Author: bangladiganta

  • পাকিস্তানকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ

    পাকিস্তানকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ

    আজ একই দিনে বাংলাদেশ দুইবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে। প্রথমে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে চলমান সাফ অ-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও আজ রাতে এশিয়া কাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান, যেখানে জিতলে তারা সরাসরি উঠবে ফাইনালে। তার মানে, দুটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আজ বাংলাদেশের স্বপ্নের ফাইনাল নিশ্চিত করার এক অনন্য দিন।

    শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচটি অনেক জন্য ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। ম্যাচের চার মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশের নেতৃত্বের শুরু হয় Medalপুরের সময়, যখন তারা দ্রুত দুটি গোল করে এগিয়ে যায়। প্রথম গোলটি আসে তৃতীয় মিনিটে, যখন পাকিস্তানের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডার বল দেওয়ার সময় বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড নেন এবং গোল করে দলকে দুর্দান্ত শুরু দেন। এরপর বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হুদা ফয়সল বাড়তি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৭ মিনিটে আরও এক গোল করে ব্যবধান বাড়ান।

    পাকিস্তানের জন্য হতাশাজনক ছিল তাদের গোলরক্ষক ও ডিফেন্সের ভুল, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত দ্বিতীয় গোলটি পায়। বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড অপু দারুণ একটি গোল করেন ডান দিক থেকে বক্সে প্রবেশ করে। এই প্রথমার্ধে বাংলাদেশের এই আক্রমণ পুরোপুরি দাপট দেখায়। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশ আরও গোলের সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু তারা তা করতে পারেনি। অন্যদিকে, পাকিস্তান তাদের পারফরম্যান্সে কিছুটা উন্নতি করতে না পারায় গোলের দেখা পায়নি। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান দাপটের সাথে খেলেছিল এবং প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল। তবে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে তারা গোল করতে পারেনি।

    আস্তে আস্তে আজকের এই ভেন্যুরอีก একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শুরু হবে যেখানে নেপাল ও ভারত মুখোমুখি হবে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী ২৭ সেপ্টেম্বর ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা করবে, যেখানে বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে স্বপ্নের দিন।

  • পাকিস্তানের কাছে হেরে বাংলাদেশের বিদায়

    পাকিস্তানের কাছে হেরে বাংলাদেশের বিদায়

    দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের জয়ের জন্য নির্ধারিত ১৩৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামতেই শুরুটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ডিপ আউট হন। শাহীন আফ্রিদির শর্ট লেংথের ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে নাওয়াজকে ক্যাচ দেন তিনি। মাত্র দুই বলে রানের খাতা খুলতে পারেননি এই বাঁহাতি ওপেনার। এরপর হারিস রউফের ওভারে সাইফ আলী ছক্কা ও চার মারেন, যা দলের মানসিকতাকে somewhat পুনরুদ্ধার করে। তবে, তৃতীয় ওভারে তওহীদ হৃদয় পয়েন্টে বল ঠেলে দিয়ে রান নিতে চাওয়ার সময় স্ট্রাইক প্রান্তে ফিরলেও, ফিল্ডারের দুর্বল ফিল্ডিংয়ের কারণে জীবন পান। এরপর তিনি আউট হন, তবে সাইফ খেলেছেন আগের চেয়ে বেশি সাবধান ও মারমুখী, পাঁচটি চার ও এক ছক্কায় ১৮ রান করে। পাওয়ার প্লে’তে বাংলাদেশের ব্যাটিং খুবই খারাপ হয়ে যায়; তিন উইকেট পড়ে যায় মাত্র ৩৬ রান তুলতে। প্রমোশন পাওয়া ব্যাটার শেখ মেহেদী ব্যর্থ হন। সোনা জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি, বিশেষ করে সোহান ২১ বলে ১৬ রান করে আউট হন। দলীয় সাফল্য পেতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ, শেষ পর্যন্ত ১২৪ রানে অলআউট হয়। পাকিস্তানের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন শাহীন আফ্রিদি ও হারিস রউফ। এই হার নিশ্চিত করে বাংলাদেশের আসর থেকে বিদায় এবং পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলার সুযোগ তৈরি হয় এশিয়া কাপে।

