খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি ব্যাপক প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৩ মে) খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে সংগঠিত এই ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক গাজী জাকির হোসেন। সভায় ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, נשיםদের জন্য গাড়ি, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফসহ প্রধান অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
ফ্যামিলি কার্ড: সামাজিক নিরাপত্তার নতুন উদ্যোগ
প্রেসব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ড হলো বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রবর্তিত একটি স্মার্ট কার্ড। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিএন্ডটি মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মোট ৩৭,৫৬৭টি দরিদ্র পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে সুবিধা পাচ্ছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ৫,২৭৫জন উপকারভোগীর মধ্যে ৪,১৫৮ জনকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ধীরে ধীরে দেশের প্রায় ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এই কার্ড সুবিধার আওতায় আনা হবে।
খাল খনন ও পুনঃখনন: জলসম্পদ উদ্ধারে বৃহৎ পরিকল্পনা
খনন ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচির অধীনে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর ধারাবাহিকতায় যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী খালসহ খুলনার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, দিঘলিয়া, তেরখাদা, রূপসা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় খনন কার্যক্রম চলছে।
বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ: সবুজ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি
সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই উদ্যোগ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩.৫ লক্ষ (৩৫০,০০০) সবুজ কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং নারী, যুবক-যুবতী ও গ্রামীণ জনগণ সমানভাবে এতে অংশ নেবে। পাশাপাশি ১০,০০০ নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যা আনুমানিক ২৫০,০০০-এর বেশি অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। নারী চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিসি মহিলা বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
কৃষক কার্ড ও কৃষি সহায়তা
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, সহজ কিস্তিতে ঋণ, বীজ ও সারসহ মোট ১০ ধরণের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রথম পর্যায়ের কৃষক কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। কার্ডধারীরা বার্ষিক ২,৫০০ টাকা নগদ সুবিধা পাবেন। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ধাপে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় ২২,০৬৫ জন ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে লক্ষ্যমাত্রা ১৬.৫ মিলিয়ন (১১৬৫ লাখ?) কৃষককে এই সুবিধার আওতায় আনা।
জনসংযোগ কার্যক্রম: মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা
গণযোগাযোগ অধিদপ্তর জানায়, গত ১৮০ দিনে তারা মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক জনসংযোগ কার্যক্রম চালিয়েছে: ১,০২১টি উঠান বৈঠক/কমিউনিটি সভা, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১,০৬০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৩,২৪৮ ইউনিট সড়ক প্রচার, ১৪টি কৃষক সমাবেশ, ২২টি ফ্যামিলি সমাবেশ, ৩৪০টি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকার মূলক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের লাইভ সম্প্রচার এবং ২,৩৬১টি অনলাইন প্রচারণা। খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসও ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৬৫টি সড়ক প্রচার, ১০টি উঠান বৈঠক, ২টি নারী সমাবেশ, ১টি ফ্যামিলি সমাবেশ এবং ৪টি লাইভ ব্রডকাস্ট বাস্তবায়ন করেছে। এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠান ও উপস্থিতি
প্রেসব্রিফিংয়ে খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। খুলনার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সরকারি নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মোঃ ইব্রাহিম-আল-মামুন।
উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় দেশের ৬৪টি জেলা ও ৪টি উপজেলা তথ্য অফিসে একযোগে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে প্রচার কার্যক্রম ও প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
