Category: জাতীয়

  • রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আরও জোরদারের আহ্বান বিলাল এরদোয়ানের

    রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আরও জোরদারের আহ্বান বিলাল এরদোয়ানের

    রোহিঙ্গাদের নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ছেলে, নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান। তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই তুরস্ক সরকার মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে সংক্ষিপ্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, সকাল পনেরো মিনিটের মধ্যে ঢাকা থেকে এ বিশেষ বিমানে কক্সবাজারে পৌঁছান তিনি ও তার ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এ দলে ছিলেন জার্মানির প্রাক্তন ফুটবলার মেসুত ওজিলসহ টুরস্কের বিভিন্ন সংস্থা ও সরকারি কর্মকর্তা।

    উখিয়া পৌছানোর পর প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান ও পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান। এরপর তারা উখিয়ার শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। তারা রোহিঙ্গাদের জন্য সরকার ও সাধারণ মানুষের অসাধারণ সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    মতবিনিময় সভা শেষে, নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান ও তার প্রতিনিধি দল উখিয়ার বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরে যান। সেখানে তারা তুরস্কের পরিচালিত ফিল্ড হাসপাতাল, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা টিআইকেএ’র মাল্টিপারপোজ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার পরিদর্শন করেন, এবং রোহিঙ্গাদের জন্য আয়োজিত একটি charity ফুটবল ম্যাচে অংশ নেন।

    ফুটবল ম্যাচ শেষে, এই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার করবেন। এক দিনের এই সরকারি সফরে, তারা রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি ও হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাকশনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।

    সাক্ষরত দলে আছেন তুরস্কের সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার সভাপতি আব্দুল্লাহ এরেন, ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন এবং অন্যান্য সরকারি, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি।

    পরিদর্শন শেষে রাতে এই দলটি ঢাকায় ফিরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই সফরটি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্পের চিঠি

    প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্পের চিঠি

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক বিজয়ে তারেক রহমানকে শুভকামনা ও সফলতা কামনা করেন।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এই সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হলো একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, যা শক্তিশালী এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ট্রাম্পের চিঠিতে আরও বলা হয়, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য উপকারি হবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে উন্নত সুরক্ষা ও প্রযুক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমেরিকার উচ্চ মানের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলোর গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়।

    অন্তর্বর্তীভাবে, ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সম্পর্ক আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী ও বন্ধুত্বপূর্ণ হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যার মাধ্যমে উভয় দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ আরও দৃঢ় হবে।

  • ইসির নির্দেশ: ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করুন

    ইসির নির্দেশ: ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করুন

    সদ্য সম্পন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। এ নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনের জন্য স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। বিশেষ করে ভোটের আগের দিন এবং ভোটের দিন দেখানো ফুটেজগুলো পরবর্তী যাচাই ও প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ অফিস আদেশে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

    নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে যেসব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলোর ফুটেজ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। ভোটের আগের দিন ও দিনকার ভিডিও ফুটেজগুলো ভবিষ্যতে যথাযথ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য অফিসিয়ালভাবে জমা দিতে হবে।

    এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো, নির্বাচনের প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে ও কোনো অনিয়মের তদন্তে এই ফুটেজগুলো গুরুত্বপূর্ণ পন্থা হয়ে উঠবে। নির্বাচনে ফলের বিষয়ে বিতর্ক বা কোনও অভিযোগ উঠলে, এই ভিডিও প্রমাণই মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে নির্বাচনের জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

  • সামাজিক সুরক্ষার জন্য ফ্যামিলি কার্ডে রাজনৈতিক বিবেচনা নয়: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

    সামাজিক সুরক্ষার জন্য ফ্যামিলি কার্ডে রাজনৈতিক বিবেচনা নয়: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

    সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনভাবেই ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের অপেক্ষা তিনি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় জানান, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগরা অংশ নেয়।

    মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে সমাজের দুর্বল ও হতদরিদ্র মানুষগুলোকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তবে, এটা যেন রাজনীতি বা কোনো পক্ষপাতিত্বের কারণে না হয়, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, ফ্যামিলি কার্ড সরবরাহের সময় কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা অসচ্চরিত্র ব্যক্তি যেন এর সুবিধা নিতে না পারে, সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। সম্প্রতি ঘোষণা দেন যে, এই কার্ড দেওয়া হলে চলমান ভাতা ও সুবিধাগুলো অব্যাহত থাকবে।

    আবু জাফর মো. জাহিদ আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে এই কার্ড দেওয়া হবে। তবে, কতজনকে প্রথম ধাপে এবং কোন জেলায় এই সুবিধা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই সার্ভে চালানো হয়েছে এবং কিছু এলাকায় তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, কৃষি, খাদ্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেন, তারা দ্রুত এই প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায় শুরু করতে চাইছেন। আসন্ন ঈদের আগে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কিছু এলাকার ফ্যামিলি কার্ড চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কতটুকু দ্রুত ও কতটুকু সংখ্যক মানুষকে এই সুবিধা দেওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে আগামী দুই এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, প্রথমে হতদরিদ্র পরিবারের জন্য এই কার্ড প্রদান করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ে কতজনকে কার্ড দেওয়া হবে, তা এখনও ঠিক করা হয়নি; তবে কিছু এলাকায় আগে থেকেই এই পরিকল্পনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমেই মহিলাদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি, যার মধ্যে ক্যাশ টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো জাতির অন্যতম দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সঠিক ও সময়োচিত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

