মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তার মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষের অবসান ঘটানোর কৃতিত্ব নিজের নামে নিলেন। তিনি বলছেন, তার নেতৃত্বে এই দুদেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, যা তিনি বিশ্বাস করেন এক বড় সফলতা। এশিয়া সফরকালে এক বিমান আড্ডার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই দাবি করেন। তিনি আরও জানান, এই কাজটি করতে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়ে অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা তিনি সমাধান করে ফেলেছেন। ট্রাম্প নিশ্চিত করে বলেন, তিনি অনেক চেষ্টার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন।
Author: bangladiganta
-

ধর্ম আমাদের আত্মার শান্তির জন্য, ভোটের জন্য নয়
বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, ধর্ম আমাদের আত্মার শান্তির জন্য, ভোটের জন্য নয়। যারা বলে অমুক মার্কায় ভোট দিলে বেহেশত মিলবে, তারা আল্লাহর দীনকে উপহাস করছে। আছিয়া ফেরাউনের স্ত্রী আল্লাহর ইবাদত করেই বেহেশত পেয়েছেন, কোনো প্রতীকে ভোট দিয়ে নয়। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা দলের নির্বাচনী সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি আপনারাদের এলাকার সন্তান। ২০০৭ সালে এক-এগারোর ভয়াবহ ঘটনার কারণে আপনি ভোটাধিকার হারিয়েছেন। ২০১৮ সালে দেশের মানুষ হয়েছিল ভোটের শেষ পর্যায়ের দুঃখের স্মৃতি। তবে এবার পুরোপুরি বিশ্বাস আছে, ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হবে। ধানের শীষের প্রতীককে ভোট দিয়ে আপনি আপনার সন্তানকে সংসদে পাঠাবেন। আওয়ামী লীগের মানুষের প্রতি নিপীড়ন ও অত্যাচারী রাজনীতি সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে তারা জনগণকে কষ্ট দিয়ে এসেছে। এই কারণেই তাদের দল এখন মূল রাজনৈতিক প্রেরণা থেকে বিচ্ছিন্ন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এক বছরের মধ্যেই এক কোটি বেকারের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে। খুলনা অঞ্চলে শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও বেকারত্বের ছবি তুলে ধরে হেলাল বলেন, মানসিক দুশ্চিন্তা আর কাজের অভাবে মানুষ দিশেহারা। যদি বিএনপি সরকার আসে, নারীদের মর্যাদা রক্ষা করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি পরিবারের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যার মালিক হবে পরিবারের মা বা বোন। বিএনপি সরকারের সময় চালু হওয়া নারীর নিরাপত্তা ও শিক্ষাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা পরিবেশ তৈরির কাজ সবকিছুই বিএনপি-ই চালু করেছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ক্ষমতায় এলে সেই ধারাবাহিকতা আরও জোরদার হবে। স্বাস্থ্যখাতে অনেক উন্নত পরিকল্পনাও তুলে ধরেন, তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠা ও স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে, যাতে বড় ধরনের রোগে কেউ দিশেহারা না হয়। সভাপতিত্ব করেন জেলা মহিলা দলের সভাপতি এড. তসলিমা খাতুন ছন্দা। প্রধান আলোচক ছিলেন নার্গিস বেগম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু, রূপসা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অন্যদিকে শনিবার বিকেল ৫টায় তেরখাদা উপজেলায় তেরখাদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপজেলা মহিলা দলের নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আজিজুল বারী হেলাল। ওই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তছলিমা খাতুন ছন্দা। সভাপতিত্ব করেন তেরখাদা উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি কহিনুর বেগম। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা বেগম। তেমনি উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, এনামুল হক সজল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু, জেলা বিএনপি’র সদস্য আব্দুস সালাম মল্লিক, রূপসা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান ও চৌধুরী কাওছার আলী।
-

সিরাজুল ইসলাম মেঝো ভাইয়ের শূন্যতা কখনোই পূরণ হবে না
মহানগর বিএনপি’র সভাপত এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম মেঝো ভাইয়ের নেতৃত্ব ও অবদান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অম্লান রয়ে গেছে। তিনি জীবদ্দশায় ভাসানী ন্যাপের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এবং মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। মেঝো ভাই ছিলেন দলের এক বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য নেতা, যার শূন্যতা কখনোই পূরণ হবে না বলে তিনি দৃঢ় মনে করেন।
-

