জাদুকরী খেলায় নিয়মিতই আলোচনা জমান লামিনে ইয়ামাল। একের পর এক রেকর্ড গড়েন তিনি। কিন্তু এইবার আলোচনা অন্য কিছুর কারণে। বার্সেলোনার শিরোপা জয়ের উৎসবে ছাদখোলা বাসে উঠে ইয়ামাল একটি ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে ধরছিলেন, যার ছবি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়।
বার্সেলোনায় উৎসব চলছে তুঙ্গে। টানা দ্বিতীয়বার লা লিগার শিরোপা জেতার পর রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে পাওয়া সাফল্যের আনন্দে স্পেনের শহরগুলোতে ভিড় নামে গেছে। শিরোপা উল্লাসের সময় ইয়ামাল ফিলিস্তিনি পতাকা উড়ানোর ছবি হয়ে ওঠে সবার চোখে ধরা, এবং ভক্ত-সমর্থকদের প্রশংসাও কুড়ান তরুণ এই স্প্যানিশ স্টার। একপর্যায়ে তিনি একটি বার্সা জার্সিও উন্মোচন করেন, সেখানে লেখা ছিল ‘সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে আমি মাদ্রিদিস্তা নই।’
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জানায়, লা লিগা শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর গতকালের বিজয় উৎসবে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল। ক্লাবও এক বিবৃতিতে জানায় যে দর্শকরা নিজেদের আবেগ উজাড় করে প্রদর্শন করেছেন এবং দলটি ধারাবাহিকভাবে ইতিহাস গড়ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ: ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর থেকে বার্সেলোনা শহরটি ফিলিস্তিনি সমর্থনের আন্দোলনের একটি অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আত্মপ্রকাশী বিক্ষোভগুলোতে শহরটি বারবার দেখা গেছে।
ক্লাবের সাম্প্রতিক টুকিটাকি: বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগ সর্বশেষ জিতেছিল ২০১৫ সালে, কিন্তু গত কয়েক বছরে অভ্যন্তরীণ টুর্নামেন্টগুলোতে তারা বেশ সফল—লা লিগা ২০২৩, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে জিতেছে, গতবছর কোপা দেল রে শিরোপা তাদের চোখে পড়ার মতো অর্জন এবং সাম্প্রতিক দুইটি স্প্যানিশ সুপার কাপও বার্সার ঝুলিতে রয়েছে।
ইয়ামালের এই আচরণ এবং উৎসবের ছবি সামাজিক মাধ্যমে যে প্রতিক্রিয়া তুলেছে, তা ফুটবল ও সামাজিক যে সংকটগুলোকে একসঙ্গে তুলে ধরে—একদিকে খেলার আনন্দ ও সমর্থকের উল্লাস, অন্যদিকে রাজনৈতিক আবেগ ও প্রকাশের স্বাধীনতা।
