Author: bangladiganta

  • ভারতও কি ‘জেন জি’ আন্দোলনের মাধ্যমে বিক্ষোভ দেখালো?

    ভারতও কি ‘জেন জি’ আন্দোলনের মাধ্যমে বিক্ষোভ দেখালো?

    চীনা সীমান্তের কাছাকাছি ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য গত নয় সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় অনশন। তাদের মধ্যে ছিল লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং চাকরিতে সংরক্ষণ চালু করার দাবী, পাশাপাশি লেহ ও কার্গিলের জন্য একটি লোকসভা আসনেরও প্রয়োজনীয়তা। এই দাবিগুলোর সত্যতা নিয়ে বেশ কয়েকটি দল এবং অধিকারকর্মী আন্দোলন চালাচ্ছেন।

    তবে, গত মঙ্গলবার রাতে পরিস্থিতি তখনই দ্রুত বিপরীত মোরঠে যায় গুরুতর আহত হন অনশনকারী দুই ব্যক্তি, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর শুক্রবার লেহ শহর তীব্র আন্দোলনের এক ঢেউয়ে পরিণত হয়। বিশাল সংখ্যক জনতা পথ চলা শুরু করে, নানা স্লোগান দিয়ে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে মিছিল করে। ডিজে-সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, পুলিশের অফিস ও গাড়িতে পাথর ছোড়া ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হয় এবং জনতার মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

    ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অনশনরত আন্দোলনকারীদের একজন ওয়াচুংক উসকানিমূলক বক্তৃতা দেয়ার পর জনতা উত্তেজিত হয় এবং সরকারি অফিসে হামলা চালায়। এছাড়াও, পুলিশের গাড়ি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এতে ৩০ জনের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থলে গুলি চালাতে বাধ্য হন পুলিশ, যার ফলে কিছুজনের মৃত্যু ঘটে।

    অভ্যুত্থানের নেত্রী সোনম ওয়াংচুক সবশেষে বলেন, আমি চাই সব যুবক যেন এই সহিংসতা দ্রুত বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ পথে ফিরে আসে। তিনি আরও বলেন, এই দিনটি লাদাখের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক কারণ গত পাঁচ বছর ধরে এখানকার মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন, বহু বার অনশন ও হাঁটূ মৃত্যুর মতো পথ অবলম্বন করেছেন।

    সোনম আরও বলেন, “আজ শান্তির সারিবদ্ধতা কোথাও থাকছে না, সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা রাতারাতি বেড়ে গেছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, সহিংসতা বন্ধ করে অবিলম্বে আলোচনা পথে ফিরে আসতে। আমরা অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাব। যখন শান্তি উপেক্ষিত হয়, তখনই এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”

    ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, লেহ ও কার্গিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি বৈঠক আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও, গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এই আলোচনায় সংরক্ষণ ও অন্যান্য দাবি দাওয়া সমাধানের জন্য বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে, যেমন মেয়েদের জন্য এক তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ, সরকারি ভাষার স্বীকৃতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। তবে, কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রবৃত্তি ও গোষ্ঠী এই আলোচনাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে ধারণা।

    এখন প্রশ্ন উঠছে, লাদাখের এই আন্দোলন কি ‘জেন জি’ বা প্রজন্মের চলমান ক্ষোভের অংশ? শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপালসহ অন্য দেশেও কি ‘জেন জি’র এই তরুণ প্রজন্ম তাদের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ করছে?

    ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলার সময় সাংবাদিক স্যমন্তক ঘোষ বলেন, “অভিযানের মধ্যে দিয়ে এটাকে মূলত জেন জি আন্দোলন বলাই যায়। অনশনরত দুই তরুণের শরীর খারাপ হওয়ার পরে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এর ফলে বেশ কিছু তরুণ রাস্তায় নামেন। বিকেল চারটার পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়, যদিও কারফিউ বহাল রয়েছে। এরপরই সিআরপিএফের গুলিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। তবে, মোটামুটি স্পষ্ট যে, পুরো বিষয়টি জেন জি আন্দোলনের অংশ।”

    ভারতের জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, এই আন্দোলন মূলত যুবকদেরণ। তবে বিজেপির কিছু নেতা দাবি করছেন, এই সহিংসতার পেছনে আছে কংগ্রেসের মদত, যারা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্ঠা করছে।

    অন্যদিকে, বড় শহর ও লাদাখে সংঘটিত এই সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছে। ভারতে লেফটেন্যান্ট গভর্নর জানিয়েছেন, এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য তারা কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। রাতের মধ্যে ৫০জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেরও কংগ্রেসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ রয়েছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে, এনডিটিভি।