ববকুলের আহবান: ধর্মের নামে বিভ্রান্তি রুখে দাঁড়াও
খুলনা মহানগরীর খালিশপুর বৈকালী বড় বয়রা এলাকায় অবস্থিত বায়তুল নাজাত নূরানী মসজিদ ও মাদ্রাসা একাডেমীর সম্প্রসারণ (এক্সটেনশন) কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি বলেন, “রাজনীতি খারাপ নয়, কিন্তু কিছু অসৎ রাজনীতিবিদদের কারণে আমাদের সমাজে রাজনীতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা চাই, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সবাই একত্র হতে হবে।”
বকুল আরও বলেন, “আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আমাদের শেখিয়েছেন, জনহিতের জন্য কাজ করতে হবে, জনগণের পাশে থাকতে হবে এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা সবসময় মসজিদ, মাদ্রাসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে আসছি এবং ভবিষ্যতেও করব। আমাদের লক্ষ্য হলো—প্রতিটি ঘরে ইসলামের আলো পৌঁছে দেওয়া, তবে সে ইসলাম যেন বিভ্রান্তির কারন না হয়।”
ধর্মের অপব্যবহার ও ইসলামের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টির বিরুদ্ধে তিনি মন্তব্য করে বলেন, “আমরা লক্ষ্য করি, আজকাল কিছু দল ইসলামের নাম দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। কেউ কেউ এমন দাবিও করে যে তাদের দলে ভোট দিলে জান্নাতে যাবে—এগুলো সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। জান্নাত ও জাহান্নাতের মালিক একমাত্র আল্লাহ, তিনিই ঠিক করবেন কে কোথায় যাবে।”
বকুল আরও বলেন, “আগামী নির্বাচনে উপস্থিত সব ভোটারকে সচেতনভাবে ভোট দিতে হবে। কেউ যদি আপনাকে ভোটের জন্য প্রশ্ন করে, তাহলে বলবেন, এখন পর্যন্ত তারা কোথায় ছিলেন, জনগণের জন্য কী কাজ করেছেন।” সমাজে সাম্প্রদায়িক ঐক্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার ক্ষেত্রে ইসলামী মূল্যবোধের পুনঃস্থাপনেও গুরুত্বারোপ করেন বকুল, বলেন, “আমাদের সন্তানদের মধ্যে ঈমানি শক্তি ও মানবিকতা গড়ে তুলতে হবে। মাদ্রাসাগুলো ইসলামী শিক্ষার কেন্দ্র, সেগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, মসজিদ কমিটির সভাপতি শেখ আব্বাস ফকির, সাধারণ সম্পাদক শেখ বাসিত আহম্মেদ মিঠু, মসজিদের হুজুর মাওলানা আব্দুস সাত্তারসহ এলাকার বিভিন্ন ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বায়তুল নাজাত নূরানী একাডেমীটিকে ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিকতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
-

খুলনায় রেলওয়ে শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল জখমের ঘটনা
খুলনায় প্রতিপক্ষের হামলায় রেলওয়ে শ্রমিকদলের বিভাগীয় সমন্বয়ক ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাওলাদার গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। আহত সোহেল হাওলাদারকে প্রথমে স্থানীয় সিটি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়, পরে তাকে খুলনা ডক্টরস পয়েন্টে নিয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দক্ষিণ জোনের জেনারেল ম্যানেজার রেলের কার্যক্রম পরিদর্শন করতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনায় আসেন। এ সময় তার পক্ষ থেকে ফুল দেওয়া ও রেলওয়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এড. এম আর মঞ্জুরের হয়ে স্লোগান দেন শ্রমিক নেতা সোহেল হাওলাদার। এরই মধ্যে অপর এক গ্র“পের শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি আল মামুন রাজার নেতৃত্বে এমিনুর আজাদ, শ্রমিক লীগের মিলনসহ বহিরাগতরা অতর্কিতভাবে হামলা চালায় সোহেল ওপর। গুরুতর আহত হয়ে তিনি সড়ক পথে অন্য নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় প্রথমে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, এরপর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লোকে।
খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কবির হোসেন বলেন, রাত সাড়ে ৮টার পর এ ধরনের গুরুতর ঘটনার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

