Category: জাতীয়

  • চলমান অপচেষ্টা নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

    চলমান অপচেষ্টা নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চলমান অপচেষ্টা নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    ড. ইউনূস বলেন, এখন গোটা বিশ্বকে জানাতে হবে যে আমরা এক। আমরা যা পেয়েছি তা একসাথে অর্জন করেছি। যারা আমাদের বুকে চেপে ধরেছিল তাদের আমরা বের করে দিয়েছি। আমরা নিজেদের মুক্ত করেছি। আমাদের একসঙ্গে বিশ্বের সামনে এটা দেখানো উচিত।

    এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ চেয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, এ বিষয়ে এগিয়ে যেতে গিয়ে যেন কোনো ভুল না হয়। আসুন একসঙ্গে কাজ করি। আমরা সবাই মিলে এটা করতে পারলে একটা সম্মিলিত শক্তি তৈরি হবে।

    তিনি বলেন, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নিপীড়নের চরম ঐতিহাসিক পাথর উপড়ে ফেলা হয়েছে কিন্তু ‘আমাদের স্বাধীনতা’ অনেকে পছন্দ করেনি। তাই ৫ আগস্টের পর তারা তা উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    তিনি বলেন, যখন দুর্গাপূজা এগিয়ে আসছিল, তখন মনে হচ্ছিল যে এটি নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে এবং সে কারণেই সরকার ঐক্যের ডাক দিয়েছিল এবং সবাই সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল। সারা দেশে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হয়েছে এবং সকলেই পূজার আনন্দে অংশ নিয়েছেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা নেই, তবে অনেকে এটি পছন্দ করেন না। সেই মহল নতুনভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন বাংলাদেশে আমরা যা গড়ার চেষ্টা করছি, সেসব নিয়ে সৃষ্টি করছে কাল্পনিক কাহিনী।

    তিনি বলেন, সব সময় তারা এটাকে বিভিন্ন রূপ দিচ্ছে। এটা শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে বড় বড় দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। যারা আমাদের মহান বিপ্লব পছন্দ করে না, তারা এটা মুছে ফেলতে চায় এবং লুকাতে চায়।

    তিনি বলেন, একটি মহল ন্যারেটিভ তৈরি করছে যে, বাংলাদেশে একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে এবং এটি থেকে দেশকে রক্ষা করা উচিত। একে মিথ্যা প্রমাণ করে বাস্তবতা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটি রাজনৈতিক মতাদর্শের বিষয় নয় বরং জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা বিপ্লবের মাধ্যমে মুক্ত ও স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তারা (স্বার্থান্বেষী মহল) তা মুছে ফেলতে চায়। তারা আগের সরকারে ফিরে যেতে চায়। তারা মৌখিকভাবে বলেন না, কিন্তু তাদের মনোভাব হচ্ছে ‘ক্ষমতাচ্যুত শাসকগোষ্ঠী ভালো ছিল’।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাস্তবতা দেখতে বারবার বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানানো সত্ত্বেও তারা (স্বার্থান্বেষী মহল) কাল্পনিক গল্প তৈরি করছে।

  • কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার

    কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার

    স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় জামিনের পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার।

    তিন বছর ৭ মাস পর বুধবার (৪ ডিসেম্বর) কারামুক্ত হলেন তিনি। গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. ইব্রাহিম।

    তিনি বলেন, বাবুল আক্তারের জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিকেলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ২৭ নভেম্বর বাবুল আক্তারকে জামিন দেন হাইকোর্ট। বুধবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত হাইকোর্টের জামিন বহাল রেখে আদেশ দেন।

    ২০১৬ সালের ৫ জুন নগরীর জিইসি এলাকায় ছেলেকে স্কুলের বাসে তুলে দিতে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন হন বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তে বাবুল আক্তার সেই মামলায় আসামি হন।

  • রমেন রায়ের ওপর হামলার ঘটনাটি পুরোনো, তিনি চিন্ময়ের আইনজীবী নন

    রমেন রায়ের ওপর হামলার ঘটনাটি পুরোনো, তিনি চিন্ময়ের আইনজীবী নন

    ইসকনের সাবেক নেতা ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানি ছিল গতকাল মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর)। এ শুনানির আগের রাতে (২ ডিসেম্বর) একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের হয়ে লড়াই করায় হামলার শিকার হয়েছেন আইনজীবী রমেন রায়। তাঁর বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে এসব প্রতিবেদনে।

    তবে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্ট ওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়- 
    ১। অ্যাডভোকেট রমেন রায়ের আহত হওয়ার ঘটনাটি গত ২৫ নভেম্বরের  
    ২। তাঁর বাড়িঘরে হামলার দাবিটিও সত্য নয়। 
    ৩। তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী নন। 
    তাই ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে।

