ভারতে ‘গোমূত্র গবেষক’ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিকে এবার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা আবারও দেশের নামকরা বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরই নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে ভারতের আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটি নামের এই গবেষকের ওপর। শিক্ষাবিদ ও গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদ্মশ্রী দেওয়া হলে অনেকের মধ্যে সন্তুষ্টি হলেও, কেরালা কংগ্রেস সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে চরম বিতর্ক শুরু করে। তারা বলেছে, গোমূত্রের উপকারিতা নিয়ে যার মন্তব্য ছিল, সেটি এখন কেন্দ্রবিন্দুতে। গত বছর ভি কামাকোটি দাবি করেছিলেন যে, গোমূত্রে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ রয়েছে এবং এটি বিভিন্ন রোগে উপকারী হতে পারে। এই মন্তব্যের জন্য তখন দেশজুড়ে তর্ক-বিতর্কের ঝড় ওঠে। এর জবাবে শ্রীধর ভেম্বু, যিনি আইআইটির একজন প্রখ্যাত গবেষক ও বর্তমানে দি পোচামপল্লী গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, বলেন যে এই সম্মান তাঁর যোগ্য। তিনি আরও বলছেন, গোমূত্র ও গোমূত্রের মাইক্রোবায়োম নিয়ে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কেবল ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’ থেকে আলাদা। তিনি উল্লেখ করেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভি কামাকোটি ইতিমধ্যেই মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মতো ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। তবে, কেরালা কংগ্রেস এ ভাবনার বিপরীতভাবে প্রশ্ন তোলে—শুধু গরুর গোবর ও গোমূত্র কেনই বা গবেষণার মূল বিষয়? অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও কি এ ধরনের গবেষণা হয় না? তারা মধ্যপ্রদেশে পরিচালিত একটি সরকারি প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে অর্থের অপচয় ও অনিয়মের অভিযোগও তোলে। সর্বশেষে, কেরালা কংগ্রেস সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায়—যদি গোমূত্রের উপকারিতা সত্যিই এত বিশাল হয়, তবে ভেম্বু নিজে কেন সেই গবেষণায় বিনিয়োগ করছেন না? যদি এটি ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগের علاج করতে পারে, তবে এটি নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য বড় এক অবদান হবে বলে তারা মত প্রকাশ করে। এই বিতর্ক সাধারণ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও রাজনীতির সীমারেখাকে আবারও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। উপরন্তু সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয় নিয়ে এখন তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
Category: আন্তর্জাতিক
-

ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ৬০০০ জন
ইরানে সরকারের বিরোধী বিক্ষোভ দমনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো অভিযানকে কেন্দ্র করে অন্তত ৬,০০০ মানুষের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন একটি মানবাধিকার সংস্থা, যা যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক। সোমবার হিউম্যান রাইটস এ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করার বিষয়টি জানিয়েছে। দেশটির অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক করে তেহরান আবারো জানিয়েছে, তারা কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণ করবেন না এবং স্পষ্ট করে দিয়েছে, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। জানুয়ারির ৮ তারিখের পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বিক্ষোভের ব্যাপকতা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির তথ্য বলছে, ইরান সরকার ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রেখেছে এবং সরাসরি গুলি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের দমন করছে, যা এখন পর্যন্ত নজিরবিহীন। বর্তমান ইন্টারনেট শাটডাউনের ফলে টানা ১৮ দিন ধরে দেশটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্ব এখনো এই দমন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরোধী যারা, তারা পরিবর্তনের জন্য বাইরের হস্তক্ষেপের কথাও ভাবছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে সামরিক হস্তক্ষেপে রাজি না হলেও পরে বলেছেন, এটি এখনো একটি বিকল্প। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তর হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি কোনো আগ্রাসন হয় তবে কড়া প্রত্যাঘাত করা হবে। বলিদানি পন্থায় হতাহতের সংখ্যা জানানো বেসরকারি সংস্থাগুলিও তাদের কাজে বাধার সম্মুখীন হয়েছে, কারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য সংগ্রহ ও জানাতে সমস্যা হচ্ছে। এইচআরএএনএ বলছে, তারা নিশ্চিত করেছে, অন্তত ৫ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এখনও তদন্ত চলছে, আরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। বিক্ষোভের জেরে ইরানে গ্রেফতার করা হয়েছে মোট ৪১,২৮৩ জনকে। প্রথমে সরকারি হিসাব বলেছিল, ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছে, তবে বাস্তবে তাতে অনেক বেশি হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। ইন্টারনেট সেবা স্তব্ধ থাকায়, বাস্তব পরিস্থিতি যতটা জানা যাচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা প্রকাশ করছে বিভিন্ন সংস্থা। বাইরে অবস্থিত ফার্সি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, জানুয়ারি ৮-৯ এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩৬,৫০০ জনেরও বেশি আহত বা নিহত হয়েছেন। তাদের সূত্র ও নথি অনুযায়ী এই দাবি উঠলেও, তাৎক্ষণিকভাবে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
-

ভারতে বিমানের দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীসহ ৪ জন নিহত
ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার বারামতী বিমানবন্দরে একটি মারাত্মক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রের বিশিষ্ট প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শরদ পাওয়ারের ভাতিজা।
উড়োজাহাজটিতে আরও চারজন যাত্রী ছিলেন, וכל কোনটাই নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত। সূত্র অনুযায়ী, উড়োজাহাজে মোট ছয় জন ব্যক্তি ছিলেন—বয়স ৬৬ বছর বয়সী অজিত পাওয়ার, তাঁর পিএসও, একজন সহকারী ও দু’জন ক্রু সদস্য।
দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়, যা দ্রুত ছড়াতে শুরু করে। উদ্ধারকার্য চালাতে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং আগুন নেভানোর জন্য প্রচেষ্টা চালায়। স্থানীয় পুলিশও দ্রুত উদ্ধারকাজে জড়িত হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মহারাষ্ট্রের ‘জোট’ সরকারের সদস্য অজিত পাওয়ার জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী心理 প্রচারের জন্য মুম্বাই থেকে বারামতী যাচ্ছিলেন। তিনি একটি ব্যক্তিগত লিয়ারজেট-৪৫ বিমানে ছিলেন, যা ভিএসআর ভেঞ্চারস দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।
অজিত পাওয়ার সকালে ৮টার দিকে মুম্বাই থেকে রওনা হন। তাঁর লক্ষ্য ছিল বারামতিতে চারটি নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দেওয়া। এ দুর্ঘটনার ফলে এখন উদ্ধার অভিযান চলছে, যার মধ্যে আহতদের সহায়তা ও ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অজিত পাওয়ার জন্ম ১৯৫৯ সালের ২২ জুলাই মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলার দেওলালি প্রভারায়। তাঁর বাবা অনন্তরাও পাওয়ার মহারাষ্ট্রের মহাখ্যাত রাজকমল স্টুডিওতে কাজ করতেন। বাবার মৃত্যু হলে তাঁর শিক্ষাজীবন বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনি মহারাষ্ট্র রাজ্য বোর্ড থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ করেন।
১৯৮২ সালে, মাত্র ২৩ বছর বয়সে, তিনি একটি সমবায় চিনি কারখানার বোর্ডে নির্বাচিত হন। তখন তাঁর চাচা শরদ পাওয়ার মহারাষ্ট্রের একজন প্রতিষ্ঠিত কংগ্রেস নেতা হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন।
-

ভারতীয় পার্লামেন্টে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ
ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার থেকেই ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা ও নিম্নকক্ষ লোকসভায় এ শোকপ্রস্তাব আনা হবে। এই তথ্য সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে মারা যান। তিনি বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, যার মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ মেয়াদ এবং একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ছিল।
ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশনে ভাষণের মাধ্যমে এই অধিবেশনের সূচনা করবেন। এরপর, রাজ্যসভার কার্যতালিকা অনুযায়ী, সাবেক এমপি এএনআইগানেশন ও সুরেশ কলমাদির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। লোকসভায়, শালিনী পাতিল, ভানু প্রকাশ মির্ধা, সত্যেন্দ্র নাথ ব্রহ্ম চৌধুরী, সুরেশ কলমাদি ও কবীন্দ্র পুরকায়স্থের মৃত্যুর শোকপ্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
