সিডনির মাঠে এক ভয়ংকর সময়ের ঘটনা ঘটেছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সময় এক দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচ ধরতে গিয়ে হঠাৎই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শ্রেয়াস আইয়ার। দর্শকদের উল্লাসের মুহূর্তটি মুহূর্তে স্তব্ধতায় রূপ নেয়। প্রাথমিকভাবে সবাই ভাবছিলেন, সেটি শুধুই একটি সামান্য চোট, কিন্তু পরে জানা যায়, এটি ছিল জীবনকে হুমকির মুখে ফেলার মতো এক গুরুতর ইনজুরি।
Author: bangladiganta
-

খুলনায় সাঁতার প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
তারুণ্যের উৎসব উদ্যাপন করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্রীড়া পরিদপ্তর আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খুলনা জেলা ক্রীড়া অফিসের ব্যবস্থাপনায় সাঁতার প্রতিযোগিতা ও সমাপনী অনুষ্ঠান গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিং পুল হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমান, যিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। খুলনা মহানগরী ও আশপাশের বিভিন্ন স্কুল থেকে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রায় ১৫০ জন ছাত্রছাত্রী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সাঁতার প্রতিযোগিতার পরিচালনা করেন খুলনার বিভিন্ন স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক ও শিক্ষিকারা। সভাপতিত্ব করেন জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. আলিমুজ্জামান। এই আয়োজন তরুণদের স্পোর্টসের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ও মেধার পরিচয় দিতে অনন্য এক মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।
-

বিশ্বকাপের জন্য আকাশে ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে সৌদি আরব
সৌদি আরব ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বকাপের জন্য অনন্য ও স্মার্ট স্টেডিয়াম নির্মাণে, যার মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা তৈরি হবে। এটির নাম রাখা হয়েছে ‘নিওম স্টেডিয়াম’, যা আকাশের উচ্চতা থেকে আন্ডারগার্ডে মাঠের দৃশ্য দেখতে সক্ষম হবে। এই উদ্যোগটি বেশ অবাস্তব মনে হতে পারে মনে হলেও, সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। সৌদি আরবের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, এই স্টেডিয়ামসহ দেশটির অপর ১১টি নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং ৪টি বিদ্যমান স্টেডিয়াম সংস্কার করতেGoing করেছে। ফিফার বিড_FLAGS_ এর মধ্যে সৌদি আরবের বিশাল প্রবর্ণা জারি হয়েছে, যেখানে নিওম স্টেডিয়ামকে বিশ্বের অন্যতম অনন্য স্টেডিয়াম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মাঠটি থাকবে ৩৫০ মিটার উচ্চতায়, যেখানে বিশাল শহরের কাঠামো দিয়ে ছাদ তৈরি হবে, যা দর্শকদের জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা হবে। এই স্টেডিয়ামটি ‘দ্য লাইন’ নামের ভবিষ্যতনির্ভর স্মার্ট সিটির অংশ হিসেবে নির্মিত হচ্ছে। এই শহরটি এখনও নির্মাণাধীন, তবে এর সম্পূর্ণতা আশা করা হচ্ছে ২০৩৪ সালের মধ্যে, বিশ্বকাপের প্রায় ১১ বছর আগে। প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, নিওম স্টেডিয়ামে ধারণক্ষমতা থাকবে ৪৬,০০০ দর্শকের, যা ৩৫০ মিটারে মাঠ থেকে ওপরে অবস্থান করবে। এর পাশাপাশি রিয়াদ, জেদ্দা, আল খোবার ও আভা শহরেও নির্মিত হবে আধুনিক স্টেডিয়াম। প্রতিটি স্টেডিয়ামের ডিজাইন হবে আলাদা এবং অনন্য, যেখানে রঙিন আলোকসজ্জা, স্ফটিকের মতো নকশা বা স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করা হবে। দিনক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর ফিফার সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবকে ২০৩৪ বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে। উল্লেখ্য, এই আসরে কমপক্ষে চারটি স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতাসহ ৪০,০০০ দর্শকের বেশি স্থান থাকলেই বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব। এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশগুলো থেকে এই আয়োজনের জন্য শুধু সৌদি আরবই বিড জমা দেয়। ফিফার রোটেশন নীতিমালা অনুযায়ী, এই আয়োজন হবে ২১শ শতাব্দীর তৃতীয় বিশ্বকাপ। এর আগে ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান এবং ২০২২ সালে কাতারে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ভবিষ্যতে, ২০৩৬ সালে বা পরবর্তীতে, এই অঞ্চলে আরও একটি বড় আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সৌদি আরবের সামনে এখনও অনেক সময় রয়েছে বিনিয়মের শেষ ধাপে পৌঁছানোর জন্য, তবে তার আগেই নজর রাখা হবে ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে যেখানে সম্ভবত দেখা যাবে দুই লেজেন্ডের—ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসিকে, তাদের ক্যারিয়ারের বিদায়ী মুহূর্তগুলো।
-

