জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুরো রোডম্যাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) মনে করছে, রোডম্যাপ এই রোববার বা সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা সম্ভব। এই খবর দিয়েছেন ইসির ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোঃ সানাউলাহ। বৃহস্পতিবার ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয় ব্রিফিং ভবনে। বৈঠকের বিরতিতে তিনি সাংবাদিকদের জানান, “আমরা বর্তমানে আমাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করছি। বেশ কিছু বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা চালিয়ে যাচ্ছি, সুতরাং আজই এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। প্রয়োজন হলে রবিবার বা সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের রোডম্যাপ প্রসঙ্গে রোববার বিস্তারিত ব্রিফিং করতে পারবো বলে আশা করছি।”
Author: bangladiganta
-

শর্ত পূরণ না হলে নির্বাচন নয়: জামায়াত
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন জামায়াতের নেতারা। তবে, নির্বাচনের প্রস্তুতি আরও দৃঢ় করতে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও পরিস্থিতি স্পষ্ট নয়। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এ কথা জানান। এই বৈঠকেই তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান মুসা উপস্থিত ছিলেন। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে জামায়াত সব বক্তব্যের কথা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে সন্ত্রাস ও অনিয়ম বন্ধে পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া উচিত। তারা মনে করেন, সবাই সব কিছু চাইতে পারে না, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সবার জন্য ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। জাতির কল্যাণের জন্য এই পদ্ধতি মানা জরুরি। জামায়াত মাঠে থাকবে তাদের দাবি নিয়ে এবং একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও মনোযোগ দেবে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা সামগ্রিকভাবে আলোচনা করেছি।’ তবে, পিআর পদ্ধতি ছাড়া কি জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেবে কি-না, এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি। তিনি বলেছেন, ‘সুষ্ঠু ও নির্মিত নির্বাচনের জন্য আমরা সব সময়ই সঠিক পদ্ধতির পক্ষে। এই পদ্ধতিটিও দেশ বা জাতির জন্য উপকারী মনে করি। এটি নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও ন্যায্য করার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।’ আরও বলেন, পিআর পদ্ধতিতে ভোটারদের মূল্যায়ন আরো নির্ভুল হবে। জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, তারা গ্রহণযোগ্য সব নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করেছে। বর্তমানে তারা তিনশ’ আসনে প্রার্থী দিয়ে মাঠে কাজ করছে, যাতে জনমত গঠন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়। এর পাশাপাশি, গত রোববার বিএনপি প্রতিনিধিদল নির্বাচন প্রস্তুতির অগ্রগতি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে।
-

আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের মামলায় আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিশিষ্ট সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি অপহরণ, গুম এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০১২ সালে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গেলে অপ্রত্যাশিতভাবে তার গায়েবি হয় এবং পরে তিনি নিখোঁজ হন। কিছু সময় পরে জানতে পারেন, তাকে অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে রাখা হয়েছে এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঘটনায় তিনি জানান, তাকে একটি গাড়িতে পুরো দিন আটকে রেখে মারধর চালানো হয়। এরপর রাতের আঁধারে তাকে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, বিএসএফ তাকে আটক করে দুই মাস ১৭ দিন গুম করে রাখে এবং পরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচ্ছিন্নভাবে ভারতীয় কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে প্রায় এক বছর কারাবাস করতে হয়। অভিযোগের পক্ষে তিনি মনে করেন, এই ঘটনাগুলোর পেছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রয়েছে। তাঁর আইনজীবী উল্লেখ করেন, মক্কেল কোনো অন্যায় করেননি, বরং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন অফিস জানিয়েছে, এই অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে আইনানুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সাক্ষ্য দিতে এসে সুখরঞ্জন বালি নিখোঁজ হন। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে জানা যায়, তাকে ভারতের একটি কারাগারে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ বছর নিখোঁজ থাকার পরে তিনি দেশে ফিরে আইনি লড়াই শুরু করেছেন, বিশ্বাস করেন এই ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি হওয়া দরকার। তিনি আশা করছেন, এই ঘটনা সরেজমিন তদন্ত ও বিচার পাবে এবং তার অধিকার ফিরিয়ে আনা হবে।
-