  • নিশাঙ্কার সেঞ্চুরিতে ম্যাচ হারতে হারতে ভারত সুপার ওভারে জয়লাভ

    নিশাঙ্কার সেঞ্চুরিতে ম্যাচ হারতে হারতে ভারত সুপার ওভারে জয়লাভ

    চলমান এশিয়া কাপে এবারই প্রথমবারের মতো দুটি দল ২০০ রান পার করে। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নামে ভারতীয় দল, যারা পাঁচ উইকেটে রীতিমতো বড় সংগ্রহ করে ২০২ রান। শতকCompleting by পাথুম নিশাঙ্কার ব্যাটে দেখা যায় অসাধারণ দক্ষতা, যা ভারতের জন্য ছিল এক চমৎকার লড়াই। তবে শ্রীলঙ্কার জন্য এই ম্যাচের এক বড় দুঁদে ঘটনা হল শেষ বলে স্কোর সমান হয়, যে মুহূর্তে ম্যাচ গড়াই যায় সুপার ওভারে। সেখানে ভারতের কাছে সহজ জয় হয় এই ম্যাচ।

    আশ্চর্যজনকভাবে, সুপার ওভারে ভারতের মারকুটে বলয়বাধকদের মধ্যে থেকে দুই রান তুলতেই শ্রীলঙ্কার পাঁচ উইকেট দ্রুত পতনের মুখে পড়ে। প্রথম বলে কুশল পেরেরা ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। এরপর শানাকা ফিরে যান পঞ্চম বলে। এর মাঝে স্বাভাবিকভাবেই শ্রীলঙ্কার স্কোর কেবল দুই রান যোগ করে। ওভারের প্রথম বলের মাধ্যমে উকিল হইয়া উঠেন সূর্যকুমার যাদব, যিনি তিন রান নিয়ে ধানুশা গুণান্তির ওভারে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

    যদিও এই ম্যাচের ফলাফলকে এখন খুব জরুরি মনে করা হচ্ছে না, কারণ ফাইনালে পৌঁছে যাওয়া বা না হওয়া কোন ব্যাপার নয়। তবুও, ভারতের ব্যাটে দেখানো সক্ষমতা প্রশংসার দাবি করে। এই ম্যাচেই দেখা যায় ভারতের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এই টুর্নামেন্টে, যা তাদের সামর্থ্য প্রমাণ করে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কাও নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় রেকর্ড গড়ে ফেলেছে, দুই দলের এই রেকর্ড সমানে চলেছে।

    প্রথম ইনিংসে, শ্রীলঙ্কা বেশ ভালোভাবেই শুরু করে। কুশল মেন্ডিসের দ্রুত উইকেটের কারণে সেখানে হোঁচট লাগে। তার করবে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ডিপ স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। এরপর নিশাঙ্কা ও পেরেরা ১২৭ রানের জুটি গড়ে দলকে টেনে নেন। পেরেরা ৩২ বলে ৫৮ রান করে স্টাম্পিং হন। এরপর আসালঙ্কা ও কামিন্দু মেন্ডিস দ্রুত ফিরে যান। তারপরও শ্রীলঙ্কা দৃঢ় থাকি, নিশাঙ্কা ১৮ ওভারে সেঞ্চুরি করেন। কিন্তু ২০ ওভারে তিনি ফিরে যান। শেষ পর্যন্ত, ৫৮ বলে সাতটি চার ও ছয়টি ছক্কায় ১০৭ রান করে উঠেন তিনি।

    তবে শেষ বলে শর্ট ফাইন লেগে ধরা পড়েন নিশাঙ্কা। তার আগে তিনি ৫৮ বলে ১০৭ রান করেছিলেন। এরপর, শানাকা ১১ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। এই সময় দলের জয়ের জন্য দরকার ছিল ছয় বলে ১২ রান। স্মার্ট প্লেয়ার হিসেবে ওই ওভারে চার রান নিয়ে ম্যাচ মোটের ওপর শেষ করেন।