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই তারকা এখনো ঘরোয়া লিগে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। তবে সম্প্রতি কিছুদিন ধরে ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি এখন আরও এক বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা হলো অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
সম্প্রতি এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে দুইটি ম্যাচ খেলার পর তিনি আবারো ইনজুরিতে পড়েছিলেন, যার কারণে এরপর আর কোনো ম্যাচে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তবে তার ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি, পাশাপাশি নিয়মিত রিহ্যাভ সেশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে এ সময়েই ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হন এই সাবেক ক্রিকেটার।
গত চার দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। প্রথমে জ্বর নিয়ে সমস্যা শুরু হলেও পরে চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর জানা যায় তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। এরপরই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিসিবির মেডিকেল বিভাগের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আপাতত হাসপাতালে রয়েছেন তিনি, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে তার শারীরিক পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যেই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
-

ট্রাম্পের বিস্ফোরক বক্তব্য: মোদি দেখতে সুন্দর, খুনি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দর্শনে খুবই প্রশংসা করেছেন, তাকে দেখলে মনে হয় তিনি মানুষের চোখে অনেক সুন্দর। তবে একই সাথে ট্রাম্প আবার তাকে খুনিও বলে থাকেন। বর্তমানে এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় রয়েছেন ট্রাম্প, যেখানে তিনি এপেক সম্মেলনে অংশ নেবেন। এর আগে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যকার চারদিনের যুদ্ধের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, তিনি এই যুদ্ধ বন্ধ করে দিয়েছেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি প্রথমে এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য দুই দেশের নেতাদের আহ্বান করেছিলেন, কিন্তু তারা এক্ষেত্রে রাজি হয়নি। পরে তিনি দ্বিপাক্ষিক এই সংঘর্ষ বন্ধ করতে ভারত ও পাকিস্তান উভয়কেই রাজি করান এবং যুদ্ধ না করলে ওই দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য চুক্তি বন্ধের হুমকি দেন।
তিনি বলেন, “আমি ভারতের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছি। আমার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আমার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একইভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও একজন অসাধারণ ব্যক্তি। পাকিস্তানের একজন ফিল্ড মার্শাল আছেন—কারণ তিনি একজন অভিজ্ঞ ও সালিল্যজনক সৈনিক। আমি তাদের সবাইকে চিনি।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল, এবং তারা ছিল দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তিনি বলেন, “আমি মোদিকে ফোন করে বলি, আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্ভব নয়, কারণ আপনি পাকিস্তানের সঙ্গেও যুদ্ধ করছেন।” মোদি তখন বলে, ‘না, আমাদের চুক্তি করতে হবে।’ ওই সময় ট্রাম্প আবার বলেছিলেন, ‘না, আমরা চুক্তি করব না, কারণ আপনি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন।’
অন্যদিকে পাকিস্তানকেও ট্রাম্প জানান, তারা তাদের সঙ্গে বাণিজ্য করবে না কারণ তারা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত। ট্রাম্প বলেন, “পাকিস্তান বলে, ‘না, আমাদের যুদ্ধের জন্য দিন নাই।’ উভয় দেশই বলেছে, তারা শক্তিশালী ও লড়াকু।
ট্রাম্প মোদির আচরণে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদিকে দেখলে মনে হয়, তাকে আপনি আপনার বাবা বলে মনে করতে পারেন। ওঁকে দেখে মনে হয়, ওঁর জন্য অনেক ভালোবাসা জাগে। কিন্তু এই মোদি তো একজন খুনি। ওঁর রূপ বেশ কঠোর। ওঁকে আমি বলি, ‘না, আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করব।’ তখন আমাকে আশ্চর্য মনে হয়, এটি কি সেই মোদি?”
প্রায় দুই দিন পর ট্রাম্পের সন্দেহের অবসান ঘটে এবং মোদি ও পাকিস্তান উভয়ই যুদ্ধ বন্ধ করে দেয়। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এবং ঘটনার বিবরণ সমালোচকদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।
-

