Author: bangladiganta

  • একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড ব্রেকিং বৃদ্ধি

    একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড ব্রেকিং বৃদ্ধি

    গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন দাম ঘোষণা করে জানিয়েছে যে, ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে স্বর্ণের মূল্য। এর ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা, যা দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম। এই পরিবর্তন মঙ্গলবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে এবং নতুন মূল্য কার্যকর হবে বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বাজারের চাহিদা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। শুল্ক, ভ্যাটসহ অন্যান্য চার্জ যোগ করে ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর, নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। পাশাপাশি, অন্যান্য ক্যারেটে স্বর্ণের মূল্য হল: ২১ ক্যারেটে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা।

    বাজুসের আরও জানানো হয়েছে যে, স্বর্ণ বিক্রির সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি সংযোজিত হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পার্থক্য থাকতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগে, ২২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে বাজুস। তখন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। এ ছাড়াও অন্যান্য ক্যারেটের দাম ছিল: ২১ ক্যারেট ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা। সেই মূল্য ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

    সর্বমোট, ২০২৪ সালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৬২ বার সমন্বয় করা হয়, যেখানে দাম বাড়ানো হয় ৩৫ বার এবং কমানো হয় ২৭ বার। এই বছর স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভরিতে ১৫২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অন্যান্য ক্যারেটে রুপার দামে বৃদ্ধি হয়েছে: ২১ ক্যারেটে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ হাজার ২২৮ টাকা।

  • জামায়াতের আমির হামজাকে বিতর্কিত বক্তব্য না দেওয়ার পরামর্শ

    জামায়াতের আমির হামজাকে বিতর্কিত বক্তব্য না দেওয়ার পরামর্শ

    আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার বিতর্কিত বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী দল। তারা তাকে পরামর্শ দিয়েছে যে, রাজনীতি বা বিতর্কিত বিষয়গুলোতে কথা বলা থেকে বিরত থাকুক। মুফতি হামজা নিজেও এ বিষয়ে স্বীকার করেছেন।

    বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থানরত তিনি বলেন, তার দায়িত্বশীলরা তাকে সতর্ক করে বলেছেন যেন তিনি সংগঠন থেকে কোনও রাজনৈতিক বা বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কথা না বলেন। তিনি আরও জানান, মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় তারা তাকে বিশেষভাবে সাবধান থাকতে বলেছেন।

    মুফতি হামজা জানান, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, এখন থেকে শুধু কুরআনের তাফসিরের মধ্যে থাকবেন এবং অন্য কোনও বিষয়ে আলোচনা করবেন না। তাঁর ভাষায়, “কোনো বিষয় নিয়ে তুলনা বা মন্তব্য করলে প্যাঁচে পড়ে যায়। আমি এসব থেকে এখন দূরে থাকব।”

    সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসিন হলে আযান দেওয়ার প্রসঙ্গে তার বক্তব্যের সমালোচনায় তিনি স্বীকার করেছেন যে, ভুলক্রমে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের নাম বলার সময় তিনি মুহসিন হলের নাম বলেন। এ বিষয়টি তিনি ক্ষমা চেয়ে বলেছেন এবং জানান, এটা মুখে ফসকে হয়ে গেছে। তিনি যোগ করেন, “আমি এর জন্য দুঃখিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয় এড়িয়ে যাব।”

    অপরদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মদের বোতল প্রসঙ্গে তার বক্তব্যের সমালোচনাও উঠে এসেছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম। সবাই জানে কী পরিস্থিতি ছিল ক্যাম্পাসে। আমি কি অপরাধ করেছি? যদি ভাবা হয় আমি পানি বোতলে মদ খেয়েছি, তাও আমি জানি না। যদি তাই হয়, আমি দুঃখিত। আমি এসব নিয়ে আর মন্তব্য করব না।”

  • বিএনপি জানিয়েছে, কাউকে ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হয়নি; বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