ইসির ইউটিউব চ্যানেল উদ্বোধন ও এআই বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বার্তা
নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল উদ্বোধন করেছে, যা দিয়ে জনগণের কাছে নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য সহজে ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিয় করে সংস্থার জনসংযোগ শাখা জানায় যে, এই চ্যানেলের মাধ্যমে জনগণ ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচন সময়সূচী, প্রার্থীর দায়িত্ব ও নির্দেশনা, এবং ভোটারদের কর্তব্য সম্পর্কিত সম্যক তথ্য পাবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এই চ্যানেলের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা এই চ্যানেলটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করছি। এর মাধ্যমে আমরা নির্বাচন সম্পর্কিত সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজ, বিশদ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো বিশেষ করে নারী, যুব সমাজ, প্রতিবন্ধী এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতায় যোগান দেওয়া, যাতে তারা দেশের গণতন্ত্রে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোটদান ও ভোটার দায়িত্ব পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এ জন্য সবখানে স্বচ্ছতা ও আস্থা বজায় রাখতে হবে।
সিইসি আরও বলেন, ‘আমাদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অপব্যবহার। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য, বিভ্রান্তি ও বানোয়াট ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। আমি প্রত্যেককে অনুরোধ করবো, কোনো তথ্য বিশ্বাস করার আগে সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে নিন। তথ্য শেয়ার করার আগে যথাসম্ভব সত্যতা নিশ্চিত করুন। আমাদের এই চ্যানেলটি নিয়মিত দেখুন, সাবস্ক্রাইব করুন, এবং সত্য ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ওপর গুরুত্ব দিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াতেও সক্রিয় কিছু প্রচেষ্টা রুখতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ফেসবুক পেজেও আপনি পাবেন নির্ভরযোগ্য নির্বাচন সম্পর্কিত তথ্য। আসুন, আমাদের এই উদ্যোগে অংশ নিন এবং দেশের গণতন্ত্র সচেতনভাবে শক্তিশালী করতে একসাথে কাজ করি।
-

পূর্বাচলে সাগর-রুনির ছেলে মেঘের জন্য জমির দলিল হস্তান্তর
নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘের কাছে পূর্বাচলের তিন কাঠা জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই জমির দলিল হাতে তুলে দেন।
সাংবাদিক সাগর সরওয়ার এই জমিটার জন্য ২০০৪ সালে আবেদন করেছিলেন, এবং ২০০৫ সালে এই প্লটের বরাদ্দ পান। তবে, ২০০৯ সালে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরও বর্তমান সরকার তার পরিবারকে জমি বুঝিয়ে দেয়নি। বর্তমানে এই জমির মালিকানা সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির ও তার ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘের।
দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে খোঁজ নেন। তিনি বলেন, এর দীর্ঘসূত্রতা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরী করে, যা ন্যায়ের পথে অগ্রগতি ব্যাহত করে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেন।
এছাড়াও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার ফলে অনেক আলামত নষ্ট হয়ে গেছে বলে পূর্বের তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই জানিয়ে এসেছে। এই সময়, মেঘ তাঁর নিজ হাতে ডিজাইন করা একটি জার্সি ও ব্যাগ প্রধান উপদেষ্টাকে উপহার দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার, ফরিদা আখতার, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াজুল ইসলাম এবং মেহেরুন রুনির ভাই নওয়াজেশ আলম রোমান।
-

