Category: জাতীয়

  • বিলোনিয়া সীমান্তে ভারতীয়দের বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভ, বিজিবির প্রতিবাদ

    বিলোনিয়া সীমান্তে ভারতীয়দের বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভ, বিজিবির প্রতিবাদ

    ফেনীর সীমান্তবর্তী পরশুরামের বিলোনিয়া স্থলবন্দরের ভারত অংশে বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। সনাতনী হিন্দু সমাজের ব্যানারে কিছু ভারতীয় নাগরিক গতকাল রোববার বিকেলে বিক্ষোভ করেন। 

    সোমবার এ বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিলোনিয়া সীমান্তেও ওই বিক্ষোভের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিলোনিয়া স্থলবন্দরের ওপারে ৫০ থেকে ৬০ জন ভারতীয় নাগরিক জড়ো হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা ইসকনের পক্ষে এবং বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য ও বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় ভারতের নো ম্যানস ল্যান্ড অংশে ঢুকে বাংলাদেশের দিকে মাইক তাক করে উচ্চ শব্দে প্রায় আধা ঘণ্টা নানা স্লোগান দেন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের সরিয়ে দেন।

    বিলোনিয়ার বাসিন্দা এম এ হাসান বলেন, বাংলাদেশ ও বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে কটাক্ষ করে দেওয়া বক্তব্য ও নানা স্লোগান নিন্দনীয়। দ্রুত এসবের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    বিলোনিয়া স্থলবন্দরের কাস্টমস এসআই আমিনুল হক বলেন, সীমান্তের শূন্য রেখায় বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে এমন আন্দোলন অস্বাভাবিক। বিজিবির পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    বিলোনিয়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বলেন, সীমান্তের অপর প্রান্ত থেকে উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে স্লোগান দেওয়ার বিষয়টি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

    বিজিবির মজুমদারহাট বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সৈয়দ কামরুল আলম মজুমদার বলেন, ঘটনার পর বিলোনিয়া স্থলবন্দরে বিজিবির সদস্যরা অবস্থান নেন। বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডারকে ডেকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

    বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে প্রথমে মৌখিক ও পরে লিখিতভাবে বিএসএফকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে বিএসএফ সচেষ্ট রয়েছে বলে বিজিবিকে আশ্বস্ত করেছে।

  • ভারতে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে উত্তাল ঢাবি

    ভারতে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে উত্তাল ঢাবি

    ভারতের আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা।

    সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাবির শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর একটি মিছিল বের করা হয়। এ সময় বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিলে যোগ দেন। পরে মিছিলটি ভিসি চত্বর হয়ে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক সমাবেশে মিলিত হয়।

    এ সময় শিক্ষার্থীরারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগানগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘গোলামী না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দাও জনগণ’, ‘হাইকমিশনে/আগরতলায় হামলা কেন, দিল্লি তুই জবাব দে’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘আমরা কী চাই, আজাদি আজাদি’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদি।

    বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ভারত আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ। তাদের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে, প্রতিবেশী হিসেবে ভালো সম্পর্ক থাকবে। কিন্তু কোনোভাবেই তাদের সঙ্গে আমাদের রাজা-প্রজার সম্পর্ক হতে পারে না। ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনে হামলার জন্য অবশ্যই ভারতকে ক্ষমা চাইতে হবে।

    তারা বলেন, ভারতকে বলতে চাই— এ দেশে আর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা নেই। সুতরাং তারা যেন আওয়ামী লীগের আমলের মতো করে এ দেশে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা না করে। দিল্লিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, শরীরে এক ফোটা রক্ত থাকা পর্যন্ত আমরা ভারতের আধিপত্য মেনে নেব না। যেভাবে আমরা হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছি সেভাবেই আমরা দিল্লির আগ্রাসনও রুখে দেব।

    এ সময় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ভারত বাংলাদেশের দূতাবাসে হামলা করে এক নগ্ন ইতিহাস রচনা করেছে। ভিয়েনা কনভেনশনের বিপরীতে গিয়ে তারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ভারত তাদের আচরণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে তারা বিশ্বসভ্যতা এবং ভদ্রতাকে ধারণ করে না। ভারত সরকারকে তাদের এমন নির্লজ্জ আচরণের জন্য বাংলাদেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

