৪১৩ রানে অলআউট: জন্মদিনে সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত মুশফিক

মুশফিকুর রহিমের জন্য আজকের দিনটা ছিল বিশেষ—জন্মদিন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে সেই বিশেষ দিনে শতকের সামনে থাকার সুযোগ ছিল মুশফিকের, তবে সেঞ্চুরির আনন্দ ভোগ করতে পারলেন না। লাঞ্চে তিনি যখন ফিরে যান, তখন শতবরার থেকে ২৯ রান দূরে ছিলেন। লাঞ্চের পরই প্রথম ওভারেই শাহিন শাহ আফ্রিদির ফুল-লেন্থ ডেলিভারিতে অফ স্টাম্প উড়ে যাওয়ায় মুশফিক বিদায় নেন। তিনি ১৭৯ বলে ৭১ রানের একটি ধীরস্থির ইনিংস খেলেছেন, যার মধ্যে ছিল ৮টি চার। মুমিনুলের মতো সেঞ্চুরিবঞ্চিত হয়ে মাঠ ছাড়তে হল মোশফিককে।

টেল-এন্ডারদের সংযুক্তি বাড়ায় দল অধরাই থেমে যায়নি; শেষ পর্যন্ত টাইগাররা আরও ৩৩ রান যোগ করে ৪১৩ রানে অলআউট হয়। পাকিস্তানের তরফে মোহাম্মদ আব্বাস দলকে স্বস্তি দিলেন—তিনি পাঁচ উইকেট নেন। তারই বিরুদ্ধে রক্ষণভঙ্গ করে তাসকিন আহমেদ ১৮ বলে ঝড়ো ২৮ রান করে দলের শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন।

মিরপুরে দ্বিতীয় দিন শুরু হয়েছিল মুশফিক ও লিটন দাসের জুটিতে। আগের দিন মুশফিক ৪৮ এবং লিটন অপরাজিত ৮ রানে ছিলেন। দিনের চতুর্থ ওভারে মুশফিক হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্যাট উঁচিয়ে উদ্‌যাপন করেন। এরপর মোহাম্মদ আব্বাসের ওভারে লিটন দাস ৩৩ রানে আউট হন। মেহেদী মিরাজ বেশি সময় টিকতে পারেননি—১২ বল খেলে একটি চার ও একটি ছয়ে ১০ রান করেন। taিজুল ইসলাম ২৩ বল খেলেন ১৭ রানের দ্রুত ইনিংস।

বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত্তিটা তৈরি হয়েছিল আগের দিনের নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের ১৭০ রানের জুটিতে। শুরুতে ৩১ রানে দুই উইকেটের ক্ষতি হয়েছিল—মাহমুদুল হাসান জয় ৮ ও সদমান ইসলাম ১৩ রানে ফিরেছেন। এরপর তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল ও শান্ত কড়া প্রতিরোধ গড়ে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং দ্বিতীয় সেশনে পুরোপুরি আধিপত্য দেখান।

বিরতির ঠিক আগে শান্ত তার টেস্ট ক্যারিয়ারে নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন—এটি তার ৭৪তম ইনিংসে পাওয়া সেঞ্চুরি। কিন্তু সেগুলো বেশি টেকেনি; পরে আব্বাসের গুড-লেন্থ ডেলিভারিতে ডিফেন্ড করতে গিয়ে তিনি এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হন। শান্ত একটু আক্রমণাত্মক খেললেও মুমিনুল তুলনায় বেশি সংযত ছিলেন। শান্তের পর মুমিনুল ১০২ বলের মধ্যে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং আগের দিনের জমা সঙ্গে মিলিয়ে ৯১ রানে থেমে যান; তিনি ২০০তম বলের মোকাবিলায় নোমান আলীর বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। মুমিনুলের ইনিংসে ছিল ১২টি চার।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪১৩ রানে অলআউট হয়ে যায়, যেখানে দলের বড় অংশটা গঠিত হয়েছিল শান্ত-মুমিনুলের জুটির ওপর। মোহাম্মদ আব্বাসের বোলিং ঝাঁকুনিতে পাকিস্তান ম্যাচে ফিরে এসেছে।