    দাবিটি নিয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ, এবিপি লাইভ, দ্য ওয়াল, হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের হয়ে আদালতে লড়েছেন রমেন রায়। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) আবারও আদালতে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তাঁর আগেই রমেন রায়ের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে এবং তাঁকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনগুলোতে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইসকন কলকাতার মুখপাত্র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাসের গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাতে করা একটি টুইটকে। টুইটটিতেও দাবি করা হয়েছে, আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণের হয়ে মামলা লড়ার কারণে ইসলামপন্থীরা রমেন রায়ের বাড়ি ভাংচুর করে এবং তাকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে।

    দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী রমেন রায়ের ওপর হামলার দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয়। এই নামে চট্টগ্রামে কোনো আইনজীবী নেই।’’ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির তালিকা খুঁজেও এমন কোনো আইনজীবীর নাম পাওয়া যায়নি।

    ফ্যাক্টওয়াচের হাতে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ওকালত নামা থেকে দেখা যায়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী হিসেবে তাঁর মামলাটি লড়ছেন শুভাশিস শর্মা।

    দাবিটি সম্পর্কে জানতে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের প্রতিনিধি স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস বলেন, “রমেন রায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী ছিলেন না। চিন্ময় কৃষ্ণ যেদিন গ্রেপ্তার হয়েছিল (২৫ নভেম্বর), সেদিন সন্ধ্যায় শাহবাগে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচীতে রমেন রায়কে দূর্বৃত্তরা কুপিয়ে আহত করেছিল।”

    রমেন রায়ের সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিটিও তাঁকে দেখানো হয়। ছবিটি দেখে স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস নিশ্চিত করেন, এটি রমেন রায়েরই ছবি।

    এ ছাড়া সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদনের শুনানিতে চিন্ময়ের কোনো আইনজীবী না থাকা নিয়ে একটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিটিতেও জামিন শুনানি ঘিরে রমেন রায় নামে কোনো আইনজীবীর ওপর হামলার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাসের সূত্র ধরে কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে গত ২৫ নভেম্বর রমেন রায় নামে এক ব্যক্তি আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

    রমেন রায়ের আহত হওয়ার ব্যাপারে গত ২৫ নভেম্বরে একটি নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শাহবাগে চলা অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রমেন রায় (৫০) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    আহত রমেন রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আমরা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলাম। পরে হঠাৎ বেশ কয়েকজন লোক লাঠি হাতে নিয়ে এসে আমাদের ওপরে হামলা চালায়। এ সময় আমি মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হই। পরে কয়েকজন আমাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছে।

    পরে এই নামে খুঁজে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে রামেন্দ্রনাথ রায় নামে এক আইনজীবীর নাম পাওয়া যায়। এসব তথ্যের সূত্রে রমেন রায়ের এক নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্যাক্টওয়াচ। তিনি জানান, রমেন রায় পেশায় একজন আইনজীবী ও অ্যাডভোকেট। তিনি গত ২৫ নভেম্বর ঢাকায় হামলার শিকার হন এবং আহত হন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। তিনি আরও জানান,  রমেন রায়ের বাড়ীঘরে হামলার দাবিটিও সঠিক নয়।

    সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ দাবিগুলোকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে।

  • ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

    ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

    বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য নিজেদের পররাষ্ট্র সচিবকে ঢাকায় পাঠাচ্ছে ভারত।

    আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় আসার কথা রয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরির।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গত আগস্টে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিনিয়র কোনও ভারতীয় কর্মকর্তার ঢাকায় এটিই প্রথম সফর হতে চলেছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

    হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, উভয় দেশের কেউই এখনও এই সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা দেয়নি। তবে বিক্রম মিসরি সম্ভবত আগামী ১০ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক আলোচনার জন্য বাংলাদেশে আসবেন। উভয় দেশের রাজধানীতে তথা ঢাকা ও দিল্লিতে বিক্রমের সফরের প্রস্তুতির বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একথা জানিয়েছেন।

    ভারতীয় এই সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরির এই সফরটি এমন এক সময়ে হতে চলেছে যখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কে অভূতপূর্ব উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

    হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তারের অভিযোগে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কয়েকটি ভারতীয় রাজ্যে বিক্ষোভ হচ্ছে।

    এছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলা-ভাঙচুর এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননার দায়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মাকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায়।