    বিএনপি জানিয়েছে, কাউকে ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হয়নি; বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বেশ কিছু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে বিএনপি কিছু প্রার্থীকে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে। তবে দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, কোনও প্রার্থীকে এখনও তারা কোনো ধরনের ‘সবুজ সংকেত’ দেননি। বিএনপি নিশ্চিত করে বলেছে, ভবিষ্যতের প্রার্থী নির্বাচন পার্লামেন্টারি বোর্ডের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হবে এবং এ ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা বা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।

  • নাহিদ ইসলামের ইঙ্গিত: আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার সুযোগ নেই

    নাহিদ ইসলামের ইঙ্গিত: আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার সুযোগ নেই

    নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক, বিশ্বস্তভাবে ঘোষণা করেছেন যে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার কোনও সম্ভাবনা নেই। তিনি আজ মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এটি জানান। এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় নিউ ইয়র্কে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনের উপর হামলার প্রতিবাদে।

    নাহিদ বলেন, আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করা একটি বিভ্রান্তিকর রাজনীতি, যা বিএনপির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বিএনপিকে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিবর্তে বাংলাদেশকে নতুন করে গঠনে মনোযোগ দিতে হবে। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের সমর্থন পাওয়া সম্ভব হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। পাকিস্তানপন্থী ও স্বাধীনতা বিরোধী রাজনীতির জন্য আওয়ামী লীগ নীতি বদলাচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার বা রাজনীতিতে পুনর্বাসনের কোনও সুযোগ নেই। যারা এটা করতে চাইবে, জনগণ তাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে এবং তাদের রাজনীতি বাংলাদেশ থেকে দূর হবে।

    তিনি আরও বলেন, ৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদীদের কোনও স্থান নেই। তারা তাদের অপকর্মের জন্য বিচারের আওতায় আসবে।

    অন্তর্ভুক্ত সব রাজনৈতিক দলকে তিনি আহ্বান জানান, ফ্যাসিবাদ বিরোধী একযোগে কাজ করার জন্য। নাহিদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য ষড়যন্ত্র ও দেশকে অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস ব্যর্থ করে দিতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সকল স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক শক্তি একসঙ্গে গিয়ে এই চক্রান্ত রুখে দিতে পারবে।

