যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সাথে ঘোষিত বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নিলে কানাডার ওপর শত শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বিবৃতিতে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে লক্ষ্য করে বলেন, “কানাডাকে ব্যবহার করে চীন তাদের সস্তা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকিয়ে দেবে— যদি কার্নি এ বিষয়ে ভাবেন, তাহলে তিনি সম্পূর্ণ দুঃখিত।” ট্রাম্পের আরও বক্তব্য ছিল, “যদি কানাডা চীনের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব কানাডিয়ান পণ্যে তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে।” ট্রাম্প কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাভাবিকভাবে উল্লেখ না করে তাকে ‘গভর্নর কার্নি’ বলে ডেকেছেন, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে তিনি তাকে দেশটির ক্ষমতা বলয়ে দেখছেন। তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করে আসছেন। অন্যদিকে, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য বিষয়ক কানাডিয়ান মন্ত্রী ডোমিনিক লেব্লাঙ্ক এক্সে (মাইক্রোব্লগিং সাইট) শনিবার লিখেছেন, ‘চীনের সাথে মুক্ত বাণিজ্য করার জন্য তাদের কোন উদ্যোগ নেই।’ তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে চীনের সাথে যেসব চুক্তি হয়েছে তা মূলত শুল্কসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমস্যা সমাধানে সহায়ক। মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন সরকার কাণ্ডারী হিসেবে কানাডার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে, যার লক্ষ্য হলো দেশ ও দেশের বাহিরে বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বে উন্নতি করা।’ ২০২২ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি কানাডিয় পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়াও, সম্প্রতি তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন। সূত্র: আলজাজিরা।
Category: আন্তর্জাতিক
-

যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল
শীতকালীন ঝড়ের কারণে গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট কমপক্ষে ১০ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার জানিয়েছে, এই ভয়াবহ আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে ব্যাপক ধাক্কা খেয়েছে বিমান চলাচল।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উত্তর টেক্সাস ও ওকলাহোমা রাজ্যে ঝড়ের আঘাতে শনিবারই তিন হাজার ৪০০ এর বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ডালাসের ফোর্ট ওর্থার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যেখানে অন্যান্য বিমানবন্দর যেমন ডালাস লাভ ফিল্ড থেকে ফ্লাইট বাতিলের হার reach ৬৪ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, ওকলাহোমা সিটির বিমানে আঘাত হানার ফলে সেখানে ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়।
রোববারের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, বাতিলের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৬ হাজার ৪০০ এর বেশি হয়। ঝড়ের প্রভাবে উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাবও আরও বিস্তৃত হয়। ওয়াশিংটন ডিসির রিগ্যান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রবিবারের দিন প্রায় ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, এবং উত্তর ক্যারোলিনার শার্লট ডগলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭৩ শতাংশ ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি নজরে আসে।
সোমবারের মধ্যে আরও সাত শতাধিক বিমান বাতিল করা হয়েছে, যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আগেই। তবে, আবহাওয়া শান্ত হওয়ার পর বিমান সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
অপরদিকে, দক্ষিণ-মধ্য আমেরিকায় ব্যাপক তুষারপাত ও বিপজ্জনক বরফ পড়ছে, যা দ্রুত পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শনিবার থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার মাইলের বেশি এলাকায় এই শীতকালীন ঝড়ের আঘাত হতে পারে। এই বিরূপ পরিস্থিতির কারণে জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং নাশকতা এড়াতে জরুরি সতর্কতা জারি হয়েছে।
-

পাকিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত অন্তত ৭
