চতুর্থ দিন শুরুতেই বাংলাদেশের দুই ওপেনার সুবিধা করতে না পারলেও, সংশ্লিষ্ট কৌশলে এগিয়ে যান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। তাদের দুর্দান্ত জুটি ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দেয় এবং পরিস্থিতি তাদের পক্ষে এগিয়ে নেয়। তবে বড় সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও বৃষ্টির কারণে দিনের দ্বিতীয় সেশনটি সম্পূর্ণই বাতিল হতে বাধ্য হয়। চা বিরতির পর খেলা চালু হলেও আলো কম থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা শেষ করতে হয় আম্পায়ারদের, ফলে ম্যাচটি গড়ায় পঞ্চম দিনের দিকে।
চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫২ রান, যেখানে তারা এখন ১৭৯ রানের লিড পেয়ে গেছে। এর আগের দিন বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান সংগ্রহ করে, আর পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৮৬ রানে।
দিনের শুরুতে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় (৫) ও সাদমান ইসলাম (১০) কিছুটা চাপের মধ্যে পড়লেও, পরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক দুর্দান্ত শুরুর ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন। তারা ১০৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পরিস্থিতি বাংলাদেশে ফেরান। ব্যক্তিগত হাফ-সেঞ্চুরি পূরণ করেন দুজনই। তবে ১২৮ রানে আমিরের বলেই মুমিনুল হক ৫৬ রান করে আউট হলে জুটি ভেঙে যায়।
এ ছাড়া, এই ইনিংসসহ টেস্টে গত পাঁচ ইনিংসে টানা হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড করেন মুমিনুল, এর আগে এমন কীর্তি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল, যিনি ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মার্চ থেকে জুনের মধ্যে টানা পাঁচ ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ রান করেছিলেন। সেই সময়ে লর্ডস ও ম্যানচেস্টারে তার দুটো অসাধারণ সেঞ্চুরি ছিল।
মুমিনুল আউট হওয়ার পরে, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১০৬ বলে ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর তার সাথে ১৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ রান করে, যেখানে শান্ত ১০১, মমিনুল ৯১ এবং মুশফিক ৭১ রান করেন। উত্তর এ ব্যাটিং করে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রানে অলআউট হয়। অভিষিক্ত আজান আওয়াইস ১০৩-এর সেঞ্চুরি ও আব্দুল্লাহ ফজল ৬০-এর হাফসেঞ্চুরি করেন, তবে মেহেদী হাসান মিরাজের ৫ উইকেটের কারণে বড় লিড নিতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে, প্রথম ইনিংস শেষে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড নেয়।
চতুর্থ দিন শেষে ১৭৯ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশের দখলদারিত্ব স্পষ্ট হয়ে গেছে, আর পঞ্চম দিন তারা দ্রুত রান সংগ্রহ করে বড় লক্ষ্য তৈরি করতে চায়। এই ম্যাচে তাদের লক্ষ্য হবে পাকিস্তানের সামনে বড় সংগ্রহ তুলে ধরা। চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা শেষ দিনে অপেক্ষায় থাকবেন দ্রুত কিছু রান তুলে মনোযোগ দেয়ার জন্য, যেন সম্ভব হয় জয় ছিনিয়ে নেয়া ও ম্যাচ জয়।