    তিনি বলেন, ভারতের ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের সর্বত্র বিদ্যমান। ভারতের তৈরি মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ আমাদেরকে হত্যা করার জন্য ডাকসুতে হামলা করেছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় দেখা যায় সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানো অনেক সামরিক লোক হিন্দিতে কথা বলছে। ভারতের অনুগত হাসিনাকে রক্ষা করতে বিজেপি সরকার তাদেরকে এদেশে পাঠিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যদি না খেয়েও মারা যায়, তবু দেশকে বিক্রি করব না। ভারত বাংলাদেশে নিয়ে খেললে আমরা সেভেন সিস্টার নিয়ে খেলব। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হামলায় সেভেন সিস্টার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।

  • আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভাঙচুর-পতাকা অবমাননা, ভারতের দুঃখ প্রকাশ

    আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভাঙচুর-পতাকা অবমাননা, ভারতের দুঃখ প্রকাশ

    ভারতের আগরতলার কুঞ্জবনে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হামলা, ভাঙচুর ও জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। সোমবারের এই হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    সোমবার (২ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আগরতলায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রাঙ্গণ ভাঙার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। কোনও অবস্থাতেই কূটনৈতিক এবং কনস্যুলার সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি/সহকারী হাইকমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতন ইস্যুতে ভারতে একের পর এক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে এবার আগরতলার ত্রিপুরায় অবস্থিত বাংলাদেশি সহকারী হাই কমিশনে হামলা চালিয়েছে উগ্র ভারতীয়রা। ইসকনের সাবেক সদস্য চিন্ময় দাস প্রভুকে অবৈধভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ভারতের ডানপপন্থী সংস্থা ‘হিন্দু সংগ্রাম স্মৃতি’ ত্রিপুরায় বাংলাদেশি সহকারী হাই কমিশনে হামলা চালায়।

    ভারতের দুঃখ প্রকাশ

    কোলকাতা ২৪ এর খবরে বলা হয়, বিজেপি শাসিত রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় থাকা বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে আন্দোলনকারীরা আচমকা নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ঢুকে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা খুলে নিয়ে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভটি সার্কিট হাউসের মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তার পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে বাংলাদেশি সহকারী হাইকমিশনারের অফিসে প্রবেশ করে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায়। পশ্চিম ত্রিপুরার এসপি ড. কিরান কুমা এবং ডিজিপি অনুরাগ ধানকার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

  • সাড়ে ১৫ বছর এ জাতি জিম্মি দশায় ছিল: জামায়াত আমির

    সাড়ে ১৫ বছর এ জাতি জিম্মি দশায় ছিল: জামায়াত আমির

    জামায়েত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত সাড়ে ১৫ বছর এ জাতি জিম্মি দশায় ছিল। মানুষ খুন হয়েছে, গুম হয়েছে, মানুষের ইজ্জত নষ্ট হয়েছে, সম্পদ লুণ্ঠন হয়েছে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এগুলো কারা করেছে? আমার দেশের কৃষক শ্রমিক তারা করেছে? করেছেন যারা উঁচু তলায় থাকেন, তারা। যারা করেছেন তাদের মানুষ শাসক বানায়নি, তারা নিজে নিজেই শাসক হয়েছে।

    সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টায় মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর বাসস্টান্ডে এক পথসভায় তিনি মন্তব্য করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে যদি দেশ গড়তে পারি তাহলে আর এদেশে কেউ ঘুষ খেতে সাহস করবে না, দুর্নীতি করবে না, মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করবে না এবং মানুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না। যদি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে সেই সমাজে আল্লাহর রহমত বর্ষণ হয়। আর যেই সমাজের মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত থাকে অথবা মানুষ অন্যায়কে নীরবে হজম করে, সেই সমাজ থেকে আল্লাহ তাআলা তার রহমত উঠিয়ে নেন।

    এ সময় ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাদারীপুর জেলা শাখার আমির মাওলানা মোখলেসুর রহমান, সাবেক জেলা আমির আবদুস সোবাহান, সেক্রেটারি হাফেজ এনায়েত হোসেন, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা আমির মাওলানা হুমায়ুন কবির, সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুজ্জামান, পৌর আমির মাওলানা আলমগীর হোসেন, পৌর নায়েবে আমির আঃ রহিম মোল্লা, সেক্রেটারি মাওলানা নজরুল ইসলাম, জেলা ছাত্র শিবির সভাপতি সাইফ হাসান প্রমুখ।