    এর আগে উভয় দেশের দুই পররাষ্ট্র সচিবের মধ্যে সর্বশেষ সংলাপ ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারের সংলাপে ভারত-অর্থায়নকৃত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু করা, ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা, আরও সরাসরি ফ্লাইট চালু করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মতো ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত লোকেরা জানিয়েছে।

    ভারতের দ্বিতীয় একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ এই সফরটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য আগ্রহী। কারণ ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সম্ভাব্য এই সফরকে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ শুরুর একটি সুযোগ হিসাবে দেখা হচ্ছে। সফর ঠিকঠাকভাবে অনুষ্ঠিত হলে মিসরি ও ড. ইউনূসের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

  • কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

    কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

    বর্তমানে বাংলাদেশ কঠিন সময় পার করছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাই, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহ্বান জানান তিনি।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ কমপ্লেক্সে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৪ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স ২০২৪-এর কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানে সার্টিফিকেট প্রদান শেষে এ আহ্বান জানান তিনি।

    ড. ইউনূস বলেন, বৈশ্বিক ও কৌশলগতভাবে এখন কঠিন সময় যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    এ সময় প্রধান উপদেষ্টা সফলতার সঙ্গে কোর্স সম্পন্ন করার জন্য ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৪ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স ২০২৪-এ অংশগ্রহণকারী সবাইকে অভিনন্দন জানান। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এনডিসির উচ্চমান সম্পন্ন পাঠ্যক্রমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত থাকায় প্রধান উপদেষ্টা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    এ বছর ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৪-এ ৯৫ জন কোর্স মেম্বার অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ৪৬, বেসামরিক প্রশাসনের ১৬ এবং ১৮টি বন্ধুপ্রতীম দেশের ৩৩ সদস্য।

    অপরদিকে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী থেকে ৫৫ কোর্স মেম্বার আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স ২০২৪ সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

  • পশ্চিমবঙ্গের ৮ জেলায় বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ালো ভারত

    পশ্চিমবঙ্গের ৮ জেলায় বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ালো ভারত

    পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ এলাকার আট জেলার বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ভারত। বিএসএফ বলছে, উত্তরবঙ্গের আট জেলার বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন এলাকায় কাঁটাতার লাগানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজি সূর্যকান্ত শর্মা সোমবার শিলিগুড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের ডিআইজি (জেনারেল) কুলদীপ সিং, ডিআইজি (অপারেশন) সঞ্জয় শর্মা, ডিআইজি (পিএসও) সঞ্জয় পন্থ প্রমুখ।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উত্তরবঙ্গের ৮ জেলায় রয়েছে ১ হাজার ৯৩৭ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত।

    সেই সীমান্তের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। থার্মাল ক্যামেরা, নাইটভিশন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমান্তের ভারতীয় অংশের চেকপোস্টে বসানো হচ্ছে বায়োমেট্রিক লক।

    সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সীমান্তে বেড়া দিতে জমি অধিগ্রহণে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতা পাওয়া গেছে।

    উত্তরবঙ্গের ৮ জেলার বাংলাদেশ সীমান্তের ১০ শতাংশ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। ২০২৩ সালে উত্তরবঙ্গের ৮ জেলার সীমান্তে মোট ১২৭ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    আর চলতি বছর ১৯৪ জন বাংলাদেশি ও ১৯৭ জন ভারতীয় গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া তিন রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার হয়েছেন।

  • ভারতে বাংলাদেশি মিশনগুলো টার্গেট করেছে উগ্রবাদীরা

    ভারতে বাংলাদেশি মিশনগুলো টার্গেট করেছে উগ্রবাদীরা

    ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলো টার্গেট করছে সেখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু লোক। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে– এ ধরনের একটি অপপ্রচারের ওপর ভিত্তি করে সম্প্রতি মুম্বাইতে বাংলাদেশ মিশনে একটি পিটিশন দিয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু লোক। এরপর গত সপ্তাহে কলকাতায় পিটিশন দেওয়ার সময়ে বাংলাদেশ মিশনের সীমানা প্রাচীরের কাছে পৌঁছে যায় হিন্দু লোকজন। এরপরের ঘটনা ঘটেছে সোমবার (২ ডিসেম্বর) ত্রিপুরার আগরতলায়। সেখানে কিছু উগ্রবাদী কিছু লোক পিটিশন দেওয়ার সময়ে বাংলাদেশ মিশনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা দূতাবাসের কিছু ক্ষতি করেছে বলে জানা গেছে। গোটা বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করেন সাবেক কূটনীতিকরা। তাদের মতে, এর ফলে ভারতের স্বার্থরক্ষা হচ্ছে কিনা সেটি দেখা দরকার।