যশোরে দুই কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ আটক এক ব্যক্তি
যশোরে এক কেজি ২০ গ্রাম ওজনের আটটি স্বর্ণের বারসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ বিজিবি। রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে শহরের মুড়লি মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলো শেখ অলিউল্লা (৫৫), যিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মধ্যকাটিয়া গ্রামের শেখ আরিজুল্লাহর ছেলে।
বিজিবি যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, সকালে শহরের মুড়লি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে কোমরে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় জব্দ করা হয় স্বর্ণের আটটি বার, যার মোট ওজন ১ কেজি ২০ গ্রাম, পাশাপাশি একটি স্বর্ণের আংটি ও একটি মোবাইল ফোন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শেখ অলিউল্লা জানায়, সে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে স্বর্ণের বারগুলো সংগ্রহ করে ভারতে পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। পরে আটকের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করে পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা করে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় ব্যাপারটি হস্তান্তর করে।
অভিযান শেষে গ্রেফতারকৃত অলিউল্লাকে মামলা দিয়ে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। জব্দকৃত স্বর্ণের বারগুলো সতর্কতার সঙ্গে ট্রেজারিতে সংরক্ষিত করা হয়েছে।
-

কার্গো টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানি ক্ষতি ১২,০০০ কোটি টাকা: ইএবি
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশের রপ্তানি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই অঘটনে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা সাতাশ হাজার কোটি টাকার মতো পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূচনালগ্নে জানানো হয়, আজ ২০ অক্টোবর সোমবার, রপ্তানি ও শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট সংগঠনের এক জরুরি সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
ইএবি সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে শুধু ব্যবসায়ী নয়, দেশের অর্থনীতিও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশের পণ্যের ওপর আস্থা হারাতে পারেন, যা আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা যথাযথভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি, যাতে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করে দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। শাহজালাল বিমানবন্দর দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র—যেখানে প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের পণ্য পরিবহন হয়। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই ধরনের অঘটন কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার গভীর দুর্বলতার চিহ্ন।
সংবাদ সম্মেলনে ইএবি নেতারা প্রশ্ন তোলেন, কি কারণে এত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় প্রয়োজনীয় অটোমেটিক ফায়ার ডিটেকশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না? আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং টিম কেন দ্রুত রেসপন্স করেনি? বাইরে থেকে ফায়ার সার্ভিসের আসতেও এত সময় কেন লেগেছিল? তারা অভিযোগ করেন, সিভিল এভিয়েশন, কাস্টমস ও বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স—এই তিন সংস্থা, যা এই কার্গো টার্মিনাল দেখাশোনা করে, তারা কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডে তৈরি পোশাক, চামড়া, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্য, ফলমূল, ফার্মাসিউটিক্যাল কাঁচামালসহ নানা রপ্তানি পণ্য পুড়ে গেছে। ফলে অনেক ক্রেতা তাদের অর্ডার বাতিল করেছেন এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইএবি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে— ক্ষতিগ্রস্তদের বিমা দ্রুত দাবি দাবি করা, যেসব পণ্য বীমার আওতায় আসেনি, তাদের জন্য সরকারি বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা জোরদার, রপ্তানি পণ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন, আধুনিক স্ক্যানার ও মনিটরিং প্রযুক্তি লাগানো, কার্গো ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশন ও ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা উন্নয়ন।
অন্তঃকরণে, রপ্তানিকারকরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক, যাতে সম্পূর্ণভাবে পরিস্থিতি বোঝা যায় এবং ভবিষ্যতে এর প্রতিকার করা সম্ভব হয়।
-