পাকিস্তানের সীমান্তসংলগ্ন জেলা দেরা ইসমাইল খান জেলার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে শুক্রবার আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। দেশটির পুলিশ জানায়, হামলা সেই ভবনটিকে লক্ষ্য করে চালানো হয় যেখানে শান্তি কমিটির সদস্যরা অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আদনান বলছেন, বিস্ফোরণের প্রথম খবরে তিনজনই ঘটনাস্থলে মারা গিয়েছিল; পরে হাসপাতালে নেওয়া আহতদের মধ্যে আরও চারজন মারা গেলে মৃতের সংখ্যা সাতに পৌঁছায়। আহতদের মধ্যে অনেকে রাজশাহী চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং হতাহত সংখ্যা প্রাথমিকভাবে প্রায় এক ডজন হিসেবে বলা হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি হামলার সমস্যা আরও সামনে এসেছে। সরকার স্থানীয় স্তরে জঙ্গিদের মোকাবিলায় শান্তি কমিটি গঠন করে থাকে; এসব কমিটিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বয়োজ্যেষ্ঠরা থাকে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি-নিয়ন্ত্রণে তাদের ভূমিকা থাকে। পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত অংশগ্রহণকারী বা কমিটির সদস্যদেরই লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এপর্যন্ত কারা হামলার দায়িত্ব নিয়েছে তার কোনো দাবি আসেনি। তবে আফগানিস্তান-সীমান্তের উভয় পাশে সক্রিয় একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী রয়েছে; তাদের মধ্যে পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) একটি প্রধান সশস্ত্র সংগঠন। পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, টিটিপি স্থানীয়দের শান্তি প্রচেষ্টাকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং কড়া অবস্থান নিচ্ছে।
পাকিস্তানি তালেবান ১৯৯৭ সাল থেকে সক্রিয় এবং তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে এসেছে; তাদের লক্ষ্য দেশের সংবিধান বদলে নিজেদের কঠোর ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠা করা। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে এসেছে যে আফগান তালেবান আফগানিস্তান থেকে টিটিপিকে আক্রমণের পরিকল্পনা ও সহায়তা করছে, কিন্তু কাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে যে জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
এই ঘটনার খবরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে সূত্র হিসেবে দেখা গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আহতদের উদ্ধার ও ঘটনাস্থল নিরাপত্তা বাড়াতে কাজ করছে, আর ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
-

জর্জিয়ায় পারিবারিক বিবাদে এক ভারতীয় গুলি করে স্ত্রীসহ চার আত্মীয়কে হত্যা
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লরেন্সভিলে পারিবারিক বিবাদের জের ধরে শুক্রবার ভোরে এক ভারতীয় ব্যক্তির গুলিতে স্ত্রীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আটলান্টায় নিযুক্ত ভারতীয় কনস্যুলেট শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে—জানায় এনডিটিভি।
ঘটনাটি স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ব্রুক আইভি কোর্ট এলাকার ১০০০ ব্লকে ঘটে, বলে জানিয়েছে গুইনেট কাউন্টি পুলিশ। সেখানে পৌঁছালে একটি আবাসিক বাড়ির ভেতরে চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মরদেহ পাওয়া যায়; প্রত্যেকের শরীরে গুলিবিদ্ধ ও প্রাণঘাতী চিহ্ন ছিল।
পুলিশ নাম উল্লেখ করে জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম বিজয় কুমার (৫১) এবং তিনি আটলান্টার বাসিন্দা। নিহতরা হলেন তাঁর স্ত্রী মীমু ডোগরা (৪৩), গৌরব কুমার (৩৩), নিধি চন্দর (৩৭) ও হরিশ চন্দর (৩৮)।
ঘটনার সময় বাড়িতে তিনটি শিশু উপস্থিত ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিজেদের রক্ষা করতে শিশুরা একটি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েছিল; তাদের মধ্যে একজন ৯১১-এ ফোন করে গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিতে সক্ষম হলে পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শিশুরা আহত হননি এবং পরে পরিবারের এক সদস্য তাদের নিয়ে যান।
আটলান্টায় নিযুক্ত ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল এক বিবৃতিতে ঘটনার প্রতি গভীর শোক ব্যক্ত করেছে। কনস্যুলেট জানায়, নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শোকাহত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
গুইনেট কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চারটি অ্যাগ্রাভেটেড অ্যাসল্ট (গুরুতর হামলা), চারটি ফেলনি মার্ডার (ফৌজদারি হত্যার) অভিযোগ, চারটি ম্যালিস মার্ডার (উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যার) অভিযোগ, একটি প্রথম ডিগ্রির শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ এবং দুটি তৃতীয় ডিগ্রির শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ ও কনস্যুলেটের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধে সংঘটিত একটি ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছে। মামলা ও তদন্তের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা জানালে তা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