    এ বিষয়ে সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ভারতীয় প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টি কোনও গোপন বিষয় নয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কের রসায়ন ভিন্ন হয়ে গেছে। ভারতের সরকার, মিডিয়া, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশবিরোধী নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’

    এর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটি ভারতীয়দের ইগোর কারণে হতে পারে। শেখ হাসিনার সরকারকে সর্বত্র সহায়তা দেওয়ার পরও ক্ষমতায় রাখা সম্ভব হয়নি– এটি হয়তো তাদের মনঃকষ্টের কারণ হতে পারে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। সেখানে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালানো হলে ভারতীয় রাজনীতিতে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়।’

    আরেকজন কূটনীতিক বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের মন্তব্যটি করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে মাথায় রেখে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে— বাংলাদেশের হিন্দুদের পক্ষে কথা বলে তিনি পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের মন জয় করতে চাইছেন। এটি হিসাব-নিকাশ করেই বলা হয়েছে।’

    ত্রিপুরায় বাংলাদেশ মিশনের ক্ষতি

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে– এ অভিযোগ তুলে একটি পিটিশন দাখিলের জন্য সোমবার (২ ডিসেম্বর) ত্রিপুরায় বাংলাদেশ মিশনে যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু উগ্রবাদী লোক। উত্তেজিত এই লোকেরা ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং মিশনের ক্ষতি করে। পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই তারা ক্ষতি করে বসে।

    এ বিষয়ে দিল্লি থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রাঙ্গণ ভাঙার ঘটনাটি গভীরভাবে দুঃখজনক। কূটনৈতিক এবং কনস্যুলার সম্পত্তি কোনও অবস্থাতেই লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং সে দেশে বাংলাদেশের অন্যান্য ডেপুটি বা সহকারী হাইকমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য ভারত সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

    অন্যান্য মিশনে হামলার আশঙ্কা

    দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ছাড়াও ত্রিপুরা, আসাম, মুম্বাই ও চেন্নাইতে বাংলাদেশের উপ ও সহকারী হাইকমিশন রয়েছে। পাঁচটি মিশনের মধ্যে তিনটি ইতোমধ্যে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

    এ বিষয়ে আরেকজন সাবেক কূটনীতিক বলেন, ‘চেন্নাইতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে পিটিশন দাখিলের সম্ভাবনা কম। এর কারণ দক্ষিণে বিজেপি বা হিন্দুত্ববাদের প্রভাব কম। দীর্ঘদিন পরে এবারের লোকসভা নির্বাচনে তারা গোটা দক্ষিণে একটি আসনে জয়লাভ করেছে।’

    দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাস লক্ষ্যবস্তু হতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি বলা মুশকিল। উগ্রবাদীরা কী করবে, এটি তারাই ভালো জানে।’

    লাভ-ক্ষতি

    রাষ্ট্রব্যবস্থা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের বর্তমান নীতি তাদের জাতীয় স্বার্থ কতটুকু রক্ষা করছে– এটি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

    এ বিষয়ে সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, ‘ভারতে রাজনীতিবিদ, উগ্রবাদী হিন্দু ও মিডিয়া ব্যবহার করে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালানোর মাধ্যমে ভারতের কী লাভ হচ্ছে সেটি পরিষ্কার নয়।’

    তিনি বলেন, ‘এর ফলে দুপক্ষেরই ক্ষতি হচ্ছে। অপপ্রচার চলতে থাকলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভালো হওয়ার কোনও সম্ভাবনা থাকে না। ভারতীয়রা যত তাড়াতাড়ি এটি বুঝবে– আঞ্চলিক শান্তির জন্য সেটি ভালো হবে।’

  • মমতার বক্তব্য রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সঠিক পদক্ষেপ নয়

    মমতার বক্তব্য রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সঠিক পদক্ষেপ নয়

    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সঠিক পদক্ষেপ নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

    সোমবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দিয়ে মমতা বাংলাদেশে শান্তিসেনা পাঠানোর জন্য ভারত সরকারকে জাতিসংঘের সঙ্গে কথা বলার আর্জি জানান। সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবস্থান নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

    এসময় তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, উনি এই বক্তব্য কেন দিলেন এটা আমি বুঝতে পারছি না। রাজনীতিবিদরা তো সবসময় রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বক্তব্য দিয়ে থাকেন। আমি মনে করি, এটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির জন্য সহায়ক হবে না। এটা অবশ্য আমার মত। সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মান, জাপান, চীন, কানাডা, সৌদি আরব, ইরান, সিঙ্গাপুর পাকিস্তানসহ একাধিক রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিও।

