লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার তিন প্রবাসী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামের শুভ কুমার দাস (২২), সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৩৮) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মোঃ নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২৬)।
শীতল শোকে ভেঙে পড়েছে শুভ কুমার দাসের পরিবার। সুরঞ্জন দাস ও শিখা রানী দাস দম্পতির বড় ছেলেই ছিলেন শুভ। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ও পরিবারের স্বপ্ন পুরণ করার জন্য তিন বছর আগে লেবাননে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তিনি একটি পশুখামারে কাজ করতেন এবং নাবাতিয়ার মাইফাদুন এলাকায় চারতলা এক ভবনের তৃতীয় তলায় কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে বসবাস করতেন।
স্থানীয় সময় গত সোমবার (১১ মে) রাতে তাদের থাকা ভবনে ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণের ফলে ভবনটি ডেনে পড়ে যায় এবং সেখানে থাকা একাধিক শ্রমিক নিহত ও আহত হন। পরে বাংলাদেশে থাকা পরিচিতদের মাধ্যমে শুভসহ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পরিবারে পৌঁছায়।
নিহতের মা শিখা রানী দাস বললেন, ‘‘আগামী ২২ মে শুভর লেবাননে থাকতে তিন বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। রবিবার (১০ মে) সকালে তার সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয়। সে আমাকে বলেছিল, ‘মা, আমাদের এলাকা নিরাপদ, তোমরা চিন্তা করো না।’ এক রাত পরেই এমন ঘটনা ঘটে যাবে—কারো ধারণা ছিল না।’’
শিখা রানী বলেন, পরের দিন সকালে ভবনে হামলার খবর পেয়ে শান্ত নামে এক পরিচিত ফোন করে জানায় পুরো ভবন ধসে গেছে। পরে মোবাইলে বারবার কল দিলেও সাড়া পাননি। ‘‘আমার একটাই চাওয়া—আমার ছেলেটাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে হবে, আমি আর একবার তার মুখ দেখতে চাই,’’ তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শোকের কিছু সময় পর তারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মরদেহ দেশে নেওয়া এবং সকল প্রকার সহযোগিতা চেয়ে সরকারি সাহায্য কামনা করেছেন। শোকগ্রস্ত মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন এবং বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, নিহত শুভর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে। সরকারি ভাবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তারপরও সাতক্ষীরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নিহতের পরিবারকে সহায়তা করবে। তিনি জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সরকারি ও প্রবাসী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত মরদেহ উদ্ধার এবং দেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক এবং মানসিক সহায়তা প্রদানের জন্য স্থানীয়রা এগিয়ে এসেছে।
ঘটনার তদন্ত ও মরদেহ প্রত্যাবর্তনে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর কড়া তৎপরতা দাবি করেছেন নিহতদের পরিবার। তারা দ্রুত তাদের প্রিয়জনের মরদেহ দেশে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান।
