ফরিদপুরে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রতিবাদে চলমান অবরোধের অবসান না ঘটালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব). আজ রোববার অনুষ্ঠিত কোর কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অবিলম্বে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করতে না পারলে পুলিশের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের সন্তোষজনক ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান না হলে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘রাস্তাঘাট অবরোধ করে জনহরানির চেষ্টা কখনও কাম্য নয়। আন্দোলনকারীদের উচিত বিষয়টি যথাযথ চ্যানেলে নিষ্পত্তি করা। দুই ইউনিয়নের লোকজনের রাস্তাঘাট অবরোধ করে হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘অবিলম্বে এই অবরোধ প্রত্যাহার না করলে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের অবরোধ তুলে দেবেন।’ এই অবরোধ কার্যক্রমটি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রতিবাদে তৃতীয় দফায় চলমান। আজ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভাঙ্গায় দুটি মহাসড়ক ও রেলপথের অন্তত ১০টি এলাকায় আন্দোলনকারীরা অবরোধ চালিয়ে যান। ইতিমধ্যেই এই আন্দোলনের কারণে পর্যাপ্ত যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অন্যদিকে, গতকাল শনিবার রাতে আন্দোলনকারীদের ‘সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ’ এর প্রধান সমন্বয়ক আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম ম সিদ্দিক মিয়াকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এই আন্দোলনের মূল সূত্রপাত গত ৪ সেপ্টেম্বর, যখন নির্বাচন কমিশন আলগী ও হামিরদি ইউনিয়নগুলোকে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সঙ্গে জোড়া দেওয়ার গেজেট প্রকাশ করে। এরপর থেকে এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে গত শনিবার বিকেলে আলগী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিন দিনের জন্য সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের ডাক দেয় সিদ্দিক মিয়া। এই আন্দোলন শুরু হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো, নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণের ওপর বিভিন্ন দলের ক্ষোভ ও বিরোধিতা। আন্দোলনকারীরা সরকারি পক্ষের এই সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে দুর্ভোগ চলতেই থাকবে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করছে।
Author: bangladiganta
-

গভীর রাতে ডিবির হাতে আটক ভাঙ্গার অবরোধের প্রধান সমন্বয়কারী
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়কারী, আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম. ম. সদ্দিকি মঞ্জিকে শনিবার গভীর রাতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করে। তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে, সাধারণ মানুষের চলাচল, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মহাসড়কে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখতে প্রশাসনকর্তৃক ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাত থেকেই মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোরালো টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি, মহাসড়কে দুটি সশস্ত্র যান (এপিসি) এবং একটি জলকামান মোতায়েন করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে আলগী ও হামরিদী ইউনিয়ন এবং নগরকান্দার সংযোগের প্রতিবাদে স্থানীয় মানুষ কয়েক দিন ধরে মহাসড়ক অবরোধের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় ইউপি চেয়ারম্যান ম. ম. সদ্দিকি মঞ্জি তৃতীয় দফায় তিন দিনের জন্য সকাল-সন্ধ্যায় অবরোধের ঘোষণা দেন।
ভাঙ্গা থানার ওসি আশরাফ হোসেন বলেন, গভীর রাতে গোয়েন্দা পুলিশ ম. ম. সদ্দিকি মঞ্জিকে গ্রেফতার করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবাল জানান, জন সাধারণের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসন সমস্ত ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ভোর থেকে মহাসড়কে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, র্যাব এবং পুলিশের অন্তত একহাজার সদস্য টহল দিচ্ছে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
-

সরকারের পরিকল্পনা: বয়স্ক কারাবন্দীদের মুক্তির উদ্যোগ
সরকার বয়স্ক এবং দীর্ঘ সময়ের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিদের মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করছে। আজ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকের শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, বেশি বা বয়স্ক কয়েদিদের ক্ষেত্রে যেন অপরাধের আকার এবং তাদের শাস্তির ব্যাপকতা বিবেচনায় নেওয়া হয়। বিশেষ করে, যেখানে কারাদণ্ড দীর্ঘ বা বয়স বেশি, সেখানে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা হবে। এছাড়াও নারীদের জন্য সাজার সময় কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি যোগ করেন।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, ফরিদপুরের দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রতিবাদে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত এগোতে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রাস্তাঘাট অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা কাম্য নয়। অভিযোগ থাকলে এ ব্যাপারে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দরবার করতে হবে। যদি অবিলম্বে অবরোধ না তুলে নেওয়া হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবরোধ প্রত্যাহার করে দেবে।
-