  • লাদাখে বিক্ষোভ-সহিংসতা: কারফিউ জারি, কারগিলে সম্পূর্ণ বন্দোবস্ত

    লাদাখে বিক্ষোভ-সহিংসতা: কারফিউ জারি, কারগিলে সম্পূর্ণ বন্দোবস্ত

    ভারতের হিমালয় অঞ্চল লাদাখে রাজ্য মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়ায় লেহ শহরে কঠোর কারফিউ জারি করা হয়েছে। বুধবারের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অন্তত চারজন নিহত ও বেশ কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। বিক্ষোভকারীরা বিজেপির স্থানীয় কার্যালয়ে আগুন ধরানোর পাশাপাশি পুলিশের একটি গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ পুড়িয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতি ব্যাপক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নেয়। বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাগুলোর জন্য আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুককে দায়ী করছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, তিনি আরব বসন্ত ও নেপালের জেন-জি আন্দোলনের উদাহরণ উল্লেখ করে মানুষকে উসকানী দিয়েছেন। তবে, ওয়াংচুক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো ফলপ্রসূ আলোচনার উদ্যোগ না থাকলে আন্দোলন অর্থহীন। এই বিক্ষোভ ও আন্দোলনের সময় এসে পৌঁছেছে যখন আগামী মাসে লাদাখের অটোনমাস হিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে; ২০২০ সালে বিজেপি এই নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে। ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে লাদাখকে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে আলাদা করে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়। তখন থেকেই বৌদ্ধপ্রধান লেহ ও মুসলিমপ্রধান কারগিলসহ বিভিন্ন অংশের মানুষ মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে আসছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিশেষ মর্যাদার অপসারণের ফলে তাদের জমি, সংস্কৃতি ও সম্পদ সাধারণের নিয়ন্ত্রণ কমে গেছে, অপরদিকে বাইরের অর্থনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। লাদাখের জেলা প্রশাসক কবিন্দর গুপ্তা জানিয়েছেন, সহিংসতার ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে এবং আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিশেষ কমিটি লাদাখের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবে ৬ অক্টোবর। অন্যদিকে, কারগিলে ঐতিহাসিক ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ বা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় সংগঠনগুলি, যাতে এই অঞ্চল অচলায়তনে পরিণত হয়। বুধবার লেহে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ায় কার্গিল জেলাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, লেহের জনগণের সংহতি প্রকাশ করে কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ) এই ডাকা দেয়, যার মাধ্যমে সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয় এবং রাস্তায় মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ব্যবস্থা হিসেবে প্রশাসন কার্গিলে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৫০ এর বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ, আইটিবিপি ও সিআরপিএফ-এর দল মোতায়েন করা হয়েছে। কেডিএ ও লেহ অ্যাপেক্স বডির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, রাজ্যের মর্যাদা নিশ্চিত করা, লাদাখের ষষ্ঠ তফসিল ঘোষণা এবং স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সংগঠনগুলো অভিযোগ করে, বিজেপি সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দেওয়ায় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেডিএ’র সহ-সভাপতি আসগর আলী কারবালাই সরকারের কঠোরতা কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘বিচারহীনতা ও সহিংসতা বন্ধ করা দরকার’ এবং পুনরায় আলোচনা শুরু করার ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ড. ফারুক আবদুল্লাহ কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, তিনি বিজেপির উপর আঙুল তোলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার জন্য এই ঘটনার জন্য দায়ভার গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রথমে অহিংস আন্দোলন দেখিয়ে লাদাখের মানুষ জানিয়েছেন তারা শান্তিপূর্ণ পথে চলেছেন, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতায় এই আন্দোলন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। লাদাখ স্বায়ত্তশাসিত পাহাড় উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. মোহাম্মদ জাফর আখুন লেহের এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন ও জনগণের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করেন। তিনি সকল ধরনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান সম্ভব হয়।

  • স্লোভেনিয়া নেতানিয়াহুর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলো

    স্লোভেনিয়া নেতানিয়াহুর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলো

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপের দেশ স্লোভেনিয়া। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং দুইজন অতি-ডানপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রীকে নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (আগস্ট ৩১) এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

    স্লোভেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সেক্রেটারি অফ স্টেট নেভা গ্রাসিক বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্লোভেনিয়া আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকারের সার্বজনীন মূল্যবোধ এবং তার একটি নীতিগত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

    এর আগে গত আগস্টে ইসরায়েলের উপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে স্লোভেনিয়া, যার মধ্যে ইসরায়েলি-অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