  • রমজানেই চালু হবে ফ্যামিলি কার্ড: পরিবেশ মন্ত্রী

    রমজানেই চালু হবে ফ্যামিলি কার্ড: পরিবেশ মন্ত্রী

    বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে যে এই রমজানেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার, জানিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। সভায় ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন ও কার্যক্রমের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, এটি নির্বাচনী ইশতেহারে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কীভাবে এটি কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই কার্ড সুবিধা প্রত্যেকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা নয়। একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে; যা হতদরিদ্র থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই সুবিধা নিশ্চিত করবে। আরও জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি জানান, এই প্রকল্পটি মূলত সার্বজনীন এবং সব সুবিধাভোগীর জন্য উন্মুক্ত। প্রশ্ন করা হয়, কি এই রমজানেই এই উদ্যোগের শুরু হবে কিনা, মন্ত্রী উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, ঈদের আগে একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি চালু হবে।’ প্রধানমন্ত্রী চান, অন্তত ঈদের আগে এর সূচনা সম্পন্ন হোক, বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, সিপিবি জোর দিয়েছে যে, আগামী অর্থবছরে যদি ফ্যামিলি কার্ড চালু না হয়, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব নির্বাচন পরবর্তী সময়ের জন্য আশা করা যায়। এ বিষয়ে সংবাদ নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে, মন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘এটি অবশ্যই চালু হবে, কোনো সমস্যা নেই। আমাদের কাজ হচ্ছে কার্যক্রমের ব্যাখ্যা এবং কৌশল নির্ধারণ।’

  • ফের ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প অনুভূত হল দেশের বিভিন্ন অংশে, কেন্দ্রীয় পাহাড়ি অঞ্চল ছাতক

    ফের ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প অনুভূত হল দেশের বিভিন্ন অংশে, কেন্দ্রীয় পাহাড়ি অঞ্চল ছাতক

    দেশের বিভিন্ন এলাকা আবারও ভূকম্পনে কেঁপে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানায়, এর মাত্রা ছিল ৪.১ রিখটার স্কেলে। তারা আরও জানায়, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকাতে।

    অন্যদিকে, মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্টের মতে, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল রাজধানী ঢাকার কাছ থেকে প্রায় ১৮১ কিলোমিটার দূরে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়। এই কম্পন সিলেট নগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে কিছু সময়ের জন্য অনুভূত হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৪.১। উৎপত্তিস্থল ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৬২৬ কিলোমিটার গভীরে থাকায় আশপাশের এলাকাগুলোতে তা অনুভূত হয়েছে। এটি হয়তো ক্ষণস্থায়ী হলেও, মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা অবলম্বন করছে।

  • ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অগ্রগতিতে বৈর্থ্য ও চ্যালেঞ্জসমূহ

    ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অগ্রগতিতে বৈর্থ্য ও চ্যালেঞ্জসমূহ

    নতুন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে পাঁচ লাখ পরিবারকে মাসে ২ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা প্রদানের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, যা এই উদ্যোগের সফলতা প্রভাবিত করতে পারে। নাগরিক প্ল্যাটফর্ম মনে করে, এই কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থবরাদ্দ সামুদ্রিক মোট আয়ের ০.১৫ থেকে ০.২০ শতাংশের কাছাকাছি হবে, যা সরকারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝা তৈরি করতে পারে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিস্তার করা যাবে, যা ভবিষ্যতে একটি সর্বজনীন মৌলিক আয়ের কর্মকাণ্ডের পথ প্রশস্ত করতে পারে। তবে, উপকারভোগীর নির্বাচন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, যদি এটি প্রথাগত প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক পদ্ধতিতে করা হয়। এ জন্য বৈজ্ঞানিক ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিসুবিধা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান এই বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা জরুরি। এর মাধ্যমে প্রকৃত প্রয়োজনী মানুষরা উপকৃত হবেন এবং নির্বাচনী ইশতেহার রূপায়িত সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর এই কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা থাকলে, তা সময় উপযোগী হবে। কারণ, নির্বাচন আগে অপ্রতুল ডাটা ও দুর্নীতির ঝুঁকি থাকায় বিতরণে সমস্যা হতে পারে। তাই, একটু সময় নিয়ে সঠিক ডেটার ভিত্তিতে এই কর্মসূচি চালানো উত্তম।

    অতিরিক্তভাবে এ ধরনের পরিকল্পনার লক্ষ্য রয়েছে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার, যেখানে ২০২৫ সালে জিডিপির আকার ছিল ৪৬২ বিলিয়ন ডলার। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে গড়ে ৯ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে, যা বর্তমানে খুবই উচ্চাভিলাষী তবে সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ২০২৫ সালে কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ৬.৮ শতাংশ, আর ২০২৬ সালে সেটা ৮.৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বাস্তবতা অনুসারে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে, কারণ প্রতি বছর প্রায় ০.৯ শতাংশ পয়েন্টের মতো উন্নতি দরকার। সঠিক সংস্কার ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