ঢাবির ১৮ হলে ২০৫ প্রার্থীর নাম ঘোষণা ছাত্রদলের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্যানেল ঘোষণা করার পর এবার ১৮টি হলে ছাত্রদল তাদের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে। বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে দলটি এই প্যানেলের ঘোষণা দেয়, যেখানে মোট ২০৫ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
প্রতিটি হলে বিভিন্ন পদে প্রার্থী তালিকা如下:
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সাংসদে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে সহ-সভাপতি হিসেবে তরুণ নেতা মো. জাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জোবায়ের হোসেন, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রিজভী আলম, সাহিত্য সম্পাদক রায়হান আহমেদ সিব্বির, সংস্কৃতি সম্পাদক হারুন অর রশিদ, পাঠকক্ষ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলাম, ইনডোর গেমস সম্পাদক রবিউল ইসলাম ইভান, আউটডোর গেমস ও ক্রীড়া সম্পাদক বিশ্বাস মো. ফাহাদ, সমাজসেবা সম্পাদক মো. মিফতাহুল ইসলাম, এছাড়া সদস্য হিসেবে তৌফিকুল ইসলাম প্রতীক, ইফতেখার হাসান রাদ, শাহরিয়ার মোস্তাক দিদার ও আদনান শাহরিয়ার প্রার্থী হচ্ছেন।
কবি জসীমউদ্দীন হলের সংসদে ১৩ সদস্যের কমিটিতে সহ-সভাপতি মো. আব্দুল ওহেদ, সাধারণ সম্পাদক সিফাত ইবনে আমিন, সহকারী সম্পাদক মোহতাসিম বিল্লাহ হিমেল, সাহিত্য সম্পাদক রাফি আহম্মেদ উৎস, সংস্কৃতি সম্পাদক মো. মুনতাসির, পাঠকক্ষ সম্পাদক সাফায়াত আহসান, ইনডোর গেমস তানজিম সাকিব, আউটডোর গেমস ও ক্রীড়া আদিল মাহমুদ, সমাজসেবা সম্পাদক আরিয়ান চৌধুরী, নতুন সদস্যরা হৃদয় ভূঁইয়া, মো. হাসান, মো. তানজিউর রহমান (হিশাম) ও নাহিদুল আলম।
মাস্টারদা সূর্যসেন হলের ১১ সদস্যের প্যানেলে সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, সাধারণ সম্পাদক লিয়ন মোল্যা, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সামিউল আমিন গালিব, সাহিত্য সম্পাদক সিদরাতুল মুনতাহা আলিফ, সংস্কৃতি সম্পাদক সাব্বির হাসান, পাঠকক্ষ সম্পাদক শাকিল আহাম্মেদ, ইনডোর গেমস নাজিম উদ্দিন, আউটডোর গেমস ও ক্রীড়া শাদমান সাকিব, সমাজসেবা সম্পাদক শিপন মিয়া, পাশাপাশি সদস্যরা রয়েছেন লিমন মেজর লিংকন, মো. সুমন হোসাইন, জাওয়াদ আহমেদ শিকদার ও যুহাম পাশা।
বিজয় একাত্তর হলের প্রার্থীরা যথাক্রমে: সহ-সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. সাকিব বিশ্বাস, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সুলতান মো. সাদমান সিদ্দীক, সাহিত্য সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, সংস্কৃতি সম্পাদক মুহাম্মদ ইকবাল মাহমুদ, পাঠকক্ষ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ, ইনডোর গেমসের সম্পাদক শাহরিয়ার ইসলাম হৃদয়, আউটডোর গেমস ও ক্রীড়া বিভাগের ফাহিম আহমেদ, সমাজসেবা সম্পাদক ইমতিয়াজ রনি।
শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রার্থীরা রয়েছেন সহ-সভাপতি সাইফ আল ইসলাম দীপ, সাধারণ সম্পাদক রিনভী মোশাররফ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আজীম, সাহিত্য সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিন, সংস্কৃতি সম্পাদক সাদমান সাকিব শাওন, পাঠকক্ষ সম্পাদক নাফি বিন মামুন, ইনডোর গেমসের শাকিল আহামেদ, আউটডোর গেমসের শাদমান সাকিব, সমাজসেবা সম্পাদক মো. তৌহিদুর রহমান তাহসিন।
অপর প্রার্থীরা অন্য হলগুলোতে নিজেদের পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন, প্রতিটি হলের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের তালিকা ও বিস্তারিত সেখানে খুঁজে পাবেন। বাংলাদেশে এই প্রক্রিয়া চলার সময় প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমজমাট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
-

