Author: bangladiganta

  • ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইতালিতে ডাকা ধর্মঘট ও বিক্ষোভে উত্তেজনা

    ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইতালিতে ডাকা ধর্মঘট ও বিক্ষোভে উত্তেজনা

    গাজায় ইসরাইলের আইসিপি হামলার বিরুদ্ধে ইতালির হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। দেশব্যাপী এই বিক্ষোভের কারণে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, বন্দর ও রাস্তাঘাটে যানচলাচল ব্যাহত হয়েছে, সেই সঙ্গে ট্রেন সেবাও বিপর্যস্ত। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগাল ও কানাডার মতো দেশগুলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু ইতালি এই উদ্যোগ থেকে এখনো নিজেদের সরিয়ে রেখেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে স্বীকৃতি দিলে এটি ফলপ্রসূ হবে না। যদি কাগজে-কলমে একটি অবাস্তব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে বিষয়টি সমাধানের না হয়েও মনে হতে পারে যে সমীপটে সাফল্য এসেছে। এটি বাস্তবে সমস্যার সমাধান করবে না।’

    সোমবার, ইতালির ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে দেশজুড়ে বাইরে রাস্তায় নামেন অন্তত ৮০টি শহরের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বন্দরকর্মী ও সাধারণ নাগরিকরা। মিলান ও রোমের গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মিলান থেকে পালেমো পর্যন্ত বহু পৌরসভায় ইতালির মুসল্লিরা রাস্তায় নেমেছেন। জেনোয়া ও লিভোর্নোতে ডক শ্রমিকরা বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করেন, তাদের অভিযোগ, ইতালি ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ করে একটি নেটওয়ার্ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তুরিন ও বোলোনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুম অবরোধ করে। রোমের টারমিনি রেলস্টেশনে প্রায় ২০,০০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। ১৭ বছর বয়সী মাইকেলেঞ্জো এজেন্স ফ্রান্স-প্রেসকে (এএফপি) বলেন, আমি এই দুঃখিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে এসেছি।

    মিলানের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের কাছে গাজায় যুদ্ধবিরতি দাবিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকা পুড়ালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একটি কালো পোশাকধারী দল পুলিশের দিকে পাথর, ধোঁয়া বোমা ও লোহার রড ছুঁড়লে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। বোলোনিয়ায় প্রধান রিং রোডে অবরোধ করা হয়। পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য। মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেন, এই ভাঙচুর কোনোভাবেই গাজা-সংক্রান্ত স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি জানান, এই ধরনের সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। তার মতে, এসব ঘটনা গাজার মানুষের পরিস্থিতি পরিবর্তন করবে না, বরং এটি ইতালির নাগরিকদের জন্য ক্ষতি ডেকে আনবে।

    অপরদিকে, বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যে, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি সংসদে গাজা-ইসরাইল ইস্যুতে পরিষ্কার অবস্থান ব্যক্ত করেননি। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এলি শ্লাইন বলেন, ‘যখন যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তখন তিনি নিজের প্রিয় খাবার নিয়ে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন।’ পরে তিনি মিলানের ব্যাপক সহিংসতাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন।

    অপরদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, ‘জর্দান নদীর পশ্চিমে কোন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না।’ প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগো বলেন, ‘এ ধরনের স্বীকৃতি অন্ধকার শক্তিকে উস্কে দেবে।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

  • খুলনা-৫ আসনে ধানের শীষ বিজয় হলে ডুমুরিয়া-ফুলতলায় সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হবে

    খুলনা-৫ আসনে ধানের শীষ বিজয় হলে ডুমুরিয়া-ফুলতলায় সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হবে

    জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু বলেছেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার সমর্থকরা এখনও চুপচাপ নেই। তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। একদিকে একটি দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন জিতাতে পিআর পদ্ধতিতে প্রচার চালানো হচ্ছে, যা মূলতঃ আওয়ামীলীগের কূটচাল। এজন্য আমাদের সকলকে একত্রিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদকে রুখে দিতে হবে। খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া ও ফুলতলার বাসিন্দারা খুবই সৌভাগ্যবান; কারণ এই অঞ্চলের জনগণের প্রতি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আন্তরিক মনোযোগ রয়েছে। যদি ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হয়, তাহলে এই ত্রিপাক্ষিক অঞ্চলে ডুমুরিয়া-ফুলতলাতেই সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হবে, এ বিশ্বাস আমি সকলের মাঝে ব্যক্ত করছি। তাই ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রতারণা থেকে বিরত থেকে সকল ধর্মের ও সম্প্রদায়ের মানুষের একত্রিত শক্তিতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা, ১৪টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন তিনি। প্রাক্ দূতাবাসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় নেতাদের উপর আওয়ামী দখলদার সন্ত্রাসীদের অপ্রতুল আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে আরও গণহত্যা চালানো আওয়ামী লীগের স্থান একটুও থাকবে না। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা হত্যার পরও তাদের দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক এড. মোমরেজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ মোশাররফ হোসেন মফিজ, জেলা বিএনপি’র সদস্য হাফিজুর রহমান হাফিজ, মোঃ মাহবুবুর রহমান, সরদার আব্দুল মালেক ও আশরাফুল ইসলাম নূর, ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা শেখ সরোয়ার হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ মশিউর রহমান লিটন, শেখ ফরহাদ হোসেন, জিএম মিজানুর রহমান লিটন গোলদার, মোঃ আঃ রশিদ শেখ, জিএম মশিউর রহমান, অরুণ গোলদার, শেখ শাহিনুর রহমান, শেখ রেজওয়ান হোসেন, শেখ মতিয়র রহমান বাবু, মোঃ রফিকুল ইসলাম, খান আছাদুজ্জামান মিন্টু, শেখ শাহানুর রহমান ও উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক বিএম সৈয়দ আহমেদসহ আরও অনেকেই।

  • খুলনায় ভোক্তা-অধিকার অভিযান চালিয়ে লাখো টাকা জরিমানা

    খুলনায় ভোক্তা-অধিকার অভিযান চালিয়ে লাখো টাকা জরিমানা

    খুলনা বিভাগে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়গুলো গত मंगलवार বিভিন্ন স্থান জুড়ে বিস্তারিত অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানের সময় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ও ক্রয় ভাউচারের সঠিকতা পরীক্ষা করা হয়, পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। যারা মূল্যের থেকে বেশি বিক্রি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

    খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকায় মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আরিশা মেডিকেল হলের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির জন্য ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। প্রনব কুমার প্রামাণিকের নেতৃত্বে নান্না বিরিয়ানি ও কোরিয়ান জুস এন্ড ফাস্টফুডের মোড়ক অপব্যবহার এবং অন্যান্য অপরাধে যথাক্রমে ২ হাজার ৩০০ টাকা ও ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

    নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চালানো এই পর্যায়ের অভিযানে রাজ্জাকের ফুচকা, বরিশাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারসহ সবাইকে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া, মাগুরা, যশোর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলার কার্যালয় এই ধরনের অভিযান চালিয়ে ছোট বড় অসংখ্য ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড ধার্য করে। অভিযানে ধরা পড়া ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগকেই পণ্য মান পরীক্ষায় লিপ্ত থাকায় জরিমানা করা হয়।

    এমন ধারাবাহিক অভিযান মূলত সাধারণ ক্রেতাদের অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যাতে বাজারে পণ্য মূল্য ও গুণগত মান ঠিক রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