সাদা পাথর লুটকাণ্ডে বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিন গ্রেফতার
সিলেটে সাদা পাথর লুটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি (পদস্থগিত) সাহাব উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। এটি ঘটেছে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে, যখন তাকে সিলেট নগরীর কুমারপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সাদা পাথর উত্তোলন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিডিয়ায় এই লুটের ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, যার ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে তোলপাড় শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশব্যাপী পাথর লুটের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে র্যাবের গোপন গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়।
শনিবার রাতে উপজেলার কুমারপাড়া এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিএসসি ও সিলেটের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালায়। এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে আলোচিত ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর লুটের মূলহোতার মধ্যে একজন সাহাব উদ্দিনকেও গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ ও কোতোয়ালি থানায় সাতটি মামলা রয়েছে। বর্তমানে তাকে কোটয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
-

সাবিনা ইয়াসমিনকে প্রদান করা হলো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা
বাংলাদেশের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হলো। গত রোববার সন্ধ্যায় এটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তনে এই মহানগরীতারা সম্মাননা প্রদান করেন। বাংলাদেশে সংগীতের জগতে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সাবিনা ইয়াসমিনের হাতে উত্তরীয় পরিয়ে ও ক্রেস্ট দিয়ে তাকে সংবর্ধনা দেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আজকে যাকে আমরা সম্মাননা দিচ্ছি, তিনি আমাদের গর্বের একজন কিংবদন্তি, সত্যিকার অর্থে আমাদের গৌরব।’এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
সাবিনা ইয়াসমিনের সংগীত জীবনের দীর্ঘ ছয় দশকের পথচলা। যদিও কিছু অসুস্থতার কারণে তিনি দীর্ঘ সময় কিছুটা গান থেকে দূরে ছিলেন, তবে রোববারের এই বিশেষ আয়োজনে তিনি যেন তার পুরোনো চেহারায় ফিরে আসেন। এই সন্ধ্যাটি ছিল তার একক সংগীতানুষ্ঠান, যেখানে তার ভক্তরা গভীর আগ্রহে তার গান উপভোগ করেন ও স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রদর্শিত হয় সাবিনা ইয়াসমিনের জীবনীচিত্র ঐ ডকুমেন্টারি ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’, যা তার জীবন ও সংগীতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের জন্য এক অপূর্ব সন্ধ্যা হয়ে উঠে।
-