স্বর্ণ ও রুপার দাম আবার কমলো, রেকর্ডের পর দাম পড়ে গেল
আজ বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশের স্বর্ণ ও রুপার দামের নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে, যা দেশের বাজারে আবার নিম্নগামী প্রবণতা দেখিয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে স্বর্ণের দাম কমানো হলো, এর ফলে দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম আবারো প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)-এর সাধারণ সভার মাধ্যমে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-র বৈঠকে একসভায় এ দর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অগাস্টের প্রথম দিকে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতার রেকর্ড সৃষ্টি করে, যেখানে এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা। তবে, চলতি সপ্তাহে সেই দাম আবার হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন ঘোষণা অনুসারে, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৩৮২ টাকা, যা আগের চেয়ে ৮ হাজার ৩৮২ টাকা কম। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০১ টাকা দাঁড়িয়েছে, যা আগের থেকে ৮ হাজার ২ টাকা কম। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৪ টাকা, যেখানে বহুর স্থিতির চেয়ে ৬ হাজার ৮৫৯ টাকা কমে গেছে। এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম কমে ১ লাখ ৪২ হাজার ২১৯ টাকায় এসেছে।
এর আগে, গত ২০ অক্টোবর, স্বর্ণের দামে সর্বোচ্চ রেকর্ডের সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক ভরি ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা। তখন দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ১৫ অক্টোবর স্বর্ণের দাম আবারো বৃদ্ধি পায়, এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা। এই সময়ে অন্যান্য ক্যাটাগরির স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম কমার পাশাপাশি রুপার মূল্যেও উল্লেখযোগ্য হ্রাস এসেছে। ২২ ক্যারেটের রুপার এক ভরি দাম এখন ৫ হাজার ৪৭০ টাকা, যা আগের চেয়ে ৭৩৫ টাকা কম। একইভাবে, অন্য ক্যাটেগরির রুপার দামও কমে হয়েছে; ২১ ক্যারেটে ৫ হাজার ২১৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৪ হাজার ৪৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ৩ হাজার ৩৫৯ টাকা।
আগে, ২০ অক্টোবর, রুপার দাম ছিল ৬ হাজার ২০৫ টাকা (২২ ক্যারেট), ৫ হাজার ৯১৪ টাকা (২১ ক্যারেট), পরবর্তী ক্যাটেগরিতে ও সনাতন পদ্ধতিতে দাম ছিল যথাক্রমে ৫ হাজার ৭৪ টাকা ও ৩ হাজার ৮০২ টাকা।
-

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী, ৩২.১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩২.১০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থানের পরিচায়ক। এই অগ্রগতি মূলত রেমিট্যান্সের প্রবাহে জোর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলাম কার্যক্রমের ফলাফল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ৩২.১১ বিলিয়ন ডলার পৌঁছেছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন, অপ্রতিরোধ্য রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনার ফলেই এই রিজার্ভ বৃদ্ধি।
বিশেষ করে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ২১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার নিলামে কেনা করেছে, যা ১৩ জুলাই থেকে শুরু হয়।
গত ৯ অক্টোবর পর্যন্ত, দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩১.৯৪ বিলিয়ন ডলার, এবং আইএমএফের হিসাব মতে, তা ছিল ২৭.১২ বিলিয়ন ডলার।
এমন পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ সংকটের অবসান ঘটেছে ও দেশের অর্থনীতির মজবুত ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
-

বাংলাদেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি প্রশংসিত, আইএমএফের শ্রমসাধ্য প্রচেষ্টা স্বীকৃতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রমের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দ্বারা প্রশংসিত হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ বাড়াতে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলোর বর্তমান বিনিয়ম এবং কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে কি মিল রয়েছে—তা তারা পর্যালোচনা করবেন।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) হংকংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক টমাস হেলব্লিং সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “রিজার্ভ বৃদ্ধি আমাদের লক্ষ্য ছিল। চলমান বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতির মধ্যেও বাংলাদেশ সফলভাবে সেই লক্ষ্য অর্জন করেছে।” তিনি আরও বলেন, আইএমএফের একটি বিশেষ দল এ মাসেই বাংলাদেশে সফর করবে, যেখানে তারা চলতি সময়ে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম পর্যালোচনা সম্পন্ন করবে।
আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৯.৯৩ বিলিয়ন ডলার—এই বৃদ্ধি বেশ উল্লেখযোগ্য।
রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে প্রবাসী আয় (রেমিটেন্স), রপ্তানি আয়ে উন্নতি, কম ব্যয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার ক্রয় কার্যক্রমকে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২১ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হয়। সেই সময় থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের অর্থনীতির মূল টাকার মান প্রায় ৪৩ শতাংশ কমে গেছে। এই বাজেটের প্রেক্ষাপটে, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানোর ফলস্বরূপ প্রথমবারের মতো ব্যাংক বাজার থেকে ২.১২ বিলিয়ন ডলার গ্রহণ করেছে।