    প্রথম ইনিংসে ভারতের জন্যে ভালো সূচনার গল্প এরকম—মাহিশ থিকসানা শুভমন গিলকে দ্রুত আউট করেন। গিল ৪ রান করে ফিরে যান। এরপর অভিষেক শর্মা ও সূর্যকুমার দ্রুত দলের রানে এগিয়ে নিয়ে যান। সূর্যকুমার ১৩ বলে ১২ রান করে আউট হন, তার পর অল্প সময়ের মধ্যে আরও দুজন ব্যাটার ফিরে যান। এরপর তিলক ভার্মা ৩৪ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন, দলের স্কোরে ভারসাম্য রাখতে। এই ম্যাচে ভারতের ব্যাটিংয়ে ছিলেন অন্যরা — সাঞ্জু স্যামসন ২৩ বলে ৩৯ রান করেন, এবং অক্ষর প্যাটেল ২১ বলে ২১ রান যোগ করেন। হার্দিক পান্ডিয়ার মাত্র ২ রান হলেও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

  • বিতর্কিত ১৫ ক্লাবের নিয়েই হবে বিসিবির নির্বাচন, ১৯১ কাউন্সিলর মনোনীত

    বিতর্কিত ১৫ ক্লাবের নিয়েই হবে বিসিবির নির্বাচন, ১৯১ কাউন্সিলর মনোনীত

    আসন্ন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের জন্য ১৯১ জন কাউন্সিলর তার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে শুক্রবার। এই নির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের প্রসেস মান্যতা পেতে শনিবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে বিসিবি কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে তালিকাটি টাঙানো হয়।

    অন্যদিকে, অপ্রীতিকর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে নির্বাচনের প্রস্তুতির সময়। অভিযোগ উঠেছে, স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কিছু সুবিধা পেয়ে তৃতীয় বিভাগে উঠে আসা ১৫টি ক্লাবের কাউন্সিলরদের রয়েছেন চূড়ান্ত তালিকায়। এই ক্লাবগুলোর মনোনয়ন নিয়ে দুদক তদন্ত চালাচ্ছে। তবে জানতে পাওয়া গেছে, নরসিংদী জেলার কাউন্সিলর পদ শূন্য রয়ে গেছে; এই শূন্যস্থান আগে থাকতেই ছিল।

    চূড়ান্ত তালিকায় এখন যোগ হয়েছে সেই ১৫টি ক্লাব, যেগুলো আগে খসড়া তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে বাদ পড়েছিল। এই ক্লাবগুলোর ব্যাপারে অভিযোগ ছিল দুর্নীতি ও অনিয়মের, এর জন্য দুদক তদন্ত করছে। এছাড়া, সিলেট, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁ জেলা থেকে নতুন কাউন্সিলর নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বৃহস্পতিবার কমিশন খসড়া তালিকার বিরুদ্ধে ৩৮টির বেশি আপত্তির শুনানি নেন। এতে প্রমাণিত হয়, নির্বাচনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের স্বাক্ষরিত এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা আরও এগিয়ে গেল।

    প্রসঙ্গত, এর আগে নাজমুল হাসান বিসিবি সভাপতি থাকা সময় বিতর্কিত ১৮টি ক্লাব তৃতীয় বিভাগে স্বভাবতই উঠে এসেছিল নাটকীয় পন্থায়। খুব কম ক্লাবই তখন তৃতীয় বিভাগে যেতে পারত। এমনকি, এন্ট্রি ফি বাড়ানোর কারণে অনেক ক্লাবই আর তৃতীয় বিভাগের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বোর্ডের কাছের কিছু ক্লাব অতি সহজে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতো, এবং তারা শীর্ষে উঠত। এসব ক্লাবের মাধ্যমে বোর্ডের ভোটের সংখ্যাও বৃদ্ধি করতে নানা অপকৌশল চালানো হতো।

    দলের মালিকানাও বদলে গেছে, যখন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। তখন যারা অবৈধভাবে ক্লাবগুলোকে তৃতীয় বিভাগে প্রবেশের সুবিধা করেছিলেন, এখন অনেক তারই মালিকানায় রয়েছে। দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, এই প্রক্রিয়াটি ছিল অনিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন। এ কারণেই বিসিবির নির্বাচন কমিশন ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় এই ক্লাবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। তবে, ক্লাবগুলো আপিল করতে পারত।

    অবশেষে, দুই দিনের শুনানি শেষে, আজ প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় সব বিতর্কিত ১৫টি ক্লাবের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে, ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরা হয়, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায়, নির্বাচন কমিশন তাদের অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়।

    তিন জেলাযোগে, নরসিংদী, সিলেট, নওগাঁ, বগুড়া, ও পাবনা আরক্রীড়া সংস্থা থেকে কাউন্সিলর ছিলেন না, এখন তারা শূন্য পদের পরিষ্কার হয়ে গেছে। অতিরিক্ত, তামিম ইকবালের বিরুদ্ধে আনীত আপিলও গ্রহণ করা হয়নি। অন্যদিকে, ওল্ড ডিওএইচএসের কাউন্সিলর তামিম এবং রেঞ্জার্স ক্রিকেট একাডেমির ফারুকের নামও চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে। এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তামিম এখনও সাবেক ক্রিকেটার নন এবং তিনি ক্লাবের কাউন্সিলর হওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ের পর ফর্ম জমা দিয়েছেন। তবে, নির্বাচন কমিশন এই আপিল গ্রহণ করেনি, কারণ তাদের বিবেচনায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

    নির্বাচনের তারিখ হলো ৬ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র বিতরণ হবে শুক্রবার এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন রোববার। পুরোটাই এখন শেষ ধাপে পৌঁছেছে, যেখানে বিতর্ক আর নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সব বরাদ্দ আছে।

