটনায় দিশা পাটানির বাড়িরও আতঙ্ক

    বলিউডের জনপ্রিয় দুই তারকার বাড়িতে ঘটমান গুলির ঘটনায় ভারতের উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। প্রথমে সালমান খানের ভবনে গুলির ঘটনা ঘটার পরে, এখন তারই অংশ হিসেবে দিশা পাটানির বাড়ির সামনে গুলি চালানো হয়েছে। এই ভয়ংকর ঘটনায় কেউ আহত না হলেও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

    গতকাল ভোর ৩টার দিকে, বরেলীর ওই এলাকায় অজ্ঞাত দুইজন মোটরবাইকে করে এসে প্রায় ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। আক্রমণে কোনও ব্যক্তির হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির দায় স্বীকার করেছে গ্যাং কালচার সম্পর্কিত গ্যাংরা—গোল্ডি ব্রার ও লরেন্স বিষ্ণোই। তারা জানিয়েছে, দিশার বাড়িতে গুলি চালানোর মূল কারণ হলো ‘হিন্দু ধর্মকে অপমান করা’।

    তবে এই গ্যাং দাবি করেছে যে, তারা দিশার ওপর নয়, তার বোন খুশবু পাটানিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। গোল্ডি ব্রার বলেছে, খুশবু পাটানি আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজ ও অনিরুদ্ধ আচার্যকে অপমান করেছেন। তাদের দাবি, এটি সনাতন ধর্মের মহাদেবের অবমাননা এবং এজন্য এই হামলা।

    অভিযোগের ভিত্তিতে দিশার পরিবার দ্রুত পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বাইরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    এদিকে, খুশবু পাটানি সম্প্রতিকালে এক বিতর্কিত সাক্ষাৎকারে আচার্য অনিরুদ্ধের ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কে মন্তব্য করেন। এই মন্তব্যে তিনি ‘দেশদ্রোহী’ ও ‘নপুংসক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন অনিরুদ্ধকে। খুশবু বলেন, ‘যারা এই ধরনের ব্যক্তিদের অনুসরণ করেন, তারা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।’

    পুলিশ এই ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এ ঘটনার পেছনে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসলে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • প্রিয় সংগীতশিল্পী দীপুলির মৃত্যু

    প্রিয় সংগীতশিল্পী দীপুলির মৃত্যু

    র‍াস্টফ ব্যান্ডের প্রখ্যাত ভোকালিস্ট আহরার মাসুদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি গতকাল সোমবার রাতে সাড়ে ১০টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ভক্তরা তাকে সাধারণত দীপ নামেই জানতেন। তার মৃত্যুর কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।

    এক শোকবার্তায় ব্যান্ড র‍াস্টফ তাদের দু:খ প্রকাশ করেছে। তারা লিখেছেন, ‘এমন দুঃখজনক মুহূর্তে সঠিক শব্দ খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। প্রিয় ভোকালিস্ট, বন্ধু ও সহযাত্রী আহরার “দীপ” মাসুদ এর মৃত্যু আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা শোকে ভেঙে পড়েছি, কিছুক্ষণ অবিশ্বাসের মধ্যে আছি। গত রাতেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।’

    ব্যান্ডটি আরও জানিয়েছে, ‘তার পরিবারের, বন্ধু ও প্রিয়জনের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা ও প্রার্থনা। আমাদের সকলেরই চেষ্টা হলো দীপের অসাধারণ প্রতিভার মর্যাদা দিতে। মানুষের মতো মূল্যবান এই ব্যক্তিকে স্মরণ করতে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’

    সবশেষে তারা সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, ‘এই কঠিন সময়ে দয়া করে পরিবার ও কাছের ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত পরিসর সম্মান করুন। দীপের আত্মার শান্তি কামনা করে সকলেই প্রার্থনা করুন। শান্তিতে ঘুমান, দীপ। তোমার শূন্যতা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেদনাময় হয়ে থাকছে।’

    উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ‘ডি রকস্টার’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সংগীতজগতে পরিচিতি লাভ করেন ব্যান্ড ‘এক্লিপস’-এর ভোকালিস্ট দীপ। তাদের জনপ্রিয় গানের মধ্যে ছিল ‘সুদূর কল্পনা’, ‘আহ্বান’, ‘পৃথিবীর প্রহর’ — যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

    তারপরের সময়ে তিনি ‘ক্রাল’, ‘কেলিপসো’ ও ‘র‍াস্টফ’ ব্যান্ডের প্রধান একজন। সর্বশেষ তিনি ‘র‍াস্টফ’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট হিসেবে কাজ করে থাকলেও, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যান্ডগুলো— ‘মেটালিকা’, ‘সিস্টেম অব আ ডাউন’, ‘প্যান্টেরা’, ‘এলিস ইন চেইনস’— এর গানের কভারে রকসংগীতপ্রেমীদের মনে অধীর প্রশংসা অর্জন করেন। তার এই অবদান বাংলা সংগীতাঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • বলিউড তারকা সোনু সুদের বিরুদ্ধে জুয়া-কাণ্ডের অভিযোগ, ইডির তলব

