Author: bangladiganta

  • মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আবুধাবিতে একজন নিহত

    মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আবুধাবিতে একজন নিহত

    মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। ইরানে থাকা মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পাল্টা হিসেবে এই হন্তারক কার্যক্রম চালানো হয়। ইরানের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ষড়যন্ত্রের অংশ, যা দেশটির টেক্কা দিয়ে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

    ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, শনিবার থেকেই তেহরান বিভিন্ন দেশের সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এই হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোসহ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনে এবং জর্দানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিসামগ্রী।

    অতিরিক্তভাবে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। হামলার সময় ক্ষেপণাস্ত্র গুলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়েছে, তবে এর ফলে একজন এশীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি নিহত হন।

    আমিরাতের সরকার এই হামলাকে “জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন” হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় তারা সব ধরনের উপায়ে নিজস্ব নিরাপত্তা জোরদার করবে। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ রিপোর্ট এখনো প্রকাশিত হয়নি।

    ফারস নিউজের মতে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদৈদ বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও, কুয়েতের আল-সালেম বিমান ঘাঁটি ও আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হামলা হয়েছে।

    আবুধাবিতে এই হামলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। এরপর বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।

    এছাড়াও, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি নিশ্চিত করেছে। দুবাই ও মানামাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনার পরিচায়ক।

    বাহরাইনের রাজধানী মানামায় এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর অবস্থিত। বাহরাইনের ন্যাশনাল কমিউনিকেশন সেন্টার জানিয়েছে, এই হামলার ফলে ক্ষতি হয়েছে, তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে ও নিরাপদ স্থানে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মার্কিন-নির্মিত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, পূর্ব-অনুমোদিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, হুমকি শনাক্তের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা হয়েছিল।

    তবে আলজাজিরার খবর, একমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের পরবর্তী সময়ে দোহায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই পরিস্থিতিতে, কাতার ও বাহরাইনের মার্কিন দূতাবাসগুলো তাদের কর্মীদের দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে, ইরানে হামলার পর মার্কিন ও ইসরায়েলি নাগরিকরাও সতর্ক থাকতেও বলা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল রেসিপ্রোঅক্সিটির উপরে চাপ বাড়ানো, বিশেষ করে কাতারে অবস্থিত আল-উদৈদ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে। গত বছর জুন মাসেও, মার্কিন জবাবীতে কাতার কেন্দ্রীক এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল ইরান। এই অস্থির পরিস্থিতি এখনো জারি, অঞ্চলজুড়ে নতুন নতুন উত্তেজনা তৈরি করছে।

  • ইরানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫

    ইরানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে অবস্থিত একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় কমপক্ষে পাঁচ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    এদিকে, তেহরানে আবারো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে বর্তমানে ইন্টারনেট সংযোগ ও যোগাযোগের অভাবের কারণে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা কঠিন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি ধারাবাহিক অভিযান যার লক্ষ্য হতে পারে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ানো।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ সম্প্রচারক জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তর ইসরায়েলে একটি নয় তলা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় একজন ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন।প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, হামলার ফলে একটি অ্যাপার্টমেন্টে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানান, ইরানের থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে আসার খবর পাওয়ার পরে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়েছে। সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই মুহূর্তে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী হুমকি শনাক্তের পর যেখানে প্রয়োজন, সেখানে প্রতিহত ও হামলার অপারেশন চালাচ্ছে।’ তারা আরও জানিয়েছে, ‘জনসাধারণকে হোম ফ্রন্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

    সূত্র: আলজাজিরা।

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ইসরাইলের উত্তরענה: বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়ালো মধ্যপ্রাচ্যে

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ইসরাইলের উত্তরענה: বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়ালো মধ্যপ্রাচ্যে

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবসহ দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, শুধু একজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্র। খবর রয়েছেআল জাজিরার।

    বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রীতি ও পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা চলাকালীন সময়ে এটি একটি সামরিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরাইলের আকাশে লক্ষাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাধ্যমে শুরু হয় এই হামলা। মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ হামলায় তেহরানে ইরানি প্রেসিডেন্টের বাসভবনসহ ৩০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে আঘাত করা হয়েছে। এই হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

    এর জবাবে, কয়েক ঘণ্টা পর ইসরাইলের উপর পাল্টা হামলা চালায় ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিকে টার্গেট করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি।

    ইরানের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করে জানায়, তারা ইসরাইলের দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি (বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) বিবৃতি দিয়েছে, মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীও নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের দিকে আরও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

    আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটেছে। এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হয়নি। অন্যদিকে, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে হাইফায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বেশ কয়েকটি লক্ষ্যভেদ হয়। এই হামলায় একটি নয়তলা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর।

    বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরাইলি সংবাদ চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইন্টেরসেপটর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একজন আহত হলেও তার অবস্থা গুরুতর নয়। সরকারি উদ্ধারকারী দল মাজেন ডেভিড আদম জানান, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

  • ইরানে মেয়েদের স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫১

    ইরানে মেয়েদের স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫১

    ইরানের হোরমোজগান প্রদেশের মিনাবে একটি মেয়েদের স্কুলে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১-এ পৌঁছেছে। এ হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যার সংখ্যা বর্তমানে ৬০ জন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের বিভিন্ন স্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়। এই হামলার পরিকল্পনায় সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পাজেশকিয়ান, কয়েকজন মন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতেও বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়। অন্যত্র কতজন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বা আহত হয়েছেন তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে, একটি স্কুলে মাত্র এই হামলায় ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মিনাব শহরের সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেদমেহ বলেছেন, এই হামলার জন্য দায়ী ইসরায়েল সরাসরি স্কুলটিতে আঘাত হেনেছে। হামলার সময় সেখানে প্রায় ১৭০ জনের মতো শিক্ষার্থী ছিল। এখনো উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা ভবিষ্যতেও আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

  • সৌদি আরবের রাজধানীতে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ

    সৌদি আরবের রাজধানীতে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ

    মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতার মাঝে ইরান বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার সকালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বার্তা সংস্থাগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, এএফপি এর করসপন্ডেন্ট জানিয়ে থাকেন যে, রিয়াদে দুটি বড় বিস্ফোরণের গুরুতর শব্দ শুনেছেন তিনি। পাশাপাশি ছোট ছোট বিস্ফোরণের আওয়জও কানে এসেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করে। এ ঘটনার সময় মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালানোর খবর মিলেছে, যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে শুরু করে। ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইন নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইরানের মিসাইল হামলার শিকার হয়েছে। তবে সৌদি আরব এখনো এই ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এখনও আওয়ামী ঝুঁকি এড়িয়ে চলার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা, এএফপি

  • রমজান: আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নতির অপূর্ব সময়

    রমজান: আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নতির অপূর্ব সময়

    খুলনা-৪ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, পবিত্র মাহে রমজান মানুষের আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নতির জন্য এক অনন্য সময়। এই বরকতময় মাস মানুষকে সৎ, নিষ্ঠাবান, কর্তব্যপরায়ণ ও সংযমী হতে শেখায় এবং সমাজে শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। রমজান শুধু ইবাদতের মাস নয়, বরং নিজেকে সমালোচনার সময় ও মানবকল্যানে আত্মনিবেদন করার উৎকৃষ্ট সময়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, রমজানের এই চেতনাকে ধারণ করে সবাই বিভেদ ভুলে একাত্ম হয়ে দেশ গঠনে বর্তমান বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করবে। খুলনা-৪ আসনের জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই যেন রমজানের শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে ন্যায়, সততা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়। এইভাবে তারা দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    গতকাল শুক্রবার বিকেলে, আইচগাতী ইউনিয়নের সরকারি রূপসা কলেজে রূপসা-তেঁরখাদা-দিঘলিয়া নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের আয়োজনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে খুলনা-৪ আসনে আজিজুর বারী হেলাল বিজয়ী হওয়ার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে, গণ ইফতারের আয়োজনের সময় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি’র চেয়ারপারসন তারেক রহমান দেশবাসীর হৃদয়ে এক নুতন জায়গা করে নিয়েছেন এবং তিনি দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করায় তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমি শুধু বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের নয়, আমি এই এলাকার সকল মানুষেরই প্রতিনিধি হতে চাই। আমার জন্য ধনী-গরীব, ছোট-বড়, ভিন্ন মত বা ভিন্ন পরিচয়ের মানুষ কোনও পার্থক্য করে না; সবার সমস্যা আমার। সবার উন্নয়নই আমার লক্ষ্য।

    তিনি আরও বলেন, জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে খুলনা-৪ আসনকে একটি আদর্শ, আধুনিক ও উন্নয়নশীল এলাকার রূপ দিতে আমি একনিষ্ঠ। আমাদের প্রচেষ্টায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যে উন্নয়ন, যোগাযোগের ক্ষেত্রে উন্নতি, এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি, এই এলাকার সবাইকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক মুক্ত করে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার। সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে কোনও বাধাই আমাদের পথকে আটকাতে পারবে না। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো।

    এছাড়াও, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলুর সভাপতিত্বে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, জেলা ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি, সাবেক সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু, অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা। এতে অংশ নেন উপজেলা ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দও, যারা সকলে ঈদের এই মাহফিলে মিলিত হয়ে আল্লাহর রহমত কামনা করেন এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন।

  • খালেদা জিয়ার প্রজ্ঞা, সাহস ও অপ্রতিরোধ্য নেতৃত্ব ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে

    খালেদা জিয়ার প্রজ্ঞা, সাহস ও অপ্রতিরোধ্য নেতৃত্ব ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে

    মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারের জন্য জীবনভর সংগ্রাম করে গেছেন। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাহস ও অবিচল নেতৃত্ব দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি এবং তার দর্শন ও আদর্শের সঙ্গে একাত্ম হয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করছি। শফিকুল আলম মনা আরও উল্লেখ করেন, জনগণের ভোটে যে নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের সূচনা হয়েছে, তা যেন সত্যিকারের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়—এটাই আজকের দোয়া মাহফিলের প্রধান লক্ষ্য। শুক্রবার বাদ জুমা, সারাদেশের ন্যায় খুলনায় অনুষ্ঠিত হয় ‘গণতন্ত্রের মা’ ও কেন্দ্রীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এড. শফিকুল আলম মনা এসব কথা বলেন। নগর বিএনপি’র উদ্যোগে খুলনা টাউন মসজিদে এই দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপি’র সদস্য আশরাফুল আলম নান্নু, জাফরী নেওয়াজ চন্দন, আশরাফুল ইসলাম নূর, মুর্শিদুর রহমান লিটনসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সকলের মাঝে উপস্থিত ছিলেন মুসল্লি ও শুভেচ্ছুক। সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার পরে, গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সেই সঙ্গে দেশ ও জাতির অগ্রগতি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও নতুন সরকারের সফলতা কামনায় মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা হয়। টাউন মসজিদ ছাড়াও খুলনা মহানগরের অন্যান্য মসজিদেও একযোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় যেমন মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায়ও দেশ ও জাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • নজরুল ইসলাম মঞ্জু রোববার খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু রোববার খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন

    আগামীকাল রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন সংগঠক ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানটি এক অনুষ্ঠানে রূপ দিতে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যেখানে অতিথিদের জন্য বিশেষ arrangement করা হয়েছে। ইতোমধ্যে, মোট ৫শ’র বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নগর ভবনের তিনটি আলাদা ভেন্যুতে অতিথিরা বসবেন যেখানে তারা কেসিসির নতুন প্রশাসককে স্বাগত জানাবেন।

    প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে মনোনীতদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন খুলনার ৬টি সংসদ আসনের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, রাজনৈতিক নেতৃবর্গ, জনপ্রশাসন ও সরকারি দপ্তর প্রধানগণ, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, নগর পরিকল্পনাবিদ, এনজিও নেতৃবৃন্দ, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এছাড়া, স্বাভাবিক জীবনের অংশ মানুষ যেমন রিকশাচালক, ইজিবাইক চালক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিরাও আমন্ত্রণ পাবেন।

    কেসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশিদ জানান, রোববার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে এই দায়িত্বভার গ্রহণের অনুষ্ঠান শুরু হবে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হবে নগর ভবনের তৃতীয় তলার শহীদ আলতাফ মিলনায়তন ও জিআইজেড সভা কক্ষে, যেখানে অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি নিচতলেও একটি এলইডি ডিসপ্লে স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে নগরীর উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হবে। প্রথমে প্রশাসক অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে নিচতলায় উপস্থিত থাকবেন, এরপর তৃতীয় তলায় যাবেন।

    উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সরকারের নির্দেশে নজরুল ইসলাম মঞ্জু নিবন্ধিত হন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে। তার যোগদানপত্র গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে হস্তান্তর করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ঢাকায় চিকিৎসা নিয়েছিলেন, যা এখন সম্পন্ন হয়েছে।

  • বোরো মৌসুমে চিতলমারীতে ৩০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ শুরু

    বোরো মৌসুমে চিতলমারীতে ৩০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ শুরু

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে চলতি বোরো মৌসুমে ব্যাপক আকারে ধান চাষাবাদ চলছে। এই মৌসুমে উপজেলার ৩০ হাজার একর জমিতে বোরা ধান চাষ করা হয়েছে। চাষিরা ধানের চারা রোপনের কাজ শেষ করে এখন মূল রোপনকৃত চারা দেখভালের পাশাপাশি যত্ন নিচ্ছেন। বাজারে ধান ও চালের দাম ভালো থাকায় এ বছর ধানের মূল্য নাড়ছে চাষিদের মনোভাব, তারা আগ্রহের সাথে নতুন করে ধান চাষে উৎসাহ পাচ্ছেন।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৭টি ইউনিয়নের ২১টি ব্লকে এই চাষাবাদ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে এই ২১টি ব্লকে মোট ৩০ হাজার একর জমিতে ধান রোপন লক্ষ্যমাত্রার নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার কিছুটা বেশি জমিতে এ বছর আবাদ হয়েছে। এসব জমিতে উফশি, স্থানীয় এবং উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।