রাজ্যসভায় পার্লামেন্টের মহাসচিব উভয় কক্ষে পাস হওয়া ও রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রাপ্ত বিলগুলোর একটি বিবরণী টেবিলে উপস্থাপন করতে পারেন।
অঙ্কের বাজেট অধিবেশন আজ থেকে শুরু হচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংসদের দুই কক্ষের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এই অধিবেশন মোট ৬৫ দিন চলবে, যা ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং শেষ হবে ২ এপ্রিল। জানুয়ারি ১৩ থেকে কন্টিনিউয়াস গ্রীষ্মে সংসদ বিরতিতে যাবে এবং মার্চের ৯ তারিখে আবারও অধিবেশন শুরু হবে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুদানের দাবির পর্যালোচনার জন্য সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলো কাজ করবে।
অধিবেশনের প্রথম অংশে মূলত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটের পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা হবে। দ্বিতীয় অংশে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকোনমিক সার্ভে) ২৯ জানুয়ারি উপস্থাপন করা হবে। এরপর, ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ পেশ করা হবে। এই অর্থনৈতিক সমীক্ষা অর্থমন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের দ্বারা প্রস্তুত, প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে। প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অর্থনীতির অবস্থা, বিভিন্ন সূচকের বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
-

চলতি সপ্তাহে ইরানে হামলার আশঙ্কা জোড়ালো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে
চলতি সপ্তাহে ইরানে মার্কিন সেনা হানার সম্ভাবনা আবারও জোড়ালো হয়ে উঠেছে। এ হামনায় উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাদের-target করা হতে পারে বলে সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই জানিয়েছে। গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বিভিন্ন কর্মকর্তা এই সতর্কতা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, সম্ভাব্য হামলা এই সপ্তাহেই হতে পারে, তবে সময় একটুখানি পরিবর্তিত হতে পারে।
ইরানে যদি যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হয় তবে পাল্টা আঘাতের পরিকল্পনাও গড়ে উঠছে। সরকারি সূত্রের মতে, এই বিষয়ে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসনে আলোচনা চলছে, যা এখন বেশ উত্তপ্ত অবস্থানে পৌঁছেছে।
প্রায় এক মাস আগে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। কঠোরভাবে দমনপীড়নের মাধ্যমে ওই আন্দোলন চাপে রাখা হয়। এরপর থেকেই বিক্ষোভকারীদের হত্যার অজুহাতে ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যখন ইরানে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারী প্রতিষ্ঠান ও দমন-পীড়ণ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। শুরুতে তিনি জনিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে ইরানি সরকার। তবে দুই দিন পরে বললেন, সরকার এখন আর বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছ না। এই পরিবর্তনটি মূলত হামলা পরিকল্পনা বাতিলের জন্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প এই মন্তব্য দিয়ে ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা আড়াল করতে চেয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, তিনি আসলে হামলা এড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই সময়ে, সৌদি আরব, কাতার এবং ওমান ইরানে সরাসরি হামলার বিরোধিতা করে আলোচনা চালাচ্ছে। তবে মার্কিন একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, মূলত এই সময় হামলা স্থগিত রাখা হয়েছিল, তবে ট্রাম্প এখনও ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনা বাতিল করেননি। সূত্রের দাবি, এই অবস্থান এখনও পরিবর্তন হয়নি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনও অন্দরে সিদ্ধান্ত আসেনি; তবে পরিস্থিতি যে খুবই উত্তপ্ত, তা স্পষ্ট।
-

ভি কামাকোটিকে পদ্মশ্রী: ‘গোমূত্র গবেষণা’কে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক
আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটি যাতে পদ্মশ্রী পাচ্ছেন—এই ঘোষণার পর থেকেই নতুন করে বিতর্ক বেগেছে। শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার পেলেও সামাজিক মাধ্যমে কেরালা কংগ্রেসের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ঘটনাকে রাজনীতিক রঙ দেয়। পাল্টা জবাবে জোহো করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু কড়া প্রতিক্রিয়া দেন এবং এর ফলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
২০২২ সাল থেকে আইআইটি মাদ্রাজের দায়িত্বে থাকা ভি কামাকোটি পদ্মশ্রী পাওয়ার পর বলেছেন, এই সম্মান ‘‘ব্যক্তিগত নয়, সমষ্টিগত অর্জন’’ এবং তিনি ‘‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’’ লক্ষ্যে আরও কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু পুরস্কার ঘোষণার পর কেরালা কংগ্রেস তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ব্যঙ্গাত্মক একটি পোস্ট করে—কামাকোটির পুরনো একটি মন্তব্য টেনে ‘‘গোমূত্র গবেষণা’’কে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার জন্য অভিনন্দন জানানো হয়।
গতবছর কামাকোটি জানিয়েছিলেন যে গোমূত্রে অ্যান্টি‑ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি‑ফাঙ্গাল গুণ থাকতে পারে এবং তা আইবিএসসহ কিছু রোগে সহায়ক হতে পারে—সেই মন্তব্য নিয়েই তখনও বিতর্ক ছিল। কেরালা কংগ্রেসের ব্যঙ্গকে কেন্দ্র করেই বিষয়টি আবারো রাজনীতি ও বিজ্ঞান আলোচনা দুটোই জুড়ে যায়।
শ্রীধর ভেম্বু কেরালা কংগ্রেসের কটাক্ষের জবাবে লেখেন, ভি কামাকোটি ‘‘ডিপ‑টেক’’ গবেষক; মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনসহ জটিল প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে কাজ করেছেন এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন—তাই তার সম্মান পুরোপুরি প্রাপ্য। ভেম্বু আরও বলেন যে গোমূত্র ও গোবরের মাইক্রোবায়োম নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে অনুসন্ধানের বড় সম্ভাবনা আছে এবং এটিকে কেবল ‘‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’’ থেকে বাতিল করে দেওয়া উচিত নয়।
তারপর কেরালা কংগ্রেস পাল্টা প্রশ্ন তোলে—কেন শুধু গরুর গোবর ও গোমূত্র নিয়েই গবেষণা করা হচ্ছে, অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে কেন নজর দেওয়া হয়নি? তারা মধ্যপ্রদেশে পঞ্চগব্য নিয়ে সরকারি অর্থপোষিত একটি গবেষণার উদাহরণ টেনে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তুলে বলে দেয়।
মুহূর্তেই বিতর্ক আরও তীব্র রূপ নেয়। কেরালা কংগ্রেস শ্রীধর ভেম্বুকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়—যদি গোমূত্র প্রকৃতিই এত কার্যকর হয়, তাহলে একজন বিলিয়নিয়ার হিসেবে ভেম্বু নিজেই কেন ওই গবেষণায় বড়জোর বিনিয়োগ করছেন না; যদি তা ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগ সারাতে কার্যকর প্রমাণিত হয়, তাহলে তা ভারতের বিশ্বদরবারে বড় অবদান হবে।
এই ঘটনা আবার একবার শিক্ষা, বিজ্ঞান ও রাজনীতির সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সামাজিক মাধ্যমেও সমর্থন এবং সমালোচনার মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে, যেখানে বৈজ্ঞানিক যুক্তি, রাজনৈতিক তকমা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ—সবই মিলেমিশে গেছে।
সূত্র: দ্য ওয়াল
-

মধ্যপ্রাচ্য সূত্র: চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যের গালফ অঞ্চলের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে। এই হামলায় ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টার্গেট করা হতে পারে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।
সূত্ররা জানায়, হামলা এ সপ্তাহে ঘটার সম্ভাবনা আছে, তবে সময়সূচি পরিবর্তিতও হতে পারে। হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে তৎপর আলোচনা চলছে এবং ওই আলোচনাকে কর্মকর্তারা ‘উত্তপ্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আইএনভেস্টিগেশনগুলোতে বলা হয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায় তাহলে ইরান কীভাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাবে—এটি নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। ওই কারণে হামলার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে বিভিন্ন কৌশলগত বিকল্প যাচাই করা হচ্ছে।
গত মাসের শেষ দিকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনকে সরকার কঠোরভাবে দমন করেছে। সেই সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারী জবাবদিহিতার দাবি করে এবং ইরানকে নানাভাবে চাপে রাখতে হুমকি দিয়েছে। আশপাশের রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই সামরিক বিকল্পও আলোচনায় এসেছে।
এক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল নেওয়ার আহ্বান করেছিলেন, কিন্তু দুই দিন পর তিনি আবার বলেন, ইরান সরকার আর বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে না—এমন মন্তব্যও করেছেন। ট্রাম্পের এই বদলানো কণ্ঠস্বরকে কেউ কেউ হামলাজনিত পরিকল্পনা আড়াল রাখার কৌশল হিসেবে দেখেছেন, আবার অনেকে বলছেন তিনি সত্যিই হামলার কথা থেকে সরে এসেছেন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই তিন দেশ সরাসরি ইরানে সামরিক হামলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং প্রভাবশালী কূটনৈতিক ভূমিকা রাখছে।
মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক মার্কিন সূত্র বলেছেন, তখনকার সময় হামলা না করার সিদ্ধান্ত ছিল ‘সাময়িক’। আর একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প এখনও ইরানের সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা পুরোপুরি ত্যাগ করেননি।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
-

চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যের গালফ অঞ্চলের কর্মকর্তাদের বরাতে মিডেল ইস্ট আই জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে। ওই হামলায় ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা টার্গেট হতে পারেন—এমনটাই রিপোর্টে বলা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলা এ সপ্তাহে ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সঠিক সময় পরিবর্তিতও হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এই বিষয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায় তাতে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ কেমন হতে পারে। কর্মকর্তারা বলেন, প্রবল উত্তাপের মধ্যে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
পটভূমি হিসাবে উল্লেখ্য, ইরানে গত মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগকে বিদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র হামলার হুমকি উচ্চারণ করেছিল।
ইরান বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানান। কিন্তু দুই দিন পর তিনি বলেন, ইরান সরকার আর বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে না—এর পর থেকে দেখা গেছে হামলার পরিকল্পনায় পরিবর্তন বা স্থগিততার সম্ভাব্যতা তৈরি হয়েছে।
কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, হামলার আগে পরিকল্পনা আড়াল করতে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেছিলেন; অন্যরা বলছেন তিনি প্রকৃতপক্ষে হামলা থেকে সরে গেছেন।
এই উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সরাসরি আক্রমণের বিরোধিতা করছে। মিডেল ইস্ট আইকে একটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, তখন হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত ছিল ‘সাময়িক’। আর এক গোয়েন্দা সূত্র বলেছেন, ট্রাম্প এখনও ইরানের সরকার বদলানোর পরিকল্পনা পুরোপুরি ত্যাগ করেননি।
সূত্র: মিডেল ইস্ট আই
-

পদ্মশ্রী ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক: ‘গোমূত্র গবেষক’ উপাধি নিয়েই হামেশাই টানাপোড়েন
পদ্মশ্রী সম্মান ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক তর্কে জড়িয়ে পড়লেন আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি. কামাকোটি। শিক্ষাবিদ ও গবেষণা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে পদ্মশ্রী দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরে সামাজিকমাধ্যমে কেরালা কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, যা পরে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়।
২০২২ সাল থেকে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন ভি. কামাকোটি। পদ্মশ্রী পাওয়ার পর তিনি বলেন, এই সম্মান তার কাছে ‘‘ব্যক্তিগত নয়, সমষ্টিগত অর্জন’’ এবং ‘‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’’ লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে আরও যত্নসহকারে কাজ করার ঘোষণা দেন।
তবে পদ্মশ্রী ঘোষণা হতেই কেরালা কংগ্রেসের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করা হয়। ওই পোস্টে কামাকোটির গত বছরের একটি মন্তব্য টেনে ‘‘গোমূত্র গবেষণা’’-কে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার অভিনন্দন জানানো হয়। গত বছর কামাকোটি দাবি করেছিলেন গোমূত্রে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ রয়েছে এবং তা আইবিএস (আইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম)সহ কিছু অসুখে উপকারী হতে পারে—আর সেই মন্তব্য থেকেই তৎকালীন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
কেরালা কংগ্রেসের কটাক্ষের জবাবে নেমে জোহো করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু কামাকোটিকে সপোর্ট করেন। ভেম্বু লেখেন, কামাকোটি ‘‘ডিপ টেক’’ গবেষক, মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মতো ক্ষেত্রে কাজ করেছেন এবং দেশের শীর্ষ технологий প্রতিষ্ঠানের একাংশের নেতৃত্ব দিয়েছেন—তাই তার এ সম্মান পুরোপুরি প্রাপ্য। তিনি আরও বলেন যে গোমূত্র ও গোবরের মাইক্রোবায়োম নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সম্ভাবনা আছে এবং এটিকে কেবল কিছু মনস্তাত্ত্বিক ধারণা বা ঔপনিবেশিক মনোভাব থেকে বাতিল করা চলে না।
