পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা ২০ বছর পর বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় অর্জিত হলো মিরপুরে। খেলা শেষে পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বড় জয় দিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের খেলায়, সান মারুফের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের জন্য পাকিস্তানি ব্যাটারদের মাইন্ড গেম খেলার চেষ্টা করেছিলেন, যেখানে তারা ৭০ ওভারে ২৬০ রানের লক্ষ্য বেঁধে দেন। বাংলাদেশ তা তাড়া করতে সক্ষম হবে বলে বাংলাদেশের স্বাগতিক অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্ত মনে করছিলেন না, ঠিক তখনই তিনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেন। তবে, পাকিস্তানের এই চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। লাঞ্চের কয়েক মিনিট আগে, শান্ত ইনিংস ঘোষণা করেন, কারণ নাহিদ রানা আউট না হলে আরও সময় থাকতে পারতেন। তখন বাংলাদেশের লিড ছিল ২৬৭ রান। সালমান আগা বাংলাদেশের এই সাহসী সিদ্ধান্তের পর নিজেদের মানসিকতা বদলে দ্রুত ইনিংস ঘোষণা করেন। খেলায় সালমানের প্রত্যাশা ছিল, দল তা সফলভাবে পুরণ করবে। তবে নিজে এই চ্যালেঞ্জের আওতায় আসতে পারেননি, কারণ তিনি ২৬ রানেই আউট হন। তার সঙ্গী ছিলেন আব্দুল্লাহ ফজল, যিনি হাফ সেঞ্চুরি করেন। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা শেষ পর্যন্ত দুই সেশনে জয় না হাসিল করতে পারলেও, শেষ বিকেলে ড্রয়ের জন্য লড়েছেন। তবে, ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় বাংলাদেশি বলরানে। নাহিদ রানা তাদের ১৬৩ রানে অলআউট করে দেন। তার অসাধারণ স্পেল, যেখানে তিনি মাত্র ৪০ রান খরচ করে ৫ উইকেট নেন, বাংলাদেশের বড় জয়কে নিশ্চিত করে। এই জয়ে বাংলাদেশ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এর আগে, পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনে, বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ১৫২ রান করে দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করে। এই সময়ে তাদের কাছে ৭ উইকেট ছিল, আর তারা এগিয়ে ছিল ১৭৯ রানে। অধিনায়ক শান্ত ৫৮ এবং মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ দিনগুলিতে তারা আরও রান যোগ করেন, শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন দাস ১১, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩ এবং তাসকিন আহমেদ ১১ রানে আউট হন। অন্যদিকে, পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান তোলে, যেখানে আজান আওয়াইসের শতক ছিল একমাত্র সাহস। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ে, শান্তর সেঞ্চুরির পাশাপাশি মুমিনুল ও মুশফিকের ফিফটিতে ৪১৩ রান করে। এর বাইরে, পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা প্রাথমিকভাবে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছিলেন, তবে বাংলাদেশি বোলাররা ধাপে ধাপে তাদের পতন নিশ্চিত করেন। নাহিদ রানা ৪০ রানে ৫ উইকেট, তাসকিন ও তাইজুল ২টি করে উইকেট নিয়ে সফল হন। এই ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল ফিল্ডিং ও বলের দিক থেকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, যা সিরিজের ফলাফল পাল্টে দেয়। বাংলাদেশের এই শতবর্ষে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে জয় অর্জিত হয়, যা দারুণ এক ইতিহাস গড়ল দেশের ক্রিকেটের জন্য।