  • ওয়াংচুকের গ্রেফতারে হুঁশিয়ারি: আরও বড় সমস্যা হতে পারে জেল খাটা

    ওয়াংচুকের গ্রেফতারে হুঁশিয়ারি: আরও বড় সমস্যা হতে পারে জেল খাটা

    লাদাখে সম্প্রতি আরেকটি মর্যাদার দাবিতে সহিংস বিক্ষোভের দুই দিন পর ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুক্রবার প্রবীণ আন্দোলনকারী ওয়াংচুককে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার ফলে পুলিশ গুলিতে চারজন নিহত ও প্রায় ৯০ জন আহত হন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমএইচএ) সরাসরি ওয়াংচুককে এই অস্থিরতার জন্য দায়ী করেছে। গ্রেফতারের এক দিন আগে, ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠনের নিবন্ধনের জন্য প্রদত্ত ‘ফোর্সরুলেশন অ্যাক্ট’ বা এফসিআরএ (২০১০) এর অধীনে ওয়াংচুকের অলাভজনক সংস্থা ‘স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অফ লাদাখ’ (এসইসিএমওএল) এর নিবন্ধন বাতিল করে দেয় ভারত সরকার। এই সহিংসতার জন্য তিনি নিজের কারাবাসের আহ্বান জানান, যা তিনি মনে করেন সরকারের জন্য আরও বেশি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ওয়াংচুক এই ঘটনায় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘বলির পাঁঠা কৌশল’ প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলেন। তিনি আরও বলেন, তিনি জেলে যেতে প্রস্তুত, তবে জেল খাটলে হয়তো তাদের জন্য আরও বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি দেখছি তারা আমাকে জননিরাপত্তা আইনের মতো কালো আইনের আওতায় নিয়ে এসে দুই বছরের জন্য জেলে পাঠানোর জন্য পরিকল্পনা করছে।’ ওয়াংচুক বলেন, তিনি জেলে যেতেও প্রস্তুত, তবে সেটি তাদের জন্য অশান্তি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই এ্যাক্টিভিস্ট বলেন, ‘আমার বা অন্যদের দ্বারা সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়েছে—এমন কিছু বলা হলে সেটি মূল সমস্যার দিকে লক্ষ্য না রেখে বলির পাঁঠা খুঁজে বের করার চেষ্টা হয়, যা কোনও সমাধানে নিয়ে যায় না।’ তিনি এই সংঘর্ষের পেছনের মূল কারণ হিসেবে দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে দেখান। মূলত, এই অঞ্চলের যুবকদের মধ্যে হতাশা থেকেই আন্দোলন শুরু হয়েছে—সপ্তর্ষি বছরের বেকারত্ব ও প্রত্যাশিত প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার ক্ষোভই ছিল এর প্রধান কারণ। ওয়াংচুক বলেন, সরকার আংশিক চাকরির শুন্ট রক্ষা করে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করছে। লাদাখের মর্যাদা, আদিবাসীর স্বকীয়তা ও পরিবেশ রক্ষার জন্য ষষ্ঠ তফশিলের সম্প্রসারণের দাবিগুলো দীর্ঘদিন থেকে অমীমাংসিত থেকে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বলির পাঁঠা কৌশল’ ব্যবহার করে সরকার শান্তির জন্য কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, বরং মূল দাবিগুলি চাপা দিয়ে পরিস্থিতিকে 더욱 খারাপ করে তুলছে। সংঘর্ষের পর লেহ ও কার্গিলে কারফিউ জারি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুলিশের বিভিন্ন এফআইআর দায়ের ও বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের এই ঘটনায় বিজেপি কার্যালয়, হিল কাউন্সিল ভবন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। জানা গেছে, হামলায় পেট্রোল বোমাও ব্যবহার করা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে গুলিতে নিহত হন চারজন বেসামরিক ব্যক্তি—সেওয়াং থারচিন (৪৬), অবসরপ্রাপ্ত লাদাখ স্কাউটসের সদস্য স্টানজিন নামগয়াল (২৪), জিগমেত দোরজে এবং রিনচেন দাদুল (২১)। তাদের মরদেহ বৃহস্পতিবার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ জনের বেশি, যাদের মধ্যে সাতজন গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত, আর ২০ জন বড় মানসিক আঘাতের শিকার। গুরুতর আহত একজনের চিকিৎসার জন্য ভারতে দিকে বিমানযোগে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি আছেন মোট ১৮ জন, এর মধ্যে সাতজনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়েছে। লেহ জেলা প্রশাসন ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দুই দিন স্কুল, কলেজ ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আরও বলা হয়েছে, বহিরাগতরা—নেপাল ও জম্মু–কাশ্মীরের ডোডা জেলা থেকে আসা যুবকদের—তাদের ভূমিকা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্র ও লাদাখের প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সহিংসতায় জড়িতের বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা আইনের আওতায় অভিযোগ আনা হতে পারে। পুলিশ সূত্র জানায়, দুই কংগ্রেস কাউন্সিলরের ভূমিকা তদন্তের বিষয়। এর পাশাপাশি, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া এড়াতে লেহ জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে পাঁচজনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কার্গিলেও একই নির্দেশনা জারি হয়েছে এবং সেখানেও হরতালের ডাক দিয়েছে স্থানীয় দলগুলো।

  • অ্যাট ৭৩ বছর বয়সে ভারতীয় মহিলাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

    অ্যাট ৭৩ বছর বয়সে ভারতীয় মহিলাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

    তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন পঞ্জাবের ৭৩ বছর বয়সী হরজিত কৌর। এই বয়সে এসে তাকে অবশেষে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন কর্তৃপক্ষ। হরজিত কৌরের আইনজীবী দীপক আহলুওয়ালিয়া জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে করে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরই মাঝে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিয়ে যাওয়া হয় সহজে, পরে জর্জিয়াতে স্থানান্তর করা হয় এবং অবশেষে নয়াদিল্লিতে ফেরত পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফেরার পথে তার সঙ্গে খুবই অমানবিক আচরণ করা হয়, যেমন শিকলে বাঁধা, খালি কংক্রিটের সেলে রাখার মতো অশোভন ও অমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। তিনি বলেন, ‘তাকে পরিবারকে বিদায় জানানো কিংবা তার কিছু জিনিসপত্র সংগ্রহেরও সুযোগ দেওয়া হয়নি।’ তার এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। শিখ কোয়ালিশনও এই নির্বাসনকে অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছে, যেখানে বয়স, স্বাস্থ্যের অবস্থা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো সমস্যার কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতিবাদ জানানো হয়। ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে আটকাদেশ জারি হয়, যখন তিনি সান ফ্রান্সিসকো আইসিই অফিসে একটি নিয়মিত চেক-ইনে ছিলেন। এরপর তাকে গ্রেফতার করে ফ্রেসনো এবং বেকার্সফিল্ডের কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধও পাননি। ১৯৯২ সালে, তিনি সিঙ্গেল মাদার হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তখন তিনি একটি ভারতীয় শাড়ির দোকানে কাজ করতেন, কর প্রদান করতেন এবং গুরুদ্বারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু তার আশ্রয় আবেদন বাতিল হলে ২০০৫ সালে তার বহিষ্কারাদেশ জারি হয়। এরপর গত ১৩ বছরে তিনি বিলম্বিত ভ্রমণের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, যা আইসিই নথির কারণে দেরিতে হয়েছিল। তার অপ্রত্যাশিত বহিষ্কার দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি করে। ক্যালিফোর্নিয়ার এল সোব্রান্টে হাজারো মানুষ হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, ‘আমাদের ঠাকুমাকে ছেড়ে দাও’ ও ‘হরজিত কৌর এখানেই আছেন’।স্থানীয় প্রতিনিধি ও সিনেটররা আইসিই-র এই বহिष্কার প্রক্রিয়াকে বিরোধিতা করেন। আইসিই তাদের যুক্তি দিয়েছে, হরজিত কৌর বিভিন্ন আইনি পর্যায়ে আপিল করেন, কিন্তু সব বিচারে তিনি হেরে যান। এখন সে সব শেষ হওয়ায়, তারা বলছেন, এটি দেশের আইনী নিয়মের প্রতিপালন। তবে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ক্রমবর্ধমান এই নির্বাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। শিখ কোয়ালিশন মন্তব্য করে বলেছে, ‘এটি কেবল একজন বৃদ্ধার বিষয় নয়, এটি অভিবাসী পরিবারের উপর চলমান নিষ্ঠুরতার প্রকাশ, যারা দীর্ঘ সময় ধরে আমেরিকায় বসবাস, কাজ ও সমাজে অবদান রাখছে।’

  • কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ, বাংলাদেশি সন্দেহে পুশব্যাক করা ৬ ভারতীয়কে ফিরিয়ে আনতে হবে

    কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ, বাংলাদেশি সন্দেহে পুশব্যাক করা ৬ ভারতীয়কে ফিরিয়ে আনতে হবে

    কলকাতা হাইকোর্ট বাংলাদেশের সন্দেহে পুশব্যাক করা ছয় ভারতীয় নাগরিককে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশনা জারি করে বলেছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বীরভূম জেলার দুটি পরিবার থেকে ছয় সদস্যকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা জরুরি। এই মধ্যে একজন নারী, সোনালি বিবি, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রয়েছেন।

    সোনালি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির রোহিণীতে গৃহপরিচারিকার কাজ এবং কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ করতেন। পরিবারটির অভিযোগ, জুন মাসে দিল্লি পুলিশ তাদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে নিছে এবং পরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। ঘটনার পর এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়, যেখানে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ওই ছয়জনকে ফেরত আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার এই নির্দেশের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের আবেদন জমা পড়লেও আদালত তা নাকচ করে দেয়। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই ছয়জনের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণিত এবং তাদের দেশে ফেরানোর দায়িত্ব সরকারের। তবে কেন্দ্রের আইনজীবীরা এই মামলার গ্রহণযোগ্যতাকে স্বেচ্ছায় প্রশ্নের মুখে ফেলে বলে অভিযোগ করেছেন, কারণ এই ঘটনা দিল্লির, কলকাতা হাইকোর্টের এখতিয়ার নেই বলে দাবি করেন তারা।

    অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তীর বক্তব্য, এই মুহূর্তে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয়েছে এবং তাই মামলাটি গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ বলেছে, সোনালির পরিবার এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত করে জানায়নি যে ওরা বাংলাদেশি নয়।

    বিচারপতি চক্রবর্তী এই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “আটকের নির্দেশে লেখা আছে, ওঁরা বাঙালি বস্তি থেকে আনা হয়েছে। তাহলে কি সত্যি ওরা বাংলাদেশি?” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২৬ জুন সোনালিকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, অথচ মাত্র দুই দিনে কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়।

    আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী অন্তত ৩০ দিন তদন্তের জন্য আটক রাখা উচিত। কিন্তু সোনালিকে এত তাড়াতাড়ি ২৬ জুন বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, ফলে কীভাবে এই নির্ধারণ করা হলো যে ওরা বাংলাদেশি, তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেন আদালত। আদালত আরও বলেন, দেশের বাইরে বহিষ্কার করার আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি জমা না থাকায় আবার পরীক্ষা করে দেখার প্রয়োজন নেই। এই পরিস্থিতিতে আদালত ছয়জনের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে নির্দেশ প্রদান করেন।

  • গাজায় একদিনে নিহত ৬০, মোট প্রাণহানি প্রায় ৬৫৫০০

    গাজায় একদিনে নিহত ৬০, মোট প্রাণহানি প্রায় ৬৫৫০০

    ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান অভিযানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬০ জন ফিলিস্তিনি। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ১৪২ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার রাতের এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

    তবে এ numbers-টি আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের, কারণ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকের মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধারের জন্য নেয়া হয় নি যথেষ্ট পরিমাণে লোকবল ও সরঞ্জাম।

    মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের অভিযানের ফলে এখন পর্যন্ত নিহতের মোট সংখ্যা ৬৫,৫৪৯ জনে পৌঁছেছে। আহতের সংখ্যা ১,৬৭,৫১৮ জনে ահেরেছে।

    অতিরিক্ত, গত ২৭ মে থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে গাজায় খাদ্য ও ত্রাণ নিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপরও নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। শুক্রবার ত্রাণ নেওয়ার সময় ৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের সদস্যরা আন্তর্জাতিক দখলদার বাহিনী ইসরায়েলির ওপর বড় ধরনের আক্রমণ চালায়। এই হামলায় তারা এক হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে রাখে। হামলার প্রতিশোধ নিতে, ও জিম্মিদের মুক্তি দিতে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অভিযান শুরু করে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

    বিশ্বজনমতের বিরুদ্ধতা উপেক্ষা করে গাজায় চালানো এই নৃশংস সামরিক অভিযানের জন্য, নভেম্বর মাসে নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এছাড়া, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসের নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত গাজায় সামরিক অভিযান চলতেই থাকবে। সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি।

  • বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা কাটিয়ার আবারো মুসলিমদের অযোধ্যা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানান

    বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা কাটিয়ার আবারো মুসলিমদের অযোধ্যা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানান

    বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা বিনয় কাটিয়ার সম্প্রতি ফের একবার মুসলিম সম্প্রদায়কে অযোধ্যা ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। তিনি সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “মুসলিমদের উচিত সরযূ নদী পার হয়ে অযোধ্যা ছেড়ে চলে যাওয়া। তারা গন্দা বা বস্তিতে থাকতে পারে। এখানে শুধু রাম মন্দির থাকবে,”—এমন বক্তৃতায় অযোধ্যার ধর্মীয় সংহতির পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

    ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রকাশের পর থেকে অযোধ্যায় শান্তি বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকলেও কাটিয়ারের এই ভাষণ আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ওই রায়ে রাম মন্দির নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ধন্নীপুরে একটি মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দ করা হয়। যদিও এই সিদ্ধান্তে ভারতের মুসলিম সমাজ কিছুটা হতাশ হলেও তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সমর্থ হয়। শান্তির এই পরিস্থিতিতে কাটিয়ারের মন্তব্য অনাকাঙ্খিত ভাঙন সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

    একজন মুসলিম বাসিন্দা বলেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান করেছিলাম। এখন আমাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বলা হচ্ছে, এটা কি ন্যায্য?”। যদিও সুপ্রিম কোর্ট ধন্নীপুরে মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দ করলেও প্রকল্পটি এখন নানা বিলম্বের মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাটিয়ারের ভাষণ এই বিভাজন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একজন সমাজকর্মী মন্তব্য করেছেন, “বিজেপি অযোধ্যার ধর্মীয় রাজনীতিকে ধরে রাখতে চেষ্টা করছে। রাম মন্দিরের পর এখন তারা মসজিদ ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করছে।”