  • চূড়ান্ত ভোটার তালিকাসহ যেসব সিদ্ধান্ত হলো ইসির প্রথম সভায়

    চূড়ান্ত ভোটার তালিকাসহ যেসব সিদ্ধান্ত হলো ইসির প্রথম সভায়

    আগামী ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

    সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রথম কমিশন সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

    এদিন প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বেলা ১১টায় ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়।

    নির্বাচন কমিশনার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনালের (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে আগামী মার্চে তালিকা প্রকাশের পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তালিকায় ১৭ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হবে বলেও জানান তিনি।

    চার নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবদুর রহমানেল মাসুদ, তহমিদা আহমদ ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সাবেক সচিব এ এম এম নাসির উদ্দীনকে নিয়োগ দেয় সরকার। তার সঙ্গে আরও চারজনকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    সভায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি, জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    বৈঠক শেষে ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, জানুয়ারির ২ তারিখে আইন অনুযায়ী প্রতিবছর ভোটার তালিকা হালনাগাদের খসড়া প্রস্তুত করে প্রকাশ করা হয়। এ খসড়া তালিকা প্রকাশ করার পর কেউ যদি মনে করে সে খসড়া তালিকা মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তখন তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ভোটার হওয়ার যোগ্য হলে ভোটার হিসাবে গণ্য করা হয়।

    এ কাজ শেষ করতে হয় মার্চের দুই তারিখের মধ্যে বা তার আগে। কারণ দুই তারিখে এ সংশোধনী বা আমাদের ডাটাবেজে আগের যে তথ্য থাকে তার আলোকে তারা (যাদের প্রতি বছর ১ জানুয়ারিতে ১৮ বছর পূর্ণ হয়) ওই বছরেই ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। এ কাজটা আমাদের সামনে করতে হবে। এ বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর বাইরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য কি কি প্রস্তুতি প্রয়োজন সে প্রস্তুতি সম্পর্কে আমরা কমিশনকে অবহিত করেছি।

    ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে ইসি সচিবালয়ের কি প্রস্তুতি আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিশন যদি আমাদের বলে তাহলে আমাদের সেটা করতে হবে। তবে, আমাদের প্রস্তুতির কথা যদি বলেন তাহলে ঠিক এ মূহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে প্রস্তুতি আছে কি না। কমিশন যেভাবে চাইবে সেভাবে আমাদের শেষ করতে হবে এবং সে প্রস্তুতি আমাদের গ্রহণ করতে হবে। বাড়িবাড়ি গিয়ে হালনাগাদ করতে হয় তাহলে আমাদের কি করতে হবে এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

    উল্লেখ্য, গত ২১ নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন কমিশনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচন এ কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে আনুষ্ঠানিক এ সভার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মযজ্ঞও শুরু হলো।

  • নির্বাচনের আগে সংস্কার করতে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: ড. ইউনূস

    নির্বাচনের আগে সংস্কার করতে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: ড. ইউনূস

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, জুলাই বিপ্লবের মূল কথা ছিল সংস্কার। নির্বাচনের আগে তার সরকার সংস্কার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    সোমবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনূস এ মন্তব্য করেন।

    সুইডিশ বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, আমরা বাংলাদেশে আরও সুইডিশ বিনিয়োগকে উৎসাহিত করি। অন্তর্বর্তী সরকার দেশে ব্যবসার পরিবেশ সহজতর করতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করছে।

    তিনি বলেন, তার সরকার দুর্নীতি দমন করেছে, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে বিনিয়োগ সহজ করেছে এবং শ্রম আইনের বিষয়ে আইএলও কনভেনশন অনুমোদনের জন্য অগ্রসর হয়েছে৷

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে, যদিও সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছ থেকে উচ্চ প্রত্যাশাসহ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচন আয়োজনের আগে তার সরকার সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, বিপ্লবের মূলমন্ত্রই ছিল ‘সংস্কার’।

    প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, বিশেষ করে সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর উচ্চ প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে। ‘দাবিদাওয়া মেটানো একটি বড় কাজ। আমরা চেষ্টা করছি, তবে খুব সতর্কও রয়েছি,’ তিনি বলেন।

    সুইডেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, তার সরকার ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করে এবং পুলিশ, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং বেসামরিক প্রশাসনের সংস্কারের পদক্ষেপকে সমর্থন করে।

    বৈঠকে তারা জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের দিক, সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, বাংলাদেশে সুইডিশ বিনিয়োগ এবং গণঅভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন।

    বৈঠকে এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব ও মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শাহনাজ গাজী উপস্থিত ছিলেন।

  • আইনজীবী আলিফ হত্যায় প্রধান উপদেষ্টার নিন্দা

    আইনজীবী আলিফ হত্যায় প্রধান উপদেষ্টার নিন্দা

    চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

    এতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা জনগণকে শান্ত থাকার এবং অপ্রীতিকর কার্যকলাপে অংশ নেওয়া থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে চট্টগ্রামসহ আশেপাশের সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেন।।

    অন্তর্বর্তী সরকার যেকোনও মূল্যে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে ও সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে প্রেস উইয়ের বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

  • ভারতের ভিত্তিহীন বিবৃতিতে ঘটনার ভুল উপস্থাপন হয়েছে: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    ভারতের ভিত্তিহীন বিবৃতিতে ঘটনার ভুল উপস্থাপন হয়েছে: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানো নিয়ে দিল্লি যে বিবৃতি দিয়েছে তার জবাব দিয়েছে ঢাকা।  

    মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের ওই বিবৃতি ভিত্তিহীন এবং সেখানে মূল বিষয়টির ভুল উপস্থাপন হয়েছে।

    বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়ে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) গণমাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা একটি বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। অত্যন্ত হতাশা ও গভীরভাবে ব্যথিত হয়ে বাংলাদেশ সরকার উল্লেখ করেছে যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে নির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার করার পর থেকে কোনো কোনো মহল ভুল ধারণা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বলেছে যে, এই ধরনের ভিত্তিহীন বিবৃতি শুধু সত্যের ভুল উপস্থাপনই নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার চেতনার পরিপন্থী।

    ‘বিবৃতিটি সব ধর্মের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি, এই বিষয়ে সরকার-জনগণের প্রতিশ্রুতি ও প্রচেষ্টাকেও প্রতিফলিত করে না। ’

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে স্থূল মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি চূড়ান্তভাবে শেষ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, একইভাবে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সমান আচরণ করে, যা এই বিবৃতিতে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত।

    বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করে যে, প্রত্যেক বাংলাদেশির তার ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, বজায় রাখা বা পালন করার বা বাধা ছাড়াই মতামত প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে। সব নাগরিকের, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের একটি দায়িত্ব। গত মাসে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা পালনের মাধ্যমে এটি আবারও প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার আবারও বলতে চায় যে, দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। সরকার বিচার বিভাগের কোনো কাজে হস্তক্ষেপ করে না। প্রশ্নাধীন বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

    বাংলাদেশ সরকার দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যে কোনো মূল্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ বন্দর নগরীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    এর আগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার ও জামিন নাকচের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতি দিয়ে বিষয়টির ব্যাখ্যা করা হয়।

  • সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান উপদেষ্টা মাহফুজের

    সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান উপদেষ্টা মাহফুজের

    সরকার দ্রুতই রাষ্ট্রদ্রোহী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে উল্লেখ করেছেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

    একই সঙ্গে তিনি নিরীহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা বলেন মাহফুজ আলম।

    ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেছেন, গণ-অভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে শান্ত থাকুন। নিরীহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। সরকার দ্রুতই রাষ্ট্রদ্রোহী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

  • ইসকন ইস্যুতে দেশি বিদেশি ইন্ধন থাকতে পারে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ইসকন ইস্যুতে দেশি বিদেশি ইন্ধন থাকতে পারে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ইসকন ইস্যুতে দেশি বিদেশি ইন্ধন থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউজ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। আমরা কোনোভাবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কঠোর হতে চাই না।

    তিনি বলেন- আগস্টে লুট হওয়া সব অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। সেসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রম বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে। কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রম প্রথমে ঢাকায় বেগবান করা হবে। পরে পুরো দেশে পর্যায়ক্রমে করা হবে।

    সারা দেশে প্রচুর ভুয়া মামলা হয়েছে। এসব মামলায়  নিরীহ কেউ হয়রানি না হন সে জন্য আমরা একটি কমিটি করে দিবো। যারা ভুয়া মামলা করেন তাদের ধরিয়ে দিন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন- দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগস্টের পর থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে। আরো হবে। সেজন্য সবার সহযোগিতা চান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।