-

ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্থগিত করল ভারতের অধিকাংশ পণ্যের জিএসপি সুবিধা
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভারতের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ বেশির ভাগ পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বা জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস (জিএসপি) স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্ত ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া ও কেনিয়ার কিছু পণ্যের জিএসপি সুবিধাও স্থগিত করা হয়েছে।
ইইউর অফিসিয়াল জার্নালে প্রকাশিত এক বিধিমালা অনুযায়ী, এই সুবিধা স্থগিতকরণ ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরে পর্যন্ত প্রভাবী থাকবে। এর আগে, ইউরোপীয় কমিশন (ইসি) এই নিয়ম ২৫ সেপ্টেম্বর জারি করে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ভারতের রপ্তানিকারকদের জন্য এই পরিবর্তন বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে। গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) জানায়, জিএসপি স্থগিত হওয়ায় ভারতের থেকে আমদানি করা প্রায় ৮৭ শতাংশ পণ্যে ইইউর শুল্ক আরও বাড়বে। কেবল ১৩ শতাংশ পণ্যে এই সুবিধা থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে কৃষি ও চামড়াজাত পণ্য।
জিএসপি মূলত উন্নত দেশগুলোর দ্বারা উন্নয়নশীল আর স্বল্পোন্নত দেশের পণ্যগুলোর ওপর শুল্ক কমানোর বা মওকুফের একটি সুবিধা। এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশের পণ্যকে বাজারে প্রবেশের জন্য সুবিধা পাওয়া যায়, যার ফলে রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতির উন্নয়ন হয়।
উদাহরণস্বরূপ, সাধারণত কোনো তৈরি পোশাকের শুল্ক হার ১২ শতাংশ হলে, জিএসপি থাকলে তা ৯.৬ শতাংশ হতো। কিন্তু এখন জিএসপি স্থগিত হওয়ায় সেই পণ্যটিতে পুরো ১২ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।
ইইউ ভারত থেকে বিভিন্ন বড় শিল্প খাতের পণ্যে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে খনিজ, রাসায়নিক, প্লাস্টিক, রাবার, বস্ত্র ও পোশাক, পাথর ও সিরামিক, মূল্যবান ধাতু, লোহা-এস্পাত, মৌলিক ধাতু, ইলেকট্রনিক্স, যন্ত্রপাতি ও পরিবহন সরঞ্জাম।
২০১৩ এবং ২০২৩ সালে ইইউ ভারতের জিএসপি সুবিধা আংশিকভাবে কমিয়েছিল। এবার, এই সুবিধা পুরোপুরি তিন বছরের জন্য বাতিল করা হলো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও জিএসপি স্থগিত হওয়ার কারণে স্বল্প মেয়াদে রপ্তানিকারকদের জন্য বড় বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। এর পাশাপাশি, ইইউর কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম) কার্যকর হচ্ছে, যা আরেকটি চাপ সৃষ্টি করবে।
গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ভারতের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য ছিল ১৩৬.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি ৭৫.৮৫ বিলিয়ন এবং আমদানি ৬০.৬৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতের মোট রপ্তানি ভাগের প্রায় ১৭ শতাংশ পণ্যই এই বাজারে যায়।
ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনসের (এফআইইও) মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেন, “ইইউ ভারতের ৮৭ শতাংশ রপ্তানিপণ্যে জিএসপি প্রত্যাহার করেছে। ফলে অধিকাংশ পণ্যে এখন পুরো এমএফএন শুল্ক দিতে হবে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো দেশের সঙ্গে ভারতের প্রতিযোগিতার শক্তি কমবে।
-

অন্ধ্রপ্রদেশে বাংলাদেশি মুসলিমকে به হত্যা করে পিটানো
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার একজন মুসলিম শ্রমিককে অন্ধ্রপ্রদেশে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে তাকে মুসলিম বলে অপবাদ দিয়ে চুরির অভিযোগ এনে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাভাষী মুসলিমদের ওপর চলমান সহিংসতারই এটি একটি tristeতম ঘটনা।
নিহত ব্যক্তির নাম মঞ্জুর আলম লস্কর, তাঁর বয়স ৩২ বছর। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলু এলাকায় হিন্দুত্ববাদীদের হামলার শিকার হয়ে মারা যান। মঞ্জুরের বাড়ি রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণপুর গ্রামে। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অন্ধ্রপ্রদেশে জরির কাজ করতেন। দীর্ঘ সময় থাকায় স্থানীয়রা তাঁকে ভালোভাবেই চেনেন। তবে এর পরেও তাঁকে বাংলাদেশি হিসেবে আখ্যায়িত করে সেখানে থেকে চলে যেতে চাপ দেওয়া হয়েছিল।