মাদককাণ্ডে এক বছর পর মুখ খুললেন সাফা কবির
মাদকর অভিযোগে গত বছর ১৭ অক্টোবর ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র অরিন্দম রায় দীপকে গ্রেফতারের পর থেকেই আলোচিত হয় এই কাণ্ড। তার জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে দেশের জনপ্রিয় কিছু অভিনেত্রী—সাফা কবির, তিশা, টয়া এবং সুনিধির নাম। মাদক সম্পৃক্ততা নিয়ে তৎকালীন সময়ে ব্যাপক তদন্ত শুরু করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)। এ মামলায় তানজিন তিশা, টয়া এবং অন্যান্যরা নিজেদেরকে সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেন। প্রায় এক বছর পরে, ছোটপর্দার অভিনেত্রী সাফা কবির এই মামলার প্রসঙ্গে মুখ খুললেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, “ঘটনার খবর প্রকাশের পর আমি খুবই হতবম্ব ও বিপর্যস্ত ছিলাম। রোববার একটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি করবার কথা ছিল, কিন্তু এই খবরের কারণে তারা সেটি বাতিল করেছে। আমি বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম যে আমি এই ঘটনায় কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই, কিন্তু কিভাবে প্রমাণ করব?” সাফা যোগ করে বলেন, “প্রমাণ করার কিছু আমার কাছে নেই, বরং বোঝানো ছাড়া উপায় ছিল না। আমার সিনিয়র অভিনেত্রীসহ শোবিজের অনেক বন্ধু আমার সঙ্গে কাজ বাতিল করেন। এই পরিস্থিতিতে আমি মানসিকভাবে খুবই চাপের মধ্যে ছিলাম। তবে এ সময়ে কিছু ভালো বন্ধু পাশে দাঁড়িয়েছিল। তৌসিফ মাহবুব বলেছিল, আমি সাফার সঙ্গে কাজ করব। জোভান ও সিয়ামও আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল। আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ এই বন্ধুদের জন্য, যারা এই কঠিন সময়ে আমাকে সমর্থন দিয়েছেন।” এর আগে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অরিন্দম রায় দীপের মোবাইলের কললিস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পরীক্ষা করে দেখা যায়, এতে কিছু জনপ্রিয় অভিনেত্রীর মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে তাদের কিছু অর্ডার ও যোগাযোগের হোয়াটসঅ্যাপ রেকর্ড থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। নারকোটিক্সের সহকারী পরিচালক রাহুল সেন বলেন, “দীপকে গ্রেফতারের পর আমরা অনেকের প্রতিটি খুঁজে পেয়েছি, যার মধ্যে সাফা কবির, টয়া, তিশা ও সুনিধির নাম উল্লেখ্য। তাদের মোবাইলের রেজিস্ট্রেশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবগুলো নম্বরই তাদের নামের সঙ্গে সংযুক্ত। তবে তিশার নম্বরের রেজিস্ট্রেশন তার মায়ের নামে। তদন্ত চলমান থাকায়, পরে বিস্তারিত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই ঘটনায় আরও জানা গেছে, নারকোটিক্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, দীপের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাফা, টয়া, তিশা ও সুনিধি নামের নম্বর থেকে নিয়মিত মাদকের অর্ডার দেয়া হতো। এই নম্বরগুলো যাচাইকার্যক্রমে দেখা গেছে, সেগুলো সরাসরি সাফা কবির ও টয়ার নামে রেজিস্টার হয়েছে। অন্যদিকে, তিশার নম্বরটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত। এই তথ্যগুলো কিছু विवाद এবং তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে, যেখানে অঘটনের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
-

বিশ্বের ১২ শতাধিক শিল্পী-নির্মাতা ইসরায়েলবিরোধী বর্জনের ডাক দিলেন
বিশ্বজুড়ে শিল্পীরা এখন আরও কঠোর موقف নিলেন ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা ও গণহত্যার প্রতিবাদে। ‘ফিল্ম ওয়ার্কার্স ফর প্যালেস্টাইন’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে, প্রায় ১২ শতাধিক অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা এবং কলাকুশলী ইসরায়েলি কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক উৎসবের সঙ্গে আর কাজ করবেন না, এমন ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে তারা জানিয়েছেন, এখন থেকে তারা ইসরায়েলে নির্মিত বা প্রযোজিত কোনও চলচ্চিত্রে অংশ নেবেন না। এমনকি, দেশটির কোনও চলচ্চিত্র উৎসবেরও অংশগ্রহণ করবেন না।
এই তালিকায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান অনেক ব্যক্তিত্ব। অস্কার, বাফটা, এমি, ও পাম দ’অর পুরস্কার জয়ী পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন ইয়র্গোস ল্যান্থিমোস, আভা ডুভার্নে, অ্যাডাম ম্যাককে, বুটস রিলে, এমা সেলিগম্যান, যশুয়া ওপেনহাইমার, মাইক লেইসহ বেশ কয়েকজন।
অভিনেতাদের মধ্যে আছেন এমা স্টোন, অলিভিয়া কোলম্যান, আয়ো এডিবেরি, লিলি গ্ল্যাডস্টোন, মার্ক রাফেলো, রিজ আহমেদ, সিনথিয়া নিক্সন, টিল্ডা সুইনটন, জেভিয়ের বারডেম, জো অয়েলউইন, জশ ও’কনরসহ আরও অনেকে।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ইসরায়েলি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা পরিবেশকরা কখনোই ফিলিস্তিনের মানুষের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। বরং, বেশিরভাগই নৃশংসতার পক্ষে নীরব থেকে সহায়তা করে যাচ্ছে। তাই, তারা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো পেশাগত সম্পর্ক রাখবেন না।
ফলে, জেরুজালেম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, হাইফা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ডোকাভিভ, তেলআবিব ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং টিএলভি ফেস্টের মতো বড় উৎসবগুলোতেও এই শিল্পীরা তাঁদের কাজ ও উপস্থিতি এড়াবেন।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা কারণ ব্যাখ্যা করে ইহুদি বংশোদ্ভূত মার্কিন অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার বলেন, “দুই বছর ধরে গাজায় যা ঘটছে, তা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই গভীরভাবে নাড়া দেয়। একজন ইহুদি আমেরিকান হিসেবে আমি মনে করি, এই গণহত্যা বন্ধ করার জন্য আমাদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। যখন রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ, তখন শিল্পীরাই এগিয়ে এসে অবস্থান নিতে হবে।”
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী সরকারগুলো যখন এই সহিংসতায় নীরব সমর্থন দেখাচ্ছে, তখন শিল্পীরা নিরপেক্ষ থাকতে পারেন না। মানুষের মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
-