    এসময় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশি হিন্দুদের সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা তৈরি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যমের একাংশ। সেটি কূটনীতিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানত ভারতীয় মিডিয়ায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর বাইরেও অনেক মিডিয়া ভারতীয় মিডিয়াকে উপজীব্য করে অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে আমরা বলতে চাই, সব সরকারের আমলেই বছরে দুই-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। সরকারের কাজ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা সেটি করেছি। এরপরও দেশ ও দেশের বাইরে এ নিয়ে মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

    সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা বার্তা দিতে চাই, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক কোনো অপতৎপরতা বরদাশত করবে না। আমরা হিন্দু-মুসলিম কোনো ভেদ করতে চাই না। কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা গেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

  • ভারতের করিমগঞ্জে বিক্ষোভকারীদের বাধায় জকিগঞ্জ দিয়ে পণ্য আসা বন্ধ

    ভারতের করিমগঞ্জে বিক্ষোভকারীদের বাধায় জকিগঞ্জ দিয়ে পণ্য আসা বন্ধ

    ভারতের শ্রীভূমির (করিমগঞ্জ) সীমান্তে সনাতনী ঐক্য মঞ্চ নামের একটি সংগঠনের বাধার মুখে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আমদানি করা পণ্য দেশে নিয়ে আসতে পারছেন না। 

    সোমবার সকালে কিছু কমলা সিলেটের জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে বাংলাদেশে এলেও পরে আন্দোলনকারী সংগঠনটির বাধার মুখে আর কোনো পণ্য আসেনি।

    কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সিলেটের জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার অসিত কুমার আচার্য্য রাত আটটার দিকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জকিগঞ্জ স্টেশন দিয়ে কেবল ভারত থেকে মালামাল আমদানি করা হয়। কোনো পণ্য রপ্তানি হয় না। আজ সকালের দিকে কিছু কমলা বাংলাদেশে এসেছে। পরে ওই পাশের (করিমগঞ্জ) একটি পক্ষের বাধার মুখে আর কোনো পণ্য বাংলাদেশে আসেনি।

    এ সময় আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এলসি করা মালামালের গাড়ি ভারতের শ্রীভূমি (করিমগঞ্জ) শুল্ক স্টেশন থেকে ফেরত গেছে। এতে সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে থাকা সিলেটের জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে কোনো পণ্য দুপুরের পর থেকে সিলেটে আসেনি। বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশি পণ্য বয়কটের ঘোষণাও দেন।

    এদিকে সোমবার বেলা তিনটায় জকিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সামাজিক-সম্প্রীতিবিষয়ক এক সভা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফসানা তাসলিমের সভাপতিত্বে ওই সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ধর্মীয় নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তাসহ নানা শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    সভা শেষে রাত সোয়া আটটার দিকে ইউএনও আফসানা তাসলিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই পাশে (ভারত অংশের করিমগঞ্জ) কিছুটা অস্থিরতা থাকায় সভায় আমরা বিজিবিকে (বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড) পরামর্শ দিয়েছি টহল বাড়ানোর জন্য আর সতর্ক থাকার জন্য।’

    এদিকে ভারতের গণমাধ্যমকর্মী, সীমান্ত এলাকার মানুষ এবং কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, রোববার সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা শুল্ক স্টেশনের ওপারে ভারত অংশের শ্রীভূমির (করিমগঞ্জ) সুতারকান্দি শুল্ক স্টেশন এলাকায় সনাতনী ঐক্য মঞ্চ ‘বাংলাদেশ চলো’ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা আসাম পুলিশ ও বিএসএফের ব্যারিকেড ভেঙে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢোকার চেষ্টা চালায়। পরে অবশ্য পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা সুতারকান্দি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের দাবিও জানান।

    এরপর থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শেওলা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন।

  • বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হলো ভারতের হোটেল

    বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হলো ভারতের হোটেল

    ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সব হোটেল বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোটেল মালিকরা।

    রোববার (২ ডিসেম্বর) ত্রিপুরার হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ত্রিপুরার সংবাদমাধ্যম জাগরণ ত্রিপুরা জানিয়েছে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কথিত নির্যাতন এবং বাংলাদেশে ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননার প্রতিবাদে এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে হোটেল অ্যাসোসিয়েশন।

    এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সচিব সৈকত ব্যান্যার্জী বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন এবং সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যের সব হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে। তবে যারা পূর্বে থেকে হোটেলের পরিষেবা নিচ্ছেন, তাদের শুধু থাকতে দেওয়া হবে। অন্যদের পরিষেবা দেওয়া হবে না।

    এছাড়া, সাময়িক সময়ের জন্য প্রত্যেক রেস্তোরাঁর সামনে স্টিকার লাগানো হবে। বাংলাদেশিদের ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।