Author: bangladiganta

  • কেন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে দ্রুত ফিরতে বলছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো?

    কেন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে দ্রুত ফিরতে বলছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো?

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের আগেই বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদেরকে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

    সম্প্রতি ইমেল বার্তার মাধ্যমে তাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প জয়লাভের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের মধ্যে এমনিতেই দিন দিন উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হঠাৎ এমন সতর্কবার্তায় অনেকে রীতিমত চিন্তায় পড়ে গেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো ডেনভারের অধ্যাপক ক্লোই ইস্ট ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, ‘বিদেশি সব শিক্ষার্থীরা এখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে’।

    রিপাবলিকান পার্টির নেতা ট্রাম্প এবার ক্ষমতায় বসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ কাজে সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    এই অভিযানের ফলে যারা বেকায়দায় পড়তে পারেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

    অভিবাসী ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা ‘হায়ার এড ইমিগ্রেশন পোর্টালে’র তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বর্তমানে চার লাখেরও বেশি।

    যদিও ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনে কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়ে বলছেন, অনথিভুক্ত অভিবাসীদের রাখার জন্য তারা বড় ধরনের আবাসনের ব্যবস্থা করবেন।

    ট্রাম্পের হবু প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে তারা নির্বাসনের তালিকায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য বিশাল হোল্ডিং সুবিধা তৈরি করবে।

    অভিজ্ঞ অভিবাসন কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘সীমান্ত জার’ টম হোম্যান বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ভয়ঙ্কর অপরাধী ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি- এমন মানুষজনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়নের বিষয়ে অগ্রাধিকার দিবেন।

    সে হিসেবে শিক্ষার্থীদের খুব একটা ভয় পাওয়ার কথা না বলা হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েই গেছে।

    অধ্যাপক ইস্ট বলছেন, অভিবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তার ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা এখন ভীষণ চাপে রয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাবেন কি না, সেটি নিয়েও এখন অনেক শিক্ষার্থী চিন্তায় রয়েছেন।

    নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগামী ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা নিবেন। ফলে তার আগেই নিজেদের বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের শীতকালীন ছুটি কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষগুলো বলছেন, ২০১৬ সালে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার অভিজ্ঞতার থেকেই অফিস অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স সতর্কতা হিসেবে এই পরামর্শটি দিচ্ছে।

    উল্লেখ্য, প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০১৭ সালে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ থেকে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যেখানে বেশ কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশ ছাড়াও উত্তর কোরিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকদেরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

    প্রথম দফায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু কঠোর নিয়ম চালু করার প্রস্তাব করেছিলেন রিপাবলিকান এই নেতা।

    ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের মতো ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটিও তাদের বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ২০ জানুয়ারির আগে ক্যাম্পাসে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

    অন্যদিকে, ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে একটি ওয়েবিনার পর্যন্ত আয়োজন করতে দেখা গেছে, যেখানে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

    কঠোর অভিবাসন নীতির মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে চালু হওয়া একটি কর্মসূচির ইতি টানতে চাচ্ছেন, যে কর্মসূচিটি শিশু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে এতদিন সুরক্ষা দিয়ে আসছিলো।

    বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এখন তাদের পড়াশোনা ও একাডেমিক কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন, তাদেরই একজন হলেন ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের আর্লহাম কলেজে অধ্যয়নরত জাপানি নাগরিক অই মায়েদা।

    অই মায়েদা বলেন, ২০২৬ সালের মে মাসে আমার স্নাতক পাস করার কথা। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে যে, আমাদের জন্য মার্কিন প্রশাসন একটু বেশিই বিপজ্জনক হতে চলেছে। পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়ে সামনে ভালো কিছু হওয়ার বিষয়ে আমি খুব একটা আশাবাদী না।

    তিনি আরও বলেন, (ট্রাম্প) বলেছেন যে, তিনি শুধুমাত্র অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চান, কিন্তু বেশ কয়েকবার তাকে এর বাইরেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টা চালাতে দেখা গেছে। কাজেই আমি মনে করি, তার এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় প্রভাব পড়তে পারে, যার ফলে তাদেরকে নিজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়াও বেশ সহজ হয়ে যাবে।