  • জনগণ প্রত্যক্ষ ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষায়

    জনগণ প্রত্যক্ষ ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষায়

    সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের বিএনপি প্রার্থী আলী আসগর লবী বলেছেন, দেশের জনগণ এখন প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার জন্য অধীর আগ্ৰহে অপেক্ষা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। নির্বাচন সময় একতরফা হয়ে গেছে, ভোটের দিন-রাত ব্যালট বাক্স ভরে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর জনসমর্থন ও শক্তি যাচাইয়ের কোন সুযোগ থাকেনি। এর পরবর্তী সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের রূপান্তরকামী কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা ছিল সময়ের চাহিদানুযায়ী। কিন্তু বর্তমান সময়ে কিছু দল আওয়ামী সরকারের পথ অনুসরণ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভোটের মাধ্যমে পছন্দের নেতা নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করার চেস্টা করছে। আলী আসগর লবী জানান, যদি মানুষ তাঁদের ভোটে সংসদে পাঠায়, তাহলে তিনি এই অঞ্চলের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা না করে সংগঠন ও উন্নয়নে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত করে কাজ করবেন। মঙ্গলবার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর বাজারে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ৩১ দফা পরিকল্পনার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুলনা জেলার উত্তর ডুমুরিয়ার চারটি ইউনিয়নে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রঘুনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আব্দুর রব আকুঞ্জি ও পরিচালনা করেন সদস্য সচিব শাহেদুজ্জামান বাবু। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী, খুলনা নগর মহিলা দলের আহবায়ক ও সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ এবং জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এড. সেতারা সুলতানা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক খান ইসমাইল হোসেন, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেহেনা ইসলাম, শেখ সরোয়ার হোসেন, সরদার আব্দুল মালেক, মোল্লা মাহবুবুর রহমান, শেখ হাফিজুর রহমান, মশিউর রহমান লিটন, ফরহাদ হোসেন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, খোকন তালুকদার প্রমুখ।

  • আসামিদের জামিনে মুক্তি পেলেন নবজাতকের মা ও নানি

    আসামিদের জামিনে মুক্তি পেলেন নবজাতকের মা ও নানি

    অবশেষে জামিন পেলেন ১৩ দিনের নবজাতকের মা শাহাজাদী ও তার নানি নার্গিস বেগম। মঙ্গলবার খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতে তাদের জামিনের জন্য আবেদন করা হয়, যেখানে বিচারক মোঃ শরীফ হোসেন হায়দার তা অনুমোদন করেন। দুপুরের দিকে কারাগারে জামিনপত্র পৌঁছানোর পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। আইনজীবী শেখ রফিকুজ্জামান জানান, সকালে আদালতের প্রত্যয়ন পত্র গ্রহণের পর খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করেন, যেখানে বিচারক বিশেষ বিবেচনা এবং একমাত্র তাদের মানবিক পরিস্থিতি দেখে বিনা জামানতে জামিন দেন। খুলনা কারা কর্তৃপক্ষের জেলার মোহাম্মাদ মুনীর হোসাইন জানান, জামিনের কপি আসার পর দুপুরের দিকে নার্গিস বেগমকে কারাগার থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর প্রায় সোয়া ৩টা সময় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন শাহাজাদীকে মুক্তি দেওয়া হয়। জানা যায়, রোববার হাসপাতালে পুলিশের হেফাজতে থাকা শাহাজাদীকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহীন কবির তাকে আদালতে হাজির করেন। কিন্তু ওই সময় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় জামিনের শুনানি সম্ভব হয়নি, ফলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এ সময় তিনি নবজাতক সন্তানসহ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে স্থানান্তর করে। সেখানে পৃথক কেবিনে চিকিৎসা চলতে থাকে। সোমবার শাহাজাদীর পক্ষে জামিনের জন্য আবেদন করা হলেও নিম্ন আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে। তবে মঙ্গলবার জামিন পাওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শাশুড়ি বাড়ি থেকে তার কোনও খবর নেওয়া হচ্ছে না, যা তাকে খুবই হতাশ করে। এর আগে, গত ১১ সেপ্টেম্বর নগরীর রূপসা এলাকার একটি হাসপাতালে বাগেরহাটের রামপালের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শাহাজাদীর (৩৬) কোলজুড়ে আসে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান। পরিবারের আগের চার কন্যার সঙ্গে এবার পুত্র সন্তান শুভকামনা ছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির। কিন্তু ছেলে না হওয়ায় স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে চলে যান সিরাজুল, এরপর আর খবর রাখেননি। পরিবারে চাপ ও হতাশার মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর একই হাসপাতালে চার দিন বয়সী এক নবজাতকের চুরি ঘটে। দ্রুতই সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতায় নবজাতকটি উদ্ধার হয়। পরিবারের কাছ থেকে শিশুটি ফিরে পাওয়ার পর তাকে জেলখানায় আটক করা হয়। কারণ, শাহাজাদী ও তার মাকে আসামি করে মানবপাচার আইনে একটি মামলা করা হয়। মামলায় নার্গিস বেগমকে গ্রেফতার দেখানো হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শাহাজাদী চিকিৎসাধীন থাকাকালে দাবি করেন, তার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