  • তরুণদের উদ্বুদ্ধ করে রাজপথে নেমেছিলেন তারেক রহমান: রিজভী

    তরুণদের উদ্বুদ্ধ করে রাজপথে নেমেছিলেন তারেক রহমান: রিজভী

    ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করে রাজপথে নামিয়ে আনলেন, এই মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী পতাকা হাতে নিয়ে এই ‘রক্ত পিপাসু’ শেখ হাসিনাকে পরাজিত করার জন্য তারেক রহমান যে পটভূমি তৈরি করেছেন এবং তরুণদের রাজপথে উদ্বুদ্ধ করেছেন, তা ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিতে নির্মিত স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বরগুনা ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদ্য গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর তারেক রহমান জাতীয়তাবাদী পতাকা হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি শুধু দেশীয় রাজনীতি নয়, প্রবাসে থেকেও সংগঠনকে সুসংগঠিত করেছেন এবং তরুণ প্রজন্মকে গণতন্ত্রের সংগ্রামে সম্পৃক্ত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, তরুণদের উজ্জীবিত করে রাজপথে নামানোর কৃতিত্ব স্বয়ং তারেক রহমানের। এই ইতিহাস কখনো ধূসর হবে না, বরং এটি চিরদিনের জন্য উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় তরুণদের সামনে নেতৃত্বের যে উদাহরণ রেখেছেন, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন প্রজন্মের জন্য স্বপ্নের মতো। এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, সদস্য সচিব হুমায়ুন হোসেন শাহিন ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খানসহ নবগঠিত নেতৃবৃন্দের নাম উল্লেখ করেন। রিজভী বলেন, এই নেতারা আন্দোলন-সংগ্রামে অনড় থেকেছেন। পুলিশের নির্যাতন-নিপীড়নের মাঝেও הפעילות চালিয়ে গেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাদের নেতৃত্বে বরগুনা ও পিরোজপুর জেলা বিএনপি একটি আদর্শ সংগঠনে রূপান্তরিত হবে, যেখানে কোন চাঁদাবাজ, দখলদার বা সমাজবিরোধী স্থান পাবেন না। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে রিজভী বলেন, নতুন নেতৃত্ব জনগণের আস্থা অর্জন করবে এবং সেই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে মানুষ ধানের শীষে ভোট দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি গত ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম করে আসছে, এই সংগ্রাম দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চালিয়ে যাচ্ছে। রিজভী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার খালেদা জিয়াকে নির্যাতন ও কারা জীবন দিয়ে দমন করার চেষ্টা করলেও, তাঁর দৃঢ় মনোবল ও নেতৃত্বকে ঠেকানো যায়নি। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী শেখ হাসিনাকে একটি ভয়ানক ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, তিনি গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছেন এবং ভোটের অধিকার হরণ করেছেন। রিজভী আরও বলেন, বিভিন্ন ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও নীলনকশা এখনো শেষ হয়নি; এ সবের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগ নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখে। তিনি প্রশ্ন করেন, যারা ২৮ লাখ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচার করেছে, তারা কীভাবে দুঃশাসন সক্ষম করে রেখেছে। বর্ষীয়ান এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ মন্ত্রী-এমপি ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন পর্যন্ত বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। নিউইয়র্ক, লন্ডন, দুবো, কানাডা, অটোয়া এবং সিডনিতে তাদের সম্পদের বিপুল সমারাক্য গড়ে উঠেছে। খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়েছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অন্তত ৬০২টি সম্পদ বা প্লট পাওয়া গেছে, এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যও রয়েছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যাপারে রিজভী বলেন, যদি ক্ষমতাসীনরা আরও দক্ষতা দেখাতে পারত, তাহলে নিউইয়র্কে ফ্যাসিবাদী দোসররা এমন দৃষ্টিতে সাহস করত না। তিনি দুর্নীতির মামলার অকার্যকারিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডিরেক্টরেট অফ ইনভেস্টিগেশনের (দুদক) কাছে ২৪ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা উত্তোলনের নির্দেশ থাকলেও তারা তা কার্যকর করতে পারে নি। আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে রিজভী বলেন, ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদ ও মুগ্ধর জীবন ও রক্ত বৃথা যাবে না; তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দেবে।

  • আওয়ামী লীগ তাদের অন্যায়ের জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করে না

    আওয়ামী লীগ তাদের অন্যায়ের জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করে না

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তিনি ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’ কে কোনো সাক্ষাৎকার দেননি। তিনি বলেছেন, উত্তমভাবে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘এই সময়’-এ আমার কোনো সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়নি। তারা ভুলভাবে আমার কথা তুলে ধরেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, সাক্ষাৎকার দিতে তিনি পত্রিকাটির সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর ৩০টি আসন চাওয়ার বিষয়ে তিনি কোনও কথা বলেননি বলেও স্বীকার করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে একেবারেই কিছু জানি না। সংবাদ জানতে চাইলে, তিনি নিউইয়র্ক থেকে বলেন, ‘আমি এই সময়’ কে ешқанও সাক্ষাৎকার দিইনি। যোগাযোগ হয়েছিল, কিন্তু আমি কোন কথা বলিনি। অন্যদিকে, সম্প্রতি নিউইয়র্কের জে এফ কে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ওপর ডিম ছোড়া ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, “এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। এর জন্য আওয়ামী লীগ কর্তৃপক্ষই দায়ী। আওয়ামী লীগ এর পেছনে রয়েছে এবং তারই উসকানি রয়েছে।” তিনি পরবর্তীতে ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে যা ঘটেছে, তা আবারও প্রমাণ করে যে, আওয়ামী লীগ তাদের অন্যায়ের জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করে না।’ ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত যা করেছে, সবকিছুর বিচার হবে আইনের মাধ্যমে। দল ও দেশের স্বার্থে ধৈর্য্য রাখতে হবে।’

  • নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় খোকন গ্রেফতার

    নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় খোকন গ্রেফতার

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অজয় কর খোকনকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এই অভিযানে ডিবির একাধিক সদস্য অংশ নেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অজয় খোকন সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে মিছিল ও সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছিলেন, অজয় খোকনের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা রয়েছে কি না, বা তিনি কি আগে কোনো সহিংসতায় জড়িত ছিলেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অজয় কর খোকন ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার পরিকল্পনা করলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

  • সাবেক মন্ত্রী কামরুল ৫ দিনের রিমান্ডে

    সাবেক মন্ত্রী কামরুল ৫ দিনের রিমান্ডে

    শাহবাগে জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির হত্যার মামলায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদিকুর রহমান এই রিমান্ডের আদেশ দেন।

    মামলার তদন্তকারক, শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলাম খান পুলক, আসামির ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন, আর আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের জন্য আবেদন করেন অ্যাডভোকেট আফতাব আহমেদ। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    এর আগে, ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর থেকে কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেপ্তারির পর তাকে একাধিকবার রিমান্ডে নিতে হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

    মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ‘জুলাই আন্দোলন’ চলাকালে চাঁনখারপুল এলাকায় ছাত্র ও সাধারণ জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন মো. মনির। আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়, যার ফলস্বরূপ তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহতের স্ত্রী রোজিনা আক্তার ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    মামলায় ৩৫১ জনকে এজাহারনামীয় এবং ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম মামলার ৭ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

  • কলকাতা থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফেরার পরিকল্পনা

    কলকাতা থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফেরার পরিকল্পনা

    দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ক্ষমতা থেকে পিছিয়ে পড়ার পর দেশের গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ এখন কলকাতা থেকে নতুন করে রাজনীতির পুনর্গঠন শুরু করে দিয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত এই দলটির অনেকে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন এবং সেখান থেকেই ফের দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম Scroll-এ প্রকাশিত এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ হাবিবে মিল্লাত ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের সময় সাত সপ্তাহ ধরে ঢাকায় লুকিয়ে ছিলেন। পরে তিনি দেশের সীমান্ত পেরিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নেন। নিজের ভাষায়, পালানোর সময় তিনি গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং হেঁটে ২২ ঘণ্টারও বেশি সময় সীমান্ত অতিক্রম করেন। কলকাতায় পৌঁছেই initialভাবে ব্যাপক দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছিলেন। সুবিধার জন্য অর্থের অভাবে চার রাত মাটিতে শুতে হয়েছিল তাকে।

    হাবিবে মিল্লাত জানান, ঢাকায় চলমান আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, অন্তত ৬৩৭টি ঘটনায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ও কর্মী মার খেয়েছেন, কিছু নিহতও হয়েছেন। এ ছাড়া দলের ১১৬ জন সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমানে কারাবন্দি।

    বর্তমানে কলকাতায় স্ত্রীসহ এক ভাড়া অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন ডা. মিল্লাত। সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক মাধ্যমে বাংলাদেশি রাজনীতির লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। কানাডাভিত্তিক think tank গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্সের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর থেকে ভারতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করানো এবং আওয়ামী লীগের জন্য আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ খুলে দেওয়া।

    প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দিল্লিতে যান। এর পর থেকে দলটির কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে হাবিবে মিল্লাতসহ শতাধিক নেতা ভারতে পালিয়ে যান। তাঁদের অনেকেই এখন কলকাতায় অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাঁরা ভার্চুয়াল বৈঠক করছে, কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বসছেন এবং সীমান্ত পেরিয়ে কাজ করছে—এছাড়াও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন কর্মীদের সঙ্গে।