কলকাতায় সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি কনিকা বিশ্বাসের মৃত্যু
কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য কনিকা বিশ্বাস। তিনি বুধবার পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা সংলগ্ন সল্টলেকের মণিপাল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। জানা গেছে, দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি এবং ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সময় ছিল বয়স ৮০ বছর।
কনিকা বিশ্বাসের জন্ম বাংলাদেশের ওড়াকান্দিতে হলেও বেশ কিছু বছর ধরে তার পরিবার বসবাস করছিল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হৃদয়পুরে। তিনি ১৯৭৩ সালে প্রথম নারী আসন-১১ থেকে বাংলাদেশ সংসদে মনোনীত সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে তিনি ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগঠক হিসেবে অংশ নেন। এক সময় তাঁর ঠিকই স্বামী বীরেন রাজ বিশ্বাসও স্বজনতায়ক ছিলেন।
তাঁর আত্মীয়, চিকিৎসক ডাঃ সুবোধ বিশ্বাস জানান, কনিকা বিশ্বাস দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরই মধ্যে বুধবার বিকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানে।
-

লেবানন প্রেসিডেন্টের সেনাবাহিনীকে ইসরায়েল মোকাবেলার নির্দেশ
লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, ইসরায়েলি আক্রমণের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে লড়াই করতে হবে। এই নির্দেশ দেয়া হলো এমন পরিস্থিতিতে, যখন যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। এটি ২০২৪ সালের শেষের দিকে যুদ্ধবিরতির পর থেকে প্রথমবারের মতো এমন কঠোর নির্দেশনা দিলেন প্রেসিডেন্ট আউন। বুধবার রাতে, দক্ষিণ লেবাননের ব্লিদা শহরে একটি পৌরসভা ভবনে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়ে একজন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যা করে। এরই প্রতিক্রিয়ায়, লেবাননের সরকারি সম্প্রচার সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আউন ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি ‘ইসরায়েলি আগ্রাসনের ধারাবাহিক প্যাটার্নের’ একটি অংশ। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বেসামরিক অবকাঠামোর আড়ালে থাকা ওই পৌরসভা ভবনটি হিজবুল্লাহর কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। একই সময়ে, হিজবুল্লাহ তাদের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলি আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আউনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা এ বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। গত আগস্ট মাসে, লেবাননের আরব-সমর্থিত সরকার সমস্ত অস্ত্রের সরকারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নিয়ে একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করে। যদিও হিজবুল্লাহ এই পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দক্ষিণাঞ্চলে দখলকৃত পাঁচটি সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার ছাড়া তারা নিজেদের অস্ত্র সরিয়ে নেবে না। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নিয়মিত আক্রমণ চালানো হচ্ছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লেবাননে ইসরায়েলে পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরু হলে, এখনও পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২۴ সালের নভেম্বরের মধ্যে হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কথা ছিল, তবে তারা কেবল অর্ধেক প্রত্যাহার করে নেয় এবং সীমান্তের পাঁচটি চৌকিতে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
-

বাংলাদেশে পুশইনের ভয়ে কলকাতায় ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের আত্মহত্যা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের ইলামবাজারে একজন ৯৫ বছর বৃদ্ধ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি তার নিজের মেয়ের বাড়িতে বৃহস্পতিবার এই চরম সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে পুশইনের ভয় থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
আনন্দজনক এই ঘটনার মধ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নাগরিকদের উদ্বেগের বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে কলকাতা মহানগরীতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কার্যক্রম শুরু হবে, যা নিয়ে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষিতীশ মজুমদার নামে ওই বৃদ্ধের পরিবার জানিয়েছে, ২০০২ সালে তৈরি হওয়া ভোটার তালিকায় তার নাম ছিল না। যখন থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে, তখন থেকেই তিনি ভয় পান যে তাকে বাংলাদেশে পুশইন করা হবে। তারা উল্লেখ করেছেন, তিনি খুবই ছোট বয়সে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছেন এবং সেখানে অনেক কষ্ট করে জীবন গড়েছেন।
নাতনি নির্মলা বলেন, “আমার দাদার নাম ২০০২ সালে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ছিল না। তিনি বহু আগে বাংলাদেশ থেকে এখানে এসেছিলেন। বাংলাদেশে পুশইনের ভয়েই তিনি খুবই চিন্তিত ছিলেন। এই বয়সে যদি আবার বাংলাদেশে পাঠানো হয়, তা হলে তিনি কি করবেন?”
তবে মৃতদেহের পরিবারের অন্য সদস্যরা এই বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দাদার কাছে কোনো নোট পাওয়া যায়নি যেখানে তিনি এই ধরনের ভয় বা চিন্তার কথা উল্লেখ করেছেন।
ক্ষিতীশ পশ্চিম মোদিনিপুরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন ইলামবাজারে।
বীরভূমের পুলিশ সুপার আমনদ্বীপ বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি তিনি ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য ভয় পেয়েছিলেন, এ কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে আমাদের কাছে কেউ এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়নি।” সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
-

মুম্বাইয়ে জিম্মিদশা ও নাটকীয় অভিযান, গুলিতে নিহত জিম্মি কর্তা
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইয়ে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। পওয়াই এলাকার একটি স্টুডিওতে এক ব্যক্তির কারণে কমপক্ষে ১৭ শিশু নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে পড়েছিল। ঘটনার সময় ওই ব্যক্তির জিম্মিতে পড়েছিলেন শিশুরা, এরপর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে সাহসিকতার সাথে অভিযান চালিয়ে শিশুদের উদ্ধার করে। এই অভিযানে ধরা পড়ে জিম্মি করা ব্যক্তি রোহিত আর্য, যাকে পুলিশের গুলিতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকাল দিকে, আরএ স্টুডিও নামে একটি ছোট ফিল্ম স্টুডিওতে। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, রোহিত আর্য অডিশনের জন্য শিশুদের স্টুডিওতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি নিজেকে একজন নির্মাতা বা অডিশনার বলে পরিচয় দিয়ে শিশুদের জিম্মি করেন। ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ দ্রুত পৌঁছে ঝুঁকি অনুধাবন করে চমৎকারভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে শিশুদের নিরাপদে মুক্ত করে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে অক্ষত অবস্থায় জিম্মি রাখা হয়েছিল। পরে উদ্ধার কার্যক্রমে পুলিশ রোহিতের সঙ্গে আলোচনা চালায়, কিন্তু তিনি শিশুগুলোর মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তখন তিনি শিশুদের হত্যার হুমকি দেন। শেষ পর্যন্ত, পুলিশ তার স্টুডিওর বাথরুমের ভিতরে প্রবেশ করে খেলোয়াড়ি কৌশলে শিশুদের নিরাপদে উদ্ধার করে।
আঘাতের সময় রোহিত আর্য স্টুডিও থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বলেন, তিনি আত্মহত্যা না করে এই জিম্মিদশার পথ বেছে নিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি জানান, তাঁর অর্থের কোনো সমস্যা নেই এবং তিনি সন্ত্রাসী নয়। তিনি দাবি করেন, কিছু প্রশ্ন ও নৈতিক দাবির জন্য এই কাজ করেছেন। তিনি সতর্কভাবেই বলেন, তার ভুলে কিছু ঘটলে তিনি আগুন লাগিয়ে দিতে পারেন এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আটক করার সময় পুলিশ তার কাছ থেকে একটি বন্দুক ও রাসায়নিক ভর্তি পাত্র উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, রোহিত মূলত একটি ওয়েব সিরিজের অডিশনের জন্য শিশুগুলোর ভাড়া নিয়েছিলেন। শিশুরা স্থানীয় একটি আবাসিক ভবনের নিচে অবস্থিত এই স্টুডিওতে ছিলেন।
রোহিত আর্য দাবি করেছেন, তিনি ‘পিএলসি স্যানিটেশন মনিটর প্রজেক্ট’ নামে একটি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তর থেকে তার জন্য অর্থের কিছু পাওনা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের সুযোগ্যতার জন্য তার অর্থ এখনও পরিশোধ হয়নি। তার অভিযোগ, তিনি তার প্রকল্পের জন্য অনুমোদিত ২ কোটি রুপির মধ্যে অনেকটাই পেতেন, কিন্তু ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে তিনি দু’বার অনশনও করেছিলেন। তিব্র নাখোশ ছিলেন তিনি, কিন্তু তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কেসরকর তাকে ৭ লাখ ও ৮ লাখ রুপির দু’টি চেক দিয়েছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে আরও অর্থের জন্য প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।
সর্বশেষ ঘটনাপ্রবাহে, পুলিশ ও তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি সত্যিই খুবই সঙ্কটজনক ছিল। তারা ধারণা করছে, রোহিতের হাতে থাকা কিছু রাসায়নিক ও অস্ত্র শিশুদের বিপদে ফেলেছিল। এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়, শিশু নিরাপত্তার জন্য আরও সতর্ক হতে হবে এবং স্থানীয় authorities এর নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।
-

অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে খালিশপুরে মাদক সিন্ডিকেটের বিস্তার
বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, বর্তমান সময়ে খুলনা-৩ আসনের ঝুলন্ত শিল্পাঞ্চল খালিশপুর এখন দেশের অন্যতম অবহেলিত ও দরিদ্র এলাকার মধ্যে পরিণত হয়েছে। এখানকার অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং মানুষের অসহায় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা তরুণ সমাজের ভবিষ্যতকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে খালিশপুরের বিআইডিসি রোডে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক বৃহৎ সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, আমাদের এখানকার ব্যবসায়ীরা অনেক কষ্ট করে টিকে আছেন, তাঁরা শুধু বাতিটা জ্বালিয়ে রেখেছেন। বিভিন্ন কারখানা ও মিল বন্ধ হওয়ায় মানুষের কাছে এখন টাকা তেমন নেই। দোকান থাকা সত্ত্বেও বিক্রি কমে গেছে, ফলে এই অঞ্চলের মানুষ এখন খুবই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। তিনি আরও বলেন, এই অর্থনৈতিক অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এখন খালিশপুরে মাদকের ভয়ঙ্কর বিস্তার দেখা দিয়েছে। মাদক বিরোধী অভিযানে সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে, কারণ এই লড়াইয়ে কোনো দল, মত বা পথের ভাগ নেই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদককে নির্মূল করতে হবে। বকুল জোর দিয়ে বলেন, মাদকদ্রবের সঙ্গে জড়িত যে কেউই হোক, কত প্রভাবশালী বা দলের হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আশ্বস্ত করেন, এই এলাকাকে মাদক মুক্ত বলতে ছাড়বে না তিনি, ইনশাআল্লাহ। ভোটের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনের জন্য আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসিনি। আমি এখনো প্রার্থী নই। যখন প্রার্থী হবো, তখন ভোটের জন্য আসব। এখন আমি শুধু আপনাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনতে এবং সমাধানে সহায়তা করতে এসেছি। বিএনপি’র আন্দোলনের উদ্দেশ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে জনগণের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। এই আন্দোলনে অসংখ্য নেতা ও কর্মী জীবন দিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই, যেখানে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্য থাকবে না। এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, ঐক্য ও শক্তিশালী নেতৃত্ব। বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে আমাদের লক্ষ্য। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আবদুল গফুর বিশ্বাস এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাকির হোসেন সঞ্চালনা করেন। বক্তব্য রাখেন মো: খলিলুর রহমান, মুফতি আঃ আজিম খায়ের, টি এম আলম চৌধুরী, মো: নুরুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, জাহাঙ্গীর শেখ, আতাউর রহমান পপলু ও অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এই সমাবেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাধারণ ব্যবসায়ী, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মী ও এলাকার জনগণের উপস্থিতি খালিশপুরবাসীর পরিবর্তনের প্রত্যাশার প্রমাণ। বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে সবাই এখন একযোগে অন্ধকার থেকে আলোতে আসার উদ্যোগ নিচ্ছেন।