    বলিউড তারকা সোনু সুদের বিরুদ্ধে জুয়া-কাণ্ডের অভিযোগ, ইডির তলব

    বিশ্বপ্রিয় বলিউড অভিনেতা এবং মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত সোনু সুদ আবারো আলোচনায়। মানুষের পাশে সবসময় দাঁড়ানোর জন্য তিনি প্রশংসা পেয়ে থাকেন, তবে এবার তাঁর বিরুদ্ধে জুয়া সংক্রান্ত একটি মামলায় তদন্ত শুরু হয়েছে। ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাকে অনলাইন জুয়া অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ডেকেছে।

    প্রতিবেদনে জানা গেছে, তদন্তকারীরা জানতে চাচ্ছেন, এই বিনোদন ও জুয়া অ্যাপের সঙ্গে অভিনেতার কী ধরনের চুক্তি হয়েছিল, কত টাকার বিনিময়ে তিনি এই অ্যাপের প্রচারে যুক্ত হয়েছিলেন এবং এই চুক্তির διάρκ্য কোথাও কত বছর ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গোয়েন্দারা এসব তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছেন, যাতে কাগজে-কলমে ঠিকঠাক তদন্ত সম্পন্ন হয়।

    প্রসঙ্গত, গত বছর থেকেই বিভিন্ন বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার তারকা, ও কিছু ক্রিকেটার এই অনলাইন বেটিং অ্যাপের মাধ্যমে জুয়া প্রচার ও লেনদেনের জন্য জড়িত থাকার অভিযোগে জড়িয়ে পড়েছেন। তালিকায় রয়েছে বিজয় দেবেরাকোন্ডা, রানা ডগ্গুবতী, প্রকাশ রাজের পাশাপাশি হরভজন সিং, উর্বশী রাওতেলা, সুরেশ রায়না সহ অন্য বেশ কয়েকজন।

    অভিনেতা সুরেশ রায়না, হরভজন সিং এবং অন্যান্য তারকারা গত জুন মাসে কড়া জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিয়েছেন। তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে হয়, যেখানে এই অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রচার নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। এ সবের মধ্যে এখন সোনু সুদও ডেকে পাঠানো হয়েছে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর হাজিরা বাধ্যতামূলক।

    অন্যদিকে, এর আগে ইডির ডাকে সাড়া দিয়ে টলিিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী হাজিরা দিয়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সব কথা দিয়ে সম্পূর্ণ সহায়তা করেছেন এবং এতে সন্তুষ্ট হয়েছেন তদন্তকারীরা। এই পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য তারকাদের মতো, সোনু সুদও হয়তো এই তদন্তের কেন্দ্রে থাকবেন আশু ফলাফলের জন্য।

  • সালমান খানের পর দিশার বাড়িতে হামলা: অজান্তে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ

    সালমান খানের পর দিশার বাড়িতে হামলা: অজান্তে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ

    বলিউডের দুই জনপ্রিয় তারকার বাড়িতে গুলির ঘটনা ভারতের পরিস্থিতিকে আবারো উত্তেজিত করে তুলেছে। এই নতুন ঘটনায় সাম্প্রতিক সময়ে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সালমান খানের বাড়ির পর এবার গুলি ছোড়া হয়েছে অভিনেত্রী দিশা পাটানির বাড়ির কাছে। গতকাল ভোর ৩টার দিকে বরেলীর ওই এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় দুজন মোটরবাইকে করে এসে প্রায় ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। এরপরও কেউ হতাহত হয়নি, তবে এই ঘটনা চারদিকে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে দিয়েছে।

    আটকের জন্য সন্দেহভাজনদের খোঁজ করছে পুলিশ। অপরাধীদের দাবি, এই হামলার কারণ হলো ‘হিন্দু ধর্মকে অপমান করার খেসারত’। তবে তারা বলছে, মূল লক্ষ্য হয়েছিল দিশা নন, বরং তার বোন খুশবু পাটানি। গোল্ডি ব্রার ও লরেন্স বিষ্ণোই নামের এই গ্যাং জানিয়েছে, খুশবু পাটানি আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজ ও অনিরুদ্ধ আচার্যকে অপমান করেছেন, যার জন্য এই হামলা হয়েছে।

    দিশা পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বাড়ির নিরাপত্তা কঠোর করে তোলা হয়েছে এবং বাইরে পাহারাদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, খুশবু পাটানি সম্প্রতি এক বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন। অনিরুদ্ধ আচার্য এক সাক্ষাৎকারে ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কের ওপর মন্তব্য করেছিলেন, যা খুশবু ন্যAMESPACE করছে ‘দেশদ্রোহী’ ও ‘নপুংসক’। তিনি বলেছেন, ‘যারা এই ধরনের জীবনধারাকে অনুপ্রেরণা দেন, তারা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।’

    পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই হামলার পেছনে ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের সংমিশ্রণ রয়েছে। এই ঘটনার শীঘ্র সমাধান না হলে বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করছে বিশ্লেষকরা।

  • ফরিদা পারভীনের অবস্থা খুবই খারাপ, স্বামী জানালেন দোয়া অনুরোধ

    ফরিদা পারভীনের অবস্থা খুবই খারাপ, স্বামী জানালেন দোয়া অনুরোধ

    জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যাচ্ছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন। তার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার স্বামী, বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম। তিনি বলেন, “ফরিদা পারভীনের অবস্থা খুবই সংকটজনক। তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন, বেশি কিছু বলার নেই। শুধুই সবাই দোয়া করুন।”

    এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর একটি ফেসবুক পোস্টে তার পুত্র ইমাম জাফর নোমানী জানিয়েছিলেন, “সকলকে জানাতে চাই যে, গত বুধবার বিকালে থেকে ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর অবনতি হয়। তখন থেকেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। বৃহস্পতিবার তার স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তার রক্তচাপ নেই।

    তিনি আরো লিখেছিলেন, “বর্তমানে ডাক্তাররা কঠোর চিকিৎসা দিয়ে কৃত্রিমভাবে তার রক্তচাপ ধরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং মেশিনের মাধ্যমে তার ফুসফুস চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এই পরিস্থিতিতে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির কোনও আশাই নেই। তবে, হাসপাতালের পরামর্শে আমরা কিছু সময়ে আরো ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে এই লাইফ সাপোর্ট চালিয়ে যাচ্ছি।”

    ফরিদা পারভীন কয়েক বছর ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন। গত ৫ জুলাই তার শারীরিক পরিস্থিতি আবার গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ২২ জুলাই তিনি বাড়িতে ফেরেন।

    প্রায় দুই মাসের মধ্যে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর থেকে সেখানে আইসিইউতেই ছিলেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

    ফরিদা পারভীন ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে তার সংগীত জীবন শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তিনি সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে লালন সংগীতের তালিম নেন।

    সংগীতাঙ্গনে তার অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান তিনি। এছাড়াও অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা তার ঝুলিতে রয়েছে। ২০০৮ সালে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে তিনি ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

  • চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত অভিনেত্রী কারিশমা

    চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত অভিনেত্রী কারিশমা

    ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিশমা শর্মা এক মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। শুটিংয়ে যেতে যাওয়ার পথে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পাবেন। ঘটনার পুরো বিবরণ ও তার বর্তমান অবস্থা তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

    অভিনেত্রী তার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘গতকাল বুধবার আমি চার্চগেটের উদ্দেশ্যে শুটিংয়ে যাচ্ছিলাম। এই জন্য আমি শাড়ি পরে ট্রেনে চড়েছিলাম। ট্রেনে উঠার সময় পড়ে গিয়েছিলাম। এরপর লক্ষ্য করি, আমার কিছু বন্ধুত, যারা ট্রেনে উঠতে পারেনি, তাদের দেখে আমি দ্রুত ট্রেনের গতি বাড়ার জন্য ভয় পেয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিলাম। দুর্ভাগ্যবশত আমি উল্টো হয়ে পড়ি, যার ফলে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাই।’ এই ঘটনার ফলে তিনি পিঠে আঘাত পান এবং মাথা ফুলে যায়।

    অভিনেত্রী আরও জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি এমআরআই করিয়েছেন। একদিন তিনি ডাক্তারের পর্যবেক্ষণে ছিলেন, যাতে মাথার চোটের Severity বোঝা যায়। তিনি তার অনুরাগীদের কাছে দোয়া ও ভালোবাসা চেয়েছেন। বলছেন, ‘গতকাল থেকে আমি খুব যন্ত্রণায় আছি, কিন্তু আমার শক্ত থাকার চেষ্টা করছি। আমার জন্য প্রার্থনা করবেন।’

    কারিশমা আরও জানান, তিনি বিভিন্ন জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘রাগিনী এমএমএস’, ‘উজরা চমন’, ‘হাম’ এবং ‘প্যায়ার কা পঞ্চনামা’। তার অসুস্থতার খবর পেয়ে তার ভক্তরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