    নেভা গ্রাসিক আরও জানান, নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত। যে কারণে তাকে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্লোভেনিয়া তার ন্যায়বিচারের প্রতি কঠোর অঙ্গীকার প্রকাশ করছে।

  • প্রাক্তন ফরাসি প্রেসিডেন্ট সারকোজিকে পাঁচ বছরের জেল

    প্রাক্তন ফরাসি প্রেসিডেন্ট সারকোজিকে পাঁচ বছরের জেল

    অন্যদিকে, পরীক্ষার সময় কেন্দ্রের জন্য নির্দেশনা বলা হয়েছে, কেন্দ্রে অন্যান্য ব্যক্তির বা পরীক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনতে পারবে না।

  • দুর্গাপূজা ধর্মীয় আচার নয়, এটা বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য সাক্ষ্য

    দুর্গাপূজা ধর্মীয় আচার নয়, এটা বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য সাক্ষ্য

    খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা-২ আসনে ধানের শীষে মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, বাংলার প্রাণের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অঙ্গহত্যা নয়, দুর্গাপূজা এখন কেবলমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের ঐতিহ্যের গর্বিত প্রকাশ। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত চলে এই মহোৎসব। দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধের মাধ্যমে এই উৎসব শুভ শক্তির জয় উদযাপন করে আত্মবিশ্বাসের বার্তা দেয়।

    বৃহস্পতিবার তিনি ২৪নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন মন্দিরে আর্থিক অনুদান প্রদানকালে এসব কথা বলেন। তুহিন আরো বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই বাংলায় দুর্গাপূজার প্রচলন রয়েছে। পাল ও সেন আমল, নবাবি ও জমিদার আমলে উৎসবের আয়োজন ছিল সমাজের কেন্দ্রবিন্দু। সময়ের পরিবর্তনে আজকের দুর্গাপূজা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে চলে। এখনকার দুর্গাপূজা মানেই রঙিন মন্ডপ, শিল্পকৃত প্রতিমা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধুনুচি নাচ ও আরতির সুরে মাতোয়ারা হয়ে ওঠা হাজারো মানুষ। শহর থেকে গ্রাম-বাংলা, সর্বত্র এই উৎসব বাঙালি ঐতিহ্যের অনন্য পরিচয় বহন করে আসছে।

    সামাজিক সম্প্রীতি ও মিলনমেলার প্রতীকের এই পূজায় অংশ নেয় সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ, যা আরও স্পষ্ট করে দেয় এই উৎসবের গভীর অর্থ। তাই দুর্গাপূজা শুধুই দেবীর বন্দনা নয়, এটি বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

    অনুদান বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন সদর থানার বিএনপি নেতা কে এম হুমায়ুন কবির, ২৪নং ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি শেখ মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বায়েজিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সরোয়ার, জিয়াউর রহমান আপন, আবুল কালাম লাভলু, ফয়েজ আহমেদ, সাহাদত হোসেন, সৈকত, লেলিন, ওলিয়ার রহমান, শাহরুখ জামান শাহীন, রমজান খলিফা, আব্দুল আলীম, নাসির উদ্দিন, কামাল, জাহাঙ্গীর হোসেন, ইলিয়াস, লিখন, শাহ আলম, রানা সিকদার, স্বপন শেখ, আমান, আব্দুল্লাহ, এনামুল, পনু, কবির, সাকিল আহমেদ, সুজন শেখ প্রমুখ।

  • নগরীর ১০ ও ১২নং ওয়ার্ডের দুই নেতাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অব্যাহতি

    নগরীর ১০ ও ১২নং ওয়ার্ডের দুই নেতাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অব্যাহতি

    নগরীর ১০ ও ১২নং ওয়ার্ডের দুই নেতাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতিতে এই খবর জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজের জন্য খালিশপুর থানার অন্তর্ভুক্ত ১২নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস আরিফুর রহমান শিমুল ও ১০নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মাজুকে দল থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ার পর, মনিটরিং সেল এই সিদ্ধান্ত নেয়। মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এই অব্যাহতির জন্য স্বাক্ষরিত পত্রে তাদের দলের পদ থেকে অব্যাহতি নিশ্চিত করেন।

  • নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাই একসঙ্গে কাজ করবো: মঞ্জু

    নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাই একসঙ্গে কাজ করবো: মঞ্জু

    ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় বিএনপি পূর্বেও যথাযথ সম্পৃক্ত ছিল এবং আগামীতেও থাকবে। কোনোভাবেই সপ্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। আমরা সবাই মিলে এক সাথে কাজ করে নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। біздің আশা এবং চাওয়া, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—প্রতিটি ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে সুন্দর, সমৃদ্ধ দেশে বসবাস করবে।

    খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপি কার্যালয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা যথাযথভাবে উদযাপন করতে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকবে বিএনপি। যেন কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না হয় সে জন্য সবাই সতর্ক থাকবেন। বিশেষ করে, পতিত স্বৈরাচারের অনুচররা যেন কোনও অপ্রীতিকর কাজ করতে না পারে, সেজন্য সারাদেশে নেতারা নজরদারিতে থাকবেন।

    তিনি আরও বলেন, প্রশাসনসহ সকলের উপস্থিতি এবং সতর্কতার মাধ্যমে পূজা উৎসবের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। পূজা নির্বিঘ্নে পালন ও সম্মানের সাথে উৎসব উদযাপন করতে সাধারণ জনগণ ও সংগঠনের সকলকে সহযোগিতা ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, নেতা-কর্মী, শিক্ষক ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। তারা সবাই এই শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ উৎসবের জন্য একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে গড়ে তুলবো মানবিক বাংলাদেশ

    হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে গড়ে তুলবো মানবিক বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, তিনি চান দেশের হিন্দু এবং মুসলিম দলের মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে একটি সুন্দর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলুক। তিনি আরও বলেছে, কোনও অপপ্রচারে তারা কান দেবে না এবং অন্ধকারের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেন যারা, তারাই আসলে ‘রাজাকার’ নামক অপপ্রচারে লিপ্ত। তিনি বিশ্বাস করেন, নতুন প্রজন্ম এই বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচারকে বিশ্বাস করে না।

    তিনি বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই সব কথা বলেন, যেখানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মুন্সী মিজানুর রহমান। নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেব প্রসাদ মন্ডল, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মোক্তার হোসাইন, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোলো, ডুমুরিয়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, খানজাহান আলী থানা আমীর ডাঃ সৈয়দ হাসান মাহমুদ, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী, সহ-সভাপতি ডাঃ হরিদাস মন্ডল এবং কোষাধ্যক্ষ গৌতম মন্ডল সহ অন্যরা।

    সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, যারা দাড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করছেন, তাদেরকে কেউ হুমকি দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকেই ছাড় দেবে না। তিনি আরও বলেছেন, সবাই নিজের মতামত প্রকাশ করার স্বাধীন অধিকার রয়েছে এবং এই অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

  • অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান হেলালের

    অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান হেলালের

    বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, দেশের সামজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দুর্গোৎসবের সময় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়, এটি সমাজে ঐক্য ও সম্প্রীতির এক অন্যতম পর্যায়। অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের জয় প্রতিষ্ঠার মূলনীতিকে সামনে রেখে সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদযাপন করার আহ্বান জানান হেলাল। দুর্গোৎসব আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গুরুতর অবদান, তাই সবাইকে গ্রহণযোগ্য ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়ে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিলনমেলা সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করেন। তিনি প্রশাসনের ভূমিকা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য। রাজনীতি থেকে সুস্পষ্টভাবে দূরে থেকে, রাজনৈতিক কর্মীদের উচিত নয় হাতের অস্ত্র বা আইন হাতে তুলে নেওয়া; বরং তারা প্রশাসনের পাশে থাকতে হবে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রূপসা উপজেলার কাজদিয়া বিআরডিবি মিলনায়তনে পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

  • রিজার্ভ চুরি: ফিলিপাইনের ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত

    রিজার্ভ চুরি: ফিলিপাইনের ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত একজন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া প্রায় ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিআইডির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে এই অর্থ ফেরত আনার জন্য ইতোমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কার্যক্রম শুরু করেছেন।

    ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় সাইবার চুরি ঘটনায় এই টাকা মূলত লুকানো হয়েছিল। সেই বছর, বাংলাদেশের ব্যাংকের নিউইয়র্কে অবস্থিত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার জাল সুইফট বার্তা মাধ্যমে চুরি হয়। এর মধ্যে, শ্রীলঙ্কায় পাঠানো প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার ফেরত আনা সম্ভব হলেও, বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাকাতি শহরের জুপিটার শাখার ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

    পরে, এই অর্থ বিভিন্ন ক্যাসিনো ও অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে পাচার হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে তদন্ত শুরু হয় এবং ফিলিপাইনের আদালত রিজাল ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মায়া ডিগুইটোকে মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। এই পুরো ঘটনায় দুর্নীতি ও অর্থ লেনদেনে গৃহীত কার্যক্রম এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্তের মুখোমুখি।