চলন্ত ট্রেনে লাফ দিয়ে গুরুতর আঘাত পেলেন অভিনেত্রী কারিশমা
শিল্পী এবং জনপ্রিয় ছোটপর্দার অভিনেত্রী করিশমা শর্মা সম্প্রতি এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। শুটিংয়ে যাওয়ার পথে তিনি চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এই দুর্ঘটনার বিষয়ে তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বিস্তারিত জানিয়েছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
অভিনেত্রী লিখেছেন, “গতকাল (বুধবার) চার্চগেটের উদ্দেশ্যে শুটিংয়ে যাওয়ার সময় আমি শাড়ি পরে ট্রেনে উঠেছিলাম। ট্রেনে ওঠার সময়ই পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু তখন লক্ষ্য করলাম যে আমার বন্ধুরা ট্রেনে উঠতে পারেনি। ট্রেনটি তখন গতিান্বিত হচ্ছিল। মানসিকভাবে আতঙ্কে আমি ভাবলাম ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিই। দুর্ভাগ্যবশত আমি উল্টো হয়ে পড়ি, যার ফলে আমার মাথায় তীব্র আঘাত লাগে।”
তিনি আরও জানান, ট্রেন থেকে লাফ দেওয়ার কারণে পিঠে আঘাত লেগেছে এবং মাথার অংশ ফুলে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি এমআরআই করাতে বাধ্য হন এবং একদিনের জন্য তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, যাতে মাথার চোটের severity নির্ণয় করা যায়।
অভিনেত্রী তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করে বলেছেন, “আমি এখন খুব যন্ত্রণায় আছি, তবে সাহস হারাচ্ছি না। আপনার সকলে আমার জন্য প্রার্থনা করবেন।”
করিশমা বিভিন্ন জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘রাগিনী এমএমএস’, ‘উজরা চমন’, ‘হাম’ এবং ‘প্যায়ার কা পঞ্চনামা’। তার এই পরিস্থিতির খবর পেয়ে তার ভক্তরা বেশ উদ্বিগ্ন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে।
-

ফরিদা পারভীরের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক, স্বামী জানালেন
একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন বর্তমানে জীবনের সন্ধিক্ষণে। তার শারীরিক অবস্থা দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার স্বামী, গায়ক ও বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম। তিনি বললেন, ‘ফরিদা পারভীরের অবস্থা খুবই গুরুতর। তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন এবং এখনকার পরিস্থিতিতে কিছু বলার মতো অবস্থা নেই। সবাই দোয়া করুন, যেন তিনি দ্রুত সুস্থ হন।’
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর একটি ফেসবুক পোস্টে জানানো হয় যে, ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থা বেশই অবনতি হয়েছে। সেখানে প্রকাশ করা হয় যে, গত বুধবার বিকালে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে তার স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস স্তব্ধ হয়ে যায় এবং তার রক্তচাপ নিঃশেষে।
ঢাকাই এই সংগীতশিল্পীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডাক্তারের পরামর্শে কৃত্রিমভাবে তার রক্তচাপ ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বোচ্চ স্তরের ওষুধ দিয়ে চিকিত্সা চলছে। পাশাপাশি মেশিনের সাহায্যে তার ফুসফুস কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। তবে দুঃখের বিষয়, এই পরিস্থিতিতে তার শারীরিক উন্নতির কোনো আশা বা আশ্বাস এখনো তৈরি হয়নি। এই বিলম্বে তাঁকে আরো কিছু সময় ভেন্টিলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফরিদা পারভীন দীর্ঘ বছর ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন। গত ৫ জুলাই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন চিকিৎসা চলার পর ২২ জুলাই বাসায় ফিরে আসেন তিনি। এরপর, ২ সেপ্টেম্বর আবার অসুস্থ হয়ে প্রাথমিক অবস্থায় রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। থাকছেন সেখানে আইসিইউতে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
ফরিদা পারভীন ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতার থেকে স্বরবর্ণ শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি লালন সংগীতের প্রশিক্ষণও নিয়েছেন সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে। সংঙ্গীতাঙ্গনে তার বিশেষ অবদান স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৮৭ সালে একুশে পদক অর্জন করেন। এর পাশাপাশি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। ২০০৮ সালে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কারও তিনি গ্রহণ করেন। এছাড়াও, ১৯৯৩ সালে তিনি দেশের সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
-