  • বিশ্বশিল্পীর প্রতিবাদ: ইসরায়েলকে বর্জনের ঘোষণা

    বিশ্বশিল্পীর প্রতিবাদ: ইসরায়েলকে বর্জনের ঘোষণা

    দক্ষিণ জেরুজালেমে চলমান ফিলিস্তিনের ওপর সেনাস্পন্দনের কারণে সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে শিল্পীরা এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিলেন। ‘ফিল্ম ওয়ার্কার্স ফর প্যালেস্টাইন’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে, বাংলাদেশের মতো বিশাল সংখ্যক ১২ শতাধিক চলচ্চিত্র তারকা, নির্মাতা ও কলাকুশলী ইসরায়েলি কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক উৎসবের সাথে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা দ্রুত প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, এখন থেকে তারা ইসরায়েলি নির্মিত বা প্রযোজিত কোনো চলচ্চিত্রে অংশ নেবেন না। পাশাপাশি, ইসরায়েলি কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাও বাতিল করেছেন তারা। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন অস্কার, বাফটা, এমি, পাম দ’অরসহ নানা আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। এছাড়া, বিশ্বের অন্যতম স্বনামধন্য পরিচালক ইয়র্গোস ল্যান্থিমোস, আভা ডুভার্নে, অ্যাডাম ম্যাককে, বুটস রিলে, এমা সেলিগম্যান, যশুয়া ওপেনহাইমার, মাইক লেইসহ তরুণ ও অভিজ্ঞ নির্মাতারা এ তালিকায় রয়েছেন।

    অভিনেতাদের মধ্যে আছেন এমা স্টোন, অলিভিয়া কোলম্যান, আয়ো এডিবেরি, লিলি গ্ল্যাডস্টোন, মার্ক রাফেলো, রিজ আহমেদ, সিনথিয়া নিক্সন, টিল্ডা সুইনটন, জেভিয়ের বার্ডেম, জো অ্যালউইন, জশ ও’কনরসহ আরও অনেকে। তারা বলেন, ইসরায়েলি প্রযোজনা বা পরিবেশক সংস্থাগুলি কখনোওই ফিলিস্তিনের মানুষের অধিকার সমর্থন করেনি। বরং, অধিকাংশই নৃশংসতা চালাচ্ছে বা সহায়তা করছে। ফলে, তারা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক রাখবেন না।

    এই সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ, জেরুজালেম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, হাইফা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ডোকাভিভ, তেলআবিব ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও টিএলভি ফেস্টের মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি উৎসবে তারা উপস্থিত থাকছেন না এবং তাদের কাজের প্রদর্শনও দেখা যাবে না।

    বিবৃতির পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে, ইহুদি সম্প্রদায়ের মার্কিন অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার বলেন, ‘গাজায় গত দু’বছর ধরে চলমান সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয় হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। একজন ইহুদি মার্কিন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি, এই গণহত্যা বন্ধে আমাদের সক্রিয়ভাবে ভূমিকা নিতে হবে। যখন রাজনীতি ব্যর্থ হয়, তখন শিল্পীদেরই এগিয়ে আসা উচিত।’

    সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো যখন এই নিরীহ মানুষের ওপর অন্ধ সমর্থন দিচ্ছে, তখন শিল্পীরা অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন না। মানুষের অধিকারের জন্য দাঁড়ানো এখন দারুণ জরুরি।

  • বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই

    বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই

    বিশিষ্ট ও শ্রোতাপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন আজ शनिवार (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার শেষে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিলাহি রাজিউন)। তার অকাল চলে যাওয়ার খবর পরিবার, বন্ধু ও সমর্থকদের জন্য গভীর শোকের নামান্তর। তিনি রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ঢাকা শহরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। শিল্পী হিসেবে তার এই অসাধারণ পথের মাঝে তিনি চার সন্তানের মা এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ও অনুরাগীদের হৃদয়ে স্থান করে রেখে গেছেন।

    তার মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে ইমাম জাফর নোমানী। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আম্মা (ফরিদা পারভীন) আজ (শনিবার) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় আবির্ভূত জীবন থেকে চির বিদায় নিলেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন তার সব ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।’

    অভিনেত্রী ও গায়িকা ফরিদা পারভীন বহু বছর ধরে কিডনি জটিলতা নিয়ে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবনতি হওয়ায় তাকে সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করতে হতো। ২ সেপ্টেম্বর তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য নেওয়া হয়। তবে ডায়ালাইসিসের পর তার শারীরিক অবস্থা গুরুতরভাবে খারাপ হতে থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে রাখা হয় এবং তার পরিস্থিতি সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠার পর তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

    উপযুক্ত চিকিৎসার মাঝে তার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হলে তিনি লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তরিত হন। মঙ্গলবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ফরিদা পারভীন বাংলাদেশের লোকসংগীতের অমল ধারা ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার এই অমূল্য অবদান ও শিল্পসাধনা দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। তার মৃত্যু দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্য সৃষ্টি করেছে, যা অলোকপ্রকাশের মতো গভীর শোকের।