    সিপিডির তৌফিক ইসলাম উল্লেখ করেন, বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পাশাপাশি উচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি দরকার, যেখানে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকরী সংস্কার প্রধান ভূমিকা রাখবে। এর ফলে, এই উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

  • রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ওপর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারে বিলাল এরদোয়ানের আহ্বান

    রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ওপর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারে বিলাল এরদোয়ানের আহ্বান

    তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ছেলে নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ও জোরদার উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে তুরস্ক সরকার মানবিক সহায়তা ও পাশে থাকার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার সময়, কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। এর আগে, বেলা সোয়া ১০টায় ঢাকা থেকে বিশেষ বিমানে করে একদিনের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে কক্সবাজারে পৌঁছান নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান ও তার ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল, তাদের মধ্যে জার্মানির সাবেক ফুটবলার মেসুত ওজিলও রয়েছেন।

    উখিয়া বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের স্বাগত জানান- জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান এবং পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান। এরপর তারা উখিয়ার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয় পরিদর্শন করেন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত তুরস্কের সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিজ্ঞানভিত্তিক এই আলোচনা শেষে, তিনি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি ধন্যবাদ জানানো হয়।

    মতবিনিময় সভা শেষে, প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে বিলাল এরদোয়ান রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যান। যেখানে তারা বালুখালী ৯ নম্বর শিবিরে অবস্থিত তুর্কি ফিল্ড হাসপাতাল ও টিআইকেএ পরিচালিত মাল্টিপারপোজ অ্যাডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার পরিদর্শন করবেন এবং রোহিঙ্গাদের জন্য আয়োজিত একটি চ্যারিটি ফুটবল ম্যাচে অংশগ্রহণ করবেন।

    ফুটবল ম্যাচ শেষে, এই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে ইফতার করবেন, এতে তুরস্কের প্রেসিডেন্টপুত্র এবং জার্মানির সাবেক তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিলসহ সবাই যুক্ত থাকবেন। এই এক দিনের সরকারি সফরে, তারা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সামগ্রিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।

    এছাড়াও, দলটির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার সভাপতি আব্দুল্লাহ এরেন, ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন এবং অন্যান্য গণমাধ্যম, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তা।

    ব্রিফিং ও পরিদর্শন শেষে রাতে দলটি কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই সফরের মাধ্যমে তুরস্ক তাদের আঞ্চলিক ও মানবিক সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর সাথে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সাথে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে তার দপ্তরে দ্বিতীয় দিনের মতো দাপ্তরিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিনি তারকার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। এই সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম।

    এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে পৌঁছালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সত্তার তার স্বাগত জানান।

    সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে এই বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী今日 প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ব্যস্ত ছিলেন। তিনি ফ্যামিলি কার্ড স্কিম চালু করার পরিকল্পনা নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেন, যেখানে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।

    সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, দুপুর ২টায় তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে অংশ নেবেন। এই বৈঠকে দেশের পরিবেশ রক্ষার জন্য পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নদী, খাল ও অন্যান্য জলাশয় খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমের বিস্তারিত আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

  • প্রধানমন্ত্রী নিজ গাড়িতে চলাফেরা, সরকারি গাড়ি ব্যবহার করবেন না

    প্রধানমন্ত্রী নিজ গাড়িতে চলাফেরা, সরকারি গাড়ি ব্যবহার করবেন না

    সরকারি নয়, নিজের গাড়িতে চলাফেরা করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান রুহুল কবির রিজভী। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানান বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি, চালক ও নিজের কেনা জ্বালানি ব্যবহার করছেন। তিনি এখন সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না। আজকের দিনের কর্মসূচিতে তিনি সাভার ও শেরেবাংলা নগরে গিয়েছিলেন নিজের টয়োটা গাড়িতে, সেখান থেকে সচিবালয়ে ফিরে এসেছেন, সেটিই ব্যবহার করেছেন।’ রুমন আরও জানান, যানজটের কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার গাড়িবহরের সংখ্যা কমানো হয়েছে। আগে সহকারে ১৩ থেকে ১৪টি গাড়ি থাকত, এখন তা কমিয়ে চারটি করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিন পতাকাবিহীন গাড়িতে চলেছেন। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অথবা বিদেশি মেহমানদের সফরে গেলে তার গাড়িতে পতাকা লাগানো হবে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে মন্ত্রী-প্রতিনিধিরা সহজে আসতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে। বিশেষ করে ভিআইপি চলাচলে জটিলতা কমবে।’ এর পাশাপাশি, রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যাত্রাপথে সড়কের দুপাশে পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের অবস্থান যাতে বন্ধ করা হয়, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন। আজ সকালে তিনি গুলশানের বাসা থেকে নিজের সাদা টয়োটা গাড়িতে চড়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সাভার থেকে শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এই সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরাও তার সঙ্গে ছিলেন। পরে তিনি সচিবালয়ে গিয়ে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন।