Author: bangladiganta

  • পাঁচ দফা মানা ছাড়া ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে

    পাঁচ দফা মানা ছাড়া ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে নভেম্বরে জাতীয় গণভোট ও জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আটটি রাজনৈতিক দল। এই দাবিগুলোর অগ্রাহ্য হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি পালটেপড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ন্যাশনাল সার্টিফিকেটের বাস্তবায়ন ও গণভোটের দাবি মেনে না নিলে, আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকার চিত্র ভিন্ন রূপ নেবে ইনশাআল্লাহ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খুব দ্রুত উপদেষ্টা পরিষদ এই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

    বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে, দাবি আদায়ের জন্য আটটি রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপি দেওয়ার পরে জামায়াতের নেতারা উপস্থিত হয়ে সমাবেশে বক্তব্য রাখতে যান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ১১ নভেম্বর এই আট দল একত্রে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে। তারা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন যে, মহাসমাবেশের আগে দাবি মানা হলে, শান্তিপূর্ণ মতবিনিময় সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ১১ তারিখের সফল সমাবেশে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া যায়।

    স্মারকলিপি দেয়ার সময়, জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি দাবিগুলো মানা না হয় এবং পরিস্থিতি পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে ১১ নভেম্বর ঘোষণা করবেন ‘‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি। এতে ঢাকা জনতার শহরে পরিণত হবে, দাবি আদায়ের জন্য লড়াই হবে। তিনি বলেন, “লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই।”

    এদিকে, ঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও পল্টন মোড়ে বিভিন্ন দলের কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। ১১টার পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে তারা পুরানা পল্টনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এখানে নেতাদের বক্তৃতার শেষের পরে দুপুর ১২:০৫ মিনিটে সবাই যমুনা অভিমুখী পদযাত্রা শুরু করেন।

    এতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইহজারা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হাক্কানী, জাগপা মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ, এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক।

    তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গণভোটের আয়োজন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সকলের জন্য সমান সুযোগের ব্যবস্থা, ফ্যাসিস্ট সরকারের গণকের সাথে সমাপ্ত জুলুম, নিপীড়ন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার, এবং স্বৈরাচারী দোস্ত জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

  • পরকীয়ার জেরে পুলিশ দম্পতির ফাঁসি, সহকর্মী পুলিশ হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত

    পরকীয়ার জেরে পুলিশ দম্পতির ফাঁসি, সহকর্মী পুলিশ হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত

    ময়মনসিংহে পরকীয়ার জেরে সহকর্মী পুলিশ সদস্যকে হত্যা করার মামলায় দুই পুলিশ সদস্য দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত বুধবার (৬ নভেম্বর) এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সেই দম্পতি হলেন কনস্টেবল মো. আলাউদ্দিন এবং তাঁর স্ত্রী কনস্টেবল নাসরিন নেলী। আলাউদ্দিনের বাসা ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ভবানীপুরে।

    মামলার তথ্যে জানা যায়, ২০১৪ সালে আলাউদ্দিনের স্ত্রী নাসরিন নেলীর সাথে সহকর্মী কনস্টেবল সাইফুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই সম্পর্কের কারণে তারা তিনজনই জড়িয়ে পড়ে এক জঘন্য হত্যাকাণ্ডে। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে ময়মনসিংহের কাঁচিঝুলি অঞ্চলে নেলীর ভাড়া বাসায় অবস্থানরত অবস্থায় প্রেমিক সাইফুল ইসলামকে হত্যা করে নেলী ও তার স্বামী আলাউদ্দিন।

    হত্যা শেষে তারা মরদেহ বাসার আড়ালে গুম করার চেষ্টা করেন, কিন্তু পুলিশের তল্লাশির সময় বস্তাবন্দী লাশসহ হাতেনাতে ধরা পড়েন। ঘটনার পর, নিহত সাইফুলের মা মোছা. মুলেদা বেগম ২০১৪ সালের ১৩ আগস্ট কনস্টেবল আলাউদ্দিন, নাসরিন নেলী ও অজ্ঞাতনামা দুজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগে আনুষ্ঠানিক রায় দেন, যেখানে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

  • আওয়ামী লীগের চিঠি: জাতিসংঘে কাজ হবে না, বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    আওয়ামী লীগের চিঠি: জাতিসংঘে কাজ হবে না, বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর চিন্তার কথা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. תৌহিদ হোসেন। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে কথা বলেন।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জাতিসংঘে চিঠি দিয়ে কিছুই হবে না। বিএনপি বা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ যারা এই চিঠি পাঠিয়েছে, তারা এই বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় কোনো ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেনি।

    এর আগে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নয়’ বলে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেতে জাতিসংঘকে চিঠি দেয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। এই চিঠি শনিবার ঢাকায় জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউএনডিপি) প্রতিনিধির কাছে পাঠানো হয়, যার মাধ্যমে তারা এই আহ্বান জানায়। চিঠিটি পাঠিয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আমরা জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির সকল সহযোগিতা স্থগিত করছি। পাশাপাশি, সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতা প্রসারে উৎসাহিত করছি। আমরা মনে করছি, এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও আইনের শাসন বজায় রাখা খুবই জরুরি, যা মনে রাখতে হবে।’

    চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশে ইউএনডিপির নির্বাচনী কার্যক্রম, ব্যালট প্রজেক্ট এবং বিভিন্ন সহায়তার কার্যক্রম নিয়ে আমাদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। কারণ, এই নির্বাচন সমূহ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে মনে করছে সরকার। এর ফলে, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের মূলনীতি এবং অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মানদণ্ড রক্ষা করা কঠিন হবে, যা ইউএনডিপির ম্যান্ডেটেরও পরিপন্থী।’

    সংক্ষেপে, এটি বোঝা যায় যে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ জাতিসংঘের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ও সহযোগিতা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের অভিযোগ মানছে না সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

  • জাতীয় লজিস্টিকস নীতি-২০২৫ অনুমোদন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি উন্নতির আশা

    জাতীয় লজিস্টিকস নীতি-২০২৫ অনুমোদন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি উন্নতির আশা

    সরকার সম্প্রতি ‘জাতীয় রজিস্টিকস নীতি-২০২৫’ অনুমোদন করেছে, যা দেশের পরিবহন, সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আধুনিক, আরও দক্ষ ও টেকসই করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই নীতিটি আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৪৭তম বৈঠকে অনুমোদন পায়। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন।

    বৈঠকের শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম একটি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, একটি সুসংগঠিত নীতিমালা থাকলে সরকারি ও বেসরকারি খাতে কার্যক্রম আরও সুসংহত হয় এবং লক্ষ্য অর্জনে সুবিধা হয়। নীতিমালাটি দেশের লজিস্টিকস খাতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।

    প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন, এই নীতির কারণে দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, বিদেশি বিনিয়োগ আগের তুলনায় অনেক বেশি আসবে এবং আমাদের রপ্তানি খাতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

    বর্তমানে প্রধান বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে মাঝে মাঝে পণ্য রপ্তানি করতে সময় লেগে যায় ১১ দিন পর্যন্ত। এ নীতিমালার বাস্তবায়ন হলে পণ্য পরিবহন ও পৌঁছানোর সময় কমে আসবে এবং রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ ও গতিশীল হবে।

    প্রেস সচিব জানান, ২০২৪ সালে একটি প্রাথমিক নীতি প্রস্তুত করা হয়েছিল, যা পরে মূল্যায়ন করে দেখা যায় প্রত্যাশা পূরণে সফলতা ঘটেনি। subsequently, জনপ্রশাসন সচিব এহসানুল হকের নেতৃত্বে একটি কমিটি নতুন করে এই নীতির খসড়া তৈরি করে।

    মূল লক্ষ্য হিসেবে বলে রাখা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে রেল ও নৌ পরিবহন খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে লজিস্টিকস খাতকে উন্নত ও যুগোপযোগী করা। দেশের প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার নৌপথের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

    এছাড়া, সরকার ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে, যার মাধ্যমে এই খাতকে একটি ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করা হবে। এতে শুল্ক, ফি, কাগজপত্রসহ সব কার্যক্রম ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন হবে।

    প্রধান উদ্দেশ্য হলো—আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে বিভিন্ন শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধাগুলো ধীরে ধীরে কমে যাবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে, যা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানি খাতের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি, যার জন্য এই নীতিটি ভূমিকা রাখবে।

  • ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদিত

    ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদিত

    অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক ২০২৬ সালের সরকারের সংশ্লিষ্ট ছুটির তালিকা অনুমোদন পেয়েছে। নতুন বছরে মোট ছুটির সংখ্যা নির্ধারিত হয়েছে ২৮ দিন। এর মধ্যে, সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসাবে গণ্য হবে, যা মোট ছুটির অঙ্কে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (০৬ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    সন্ধ্যায়, রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বৈঠকে ২০২৬ সালের জন্য সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে, আগের বছরের মতো, এই তালিকা নির্বাহী আদেশে এবং সাধারণ ছুটি মিলিয়ে মোট ২৮ দিন নির্ধারিত হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জন্য ছুটির তালিকা গত বছরের ১৭ অক্টোবর অনুমোদিত হয়েছিল, যেখানে মোট ছুটির সংখ্যা ছিল ২৬ দিন। এর মধ্যে সাধারণ ছুটি ১২ দিন এবং নির্বাহী আদেশের ছুটি ১৪ দিন। এই ছুটির মধ্যে পাঁচ দিন সাধারণ ছুটির এবং চার দিন নির্বাহী ছুটির মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিও ছিল।

    নতুন বছরে, ২০২৬ সালে মোট ছুটির সংখ্যা হবে ২৮ দিন। এর মধ্যে সপ্তাহের শনি ও শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে ৯ দিন। মূল ছুটির সংখ্যা হিসেবে গণ্য হবে ১৯ দিন।

  • পাকিস্তান থেকে পাখির খাদ্যের আড়ালে নিষিদ্ধ পণ্য আসার চেষ্টা

    পাকিস্তান থেকে পাখির খাদ্যের আড়ালে নিষিদ্ধ পণ্য আসার চেষ্টা

    পাকিস্তান থেকে দুইটি কনটেইনারে ৩২ টন পাখির খাবার আনার পরিকল্পনা ছিল। তবে সেই চালানে লুকানো ছিল ২৫ টন পপি বীজ, যা আমদানির জন্য নিষিদ্ধ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের কাস্টমস কর্মকর্তারা এই চালানটি শনাক্ত করে জব্দ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম কাস্টমস। পপি বীজ অঙ্কুরোদগমের জন্য উপযোগী এবং ক ‘শ্রেণির মাদক হিসেবে বিবেচিত। এটি মূলত পাখির খাদ্য হিসেবে পাকিস্তান থেকে আনা হচ্ছিল।

    চট্টগ্রামের কোরবানিগঞ্জে অবস্থিত মেসার্স আদিব ট্রেডিং এই চালানটি আমদানি করে। এর নথিতে ছিল ৩২ টন পাখির খাদ্য। ৯ অক্টোবর এই দুই কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয় এবং পরে খালাসের জন্য ছাবের আহমেদ টিম্বার কোম্পানি লিমিটেডের বেসরকারি ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়।

    এরই মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা চালানের খালাস স্থগিত করে പരിശോധന শুরু করেন। ২২ অক্টোবর দু’টি কনটেইনার খোলা হলে নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় পপি বীজের পাশাপাশি ৭ টন পাখির খাবার পায় কাস্টমস। দেখা যায়, মুখের পাখির খাদ্য হিসেবে যেন পপি বীজের পাত্র গোটানো হয়। পপি সিডকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে ধরা হয় এবং এটি দেশের আমদানি-নিষিদ্ধ পণ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তবে দেশে পপি সিডকে ‘পোস্তদানা’ মসলা হিসেবে রান্নায় ব্যবহৃত হয়।

    চালানটির ঘোষিত মূল্য ছিল ৩০ লাখ ২ হাজার ৪৮২ টাকা, কিন্তু পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যটির বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে জড়িত ব্যক্ত বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • অ্যাটর্নি জেনারেল জানালেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হবে

    আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান। তিনি এ কথা বলেছেন চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলাকালে, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য ৯ম দিনের আপিল শুনানিতে এই মন্তব্য করেন তিনি।

    অপরদিকে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষের শুনানি আজ শেষ হয়েছে। এই দিন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি হয়। উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এর আগে, বুধবার প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এই বিষয়ে তিনি বক্তব্য দেন।

    শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল উল্লেখ করেন, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়টি বাতিল হওয়া দরকার। তিনি বলেন, রায়ের পরিবর্তন প্রয়োজন, কারণ সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের সিদ্ধান্তের ফলে দণ্ডনীয় অপরাধ হয়েছে।

    গত ২৭ আগস্ট, সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের ওপর পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন মঞ্জুর করেন এবং আপিলের অনুমতি দেন। এরপর বিভিন্ন পক্ষ, যেমন ড. বদিউল আলম মজুমদার সহ আরও পাঁচজন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার, আপিল করেন।

    অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত ২০১১ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে আপিল বিভাগে নেওয়া রায়ের মধ্যে রয়েছে, যেখানে এ বি এম খায়রুল হক পদত্যাগের জন্য রায় দেন। এই রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়।

  • আট দলের প্রতিনিধি যমুনায় স্মারক লিপির জন্য গেলেন

    নির্বাচন কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ দফা দাবি পথ্য নিয়ে সোমবার সকালে আয়োজন করা হয় এক বর্ণময় গণজমায়েত। এই সমাবেশের মাধ্যমে আটটি ইসলামী দল তাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর প্রতি সরকার ও সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিল। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে উদ্বিগ্ন মুখে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা। এই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য রূপায়ন নিশ্চিত করা। বিশেষ করে, জুলাইয়ে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি এবং এর ওপর ভিত্তি করে ঐচ্ছিক গণভোটের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি ছিল অন্যতম।”

  • চট্টগ্রামে আবার গুলিবিদ্ধ বিএনপির পাঁচ কর্মী, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

    চট্টগ্রামে খুব দ্রুতই আবারো বন্দুকের গুলির শব্দ শুনলাম। এই ঘটনার ফলে বিএনপির পাঁচজন কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা খুবই গুরুতর এবং আশঙ্কাজনক। বুধবার (৫ নভেম্বর) মধ্যরাতে রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের কোয়েপাড়া চৌধুরী পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল্লাহ সুমন, ইসমাইল, খোরশেদ, রুবেল ও সোহেল। স্থানীয়রা জানায়, দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল ও একটি গাড়িতে করে এসে যেনো এক সমবেত আতঙ্ক তৈরি করে গুলি চালায়। পরে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। গুলিবিদ্ধরা স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে; এর মধ্যে সুমনের বুকের মধ্যে গুলি লেগেছে, এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন। রাউজান–রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। গুলির ঘটনায় তদন্ত চলছে, আর খতিয়ে দেখা হচ্ছে আহতদের পরিচয় ও হামলার কারণ।’ এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর পুলিশ অনেক দেরিতে উপস্থিত হয় এবং হামলাকারীরা আগেই পালিয়ে যায়। এই রাতের গুলির ঘটনায় পুরো কোয়েপাড়া এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। এর আগে একইদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগে গুলিবিদ্ধ হন। এই সময় গুলির আঘাতে তার সঙ্গে থাকা এক কর্মী সরোয়ার বাবলা নিহত হন। বিএনপি প্রধান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুত অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগের সময় গুলির ঘটনায় সরকার কঠোর বিবৃতি দিয়ে বলে, এ ঘটনা একটি পরিকল্পিত অপরাধ, জড়িতদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই রাতে আবারো সংঘটিত হলো গুলির ঘটনা, যা এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

  • দুই বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস, তাপমাত্রা কমবে

    দুই বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস, তাপমাত্রা কমবে

    বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অংশে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতর আজ বুধবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে আগামী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানিয়েছেন, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন মায়ানমার উপকূলে অবস্থানরত লঘুচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপান্তরিত হয়েছে। এই ঘনীভূত লঘুচাপ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে অবস্থান করছে। এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

    তিনি আরও বলছেন, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশ কটি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অংশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া বেশ শুষ্ক থাকতে পারে।

    সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা একটু কমে ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও, অন্যান্য বিভাগে তা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, তবে সারাদেশে আবহাওয়া বেশ শুষ্ক থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    শুক্রবার (৭ নভেম্বর) থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক দিন ধরে, আংশিক মেঘলা আকাশসহ দেশের আবহাওয়া বেশিরভাগ সময় শুষ্ক থাকতে পারে। রাত আর দিনের তাপমাত্রা সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।

    বিশেষ করে শনিবার ও রোববার (৮ ও ৯ নভেম্বর) সময়েও আবহাওয়া বেশিরভাগ সময় শুষ্ক থাকবে, তবে রাতে ও দিনে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানিয়েছে, পরবর্তী পাঁচদিনে রাত ও দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এই সময়ে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।