  • উত্তাল পাকিস্তান, শান্ত থাকার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

    উত্তাল পাকিস্তান, শান্ত থাকার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

    পাকিস্তানে পিটিআই সমর্থকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তান সরকারের প্রতি মানবাধিকার রক্ষার পাশাপাশি সংবিধান মেনে চলারও তাগিদ দিয়েছে ওয়াশিংটন। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের

    সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমরা পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানাই এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের পরামর্শ দেই।

    একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দাবি জানাতে এবং সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানান এ মার্কিন কর্মকর্তা।

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে গত ২৪ নভেম্বর থেকে বিক্ষোভ করছেন তার সমর্থকরা। সোমবার রাতে পিটিআই এর বিক্ষোভ মিছিল ইসলামাবাদে প্রবেশ করলে শ্রীনগর হাইওয়েতে একটি গাড়ির আঘাতে চার রেঞ্জার্স ও দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন।

    ওই বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর। তার নেতৃত্বে খাইবার পাখতুনখোয়া, হাজারা, ডিআই খান এবং বেলুচিস্তান থেকে আসা মিছিল একত্রিত হয়ে ইসলামাবাদের হাকলা ইন্টারচেঞ্জে প্রবেশ করে। বিক্ষোভে যোগ দেন পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার স্ত্রী বুশরা বিবি এবং দলের শীর্ষ নেতারাও।

    তবে বিক্ষোভ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তানি রাজধানীতে প্রবেশের পথে একাধিক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করে।

    তবে গাড়ির ধাক্কায় একাধিক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হওয়ার পরপরই ইসলামাবাদে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে ‘শুট-অ্যাট-সাইট’ (দেখামাত্র গুলি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

    এ অবস্থায় পিটিআই’কে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম না করতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। তবে ইসলামাবাদে সমাবেশের বিষয়ে এখনো অনড় ইমরান সমর্থকরা। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ডি-চক পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বুশরা বিবি।

    এর আগে এক দফা আলোচনায় বসেছিলেন সরকার ও পিটিআই প্রতিনিধিরা। এতে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন আমির মুকাম, আয়াজ সাদিক ও মোহসিন নকভি। পিটিআইর পক্ষে ছিলেন আসাদ কায়সার, শিবলী ফারাজ ও ব্যারিস্টার গওহর। তবে আলোচনা থেকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

  • আ.লীগ ক্ষমতায় থেকে শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে

    আ.লীগ ক্ষমতায় থেকে শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে

    আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবার দেশের শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা শেয়ারবাজার থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও এসব লুটপাটের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার কখনোই ব্যবস্থা নেয়নি।

    সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

    পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও সুরক্ষায় আগামীর করণীয় বিষয়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের কো-অর্ডিনেটর এস এম ইকবাল হোসনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জমান রতন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অর্থনৈতিক সমন্বয়ক দিদারুল আলম ভূঁইয়া প্রমুখ।

    বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শেয়ারবাজার ধসে পড়ে। আওয়ামী লীগ ও লুটপাট একে অপরের সঙ্গে জড়িত। ১৬ বছরে আমরা দেখেছি কিভাবে সালমান এফ রহমানরা শেয়ারবাজারে লুটপাট করেছে। সাধারণ মানুষ পুঁজি হারিয়ে পথে বসে গেছে।

    বর্তমান অবস্থা থেকে শেয়ারবাজার উত্তরণের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠনের দাবি করেন বক্তারা।  তারা বলেন, এই কমিশনে যারা থাকবেন তারা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা চিহ্নিত করবেন এবং সমাধান করবেন।

  • বিনিয়োগ কমায় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে

    বিনিয়োগ কমায় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে

    চট্টগ্রাম পয়ঃনিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নসহ ৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৯১৫ কোটি ৯৯ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ১ হাজার ৯৫ কোটি ৯৪ লাখ, বৈদেশিক সহায়তা ৪ হাজার ৭৮৭ কোটি ৫০ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

    সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা এবং একনেকের চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একনেক সভা শেষে এনইসি কমিটি কক্ষ-১-এ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, আইএমইডি সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সচিব) ড. কাউসার আহমদসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

    পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, একদিকে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির। কেননা বর্তমানে অস্থিরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সুদের হার বৃদ্ধি এবং নানা আন্দোলনের কারণে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে না। অন্যদিকে যদি সরকারি বিনিয়োগও কমে যায়, তাহলে অর্থনৈতিক মন্দা হতে পারে। এজন্য আমরা আজ (সোমবার) সব মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিচ্ছি যে, চলমান প্রকল্পগুলো দুর্নীতিমুক্তভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। যাতে উন্নয়নে গতি ফিরে আসে। এছাড়া প্রকল্পে দুর্নীতি হলে এর দায় মন্ত্রণালয়কেও নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন প্রকল্প নিয়ে বিশেষ সতর্কতা আছে। কেননা আমরা রাজনৈতিক প্রকল্প যাতে না পাশ করি। প্রকল্পে অপচয় বন্ধ করা হচ্ছে। নতুন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে সৃজনশীল এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে এ কথা বলা যায়, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে যে বরাদ্দ আছে, সংশোধিত এডিপির সময় বেশ ভালোই কমবে। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় যা লেখা হচ্ছে, এর সবই সঠিক।

    তিনি আরও বলেন, শিগ্গিরই নির্বাচনি তোড়জোড় শুরু হবে। তখন মানুষের হাতে টাকা আসবে। অপচয় হলেও তো অর্থনৈতিক প্রবাহ ঠিক থাকবে। আগে তো উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি হলেও অর্থের প্রবাহ ঠিক ছিল। এখন তো সে অবস্থা নেই। আমরা দুর্নীতি বন্ধ করছি।

    প্রকল্প পরিচালকরা (পিডি) পালিয়ে যাওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্পের গতি কমেছে বলে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেক প্রকল্প পরিচালক ভিসিদের মতো পদত্যাগ করেছেন। আবার অনেকে পালিয়ে গেছেন। তারা এতটাই দুর্নীতি করেছেন যে, পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। যেমন- মাতারবাড়ী প্রকল্পের পিডি পালিয়ে গেছেন। যাওয়ার আগে সরকারি অনেক জিনিসপত্র বিক্রি করে গেছেন। এখন নতুন প্রকল্প পরিচালক দিতে হচ্ছে।

    ঢাকা শহরে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে মানুষ অতিষ্ঠ, এর সমাধান কোথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, শুধু ছাত্রই নয়, শ্রমিক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলন করছে। বহু সংগঠন ঢাকা শহরে আন্দোলন করছে। তারা সড়কের পাশে আবার কখনো সড়ক আটকে এগুলো করছে। এর সমাধান কী করে হবে, আমি তো একা সমাধান করতে পারছি না। এর আগে শিক্ষার্থীদের আহ্বান করেছিলাম, তোমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আমার কাছে এসে কথা বল। তারা কথা বলেছে। অনেক দাবি এরই মধ্যে থেমে গেছে। কারণ আমরা বলেছি ন্যায্য দাবি সমাধান করব। কিন্তু কিছু কিছু দাবি আছে যেগুলো ন্যায্য নয়, এগুলো আমরা কোনো অবস্থায়ই মানব না। ন্যায্য দাবি নয় অথচ রেললাইন অবরোধ করা হচ্ছে। যাত্রীদের আক্রমণ করা হচ্ছে। এগুলো করলে জনগণই তাদের বিরুদ্ধে যাবে, সেদিক থেকে আমরা সুবিধায় আছি। ইতোমধ্যে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে যাওয়া শুরু করেছে।

    একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন ও ক্ষমতাবর্ধন’, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব ইউনিভার্সিটিস ইন বাংলাদেশ টু প্রমোট ইয়থ এন্ট্রাপ্রেনারশিপ’ এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের ‘মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম পয়ঃনিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (ক্যাচমেন্ট-২ ও ৪), এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইমার্জেন্সি মাল্টি-সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স প্রজেক্ট (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। পাশাপাশি ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে ২টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