    সম্প্রতি বিডিনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকাতায় আওয়ামী লীগ একটি অফিস খোলে। এই খবর Bangladesh-এ অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে“中国 সরকারের অবমাননা” বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাকে অফিস বলা হচ্ছে, তা মূলত একজন ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত জায়গা। সেখানে তারা মাঝে মাঝে বসেন—এটি অফিস নয়। তিনি আরও বলেন, কলকাতার একটি শপিং মলে তিনি একটা কফিশপে বসে আছেন ও আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

    নাদেল আরও জানান, তিনি কলকাতায় সাধারণ জীবন যাপন করছেন, ব্যাংকে লাইন দিচ্ছেন, বাজার করছেন ও দর কষাকষি করছেন। তবে তাঁর দলের সঙ্গে আনুগত্য কমেনি। তিনি বলেন, যদি অফিস বলতে হয়, তাহলে কলকাতায় অন্তত পাঁচ-ছয়টি স্থান রয়েছে যেখানে তাঁরা বসেন বা যোগাযোগ রাখেন।

    আরেকটি বার্তা দেন, পশ্চিমবঙ্গের নিউ টাউনে থাকা আওয়ামী লীগের ছাত্রনেতা সাদ্দাম হোসেন। তিনি দৈনিক ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকায় একটি হত্যা কাণ্ডের মামলা রয়েছে। তিনি জানান, দেশের আন্দোলনের মাধ্যমে তারা সরকারের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করছেন।

    সাদ্দাম বলেন, সম্প্রতি শেখ হাসিনার সাথে দেখা হয়, যা তিনি খুবই হৃদয়গ্রাহী ও অনুপ্রেরণামূলক মনে করেন।

    অন্যদিকে, হাবিবে মিল্লাতও আত্মবিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, তাহলে সংগঠনের শক্তির মাধ্যমে বড় ধরনের সফলতা অর্জন সম্ভব।

    বিরোধী দলগুলোর موقف অনেকটাই বিপরীত। বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে, এবং তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অচিরেই শেষ বলে মনে করছে। বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগকে তার অতীতে শাসনের জন্য কঠোর শাস্তি পেতেই হবে।

    এছাড়াও, এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার মনে করেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরবে, কিন্তু খুবই ধীরগতিতে। তাঁদের মতে, জনগণ এখন আর আওয়ামী লীগের প্রতি বিশ্বাস করবেন না।

    ভারতের কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তেমন ভালো ছিল না। অতীতে এই জোটের কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতা ও উসকানি বৃদ্ধি পায়—এই কারণেই ভারতের জন্য আওয়ামী লীগ ছিল সুবিধাজনক।

    প্রাক্তন কূটনীতিক বীণা শিকরি বলেন, ভারতের স্বার্থে সুষ্ঠু, মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হওয়া উচিত। অন্যদিকে, গবেষক আদিত্য গোদারা মনে করেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা বা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা—দুটোই ভারতের জন্য সহজ সিদ্ধান্ত নয়। তিনি বলেন, ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, পরবর্তী ক্ষমতাসীন দল হিসেবে কোনোটির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করা।

    তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যদি ফেরে, সেটি সময়ের ব্যাপার। তবে পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমন ভাবার সুযোগ নেই।

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতা ছিল আওয়ামী লীগের মূল ঘাঁটি। পঞ্চাশ বছর পর আবারও তাঁরা সেই কেন্দ্র থেকেই পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে এবার পথ অনেক কঠিন, রাজনীতি অনেক বেশি জটিল। ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চাপ ও জনমত পরিবর্তনের কারণে আওয়ামী লীগকে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা এখনো এক অনিশ্চিত ব্যাপার।

  • সেপ্টেম্বরের জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চান

    সেপ্টেম্বরের জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চান

    আগামী নির্বাচনে ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ নাগরিক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে ভোট দিতে আগ্রহী। একই সময়ে, দেশজুড়ে অতি পরিচিত জামায়াতে ইসলামীকে ভোটের জন্য পছন্দ করেছেন ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ মানুষ। এরপরই রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যাদের প্রতি মানুষ এখন ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশের বেশি সমর্থন দেখিয়েছেন। এই তথ্য উঠে এসেছে ইনোভিশন কনসালটিং নামে একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থার মাসিক জরিপ থেকে।

    বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ন্যাশনাল আর্কাইভসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে সংস্থাটি ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে’র দ্বিতীয় পর্বের ফলাফল প্রকাশ করে।

    জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৫৭.৫ শতাংশ ভবিষ্যতের সরকার থেকে আইন-শৃঙ্খলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। এই সঙ্গে, তারা পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বড় অগ্রাধিকার দিতে চান, যা ৫৪.৬ শতাংশ। দুর্নীতি বা অনিয়ম কমাতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্তিশালী ও আধুনিক করার দাবিও বেড়েছে।

    আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ উত্তরদাতা ভারত (৭২.২%) ও পাকিস্তানের (৬৯%) সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পছন্দ করেন। তবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রতি আগ্রহ কম দেখা গেছে, যেখানে ভারতের প্রতি সমর্থন বেশি।

    ভোটের সিদ্ধান্তে প্রার্থীর যোগ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ (৬৫.৫%), এরপর রয়েছে প্রার্থীর পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা (১৪.৮%) এবং দলের প্রতীক (১৪.৭%)। তরুণ ভোটাররা বেশি গুরুত্ব দেয় প্রার্থীর কর্মক্ষমতা, আবার প্রবীণরা ঝুঁকছেন দলের প্রতীকের প্রতি।

    দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা ও অসন্তুষ্টির হার অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্টি (৩৩.৪৩%) ও সবথেকে কম সন্তুষ্টি (১৫.৫২%) পেয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী উচ্চ সন্তুষ্টি অর্জন করেছে (৩০.৩৪%), যদিও এর অসন্তুষ্টিও যথাক্রমে ১৯.৭৪%। বিএনপি পেয়েছে ২১.৫% সন্তুষ্টি এবং ২৭.৬% অসন্তুষ্টি।

    নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের বিষয়ে জনমত বিভক্ত। ৪৫.৭৯% মনে করেন, সব দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে দিতে হবে, অন্যদিকে ৪৫.৫৮% মনে করেন, বিচারাধীন থাকা আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে বেশি সমর্থন দেয়ার রায় দিয়েছে।

    পরবর্তী সরকার গঠনে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাচ্ছে বিএনপি (৩৯.১%), জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করেন ২৮.১% জন। একই সময়ে, নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করা হয়, বিএনপিই সবচেয়ে বেশি সম্ভবত নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেবে।

    অতীতের নেতাদের মধ্যে, শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি, এর মধ্যে জেনারেশন-জেডের বেশি মানুষ শেখ মুজিবকে সমর্থন করে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা কিছুটা মেরুকৃত, যেখানে ২১.৬% উত্তরদাতা তাকে শূন্য রেটিং দিয়েছে।

    ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভিশন কনসালটিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রুবাইয়াত সরওয়ার। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ এম শাহান, ভয়েস ফর রিফর্ম-এর সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, বিআরএআইএন-এ নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান এবং দি ডেইলি স্টার-এর সিনিয়র রিপোর্টার জাইমা ইসলাম।

    ইনোভিশন জানিয়েছে, ‘পিপলস পারসেপশনস অন ইলেকশন সার্ভে’ একটি সামাজিক গবেষণা উদ্যোগ, যা ভয়েস ফর রিফর্ম ও বিআরএআইএনের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়েছে।

    পূর্বের মার্চ মাসে এই সংস্থা একটি জরিপ করেছিল, যেখানে দেখা যায়, আগামী নির্বাচনে ৪১.৭% মানুষ বিএনপি-কে ভোট দিতে চাইবে, অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী ভোটের জন্য ৩১.৬% পছন্দ। তখন ৫৮% ভোটার চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন চান। নিখোঁজ আওয়ামী লীগ এখনও মাত্র ১০% মানুষ পছন্দ করেছিল, যা এই বছরের সেপ্টেম্বরের জরিপে বেড়ে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ হয়েছে।