এরপরই বিতর্ক আরও তীব্র আকার নেয়। কেরালা কংগ্রেস প্রশ্ন তোলে, কেন কেবল গোমূত্র ও গোবর নিয়েই গবেষণা করা হচ্ছে—অন্য প্রাণীর প্রসঙ্গ কেন তোলা হচ্ছে না। তারা মধ্যপ্রদেশে পঞ্চগব্য সংক্রান্ত একটি সরকারি অর্থায়িত গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে আর্থিক অনিয়মেরও অভিযোগ আনে।
ঘটনাক্রমে কেরালা কংগ্রেস শ্রীধর ভেম্বুকে চ্যালেঞ্জও জানায়—যদি গোমূত্রের এত উপকারিতা সত্যিই থাকে, তাহলে একটি বিলিয়নিয়ার হিসেবে তিনি নিজে কেন তা গবেষণায় বিনিয়োগ করছেন না? যদি ক্যানসারের মতো বড় রোগে কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়, তাহলে সেটাই হবে বিশ্বের কাছে ভারতের বড় অবদান, বলে যোগ করেন তাদের বক্তারা।
এই বিতর্ক শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের সীমারেখা নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। সামাজিকমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ—বিজ্ঞানী, রাজনীতিক ও সাধারণ—এ নিয়ে মত প্রকাশ করছেন।
সূত্র: দ্য ওয়াল
-

ইরানে বিক্ষোভ দমন: মানবাধিকার সংস্থার দাবি—নিহত অন্তত ৬ হাজার
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন অভিযানে অন্তত 6 হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার ফ্রান্সের সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) এই পরিসংখ্যানটি নিশ্চিত করেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে অর্থনৈতিক অভাব-অসন্তোষ থেকেই শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। বিশেষ করে ৮ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমন করতে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে এবং সরাসরি গুলি চালিয়ে নজিরবিহীন কদর্য অভিযান চালিয়েছে। বিক্ষোভের সময় শুরু হওয়া ইন্টারনেট শাটডাউন কয়েকদিন টানা চলার পরও আংশিক বা পূর্ণবহালে সীমিত রয়েছে বলে জানানো হয়।
HRANA বলেছে, তারা এখন পর্যন্ত 5,848 জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে; নিহতদের মধ্যে 209 জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া আরও 17,091 জনের সম্ভাব্য মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় অন্তত 41,283 জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো সরকারি হতাহত হিসাব প্রকাশ করে বলেছে, 3,117 জন নিহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা দাঙ্গাবাজদের হাতে নিহত নিরীহ নাগরিক ছিলেন—এই বিবরণে ভিন্নতা রয়েছে এবং তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। বেসরকারি সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে ইন্টারনেট কাটছাট হওয়ায় তাদের সংগ্রহ করা তথ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রকৃত নিহতের সংখ্যা হয়তো এখন পর্যন্ত জানা সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে।
নেটব্লকসের রিপোর্ট বলছে, ইরানে এখনও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আছে, যা নীরবভাবে ঘটমান অধ্যায়গুলোর চিত্র আড়ালে রেখে দিচ্ছে। কিছু ফার্সি-ভাষা সম্প্রচার মাধ্যম, বিশেষ করে তেহরানের বাইরে অবস্থানরত ইরান ইন্টারন্যাশনাল, গত সপ্তাহে দাবি করেছে যে ৮–৯ জানুয়ারির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে 36,500 ছাড়িয়ে মানুষ নিহত হয়েছে; তবে ওই তথ্য এএফপির মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাচ্ছেনা।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিস্থিতিকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তেহরান ওয়াশিংটনকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার দিকেই ইঙ্গিত দিলেও পরে বলেছিলেন, সামরিক বিকল্প এখনো মুছিয়ে ফেলা হয়নি এবং প্রয়োজনে ওই অঞ্চলে নৌবহর পাঠানো হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে তারা ‘পুরোপুরি ও দাঁতভাঙা’ প্রতিরোধ করবে।
অবস্থা অনিশ্চিততা ও তথ্যের ঘাটতির মধ্যেই আছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত হতাহত ও গ্রেফতারির সংখ্যা মিলিয়ে মানবাধিকার কর্মকর্তারা বলছেন, ইন্টারনেট কর্তনের কারণে বাস্তব ছবি আঁকার কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি সংখ্যাকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত। এ মহামানুষিক সংকটের সামনে ইরানের সাধারণ মানুষ ও পরিবারগুলো গভীর শোক ও উদ্বেগের মুখে রয়েছে।