  • ব্যাংকে আমানত নিম্নমুখী

    ব্যাংকে আমানত নিম্নমুখী

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই ব্যাংক খাতে আমানত ছিল নিম্নমুখী। এখনো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোয় আমানতের স্থিতি কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কমেছে তারল্যের স্থিতি। সঞ্চয়কারীদের ব্যাংকমুখী করতে অনেক ব্যাংকই আমানতের সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। তারপরও ব্যাংকে আমানত প্রবাহ বাড়ছে না। বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের লুটপাটের চিত্র এখন প্রকাশ্যে এসেছে। কয়েকটি ব্যাংকে সংকট আরও বেড়েছে। ফলে তারা গ্রাহকদের নিয়মিত টাকা দিতে পারছে না।

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকে নজিরবিহীন লুটপাট এবং সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতের অস্থিরতার কারণে আমানত প্রবাহ হ্রাস পাচ্ছে। তবে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ব্যাংক খাতের কিছু সূচকের উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে আমানত হ্রাসের প্রবণতাও কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা- আগামী বছর থেকে ব্যাংক খাত স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে পারবে। তবে খেলাপি ঋণের পারদ আরও উচ্চতায় ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, জুনে ব্যাংকে আমানতের স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আমানত কমেছে ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। গত বছরের জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আমানত বেড়েছিল ২৮ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। চলতি বছরে আমানত তো বাড়েইনি, উলটো আরও কমেছে। এর মধ্যে মেয়াদি আমানত সামান্য বেড়েছে, কমেছে চলতি আমানত। জুনে চলতি আমানতের স্থিতি ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। ওই সময়ে চলতি আমানত কমেছে ১৭ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে কমেছিল ১৩ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে মেয়াদি আমানত বেড়েছিল ৪১ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের ওই সময়ে বেড়েছে ১৬ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে মেয়াদি আমানত কম বেড়েছে ২৫ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকে চলতি আমানতের প্রায় পুরোটাই ব্যবসা-বাণিজ্যের টাকা। চলতি আমানত কমা মানেই দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য কম হচ্ছে। ব্যাংকে মেয়াদি আমানত খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মেয়াদি আমানতের কারণেই একটি ব্যাংক সবল থাকে। এ আমানত বেশি হলে তারল্যের প্রবাহ বেশি থাকে।

    সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার বাড়াচ্ছে। আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত তিন দফা নীতি সুদের হার বাড়ানো হয়েছে। এর প্রভাবে ঋণ ও আমানতের সুদের হারও বেড়েছে। ব্যাংকগুলোয় এখন আমানতের সুদের হার সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশে উঠেছে। কোনো কোনো ব্যাংক জমা টাকা সাড়ে ৫ বছরে দ্বিগুণ দিচ্ছে। বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলো চড়া সুদ দিচ্ছে। কিন্তু আমানতকারীরা আস্থা রাখতে পারছে না বলে আমানত জমা রাখছে না। ব্যাংকে আমানত প্রবাহ কম থাকায় ঋণের প্রবাহেও ভাটা পড়েছে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

    এদিকে ব্যাংকগুলোয় তারল্য বেশি থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তারা বেশি আমানত জমা রাখে। কারণ, কোনো কারণে সংকট দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সেগুলো তুলে নিয়ে সংকট মোকাবিলা করে। সাম্প্রতিক সময়ে তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা আমানতের পরিমাণ কমেছে। জুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি ছিল ৯৩ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ২৬০ কোটি টাকায়। আলোচ্য সময়ে এ খাতে আমানত কমেছে ২৯ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা আমানতও তুলে নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের চাহিদা মেটাচ্ছে।

    জুনে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রেখেছিল ১২ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে এ খাতে আমানত কমেছে ২ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্যও কমেছে।

    জুনে ব্যাংকগুলোয় তারল্য ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে তারল্য কমেছে ২৭ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা।