বিশাল বিজয় দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু আফগানিস্তানের
২০২৫ এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টি মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে আফগানিস্তান দারুণ প্রচুর আভিজাত্য দেখিয়েছে। হংকংকে ৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে তারা টুর্নামেন্টের শুভ সূচনা করেছে। আবুধাবিতে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান ৬ উইকেটে ১৮৮ রানের মারকুটে স্কোর তৈরি করে। জবাবে হংকং পুরো ২০ ওভার খেলেও মাত্র ৯৪ রানের বেশি করতে সক্ষম হয়নি। এতে তারা ২২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। চার ব্যাটারের মধ্যে দুজন রানআউটের কারণে খেলার ধারায় বাধা পড়ে। বাবর হায়াত এবং অধিনায়ক ইয়াসিম মোর্তজাই কিছুটা লড়াই করলেও বেশির ভাগ ব্যাটাররা দ্বিশতক ছুঁতে পারেননি। বল হাতে আফগানিস্তানের গুলবাদিন নাইব ৮ রান দিয়ে ২ উইকেট লাভ করেন, ফজলহক ফারুকি ১৬ রানে ২ উইকেট শিকার করেন। এর আগে, আফগান ব্যাটসম্যান সেদিকুল্লাহ অতল প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে খেলেছেন, শেষে ব্যাটিং ঝকমকিয়ে উঠেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। দুজনের ফিফটির ওপর ভর করে আফগানিস্তান ৬ উইকেটে ১৮৮ রানের দুর্দান্ত স্কোর সংগ্রহ করে। আবুধাবিতে টসে জিতে আফগানরা আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে অতলের ব্যাটে উন্নত সূচনা পাওয়া গেলেও এরপর টানা দুই ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে তারা কিছুটা চাপের মধ্যে পড়ে যায়। প্রথম ওভারে মেইডেন দেন হংকং পেসার। এরপর তৃতীয় ওভারে আয়ুশ শুক্লার প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে তারপরই রহমানুল্লাহ গুরবাজ (৫ বলে ৮) আউট হন। পরের ওভারে আতিক ইকবাল উইকেট কিপার ক্যাচ নিয়ে ফিরে যান। এই ওভারেও মেইডেন যান হংকং। প্রথম ৬ ওভারে মাত্র ৪১ রান করে ২ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। পরে, তৃতীয় উইকেটে অতল ও মোহাম্মদ নবি ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। ১০ ওভারে ৭৭ রান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আফগানিস্তান বেশ কিছু সময় ধরে স্থির থাকলেও ১১তম ওভারে গুলবাদিন নাইব ২৬ বলে ৩৩ রান করে ফেরেন। দ্বিতীয় ওভারে কিনচিত শাহ ২৬ বলে ৩৩ রান করে নিয়েছেন। অতল ৪১ বলে ফিফটি পূরণ করেন এবং অপরাজিত থাকেন ৫৩ বলে ৭৩ রানে, যেখানে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ইনিংস সাজিয়েছেন। আজমতউল্লাহ ওমরজাই এক জায়গায় এসে ঝড় তুলেন এবং ২০ বলে ৫৩ রান করেন। এই দুর্দান্ত ইনিংসের মধ্যে চারটি চার ও পাঁচটি ছক্কা ছিল। তার পর, তিনি ৫২ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন। হংকংয়ের কিনচিত শাহ ও আয়ুশ শুক্লা দুইজন করে উইকেট নেন।