বাগছাসের ডাকসু প্যানেল ঘোষণা: ভিপি পদে আব্দুল কাদের, জিএস আবু বাকের
আজ বুধবার (২০ আগস্ট) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে। এই প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে লড়বেন ঢাকা গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, আর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার।
সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’। প্যানেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, যারা এ আন্দোলনে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা-ও উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্তভাবে, সংগঠনটির মুখপাত্র আশরেফা খাতুন ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হচ্ছেন। এই নির্বাচনে বাগছাসের পক্ষ থেকে ২৮টি পদের মধ্যে ২৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক পদটি জুলাই আন্দোলনে আহত সানজিদা আহমেদ তন্বীর জন্য খালি রাখা হয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এমন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে:
– মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক: মো. হাসিবুল ইসলাম
– বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক: আহাদ বিন ইসলাম শোয়েব
– কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক: মিতু আক্তার
– আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক: মোহাম্মদ সাকিব
– সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: নাহিয়ান ফারুক
– ক্রীড়া সম্পাদক: আলামিন সরকার
– ছাত্র পরিবহন সম্পাদক: মো. ইসমাইল হোসেন রুদ্র
– সমাজসেবা সম্পাদক: মহির আলম
– গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক: আহত সানজিদা হক তন্বী
– ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক: রেজোয়ান আহমেদ রিফাত
– স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক: সাব্বির আহমেদ
– মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক: আনিকা তাহসিনাএছাড়া, সদস্য হিসেবে রয়েছেন: মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান, ফেরদৌস আইয়াম, ইসমাইল জবিউল্লাহ নাহিদ, তাপসী রাবেয়া, আরমানুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, রিফতি আল জাবেদ, আশরাফ অনিক, রওনক জাহান, মাহফুজা নওরিন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আরিফুর রহমান ও ফেরদৌস আলম।
আগামী নির্বাচন বা প্যানেল ঘোষণা নিয়ে এর আগে ওই দিন দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক সংবাদ সম্মেলন করে প্যানেলটি ঘোষণা করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
-

১৫ জুলাই আহত তন্বির জন্য ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি প্যানেলগুলো
গত বছর ১৫ জুলাই ঢাবি ছাত্রলীগের হামলায় আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী সানজিদা আহমেদ তন্বি। এই ঘটনা ঢাকার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এবার ডাকসু নির্বাচনে তিনি গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদকের পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তার সম্মানে, এই পদে কোনও প্রার্থী দেয়নি ছাত্রদল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদসহ মোট পাঁচটি প্যানেল। এরা হলো- বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিরোধ পর্ষদ, জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ এবং মাহিন সরকার নেতৃত্বাধীন সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ, এবং অপরাজেয় ৭১ প্যানেল। বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের প্যানেল ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, এই পদে তন্বির প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের সংগঠনের কেউ মনোনয়ন দেয়নি, বরং ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাকে সম্পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হবে। এর আগে, গত সোমবার ফেসবুকে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের এক পোস্টে জানান, এই পদে তাদের প্যানেলে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, তন্বি আমাদের জুলাইয়ের বিক্ষোভ ও প্রতিরোধের প্রেরণা; তাই গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদকের পদটি শূন্য রাখা হয়েছে এবং তার প্রতি সার্বিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তবে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা না দিলেও জানা গেছে, প্রতিরোধ পর্ষদ এই পদটি তন্বির জন্য ছেড়ে দিতে পারে। সূত্র জানায়, প্রথমে প্যানেলটি গবেষণা ও প্রকাশনাবিষয়ক অধ্যায়টি বাতিল করতে চায়, যেখানে মনোনীত প্রার্থী সদস্য পদে স্থানান্তর করা হবে। অন্যদিকে, জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ নেতৃত্বাধীন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকারের নেতৃত্বাধীন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেল থেকেও এই পদে কাউকেই মনোনয়ন দিচ্ছে না। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খালিদ। এছাড়া, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ) এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সমন্বয়ে গঠিত ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ প্যানেলেও এই পদে কোনও প্রার্থী নেই। বুধবার দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়, যেখানে ব্যক্তিগত বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা। তিনি বলেন, ১৫ জুলাই ঢাবি ছাত্রলীগের হামলায় আহত তন্বির জন্য এই পদে কোনও প্রার্থী ছিল না। অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা তার ফেসবুক পোস্টে তন্বিকে শুভকামনা জানিয়েছেন। তবে, তিনি কোনও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন সম্পর্কে এখনও কিছু জানাননি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের’ সাজ্জাদ হোসাইন খান এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের প্যানেল থেকে সিয়াম ফেরদৌস ইমন এই পদে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় থাকবেন। অন্যান্য সংগঠনের ঘোষণা আসলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেন তন্বি, তিনি কোনও প্যানেলে যোগ না দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করবেন বলেও নিশ্চিত করেছেন। এর কারণ, গবেষণার অভিজ্ঞতা, কাজ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার জন্য এই পদে নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্য তার। তিনি আরও বলেছেন, গবেষণায় শিক্ষার্থীদের জন্য তহবিল নিশ্চিত, বিভিন্ন জার্নালের অ্যাক্সেস দান, কর্পোরেট ও এনজিওর সঙ্গে সমন্বয় করে গবেষণা অর্থ সংগ্রহ, মানসম্পন্ন গবেষণার স্বীকৃতি ও সভা-সেমিনারে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার মাধ্যমে গবেষণাকে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তার লক্ষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণায় বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা।zochtinvestigatetime.atansearchutzungassistinggroupjson.}
-