    ব্যাংকে তারল্যের জোগান বাড়াতে সরকার ব্যাংক থেকে এখন কোনো ঋণ নিচ্ছে না। উলটো আগের নেওয়া ঋণ ব্যাংক খাতে ফেরত দিচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে সরকারের ঋণ স্থিতি কমেছিল ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ওই সময়ে তা কমেছে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। জুনে সরকারের ব্যাংক ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে স্থিতি কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকায়। তিন মাসে ঋণের স্থিতি কমেছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ওই ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকে তারল্য বেড়েছে।

    এদিকে রাজস্ব আয় ও বৈদেশিক অনুদান ছাড় কম হওয়ায় ব্যাংকে সরকারি খাতের আমানত প্রবাহ কমে গেছে। এ কারণে ব্যাংকে তারল্য কমেছে।

    এদিকে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির কারণে বাজারে টাকার প্রবাহ কমছে। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে টাকার প্রবাহ বৃদ্ধির হার ছিল নেতিবাচক দশমিক ৫৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা দশমিক ৪০ শতাংশ ঋণাত্মক হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ব্যাংক থেকে গ্রাহকরা নগদ যেসব অর্থ তুলে নিয়েছিলেন, সেগুলো এখন ফিরতে শুরু করেছে। এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। জুনে ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে জনগণের হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৯০ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে মানুষের হাতে থাকা টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ১ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকায়। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা, অক্টোবরে আরও কমে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া টাকা আবার ফেরত এসেছে ৩১ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা।

    ব্যাংকের দুরবস্থার মধ্যে আমানতকারীরা এখন সরকারি সঞ্চয়পত্রমুখী হয়েছেন। তাদের সঞ্চয়পত্র কেনার প্রবণতা বেড়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ছিল ঋণাত্মক ১ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা।

     

  • পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ

    পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রতিষ্ঠিত সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
    দেশের ব্যাংকগুলোকে এই নির্দেশা দেওয়া হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিএফআইইউ।
    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২৩(১) (গ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সূচনা ফাউন্ডেশনের পরিচালিত সব হিসাবের লেনদেন ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশনা দেওয়া হলো।
    এতে আরও বলা হয়, সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে পরিচালিত সব হিসাবের হিসাব সংক্রান্ত তথ্যাদি (হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ফরম, শুরু হতে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণী) সংযোজিত এক্সেল শিট আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে এ ইউনিটে পাঠানোর অনুরোধ করা যাচ্ছে।নির্দেশনার আওতায় লেনদেন স্থগিত করা হিসাবগুলোর ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ -এর বিধি ২৬(২) প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
    সূচনা ফাউন্ডেশন মানসিক অক্ষমতা, স্নায়বিক অক্ষমতা, অটিজম এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে কাজ করে।পুতুল ফাউন্ডেশনটির ট্রাস্টি।এ ছাড়া মুজহারুল মান্নান ও জয়ন বারী রিজভী নামে আরও দুইজন ট্রাস্টি রয়েছেন।
  • আইনজীবী সাইফুলের খুনিদের ছাড় নয়, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

    আইনজীবী সাইফুলের খুনিদের ছাড় নয়, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

    চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের সাবেক অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তার সমর্থকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম আলিফ (৩৫) নিহত হয়েছেন।

    এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সম্পাদক সারজিস আলম।

    ফেসবুকে তিনি লিখেন, ধর্মকে টুল হিসেবে ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসী সংগঠন যদি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করে তবে সেসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    তিনি আরও বলেছেন, যেই জড়িত থাকুক না কেন, খুনের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই৷ ষড়যন্ত্রকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় নয়৷ বেশি ছাড় পেলে মাথায় ওঠে নাচবে। উগ্রপন্থির বিচার তার ধর্ম দেখে হয় না, উগ্রপন্থিতা দেখে হবে।

    এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে চিন্ময় কৃষ্ণকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আদালতের বিচারক কাজী শরিফুল ইসলামের আদালত তোলা হয়। পরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    তবে কারাগারে নিতে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তুললে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করতে থাকে চিন্ময় কৃষ্ণের অনুসারীরা। বেলা পৌনে ৩টার দিকে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর থেমে থেমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে চিন্ময় অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহতও হন। পরে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পর তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।