    স্থানীয় চাষিরা যেমন কুরমনি গ্রামের পংকজ বিশ্বাস, দেবাশিষ বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের শেখর ভক্ত, বড়বাড়িয়ার সাফায়াত হোসেন, সুরশাইলের মুন্না শেখ, পাটরপাড়ার রিংকু বিশ্বাস বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধান চাষ করে লোকসান হয়েছিল। তবে এই বছরের বাজার দর ভালো থাকায় আবার ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে।’

    চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সিফাত-আল-মারুফ বলেন, ‘শীতে আপসহীন হয়ে চাষিরা বোরো ধান চাষ করেছেন। আমরা মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি এবং তদারকি করছি। আকাশের আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব বলে আমরা আশাবাদি।’

  • শহীদ জিয়ার স্বপ্নের খাল খনন বিপ্লব শুরু মোংলা-রামপালে

    শহীদ জিয়ার স্বপ্নের খাল খনন বিপ্লব শুরু মোংলা-রামপালে

    পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের খালের খনন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আমরা কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। এখন থেকে মোংলা ও রামপালের কোনো সরকারি খাল ইজারা বা দখলে থাকবেনা; সব খাল সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী করে উন্মুক্ত করা হবে।শনিবার দুপুরে মাদুরপাল্টা ব্রিজের সংলগ্ন এলাকায় উৎসবের মেজাজে খননের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই খননের মাধ্যমে দীর্ঘ চার দশকের অবরোধের অবসান হবে। এলাকায় জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষকরা সহজে কৃষিকাজ করতে পারবে এবং পরিবেশের ক্ষতি রোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি আরও বলেন, জনগণের সম্পদ লুটে-পাটের দিন শেষ। মোংলা ও রামপালের প্রতিটি সরকারি খাল এখন থেকে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য মুক্ত। যারা খাল দখল করে মাছ চাষ বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছে, তাদের যদি স্বেচ্ছায় খাল ছেড়ে না দেন, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়ার স্বপ্নের খাল খনন এই প্রকল্পের মূল চেতনা দ্বারা অনুপ্রাণিত। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) মোংলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাল—মাদুরপাল্টা, ভোলা নদী, পালেরখন্ড ওবেনীরখন্ড—সহ মোট সাড়ে ৮ কিলোমিটার অংশের খনন উদ্বোধন হয়। এই খনন কাজের জন্য প্রায় ২৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫৭ ঘনফুট মাটি সরানো হবে, খালের উপরের প্রস্থ ২৫ ফুট, নিচের প্রস্থ ৫ ফুট এবং গভীরতা ৮ ফুট নির্ধারিত। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ ৩ হাজার ৮৪৭ টাকা, যা ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য।অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, শেখ রুস্তম আলী, থানা যুবদলের সদস্য সচিব সফরুল হায়দার সুজন ও সিএনআরএসের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।প্রধান অতিথি মোংলার ইউএনও শারমীন আক্তার সুমী জানান, দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। স্থানীয় জনগণ ও বিএনপি নেতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।যখন মাটি কাটার কাজ শুরু হয়, তখনই একজন বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষক আবেগে ভর করে বলেন, ‘৪০ বছর পরে এই খালে আবার পানির কল কল শব্দ শুনবো, এটা ভাবতেই চোখ moist হচ্ছে।’ এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে জলাবদ্ধতা ও লোনা পানি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা জেগেছে এই উপকূলীয় এলাকার মানুষজনের মধ্যে।বক্তারা বলেন, এটি শুধু মাটি খোদনের কাজ নয়, এটি মোংলার কৃষি ও পরিবেশকে পুনর্জীবিত করার এক প্রতিজ্ঞা। এই উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করতে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংস্থা একত্রিত হয়ে কাজ করবে। প্রকল্পটি সিএনআরএস-এর ‘নবপল্লব’ কর্মসূচির অধীনে এবং ঠিকাদার হিসাবে কাজ করছে মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজ। এই প্রকল্প মোংলার মানচিত্র বদলে দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেন, মোংলা ও রামপালের কোনো সরকারি খাল আর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন থাকবে না, সব হবে জনগণের সম্পত্তি। এই ঘোষণা শুনে উপস্থিত হাজারো মানুষের করতালিতে মুখর হয় পুরো পরিবেশ। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ার করেন, শহীদ জিয়ার স্বপ্নের সেই খাল খনন আজ থেকে আবার শুরু হলো। কোনো ইজারা বা দখল থাকবেনা; সব খাল উন্মুক্ত করা হবে। যারা এখনো সাধারণ মানুষের পানির পথ বন্ধ করে অর্থ উপার্জন করছেন, তাদের যদি স্বেচ্ছায় খাল ছেড়ে না দেন, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।