জয়া আহসানের হাইকোর্টে রিট: ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধের দাবি

বাংলাদেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য ও পুনরায় বিক্রির মতো গুরুতর কারিগরি বিষয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। এই আবেদনটি করেছেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণ কর্মী জয়া আহসান। তারা এই রিটের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (১১ মে) ঢাকার হাইকোর্টে এই রিটটি দায়ের হয়, যেখানে আইনজীবীরা উল্লেখ করেন যে, অসুস্থ এবং অসুন্দরভাবে হত্যা করা ঘোড়াগুলোর মাংস প্রতারণামূলকভাবে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন অনুরোধ ও অভিযোগের পরও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যার ফলে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।

রিটে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়, গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে প্রাপ্ত আলামত ও তথ্য, যেখানে অবৈধভাবে ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রির চক্রটি ধরা পড়েছে। অভিযানে প্রায় ৩৬টি অসুস্থ ঘোড়া, বেশ কিছু মৃতদেহ ও বিপুল পরিমাণ অস্বাস্থ্যকর মাংস উদ্ধার হয়। এই মাংসের মধ্যে কিছু এমন ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়, যা মানুষের জন্য মারাত্মক সুস্থতার ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় দেখা যায়, এই মাংসের মধ্যে পরজীবী, ছত্রাক, যক্ষা সংক্রমণ ও অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি।

অভিযানের সময় জানা যায়, এসব বিষাক্ত ও অস্বাস্থ্যকর মাংস কোনও প্রকার নিয়ন্ত্রিত আইনের আওতায় আসছে না, এবং বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এই বিষয়ে কার্যকর ও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তবে, বাস্তবায়নে ব্যর্থতা ও পর্যাপ্ত মনিটরিং-এর অভাবের কারণে অবৈধ এই চক্রটি এখনও চালু রয়েছে। বারবার গাজীপুরের পুলিশ ও প্রশাসন এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের জন্য নির্দেশনা দিলেও তার যথাযথ অনুসরণ হয়নি। এর ফলে, অবৈধ এই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অসুস্থ ও অস্পষ্ট অবস্থায় থাকা ঘোড়াগুলি নিলামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জোড় দাবি, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি কার্যকরি জাতীয় পরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রস্তুত করা, উদ্ধারকৃত অসুস্থ প্রাণীগুলোর জন্য যথাযথ যত্ন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ ঘোড়ার মাংসের ব্যবসা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। এর মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য ও প্রাণী কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এই অবৈধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এর ফলে মানুষের মধ্যে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা অতি ঝুঁকিপূর্ণ। গাজীপুরের বিভিন্ন অভিযানে এসব অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক মাংসের অস্তিত্ব ধরা পড়লেও, কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এই অবৈধ বাণিজ্য এখনো চালু রয়েছে। এ কারণে জনস্বার্থে এই বিষয়ে কঠোর হস্তক্ষেপ ও সম্পূর্ণ কার্যপ্রণালী গ্রহণের জন্য বারবার সচেতনতা ও আহ্বান জানানো হচ্ছে।