  • খুলনায় গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ৩ জন

    খুলনায় গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ৩ জন

    খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার জামিরা বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগের আদলে এক যুবক আলমগীর হোসেনের গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনাটি ঘটে ২০ সেপ্টেম্বর, যখন আলমগীর হোসেনকে চাঁদাবাজির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের স্ত্রী এ ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

    আজ মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ফুলতলা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে জামিরা ও টোলনা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় এবং তাদের আটক করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সাইফুল, রুমান মোল্যা ও নাসির খান। পরে তাদের পাটিগণ্ডায় আদালতের মাধ্যমে সোপর্দ করা হয়।

    ফুলতলা থানার অফিসার ইনচার্জ জেল্লাল হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ এই অভিযান চালায় এবং মোট ১৩ আসামির মধ্যে এই তিনজনকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অপর আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

    উল্লেখ্য, নিহত আলমগীর হোসেনের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদাবাজির অপবাদে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আলোচনার ঝড় বইছে এবং বিচার দাবি করছে স্থানীয় মানুষ।

  • ফিলিপাইন থেকে রিজার্ভ চুরি: সিআইডি বাজেয়াপ্ত করল ৮১ মিলিয়ন ডলার

    ফিলিপাইন থেকে রিজার্ভ চুরি: সিআইডি বাজেয়াপ্ত করল ৮১ মিলিয়ন ডলার

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি) থেকে বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। বাংলাদেশ সরকারের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিশ্চিত করেছে, আদালতের নির্দেশে যে অর্থের জন্য তদন্ত চলছিল, সেটি এখন জাল টাকার মতো ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে ফেরত আনা হয়েছে।

    আজ রোববার, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সিআইডির এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চুরির সাথে যুক্ত অন্য সব জটিলতা ও অপরাধের তদন্ত আরও গভীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় সাইবার অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তখন, নিউ ইয়র্কে অবস্থিত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার জাল সুইফট বার্তার মাধ্যমে চুরি হয়। এর মধ্যে, শ্রীলঙ্কায় প্রেরিত প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হলেও, অবলোপ্পিত অংশটি ছিল ৮১ মিলিয়ন ডলার, যা মূলত ফিলিপাইনের মাকাতি শহরের জুপিটার শাখার ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়।

    পরবর্তী সময়ে, এই অর্থ বিভিন্ন ক্যাসিনো ও জুয়াখানায় পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুতই মামলা দায়ের করে ওই বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ফলাফলে, ফিলিপাইনের আদালত আরসিবিসি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মায়া ডিগুইটোকে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করে। এখন এই তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের খুঁজে বের করে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • অর্থ উপদেষ্টার দাবি: পুঁজিবাজার থেকে সবসময় লাভ হবে না

    অর্থ উপদেষ্টার দাবি: পুঁজিবাজার থেকে সবসময় লাভ হবে না

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সতর্ক করে বলেছেন, পুঁজিবাজার থেকে সবসময় লাভের আশা করা ভুল। তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করে, শেয়ার ও বন্ড কেনা মানে নিঃসন্দেহে নিয়মিত আয়ের উৎস, তাহলে তা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। মূলধনী বাজারে যেমন মুনাফার সুযোগ রয়েছে, তেমনি ক্ষতির ঝুঁকিও থাকা সম্ভব। এজন্য বিনিয়োগকারীদের সতর্ক হতে হবে যে, শেয়ার বা বন্ড কেনা মানে সম্ভাব্য ক্ষতিও ভাগ করে নিতে হয়।

    তিনি এই কথা বলেন সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সুকুক বাজার উন্মোচন: রাজস্ব ক্ষেত্র, অবকাঠামো সরবরাহ এবং ইসলামী মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে।

    ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে মূলধন বাজার এখনও যথোপযুক্তভাবে উন্নত হয়নি। সরকারী বন্ডের সেক্টরে কিছু অগ্রগতি থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ খুবই কম, আর শেয়ারবাজারও প্রায় নগণ্য। ফলে বড় প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে ঝুঁকি ভাগাভাগি না করে শুধু ব্যাংকের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এর ফলে ঋণখেলাপি এবং তহবিল অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ছে, যা দেশের জন্য বড় ষড়যন্ত্রের নাম। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকি কমানোর জন্য মানুষের বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শেয়ার কেনায় উৎসাহিত করতে হবে। ব্যাংক থেকে শুধুমাত্র ঋণ গ্রহণ এবং সেগুলো ভুল খাতে ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। ফলে মূলধনী বাজারে বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে, এখানে ঝুঁকি থাকলেও সম্ভাব্য লভ্যাংশও রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সুকুক বাজারে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড রয়েছে, তবে সেগুলো মূলত শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে ব্যবহৃত হওয়ায় আয়ের হার কম। যদি এই বন্ডগুলো উৎপাদনমুখী বেসরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে লাভ হবে ও ব্যাংকের চাপ কমবে। সুকুক অবশ্যই প্রকৃত সম্পদভিত্তিক হতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীর আস্থা তৈরি হয়।

    অর্থ উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশে এখনও সিকিউরিটাইজেশন কার্যকরভাবে চলে আসেনি। বড় বড় প্রকল্প যেমন মেট্রোরেলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। এছাড়া, পেনশন ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এগুলো সরকারিক দায়ী।

    তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র মূলধনী ও সুকুক বাজার নয়, বীমা বাজারের উন্নয়নেও নজর দিতে হবে। একইসঙ্গে কর কাঠামো ও প্রণোদনা সংস্কার করে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

    সেমিনারে মূল বক্তব্য রাখেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ প্রমুখ।

  • গভর্নরের পরামর্শ: সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের জন্য আলাদা কেনাবেচার বাজার তৈরির আহ্বান

    গভর্নরের পরামর্শ: সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের জন্য আলাদা কেনাবেচার বাজার তৈরির আহ্বান

    বাংলাদেশের আর্থিক বাজারকে আরো বেশি গতিশীল ও কার্যকর করে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গুরুত্বপূর্ণ এক নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি উ‌ল্লেখ করেছেন, সঞ্চয়পত্র ও বেসরকারি বন্ডের জন্য আলাদা কেনাবেচার দ্বিতীয় বাজার (সেকেন্ডারি মার্কেট) তৈরির প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে দ্রুত এই ধরনের একটি বাজার গড়ে তোলা সম্ভব, যা দেশের আর্থিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

    আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন, যেখানে বন্ড ও সুকুক মার্কেটের ভবিষ্যত সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    গভর্নর বলেন, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের লেনদেন অর্ধেক ভাগে বাজারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, একে সম্পূর্ণরূপে লেনদেনযোগ্য করা উচিত। এতে গ্রাহকদের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠবে এবং বাজারে তারল্য বাড়বে। পাশাপাশি, তিনি বেসরকারি বন্ডের লেনদেনযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, সঠিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলে বন্ড মার্কেট রাতারাতি দ্বিগুণ হতে পারে, যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য খুবই ইতিবাচক উন্নতি হবে।

    আহসান এইচ মনসুর বলেন, দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন তহবিলের ওপর গুরুত্ব দিয়ে দেশের বিনিয়োগের দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি পেনশন ব্যবস্থা, করপোরেট পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং বেনেভোলেন্ট ফান্ড—এই সবগুলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য আদর্শ উপায়। এই ধরনের উদ্যোগের জন্য একটি কার্যকর পেনশন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি জানান, যা তহবিল ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

    সেমিনারে গভর্নর বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামোর সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির তুলনা করেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো বন্ড বাজার, যেখানে প্রায় ১৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের বন্ড ইস্যু হয়েছে, যা জিডিপির প্রায় ১৩০ শতাংশ। এর বিপরীতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মূলত ব্যাংকনির্ভর, যেখানে স্টক মার্কেটের মোট বিনিয়োগ ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার এবং নগদ অর্থের বাজারের পরিমাণ ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশের অর্থনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র প্রতিফলিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিমা খাতের জিডিপির অনুপাত মাত্র ০.৪ শতাংশ, যা উল্লেখযোগ্য নয়।