মঞ্জুরের পরিবার জানিয়েছেন, তাকে প্রথমে অপহরণ করা হয়। পরে মুক্তিপণ হিসেবে ২৫ হাজার রুপি চাপানো হয়। তার স্ত্রী বলেন, বুধবার এক অচেনা নম্বর থেকে ফোনে তাদের মুক্তিপণের জন্য বলা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তারা ৬ হাজার রুপি জোগাড় করেন। তবে পরের দিন তারা জানতে পারেন, মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়েছে।
মঞ্জুরের পরিবারের দাবি, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত ধরা ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। তারা পশ্চিমবঙ্গের সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন এই মামলার বিচারের জন্য। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট السلطات দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
-

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পরিবারের মধ্যে কলহ, স্ত্রীসহ চারজনকে গুলি করে হত্যা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ভারতীয় স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন আত্মীয়কে গুলি করে হত্যা করেছেন। এ ঘটনা হয়েছে আটলান্টার কাছাকাছি লরেন্সভিল শহরের এক বাড়িতে, যার খবর ভারতের মিশনের মাধ্যমে এনডিটিভির প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার ভোরে। রাতের অন্ধকারে ওই বাড়িতে অন্ধকারের মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটে, যেখানে চারজন নিহত হন। এ সময় ওই বাড়িতে তিনটি শিশু উপস্থিত ছিল, যারা নিজেদের রক্ষায় এক আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বলা হচ্ছে অভিযুক্তের নাম বিজয় কুমার (৫১), তিনি আস্থান্তার বাসিন্দা। গুলির ঘটনায় চারজন নিহত হন, তারা হলেন অভিযুক্তের স্ত্রী মীমু ডোগরা (৪৩), তাঁর ভাই গৌরব কুমার (৩৩), নিধি চন্দর (৩৭) ও হরিশ চন্দর (৩৮)।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চারটি গুরুতর হামলার (অ্যাগ্রাভেটেড অ্যাসাল্ট), চারটি হত্যার (ফেলনি মার্ডার), চারটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যার (ম্যালিস মার্ডার) এবং শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ব্রুক আইভি কোর্টের ১০০০ ব্লকে ফোনকল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাড়ির ভিতরে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে, যারা সবাই গুলিবিদ্ধ। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওই সময় বাড়িতে তিনটি শিশু ছিল, যারা নিজেদের রক্ষা করতে আলমারির নিচে লুকিয়ে পড়ে।
শিশুরা একটির মাধ্যমে জরুরি সেবা ৯১১-এ কল করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়, যার ফলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ভবন ও পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, শিশুগুলোর কোনও আহত হওয়ার তথ্য নেই, পরে পরিবারের একজন সদস্য তাদের উদ্ধার করেন।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্ত আরম্ভ হয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার ও বন্ধুবান্ধব শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
-

ভারতে বাংলাদেশি ভিন্ন পরিচয় দিয়ে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচই বাংলাদেশের খেলার কথা ছিল ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্ত নেয়, এবং বারবার আইসিসিকে লিখে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানায় বিসিবি। দফায় দফায় আলোচনা সত্ত্বেও আইসিসি থেকে যথাযথ প্রতিকার না পাওয়ায় অবশেষে বাংলাদেশী দল ভারতে না গিয়ে অন্য কোনো সালিসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও ঘোষণা না হলেও, এখনকার পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা বাতিলই বলাই যায়। তবে এই সিদ্ধান্তের জন্য বিসিবি ও দেশের क्रिकेटপ্রেমীরা আইসিসিকে দায়ী করছেন।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হলেও বাংলাদেশের জন্য আইসিসির মনোভাব ভিন্ন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে মানুষজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে, গত বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে জন্ম নেওয়া এক মুসলিম যুবক মঞ্জুর লস্করকে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করার খবর প্রকাশিত হয়েছে।’
ফারুকী জানান, মূলত এই উদ্বেগের সূচনা হয় মুস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার ঘটনা থেকে। ভারতের কিছু চরমপন্থী হিন্দু নেতা তাকে হুমকি দেওয়ার পর দেশটিতে তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। এরপরই বিসিবি বিশ্বকাপে ঢোকা নিয়েও নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে। সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞের মতে, ‘মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরানোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা যুক্ত থাকায় বোঝা যায় যে ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপত্তা হুমকি অনেক বাস্তব ও গুরুতর।’