    এসময় পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। আদালত ভবন থেকে নেমে আসার সময় তারা সড়কের দুই পাশে রাখা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনার পর ওই এলাকার পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে।

  • চিন্ময়ের ‘উগ্র’ অনুসারীদের থামাতে সরকারের প্রতি আহ্বান আহমাদুল্লাহর

    চিন্ময়ের ‘উগ্র’ অনুসারীদের থামাতে সরকারের প্রতি আহ্বান আহমাদুল্লাহর

    চট্টগ্রামে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রামে এখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    আইনজীবী হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘তরুণ আইনজীবী সাইফুল ইসলামের নৃশংস হত্যাকারীদের দ্রুততার সাথে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা সরকারের আশু কর্তব্য। দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাওয়া উগ্রদের থামানোর ব্যাপারে কোনোরূপ দ্বিধা করা যাবে না।’

    এই প্রতিকূল সময়ে সবাইকে ধৈর্যধারণ করার আহ্বান জানিয়ে আহমাদুল্লাহ যোগ করেন, ‘সেই সাথে সর্বস্তরের মুসলিমদের বলব, সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করুন। কোনো প্রকার চক্রান্তের ফাঁদে পা দেওয়া সমীচীন হবে না।’

    প্রসঙ্গত, সোমবার (২৫ নভেম্বর) চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার একদল অনুসারী রাজধানীর ডিবি কার্যালয়ে সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে।

    জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়। সে মামলাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

  • দেশবাসীর প্রতি জরুরি বার্তা হাসনাত আব্দুল্লাহর

    দেশবাসীর প্রতি জরুরি বার্তা হাসনাত আব্দুল্লাহর

    দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক ও ধৈর্য ধারণ করতে আহ্বান জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

    মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

    হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেন, ‘সারাদেশের সকল সাধারণ জনগণকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করছি। আপনারা ধৈর্য ধরুন, শান্ত থাকুন। নিজেরা আইন হাতে তুলে নিয়ে দয়া করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করবেন না। আমাদের বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ। আমরা কোনোভাবেই আমাদের এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে দিব না।’

    তিনি আরও লিখেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকেই একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আমাদের দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার জন্য ক্রমাগত চক্রান্ত করেই যাচ্ছে। দয়া করে নিজেরা নিজেরা কোন্দলে জড়িয়ে কুচক্রী এই মহলের হীন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের পথ তৈরি করে দিয়েন না।’

    হাসনাত বলেন, ‘চট্টগ্রামে অ্যাডভোকেট সাইফুলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে, বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট সংগঠন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলে সে সংগঠনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আপনারা শান্ত থাকুন, সতর্ক থাকুন, ধৈর্য ধরুন।’

  • চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে কলকাতায় বিক্ষোভ

    চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে কলকাতায় বিক্ষোভ

    ঢাকায় গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিজেপির বিধায়করা।

    ‘চিন্ময় মহাপ্রভুর নিঃশর্ত মুক্তি চাই’- এমন পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে তাদের।বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

    শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা।’

    তিনি বলেন, ‘সারা পৃথিবীর সব হিন্দুদের ঐকবদ্ধ হতে হবে। আজ কলকাতায় বিজেপি বিধায়করা বিক্ষোভ দেখালেন। তবে বাংলাদেশে যদি হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার অতিসত্বর বন্ধ না হয় তাহলে আমরা আরও জোরালো বিক্ষোভ শুরু করব।’

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে সমাবেশ করে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এই মঞ্চেরও মুখপাত্র। ওই সমাবেশের পরপরই চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ ওঠে।এরপর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ এনে গত ৩১ অক্টোবর বিএনপি নেতা ফিরোজ খান (পরে বহিষ্কৃত) বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে দায়েরকৃত এ মামলায় চিন্ময় দাসসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়।

    ওই মামলায় গতকাল (২৫ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।পরে তাকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।আজ (২৬ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম ৬ষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলামের আদালতে তাকে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।

    অপরদিকে তার পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তার জামিন ও রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।