    বিরোধী দলগুলো এই মন্তব্যকে অসাংবিধানিক বলে নিন্দা জানিয়ে বলছে, “অযোধ্যা ভারতের সমস্ত নাগরিকের বিষয়। কেউ মুসলিমদের জোর করে বের করে দিতে পারে না।” কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির নেতারা এই বিষয়ের বিস্তারিত তদন্ত ও জবাবদিহিতা দাবি করেছেন, এই ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভেদ বাড়াতে পারে ও দেশের সংহতিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

    অযোধ্যার বাসিন্দারা, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করে আসছেন, তারা এই ধরনের উত্তেজनाक পরিস্থিতি থেকে সতর্ক। হনুমান গড়হি মন্দিরের কাছে এক দোকানদার বলেন, “আমরা শান্তিই চাই, বিভেদ নয়।” এখন যখন রাম মন্দির সম্পূর্ণ করার পথে এবং ধন্নীপুরের মসজিদ প্রকল্পটি স্থবির, তখন কাটিয়ারের এই মন্তব্য আরও এক দফা আঘাতহানা করতে পারে শহরটির শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির উপর। এই পরিস্থিতি হয়ত নতুন করে শহরটির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সুসম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

  • হাসিনার নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে মুফতী আমানুল্লাহর মন্তব্য: ফ্যাসিবাদের জন্মের বিরোধিতা

    হাসিনার নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে মুফতী আমানুল্লাহর মন্তব্য: ফ্যাসিবাদের জন্মের বিরোধিতা

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর সভাপতি ও খুলনা ২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতী আমানুল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান নির্বাচনী পদ্ধতি মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদ্ধতিতে আমাদের অনেক সময় ডামি ভোট ও রাতে ভোটদান দেখতে হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে একজন ফ্যাসিস্ট শাসকের জন্ম দেয়ার মতো। তিনি দৃঢ়ভাবে বলছেন, এই ব্যর্থ ও অনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে আর কোনো নির্বাচন অমে পছন্দ নয়। বরং তিনি এমন একটি পদ্ধতি চান যেখানে আর কোনো ফ্যাসিস্ট ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত নয়, যার জন্য তিনি প্রস্তাব করেন পিআর (প্রোপোর্টশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি চালু করার প্রয়োজন। আমিনুল্লাহ বলেন, সরকারের তিনটি অঙ্গিকার ছিলো—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। যদি এই তিনটি অঙ্গিকা বাস্তবায়িত হয়, তবে তিনি বলেন, আগামীকালই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার পূরণ হয়নি। বরং, দুর্নীতি ও কোটি কোটি টাকা পাচার এখন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসিনার শাসনামলে আইয়াতে জাহেলিয়াতের বর্বরতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। ৫ আগস্ট আমাদের জন্য এক সুযোগ তৈরি হলেও, রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার বা বিচার ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। এই পরিস্থিতিতে পুরোনো নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে এত মাতামাতির কোন অর্থই দেখা যাচ্ছে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসির আশঙ্কা বাড়ছে।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, গণহত্যার বিচার ও ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে বিচার করার দাবিতে কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বিকেল ৪টায় সবুজবাগ মসজিদ চত্বরে সাধারণ মানুষ অবস্থান নেন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর সাথে আরও বেশ কয়েকটি থানায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে সমাবেশ ও বিক্ষোভ সম্পন্ন হয়।

    শনিবারের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, যেমন মোঃ নুরুজ্জামান বাবুল, মোঃ কবির হোসেন হাওলাদার, হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল, শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান, মোহাম্মদ শাহজাহান পাটোয়ারী, মোঃ আব্দুস সোবাহান, মোঃ নাজমুল ইসলামসহ অনেকে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের জনগণের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধুভাবে দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। শেষ পর্যায়ে এসব বিক্ষোভ ও সমাবেশগুলো দোয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় ও অন্যান্য থানায় একযোগে একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়।