    গভর্নর বলেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিক থেকেই বন্ড বাজার গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে সরকারি বন্ডের আধিপত্য থাকলেও, করপোরেট বন্ডের বাজার তেমন নেই। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ও কিছু সুবিধা, যেমন ঋণ পরিশোধের অক্ষমতা বা রাজনৈতিক প্রভাবের সম্ভাবনা, এর জন্য দায়ী মনে করেন।

    তিনি আরও বলেন, সুকুক বা ইসলামি বন্ড বাজার অনেক ছোট, এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি সুকুক ইস্যু হয়েছে যার মোট মূল্য ২৪ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, দ্রুত এই বাজারের আকার বাড়ানোর জন্য একটি নতুন ধারণা দরকার। তার পরামর্শ, যমুনা বা পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্পের টোল বা আয়কে ‘সিকিউরিটাইজ’ করে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের অর্থ সংগ্রহ করা যেতে পারে। এই কাজের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ কার্যকরী বিভাগ প্রতিষ্ঠা জরুরি বলে মনে করেন।

    সেমিনানের শেষ দিকে আহসান এইচ মনসুর জানান, বন্ড বাজারের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে একটি বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। খুব শিগগিরই ওই প্রতিবেদনে সুপারিশসহ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে। এতে প্রচলিত ও সুকুক উভয় ধরনের বন্ডের উন্নয়নের দিকনির্দেশনা থাকবে।

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা

    বিশ্ব বাজারে সোনার মূল্য অপ্রতিরোধ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশে স্বর্ণের বাজারেও ইতিহাস স্থাপন হলো এক নতুন দামে। দেশের বাজারে আজ থেকে নতুন দামের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের সব সময়ের সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভরির ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য now ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা গত দিনের তুলনায় অনেক বেশি এবং ইতিহাসের নতুন চূড়ায় দাঁড় করিয়েছে দেশের স্বর্ণ বিক্রির মূল্য। এই নতুন দাম আজ মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ১১.৬৬৪ গ্রামের (এক ভরি) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এইরকমভাবে নির্ধারিত হয়েছে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দামে স্বর্ণ বিক্রি করতে হলে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্দিষ্ট ৬ শতাংশ মজুরির যোগ করা বাধ্যতামূলক। তবে গহনার ডিজাইন ও মানের ভেদে এই মজুরি আলাদা হতে পারে।

    বিশ্ববাজারে সালটা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এক আউন্স সোণার দাম এর আগে কখনো ৩ হাজার ৭০০ ডলার ছাড়ায়নি। সম্প্রতি একদিনে প্রায় ৩৪ ডলার দাম বেড়ে এক মাসে মোট ১০ দশমিক ৩৫ ডলার বা প্রায় ৪০০ ডলার বৃদ্ধি লাভ করেছে। এর আগের সময় গত ১৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বের বাজারে এক আউন্স সোণার মূল্য ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার। তারপর বিশ্ববাজারে কিছুটা দাম কমে গেলে বাংলাদেশে সেই দাম প্রতিফলিত হয়। তবে এরপর আবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম উঠতে শুরু করলে দেশের বাজারে বেশ কয়েক দফা দাম বৃদ্ধি হয় – যেমন ২০ সেপ্টেম্বর এই দামে এক ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

    অস্বাভাবিক এই মূল্যবৃদ্ধির পিছনে বিভিন্ন কারণের উল্লেখ করেছেন বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। তিনি বলছেন, মার্কিন ডলারের সঙ্গে যুক্ত সূত্রাবলি, চীন-রাশিয়া-ভারত-সহ অন্যান্য দেশের সাথে চলমান বৈঠক, এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইসরাইল-সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এসবের ফলস্বরূপ ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিশ্বে বিভিন্ন দেশ সোনা রিজার্ভের জন্য কিনছে। এছাড়া সরবরাহের অভাব, খনি থেকে সোনা উত্তোলনে সমস্যা থাকাটাও মূল কারণ। এই সব কারণের জন্য সোনার দাম আরও বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধির জের ধরে দেশের জুয়েলারি ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশের স্বর্ণের বাজারের আকার সংকোচের দিকে এগোচ্ছে।