জামায়াতের হুঁশিয়ারি: পিআর পদ্ধতি না মানলে কক্ষ দুটিতেই আন্দোলন
নতুন বাংলাদেশ গঠনে সম্প্রতি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত করেছে এবং তা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠিয়েছে। তবে সংবিধানে পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পারিপার্শ্বিক পরিবর্তনের ওপর বড় বড় রাজনৈতিক দলের মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দেশের প্রধানদলের একজন হিসেবে জামায়াতে ইসলামি সম্প্রতি ভোটের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালুর দাবি তুলেছেন। এই দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা আগামী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের দাবি, পিআর পদ্ধতি চালু হলে দেশের জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে এবং সেবার মাধ্যমে দুর্নীতি কমে আসবে। দলের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, পিআর ছাড়া সত্যিকার নির্বাচন হবে না। এজন্য দলটির সর্বশক্তি দিয়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রচেষ্টা চালানো হবে। অন্যদিকে, দলের আরেক নেতা ডাঃ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তারা মত প্রকাশ করেন, শুধু উচ্চকক্ষের পরিবর্তে নিম्नকক্ষণেও পিআর পদ্ধতি জরুরি, কারণ এতে সরকারের পরিচালনা আরও ভালো হবে।
জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন পূরণের জন্য নির্বাচনের আগে প্রয়োজন সংস্কার ও পরিবর্তন। তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনকে ইতিবাচক বলে মনে করেন। সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, এই সংস্কার ও পরিবর্তনের জন্য আইনী ভিত্তি তৈরি করতে হবে। এই ভিত্তির ওপরেই ভবিষ্যতের ভোট হবে। বাৎসরিক সংস্কার বা পরিবর্তন ছাড়া নির্বাচন সম্পন্ন হলে তা দেশের পরিস্থিতি আগের মতোই জাহিলিয়াতের দিকে নিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
অপরদিকে, জামায়াতের নেতারা মনে করেন, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না এবং এর মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না। ফলে, তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দেন, যদি বর্তমান ডাকা সংস্কার না মানা হয়, তাহলে কক্ষ দুটিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এই অবস্থায় তারা আশঙ্কা করছেন, পরিবেশ উত্তপ্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে।
-

বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে এক সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বৃহস্পতিবার তার ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ছয় দিনের দীর্ঘ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, দলটি আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিস্তারিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে। অনুষ্ঠানের মধ্যে থাকছে সমাবেশ, আলোচনা সভা, র্যালি, এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দলটির ‘জাতীয় উদ্যাপন কমিটির’ সভা শেষে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ৩১ আগস্ট দুপুর সোয়া দুইটায় রমনার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর সকালের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশের সকল বিএনপি কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন। তার পর দিন জাতীয় নেতা জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দলের নেতা-কর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। একই সঙ্গে সারাদেশে জেলা ও শহর ইউনিটগুলো আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালি আয়োজন করবে।
২ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল দিন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি বিশাল র্যালি বের করা হবে। ৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয় সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৪ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে সারা দেশে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বৃক্ষরোপণ, ক্রীড়া ও বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবিরের মতো জনসেবামূলক বিভিন্ন গণ-প্রোগ্রাম পালন করবে বিএনপি। ৫ সেপ্টেম্বর, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবে।
কেবল কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলোই নয়, বিএনপি’র সহযোগী সংগঠনগুলো ও মাঠে থাকা সকল ইউনিটও নিজস্ব কর্মসূচি পালন করবে বেশ যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে। এই দিনগুলোতে পারবে পোস্টার, ক্রোড়পত্র প্রকাশসহ অন্যান্য সাংগঠনিক উদ্যোগ।
প্রসঙ্গত, বিএনপি ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশান্তরে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে দলটি বেশ কয়েকবার দেশ শাসনেও ক্ষমতা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।
বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের জন্য ১৬ সদস্যের একটি ‘জাতীয় উদ্যাপন কমিটি’ গঠন করা হয়, যেখানে নজরুল ইসলাম খানকে আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব নিযুক্ত করা হয়েছে।