এদিকে, ভারতে বাংলাদেশি নামে মুসলিম যুবকদের ওপর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার এক মুসলিম শ্রমিক মঞ্জুর আলম লস্করকেও অন্ধ্রপ্রদেশে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে আক্রমণের শিকার তিনি, ‘বাংলাদেশি’ বলে পরিচয় দিয়ে চুরি-লুণ্ঠনের অভিযোগে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানায়, ৩২ বছর বয়সী মঞ্জুরের পরিবার জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলু অঞ্চলে শ্রমিকের কাজ করতেন। সেখানে অনেক বছর কাটানোর পরও বারবার তাকে হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে, যেন বাংলাদেশের মানুষ হিসেবেই কাটা হয়। হত্যাকাণ্ডের আগে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণের জন্য ফোন আসে, এরপর পরিবারের চেষ্টায় কিছু টাকা পাঠানো হলে জানানো হয়, তার অবস্থা গুরুতর। কিছুদিন পরে জানা যায়, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
মঞ্জুরের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন লস্কর পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের একজন নেতা এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান। তিনি অভিযোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং হিন্দুত্ববাদী ঘৃণামূলক উগ্রবাদী দুষ্কৃতকারীরাই এটি ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোনকলের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র রয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তার সহযোগীরাই দায়ী।’
পরিবার জানায়, মনজুরের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের কবিরাজপুরের বিষ্ণুপুর গ্রামে। তিনি দীর্ঘদিন অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলু এলাকায় শ্রমিকের কাজ করে আসছিলেন। স্থানীয়দের সঙ্গে পরিচিত হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাকে বারবার ‘বাংলাদেশি’ বলে আঙুল দিয়ে হুমকি দেওয়া হতো। জানা গেছে, প্রথমে তাকে ‘বাংলাদেশি’ বলে তকমা দেওয়া হয়, পরে একটি চুরির মামলায় ফস卷ে ফাঁসানো হয় এবং মরদেহ মেরে ফেলা হয়। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় নেতারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই ঘটনা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। তারা অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের অবহেলার কারণে এই ধরনের অমানবিক কাণ্ড ঘটছে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, পরিবার এবং গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে এই ধরনের জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধ হয়।
-

যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেল
জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মানবিক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার স্থানীয় সময় নিশ্চিত করেছে, সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের এক পরিকল্পনা ছিল, তিনি চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে যেতে। প্রথমবারের মতো তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই এই সংস্থাসহ সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তখন তা সফল হয়নি। তবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনে, তিনি নির্বাহী আদেশে এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন। এতে করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়, যেখানে বের হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এক বছর আগে নোটিশ দেওয়া এবং সব পাওনা পরিশোধের শর্ত ছিল। এখনও পর্যন্ত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে মার্কিন সরকারের নামে ২৬০ মিলিয়ন ডলার অর্থের বকেয়া রয়েছে, যদিও আইনজ্ঞরা মনে করেন, হয়তো এই অর্থ তারা শিগগিরই পরিশোধ করবে না। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থ পরিশোধ করে, ততক্ষণ দেশের অবস্থান পরিবর্তন সম্ভব নয়। আইন অনুযায়ী, এটি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সংস্থায় কর্মরত বা দায়ীত্বরত সবাইকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি, সংস্থার বিভিন্ন কমিটি, পরিচালনা পর্ষদ, শাসন কাঠামো ও কারিগরি দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অংশগ্রহণ আর থাকছে না। এই খবরের সূত্র: সিএনএন।
-

ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা
আগামী টুয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ খেলতে ভারতের মাটিতে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলকে। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তুলে বিসিবি mehrfachবার আইসিসিকে চিঠি পাঠিয়ে নিজেরা ম্যাচ স্থানান্তর করার অনুরোধ করে। দীর্ঘ আলোচনার পরও আইসিসি থেকে প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে বাংলাদেশ দল শেষ পর্যন্ত ভারতে গিয়ে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার করা না হলেও প্রাকটিক্যালভাবে এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাব্যতা অত্যন্ত কম—এমনটি বলেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারুকী লিখেছেন, ভারতে পাকিস্তান ও ভারতের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নেওয়া হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসির অবস্থান ভিন্ন ছিল। তিনি আরও বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহ প্রমাণ করে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার খবর প্রকাশ পেয়েছে। ঠিক বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে জন্মভূমি থাকা এক মুসলিম শ্রমিক মনজুর আলম লস্করকে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানায়—এই ঘটনার কথাই তিনি উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন।
বিশ্বকাপ ইস্যুর সূচনা মূলত আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়ার ঘটনায়। ভারতের কিছু উগ্র হিন্দু নেতার হুমকির পর নিরাপত্তাজনিত কারণে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল—এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিসিবি পরে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলায় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছিল। ফারুকী বলেছেন, এসব ঘটনা যদি দীর্ঘদিন ধরে চালানো বাংলাদেশবিরোধী ঘৃণা প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখা যায়, যার ফলশ্রুতিতে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাহলে ভারতীয় মাটিতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাস্তব ও গুরুতর বলে মানতে হবে।
টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার এক মুসলিম শ্রমিককে অন্ধ্রপ্রদেশে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম মনজুর আলম লস্কর, বয়স ৩২। তিনি উস্থি থানার রাঙ্গিলাবাদ গ্রামের বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা ছিলেন এবং প্রায় এক দশক ধরে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলুতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সেখানে থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়রা তাকে বারবার ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে হুমকি দিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়—প্রথমে ২৫ হাজার রুপি দাবি করা হলেও পরে স্ত্রীকে অজানা নম্বর থেকে কল করে ৬ হাজার রুপি পাঠাতে বলা হয়। পরিবারের পাঠানো ৬ হাজার রুপির পরে বুধবার রাতে জানানো হয় যে মনজুরকে হত্যা করা হয়েছে।
মনজুরের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন লস্কর, যিনি রাঙ্গিলাবাদ গ্রামের পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, অভিযোগ করেছেন হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত এবং হিন্দুত্ববাদী উগ্রবাদীদের দ্বারা সংঘটিত। তিনি বলছেন, যে অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করেছিল এবং তার সহযোগীরাই তার ভাইকে হত্যা করেছে। নিহতের পরিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অনুরোধ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় স্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার করতে সাহায্য করার।
টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবর অনুসারে, গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও রহস্যজনক মৃত্যুর একটি ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা গেছে। উশতির তৃণমূল নেতৃত্ব এটিকে পরিকল্পিত সন্ত্রাস বলে আখ্যা দিয়েছে এবং অভিযোগ করেছে যে বিজেপি বা তাদের মিত্র শাসিত রাজ্যগুলো এই তৎপরতা পরিচালনা করছে যাতে সংখ্যালঘু বাঙালি ভাষাভাষীদের চলাচল আতঙ্কিত করা যায়। তৃণমূল এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ব্যর্থ হয়েছে।
ঘটনার খবরে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় নেতারা দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার ও যথাযথ তদন্তের দাবি করেছেন, আর এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ আরও জোরালো হচ্ছে।
