মিরাজের ফাইভারে বাংলাদেশ পেল ২৭ রানের লিড

বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া তৃতীয় দিনে মেহেদী হাসান মিরাজের ধারালো স্পেলে পাকিস্তানকে ৩৮৬ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড নিয়েছে। আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৪১৩ রানের শক্তিশালী স্কোর করে।

পাকিস্তান ইনিংস শুরুটা দুর্দান্ত করলেও মধ্যশ্রেণিতে কিছু ওঠাপড়ার পর সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের সহযোগিতায় ফের ঝুঁকি নিয়েছিল সফরকারীরা। কিন্তু মিরাজের নিয়মিত উইকেট শিকারে স্বাগতিকদের সুবিধা ফিরে আসে এবং চাপে পড়ে পাকিস্তান সমস্থ দলেই ধুঁকতে শুরু করে।

অভিষেক টেস্টে ওপেন করে নামা আজান দিন শুরু করেছিলেন অপরাজিত ৮৫ রানে। তিনি ক্রমে ধৈর্য ধরে খেলেন এবং ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন—এটি ছিল ১৬৫ বলে ১০৩ রানের ইনিংস, ১৪টি চারের সাহায্যে। সেঞ্চুরির ঠিক পরেই পেসার তাসকিন আহমেদ তাকে ফেরান এবং বাংলাদেশের দিনব্যাপী প্রথম বিরতি এনে দেন।

ফজল হামিদও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন; ১২০ বলে ৬০ রান করে তিন নম্বরে দলের পরিস্থিতি সামলান। কিন্তু উইকেট হারানোর ধারাবাহিকতায় তেও মিরাজের বলে তাইজুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এদিকে সৌদ শাকিল মিরাজের বলেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন—৪ বল খেলেও নীরব থাকেন তিনি।

ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান ১ উইকেটে ২১০ রান পর্যন্ত পৌঁছলেও পরবর্তী সময়ে অল-আউট হওয়া পর্যন্ত তারা ধাক্কা খায়। এজন্য বড় ভূমিকা রাখে সালমান ও রিজওয়ানের ষষ্ঠ উইকেটে তৈরি ১১৯ রানের জুটি—এই জুটিই তাদের দলীয় স্কোর সামান্য ধারায় রাখে। দুজনেই ব্যক্তিগত অর্ধশতক করে দলের ভরসা হয়েছেন।

তবে ফিফটির পরে কাউকে দীর্ঘ সময় বাঁচতে দেখা যায়নি। তাইজুল ইসলামের শিকারে রিজওয়ান ৭৯ বলে ৫৯ রানে ফেরেন—ক্যাচটি ধরেন মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে। সালমান আগা ৯৪ বল খেলে ৫৮ রানে আউট হন; তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও একটি ছয়। মিরাজের ঝলকশেষে রাজ্যের দোহাই দিয়ে পাক ব্যাটিং লাইন আপ ভেঙে পড়ে।

সব মিলিয়ে পাকিস্তান ৩৮৬ রানে অ্যাল-আউট হলে বাংলাদেশ ২৭ রানের সুবিধা নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে যেতে পারে। আগেরদিকে বাংলাদেশি দলের ৪১৩ রানে ভর করে ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হাসান শানতের শতক (১০১), মুমিনুল হকের ৯১ এবং মুশফিকুর রহিমের ৭১; পাকিস্তানের পক্ষে মুহাম্মদ আব্বাস পাঁচটি উইকেট সংগ্রহ করেছিলেন।

মিরাজের ফাইভারের মতো কাজগুলোই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে—এখন দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে এগিয়ে থাকার মাধ্যমে সুবিধাজনক অবস্থানই বলা চলে।